somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... দেখবেনা এই স্রোত, এই কান্না আমাদের ? লুকিয়ে রেখেছিলে সব দহন, সঙ্গোপন, রক্ত কণিকায়!

খুব কি অভিমান জমা ছিল, নিভৃতে
বুকের খাতায়?

তোমার লিখে রাখা পৃষ্ঠাগুলো সব
দেখো, কী প্রবল
সারাদিন আজ কাঁদালো আমাদের।

তোমার শব্দমালা সব, কী প্রবল
কান্নায় ভেসে ছড়ালো শহরময়
কষ্টের খামে ভরা চিঠি !

খুব কি দূরে আছো আজ?
খুব কি অমোঘ ঘুম
নির্ঘুম রাত্রি শেষে, থেমে পড়া
চোখের তারায়?

দেখবেনা এই বৃষ্টি, শহরের?
এই কান্না, কবিতার?

এতো ফুল, এতো ভালোবাসা আজ
জমতে জমতে পাহাড় হয়েছে
তোমার আঙিনায়-

তোমার মহত্ত্বগাঁথা আজ
শহরের দেয়ালে দেয়ালে
বিবেক চমকে দেওয়া
সুবিশাল শোকের পোষ্টার

তোমাকে স্যালুট দিতে দিতে
কী প্রবল শ্রদ্ধায় নতজানু
নড়ে যাওয়া, নগরীর সহস্র বিবেক!

দেখবেনা এই ফুল ?
এই যে একটি আলাদা দিন,
শুধু তোমার জন্য, লিখে রাখা
ডায়রীতে আমাদের ?

লুকিয়ে রেখেছিলে সব দহন, সঙ্গোপন, রক্ত কণিকায়!
শুধু লুকাতে পারোনি ভেতরের এই রোদ
এই এক ইতিহাস হওয়া অনন্য আলোক-
দুর্লভ, তোমার চেতনার !

শুধু ‘নোবেল’ নয়
তারো চেয়ে দুঃষ্প্রাপ্য অজস্র মানুষের চোখ-ভেজা জল
তোমার শয্যা পাশে আজ
অনশেষ বৃষ্টি, ভালবাসার।

দেখবেনা এই স্রোত, এই কান্না আমাদের ?

একটি আলাদা দিন,
শুধু যে তোমার জন্য, লিখে রাখা
ডায়রীতে আমাদের ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29490568 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29490568 2011-11-26 00:32:10
দেখা হবে আবার, এই সামহয়্যারইন, এই মায়াবীবৃক্ষের তলায় সামহয়্যারে লেখা হচ্ছেনা অনেকদিন।
অনেকদিন ধরেই সামুর প্রিয় ব্লগারদের সাথেও কোন যোগাযোগ নেই ! এতো দীর্ঘকাল সামুর সাথে সম্পর্ক ছেদ হয়ে থাকলে কেমন একটা অস্বস্তিতে ভুগি। অশান্তিতে ডুবে থাকি। মনে হয় বহুদিন আমি উণ্মুক্ত আকাশ দেখিনি। পাখীদের উড়ে চলা, রৌদ্রের ঝিকিমিকি, মেঘেদের মোহন উৎসব- দেখা হচ্ছেনা কিছুই। ব্লগারদের হৃদয় ছোঁয়া পোস্ট, উচ্ছাস উত্তাপমাখা কথামালায় দিনে দুবার চোখ বোলাতে না পারলে তীব্র হতাশা আর অভিমানে চোখও যেন অন্ধ হয়ে যায়। পৃথিবীর তাবৎ সৌন্দর্য্য সামহয়্যারের প্রিয় শব্দমালার কাছে কতো দ্রুত ম্লান হয়ে যায় !

গভীর রাত্রিতে বৃষ্টির ঘনঘটায় ঘুম ভেঙে গেলে চুপি চুপি ভাবি, আচ্ছা সবারই কি এমন হয় ? সবাই কী সামহয়্যারকে এভাবেই ভালবাসে !

আসলে দিনগুলো তেমন ভালো যাচ্ছেনা । অনেক আদরের একমাত্র কন্যা আর কন্যার মা দুজনেই একমাস ধরে চিকেন পক্স রোগে ভুগলো। বাসায় এ ধরনের অসুখ হলে একটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। হয়েছিলোও তাই। নানাভাবেই আমার তখন বিপর্যস্ত অবস্থা। অথচ কিছু করার নেই। ১০ বছরের মেয়েটা এই অসুখে এতোটাই ভয় পেয়েছে যে, সে আমাকে তার দিকে তাকাতেও দেয়নি। আমি একটু মনযোগ দিয়ে তার পক্সের গুটি গুলো কেমন হচ্ছে তা দেখতে গেলে ভয়ে চীৎকার দিয়ে উঠতো, আর বলতে শুরু করতো- "আব্বু তুমি এগুলো দেখো না, এগুলো দেখোনা...." ।অবুঝ মেয়ের হয়তো ধারণা এগুলো দেখলে তার আব্বু ভয় পাবে, তার অমন প্রিয় আদরের মেয়ের মুখের উপর এইসব জল-ভর্তি গুটির বীভৎসতা হয়তো তার আব্বু সহ্য করতে পারবেনা ! হায়রে অবুঝ মেয়ে আমার ! জানেনা, একজন পিতার বুকে তার কন্যার জন্য কী বিশাল মমতা জমা থাকে।সেখানে বসন্ত রোগ-ই কী, আর কুষ্ঠ রোগ-ই বা কী ! কোনটাই মমতা থেকে একবিন্দুও সরাতে পারেনা। ....

