আমার প্রিয় পোস্ট
- মিসেস মেহবুবা জুবায়ের, যাস্ট শাট আপ... - মুনশিয়ানা
- শোকের রাজনীতি পার্ট টু - কৌশিক
- সচলায়তনে কমিউনিটি ফ্যাসিজম : ব্লগারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ আছে - ফিউশন ফাইভ
- ভার্চুয়াল ও ননভার্চুয়াল ক্ষেত্র থেকে সামহোয়ারইনব্লগ কর্তৃপক্ষের ব্লগ রূপরেখা এবং এর ব্লগ, ব্লগার ও ক্রমঃবিবর্তিত পরিচালন পদ্ধতি - কৌশিক
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- সামহোয়ারনামাঃ একটি ব্লগীয় ক্যাচাল সৃষ্টি এবং আধিপাত্য বিস্তারের হীন প্রকল্প - শিরোনাম
- সুমন রহমান এর 'সামহোয়্যারনামা ৪' এর প্রেক্ষিতে কিছু কথা (ত্রিভুজ) - ত্রিভুজ
- কাস্পারস্কাই ইন্টারনেট সিকিউরিটি-২০০৯ এর ভ্যালিড কি- 7/11/09 পর্যন্ত!!! - স্বাধীন_০৮
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি (পশ্চিমা) জ্ঞানের (বাংলা) বিতরণ কেন্দ্র ?সুমন রহমানের লেখার প্রতিক্রিয়া - আহসান হাবিব শিমুল
- শেষ লেখা: হাঃ হাঃ, ডিয়ার কর্তৃ, গরুর জন্য ঘাস। - ব্রাত্য রাইসু
- লোকালটক, আনাল হক ও মনসুর হাল্লাজ - অমি রহমান পিয়াল
- ছোটগল্পঃ আমাদের এক বন্ধু পাহাড় বিক্রি করতো - মোস্তাফিজ রিপন
- লিজাইলাম - কৌশিক
- লেখকের মৃত্যু, পুরান মালের আড়ত আর জলেস্থলেঅন্তরীক্ষে একই কুমীরশিশুর প্রদর্শনী - আসিফ রহমান
- গল্পঃ জলের রঙে জলছবি - মোস্তাফিজ রিপন
- আমি যেদিন নিজের হাতে খুন হয়েছিলাম - আকাশচুরি
- তারার ফুল (কল্পগল্প) - (অ)গাণিতিক
- গানের প্রতিযোগিতা তিন চাকা ও কিছু ফাও গল্প - শওকত হোসেন মাসুম
- ছেলেকে না-বলা রূপকথা - সুমন রহমান
- ভাস্কর্য বিতর্ক: আরো কিছু নোট - রিফাত হাসান
- গরিবি অমরতা - সুমন রহমান
- কমিউনিষ্ট চীনের পুঁজিতন্ত্র ও মেলামাইন - পি মুন্সী
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- মৃত্যুর মন্থর রিহার্সেল - বৃশ্চিক
রণজিৎ দাশ এবং সাজ্জাদ শরিফ সম্পাদিত "বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা" নিয়ে আপত্তির কারণ কি?
২৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:১৯
পশ্চিমবঙ্গের কবি রণজিৎ দাশ এবং বাংলাদেশের কবি সাজ্জাদ শরিফ এর যৌথ সম্পাদনায় সম্প্রতি "বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা" নামে একটা সংকলন বেরিয়েছে কলকাতার একটা প্রকাশনা সংস্থা থেকে। সেখানে জসীম উদদীন থেকে শাহীন মোমতাজ পর্যন্ত (দশকের হিসেবে চল্লিশের দশক থেকে নব্বই দশক) ষাটজন কবির কবিতাকে স্থান দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে মুজিব মেহদী তাঁর ফেসবুক নোটে এবং কবিতাকথা গুগুলগ্রুপে কিছু "বিস্ময়" উত্থাপন করেছেন। কিন্তু সেই প্রসঙ্গ ধরে আলোচনা হয়েছে খুব কমই, বরং নানান সংক্ষুব্ধজনকে দেখা গেল সংকলনের অন্যতম সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে এবং একে ফরহাদ মজহারীয় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখিয়ে রঙ বেরঙের তত্ত্ব প্রণয়ন করতে।
মুজিব মেহদী এবং পরবর্তীতে কোনো কোনো মন্তব্যকারীকে দেখা গেল উক্ত সংকলনে মিসিং পোয়েটদের তালিকা প্রণয়ন করছেন। সেখানে এক তালিকার সাথে অন্য তালিকার মিল খুব অল্পই। কোনো কোনো তালিকায় মিসিং পোয়েট হিসেবে আমার নামও এসেছে দেখা গেল। একেক জনের একেকরকম তালিকার যে বাহার তাতে মনে হল, সাজ্জাদ শরিফ কাজটা না করে অন্য যে কেউ করলেও একইরকম বিতর্ক উঠতে পারতো এবং এমনকি এ বিষয়ে একখানা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা বয়ন করলেও কাউকে না কাউকে মিস করা অসম্ভব ছিল না।
ব্যক্তিগতভাবে এরকম একটি সংকলনে আমার থাকা না-থাকা নিয়ে আমার বিশেষ মাথাব্যথা নেই। বলাই হয়েছে এটি বাংলাদেশের "শ্রেষ্ঠ কবিতা", ফলে সংকলনের সম্পাদকের ব্যক্তিগত সাহিত্যরূচি অনুযায়ী এর সম্পাদনা হবে তা বলাই বাহুল্য। কেউ কোনো সংকলনে আমাকে গ্রহণ না করলে আমি তাঁর সাহিত্যরূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি, বিষণ্ণ হতে পারি, কবিতা লেখা ছেড়ে দিতে পারি, কিংবা আরো ভাল কবিতা লেখার নিয়ত করতে পারি, কিন্তু আমার কবিতা নেই বলে তাঁর ওপর মারখাপ্পা হতে পারি না। কারণ দর্শাও ইস্যু করতে পারি না। কারণ সাহিত্যবিচারের কোনো সার্বজনীন মানদণ্ড নেই।
সাজ্জাদ শরিফ-এর সংকলনকে ধরে মুজিব মেহদী যেসব প্রশ্ন তুলেছেন তার জবাবও এই দৃষ্টিকোণ থেকে খোঁজা সম্ভব। সারাজীবন ২২ টি কবিতা লিখে এর ৯টিই যদি সাজ্জাদ শরিফ তাঁর সম্পাদিত সংকলনে রাখেন তাতে আপত্তির কি আছে? তাঁর ২২টি কবিতার মধ্যে ৯ টিই "শ্রেষ্ঠ কবিতা" এটা তিনি মনে করতেই পারেন। আমি সারাজীবনে কবিতা লিখেছি ৪০টার মত। এরকম কোনো সংকলনে আমি আমার ৩০ টি কবিতাই দেখতে চাইতে পারি! আমার রূচি বলে কথা। এখানে কোন্ মানদণ্ডে মুজিব একে "রূচিবিগর্হিত" বলছেন তা আমার বোধগম্য নয়।
একইভাবে আবুল হাসানের চেয়ে ফরহাদ মজহারের কবিতা বেশি আসারও যুক্তি পেয়ে যাওয়া সম্ভব। আপনি আবুল হাসানকে বড় ভাবলে তার বিশটা কবিতা রাখুন, আমি ফরহাদের চল্লিশটা রাখব যেহেতু আমি তাঁকে বড় মনে করি। কোন্ মানদণ্ডে আপনি আমাকে বা আমি আপনাকে ঠেকাবো?
