somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বৃষ্টি ছোঁয়না যাদের... অদ্ভূত! অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য।
অভূতপূর্ব এক অনুভব।
বিষয়টা আগেও শুনেছি কয়েকবার। কিন্তু বিশ্বাস হয়নি। বিশ্বাস হয়নি এমন ধবধবে সাদা তুলোর মতো মেঘ এভাবে আমাদের শরীর স্পর্শ করে ভেসে বেড়াবে। আমাদের এতো কাছ দিয়ে ভেসে যাবে এরকম স্বপ্নময় সুশোভন মেঘ।

বান্দরবানের বৃষ্টিভেজা চিম্ভূক পাহাড়ের সুউচ্চ এক চূড়োয় নানা ঝুঁকি নিয়ে আমরা যখন পৌঁছে গেলাম, তখন বিকেল প্রায় পাঁচটা। আর কিছুক্ষণ পর সূর্য অস্ত যাবে। আমরা প্রায় পঁচিশ জন দাড়িয়ে আছি তারই অপেক্ষায়।

আগেই শুনেছিলাম এখানে আসতে পারলে হাত দিয়ে ছুঁতে পারার মতো নিকট দূরত্বে পাওয়া যাবে নিলীমার অপরূপ মেঘ।পাওয়া যাবে বৃষ্টি। পাওয়া যাবে অপরূপ সুশীতল হাওয়া...।

পেয়েও গেলাম সেই সব স্বপ্নময় পরম প্রাপ্তি।

কী আশ্চর্য্য অসাধারণ এক নিসর্গ।
কী আশ্চর্য্য মন এলো মেলো করে দেওয়া অপূর্ব এক সুবাতাস!
যতদূর দৃষ্টি যায় সামনে তাকালাম।
আমাদের বুক ছুঁয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ। স্বপ্নময়, অলীক, অবিশ্বাস্য ! অসামান্য তার ছোঁয়া !
অসাধারণ তার স্পর্শ! অনুল্লেখ্য তার অনবদ্য শিহরণ !!...

কিন্তু সেই মুহূর্তেই ভেসে এলো অবাক ছন্দপতন।
সেই মুহূর্তেই একজনের এক আশ্চর্য্যজনক মন্তব্য শুনে মূহুর্তে আমরা সবাই হতবাক!

"আচ্ছা এখানে দেখার কি আছে? আমরা সবাই কেন এতো ঝুঁকি নিয়ে এখানে এলাম? কী এমন রেয়ার জিনিষ পাওয়া যাবে এখানে? তারচেয়ে বিকেলটা মার্কেটিং করে কাটালেও তো ভালো লাগতো! একটা কাজে দিতো! ...এইসব কাদা-মাটি-বৃষ্টিতো সব জায়গাতেই দেখা যায়! এগুলোর মধ্যে এমন কি আছে যে তা’ দেখার জন্য এখানে আসতে হবে?"

আমরা সবাই অবাক হয়ে ভেসে আসা কন্ঠস্বরের দিকে তাকালাম। বক্তা আমাদেরই ভ্রমণসঙ্গীদের একজন। তার চোখে মুখে স্পষ্ট অসন্তোষ। তার কন্ঠস্বরে দ্বিধাহীণ বিরক্তি।...

ততোক্ষণে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি। আমরা সবাই অবাক হয়ে গেছি। কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না, এরকম অপূর্ব নিসর্গের মাঝে এসেও কেউ ভুগতে পারে এমন বিসদৃশ ভালো না লাগায়।.. ভাবতে পারছি না তাকে কি বলবো! কেমন করে তাকে জিজ্ঞেস করবো –কি কারণে এমন সৌন্দর্য্যের অপূর্ব স্পর্শ তাকে একটুও বিমোহিত করতে পারছে না? কি কারণে এমন মেঘ সে উড়িয়ে দিচ্ছে নিস্পৃহতায় তুড়ি মেরে দূরে?

কি কারণে এমন বৃষ্টি- ছুঁয়ে দিতে পারছে না- তার অবিশ্বাস্য, অনস্পর্শী, অস্থির হৃদয়?

আমরা কেউই শেষপর্যন্ত তার এরকম অদ্ভূত কথার জবাবে কিছুই আর বললাম না।
তাকে যে সত্যিই আমাদের আর কিছু বলবার নেই।
আমরা বুঝে ফেলেছি তাকে। আমরা চিনে ফেলেছি তাকে। আমরা পেয়ে গেছি তার পরিচয়।..

জগতে কিছু লোক থাকে, মেঘ বৃষ্টি আর আকাশ যাদেরকে সহজে স্পর্শ করে না । জগতে কিছু লোক থাকে, সমুদ্র আর আকাশের নীল যাদের নিষ্করুণ পাথর হৃদয়ের কাছে নিতান্তই নিরাভরণ এক অযথা আবেগ। জগতে তারা চিহ্নিত হয় –কঠিন বাস্তববাদী, স্বার্থসচেতন, পরম হিসেবী লোক হিসেবে।

তাদের সব কিছুতেই হিসেবের বড় ছড়াছড়ি।
বাস্তব প্রাপ্তিবিহীন অবাস্তব অলৌকিক নিসর্গ তাই সহজে ছুঁতে পারেনা তাদের।
বিত্ত, বিভব আর ভোগ যতোটা সহজে নজর কাড়ে তাদের, ততোটাই উপেক্ষিত থেকে যায় নদী, নিসর্গ আর মেঘের হাতছানি....তাদের নিরাসক্ত নির্লিপ্ত চোখে-মুখে..।

এ গদ্য আজ তাদের নিয়ে...। বৃষ্টি ছোঁয়না যাদের... । আকাশ অনন্তকাল অনষ্পর্শ থাকে যাদের...। মেঘ যাদের মুগ্ধতাহীন দৃষ্টি থেকে সরে যায়- দূরে....! কেবলই বহু দূরে।....

এ গদ্য তাদের নিয়ে। যারা জীবনকে চালাতে চান চুল চেরা এক হিসেবের বেড়াজালে। পান থেকে চুন খসলেই যারা ভাবেন জীবনের বিশাল কোন কঠিন ক্ষতি হয়ে গেল...!

জীবনকে নির্ধারিত কোন গন্ডীর বাইরে সাজাতে যাদের বড় ভয়। যারা জীবনের সকল আনন্দ সুখের পরিমাপ করেন অর্থের নিক্তিতে....।
বৃষ্টি, যাদের কাছে শুধূই বৃষ্টি।
নদী- কেবলই শুধু নদী...।

এর আগে অন্যদের কথা অনেক লিখেছি...। বৃষ্টি আর আবেগ যাদের ছুঁয়ে যায়- তাদের জন্য লিখেছি কবিতা –“কেবল বৃষ্টির কাছে পরাভূত তুমি” অথবা “এমন বৃষ্টিতো মুগ্ধ করবে তোমাকেই !” বৃষ্টি আর ভালবাসার গান যাদের হৃদয়কে কাঁদায় তাদের জন্য লিখেছি গদ্য “যে গান বৃষ্টির, যে গান একান্ত অনুভবের..”!

কিন্তু বৃষ্টি যাদের একেবারেই ছুঁতে পারেনা, তাদের বিষয়ে কখনোই কিছু লেখা হয়নি...। জীবন যাদের কাছে কঠিন গদ্যময়, জীবন যাদের কাছে স্রোতের শব্দহীন নিশ্চল ছকে বাধা নদী, যারা নির্দ্বিধায় কবিতা পাঠিয়ে দেন নিদাঘ হৃদয় থেকে নিদারুণ নির্বাসনে-বহু দূরে, লেখা হয়নি তাদের কথা-কখনোই...।

এক রাত্রিতে একটা অচেনা কন্ঠের ফোন পেলাম। কেমন যেন কান্না ভেজা স্বর। আমাকে রিকোয়েষ্ট করলেন... ‘আচ্ছা সেইসব মানুষদের নিয়ে একটা লেখা লিখতে পারেননা?’...‌‍ ‘কোনসব মানুষ?’- আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
--সেই যে, সেই মিতালী মুখার্জীর গানটার মতো-“দুঃখ ছাড়া হয়না মানুষ, এ কথাটি সত্যি নয়। দুঃখের সাথে নেই পরিচয়, এমনওতো মানুষ হয়...। যে আমার দুচোখ জুড়ে... অশ্রু দিয়ে বারে বারে, আমায় ভুলে রয়, বলো..., সে কি সুখী নয়?...”

ওহ, আপনি তাহলে সুখী মানুষদের কথা লিখতে বলছেন?

নাহ, ঠিক সুখী মানুষদের কথা নয়, লিখতে বলছি সেইসব মানুষদের কথা, দুঃখ, কান্না আর অশ্রু যাদের সহসা স্পর্শ করে না, যারা ভীষণ বাস্তবতার কঠিন নিয়মের নাগপাশে বন্দী করে চলেন জীবনের সব ভাবাবেগ। জীবন যাদের কাছে কেবলই কবিতাহীন এক সুকঠিন নিরস গদ্য।....

OK, আমি লিখবো । আমি বুঝে ফেল্লাম, কি লিখতে হবে আমাকে। আমি বুঝে ফেল্লাম, আমি কাদের নিয়ে লিখবো । আমি বুঝে ফেল্লাম, বৃষ্টির স্পশর্হীন কোন মানুষেরা উঠে আসবে আমার গদ্যের যত্সামান্য গতিময়তায়।.....

প্রথমেই এক বন্ধুর কাছ থেকে শোনা তার একান্ত এক বেদনার গল্পটি বলি। এই বন্ধুর নাম আরমান। এই বন্ধুটি বিয়ের বছর খানেক পরে প্রথমবারের মতো তার স্ত্রী রেশমা-কে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার প্রোগ্রাম করে। ভ্রমণের কয়েকদিন আগে থেকেই বেশ ঘটা করে নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বন্ধুটি। কক্সবাজারে চারদিন তারা দুজনে কোথায় থাকবে, কোথায় খাবে, কোথায় বেড়াবে সব ঠিকঠাক। কোন কোন হোটেলে অগ্রিম সিট ভাড়ার টাকাও পেমেন্ট দেওয়া হয়ে গেছে। এখন শুধু যাত্রা বাকী।...

নির্ধারিত দিনে তারা দু’জনে উঠে বসলো শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এক বাসে।...

‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলতো?’..... এক চমৎকার গানের আবহ নিয়ে শুরু হলো বাস জার্নি। কিন্তু যা কিছু অনন্য অনুভব নিয়ে শুরু হয় তার শেষটা অনেকক্ষেত্রেই খুব একটা সুখকর হয় না।... এক্ষেত্রেও চমৎকার অনুভূতির মধ্যে যেন কেউ বাধ সাধলো । কেউ যেন পেছন থেকে ডেকে বললো... তোমাদের দিনটা আজ খুব খারাপ।...খুবই খারাপ।...

মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে কোথা দিয়ে যেন কী ঘটে গেল। কী একটা সামান্য কথা থেকে দুজনের মধ্যে প্রথমে মতের অমিল, তারপর কথা কাটাকাটি তারপর রীতিমতো প্রবল ঝগড়া বেধে গেল মুহূর্তে।....একসময় আরমান ফীল করলো এভাবে জার্নির সময় বাসের ভেতর ঝগড়া করা ঠিক হচ্ছে না। আশে পাশের লোকজনও বিষয়টি ভালভাবে নিচ্ছে না।...

এরপর আরমান তাই একেবারে চুপ হয়ে গেল। তার স্ত্রী রেশমা তীব্র রাগে দীর্ঘক্ষণ ধরে অনর্গল যা কিছু বলে গেলো তার সবটাই সে বিনা প্রতিবাদে হজম করে গেল। জার্নির কথা ভেবে, দীর্ঘ চারদিনের ব্যাপক সব প্রোগ্রামের কথা ভেবে বন্ধুটি একেবারে চুপ করে রইলো।

কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আরমান ফীল করলো এমন একটা জার্নির সময় একেবারে চুপ করে থাকতেও ভাল লাগছে না। তাই হার মেনে- সব রাগারাগি বাদ দিয়ে- আপোষ মিটমাট করতে চাইলো স্ত্রীর সাথে।...বার বার বলতে লাগলো-“স্যরি, রেশমা, স্যরি!”.... কিন্তু বিধি বাম। সেই ‘স্যরি’-তে রেশমার রাগ আর ভাঙ্গে না। অনেক অনুরোধের পরেও রেশমা আর কিছুতেই কথা বললোনা তার সঙ্গে। যেন প্রবল এক রাগ অথবা অভিমানে রেশমা একেবারেই বোবা পাথর হয়ে গেছে।...