রোগ-এর কথাতো বললাম। এবার বাসার অন্য আরেক সমস্যার কথা বলি। সে সমস্যা ওয়াসার পানি নিয়ে। দীর্ঘ তিনমাস যাবত সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ওয়াসার পানিতে ড্রেনের পানির মতো কালো ময়লা আসছে। ড্রেনের পানির মতো গন্ধে ওয়াসার এ পানি দিয়ে মুখে কুলিও করা যায়না। দিনে রাতে প্রতিদিন পানি কিনতে হচ্ছে। এমনকি গোসলের পানিও।

এ এলাকায় এসব নিয়ে কেন জানি কারো কোন মাথাব্যথা নেই। বাড়ীওয়ালা বললো - ‌'কেন, প্রথম-আলো পড়েন নাই ? ওয়াসার ইঞ্জিনিয়ার স্বয়ং স্বীকার করেছেন, পানির লেভেল নীচে নেমে যাওয়াসহ নানা সমস্যার কারণে তারা পানি পরিশোধন করা ছাড়াই সরাসরি 'নদীর পানি' মেইন সরবরাহ-লাইনে দিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।'

আমি শুনে অবাক হয়েছি। ওয়াসার ইঞ্জিনিয়াররা আজকাল সত্যি কথা যতো কঠিন-ই হোক বলতে দ্বিধা করছেন না। ধীরে ধীরে এমন হয়ে যাচ্ছে সব। সবাই সবকিছু মেনে নিচ্ছে। একসময় আমরা আমাদের ব্যর্থতার কথাগুলো সরাসরি বলতে লজ্জা পেতাম। যতোটা পারা যায়, ঢেকে রাখতে চাইতাম। এখন আর রাখ ঢাক এর বালাই নেই। তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্রতম দেশের নাগরিক হয়ে আপনি মেইন সরবরাহ লাইনে কেন পরিশোধিত পানি চাইবেন ? ড্রেনের গন্ধমাখা পানি যে তারা দিতে পারছে - সেটাই তো অনেক ! কয়েকদিন পরে হয়তো তা-ও দিতে পারবে না। পানি, গ্যাস, বিদ্যুত- আস্তে আস্তে সবধরনের ইউটিলিটি সার্ভিসেরই হয়তো একই অবস্থা হবে !

তবে ইউটিলিটি সার্ভিসের রমরমা অফিসগুলোর অবস্থা হয়তো ঠিক সেই আগের মতোই থেকে যাবে। আগের মতোই ফকিরাপুলের পানির ট্যাঙ্ক সংলগ্ন ওয়াসা অফিসে গেলে আপনি হয়তো একটু হকচকিয়েই যাবেন- এটা অফিস না অন্য কিছু ? এই অফিসের লোকজন সব বসার সিট ছেড়ে কোথায় গিয়ে ঘুরে বেড়ায়? নীচের উঠোনে, সিড়ির কোণায়, রাস্তার ফুটপাতের পাশে দাড়িয়ে ডিফল্টার গ্রাহকদের সাথে তাদের কী কথা চলতে থাকে ফিসফাসে?

কাল রাতে (১২ মে, ২০১১) একুশে টিভিতে 'একুশের চোখ' অনুষ্ঠানটি দেখছিলাম। হায়, সেখানেও এবারের প্রসঙ্গ 'ওয়াসা'। খুব সাহসিকতার সাথে একুশের সাংবাদিক তুলে ধরলেন তার ক্যামেরাবন্দী সচল প্রামাণ্য এক ভয়াবহ প্রতিবেদন - কীভাবে ওয়াসার একজন 'সাধারণ কর্মচারী' তার সামান্য চাকুরীকে পুঁজি করে অবিশ্বাস্য সব সম্পদ আর সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তুলেছেন ! স্বভাবতইঃ এ প্রতিবেদন দেখে শিউরে উঠতে হয়। অবাক হতে হয় ! স্তব্ধ হতে হয় !

হয়তোবা শেষমেশ ভুলেও যেতেও হয়।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের নাগরিক অস্বস্তিকর বিষয়গুলো আমরা ধীরে ধীরে ভুলে যেতে শিখেছি। আমরা খুব দ্রুত সমস্যাগুলো মেনে নিয়ে ভুলে যাই। কোন সমস্যা নিয়ে কথা বলা আমাদের মতো সাধারণ নাগরিকদের কাজ নয়। এসব নিয়ে কথা বলবে নগর গবেষকেরা, বুদ্ধিজীবিরা। আমাদের জন্য বরং গান, কবিতা আর বিনোদনের চর্চাই শ্রেয়তর।
আমাদের জন্য সকাল বিকাল রাত্রিতে সনির 'সিআইডি'র নেশায় বুঁদ হয়ে যাবার সুযোগ প্রস্তুত আছে !
আমাদের জন্য স্টার প্লাসে ডুবে আর সব ভাবনা মাথা থেকে মাইনাস করে দেবার সুযোগ আছে।
আমরা কেন মাথা ঘামাবো দেশ ও জাতির এইসব সমস্যা টমস্যা নিয়ে?

তার চেয়ে বরং ফিরে যাই আগের প্রসঙ্গে। যা দিয়ে শুরু করেছিলাম। যে অনুভবের কথা বলতে শুরু করেছিলাম গোড়াতেই।

হ্যাঁ, বলছিলাম সামহয়্যারের কথা। সামহয়্যারের প্রিয় ব্লগারদের সাথে দীর্ঘদিন যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন থাকার কথা। সামহয়্যারে দীর্ঘকাল লিখতে না পারার কথা।

নিয়মিত লেখার জন্য সময় দিতে না পারলেও সামহয়্যার পড়ার জন্য ঢুকে পড়ি মাঝে মাঝেই। সামহয়্যারের শক্তিশালী নানা পোস্ট আমাকে অভিভূত করে। আমি জানি, আমাদের এই প্রিয় বিচরণ ক্ষেত্রটিতেও নানা সময়ে নানাভাবে নানারকমের ক্যাচাল লেগে থাকে। নানা বিষয়ের উপর দীর্ঘ বাক-বিতন্ডাও চলে অনেকদিন। কেউ কেউ অভিমানে চলে যায়। লেখা বন্ধ করে দেয় হঠাৎ ক্ষোভ মিশ্রিত অনুযোগে।

এতোকিছুর পরেও সামহয়্যার আমাদের সেই দীর্ঘকাল একসাথে পথচলার সামহয়্যার। সামহয়্যার সেই 'প্রাপ্তি' নামের মেয়েটিকে বাঁচানোর সামহয়্যার। সামহয়্যার সেই 'শ্বাশত'-র পাশে দাঁড়ানোর সামহয়্যার। এতোকাল পরেও সামহয়্যারের বিশ্বব্যাপী আকাশজুড়ে অঝর ধারায় ভালবাসার বৃষ্টি নামতে দেখি, যখন রুখসানা তাজীন তার কান্না জাগানো শক্তিশালী লেখায় তুলে ধরেন একজন শিক্ষক সাব্বিরের জীবনের চরম সংকট আর অসহায়ত্বের কথা।

সামহয়্যার-এর আকাশ জুড়ে যখন বারবার এভাবেই মানবতার ডাকে ব্লগারদের অসাধারণ ভালবাসার বৃষ্টি নামতে থাকে, তখন আমি আবার বাঙালীদের এই তুলনাহীণ মিলনক্ষেত্রটির প্রেমে অভিভূত হয়ে যাই। আমার সারাক্ষণ মনে হতে থাকে, ফিরে যাই! ফিরে যে যেতেই হবে এ মহান সৌন্দর্য্যের অপরূপ মিলনমেলায়..... !