মুজিব মেহদীর এই নোটের সূত্র ধরে কেউ কেউ সাজ্জাদ শরিফকে যে ভাষায় আক্রমণ করছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক, কাম্য তো নয়ই। আর সবচে নিদারুণ যে দশাটি দেখা যাচ্ছে, তাহল এসব উত্তপ্ত মন্তব্যবাণের বেশিরভাগই যুক্তিহীন, ফলত লক্ষ্যভ্রষ্ট। এসব বিক্ষোভের কারণ হয়ত পূর্ববিরাগ, হয়ত সংকলনটিই। সংকলনে অসঙ্গতির যে ডিসপ্লে মুজিব বা অন্যরা করেছেন তার কিছু কিছু সঠিক, কিন্তু এই পারসেপশনকে যুক্তির আকার না দিলে সেটা শিশুর বিরাগ হতে বাধ্য। সেটাই হয়েছে, গালাগালির বন্যায় ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে "বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা"কে।
অদ্ভূত বিষয় হল, বিরাগ এত তীব্র যে কেউই বোধ হয় সংকলনটি অভিনিবেশ নিয়ে দেখেন নি। এটা বরং কাম্য ছিল। মিসিং পোয়েটকুলের কবিতার উৎকর্ষ দিয়ে, বা সাজ্জাদ শরিফের সাহিত্যিক রাজনীতি দিয়ে বা ফরহাদ মজহারীয় ষড়যন্ত্রের সাইন্স ফিকশন দিয়ে "বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা"র বিরূদ্ধে আপত্তিগুলো চিহ্নিত করা যাবে না। আপনার আপত্তির জায়গা সনাক্ত করতে চাইলে সংকলনটিকেই দেখুন। ফেয়ার প্লে!
এই সংকলনটির সবচে বড় সমস্যা হল, এটি একইসঙ্গে দুইটা ভিন্ন নির্বাচনকৌশলকে অবলম্বন করেছে। সেলফ কনট্রাডিক্টরি। লক্ষ্য করে দেখুন, আশি দশকের আগ পর্যন্ত সম্পাদকীয় তরফে কবি নির্বাচনের ভূমিকা লিবারাল এবং ইনক্লুসিভ। কিন্তু আশি ও নব্বইয়ের ক্ষেত্রে সেটা খুবই কনজারভেটিভ এবং এক্সক্লুসিভ। যে সংকলনটি আশি দশকের আগ পর্যন্ত মাইক্রোস্কোপ দিয়ে কবি খুঁজে খুঁজে বার করে পরিবেশন করছে, সেই আবার আশি-নব্বইয়ের ক্ষেত্রে কানামাছি ভোঁ ভোঁ যারে পাবি তারে ছোঁ খেলছে!
কিন্তু ভূমিকা কি বলছে? সেখানে সাজ্জাদ শরিফ বলছেন আশিপূর্ব কবিতা "ইতিহাসের দায় মিটিয়েছে সত্য, কিন্তু কবিতার যথাযথ দায় মেটাতে পারেনি। আভিধানিক অর্থ থেকে শব্দের যে বিচ্যুতির মধ্য দিয়ে কবিতার সূচনা ঘটে, কবিতাকে এবার তার সেই ভাষা-সংবেদনার কাছে নিয়ে যাওয়ার তাড়নায় এ সময়ের কবিরা ষড়যন্ত্রময়" (পৃষ্ঠা-৯)। এখানেই সাজ্জাদ শরিফের সম্পাদনানীতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়: যেখানে "রাজনৈতিক বাস্তবতার" কবিতার ক্ষেত্রে এই সংকলন এত লিবারাল এবং ইনক্লুসিভ হতে পারল, সেখানে "কবিতার যথাযথ দায়" মেটাবার কালে এসে এই একই সংকলন এই এক্সক্লুসিভিটির কৌশল অবলম্বন করল কেন? এই প্রশ্নটির ফয়সালা ভূমিকার মধ্যেই হওয়া উচিৎ ছিল।
প্রশ্নটি রণজিৎ দাশের উপরও বর্তায়। পশ্চিমবঙ্গীয় কবি তিনি, বাংলাদেশের কবিতার খুঁটিনাটি না জেনেই স্রেফ ভালবাসার টানে সংকলন করতে নেমে গেলেন। তাঁর অজ্ঞতাকে মাফ করে দেয়া যায়। কিন্তু ভোঁতাপনাকে নয়। যেখানে সাজ্জাদ শরিফ-এর ভূমিকা বলছে আশি থেকে বাংলাদেশের কবিতা "কবিতার যথাযথ দায়" মেটাতে চেষ্টা করছে, সেখানেই তাঁর প্রশ্নমুখর হওয়া উচিৎ ছিল। কেন নতুন কবিতার এই বাঁকবদল এই সংকলনটি আরো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে না, এটি তাঁর নিজের প্রশ্ন হওয়া উচিৎ ছিল। তাহলে হয়ত তিনি যে অজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের কবিতাকে জানতে এসেছিলেন, সেই একই অজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যেতেন না!