তারপরেও বন্ধুটির মনে আশা জেগে রইলো। নিশ্চয়ই কক্সবাজারে গেলেই রেশমার মন বদলে যাবে। কক্সবাজারে নিপুণ নিসর্গ, কক্সবাজারের সুশীতল হাওয়া আর অনবদ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য নিশ্চয়ই গভীরভাবে মুগ্ধ আনন্দে বদলে দেবে রেশমাকে। এমন চমৎকার সমুদ্রস্রোত, এতো সুগভীর সাগরের বিশালতা এমন নীলিমাময় আকাশের উদার স্পর্শ নিশ্চয়ই রেশমাকে একেবারেই বদলে দেবে! রেশমা কে দুহাত দিয়ে ধরে আনন্দে নাচতে নাচতে তখন নিশ্চয়ই সেই গানটা খুব মজা করে গাওয়া যাবে-

“রাগ করবার, আরো যে কতো, সময় আছে যে পড়ে, অনেক আশার, এই টুকু ক্ষণ, খুশিতে দাও নাগো ভরে!”...

কিন্তু হায়! সবটাই যেন শুধু কবির কল্পনা!
কল্পনা আর বাস্তব এক হলো না কিছুতেই।
বন্ধুকে অবাক ও স্তম্ভিত করে দিয়ে কক্সবাজারের পরবর্তী চারটি দিনই রেশমা আর তার সাথে কথা বলেনি।

এমন কি সমুদ্রের সামনে গিয়েও না।...
যখন একরাশ ধবধবে সাদা ঢেউ তাদের পায়ের কাছে আছড়ে পড়ে বলছে, ‘অন্ততঃ আমাদের সৌন্দর্য্য দেখে তোমরা ভুলে যাও বিভেদ তোমাদের’.... তখনো না।

বন্ধু অবাক। তার পঁয়ত্রিশ বছরের জীবনে এমন অবাক সে আর হয়নি। সমুদ্রের স্রোত এতোকিছু ভাসাতে পারে, এতোকিছু গলাতে পারে... কিন্তু ....রেশমাই শুধু রয়ে গেল অনড়। অবোধ্য। অগম্য।
সকল প্রচেষ্টা আর সাধনার সাধ্যাতীত....।

এই বন্ধুর এই একান্ত পারিবারিক গল্পটি প্রায়শঃই নানা ভাবে আমাদের বন্ধুমহলে আলোচিত হয়। সামান্য কথার হেরফের থেকে সৃষ্ট রাগ বা অভিমানের জের এভাবে প্রলম্বিত হয়ে কক্সবাজারে বেড়ানোর চারটি পূর্ন দিবসকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিতে পারে, সেটা সহজে কেউ মেনে নিতে পারে না। অনেকেই এ ঘটনার অনেকরকম মনস্ত্বাত্বিক ব্যাখ্যা দেয় ।.....

সেই সব মনস্ত্বাত্বিক ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ যখন চলতে থাকে, আমার ভেতরে তখন আরমান এর সেই বেদনার্ত অনুভব ঘিরে রচিত হয়ে যায় কয়েকটি চরণের এই বিষন্ন শব্দমালা----

আমি তোমাকে হাত ধরে নিতে চেয়েছি এক
স্বপ্নের পাশে
আমি তোমাকে বারবার
চোখ তুলে দেখতে বলেছি-ভালবাসা
কিভাবে মিশিয়ে রেখেছি এই
অনন্ত অপেক্ষার খরা বুকে

অথচ সকলই রয়ে গেছে চিরকাল
তোমার দৃষ্টির আওতা থেকে দূরে

সকলই রয়ে গেছে উপেক্ষায়
নিদারুণ স্পর্শবিহীন

আমার যে স্বর প্রতিদিন ডেকে ডেকে
ক্লান্ত হয়েছে
আমার যে চীৎকার বেদনায় ভাসতে ভাসতে
মিশে গেছে সমুদ্রের নোনা জলে

অবশেষে তাকেই জানতে হয়েছে- বেদনায়

তুমি কোন স্পর্শের অতীত নীলিমা ছিলে না-
তুমি কোন কাব্য ছিলে না, দুর্বোধ্য, ব্যাখ্যাবিহীণ

শুধু তুমি ছিলে সেই
মেঘের স্পর্শহীন অসার মানবী

শুধু তুমি ছিলে সেই
আশ্চর্য্য মানব দলের অন্যতম এক
পাথর প্রতিনিধি-

হাজার মেঘলা দিনেও কোনদিন
একফোটা, এক কণা
বৃষ্টি ছোঁয়না যাদের.....।


......................................

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28858956 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28858956 2008-10-24 07:46:39
পারতে আলাদা রাখতে, আমার জন্যেই একটি সকাল তুমি পারতে আলাদা রাখতে, আমার জন্যেই।
একটি বিকেল তুমি
রাখতে পারতে সহিষ্ণুতায়
আমারই অপেক্ষার
পৃথক প্রিয় খামে।

জীবনের একটি সকাল একটু আলাদা হলে
তোমার গ্রহলোকে কোন ঔজ্জল্যের পতন হতোনা-

জীবনের একটি বিকেল শুধু একটু আলাদা রাখলে
দাঁড়াতে হতোনা কোন কঠিন কাঠগড়ায়-

পৃথিবী জানতে চাইতোনা একবার-
বেহিসেবী ভিন্ন সে প্রহর
কোনপথে গিয়েছিলো মিশে !

একটি সকাল তুমি সুনিশ্চিত পারতে আলাদা রাখতে
আমার জন্যেই-
একটি হিরণ্ময় নিরিবিলি নিঃশব্দ দুপুর
আলতো ছোঁয়ায় ভরে রাখতে পারতে সাবলীল
অনেক যত্নের এক প্রবাল পালঙ্কে -

একটি অন্যরকম স্বপ্নের শোভাময় মাধুকরী রাত
একটি আলাদা রুমালে মুড়ে
রাখতে পারতে নিভৃতে আজীবন,
অন্তহীণ অনুভবের অনিন্দ্য নিরালোকে !

জীবনের একটি প্রহর
শুধু এমন আলাদা হলে
খুব কি অসন্তুষ্ট হতো, মানুষ, শহরের?

জীবনের একটি প্রিয় পথ
শুধু একবার ভেসে গেলে-
ভালবাসা বৃষ্টির উপচানো জলে

শহর কি দন্ড দিতো তোমায়-প্রত্যাশার বিপরীতে?

আসলে আমার জন্যে একটি আলাদা গোলাপ
তুমি চাইলেই রাখতে পারতে ধরে
তোমার ঐ প্রেমময় আঁচলের ভাঁজে.
কেবল আমার জন্য একটি পাখীর শীষ
পারতে মিশিয়ে নিতে নির্দ্বিধায়
বুকের নির্জন যতো- না বলা সব কথায়-

একটি রুমালের ভাঁজে লুকিয়ে একটু সুগন্ধী সুখ
যদি আনতে আমার জন্যেই
শিহরিত ভালবাসায়-

খুব কি বিশাল ক্ষতি হতো- ব্যস্ত শহরের?

শহর কি ফিরিয়ে নিতো মুখ-
প্রিয় মানুষের প্রতি সমর্পিত- মুগ্ধ মানুষের
এই স্বর্গীয় ভালবাসা দেখে?

শহর তো জেনেছে কবেই
তোমার একটু আলাদা যত্নের জন্যে
কেমন অপেক্ষারত থাকে
আমার সারাবেলা

শহর তো জেনেছে কবেই
তোমার একটু আলাদা দৃষ্টি
আমাকে কেমন করে ভাঙণ প্রতিরোধ করে
পুনরায় বাঁচতে শেখায় রাতারাতি!

তুমি তাই
একটি প্রহর শুধু আলাদা রাখতে পারতে আমার জন্যেই-
একটি ডায়রীর কয়েকটি পাতায়
না হয় ঘুরে ফিরে বারবার উচ্চারিত হতো আমারই নাম
না হয় তোমার নিজের লেখা
একটি বিষাদময় সঙ্গীত
তুমি প্রকাশ্যে উৎসর্গ করতে এই আমাকেই-

পৃথিবীর কেউ কি তাতে অবাক হতো খুব?
পৃথিবীর কেউ কি বলতে পারতো নিষ্ঠুরতায়
তোমাকে ফিরিয়ে নিতে এই মেঘ
এই একটু আলাদা যত্নের সুশীতল ধারা ?

একটি সকাল এভাবে আলাদা রাখলে
অদ্ভূত এক কান্নাভেজা কৃতজ্ঞতায়
তুমি মুহূর্তেই
পেয়ে যেতে পাখীদের প্রেম
পেয়ে যেতে
নিসর্গের বৃক্ষমালার পরম প্রণতি।

দীর্ঘ রাত্রি শেষে একটি অপরূপ ভোর
আমার জন্য আলাদা রাখলে
তোমার জীবন তাতে বদলে যেতানা

অথচ একটি অপরূপ ভোর
তোমার কাছ থেকে আলাদা করে পেলে
আমি তাকেই আকড়ে ধরে
পারতাম কাটিয়ে দিতে এক অপেক্ষার
দীর্ঘ জীবন !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28831820 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28831820 2008-08-17 14:31:45
শাশ্বত-র জন্য বসুন্ধরায়ঃ আয়নায় নিজের মুখ মানুষের পর মানুষ। অজস্র মানুষ!

বৃষ্টির মতো ধেয়ে আসছে তারা।
আমাদের মুখোমুখিই হেঁটে আসছে একঝাক সুখী মুখ।
আমাদের একটু ডান দিক দিয়ে তারা ঢুকে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শপিং মল বসুন্ধরা সিটি-র ভেতরে।

কেউ একটু থামছে না। কেউ একফোটা তাকাচ্ছেও না।
তেমন মনোযোগ দিয়ে শুনছে চাইছে না- আমরা আসলে কি বলতে চাচ্ছি। আমরা আসলে কার জন্য সাহায্য চাইছি।... সেটা বাস্তবিকই কতোটুকু প্রয়োজন। কতোটা জরুরী....। কেউ সেসব- জানতে চাচ্ছে না!
আশ্চর্য্য! সত্যিই আশ্চর্য!!
একটি উদাত্ত আহ্বানের বিপরীতে কী নিদারুণ নিস্পৃহতা !
একটি করুণ প্রার্থনার বিপরীতে কী প্রবল কঠোর প্রাপ্তি !

আমার গলার স্বর ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে হতে প্রায় থেমে যেতে বসেছে । আমি জোর করে তখনো শাশ্বতর পোষ্টারের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে করুণ স্বরে বলার চেষ্টা করছি-'' দয়া করে একটু শুনুন। একটু থামুন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র আজ ভয়াবহ পঙ্গুত্বের শিকার হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। তাকে বাঁচাতে আপনার একটু সাহায্য প্রয়োজন। আপনার একটু সাহায্যই পারে তাকে নতুন করে জীবনের স্বপ্ন দেখাতে....''

কে শোনে কার কথা! বেশীর ভাগ মানুষই নিস্পৃহ আমাদের আহবানের প্রতি। বেশীর ভাগ মানুষই আমাদের কথায় কোন কর্ণপাত না করেই ঢুকে যাচ্ছে মার্কেটের ভেতরে। কোন কোন মানুষের চোখে আবার হালকা অবিশ্বাসের দোলা। তাদের চোখে মুখে বিরক্তির আভাযুক্ত হালকা অসন্তোষ। সাহায্যের নাম করে না জানি আমরা কী বিপুল সম্পদ হস্তগত করে নিচ্ছি তাদের কাছ থেকে- এমন একটা মনোভাব!