আমার সারাক্ষণ মনে হতে থাকে, আমাদের মধ্যে কে সেরা ব্লগার, কে সবচেয়ে ভালো লেখেন, সেসব নিয়ে পুরস্কার অর্জনের দ্বন্দ্বে আমাদের বিভক্তির আর কোন প্রয়োজন নেই। কিছু না পেয়েই আমরা দীর্ঘকাল এক হয়ে থাকতে পারি সামহয়্যারের এই আশ্চর্য্য মায়াবৃক্ষের তলায়। কিছু না পেয়েই আমরা ডুবে থাকতে পারি এই 'সবকিছু পেয়ে যাওয়ার অপরূপ অদ্ভূত এক প্রশান্তির ছায়ায়' !

ভালো থাকো প্রিয় সামহয়্যারইন, ভালো থাকো প্রিয় ব্লগার বন্ধুরা।
দেখা হবে আবার, প্রিয় এই সামহয়্যারের ছায়াতেই। প্রিয় এই মায়াবীবৃক্ষের তলায়।

আবারো কোনদিন!
আবারো কোন এক মনোরম স্নিগ্ধ বিকেলে !
............................................................................
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29380864 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29380864 2011-05-14 13:26:05
ইচ্ছে হয় আড়ালেই থাকি কখনো ইচ্ছে হয় আড়ালেই থাকি
দুপুরের আনমনা ম্রিয়মাণ আলোয়
জীবন সাজিয়ে নেই, অন্য কোন সাজে-
সুদূরের, অচেনা ঠিকানায়।

বহুদিন রৌদ্র-তাপে ঘুড়েছি এ শহর-
বহুদিন -প্রবঞ্চনা আর নির্লজ্জ প্রতিশ্রুতির
মুখর শ্লোগানে প্রকম্পিত রাজপথ,
বিপন্ন বিতৃষ্ণায়, আমাকে ছুঁয়েছে।

অতঃপর একবার -
একটু মেঘের আড়ালে যেতে -সাধ হয়
একবার বৃষ্টির কণার সাথে মিশে
সিক্ত অনুভব নিয়ে দেখতে সাধ হয়
নিসর্গ সৌরভ !

তোমাকে কীভাবে জানাই-
বহুকাল আমি সমুদ্র দেখিনা
বহুকাল, পাখী ও প্রকৃতির সাথে আমার
কোন মেলামেশা নেই !
শেষ কবে-
চোখ বুঁজে
কিছুক্ষণ তোমাকে ভেবেছি-
মনেও পড়েনা !

শুধু বুঝি, তিক্ত ভুবন ছুঁয়ে
অবুঝের মতো-
কেটেছে পাথর প্রহর, নিদারুণ কিছু ভুলে...
এইবার তোমাতে মগ্ন, নির্ভুল এক বিকেল
কেবলই তোমার জন্য রেখে দিতে সাধ হয়!

দেখেছি মানুষের চেয়ে নিসর্গই
আমাদের কষ্টগুলো বোঝে ভালো

একটি পাখির গানের গলায় তাই
তোমার জন্য গাওয়া সব গান
নির্বিঘ্নে, মেশাতে পেরেছি-
একটি নদীর স্রোতে ভাসাতে পেরেছি
বরফ-জমাট, তোমার জন্য যতো আকুলতা-
একটি সবুজ বৃক্ষের সহস্র পত্র-পল্লবে
সারা রাত জেগে
লিখতে পেরেছি সব
তুমি-ময় শব্দের আঁকিবুকি!

দেখেছি মানুষের চেয়ে আকাশ আর অরণ্যই পারে
বোবা সব ব্যথা
অক্লেশে, বুকেতে ফোটাতে।

আমার যে শব্দমালায় এ আকাশ উণ্মাতাল তোমাকে ছুঁয়েছে
আমার যে বোধ, এই অরণ্য অণুক্ষণ
ফুলের কষ্ট-ঘ্রাণে সারাদিন, তোমাকে বলেছে-

আর কি পারতো কেঊ
এইভাবে শুভ্র মেঘ
বৃষ্টির বিনোদ-শ্রাবণ
তোমার পৃথিবী জুড়ে
গেঁথে দিতে?

কখনো ইচ্ছে হয় আড়ালেই থাকি
মানুষের এই মিছিল, সুশীলের এইসব সভা-মঞ্চ সব
প্রতারক মনে হয়

এক বৃষ্টি শেষের বিকেলে বরং
তোমার স্মৃতির নদীটির ধারে গিয়ে বসা ভালো

একটি মাছরাঙা পাখির মধ্যেও
জীবনের আনন্দ-অনুভব
কী প্রবল অনায়াসে ঝলসে উঠতে দেখি!

একটি ভাসমান পদ্মও কী প্রবল উচচ্ছাসে
হয়ে যায় আনন্দের আয়না এক
বহুদিন না দেখা
তোমাকে দেখাতে !

ইচ্ছে হয় আড়ালেই থাকি-
ইচ্ছে হয় আড়ালেই
একটি সাগর তলদেশে
তোমার জন্য উৎসর্গিত কবিতার শব্দমালা জমতে জমতে
গড়ে উঠুক অবিশ্বাস্য এক সৌধ তোমার

সাগর ভ্রমণ শেষে স্তব্ধ নাবিকেরা
একদিন জেনে যাক

আমার আড়াল আসলে কষ্টশূন্য অযুত আনন্দের
আরেক পৃথিবী-
আমার আড়াল আসলে প্রশান্তির বৃষ্টি ঝরা
নিশ্চিন্ত, আরেক বিকেল-