আরেকটা সাধারণ পর্যবেক্ষণ শেয়ার না করলেই নয়। প্রায় সবসময়েই দেখা যায়, কবিতার অ্যানথলজিগুলো সমসাময়িককালের ক্ষেত্রে লিবারাল ভূমিকা নেয়, এবং পুরনোকালের ক্ষেত্রে সিলেক্টিভ (অর্থাৎ বর্তমান সংকলনের স্ট্র্যাটেজির ঠিক বিপরীত)। এর কারণ হল, পুরনো দিনের সাহিত্য অনেক আলাপ-আলোচনায় ইতোমধ্যে অনেকখানি থিতু হয়ে আসে, ভালমন্দ চিহ্ণিত হয়ে পড়ে। সমসাময়িককালের ক্ষেত্রে সেটা ঘটে না। আর যেকোনো অ্যানথলজিই শেষবিচারে প্রমোশনাল, ফলে সমসাময়িককালের কবিতাকে বেশি প্রমোট করার মাধ্যমে অ্যানথলজি আসলে সাহিত্যের যাত্রায় সদর্থক ভূমিকাই রাখে। বর্তমান অ্যানথলজিটি সেই ভূমিকা রাখেনি। কিন্তু ইংরেজিভাষার কবিতার অ্যানথলজিগুলো দেখুন। দেখুন প্রতিটি অ্যানথলজি যে দশকে বেরয় কিভাবে দশক-বায়াজড হয়ে থাকে, পরবর্তী দশকে হয়ত সংকলন-ভূক্ত অনেককেই আর পাওয়া যায় না। এটা ইতিবাচক পক্ষপাত। পক্ষান্তরে দেখুন, বাংলাভাষার সংকলনসমূহ সম্পাদকের ব্যক্তিগত রূচির আস্ফালনের বাইরে যেতেই পারে না। সমসাময়িক কবিতাকে এভাবে নিগৃহিত করে দেখার একটা কারণ হয়ত আছে। এর উদ্ঘাটন অবশ্য সাহিত্য সমালোচকের কাজ নয়, মনস্তত্ত্ববিদ বা সমাজতাত্ত্বিকের কাজ। তাই আলোচনা এখানেই ক্ষান্ত দেয়া যায়।
আমি সাজ্জাদ শরিফ ও রণজিৎ দাশ সম্পাদিত "বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা"র প্রকাশকে অভিনন্দিত করি। এজন্য যে এই প্রকাশনাটিকে ঘিরে বাংলাভাষার সংকলন-সম্পাদনার এসব প্রবণতাকে চিহ্নিত করতে পারা গেছে এবং এই অনুধাবন সঠিক হলে ভবিষ্যতের সংকলন-প্রণেতারা এর থেকে নিজেদের পথ বাতলে নিতে পারবেন।
(লেখাটি একযোগে ফেসবুক নোটস, সামহোয়্যারইন ব্লগ এবং "কবিসভা" ইয়াহুগ্রুপ এবং "কবিতাকথা" গুগুলগ্রুপে প্রকাশিত)
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রতিদিনের রাজনীতি বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:১৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: নিশ্চয়ই সেটা বলা যেতে পারে, কিন্তু যিনি বলবেন সেটা তার অভিমত। এখানে ফাঁক একটা থেকেই যায়। ফাঁকটা হল পারসেপশনের, অর্থাৎ আমার কাছে যা দৃষ্টিনন্দন আপনার কাছে সেটা দৃষ্টিকটু হলে আমি কার রূচি দিয়ে চালিত হব? এ কারণে আমি এই সংকলন নিয়ে আরো কনক্রিট আপত্তির জায়গাগুলো বের করতে চেষ্টা করেছি।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
সাজ্জাদ শরিফ এই সংকলনগ্রন্থে তাঁর পুরো 'ছুরিচিকিৎসা' গ্রন্থটিই ছাপিয়ে দিতে পারতেন। রুচিরই যখন প্রশ্ন, তখন কে না বলতে পারত?আমার বক্তব্য খুব পরিষ্কার, যখন কেউ একটা দেশের শ্রেষ্ঠ কবিতার সংকলন করবেন, তখন সেখানে ব্যক্তিগত পছন্দাপছন্দকে অনেক দূরে রেখে আসতে হবে। তা নইলে দুর্ঘটনা ঘটতে বাধ্য, যেরকমটা ঘটেছে এই সংকলনে।
লেখক বলেছেন: একমত মুজিব। কিন্তু যে দুর্ঘটনাটি ঘটল তাকে আদালতে প্রমাণ করা কঠিন। রূচির প্রশ্ন যেহেতু। আপনিই দেখেন না আপনার নোটের সূত্র ধরে কতরকম কবির তালিকা আসল! যাদের নাম মিসিং হিসাবে আসতেছে তাদের সবাইকে কি আপনি সংকলনে দেখতে চান? এ কারণেই বলি, সাজ্জাদ শরিফের তালিকা কোনোদিনই সম্পূর্ণ হবে না। সবাইকে নিয়ে নিলেও। ফলে তালিকা প্রণয়নের বাইরে জিনিসটা নিয়ে শক্ত আপত্তি তোলা দরকার।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