আমি এসব দেখে রীতিমতো থমকে গেলাম। চমকে গেলাম। একটি কষ্টের আয়না যেন মুহূর্তে খুলে গেল চোখের সামনে। আমি যেন দর্পনে দেখে চলেছি নিজের মুখ। আমি যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি রাস্তায় দাঁড়িয়ে একজন লোক অসহায় আর্তনাদে তার মুমুর্ষ কোন আত্মীয়কে বাঁচানোর জন্য সাহায্য প্রাথর্না করছে আর আমি তার দিকে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি....।

কতোবার.... ? কতোবার আমি এই জীবনে এমন করেছি- তা’ আজ আর সঠিক বলতে পারবোনা। তবে এটা স্পষ্ট মনে আছে যে, রাস্তা-ঘাট-লঞ্চ টার্মিনাল- এ জাতীয় পাবলিক প্লেসে পেশ করা এ ধরনের সাহায্যের আবেদনকে আমি চিরকাল সন্দেহের চোখেই দেখেছি।... আমি প্রায়শঃই এসব আবেদনকে মিথ্যে বা বানোয়াট ভেবে অবিশ্বাসে চুপচাপ এড়িয়ে গেছি!

তাহলে আজ? আজ কেন আমার মতোই সন্দেহযুক্ত মানুষেরা আমাকে বিশ্বাস করবে? আজ কেন তারা শুধু আমার কথা শুনেই বিশ্বাস করবে- আসলেই শাশ্বত নামের একজন যুদ্ধ করছে জীবনের সাথে?

ভাবতে ভাবতে আমার সমস্ত সত্তা কেঁপে উঠলো তীব্র অনুশোচনায়।
সত্যিইতো ! এই যে এতোদিন অনেক অনেক সাহায্যের প্রার্থনাকে যাচাই না করেই মিথ্যে ভেবে এড়িয়ে গেছি, সেটি কি যথার্থ হয়েছে? আমাদের অজান্তেই এমন যদি হয়ে যায় যে – একটি দুর্গত জীবন বাঁচানোর সত্যিকারের আবেদন-আমাদের অবিশ্বাস আর অবহেলার কারণে নিদারুণ বেদনায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফিরে গেছে- এবং তার ফলে ঝরে গেছে একটি জীবন- তবে সেই অবিশ্বাসের লজ্জা নিয়ে আমরা কিভাবে আমাদের পরিচিত একজনের জীবন বাঁচাতে নগরীর মানুষের কাছে যাবো?

কিভাবে- কেমন করে আমাদের এতোদিনের নিস্পৃহতার লজ্জা ঢাকবো?

আমি ভেবে কোন কূল কিনারা পেলাম না। আমি সচেতনতার সাথেই উপলব্ধি করলাম- আমার বরাবর দেখে আসা দৃশ্যের সাথে আজকের দৃশ্যের কতো তফাৎ।

বরাবর আমি সাহায্য প্রার্থনাকারীদের দেখেছি, আর মনে মনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের অবিশ্বাস করেছি। আর আজ? বসুন্ধরার গেটে দাড়িয়ে আমি আজ নিজেই দাড়িয়ে আছি ‘সাহায্য প্রার্থনাকারী’র ভুমিকায়।
আজ আমার নিজের কন্ঠেই ‘সাহায্য প্রার্থনাকারী’র সকরুণ আকুলতা ।
এবং সবচেয়ে আশ্চর্য্যের কথা হচ্ছে এই যে, আজ আমি মনে মনে চাচ্ছি বসুন্ধরায় প্রবেশ করতে আসা প্রতিটি লোকই আমার কথা শুনুক, আমার কথা বিশ্বাস করুক এবং তারা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু সাহায্য দিক!

সত্যিই! বিচিত্র মানুষের মন! বিচিত্র মানুষের চাওয়া!
আমি নিজে যা কখনো করিনি, আজ আমি সেটিই প্রত্যাশা করছি প্রবলভাবে।
অবিশ্বাসের আঘাতে কতো মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সাহায্য প্রার্থনার আকুল আবেদনকে আমি এতোকাল গুড়িয়ে দিয়েছি, আর আজ হঠাৎ আমি প্রবলভাবে চাইছি সবাই যেন প্রবল বিশ্বাসের সাথে সমস্যাটি উপলব্ধি করে এবং স্বেচ্ছায় বাড়িয়ে দেয় সাহায্যের হাত।....এটি কেমন করে হয়?

মানুষের ভাবনার সাথে বাস্তবতা অনেকক্ষেত্রেই মিলে না।
তাই দেখলাম একশ দুশো মানুষ নির্বিকারভাবে হেটে যাবার পর একজন হয়তো হঠাৎ থেমে গিয়ে আমাদের কথা শুনছে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।....

মানুষের বিপদে মানুষের এই এতো অল্প সাড়া দেওয়ার বিষয়টা ততোক্ষণে আমাকে ভেতরে ভেতরে বেশ আহত করে ফেলেছে। আমি তাই হঠাৎ কালপুরুষদাকে বললাম-এখন আপনি একটু বলুন- আমি একটু ভেতর থেকে ঘুরে আসি।...

ঢুকে পড়লাম বসুন্ধরার ভেতর। আগেও অনেকবার ঢুকেছি। কিন্তু আজ যেন অন্যরকম লাগছে সব। আজ যেন সবকিছুই নতুন আঙ্গিকে দেখছি !
এতো সব মানুষ ভেতরে গিজ গিজ করছে।

এতো আলো ! এতো ঔজল্ব্য চারিদিকে! জীবনের এমন তীব্র মুখরতা! জীবনের এমন তীব্র রঙীণ অনুভব চারিদিকে! জীবনভর এইসব সুখী সমৃদ্ধ মানুষগুলো কতো ভোগই না করেছে- চাইবার আগেই তারা পেয়ে গেছে জীবনের সবকিছু-তাহলে শুধু শাশ্বত-র কষ্টের কথাটাই তারা বুঝতে পারবেনা ? শুধু শাশ্বত-র জন্য দশটি টাকা দিতে গিয়েই থেমে যাবে তাদের অপার আনন্দময় সুখী হাত...?

তা কি করে হয়? কেমন করে হয়?
বহু আগেই যে কবি লিখে গেছেন-

''মানুষ যাবে না কেন মানুষের দিকে?
দেখা হলে পার্কে-বিমানবন্দরে, কেন পরস্পর মেলাবেনা হাত?...''

যদি সত্যিই আজ মানুষ মানুষের কাছে না যায়, যদি একান্তই মানুষ মানুষের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়- তবে শত শত বৎসরের সব কবিতা গান আর বাণী মিথ্যে হয়ে যাবে!

হে মানুষ! তোমরা নিজেদের এতো নীচে নামিয়ে দিও না।
তোমাদের অনুভব, উদারতা আর মর্যাদা যেভাবে ধ্বনিত হয়েছে লেখায়, রেখায় আর অজস্র প্রশংসার বাক্যবাণে, আজ তোমরা তার এতোটুকু মর্যাদা রাখো!
একবার দাড়াও আবার মানুষের পাশে!

একটি করুণ মর্মস্পর্শী আবেদনের বিপরীতে একটি অবিশ্বাসের চোখ উপহার দিয়ে তোমরা আর তোমাদের মর্যাদাকে ধূলায় ভুলুণ্ঠিত করোনা!
...........................................

আমার প্রচন্ড পানি পিপাসা পেয়েছিল। কেমন যেন প্রচন্ড খিদেও। আমি একটু হেটে সামনে গিয়ে পেয়ে গেলাম স্ন্যাকসের দোকান। বসুন্ধরায় সবকিছুর দাম চড়া জেনেও খেয়ে ফেললাম একটা সিঙারা আর একটা কোল্ড ড্রিংকস। দাম দিতে হলো ত্রিশ টাকা।

দাম দেয়া শেষ হলো। আমি ফিরে আসছি আবার গেটে। আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেল এক ভদ্রলোক শাশ্বতর বিষয়ে দশ পনের মিনিট দাড়িয়ে সব কিছু শুনে দেখে এবং যাচাই করে তারপর যাবার সময় সাহায্যের বাক্সে দশটি টাকা রেখে গিয়েছিলেন। সেই আমি জীবনে প্রথম জেনেছিলাম- দশটি টাকা সাহায্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও কতো কঠিন সব নিরীক্ষা আর প্রশ্নবাণের সম্মুখীন হতে হয়!

যদি তাই হয়, তবে আমি এ ভুলটি কিভাবে করলাম?
আমিতো আমার পিপাসা আর ক্ষুধাকে একটু ভুলে থাকতে পারলেই এই সদ্য খরচ করা ত্রিশটি টাকাও ঐ সাহায্যের বাক্সে রাখতে পারতাম।...

কথাটা মনে হতেই তীব্র এক অপরাধবোধ আমাকে পেয়ে বসলো। আমার খুব খারাপ লাগতে লাগলো। এই বসুন্ধরায় একবার বার্গার-কফি খেতে গিয়ে দুশো টাকা খরচ করেছি। একবার কি একটা অপ্রয়োজনীয় শো-পিস কিনতে গিয়ে গচ্চা দিয়েছি চারশো টাকা।....

হে শহর, তুমি কি আমাকে বলতে পারো-সেদিনও কি শহরে একজন অসুস্থ মানুষ শাশ্বত-র মতোই যন্ত্রনায় কাতরে মরছিলো? সেদিনও কি শহরের কোন বিপনীবিতানের সামনে দাড়িয়ে কিছু আকুল চেহারার মানুষ তাঁর জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেছিলো...?

হে শহর, বিশ্বাস কর, আমি সেদিন সে বিষয়টি আজকের মতো করে জানতে পারিনি। জানলে নিশ্চয়ই আমার বার্গার-কফি খাবার বিলাসিতা অনেকটাই থমকে যেত! জানলে নিশ্চয়ই শো-পিসের নিথর সৌন্দর্য্যের চেয়ে একটি টগবগে সুস্থ মানুষের জীবন্ত সৌন্দর্য্যকেই আমি অনেক বেশী মূল্য দিতাম!

হে শহর, তুমি আমাকে আজকের মতো এমন করে-এমন উপলব্ধি দিয়ে জানালেনা কেন? কেন জানালেনা জীবনভর আমি যা কিছু অপচয় করেছি তার সব কিছু দিয়ে অন্ততঃ একজন দুর্গত মানুষের মুখেও হাসি ফোটানো যেত!

শহর, তুমি হয়তো আসলে বুঝে ফেলেছিলে- আমি আর সবার মতোই শুধুই একজন সাধারণ মানুষ। সেই সেদিন যারা আমাদের সাহায্যপ্রার্থনার প্রতি বিন্দুমাত্র না তাকিয়ে হাসতে হাসতে একের পর এক বসুন্ধরায় প্রবেশ করেছিলো, তুমি নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছিলে-আমিও তাদের মতোই একজন।

আমিও তাদের মতোই আত্মকেন্দ্রিক, আত্মমগ্ন, সমৃদ্ধ সুখী মানুষ।

তুমি তাই দুর্যোগ দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কান্না আর কষ্ট খুব যত্ন করে আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলে।

কিন্তু হে শহর, তুমি হয়তো একবারও খেয়াল করোনি,
আগামীকালের সকালটি এখনো অজানা আমাদের।
কাল সুর্যোদয়ের অপরূপ ভোরে- আমি নিজেই যে আক্রান্ত হবোনা দুর্বিষহ কোন যন্ত্রনাময় রোগে-তার কোন নিশ্চয়তা-তুমি কি পারবে দিতে হে শহর?

তখনো কি আমার আত্মকেন্দ্রিকতা আর আত্মমগ্নতা-আমাকে বাঁচাতে পারবে হে শহর?


...........................................................
১৪ই জুন, শনিবার



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28818365 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28818365 2008-07-09 07:42:25
এমন বৃস্টিতো মুগ্ধ করবে তোমাকেই ! এমন বৃস্টিতো মুগ্ধ করবে তোমাকেই!