জীবনের জটিল দুঃখগুলো সব
যেখানে সযত্নে দীর্ঘকাল, আড়াল রেখেছো তুমি!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29302553 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29302553 2011-01-05 23:10:57
কবে নেবে প্রথম পাতায়, প্রিয় সামহয়্যার ইন?...
বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই অভিমান মাখা স্বরে কথাগুলো বলছিলেন একজন নতুন ব্লগার। যদিও আমি তাঁর কথা উল্লেখ করলাম নতুন ব্লগার হিসেবে, কিন্তু সামহয়্যারে রেজিষ্ট্রেশনের বিচারে সে একেবারে নতুন নয়। প্রায় একবছরের মতো সময় পার হয়ে গেল, সামহয়্যারে সে রেজিষ্ট্রশন করেছে। অনেকগুলো ভালো লেখাও সে লিখেছে। তাঁর লেখায় মন্তব্যও এসেছে যথেষ্ট। তবুও সে প্রথম পাতায় প্রবেশাধিকার পায়নি। খুব ভালো লেখে বলে আমিই তাকে সামহয়্যারে রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এখন তার প্রথম পাতায় Access না পাওয়া নিয়ে আমি নিজেই কিছুটা বিব্রত।

রেজিষ্ট্রেশন করার সময় সে সামহয়্যারের নিয়মকানুন সম্পর্কে কিছুটা অবগত হয়েছিলো। তাকে বলা হয়েছিল প্রথম কিছুদিন (সম্ভবতঃ সাত দিন) সে সামহয়্যারের অবজারভেশনে থাকবে। তারপর সে অন্যের লেখায় মন্তব্য করার অধিকার পাবে। পাবে প্রথম পাতায় প্রবেশের সুন্দরতম অনুভূতির সোনালী এক চাবিকাঠি।

দিন যায়। সাত থেকে সাতাত্তর। সাতাত্তর থেকে একশত সাত। কত শত দিন।... প্রতিদিন প্রতীক্ষার প্রহর গুনে নতুন সেই ব্লগার। সামহয়্যার এখন তার প্রতিদিনের নেশায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সে মনযোগ দিয়ে অজস্র সব লেখা পড়ে সামহয়্যারের। বেশ কিছু লেখা পড়ে মনের আনন্দে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠে মন্তব্য লেখার জন্য। কিন্তু হায়! মন্তব্য লেখার ঘরে তার জন্য অস্বস্তিকর এক নোটিশ ঝুলে আছে....‍“আপনি নতুন ব্লগার , আপনি প্রথম পাতায় Access না পাওয়া পর্যন্ত কোন লেখায় মন্তব্য করতে পারবেন না....’’।

“জানেন, এই ব্যাপারটাই সবচেয়ে কষ্টদায়ক।... নিজের লেখা না হয় প্রথম পাতায় না-ই গেল, কিন্তু এই যে খুব ভালো লাগা একটা লেখা পড়ে সেই ভালো লাগা অনুভূতির কথাটা লেখককে মন্তব্য লিখে জানাতে পারছি না....সেটাই সবচেয়ে খারাপ লাগে, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশী পীড়া দেয়...।’’ খুব অসহায় ব্যথাতুর এক দৃষ্টি চোখে মেলে দিয়ে Real কষ্টের সঙ্গেই যেন কথাটা বলে ফেললেন নতুন ব্লগার।....

আমি থমকে গেলাম। আমি নিজেও এতোদিন জানতাম না প্রথম পাতায় Access না পাওয়া নিয়ে নতুন ব্লগারদের যন্ত্রনার স্বরুপ এতোটাই ভয়াবহ। আমি জানতামনা নতুন ব্লগারদের প্রথম পাতায় Access এর সোনালী চাবিকাঠি-টি সাতদিনের কথা বলে কখনো কখনো একশত সাতদিনেও দেওয়া হয়না।...আমি জানতাম না, এইভাবে অজস্র নতুন ব্লগার সামহয়্যারে যোগ দেবার পর সাড়া না পেয়ে সারাক্ষণ এমন যন্ত্রনায় ছটফট করে!...

আমি এসব কিছুই জানিনা কারণ আমি নিজে সামহয়্যারে রেজিষ্ট্রেশন করেছিলাম ২০০৬ সালে। তখন খুব সুন্দর একটা সময় গেছে। সুন্দর সব অনুভূতির প্রাণচঞ্চল শব্দমালা নিয়ে আমরা হাজির হতাম সামহয়্যারের স্বর্ণোজ্জ্বল খোলা জানালায়।...এতো নিয়ম কানুন এর বালাই তখন ছিলোনা..। সামহয়্যারে রেজিষ্ট্রেশন করার সাথে সাথেই প্রথম পাতায় Access পাওয়া যেতো। সেসময়ের সোনালী দিনগুলোর কথা লিখে রেখেছি সামহয়্যার ইন ব্লগঃ আমার যতো অনুভব - শিরোণামের এক লেখায়।

নতুন ব্লগারদের প্রথম পাতায় Access পাবার অধিকারটি কবে থেকে Restricted করা হলো - এটা ভাবতে গেলে কিছু অসুন্দর বিষয়ের কথাই মনে পড়ে।... আমি সেই নতুন ব্লগারকে সেই অস্বস্তিকর বিষয়গুলোর কথাও জানিয়েছি। জানিয়েছি অন্যকে অপ্রীতিকর মন্তব্য করার প্রয়োজনে একাধিক ‘নিক’ সৃষ্টির প্রবণতা হ্রাসের জন্যই নতুন ব্লগারদের ক্ষেত্রে প্রথম পাতায় প্রবেশে বা অন্যের লেখায় মন্তব্য করার সুযোগদানে এতোটা কড়াকড়ি।...

শুনে নতুন ব্লগার হাসলেন।...“সেটা আমি আগেই বুঝেছি।...কিছুদিন মনযোগ দিয়ে সামহয়্যার পড়লেই এই বিষয়গুলো সহজে বোঝা যায়। কিন্তু যেটা বুঝতে পারিনি তা হলো, একটা নির্দিষ্ট সময় অবজারভেশনে রাখার কথা বলে কেন অযথাই এতো দীর্ঘ কালক্ষেপণ করা হয়? কেন কেউ কেউ বেশ তাড়াতাড়ি আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় পরে প্রথম পাতায় Access পান? এর জন্য কী কোন নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন নেই? কে কতোদিন ধরে অবজারভেশনে আছেন, তা সঠিক সময়ে মডারেটরকে মনে করিয়ে দেবার জন্য কী সামহয়্যারের ডাটাবেজে কোন অপশন নেই?”