মুজিব মেহদী বলেছেন: আমার বক্তব্য খুব পরিষ্কার, যখন কেউ একটা দেশের শ্রেষ্ঠ কবিতার সংকলন করবেন, তখন সেখানে ব্যক্তিগত পছন্দাপছন্দকে অনেক দূরে রেখে আসতে হবে। এই কথাটা আমার কাছে খুবই ইন্টেরেস্টিং এবং যৌক্তিক মনে হইছে। কবি সুমন রহমানের কোর্টে বল। তার উত্তরের প্রতীক্ষায়
আমিও একটা পয়েন্টে এমফেসাইজ করতে চাই : বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ
লেখক বলেছেন: আপনার কোর্টেই তো বল দেখতেছি! কথা শেষ করেন নাই।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
ভাল লাগল "বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা" সংকলন নিয়ে মুজিব মেহদীর ফেসবুক নোটে এবং কবিতাকথা গুগুলগ্রুপে প্রকাশিত "বিস্ময়" উত্থাপন কেন্দ্র করে 'সাজ্জাদ শরিফের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার' করতে এবং একে 'ফরহাদ মজহারীয় ষড়যন্ত্রের অংশ'হিসেবে দেখিয়ে নানা 'রঙ বেরঙের তত্ত্ব' প্রণয়নে নিয়োজিত না থেকে আপনি খোদ সংকলনের নির্বাচনকৌশল নিয়ে আলোচনায় ব্রতি হয়েছেন । আপনার মত -"এটি বাংলাদেশের "শ্রেষ্ঠ কবিতা", ফলে সংকলনের সম্পাদকের ব্যক্তিগত সাহিত্যরূচি অনুযায়ী এর সম্পাদনা হবে তা বলাই বাহুল্য। 'মানে কি ? একটি দেশের প্রতিনিধিত্বশীল শ্রেষ্ঠ কবিতা নির্বাচনে নীতি /পন্থা হবে ব্যবহার সম্পাদকের ব্যক্তিগত সাহিত্যরূচি -বাহ বেশ !!!! যেহেতু আপনারই
মতে ''সাহিত্যবিচারের কোনো সার্বজনীন মানদণ্ড নেই।"
আবার আপনি স্বয়ং পশ্চিমের উদাহরণ টেনে সমালোচনা করেছেন 'বাংলাভাষার সংকলনসমূহ সম্পাদকের ব্যক্তিগত রূচির আস্ফালনের বাইরে যেতেই পারে না। '
এখন আপনার মত কি -বাংলাভাষার সংকলনসমূহ সম্পাদকের ব্যক্তিগত রূচির আস্ফালনের বাইরে যাওয়া উচিত , না উচিত নয় ?
যদি মনে করেন উচিত তবে মুজিবের 'যখন কেউ একটা দেশের শ্রেষ্ঠ কবিতার সংকলন করবেন, তখন সেখানে ব্যক্তিগত পছন্দাপছন্দকে অনেক দূরে রেখে আসতে হবে। ' এই মতে আপনার দ্বিমত কোথায় ?
লেখক বলেছেন: দ্বিমত নাই মানিক। কিন্তু কেউ যখন তার ব্যক্তিগত পছন্দ দিয়ে এরকম সম্পাদনা করেন তখন রূচির প্রশ্নে তাকে জায়েজ করে নেয়ার সুযোগ থাকে তার। সেটাই বলেছি। আসলে এ ধরনের সম্পাদনা যথাসম্ভব সুন্দর করার জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছার। এখন সুমন রহমানের কবিতা সেখানে না থাকলেই সাজ্জাদ শরিফের সদিচ্ছা নাই সেটা প্রমাণ হয় না। সদিচ্ছার অভাব প্রমাণ করতে হবে আরো ধরতাই-এর জায়গা থেকে। কে নাই সেটার চেয়ে কী হয়েছে সেটা নিয়েই আমি বেশি আগ্রহী। আর আমার জায়গা যদি সত্যিসত্যিই সেখানে থাকে, তবে যা হয়েছে সেটার আলোচনা থেকেই আমার অনুপস্থিতি আমি বের করে নিতে পারবো। সেটাই করেছি আমি।
একটা পুস্ট লেকেন...
সামহড়িণের শ্রেসটো লেকা সমূহ.....
....আর এইডার "সব" লেকা আমনের লিংক দিয়া ভইরা দিলেন...
কেমুন অইবো জিনিসটা.....
.....
হা হা হা হা হা হা হা াহ হা হে হে হে হে....
আমি হাসতে হাষতে ষেশ!!!