তুমি সহজেই ভোরের সুর্যোদয় দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতে।
তুমি সহজেই উজ্ঝ্বল রোদের পৃথিবী দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতে।
তুমি সহজেই পড়ন্ত দুপুর ছুঁয়ে কবি হয়ে যেতে।

সূর্যাস্তের লাল আভায় তুমি
রাঙিয়ে নিতে জানতে তোমার ভাললাগার সব রঙ।

এমন রাত্রিতো মুগ্ধ করবে তোমাকেই।
এমন নিসর্গ তো ফুটে উঠবেই নিবিড় পরিসরে- তুলিতে তোমার !

সমস্ত হৃদয় নিঙড়ে কে আর তোমার মতো এক পলকেই
পড়ে নিতে জানে বুকের মধ্যে রাখা- বিষন্ন আকাশ?

কে আর তোমার মতো শুধু কবিতার শব্দ দিয়ে
সাজিয়ে নিতে পারে বর্ষনসিক্ত এমন এক কষ্টের দীর্ঘজীবন ?

এমন বিকেল তো ভোলাবে তোমাকেই।
এমন বৃষ্টির গান বুকে নিয়েই তো
তুমি কতোবার কতো সহজেই সুখী হয়ে যেতে !

এখন তোমার মতো করে এ শহরের কাউকেই দেখি না আর
শুধু নিসর্গ প্রেমের সুখে জীবন কাটাতে।

দেখি- প্রতিনয়তই আমার বাগানের বেলীর চেয়ে বিত্ত হয়ে যায় খুব দামী
দেখি- প্রতিনয়তই আমার বাগানে ফোটা টগর ফুলের চেয়ে টাকা হয়ে যায় খুব
রূপবতী।

সুনিশ্চিত কিছু পার্থিব প্রাপ্তির প্রত্যাশা ছাড়া
এখন কে আর বাগানে যায়-শুধু দেখতে 'সবুজ' ?
কে আর হাত মেলায়-পরম শুভাকাংখীর মতো-শুধু জানতে কুশল ?

শুধু দেখেছি তোমাকেই তীব্র ঝড়ের শেষে
খোঁজ নিতে, শঙ্কায় আকুল হয়ে-কাছে এসে দাড়াতে অক্লেশে।

শুধু দেখেছি তোমাকেই প্রতিদান প্রাথর্না ছাড়াই
পলকে বেদনাটুকু আনন্দের শুভ্র চাদর দিয়ে ঢেকে দিতে।


এমন বৃস্টিতো মুগ্ধ করবে তোমাকেই!
এমন রজনীগন্ধ্যা তো হাতে নেবে তুমিই- উচ্ছাসে !
পরম সোহাগে!

তুমিই তো প্রথম আমাকে বলতে পেরেছিলে-
' কোন বিভব বিত্ত নয়-
শুধু তোমার নৈপুণ্যটুকু-আমার অপেক্ষার কাছে-সবচেয়ে দামী ' !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28805479 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28805479 2008-06-02 15:01:45
যোজন যোজন দূর... তুমি আর কতোটুকু চেয়েছিলে?
হয়তো বড়জোর তোমার নৈকট্য থেকে নিরুপায়
অস্বস্তিতে সরাতে চেয়েছিলে এই নাম।
হয়তো বড়জোর
যাপিত যুগল সময়ের পৃষ্ঠা থেকে
উপড়ে ফেলতে চেয়েছিলে কিছু পাতা।

আর আমি?
আমি তোমার চাওয়াটুকু বুঝে
রাতারাতি সমস্ত শহর থেকে সরিয়ে নিয়েছি এই নাম।
রাতারাতি-
পৃথিবীর সকল পৃষ্ঠা থেকে
প্রত্যাহার করে নিয়েছি সেই এক-যুক্তিহীণ
অসহায় আবেগ-

পেরেছি ফেলতে মুছে- সেই একজন
একান্ত আপন মানুষ ঘিরে
অন্তহীণ কষ্টের আকুলতা।

তোমার বাগান থেকে-অতঃপর
পেরেছি সরিয়ে নিতে নিমিষেই
হৃদয় স্ফূরিত গোলাপের অসামান্য সব
আনন্দের চাওয়া পাওয়া !

আমাদের যুগল অনুভবে জমা
দীর্ঘ সময়ের যতো অনাবিল রাগ-অনুরাগ,
বাক্সবন্দী করে- নোনাজলে-
ভাসিয়ে দিয়েছি এক রাত্রির
না ফেরা শেষ যাত্রায়।

তুমি আর কতোটুকু চেয়েছিলে?
সারাটা শহর হেঁটে হেঁটে তুমি হাতে হাতে প্রমাণ নিতে পারো-
তোমাকে কষ্ট দেবার জন্য আমি আর নেই
কোথাও, শহরের।

আমি নিসর্গের কাছে করজোরে প্রার্থনা করেছি-
যেন সে তোমার দৃষ্টির সকল সীমানা থেকে চিরতরে
আমাকে দূরত্বে রাখে, সাহসী বেদনায়।

আমি বৃষ্টির কাছে ভিক্ষা চেয়েছি-কোন রাত্রিতেই
যেন সে আমার শব্দমালা-বুকে নিয়ে
না ঝরে, ভুলেও কোনদিন, তোমার আঙিনায়।

তুমি সারাটা শহর পুনরায় পরীক্ষা করে দেখে নিতে পারো
কী প্রবল রাতারাতি আমি উবে গেছি সমস্ত শহর থেকে-

কী প্রবল ত্বরিৎ তৎপরতায় শহর ফেলেছে মুছে এই নাম-
নগরীর প্রতিটি ইট, পাথর আর কাষ্ঠ খন্ড থেকে, সুগভীর
নির্ভূল নিপুণতায়।

তুমি আর কতোটুকু চেয়েছিলে?
স্বয়ং শহর আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে খুব দূরে
যেখানে তোমার জন্য লেখা সব গান
বাজবে না কোনদিন, সুরের অভাবে

যেখানে তোমার জন্য লেখা সব কবিতা আমার
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে সারাদিন
বিমর্ষ বালুকণায়।

যে টুকরো কাগজে তুমি একদিন
আনন্দের অজস্র কপোত উড়িয়ে লিখেছিলে -'ভালবাসি'!
পৃথিবী স্বাক্ষী রেখে-
আমি তাকে টুকরো টুকরো করে ভাসিয়ে দিয়েছি এক
স্তব্ধ অমাবশ্যার নীল জলে।

যে বৃক্ষের ছায়ার তলে স্বেচ্ছায়
রচিত হয়েছিল সুধাময়, অপরূপ-স্বর্গ আমাদের-

আমি নিজেই নির্দ্বিধায়
উপড়ে ফেলেছি সেই বৃক্ষ অনায়াসে-

তার প্রতিটি পাতার মর্মর থেকে আমাদের সব স্মৃতি-
মুছে গিয়ে আজ
অসহায় আর্তনাদে- মিলেছে ইথারে।


তুমি আর কতোটুকু চেয়েছিলে?
দেখো, সরে গেছি স্বেচ্ছায়-
যোজন যোজন পথ দূরে-

মানুষ যতোটা পারে-
হয়তোবা তারো চেয়ে,
কিছু বেশী। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28799245 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28799245 2008-05-18 07:43:04
অতঃপর নোকিয়ার হাই এন্ড মোবাইল সেটে বাংলা এবং সামহয়্যারইন ব্লগে মোবাইল থেকে বাংলায় মন্তব্য প্রেরণ....। আজ যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে যাচ্ছি- তা আমার জন্য এক আবেগময় স্মরণীয় ঘটনা...। সামহয়্যারের সাথে পরিচিত হবার পর থেকে এই অত্যুজ্জ্বল শিহরণময় ঘটনাটির জন্য আমি বোধহয় দীর্ঘকাল মনে মনে ভীষণ অপেক্ষায় ছিলাম....। এবং অবশেষে সামহয়্যারের ব্লগারদের সেই পিকনিকের দিনটিতে (২৯শে ফেব্রুয়ারী, ২০০৮) অবসান ঘটেছে সে অপেক্ষার....।

কিন্তু যা বলতে যাচ্ছি, সেই মূল বিষয়ে যাবার আগে আপনাদের দিয়ে ফেলছি আরো একটি উল্লেখযোগ্য খবর। অবশ্য এই উল্লেখযোগ্য খবরের সাথে আজকের লেখার মূল বিষয়টিরও একটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক আছে।

আসুন, প্রথমেই জেনে নেই সেই উল্লেখযোগ্য খবরটি।
প্রিয় ব্লগারদের অনেকেরই হয়তো মনে আছে, নোকিয়ার মোবাইল সেটে বাংলায় সামহয়্যার ইন ব্লগ পড়তে পারার বিষয়টি জানিয়ে আমি ২০০৬ সালের ২রা নভেম্বর এই ব্লগে একটি লেখা পোষ্ট করেছিলাম, যার শিরোণাম ছিল- রাস্তার জ্যামে আটকে পড়ে মোবাইল ফোনে পড়তে থাকুন সামহয়্যারইন ব্লগ ....
Click This Link
। আমার সেই লেখায় নোকিয়ার যে সেটটির কথা সেদিন তুলে ধরেছিলাম, সেই নোকিয়া ৬০৩০ সেটে বাংলা পড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অসুবিধা ছিল এই যে, সেটটির ডিসপ্লে খুব ছোট বলে (রেজ্যুলেশন:১২৮ :১২৮) একসাথে বেশী লাইন পড়া যেতোনা। ফলে বারবার স্ক্রল করে পড়তে গিয়ে মহা বিরক্তি আসতো।

সেই লেখা পড়ে যারা জানতে চেয়ে ছিলেন, কবে নোকিয়ার বড় ডিসপ্লে যুক্ত হাই এন্ড মোবাইলে বাংলা আসবে, তাদের জন্য আজকের আনন্দময় সুখবরটি হচ্ছে, অতঃপর নোকিয়ার বড় ডিসপ্লে (২ ইঞ্চি এবং ২.২ ইঞ্চি, রেজ্যুলেশনঃ ২৪০:৩২০) যুক্ত বেশ কয়েকটি ‘হাই এন্ড মোবাইল’-এ যুক্ত হয়েছে বাংলা ইউনিকোড ফন্টের সাপোর্ট। ফলে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেই সেসব সেটের বড় ডিসপ্লে-তে আপনি সহজেই পড়তে পারবেন যে কোন ইউনিকোড বাংলা সাপোর্টেড ওয়েবসাইট (অপেরা মিনি ব্রাউজার এর সাহায্যে) । সেইসাথে আমাদের প্রিয় এই ‘সামহয়্যার ইন ব্লগ’ তো পড়তে পারবেনই...।

অতএব ছোট ডিসপ্লেতে বিরক্তির সাথে বাংলা পড়ার দিন শেষ হয়ে এলো। এখন আপনি বড় ডিসপ্লেতে একসাথে অনেকগুলো বাংলা লাইন পড়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। বারবার স্ক্রল করার ঝামেলায় আর আপনাকে বেশী জড়াতে হচ্ছেনা। অবশ্য এসব সেটে যে ইউনিকোড বাংলা ফন্টের সাপোর্ট যুক্ত হয়েছে, তা অত্যন্ত ছোট বলেই বাংলা পড়ার সময় অপেরা মিনির সেটিংস এ গিয়ে আপনাকে ফন্ট সাইজ Largest করে নিতে হবে, না হলে চোখের আরাম হবে না।

নোকিয়ার যেসব হাই এন্ড মোবাইলে বাংলা ইউনিকোড ফন্টের সাপোর্ট যুক্ত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় ফোনটি হচ্ছে ২৩,০০০ টাকা দামের ৩.২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সমৃদ্ধ নোকিয়ার ৬৫০০ স্লাইড ফোনটি। আমি নিজে এই ফোনটিতে চমৎকারভাবেই বাংলায় সামহয়্যার ইন ব্লগ পড়েছি।

নোকিয়ার ৬৫০০ স্লাইড সেটটি ছাড়া আর কোন হাই এন্ড সেটে কি বাংলা ইউনিকোড ফন্টের সাপোর্ট নেই ? আছে ।আমি নিজে নোকিয়ার মিউজিক এক্সপ্রেস সেট ৫৩১০ তে একইভাবে বাংলার সাপোর্ট দেখতে পেয়েছি।এবং আমার অনুমান যদি মিথ্যে না হয়, তবে নোকিয়ার মিউজিক এক্সপ্রেস সেট ৫৬১০ এবং নোকিয়ার ৬৫০০ ক্ল্যাসিক সেটটিতেও বাংলার সাপোর্ট থাকার কথা।