হয়তো আছে, হয়তো নেই, আমি ঠিক জানিনা। শুধু জানি একজন ‘জানা’র কথা ।তিনি খুব সুন্দর করে কথা বলেন। তিনি খুব সুন্দর করে সব বিষয় নিয়ে দীর্ঘ বিশ্লেষণ করে কথা বলতে পারেন। সামহয়্যারের ব্লগারদের পিকনিকে , আড্ডায় অনেকবার তাঁর কথা শুনেছি। তিনি নিজেও কখনো কখনো বলেছেন, অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে অথবা লোকবলের অভাবের জন্যই সবকিছু প্রয়োজনীয় সময়ে দেখা হয়ে ওঠেনা..।

“আচ্ছা, ...তাহলে আমি কী একবার তাঁকে ফোন করবো আপনার প্রথম পাতায় Access এর বিষয়ে ?”

“না ... না... সুনীলদা, কোন প্রয়োজন নেই। কাউকে বলে কয়ে আমি প্রথম পাতায় Access চাইনা।... দেখিনা অপেক্ষা করে আরো কিছুদিন....। দেখিনা সামহয়্যার নিজে থেকেই বুঝতে পারে কী না, কেউ তার প্রথম পাতার প্রাঙ্গনে পা ফেলার জন্য কী প্রবল অপেক্ষা করে আছে....!”

শুনে আমি হেসে ফেললাম। বেশ অবাকও হলাম নতুন ব্লগারের সুদৃঢ় সুন্দর অনড় মনোভাব দেখে।....সত্যিই তো! প্রকৃত লেখকরা কোন বিষয়েই সহজে অন্যের আনুকূল্য নিতে চায়না। নিজের লেখার বিষয়ে তো নয়-ই।...

তাহলে ? তাহলে কী হবে এখন তাঁর?
সারাদিন ঘুরে ফিরে নতুন ব্লগারের সমস্যার কথাটাই ভাবিয়ে তুললো আমাকে...। কখন যেন বেদনাময় তার এইসব অনুভূতির কিছু কথা- লিখেও ফেললাম মনের অজান্তেই...


আমি তোমার উন্মুক্ত জানালায়
সাজাতে চেয়েছি সব
শব্দমালা আমার
সযত্নে বহুকাল-

তবু তুমি বন্ধ রেখেছো
স্বপ্নের সোনালী প্রাঙ্গন

তবু তুমি লিখতে দাওনি-
লিখতে দাওনি ইচ্ছে মতো, মন্তব্য আমার
ভালো লাগা প্রিয় সব
সোনালী দরোজায়।

অতঃপর বলার সময় আসছে এই
উন্মুক্ত আকাশেই-

আমার অজস্র ভালো লাগা সমর্পিত করে-
আমার অজস্র প্রশ্নমালা ধেয়ে যায় তোমার দিকেই-

কবে নেবে?...
কবে নেবে প্রথম পাতায়,
প্রিয় সামহয়্যার ইন?...


...............................................................
এই লেখা শেষ করার পরে পরেই জানতে পারলাম, যাকে নিয়ে এই লেখা, তিনি শেষপর্যন্ত অতি সম্প্রতি প্রথম পাতায় একসেস পেয়েছেন।
.................................................

সর্বশেষ এডিটঃ
নাহ! ভুল বলেছি। এইমাত্র জানলাম তিনি এখনো প্রথম পাতায় একসেস পাননি, তবে অতি সম্প্রতি মন্তব্য করার অধিকার পেয়েছেন।... আমার জানা ছিলোনা যে, 'মন্তব্য করার অধিকার' এবং 'প্রথম পাতায় একসেস'- এই দুইটি বিষয় আবার দুই ধাপে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হয়.....।
....................................................................
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29255841 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29255841 2010-10-16 03:45:07
বহুদিন কোন কবিতা লিখিনা... বহুদিন কোন কবিতা লিখিনা-
যেন রোদ্দুরের মুখোমুখী জানালা এক, তীব্র উদাসীনতায়
বন্ধ রেখেছি বহুকাল,
যেন বহুকাল হাত দিয়ে ছুঁয়ে- গাঢ় মমতায়
দেখা হয়নি কোন মেঘ-

যেন বহুকাল এই রঙ তুলি, হ্রদয়ের ক্যানভাস থেকে
উবে গেছে সব রোদ
সারারাত বৃষ্টি ছুঁয়েছে শুধু
বিষন্ন নীলিমার অবনত অবয়ব।

বহুদিন কোন কবিতা লিখিনা-
যেন খুব দুঃখী দুপুর এক
রেখেছি কলম স্পর্শহীন– দ্বিধান্বিত, একা

যেন অকস্মাৎ বিসর্জন দিয়েছি সব বোধ-
নিঃসঙ্গ লেখার এক টেবিল
ঝুলিয়ে দিয়েছি বারান্দায়
ফুলের টবের মতো, ভুল করে, বারবার !

বহুদিন কোন কবিতা লিখিনা-
যেন একটি গীটার পড়ে আছে, অনস্পর্শে দীর্ঘদিন
একটি ভায়োলীন তার সুরেলা কান্নাগুলো
জলীয় বাষ্পের মতো দিকবিদিক
নিরর্থক হাওয়ায় শুধু
দিয়েছে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুঁড়ে।

যেন একটি গানের অন্তরা ও মধ্যমায়
এক হৃদয়ের ভালোবাসা সব
তীব্র মোহন আঙ্গিকে লেখার পরেও
গাওয়া হয়নি আর-প্রিয় সুরে বহুকাল!

যেন প্রবল অভিমানে অবুঝ অবসন্ন এক মন
ফিরিয়ে দিয়েছে সব, অপেক্ষার অশেষ গোলাপ
সোনালী ফিতেয় বাঁধা নীলখাম
নেশা জাগানিয়া যতো চিঠি!