লেখক বলেছেন: সেটাই। হাইসা দেন।
একবার বন্ধুকবি মাহবুব কবির 'নব্বইয়ের কবিতা' করলেন। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হলেন অনিকেত শামীম। ভূমিকা লিখলেন বন্ধুকবি মাসুদুল হক। তো, ৯০ দশকের ৯০ জন কবির কবিতা যাচ্ছে, সেখানে জানতে পারলাম আমার কবিতা নেই। এক শুভানুধ্যায়ী এসে সেগুনবাগিচার রাইটার্স ক্লাবের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দুপুরে এসে জানালেন, ওই সংকলনের ট্রেসিং বের হচ্ছে। সূচিপত্রে আমার নাম না দেখে তিনি অবাক হযেছেন। আমিও অবাক হয়েছি। কিন্তু সম্পাদক, ব্যবস্থাপক, ভূমিকালেখক - তিনজনই আমার পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও যখন আমার কবিতা নিচ্ছেন না, সেখানে আমি যেচে গিয়ে অনুরোধ করতে পারি না। আত্মসম্মানে বাধে! ওই বন্ধুটি আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলি যে, '৯০ দশকে ৯০ জনের মধ্যে যদি আমার কবিতা না থাকে, সেটি আমার জন্য এওয়ার্ড। যেহেতু কেউ বাদ যাচ্ছেন না, তাই আমাকে বাদ দেয়ার পেছনে কোনও কারণ থাকতে পারে, যা আমি জানি না। তাই কিছু বলার নেই।' দুপুরে কবি-সম্পাদক মাহবুব কবির এলেন। আমাকে বললেন, 'আপনার দুটি কবিতা নিতে চাই, কোন দুটি নেব, যদি একটু বলতেন।' আমি বললাম, ট্রেসিং এখনো বের হয়নি?' মাহবুব হাসলেন। আম বললালম, আপনার পছন্দের যে কোনও কবিতা নিতে পারেন।' সপ্তাহখানেক পরে প্রকাশিত ওই সংকলনে আমার কবিতা দেখে মুচকি হেসেছি। ভূমিকায় অনেকের কবিতার আলোচনা। এমনকি অশ্রুকুমার সিকদারের প্রবন্ধের ৮টি বাক্য চুরি করে পৃষ্ঠা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু আমাদের কবিতার আলোচনা নেই। তা পড়েও মুচকি হেসেছি। মাসুদুল হক বলেছে, 'বন্ধু, ভুলে তোমার কবিতার আলোচনা বাদ পড়ে গেছে। পরে কখনো আলাদাভাবে লিখব।' কিছুদিন পরে অশ্রুকুমার সিকদার লিখে ওই ভূমিকার নিন্দা করেছেন। এই নিয়ে আমিও আজকের কাগজে লিখেছি।
দিনাজপুরপ্রবাসী সেই মাসুদুল হকসম্প্রতি লিখেছেন, 'হাজার বছরের বাংলা কবিতা'। বাংলাবাজারে প্রকাশের ঘরে বসে ফাইনাল প্রুফ দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। সেখানে ৯০ দশকের কবিতার আলোচনায় আমি বাদে প্রায় সকলেরই কবিতার আলোচনা রযেছে। পড়ে মুচকি হেসেছি। বই প্রকাশের পরেও কিছু বলিনি। কারণ সম্পাদকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারি না। সেদিন, ফোনে আমাকে সে অনুরোধ করে, তার পিএইচডি থিসিস বেরিয়েছে, তা নিয়ে একটা আলোচনা লিখতে। এবার আমি আর আবেগটাকে চেপে রাখতে পারিনি। বলেই ফেললাম, 'আলোচনায় কী এই কথা লিখব যে অশ্রুকুমারের কয়টি বাক্য নিয়েছিস, আর তোর কয়টি বাক্য?' বন্ধু বুঝতে পারেনি। তাই সুর পাল্টিয়ে বললাম, 'আমি কি হাজার বছরের বাংলা কবিতা নিয়েও লিখব?' এবার বন্ধু বুঝতে পেরে বলে, 'শোন বন্ধু, আমি তোর নাম লিখেছিলাম, কিন্তু প্রুফের সময় বাদ পড়ে গেছে'। কী খোঁড়া যুক্তি! আমি রেগে গিয়ে ভাবলাম, তার কবিতার বই 'টেনে যাচ্ছি কালের গুণ'বেরিয়েছে ১৯৮৬ সালে। সে কী করে ৯০-এর সর্দার সাজে? বন্ধু বলে, 'রাগ করিস না, তোর কোনো বই তো আমাকে দিস নি। তাই হাতের কাছে কবিতা ছিল না বলে..।' আবারও সেই খোঁড়া যুক্তি! জানতে ইচ্ছে করিছিল, রবীন্দ্রনাথ কি তাঁকে বই দিয়ে এসেছিল দিনাজপুরে গিয়ে। যাহোক, সে নিজ থেকেই কথা দিয়েছে আার বই পেলে আমাকে নিয়ে নাকি আলাদা প্রবন্ধ লিখবে। তার সঙ্গে আমার তুই-তুিরি মিশ্র সম্পর্ক। আমি তার মেইলে আমার ৫টি কবিতার বই থেকে বেছে ১৫০টি কবিতা পাঠিয়েছে। এবার দেখি সে কী করে?
আসলে, সংকলনে সম্পাদকের নিজের পছন্দের বিষয়টিই উঠে আসে। ইচ্ছে করলে, ওই সংকলন বর্জন করতে পারি। কিংবা আংশিক গ্রহণ করতে পারি। কিন্তু সম্পাদককে গালাগাল করা কিংবা গালাগাল করার সুযোগ সৃষ্টি করাও সুরুচির পরিচয় নয়।
সমস্যা হয় এই যে, এই ধরনের বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত। যারা জানে, তাদের জন্য সমস্যা নয়, যারা জানে না, তারা সংকলনকেই ধ্রুব ভাবে।
তবে আশার কথা এই যে, কোনো সংকলনই সম্পূর্ণ নয়, সম্পন্ন নয়। এর আগে কলকাতা থেকে আরেকটি সংকলন বেরিয়েছছিল উত্তরাধুনিক কবিতার। সেটিও সংকলনের সংকীর্ণতা ধারণ করেছিল। আমি যদি কখনো করি, আমিও কি পারব এই ধরনের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে?? কে জানে???