নোকিয়ার এই হাই-এন্ড সেটগুলো তাদের Series 40 5th Edition (Feature Pack-1) এর আওতাভূক্ত প্রকাশনা। এই প্যাকের আওতায় ৬৫০০ স্লাইড ফোনটি রিলিজ হয় ৩১-০৫-২০০৭ তারিখে। এর পরবর্তী সময়ে, অথাৎ মে,২০০৭ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত এই Series 40-র আওতায় ক্রমান্বয়ে আরো যেসব সেট বেরিয়েছে, সেগুলো হচ্ছে- ৬৫০০ ক্ল্যাসিক, ৭৯০০ প্রিজম, ৫৩১০ মিউজিক একসপ্রেস, ৫৬১০ মিউজিক একসপ্রেস,৬৩০১, ৮৮০০, ৩১২০ ক্ল্যাসিক এবং ৬৩০০ আই (তথ্যসূত্রঃ নোকিয়া ফোরাম)।

উল্লেখ্য যে- এই সবগুলো সেটেরই স্ক্রীণ রেজ্যুলেশন খুব হাই তথা ২৪০:৩২০ এবং অনেকগুলোরই ডিসপ্লে-তে রয়েছে ১৬ মিলিয়ন কালার এর উজ্জ্বলতম ছোঁয়া। আমি অনুমান করছি, একই ধরনের অপারেটিং সিষ্টেম সমৃদ্ধ বলে এই সেটগুলোর সবটাতেই ইউনিকোড বাংলা ফন্টের সাপোর্ট থাকার সম্ভাবনা খুব প্রবল, কেননা এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত ৫৩১০ তে আমি নিজেই পরীক্ষা করে বাংলা দেখতে পেয়েছি (ব্লগারদের যাদের কাছে এই সেটগুলো আছে , তারা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন)।

পক্ষান্তরে নোকিয়ার Series 60 Symbian Operating System সমৃদ্ধ ফোনগুলোতে বাংলা ফন্টের সরাসরি কোন উপস্থিতি নেই। একারণেই নোকিয়ার N-Series এর হাই এন্ড ফোনগুলোতে সরাসরি বাংলা ফন্ট পাওয়া যাচ্ছে না। তবে জেনেছি থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার করে .tft ফাইল এক্সটেনশনযুক্ত বাংলা ফন্টকে .gdr এক্সটেনশনযুক্ত বাংলা ফন্টে রূপান্তরিত করে তারপর বিশেষ নিয়মে এসব সেটের সি ড্রাইভে তা ইন্সটল করে –বাংলা ফন্ট পাওয়া যাচ্ছে।

আমি জানি, এ লেখা যারা ধৈর্য্য ধরে পড়ছেন, ইতিমধ্যে তাদের অনেকেরই মনের মধ্যে একটি প্রশ্ন জেগে উঠেছে।.....কি সেই প্রশ্ন ?

প্রশ্নটি হচ্ছে - নোকিয়ার ৬৫০০ ফোনটি দিয়ে আমাদের সামহয়্যার ইন ব্লগে কোন লেখা বা মন্তব্য পাঠানো যাবে কি না? এর বিপরীতে খুব কষ্টদায়ক হতাশাব্যঞ্জক উত্তর হচ্ছে- 'না, যাবে না' । কারণ নোকিয়ার ৬৫০০ এর Writing language -এ শুধু হিন্দী ও ইংরেজী ভাষায় কোন কিছু লেখার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু বাংলা ভাষায় কোন কিছু লেখার সুযোগ বা option নেই।.........

তবে আমাদের জন্য বিস্ময়কর আনন্দের সংবাদ হচ্ছে এই যে, নোকিয়ার অপেক্ষাকৃত কম দামের যেসব সেটে ইন্টারনেট অথবা ওয়াপ অপশন সহ বিভিন্ন কী অথবা বাটনের মধ্যে বাংলা বর্ণমালা খোদিত আছে, সেসব সেট দিয়ে আপনি ইন্টারনেটে ঢুকে সামহয়্যার ব্লগে বাংলায় মন্তব্যও পাঠাতে পারবেন (যেমন নোকিয়া ৬০৩০ অথবা নোকিয়া ৬০৭০)। আবার যেসব সেটের কী বা বাটনে বাংলা বর্ণমালা খোদিত নেই, এমন দুটি নোকিয়ার সেট দিয়েও আপনি সামহয়্যার ব্লগে মন্তব্য পাঠাতে পারবেন (যেমন নোকিয়া ৩১১০ এবং নোকিয়া ৩৫০০)।

আমি নিজে সামহয়্যার ব্লগের ব্লগারদের পিকনিক যাত্রার স্মরণীয় সেই দিনটিতে এ ঘটনাটি প্রথম পরীক্ষা করে দেখেছি। আসুন একটি বর্ণনা দেই- সেই দিনটির স্মৃতি থেকে....। বর্ণনাটি হয়তো একটু আবেগময়ই হবে।....

নিত্য দিনের চেনা পৃথিবীতে সেই দিনটি হয়তো একটু অন্যরকম-ই ছিল। তারিখটা ছিল ২৯ শে ফেব্রুয়ারী, ২০০৮। আমাদের প্রিয় ব্লগার সারিয়া তাসনিমের আহবানে হঠাৎ করেই পিকনিকে যাবার ব্যাপারে রাজী হয়ে গেলাম আমি। এই রাজী হওয়ার পেছনে মূলত দুটি কারণ ছিল। একটি হচ্ছে, প্রায়শঃই অনিয়মিতভাবে লেখালেখির কারনে খুব পরিচিত ব্লগারদের কাছ থেকেও আমি কেমন যেন খুব দূরে চলে যাচ্ছিলাম, ক্রমশঃই খুব বেশী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিলাম। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ব্লগে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখা পড়ে আমার অনুমান হচ্ছিলো- ব্লগে প্রচুর প্রতিশ্রুতিশীল নবীন ও তরুণ লেখক এসেছেন, তাদের সংগে পরিচিত হবার একটা প্রচন্ড মানসিক তাগিদও অনুভব করছিলাম।...

একারণেই পিকনিক যাত্রায় রাজী হওয়া। একারনেই টিকাটুলীর মোড় থেকে পিকনিকের বাসে উঠে চুপচাপ পেছনের একটি সিটে বসে পড়া।...

বাস চলছে। সময় গড়াচ্ছে, ব্লগারদের হৈ চৈ-ও চলছে। আমি চুপচাপ বসে আছি। একটু সংকুচিত হয়েই বসে আছি। আমাকে মনে হয় কেউ খুব একটা চিনছে না।...
কী মুশকিল । ওরা কতো আনন্দ করছে সবাই মিলে। কতো হৈ হল্লা , কতো কিছু....। কিন্তু আমি? আমি পারছি না কেন? ....

দুই সারি সামনের সিটে বসেছে জয়িতা। ওকে নানারকম কথা বলে হৈ চৈ আর আড্ডায় মেতে উঠেছে কয়েকজন তরুণ ব্লগার। আমি খুব মজা করে শুনছিলাম ওদের কথা। সেদিন সেই বাসে- এটা ছিল খুবই একটা স্বাভাবিক ব্যাপার যে- ওরা কেউ- সুনীল সমুদ্রকে চেনে না...।

আমি অপলক চোখে ওদেরকে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম-এরাইতো মাতিয়ে রাখে ব্লগ। এরাইতো প্রতিদিন চোখ রাখে প্রিয় এক অনবদ্য জানালায়। জাগায় রূপময় প্রাণোচ্ছল আকুলতা –সামহ্য়্যার ইন ব্লগের কারুকাজময় শব্দ বাগানে।

তাই প্রাণের স্বঃতস্ফূতর্তা তো থাকবে এখানেই। ওদের অন্তরেই.....।
ওদের হাতের মুঠোতেই তো ফুটে উঠবে আমার প্রাণের বাংলা ভাষার অপরূপ কথামালার অক্লান্ত সৌন্দর্য্য মাধুরী !

একটু পরেই চোখ গেল পেছনের একটা সীটে। সেখানে বসে ছিল নাঈম। ওর হাতে নোকিয়া ৩১১০ এর একটা সেট। আমার চোখ যেন আটকে গেল সেখানে।
আমি জানতাম- নোকিয়া ৩১১০ এর Writing language-এর অপশনে ‘বাংলা’ Include করা আছে। তাই সেই সেটের কী বা বাটনে বাংলা অক্ষর না থাকলেও Writing language হিসেবে Bangla সিলেক্ট করে নিলে তা দিয়ে বাংলা লেখা সম্ভব। .... আমার ভেতরে কেমন যেন একটা চিত্ত চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়ে গেল।... অতঃপর একসময় সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে নাইমকে বলেই ফেললাম কথাটা। বললাম, দিন –আপনার মোবাইলে আমি আমার গ্রামীনের সিম ভরে একটু সামহয়্যার ব্রাউজ করে দেখি। নাঈম স্বাচ্ছন্দ্যেই আমার হাতে তুলে দিল তার মোবাইলটা।

অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে আছে- আমাদের সেদিনের বাসযাত্রায় আমাদের একজন ব্লগারের সাথে একটি ল্যাপটপও ছিল। সেটি ব্যবহার করে তখন সবেমাত্র পিকনিক যাত্রার বিষয়ে একটি পোষ্ট দিয়েছেন সারিয়া তাসনিম যার শিরোনাম ছিল-চড়ুইভাতি লাইভ আপডেট Click This Link

পোষ্টটি সেদিন সারাদিন ষ্টিকি হিসাবে প্রথমপাতায় ছিল। পোষ্টে বলা হয়েছিলো পিকনিকের প্রতি মুহুর্তের খবরা খবরের লাইভ আপডেট থাকবে সেই পোষ্টে। ঠিক সকাল ৯ টা ৫ মিনিটে দেওয়া হয়েছিল সেই পোষ্ট। আমি দেখলাম, কিছুক্ষণের মধ্যেই পোষ্টটিতে মন্তব্য লিখতে শুরু করেছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সামহয়্যারের প্রিয় ব্লগাররা....। কিন্তু আমার মাথায় তখন কাজ করতে শুরু করেছে একটা নতুন পরিকল্পনা- নোকিয়ার ৩১১০ মোবাইলটিকে হাতে পাওয়ার কারণে সেটিকে কেন্দ্র করে একটি বিষয় পরীক্ষা করে দেখবার পরিকল্পনা.....।

আমি নাঈমের দেওয়া সেই নোকিয়া ৩১১০ মোবাইলের অপেরা মিনি ব্রাউজার এর সাহায্যে ঢুকে পড়লাম সামহ্য়্যার ইন ব্লগে.... তারপর ঢুকে পড়লাম সারিয়ার পিকনিক বিষয়ক সেই পোষ্টে..... এমনকি আমার ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড বসিয়ে লগ ইন-ও করে ফেললাম সাকসেসফুললি..... !!

কিন্তু এরপর ? এরপর চরম এক উত্তজনা ! মোবাইলের এই ছোট্ট স্ক্রীণে বাংলা লেখা পড়েছি অনেক আগেই... কিন্তু ব্লগে মন্তব্য প্রেরণ? না , তা হয়নি কখনো। এইতো ২০০৬ সালে যখন এই ব্লগে নোকিয়ার ৬০৩০ মোবাইলে বাংলা লেখা পড়তে পারার সুযোগের খবরটি জানিয়ে অনেক দীর্ঘ পোষ্টটি দিয়েছিলাম, তখনও ঐ মোবাইল থেকে বাংলা মন্তব্য লিখে ব্লগে প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি।.... আমার এখনো মনে পড়ে- ২০০৭ এর ফেব্রুয়ারী মাসে সামহয়্যার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আয়োজিত সামহয়্যারইনব্লগের প্রথম সেমিনারের দিনটিতে- যখন অরিল আর হাসিন হায়দার এর সাথে আমার দেখা হয়েছিল, তখন আমার হাতে ছিল নোকিয়ার ৬০৭০ মোবাইল, যাতে বাংলার সাপোর্ট থাকায় ব্লগ পড়া যাচ্ছিলো ঠিকই কিন্তু সেটা দিয়ে ব্লগে কোন মন্তব্য প্রেরণ করা যাচ্ছিলো না। অরিল সেদিন খুব আগ্রহ নিয়ে মোবাইলের স্ক্রীণে বাংলা লেখাগুলো দেখছিলেন এবং বারবার আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, তুমি কি হাসিনকে এটা দেখিয়েছো? হাসিন কি এটি দেখেছে?’