বহুদিন কোন কবিতা লিখিনা-
যেন প্রবল শপথে গড়েছি ভেতরে এক দেয়াল
মৃত্যুর মতো সুকঠিন, কষ্ট-আড়ালের-
যেন এমন এক পথ দিয়ে হাঁটছি আজীবন
যে পথের সাথে বহুকাল আগেই
নিয়েছে অভিমানী কেউ, চূড়ান্ত কঠিন এক আড়ি।

বহুদিন কোন কবিতা লিখিনা-
যেন বারবার কারো পদস্পর্শ শুনেও
না শোনার মতো ছুঁয়ে আছি বিষপাত্র এক
অনন্ত বিষাদের-
যেন কেউ এসে বারবার ফিরে ফিরে যায়-
জেনেও না জানার মতো কুড়িয়ে নেই
অনন্ত অশেষ এক- বেদনার্ত বিভেদ।

বহুদিন কোন কবিতা লিখিনা
যেন প্রিয় পাহাড়ের পাদদেশে আমি আর নেই
যেন আপন নক্ষত্র থেকে ছিটকে পড়ে গেছি খুব দূরে
যেন ভীষণ অবহেলায় পড়া হয়নি বহুকাল
কারো লিখে রাখা ডায়রীর অসামান্য সব পাতা

যেন বহুদিন কোন বৃষ্টি নামে না নির্জন, নিরিবিলি
আমার বারান্দায়
যেন বহুদিন, বিষন্ন আকাশ আর জানাতে পারেনা-
কেমন আছে- সেই অনন্ত বিষাদ!
সেই বৃষ্টির প্রেম !
সেই উচ্ছাস, হঠাৎ রোদ্দুরের!

যেন শহর জানাতে চায়না কিছুতেই,
কীভাবে কেমন করে বাঁচে, সেই মেঘশূন্য, শব্দহীন মানুষ !
নিঃশ্বাসের মতো আপন এক, কবিতা থেকে এতো দূরে ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29210915 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29210915 2010-07-30 10:38:46
একজন আইটি ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর তৈরী করা শেয়ারের একটি চমৎকার সাইট
অনেক প্রতিবন্ধকতার মাঝেও বাঙালীরা স্বপ্ন দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলা ওসিআর (Optical Character Reader)-কবে তৈরী করা যাবে, স্বপ্ন দেখে অদূর ভবিষ্যতে ‘বাংলা ভয়েস রিকগনিশন ইঞ্জিন’ তৈরীর। আমিও মাঝে মাঝেই তীব্রভাবে অপেক্ষা করি, কবে আসবে সেই চমৎকার একটি স্বর্ণোজ্জ্বল দিন, যেদিন মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বলবো, “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি” আর সাথে সাথে কী-বোর্ডের সাহায্য ছাড়াই শুধু আমার কন্ঠস্বর শুনে কম্পিউটার বাংলায় লিখে ফেলবে, “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি”।......

কিছুদিন আগে এক ট্রেনিং প্রোগ্রামে ঢাকার বাইরে গিয়ে পরিচয় হলো একজন আইটি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে। জহুরুল তাঁর নাম। খুব অমায়িক সাদাসিধে একজন মানুষ। ঢাকা থেকে রাজশাহী, দীর্ঘ ছয় ঘন্টার ট্রেন জার্নির সময় ল্যাপটপের সামনে বসে একের পর এক দেখলাম তাঁর তৈরী করা ডায়নামিক ওয়েবসাইটগুলো। আমাদের দেশের মানুষদের নানা প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকটি কার্য্যকর ওয়েবসাইট তৈরী করেছেন জহুরুল ইসলাম। তার মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য তৈরী করা তাঁর http://www.myshareinfo.com ওয়েবসাইটটি খুব ইন্টারেষ্টিং মনে হল আমার কাছে।....

ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে টাকা-পয়সা তেমন জমাতে পারিনা। টাকা পয়সা দ্রুত খরচ করে ফেলাতেই আমি বেশী পারদর্শী। তাই শেয়ারে বিনিয়োগ আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে আমার ঘরের মানুষটি শেয়ার কেনা বেচা নিয়ে বেশ ব্যতিব্যস্ত থাকেন। তাই নিজের জন্য না হলেও ঘরের মানুষটির কাজে লাগতে পারে ভেবে জহুরুল এর http://www.myshareinfo.com এর বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠলাম।...

জহুরুল এর এই সাইটে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করার পর বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে আসা প্রতিটি প্রাথমিক শেয়ারের আবেদনপত্র বা আইপিও ফরম পূরণ করার দায়িত্বটি নিশ্চিন্তে কম্পিউটারের উপর ছেড়ে দেওয়া যায়। রেজিষ্ট্রেশন এর সময় পাওয়া ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে শুধু একবার ঐ সাইটের BO Account লিংকে ঢুকে ঐ একাউন্ট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো আপলোড করে দিলেই হবে। এরপর থেকে যখনই কোন প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক শেয়ারের আবেদন বাজারে ছাড়া হবে, তখনই ঐ প্রতিষ্ঠানের আইপিও ফরমের একটি পিডিএফ কপি অনলাইন থেকেই প্রিন্ট করা যাবে আবেদনকারীর বিভিন্ন তথ্য সংযোজন সহকারেই...।

ইচ্ছে করলে এই সাইটের Share Manager অপশনে ঢুকে দেখে নেওয়া যায় শেয়ার কেনা বেচার পর বিনিয়োগকারীর লাভ লোকসানের সমুদয় বৃত্তান্ত। প্রতিটি শেয়ারের মার্কেট রেট নিয়মিতভাবে অটো আপডেট করা হয় বলে এই সাইটের Share Manager অপশনটি অনেক বেশী কার্য্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। এই সাইট ব্যবহারকারীদের নিজস্ব মতামত/অভিমত প্রকাশের সুবিধা দিতে এবং নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার সুযোগ দিতে এতে যুক্ত করা হয়েছে ‘ব্লগিং’। এভাবেই নানা সুবিধা সহযোগে এই সাইটটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি মুক্ত আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে ক্রমশঃই...।










কথা শুরু করেছিলাম আইটি ফিল্ডে বাঙালীদের Successful Involvement নিয়ে। একজন খুব সাধারণ মানুষ জহুরুল আরো কিছু অসাধারণ কাজেও হাত দিয়েছেন। খুব দুঃসাহসিকভাবে তিনি হাত দিয়েছেন ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ রক্ষায় কার্য্যকর আরেকটি ওয়েবসাইট (www.fnftree.com ) তৈরীর কাজে, যেখানে একজন মানুষের বংশানুক্রমের উচ্চ ও নিম্ন ক্রমধারায় ঢুকে আপনি তার অতীত অথবা ভবিষ্যতের বংশধরদের সকল তথ্যাদি খুঁজে বের করতে পারবেন সহজেই, অর্থাৎ একজন মানুষের দাদা-দাদী, নানা-নানী ইত্যাদি সম্পর্কের ব্যক্তিদের শাখা-প্রশাখার লিংকে যেমন ঢোকা যাবে তেমনি ঐ একই ব্যক্তির পুত্র-কন্যা, নাতী নাতনী ইত্যাদি সামাজিক-সম্পর্কে আবদ্ধ নতুন প্রজন্মের সদস্যদের শাখা-প্রশাখার লিংকেও ঢুকে পড়ে খুঁজে নেওয়া যাবে কাংখিত কোন মানুষের তথ্য।

যে দেশের মানুষের টোটাল কর্মঘন্টার এক বিরাট অংশ নষ্ট হয়ে যায় যানজট আর বিদ্যুতহীনতায়, যে দেশে বারবার ধর্মঘট হরতাল এসে স্থবির করে দেয় মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা, সে দেশে কিছু তথ্য-প্রযুক্তি সচেতন লোক এখনো তথ্য-প্রযুক্তির ফিল্ডে নিরলসভাবে নানা উদ্ভাবনী কাজ করে যাচ্ছেন-আমাদের জন্য সেটাই পরম আনন্দের!