তপন বাগচী
লেখক বলেছেন: তপন বাগচী, আপনার নব্বই দশকের কবিতার সংকলনের কাহিনি জেনে আনন্দ পেলাম। মাসুদুল হকের অশ্রুকুমার সিকদার কপি করা নিয়ে সম্ভবত "মান্দার" এর সম্পাদকীয়তে আমিও খানিকটা লিখেছিলাম।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
ফেসবুকে মুজিব ভাইয়ের নোটে যা লেখার চেষ্টা করছিলাম: দেরীতে পড়লাম। এতো দেখি বিশাল কাণ্ড।
আমি কবিতা কম বুঝি। তবে কবিতা নিয়ে রাজনীতিটা একটু একটু বুঝি। মুজিব ভাইয়ের মতো আমার ৫ বিস্ময় নাই। অনেক কবি বাদ পড়েছেন, পড়বেনই তো। সবাইকে একোমোডেট করা যাবে না, সিলেকটিভ হতেই হবে। সাজ্জাদ শরিফ তাই করেছেন, এক্ষেত্রে ব্যক্তিপছন্দ কাজ করবেই। এই ব্যক্তিপছন্দের বৃহত্তর রাজনীতি নিয়ে কথা উঠেছে, উঠতেই পারে। কিন্তু এখানে সেই আলোচনা ব্যক্তিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠতে পারছে না। একটু খচখচ লাগছে সম্পাদক নিজের নয় কবিতা প্রবিষ্ট করিয়েছেন। আবুল হাসান অবশ্যই বড়ো কবি, কিন্তু ফরহাদ মজহারও সম্ভবত ছোট কবি নন। সবমিলিয়ে বিস্ময় কম ঠেকছে।
কবিতার মতো বিমূর্ত বিষয়ের সম্পাদনাও অবজেক্টিভ হবার সম্ভাবনা কম। কারণ কে অপেক্ষাকৃত বড়ো কবি আর কে ছোট, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত পৌঁছা কঠিন। পঞ্চাশ-ষাটের বড়ো কবি কারা, তা নির্ধারণ সহজ, আশি-নব্বইয়ের ততটা নয়।
বড়ো কথা হলো এই সম্পাদনা ঘটেছে গোচরে, কবিকূলের কনসেন্ট নেয়া হয়নি, আলোচনাও হয়নি। নির্বাচক কোনো প্যানেলও এখানে ছিলনা। সুতরাং এখানে গবেষকের অবজেক্টিভ আশা করা আতিশয্য। বইয়ের নামে 'শ্রেষ্ঠ' শব্দটা থাকাও একটা সমস্যা। বাংলাদেশের কবিতা (১৯৫০-২০০০), নামটা এরকম হলে বেশ নিরাপদ হতো, তাবে বিক্রিসম্ভাবনা হয়তো কমে যেত।নির্বাচন অপছন্দ হলে ইগনোর করাটা একটা সমাধান। এত হৈ হৈ করাটাও কেমন যেন দেখাচ্ছে।
কী জানি, কবিদের ব্যাপার-স্যাপারই হয়তো আলাদা।
লেখক বলেছেন: ফাহমিদুল, কেটে যাচ্ছেন যান। কিন্তু আপনার এই নোট পড়ে মনে হল আমার লেখাটি আপনি হয়ত পড়ে দেখেন নি। বা দেখলেও প্রথম পর্বের বাইরে কোনো কথা বলতে চাইছেন না। ফেসবুকে আপনাকে ট্যাগ করেছিলাম, জানি আপনি কবি নন, তারপরও। এর কারণ হল, সমালোচনার যে তীক্ষ্মতা আমি দেখিয়েছি এই লেখায়
তাকে আপনার একাডেমিক চর্চার মাধ্যমে একটু ক্রসচেক করে নেয়া।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
সংশোধনী: দ্বিতীয়-শেষ প্যারার প্রথম লাইনে 'গোচরে' শব্দটির পরিবর্তে 'অগোচরে' পড়তে হবে।
লেখক বলেছেন: আসবে ভাইয়া! তর সইছে না বুঝি?
অনিশ্চিত বলেছেন:
অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে কেউ চাইলেই পুরো বাংলাদেশকে ধরে 'বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা'টাইপ বই প্রকাশ করতে পারে। বাংলাদেশের কবিতার গণ্ডীটা কতোটুকু সেটা জানা থাকুক বা না থাকুক। 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' নামক শব্দবন্ধগুলো যেহেতু পাঠকের মনে আগ্রহ জন্মায়, সুতরাং ব্যবসায়িক দিক দিয়ে এর একটা দাম আছে। সাজ্জাদ শরিফ এবং রণজিৎ দাশ সেই অর্থেই হয়তো বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিতা বের করেছেন।প্রশ্ন হলো, এই কাজটুকু করার যোগ্যতা তাঁদের আছে কিনা। একদিক থেকে আছে। যে কেউ তার ইচ্ছেমতো পছন্দের কবিতা বা কবির কবিতাকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করতেই পারে। আমি পারি, আপনি পারেন, সাজ্জাদ শরিফও পারেন। এটা নিয়ে হাউকাউয়ের কিছু নেই। তার সাথে কেন, একজনের নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কবিতার সাথে অন্য কারোর শ্রেষ্ঠ কবিতার তালিকা না মেলারই কথা।
আবার আরেক দিক থেকে নাই। বাংলা কবিতার ভাণ্ডার এতো বিশাল এবং কিছু দিক থেকে এতো বৈচিত্র্যময় যে, সাজ্জাদ শরিফের এগুলো বাছাই করার ক্ষমতা আছে বলে আমি মনে করি না (ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে যতোটুকু জানি)। এখন ক্ষমতাশালী কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের জোরে যদি তিনি এই কাজ করতে চান, সেটা আলাদা কথা। অবশ্য এ ব্যাপারে রণজিৎ দাশের ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। তাঁকে আমি ভালো জানি না।
কষ্ট হয় তখন যখন দেখি সাজ্জাদ শরিফ শোয়েব শাদাব বা রিফাত হাসানের মতো কবির কবিতা বাদ দিয়েছেন। তাঁর নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কবির তালিকায় এদের নাম না আসলেও কবিতার তালিকায় আসা উচিত বলে আমি মনে করি। সেদিক থেকে সাজ্জাদ শরিফের তালিকা দেখে কষ্ট পেয়েছি, তাঁর কবিতা নির্বাচনের দক্ষতা নিয়ে যে সংশয় ছিলো তা আরো পোক্ত হয়েছে।