সেদিন হাসিন ভাইয়ের সাথেও আমার কথা হয়েছিলো অনেকক্ষণ। আমি হাসিন ভাইকে জানিয়েছিলাম, ঐ মোবাইল থেকে গুগল সার্চে বাংলা শব্দ ইনপুট করা যাচ্ছে, অথচ ব্লগের পাতায় মন্তব্য লেখা যাচ্ছে না ।...এটি কেন হবে?

হাসিন আমাকে কথা দিয়েছিলেন-বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে সমাধা করবেন। হাসিন যে তার কথা রেখেছেন তা অনেকদিন পরে হলেও বোঝা গেল ভালভাবেই।

পিকনিক যাত্রার সেই দিনটিতে বাসের সিটে বসে নোকিয়া-৩১১০ দিয়ে ব্লগে লগইন করার পর বেশ কিছুটা সময় কোথা দিয়ে যেন তীব্র উত্তেজনায় কেটে গেলো আমার....। সারিয়ার পোষ্টের মন্তব্য লেখার স্পেসে গিয়ে মোবাইলের কী গুলো ব্যবহার করেই নির্দিষ্ট নিয়মে খুব ধীরে ধীরে বাংলায় লিখলাম ছোট্ট একটি লাইন- “আমিও যাচ্ছি সবার সাথে” । এরপর?

এরপর সেই মন্তব্য সেন্ড করার পালা। হবে কি -হবে কি ??
শেষপর্যন্ত হবে কি??? সম্ভব হবে কি মন্তব্য পাঠানো???...

আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। ভীষণ একটা উত্তেজনা অনুভব করছি। মোবাইল ফোনে আমি বাংলা পড়তে চেয়েছি বা বাংলায় লিখতে চেয়েছি আসলে সামহয়্যার কে ভালবাসি বলেই। আমি চেয়েছি দিবসের সকল ব্যস্ততায় যখন যেখানে থাকি, সামহ্য়্যার জ্বল জ্বল করে ফুটে থাকুক আমার পকেটে- মোবাইলের পর্দায়। আমি যখন যেখানে থাকি- সেখান থেকেই যেন মন্তব্য পাঠাতে পারি -যে কোন প্রিয় ব্লগারের প্রিয়তম কোন লেখায়।

আমার স্বপ্ন তো এভাবেই একটু একটু করে বর্ধিত হয়েছে- আসলে সারাক্ষণ সামহয়্যারকে কাছে পাবার জন্যই !

তাহলে ? তাহলে শেষ পর্যন্ত কি হবেনা? আমি কি পারবোনা মোবাইল থেকেই বাংলায় মন্তব্যটি পাঠাতে?

সকল রুদ্ধশ্বাস সময় অবসানের পর সারিয়ার লেখার মন্তব্য প্রেরণের ঘরের নির্ধারিত বাটনে ক্লিক করলাম।

দূরের শহরে হয়তো ঠিক সেই মুহূর্তে একটি নাম না জানা পাখী আনন্দে ডানা ঝাপটালো কিছুক্ষণ। একটি রক্ত গোলাপ হয়তো ফুটে উঠলো কোন এক ব্লগারের বিমুগ্ধ নতুন বারান্দায়।

খুব বেশী মাত্রায় যেন বৃষ্টি নামলো শহরে ।
মুষলধারে অবিরাম-একটানা বৃষ্টি।
আনন্দের ! অপরূপ এক আনন্দের বৃষ্টিঁ !

দেখলাম- মন্তব্যটি যথাযথভাবেই সেন্ড হয়েছে ব্লগে। আমাদের পিকনিক বাসের ল্যাপটপে উকি মেরে দেখলাম- নোকিয়া ৩১১০ মোবাইল থেকে পাঠানো মন্তব্যটি শোভা পাচ্ছে সারিয়ার লেখার নীচের অজস্র মন্তব্যের ভীড়ে...।
মন্তব্যঃ
সুনীল সমুদ্র বলেছেনঃ
আমিও যাচ্ছি সবার সাথে।
*****************************

যদি এমন হয় যে, এর আগে আর কেউ এভাবে মোবাইল থেকে ব্লগে বা অন্য কোন বাংলা সাইটে বাংলাভাষায় মন্তব্য আপলোড করেননি, তবে সেদিনের সেই প্রেরিত মন্তব্যটিই সম্ভবতঃ বিশ্বের প্রথম বাংলা মন্তব্য যা মোবাইল ডিভাইস থেকে আপলোড হয়েছে ইন্টারনেটের কোন সাইটে।....

অবশ্য প্রথম না হলেও ক্ষতি নেই।
নতুন কোন কিছু অর্জন বা প্রাপ্তির আনন্দের কাছে-প্রথম দ্বিতীয় বলে কিছু নেই।
শুধু প্রাপ্তিটাই নিঃসন্দেহে খুব বড়।...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28791631 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28791631 2008-04-27 07:41:57
কোন শুভেচ্ছাই পর্যাপ্ত নয়-- (সাজির জন্মদিনে) কোন শুভেচ্ছাই পর্যাপ্ত নয়-
অশেষ শুভেচ্ছা বিলানো সেই
অপরূপ হৃদয়ের
অপূর্ব উণ্মেষ দিনে।

কোন ফুলই যথার্থ নয়-
তার শব্দমালার সুষমা ছাড়িয়ে
এতোটুকু অধিক-সুগন্ধী ছড়াতে।

কোন মাল্যই পারেনা ভরাতে
তার সীমাহীন সক্ষমতার
সুধাময় সেই এক
স্বয়ম্ভর সাজি।

আজ তাই-
শুধু মেঘের সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া যায় এক চিঠি

প্রার্থনা করা যায়-
অতঃপর সেই বৃষ্টিই নামুক অবিরাম
আগামীর অনাগত দিনে-

বহুকাল যত্নে যা সাজিয়েছে একজন-
হাতে নিয়ে অন্যরকম, অপরূপ এক
কবিতার সাজি।












]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28789174 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28789174 2008-04-19 02:06:16
ভোর- এই প্রজন্মের অদেখা প্রহর...
রূপা আমার মেজো বোনের মেয়ে। আমার ১৫ বছরের প্রিয় ভাগ্নি। ওর সঙ্গে কথা হচ্ছিলো ভোর নিয়ে। ওর মা আমাকে প্রায়ই ও'র বিষয়ে একটা কমপ্লেইন করে। ও নাকি কখনোই খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পারে না। কখনোই স্নিগ্ধ ভোরের অপরূপ সৌন্দর্য্য ওর দেখা হয়নি। ভোরের সৌন্দর্য্য বলে যে একটি বিষয় প্রকৃতিতে আছে, রূপার তা একেবারেই অজানা।

আর শুধুই কি রূপা?
রুবেলেরও একই অবস্থা। রুবেল আমার বড় বোনের ছেলে। পড়ে নর্থ সাউথে। সেও কোনদিন ভোরের সৌন্দর্য্য দেখেনি। অন্ধকারের দীর্ঘ রাত্রি শেষে ভোরের প্রথম সূর্যোদয়- যে পবিত্র 'অপরূপ রূপের আভায়' আকাশ রাঙিয়ে তোলে- তা' কোনদিন তাদের দেখা হয়নি। দেথা হয়নি ভোরের শিশির, ভোরের ঘাস। ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন দূরের বৃক্ষ।

শোনা হয়নি পাখীর কাকলী। বৃক্ষের শাখায় শাখায় চড়ুইয়ের চঞ্চলতা। রৌদ্রের ঝিকমিকে আলোয় ছোট্ট প্রাণের বিচিত্র সব কিচির মিচির অনুরাগ।
এমন অন্যরকম এক অপরূপ আনন্দ সকাল । আহা ! কোনদিন স্পর্শ করা হলোনা তাদের !

রূপা কিংবা রুবেল এর মতো এ প্রজন্মের অনেকেরই আজ একই অবস্থা। সকাল দশটা অবধি পড়ে পড়ে ঘুমানো যেন খুব স্বাভাবিক এক ব্যাপার। ওরা ভোর কি জিনিষ তা জানে না। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল, ভোরের শিউলি কিংবা সবুজ দুর্বা ঘাসের উপর জমে থাকা শিশিরের কণা –একেবারেই অনুপস্থিত, ওদের জীবনে।

ভোরের গল্প, ভোরের গান, ভোরের অপরূপ সুরের সুধা- ক্রমশঃই হারিয়ে যাচ্ছে ওদের জীবন থেকে।
দিবসের একটি অসাধারন প্রহর এভাবে জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়াতে কার্যত ওদের তেমন কোন আফসোস নেই।
নিত্য রাতের টিভি সিরিজ, পার্টি-অনুষ্ঠান, ভিসিডি, ইন্টারনেট –ইত্যাদি নানা আনন্দের ঔজ্জল্য-অনুভব শেষে প্রায় মাঝ রাত্রিরও পরে ওরা যখন ঘুমাতে যায়, ভোরের আলোর আহ্বান ওদের কাছে তখন খুব ক্ষীণ হয়ে পড়ে।

একটি সুন্দর সুরভিত ভোরের ডাক- তখন কেবলই তুচ্ছ এক ডাক । যে ডাকে সাড়া না দিলে তেমন কোন ক্ষতি নেই। সকাল দশটা পর্যন্ত পড়ে পড়ে ঘুমানোর চেয়ে জীবনে অধিকতর আনন্দের আর কি আছে?

আমি তাই ভোরের সৌন্দর্য্যের কথা কোনদিন ওদের বোঝাতে পারিনি। কথায় নয়- কবিতায় নয়, উপমাতেও নয়। অপরূপ স্নিগ্ধ প্রকৃতির হৃদয়ছোঁয়া কোন বর্ণনাতেও নয়।

ঘুরে ফিরে ওদের সেই একই প্রশ্ন- ভোরের আবার সৌন্দর্য্য কি? ভোর-তো ভোরই। তার আবার বিশেষ ভরত্ব কি?

আমি ওদের জন্য অনেক গুলো কথা গুছিয়ে রাখি।
অনেকগুলো ভাবনাও।
ভাবি একদিন খুব ভোরে ওদেরকে পুরনো ঢাকায় নিয়ে যাবো।
একদিন খুব ভোরে ওদেরকে অন্য রকম এক জীবনের গল্প দেখাবো।
সেই যে নারিন্দার মোড়ে এক বৃদ্ধ অপূর্ব স্বাদের মাঠা বানিয়ে সবাইকে খাওযাতে থাকে, সেই দৃশ্যের মুখোমুখি নিয়ে যাবো।
ওরা দেখুক কেমন কাকডাকা ভোরে ওখানে স্পন্দন শুরু হয়ে যায়- কষ্টার্জিত জীবনের।
কিভাবে শহর জেগে ওঠে, সাত-তাড়াতাড়ি -ভোরের স্বচ্ছ আলো-ফুরোতে না ফুরোতেই...।

আচ্ছা, ওরা কি অবাক হবে- কাকডাকা ভোরের সাথে-ফেরীওয়ালাদের নানা স্বাদের বিচিত্র সব চীৎকার শুনে?

ওরা কি অবাক হবে ঐ অতো ভোরে অক্সি-এসিটিলিন শিখার তীব্র ঔজ্জল্যে ঝলসে ওঠা লৌহ-কাড়িগরের কর্মোদ্যত দুহাত দেখে?

ওরা কি অবাক হবে সংবাদপত্র নিয়ে ছুটোছুটিরত হকারদের অদেখা চঞ্চলতায়?