.....................................................................


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29156049 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29156049 2010-05-16 15:36:35
ফিরে আসি, ফিরে আসতেই হয় ! কিছুদিন কাটলো অলক্ষ্যে, তন্দ্রায়, তমসায়
কিছুদিন প্রদীপের অল্প আলোয়, ছিড়ে খুঁড়ে শহর এক, দেখেছি অদ্ভুত
জটিল জঘন্য যতো জালিকা বানায়-
জড়ায় বেদনার জড়োয়া সোপানে।

কিছুদিন মেঘের কাছ থেকে দূরে থেকে দেখলাম
কী প্রবল তোমার প্রয়োজন
রয়ে গেছে সর্বত্রই
জীবনের জটিল সব, ভাঙণে, প্লাবনে!

কিছুদিন অন্য আলোর রথে ভেসে চিরচেনা শহর আমার
ইদানীং অচেনা লাগে খুব
নিঃসংশয়ে বুঝে ফেলি এই মৃত্তিকা, এই অলিগলি, এই হাতের স্পর্শ
কোনটাই তোমার মতো নয়-

অগুণতি জটিল ধাঁধার শেষে
যেভাবে পেয়েছি সমাধান, সহস্র, তোমাতেই-
সেভাবে পারে না আর আকাশ পাঠিয়ে দিতে, নিমিষেই
ভ্রান্ত আলোর মাঝে কোন চকচকে যাদুময় পরিণতি!

ফিরে আসি তাই, দেখো বারবার, আসবোনা বলেও
তোমার বৃষ্টি-শেষের আকাশেই ফিরি

অন্য আকাশ জুড়ে অচেনা ঘুড়িদের অদ্ভূত
অজস্র ঘড়ঘড়ে ওড়াওড়ি-
বকাট্টা অস্থির এক জীবন
ভুলের নাটাই দিয়ে ওড়ানো শেষ হলে
একমুঠো শ্বাস
একটি নিবিড় চাওয়ার কাছেই পুনরায় ফিরে আসি,

একটি দ্বিধার দেয়াল দুহাত দিয়ে ঠেলে
জমানো ক্যাকটাস ছুঁড়ে ফেলে
চোখ রাখি তোমার অপেক্ষারত গোলাপের দিকে,

কিছু ফুল, কিছু অপেক্ষা, এতোটা জমিয়ে রাখো বলেই
ফিরে আসি,
ফিরে আসতেই হয়!

...............................................................
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29128265 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29128265 2010-04-03 13:24:43
আমার স্মৃতি ও অনুভবে মুক্তিযুদ্ধের গান (২য় পর্ব) প্রথম পর্ব এখানে

দ্বিতীয় পর্ব

(৫.) ‘সাগর পাড়িতে ঝড় জাগে যদি, জাগতে দাও, জাগতে দাও’...ব্যতিক্রমী অনুভবের শিহরণ জাগানো গান

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে আমরা যতো গান শুনেছি, তার মধ্যে অনেকগুলো গানই ছিল একাধিক শিল্পির গাওয়া সমবেত সংগীত। এমনিতে যে কোন গানের রিহার্সেলের ক্ষেত্রে আমরা সচরাচর দেখি যে একটি সমবেত সঙ্গীত সবার কণ্ঠে সমান তাল ও লয়ে সঠিকভাবে গাওয়ানো খুব কঠিন ব্যাপার। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ে, স্বাধীন বাংলা বেতারের সেই ক্ষুদ্র পরিসরে, নানা অনিশ্চয়তা, প্রতিবন্ধকতা ও টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতার মাঝেও যেভাবে অসাধারণ সব ‘রক্তে অণুরণন জাগানো’ সমবেত সংগীত গীত হয়েছে ও রেকর্ড করা হয়েছে, তা ভাবলে অবাকই হতে হয়। স্বাধীন বাংলা বেতারের অনেক শিল্পীরাই তাদের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনায় খুব অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে এক একটি অসাধারণ গান কীভাবে সমবেত কন্ঠে ধারণ করা হয়েছিল, তার বর্ণনা দিয়েছেন।

আমি নিজে এ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের যতোগুলো সমবেত সংগীত শুনেছি তার মধ্যে অসাধারণ মনে হয়েছে ‘সাগর পাড়িতে ঝড় জাগে যদি, জাগতে দাও, জাগতে দাও......বজ্রের তালে তালে কন্ঠ মিলায়ে শপথ নাও, শপথ নাও...’ গানটি। এ গানটির দ্বিতীয় লাইনের ‘বজ্রের তালে তালে কন্ঠ মিলায়ে শপথ নাও, শপথ নাও...’ আহ্বানটি আমার কাছে খুবই অসাধারণ মনে হয়। সমবেত কন্ঠের ‘শপথ নাও, শপথ নাও...’-এই দৃপ্ত চীৎকারটিকে একটি ঐতিহাসিক শপথের সুদৃঢ় উচ্চারণ বলেই মনে হয়েছে বারবার। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর উদ্যোগে প্রকাশিত STEREO লং প্লে রেকর্ডে সুরকার সমর দাশ-এর পরিচালনায় এ গানটিকেও নতুন করে রেকর্ড করা হয়। আমি যতোবার সে রেকর্ড থেকে এ গানটি শুনেছি, একটি অসাধারণ দৃপ্ত শপথের ঐতিহাসিক অণুরণণের শিহরণ আমাকে বারবার ছুয়ে গেছে!