বলতে দ্বিধা নেই, খ্যাতির মোহ পেয়ে না বসলে সাজ্জাদ শরিফের কাছ থেকে বাংলা কবিতা অনেক কিছুই পেতো। যখন থেকেই সেটা শুরু হলো, তখন থেকেই তাঁর কবিতার পতন ঘটে। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। পতনটা যে এতোদূর ঘটেছে, সেটা বুঝতে পারছি বইটিতে তাঁর নিজের নয়টি কবিতা দেখে।
এটা অন্যায় কিছু না, রুচির প্রশ্ন, ক্ষমতা প্রকাশের প্রশ্ন। দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ চল্লিশ বছর সম্পাদকগিরি করেছেন। কিন্তু এই পত্রিকায় তাঁর প্রকাশিত লেখার সংখ্যা সাকুল্যে দুই। পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যায়ই তিনি ইচ্ছে করলে নিজের লেখা ছাপতে পারতেন (যা আজকের অনেক ব্যবসায়ী-সম্পাদক করছেন), কিন্তু তিনি সেটি করেন নি। সাজ্জাদ শরিফ সেখানে তাঁর নিজের ক্ষমতাটা ভালোভাবেই প্রকাশ করেছেন।
বইটি প্রকাশ হয়ে একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। সাজ্জাদ শরিফের খ্যাতির মোহ অনেকের কাছে প্রকাশ হয়ে গেলো।
লেখক বলেছেন: হা হা হা... তালিকা প্রণয়ন করেই ছাড়বে বাঙালি! আমার আলোচনাটার স্পিরিট খেয়াল করুন ভাই। কে বাদ পড়ল সেটা না লিখেও এই সংকলনের প্রতিনিধিত্বহীনতার বিষয়টা খোলাসা করা যায়। আপনার মন্তব্য মুজিব মেহদীর পোস্টে প্রাসঙ্গিক, সেই আলোচনায় আমার অরূচিও নাই। তবে এখানে আলাপ ভিন্ন।
অনিশ্চিত বলেছেন:
আপনার লেখার স্পিরিটের সাথে মন্তব্যটা কেন অপ্রাসঙ্গিক, সেটা বুঝতে পারছি না। আমারই অযোগ্যতা। তবে আপনার লেখার স্পিরিট যদি বুঝতে পারি তাহলে বলতে হয়- পৃথিবীর কোনো কাজ নিয়েই প্রশ্ন তোলা উচিত না। যার যার অভিরুচি বলে চালিয়ে দেয়া যেতে পারে।
লেখক বলেছেন: "তবে আপনার লেখার স্পিরিট যদি বুঝতে পারি তাহলে বলতে হয়- পৃথিবীর কোনো কাজ নিয়েই প্রশ্ন তোলা উচিত না। যার যার অভিরুচি বলে চালিয়ে দেয়া যেতে পারে।"
-- তা পারে বৈকি। বিশেষত পছন্দ যেখানে একান্তই সাবজেক্টিভ। ফলে এখানে আমি বলব অনিশ্চিতের কবিতা কেন নাই, অনিশ্চিত বলবে রিফাত হাসানের কবিতা কেন নাই, রিফাত হাসান বলবে শাহরিয়ার মোল্লার কবিতা কেন নাই.... এই সমস্যার সমাধান কে করবে? সবার রূচি একোমোডেট করতে গেলে এনসাইক্লোপেডিয়া করেও কি পার পাওয়া যাবে?
কিন্তু আপনি রূচির প্রশ্ন তুলতেই পারেন। সেটা তোলায় কোনো অপরাধ নেই। তবে রূচিবোধের কাঠগড়া অনেক পলকা, সেখানে দাঁড় করিয়ে কাউকে আসামি প্রমাণ করা সম্ভব নয়। আপনি মূল্যায়ন দিতে পারেন মাত্র। আমি এগিয়েছি অন্য পথে। বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গা থেকে এই সংকলনের পরস্পরবিরোধিতা প্রমাণ করেছি। এতে সম্পাদকদের সামর্থ না হয় অভীপ্সা যেকোনো একটির উনতা প্রমাণ করে দেয়া যায়। যে সংকলন কোনোরকম পূর্বব্যাখ্যা ছাড়াই একটা পরস্পরবিরোধী নীতিমালাকে আশ্রয় করেছে তা কি প্রমাণ করে? সম্পাদকদের অসামর্থ, না হয় অসদিচ্ছা, নয় উভয়ই।
এই তো।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
ফেসবুকে আমি 'লাইক' দিয়ে সারতে চাচ্ছিলাম। তার আগে মুজিব ভাইয়ের নোটটা নিয়ে ধস্তাধস্তি করছিলাম। মানে স্লো নেটের কারণে এই নোটটাই ওখানে বারকয়েক চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। পাশাপাশি সামহোয়ারে আপনার পোস্ট পেয়ে গেলাম, মুজিব ভাইকেও এখানে দেখা গেল। তাই মুজিব ভাইয়ের নোটটা এখানে মেরে দিলাম। পরে অবশ্য দেখলাম ওখানেও নোটটা রিসিভ করেছে। এই ইস্যুতে আমার মত এটাই। আর আপনার পোস্টের জন্য ফেসবুকের ভাষায় লাইক, আর সামহোয়ারের ভাষায় সহমত। কাটাকাটির কিছু নাই, আর আমার একাডেমিক চর্চা এযাত্রায় ক্রসচেক করে বাড়তি কিছু যোগ করতে অপারগ। ইনক্লুসিভ বা এক্সক্লুসিভের ধারণাটা আপনার কাছ থেকেই পেলাম যে সমসাময়িক কবিরাই বাদ পড়েছে বেশি। বইটা তো দেখি নাই। আলোচনা বেশি করলে চ্যুতির সম্ভাবনা।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
"লক্ষ্য করে দেখুন, আশি দশকের আগ পর্যন্ত সম্পাদকীয় তরফে কবি নির্বাচনের ভূমিকা লিবারাল এবং ইনক্লুসিভ।"কিন্তু সৈয়দ আলী আহসান দেখি ইনক্লুডেট নন যার 'আমার পুর্ব
বাংলা' অন্যতম শ্রেষ্ট বাংলা কবিতা ।
এভাবে বুঝলে ঠিক আছে, তাইনা?
আমার ব্যক্তিগত একটা অবজার্ভেশন (অফটপিক হতে পারে, তবে কবিতা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়না দেখে তুলে দিলাম):
প্রশ্নটা হলো, একজন কবির স্বীকৃতিটা ঠিক কোথায় মেলে?