নাকি ওরা শুধুই হোটেলগুলোর তেহারীর মজায় জমে যাবে?
অথবা একবার ফেলতে চাইবে পা বলধা গার্ডেনের সবুজ ভুবনে?

পাশেই থমকে থাকা খীষ্টান কবরস্থানের অপরূপ বেদনাময় এপিটাফগুলোর কান্নাভেজা লেখা- ভোরের আলোর সাথে মিশে –নতুন কি কোন উপলব্ধি আনবে ওদের জীবনে?

একবারও কি ওদের মনে হবে- আর কিছু না হোক-অন্ততঃ সুস্থতার জন্য হলেও ভোরকে প্রত্যক্ষ করতে হবে প্রতিদিন !
ওদের কি একবারও মনে হবে -দীর্ঘ কাজের জন্যই -দীর্ঘ সৃষ্টিশীলতার জন্যই -দীর্ঘ জীবনটি বড়ো জরুরী !
সেই সাথে জরুরী- স্বচ্ছ আদরমাখা ভোরের বাতাস। প্রয়োজন-ভোরের অনবদ্য দিগন্ত ছুঁয়ে অবিরাম হাঁটা...।

কখনো ভাবি ওদের খুব ভোরে কমলাপুর ষ্টেশনে নিয়ে কোন এক ট্রেনে ওঠাবো। আমাদের সময়ে আমরা আরকিছু না হোক-অন্ততঃ দূরে কোথাও ট্রেন জার্নির সময়ে হলেও ভোরের পৃথিবীকে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেতাম। কিভাবে কেমন করে যেন অধিকাংশ ট্রেনজার্নির স্টার্টিং সময়টা হতো ভোর পাঁচটা অথবা ছটা। ঐ অতো সকালে ট্রেনের জানালা গলে একের পর দ্রুত ছুটে যাওয়া কুয়াশাচ্ছন্ন বাঁশবন, শিশিরসিক্ত লাউয়ের মাচা, বহুদূর বিস্তৃত হলুদ শর্ষে ক্ষেত দেখতে দেখতে আমাদের সকাল হয়ে উঠতো অনবদ্য অনুভূতির প্রিয়তম এক প্রহর।

আজকের প্রজন্মের যেন সেই সুযোগও নেই। আমি রূপাকে জিজ্ঞেস করলাম- 'কেন, তোরা কখনো ভোরের ট্রেনে চড়ে চিটাগাং কিংবা অন্য কোন শহরে যাসনি? তখন দেখিসনি- ভোরের সৌন্দর্য্য কি অপরূপ এক ব্যাপার?'

'-কী যে বলোনা তুমি মামা- আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারিনা বলেই তো আব্বু সবসময় কোথাও যাবার সময় কেবল দুপুর বা বিকেলের ট্রেনের টিকেট কাটে' !

মোক্ষম জবাব । শুনে আমি আর কিছু বলতে পারিনা। আমার সব বলা ফুরিয়ে যায়।

দিন ও রাত্রির নগরীকে ভালবেসে, দিন ও রাত্রির নাগরিক সব ব্যস্ততাকে অতিশয় মূল্য দিয়ে -এবং ক্ষেত্রবিশেষে রাত্রির সকল বিনোদনকে 'শেষরাত অবধি' প্রলম্বিত করে- অপরূপ ভোরের অনবদ্য স্নিগ্ধতাকে আমরা নিষ্ঠুরের মতো বিসর্জন দিয়েছি- জীবন থেকে।

ভোরের শিউলি থেকে যেন রাতের রজনীগন্ধাই আজ আমাদের কাছে বেশী প্রিয়।
ভোরের পাখির কলতান ভুলে রাত্রির ক্ল্যারিওনেট ছুঁয়ে আমরা সবাই আজ অদ্ভুত নিদ্রাহীন এক জীবন গড়েছি।
গড়েছি রাতজাগা আয়ু-অসচেতন পরিশ্রমবিমুখ আয়েশী প্রজন্ম।

আজকের প্রজন্মের কাছে স্বভাবতঃই তাই-'ভোর' এক অদেখা প্রহর।
ভোরের সুর- এক অচিন রাগিনীর না শোনা প্রাণদোলা।
ভোরের পাখী- এক অজানা চঞ্চলতার না দেখা গতিময়তা ।

ভোরের প্রস্ফুটিত যতো আলো- প্রজন্মের প্রত্যাশা, পরিমন্ডল আর প্রিয় তালিকা থেকে-আজ তাই খুব দূরে।

আমার কেন যেন কেবলই মনে হয়- 'ভোর'কে বিসর্জন দিয়েছি বলেই আমরা সবাই আজ যে কোন বিভেদে একে অপরের প্রতি খুব বেশী 'এগ্রেসিভ' হয়ে যাচ্ছি। একে অপরকে ক্ষমা করতে আমরা যেন খুব বেশী অপারগ হয়ে যাচ্ছি । 'ভোরের আকাশ' প্রত্যক্ষ্য করিনা বলেই আমাদের সকল উদারতা আজ যেন বিপুল বেগে দূরগামী...।

হয়তোবা একারণেই একদিন এক কবিতায় লিখেছিলাম-

" মেঘ তোমাকে মনে করাবে- বিভেদ গুলোই বারবার-
বৃষ্টি মনে করাবে সেই কষ্ট, অহেতুক দিয়েছি যা জীবনভর –

তুমি তাই করতে চাইলে ক্ষমা-
শুধু ভোরের আকাশের কাছে যেও-

একটি অপরূপ অন্যরকম হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ভোর-
তোমাকে নিশ্চয়ই নতুন করে ভাবতে শেখাবে-

সবটুকু ভুল- হয়তো কারোরই শুধু- একা’র ছিলোনা-

সাবলীল ক্ষমা করা যায় তাই,
এইভাবে অনাবিল
ভোরের শুভ্রতা ভালবেসে ! "



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28789097 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28789097 2008-04-18 22:01:08
আমিতো থাকতে চেয়েছি আড়ালেই- আমিতো থাকতে চেয়েছি আড়ালেই-
যেন আমার পায়ের রেখা-সাবলীল
ভেসে যায়-
তোমার অন্তর্গত মনোলীণ স্রোতে।

যেন আমার অস্তিত্ব অবয়ব
ফেলে না একবিন্দুও কোন ছায়া
উত্তাল উদ্দাম, তোমার আলোকমাখা চারু পথে।

চেয়েছি থাকতে পড়ে এভাবেই, অনাবিষ্কৃত, একা একা-
একটি পাথর যেমন একাকী পড়ে থাকে
নুড়ি পাথরের টিলার প্রাচুর্য্য ছেড়ে, নিঃসঙ্গতায়
বহু দূরে।

চেয়েছি তেমনি থাকতে আড়ালেই, সব মুগ্ধতার
দৃষ্টি ও অনুভব থেকে দূরে
একাএকা শীতের শিশির ছুঁয়ে হাঁটাও যে
খুব নিরাপদ, খুব আনন্দ দেয়
অতি সাধারণ
অনুল্লেখ্য আমাকে।

আমি তাই বৃষ্টি বুকে পেলেই ভেসে যাই আনন্দে অপার
আমি তাই একটি নদীর পাশে গিয়েই শুধু
আমার দুঃখটুকু খুলে বলি-

আমি তাই নিশীথ রাত্রিতে
নিঃসঙ্গ চাঁদের জ্যোসনাকে শুধু বিশ্বাস করাতে চাই-
‘আমি ভাল নেই,
বিশ্বাস করো, আমি ভাল নেই’।

আমি জানি- এই আড়াল মানেই
প্রবল এক একান্ত আপন ভুবনে থাকা-
আমি জানি-এই
আড়াল মানেই প্রত্যাশা, প্রাপ্তি আর না পাওয়ার রিক্ততা থেকে
বহু দূরের এক অবিরাম প্রশান্তিতে বসবাস।

আমি তাই থাকতে চেয়েছি আড়ালে- এভাবেই
যেভাবে আকাশ অনন্তে ঢাকে কষ্টের কালো মেঘ
যেভাবে সমুদ্র শুষে নেয় বিষ, সুগভীর নীলের নিবিড়ে।

সেভাবেই তীব্রতায় লুকাতে চেয়েছি সব অর্জিত নাম -অপলকে
একটি কুয়াশার দীর্ঘ চাঁদর দিয়ে ঢেকে গেছি, অবিরাম
এতোটুকু প্রতিভার
বিকীর্ণ দিপ্তী আমার ।

আমি তাই মুদ্রাক্ষরে, ঝকঝকে-
কোনদিন অত্যুজ্জ্বল করে দেখতে চাইনি-নিজ নাম,
কোনদিন প্রদানের চেয়ে বড় করে –
দেখিনি প্রাপ্তিকে।

আমি আনন্দ ছুঁয়েই চেয়েছি আমার উপস্থিতি ক্রমশঃই
ক্ষীণ তেকে ক্ষীণতর হতে হতে
একসময় মুছে যাক
সকলের বোধ ও ব্যাপ্তির সকল সীমানা থেকে
দূরে।

বৃষ্টির কাছে গিয়ে প্রার্থনায় আমি কতোবার নতজানু হই-
যেন সে একবারও-
তোমাকে আমার কথা মনে না করিয়ে দেয়-

যেন প্রবল এক বৈশাখী ঝড়ে
পৃথিবীর সকল পৃষ্ঠা থেকে মুছে ফেলে সেই নাম-

অবলীলায় একজন-
ভুলতে পেরেছে যেই নাম-
হৃদয়ের পৃষ্ঠা থেকে চিরতরে !

আমিতো থাকতে চেয়েছি আড়ালেই-
যেন আমার নিঃশ্বাস কোনদিন
না ছোঁয় তোমাকে-

যেন আমার প্রবল কষ্ট প্রহরে সাথী হয় শুধু
আকাশ মেঘলা এক –বহুদূরের

যেন আমার শব্দমালা শুধু যায়
শেষ শিয়রে আমার

না যায়, তোমার ক্রন্দন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28787954 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28787954 2008-04-15 08:26:51
তোমার স্বতঃস্ফূর্ততা অবরুদ্ধ হয়েছে বলেই... জানতে পারলে 'ভালোবাসা'
এমন তীব্র ছড়িয়ে আছে-তোমার জানালার চারপাশে।

তোমার অপেক্ষায় কেউ প্রতিদিন
বারবার দৃষ্টি মেলে- আকাশের দিকে-

কখন বৃষ্টি নামবে আবার, তোমার কলম থেকে অপরূপ
কখন আবার তোমার মুখ- দেখা যাবে প্রিয় জানালায়- ভেবে ভেবে
কেউ একজন, নির্দ্বিধায়
তোমার বেদনাকে করেছে তার অনুপম সঙ্গী, কবিতার

এতোটা জানার পরেও কি
বিষন্ন থাকতে পারে, অভিমানে, আপ্লুত- তোমার সকাল?

তুমিতো দেখেছো-ই কী প্রবল একাত্মতায়
কলম-উৎসারিত প্রেম-
তোমাকে ভাসিয়ে তুললো আবার, জোয়ারের টানে
আমাদের উন্মুক্ত উঠোনে, তোমার জন্য মমতায়
বিছিয়ে দেয়া হলো অনিঃশেষ
লেখার কাগজ-
তোমার শব্দমালা চেয়ে-কলমের কালিও হলো অবারিত নীল-
বাধাহীণ, সুবিশাল, সমুদ্রের শীতলতায়।

তুমিতো দেখেছো-ই কেউ কেউ, তোমার জন্য, কী প্রবল বিসর্জনে
ফিরিয়ে দিয়েছে সব খ্যাতি-
সব প্রশংসিত, সন্তানসম, শব্দমালা তাঁদের..।

তবুও কি পারবে না ভুলে যেতে-একটি ভুলের আঁচড়ে আঁকা
বিবেচনাহীণ, রূঢ় সেই
সাময়িক শব্দ-বিরতি?

তোমার নিথর করে রাখা মুখ, অভিমানে, বেদনায়
একটি কথাও আর বলবেনা- জেনেও দেখো
ঘুরে ফিরে তোমার দিকেই যায়
শুভকামনায় পল্লবিত- স্বতঃস্ফূর্ত পদাবলী।

কয়েকদিন এ পথে আসবেনা বলেই
তোমার পথ সাজানো হয়েছে আজ, আরো বেশী মমতার ঘ্রাণে।

কয়েকদিন তোমার লেখার টেবিল, শূন্য থাকবে বলেই
তোমার টেবিল ভরে গেছে, শুভেচ্ছার ফুলে ফুলে।

কেমন মায়ার টানে আজ, তুলে নিলো সবাই তোমাকে-
কেমন শব্দহীণ তুমিই নিঃশব্দে হয়ে গেলে প্রবল চীৎকার-
আমাদের স্তব্ধ বিবেকের !

কেবল কয়েকদিন দেখা হবে না বলে-তাই
আকাশের আর কোন আক্ষেপ নেই-

কেবল কয়েকদিন তুমি আসবেনা বলে-
প্রবাহী নদীর কোন থেমে থাকা নেই

একটি জানালা বন্ধের সাময়িক শব্দে
খুলে গেছে, মমতার, সহস্র জানালা চারিদিকে।

অবরুদ্ধ হয়েছো বলেই জেনে গেলে-ভুলে নয়-
তোমার জানালা থেকে তুমি, যথার্থ ব্যাখ্যা ভরেই
পাঠিয়েছিলে এক গোলাপ-

সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মানুষ,
পারেনি সুঘ্রাণ তার, চৈতন্যে, টেনে নিতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28785540 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28785540 2008-04-06 01:26:09
তুমি ভালো আছো? তুমি ভালো আছো, প্রিয় সামহয়্যার ইন? পথিক এর ফোনটা যখন এলো, ঘড়ির কাটায় তখন রাত প্রায় সোয়া এগারো। মোবাইলের স্ক্রীণে ইংরেজীতে Pothik নামটা ভেসে উঠতেই আমি একটু অবাক হলাম। এতো রাতে পথিক এর ফোন কেন? গুরুতর কিছু?

ঘটনাটা দু’তিন দিন আগের। ২০শে মার্চ, বৃহস্পতিবারের। আব্বা গুরুতর অসুস্থ বলে আব্বাকে দেখতে গিয়েছি স্বামীবাগে। সেখানে ছোট ভাইয়ের সাথে আছেন আব্বা । আমি ঠিক করলাম, রাতটা আব্বার কাছে থেকে আসবো। পঁচাশি বছর বয়সে এসে আব্বা হঠাৎ অসহায় শিশুর মতো হয়ে গেছেন। একসময় যাকে দেখেছি বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের উচ্চতর পদে প্রচন্ড নিষ্ঠা আর সততার সাথে পাগলের মতো পরিশ্রম করে কাজ করতে, তিনি এখন অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। রাতে তার পাশে একজন না থাকলে ভীষণ অসুবিধা হয়।

আমি আব্বার জীর্ণ শীর্ণ হাতটি ধরে বসে আছি। ভাবছি এমন একটি দিন হয়তো আমাদেরও আসবে। একদিন আমাদেরও সকল অমিয় তেজ নিভু নিভু হয়ে আসবে তেল ফুরিয়ে আসা প্রদীপের মতো। একদিন আমরাও হয়তো তন্ন তন্ন করে পাগলের মতো হাতড়ে হাতড়ে আমাদের পাশে একজন সাহায্যকারী খুঁজবো -শুধুমাত্র একটু হাঁটার সাহায্যের জন্যই... ।

এইসব ভাবতে ভাবতেই পথিক এর ফোন। দেখলাম রাস্তার নানা শব্দ শোনা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে কেমন শাঁ শাঁ অচেনা একটা শব্দও শোনা যাচ্ছে। কখনো মনে হচ্ছে শব্দটা পানিতে বৈঠা বাওয়ার। আবার কখনো মনে হচ্ছে অন্য কিছু।পথিক আসলে ফোন করছেন কোথা থেকে?..... এটা জিজ্ঞেস করার আগেই পথিক জানালেন শুক্রবার বিকেলে ব্লগারদের আড্ডার আয়োজন হয়েছে। ঠিক বিকেল পাঁচটায় আমি যেন পৌছে যাই সেখানে।

“তাতো বুঝলাম, কিন্তু অনুষ্ঠানটা হবে কোথায়? আমি যাবো কোনখানে?”

এই প্রশ্নের আর কোন উত্তর পাওয়া গেল না। তার আগেই হঠাৎ একটা চিৎকার । পরক্ষণেই মনে হল মোবাইলের ওপারে আর যেন পথিক নেই। অথচ মোবাইল বন্ধ হয়নি। আশেপাশের অল্প বিস্তর শব্দ শোনা যাচ্ছে, কিন্তু সরাসরি কেউ কথা বলছে না। আমি চিৎকার করে ‘হ্যালো হ্যালো’ বলছি, কিন্তু ওপার থেকে কোন উত্তর নেই।...

আমি একটু অবাক হলাম। আশ্চর্য্য! কি হতে পারে ? কেন পথিক আর কথা বলছে না? তবে কি মোবাইলের আশে পাশে সে নেই? তবে কি মোবাইলটা এই মুহুর্তে অন্য কারো হাতে?

একটা অজানা আশংকায় বুকটা কেঁপে উঠল। তবে কি মোবাইলটা তার ছিনতাই হয়েছে? সে কি রাস্তায় ছিল? নাকি অন্য কোথাও?

আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা কি করবো। আমি ফোনটা কেটে দিয়ে আবার রিং করলাম। এবার মনে হল ফোনটা কেউ ধরেই আবার কেটে দিলো। তাহলে ? তাহলে কি হতে পারে? আমি বার বার ফোন করতে লাগলাম। বারবার কেউ কেটে দেয়।

আমি মহাফাঁপরে পড়লাম। তবে কি পথিক কোন বিপদে পড়েছেন? এই মুহুর্তে কি তার সাহায্য দরকার? আমি চিৎকার করে বারবার ‘হ্যালো হ্যালো’ করছি। বাসার সবাই সেই হ্যালো শুনে বুঝে ফেললো- অস্বাভাবিক কিছু একটা ঘটেছে। কিছু একটা জরুরী ঘটনা আমাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে।

বাসার সবাই আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছে “লোকটি কে? কেন তার জন্য আমি এতো অস্থির হয়ে উঠেছি? সে কি আমার কোন ক্লোজ ফ্রেন্ড? বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু? না কি অফিসের কোন কলিগ?......”

আমি থ মেরে আছি। আমি কাউকে কিছু বলছি না। আসলে কাউকে কিছু বলতে যেন ইচ্ছে করছে না। কিন্তু আমার মন ভেতরে ভেতরে চিৎকার করছে। আমার হৃদয় যেন ভেতরে ভেতরে চিৎকার করে বলে উঠতে চাইছে – “পথিক আমার কেউ না । কেউ না ! কোন বন্ধু না। কোন ক্লাশমেট না। কোন কলিগও না...। এইতো তার সাথে মাত্র কিছু দিনের পরিচয় আমার! কিন্তু তারপরেও পথিক আমার কাছে অনেক কিছু। .... অনেক, অনেক গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ ।....

পথিক হচ্ছে আমার নিত্য দিনের এক অনবদ্য ‘খোলা জানালা’র একজন সাথী। পথিক হচ্ছে সেই জানালার সহযাত্রী, যেখানে মুখ রাখলে আমি সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষা ভাষীদের খুব কাছে পেয়ে যাই। যেখানে মুখ রাখলে আমার হঠাৎ মনে হয় আকাশ জুড়ে বহুকাল পর চমৎকার বৃষ্টি নেমেছে। কিংবা হঠাৎ চাঁদ উঠেছে জ্যোৎস্নার মায়াবী আলোয় পৃথিবী ভাসিয়ে....।

যেখানে মুখ রাখলে মনে হয়, আমিতো এই অনুপম কথামালার বিশালতার মাঝেই বাঁচতে চেয়েছি চিরকাল। আমি তো তীক্ষ মন্তব্যের এই সুতীব্র রোদ, অপরূপ আলাপচারিতার এই অপূর্ব বৃষ্টিকেই বলতে চেয়েছি ‘প্রিয় জীবন’-‘প্রিয় ভালবাসা’! আমিতো এমন একটি প্রিয় প্রাঙ্গনেই লুটিয়ে দিয়েছি আমার শব্দমালার সকল আকুলতা, যেখানে অনেকদিন পর পর লগ-ইন করলে আবেগে আনমনে বলে উঠি, “কী আশ্চর্য্য, কী আশ্চর্য্য, এই তোমার কাছ থেকে কীভাবে কেমন করে মাঝে মাঝে এতোটা দূরে থাকি, প্রিয় সামহয়্যার ইন ব্লগ ?...”

হ্যাঁ, শেষপর্যন্ত বাসার কাউকেই আমি কিছু বললাম না। পথিক আমার সামহয়্যার ইন ব্লগের সহগামী ব্লগার লেখক, এটি ঠিকভাবে বুঝিয়ে বলতে সময় লাগবে অনেক। আমি তাই সে চেষ্টা বাদ দিয়ে আবার ফোন করলাম পথিকের মোবাইলে। এবার আর ফোন ধরলোনা কেউ। শুধু ইংরেজীতে মোবাইল সংযোগ দেওয়া যাচ্ছেনা, সেই মেসেজটা শোনা গেল।

আমি আশংকার দোলায় দুলতে লাগলাম। যদি মোবাইলটা ছিনতাই-ই হয়, তবে পথিক-কি ভালো আছেন? তার কোন দুর্ঘটনা ঘটেনিতো? অনেকসময় ছিনতাই-এর ঘটনার সময় বাঁধা দিলে অনেক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনাও ঘটে যায়। পথিক এর আবার তেমন কিছু হয়নি তো?

আমি কাকে বলবো? কার কাছে যাবো? কার কাছে গেলে আমি তার সঠিক খবর পেতে পারি? তার আর কোন ঠিকানা বা কন্টাক্ট নাম্বার তো আমার কাছে নেই ! তাহলে এখন এই রাত প্রায় বারোটায় আমি আর কি করতে পারি?

পথিক আমার বন্ধু নয়, ভাই নয়, কলিগ নয়, আত্মীয়ও নয়। তবুও সে আমার আত্মার পরমাত্মীয়। সে আমার প্রিয় শব্দমালার সহযাত্রী। সে আমার প্রিয় কবিতার প্রিয় পাঠক । সে আমার প্রিয় সামহয়্যারের নিত্য কথামালার সঙ্গী। আমি যে তার কোন অমঙ্গলের কথা ভাবতেই পারিনা !

পথিক এর স্থানে অন্য কোন ব্লগার হলেও আমার অনুভব হতো এরকমই। যদি পথিক এর স্থানে থাকতো সেই হ্যান্ডসাম বয় আবু সালেহ, যদি থাকতো মুদু হাসির ট্যালেন্টেড শামীম, যদি দেখতাম জ্ঞানগর্ভ চোখের সামী মিয়াদাদ কিংবা কৌতুক মেশানো দুষ্টু হাসির রাতমজুর- তাহলেও তাদের কেন্দ্র করে আমার অনুভব হতো এক রকমই। প্রত্যুতপন্নমতি, লুলুপাগলা, সুখিমানুষ, জয়িতা, আইরিন, অ্যামেটার, নাঈম, সাতিয়া মুনতাহা , ইমন, সারিয়া, পিয়াল, জলিল, শাহানা, সাদিক, ধূসর গোধূলী, কালপুরুষ, সাজি –সামহয়্যারের আবেগময় অনবদ্য বাগানে ফুটে থাকা এরকম থোকা থোকা নামের যে কেউই বিপদে পড়লে আমার অনুভব হয়তো কেঁদে উঠতো এভাবেই।আমার ভালবাসার বিশাল রাজ্যে প্রজ্জ্বোলভাবে ফুটে থাকা একটি গোলাপও যেন বিবর্ণ না হয়, আমার প্রতিদিনের প্রিয় জানালায় দেখা একটিও রজনীগন্ধার ষ্টিক যেন