এখানে স্বীকৃতির পরিমন্ডলটাও আবার বিবেচনায় আনতে হবে। যেমন কবিদের নিজেদের একটা পরিমন্ডল আছে, যেমনটা শাহবাগের আজিজ মার্কেটকেন্দ্রীক কবিগোষ্ঠী, বা সম্ভবতঃ ৯০ এর দশকে সিলেটে তৈরী সাহিত্য আন্দোলনের পরিমন্ডল, এবং এরকম আরো অনেক। আবার আরেকটা পরিমন্ডল হলো পাঠকের পরিমন্ডল। এসব পরিমন্ডলে ঠিক কিভাবে স্বীকৃতি মেলে তার সূক্ষ্ণ মেকানিজম আমি জানিনা, তবে বেশ কাঁদা ছুঁড়োছুঁড়ি যে হয় সেটা বোঝা যায়। সম্ভবতঃ কবিদের মধ্যে পাউলো কোয়েলিও'র দ্য জাহিরে উল্লিখিত "ফেভার ব্যাংক" জিনিসটা কাজ করে। প্যারিসের সাহিত্যসার্কলের একটা বৈশিষ্ট্য তিনি উপন্যাসের একটি অংশে ছোট করে তুলে ধরেছিলেন, যেটার সাথে আমাদের সার্কলগুলোরও হয়তো মিল পাওয়া যাবে
তবে, যেহেতু আমি পাঠকের পরিমন্ডল থেকে দেখছি ব্যাপারটা, তাই সেই অবস্থান থেকে বলতে পারি যে টেক্সটবুকে অন্তর্ভুক্তিই সম্ভবতঃ একজন কবির সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি, তারপরের স্বীকৃতির লেভেল হলো পত্রিকা/ম্যাগাজিনের বড় (ঈদ, পূজা, নববর্ষ)সংখ্যাগুলোতে কবিতার নিয়মিত প্রকাশ, পত্রিকার সাহিত্যপাতায় প্রকাশ।
৮০ এর দশক থেকে এখন শূণ্যের দশকের এখন পর্যন্ত কোন কবির কবিতা টেক্সটবুকে এসেছে কিনা আমার জানান নেই, অথবা এই সাহিত্যটি পাঠ হবে, এটির উপর আলোচনা হবে -- এমনটা ভেবে কবিরা কবিতা লিখেন কিনা তাও জানা নেই। এইচএসসি পর্যন্ত অনতর্ভুক্তিটা জানি, এবং সেখানে সবচেয়ে কমবয়েসী যে কবিদের আমরা দেখতে পাই তারা আল মাহমুদ, শামসুর রাহমান, প্রমুখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স/মাস্টার্স পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তকে স্থান পাওয়া কবিতাগুলো সম্পর্কে জানিনা, তাও মনে হচ্ছেনা যে রফিক আজাদের চেয়ে জুনিয়র কেউ আছেন বলে (আমনি হয়তো টু দ্য পয়েন্ট বলতে পারবেন)। কাজেই টেক্সটবুক লেভেলে নতুন কবিরা পাত্তাই পাচ্ছেননা। অথচ এগুলো হয়তো দশকে দশকেই বদলানো উচিত, অন্ততঃ সাহিত্যের ধারাকে আমপাঠকের সাথে পরিচিত রাখতে।
এখানে দোষটা কি টেক্সটবুক প্রণেতাদের উন্নাসিকতা, না আধুনিক কবিদের অতিরিক্তমাত্রার বিমূর্ততা -- সেটা নিয়ে গবেষণার দরকার আছে।
পত্রিকাগুলোতে প্রকাশের ক্ষেত্রেও সম্ভবতঃ লবিং, ফেভার ব্যাংক কাজ করে, সম্ভবতঃ এটার বিরুদ্ধেই পৃথিবীর অনেক শহরেই লিটল ম্যাগ আন্দোলন গড়ে ওঠে।
তো মোটের ওপর চিত্রে দেখা যায় যে, আধুনিক কবিকে লড়তে হচ্ছে এ যুগে। সৎ পন্থা হোক অসৎ পন্থা হোক, একটা সারভাইভাল ফাইটে থাকতে হচ্ছে, আধুনিক কবির জন্য পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে লিটলম্যাগ, যে কোন পরিমন্ডলে নাক সিঁটকানো ভাবটা প্রকটভাবেই আছে।
এর বাইরে সাজ্জাদ শরীফকে কি আসলেই কল্পনা করা যায়?
*******************************************************
অফ টপিকে:
সাজ্জাদ শরীফের সংকলণে কবি হেলাল হাফিজের নাম না দেখে আমি যারপরনাই বিস্মিত আর বিরক্ত হয়েছি। এটা কি ভুল, না আসলেই নেই????
লেখক বলেছেন: জ্বিনের বাদশা, আপনার মন্তব্য পড়েছিলাম আগেই, কিন্তু জবাব লিখতে ভুলে গেছিলাম। কোয়েলহো-র "ফেভার ব্যাংক" দারুণ খাটে এই পরিমণ্ডলে। টেক্সট বুক একটা মাপকাঠি, আমাদের দেশে টেক্সট বুক সবচে বধির জিনিস। আপনি জানেন।
হেলাল হাফিজ নেই এই সংকলনে, যতটুকু দেখেছি। এটাও পলিসির সাথে যায় না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















ঠিক বলেছেন, সুমন।
সংকলকদের পছন্দ অপছন্দ আপেক্ষিক, ফলে যে কারো সম্পাদনাই ভিন্ন হতে বাধ্য।
বরং একটি সংকলনের বৈশিষ্ট্য নিয়েই আলোচনা করা যেতে পারে, যেটা আপনি করেছেন।
বাকি সবই গসিপ, গালগল্প, বিরাগ আর তোষণের না বলা ইতিহাস, সেটা আমাদের পরচর্চার টেবিলের জন্যই রাখা ভাল।
তবে সুমন, ৯ টা কবিতা রাখাকে অন্তত দৃষ্টিকটু বলা যেতে পারে!