আমি যতোদূর জেনেছি, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কোলকাতার কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের উদ্যোগে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের গান ও ধারা বর্ণনা সমন্বয়ে একটি লং প্লে বের করা হয়েছিল যেখানে প্রথম এ গানটি অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কোলকাতার সেই লং-প্লের সম্পূর্ণ অংশটি স্বাধীনতার পর খুব সম্ভবতঃ ১৯৮৫ সালের দিকে একুশের বইমেলা থেকে কেনা একটি ক্যাসেটের মধ্যে আমি পেয়ে যাই। সেই ক্যসেটটি আমি যতোবার শুনেছি- এক অপরূপ মোহনীয় মুগ্ধতায় আমি আবিষ্ট হয়েছি। .... সেই ক্যাসেটে মরহুম গোলাম মোস্তফার কণ্ঠে ‘রক্ত চোখের আগুন মেখে ঝলসে যাওয়া আমার বছরগুলো....’ শীর্ষক অসাধারণ আবৃত্তিটিও সংযোজিত ছিল।

ক্যাসেটটি একসময় আমার কাছ থেকে হারিয়ে যায়। এই ক্যাসেটটি আমি এখনও মাঝে মধ্যেই খুঁজে বেড়াই। প্রায়ই ভাবি, কারো কাছ থেকে কোলকাতা থেকে ১৯৭১-এ প্রকাশিত অরিজিনাল লং-প্লে টি পাওয়া গেলে আরো ভালো হতো। গানগুলোকে এমপিথ্রি-তে কনভার্ট করে ই-স্নিপ্স-এ আপলোড করা যেত! বিশেষ করে এই গানটি এবং গোলাম মোস্তফার কণ্ঠের অসাধারণ আবৃত্তি ‘রক্ত চোখের আগুন মেখে ঝলসে যাওয়া আমার বছরগুলো....’ ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে দেবার ইচ্ছে আমার অনেকদিনের!

(৬.) একজন আপেল মাহমুদ এবং একটি ফুলকে বাঁচানোর কালজয়ী এক গান

যদি বলা যায়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কোন গানটি এ দেশের যে কোন মানুষ একটি লাইন হলেও অবলীলায় সঠিক সুরে গেয়ে শোনাতে পারবে, তবে নিশ্চয়ই সবাই আপেল মাহমুদ এর কণ্ঠে গাওয়া ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ গানটির কথাই বলবেন। এই গান এমন এক গান, যা কথার সৌকর্য্যে, সুরের মোহনীয়তায় আর শিল্পীর দরদী কন্ঠের আবেগে এক দ্বিধাহীন অমরত্ব পেয়েছে এ দেশের মানুষের মধ্যে বহু আগেই! আমি অনেক স্থানে দেখেছি এই গানটি গাইতে গিয়ে অনেক শিল্পীই প্রথমে শুরু করেন মাঝখানের সেই অসাধারণ লাইনটি দিয়ে- “যে মাটির চির মমতা আমার অঙ্গে মাখা, যার নদী-জল ফুলে-ফলে মোর স্বপ্ন আঁকা...”।...

১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর উদ্যোগে প্রকাশিত লং প্লে রেকর্ডে সেই কালজয়ী গান ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ র পুনঃ রেকর্ডিং এর সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক ও বিশিষ্ট সুরকার সমর দাশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আপেল মাহমুদ-কে দিয়েই গানটি পুনরায় রেকর্ড করান।

ইতিহাস হয়ে যাওয়া একটি কালজয়ী গান কেমন অবয়ব পেলো স্বাধীনতার ১৬ বছর পরের সেই পুনঃ রেকর্ডিং- এর সময়? একটি ফুলকে বাঁচানোর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া লক্ষ- কোটি মানুষেরা কী একাত্তরের মতোই কোন অসাধারণ আনন্দ-প্রত্যয় অথবা ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ আবেগ-আপ্লুত অনুভবের মুখোমুখী হয়েছিলেন এ গানে?

যতোদূর মনে পড়ে, স্বাধীনতার পর আপেল মাহমুদের গাওয়া একটি আধুনিক গান ‘লিখেছো আর না আসিতে, রজনী কেটে গেল ভাবিতে ভাবিতে’ ঢাকা বেতারের বিজ্ঞাপন তরঙ্গে প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু তারপরই বেশ কিছুদিনের জন্য আপেল মাহমুদ অনেকটাই সংঙ্গীত জগত থেকে হারিয়ে যান।.... এবং সম্ভবতঃ সুরকার সমর দাশ-ই ১৯৮৭ সালে তার সেই লং-প্লের গান-রেকর্ডিং এর সময় আবার আপেল মাহমুদকে নতুন উদ্যমে গান গাইবার প্রেরণায় উজ্জীবিত করেন। সুরকার সমরদাশের পরিচালনায় নতুনভাবে রেকর্ড করা এ গানটির মিউজিক কম্পোজিশানেও সেসময় কিছুটা বৈচিত্র্য আনা হয়েছিল। তবে আপেল মাহমুদকে ১৯৭১-এ গাওয়া তার মূল গানের মতো এই রেকর্ডের গানে ততোটা স্বাচ্ছন্দ্য মনে হয়নি।

(৭.) “তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে...” অন্তহীণ সুতীব্র বাঁধা অতিক্রমের শপথে উজ্জীবিত গতিময় এক গান

‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবোরে...’ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনুভব অনুভূতির সাথে একাকার হয়ে যাওয়া আরেক অসাধারণ গান। এই গানের মধ্যম অংশে রয়েছে অসাধারণ কথা আর সুরের সংমিশ্রনে এরকম চারটি অনবদ্য লাইন-

জীবনের রঙে মনকে টানেনা........ (মনকে টানেনা....) ফুলের ঐ গন্ধ কেমন জানিনা.... (জানিনা.... জানিনা.... জানিনা.....) জ্যোছনার দৃশ্য চোখে পড়েনা..... ( না..... না...... না.....) তারাও তো ভুলে কভু ডাকে না.....

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আমাদের সার্বিক অবস্থা বোঝানোর জন্য এই গানের চারটি লাইনই বোধহয় যথেষ্ট। যখন জীবনের রঙ, ফুলের গন্ধ, আর জ্যোছনার অপরূপ সৌন্দর্য্যও তাকিয়ে দেখার মতো অবকাশ কারো ছিলো না, যখন বৈশাখের রুদ্র ঝড়ে আকাশ ভেঙে পড়লে, খেয়া পাল আরো ছিড়ে গেলে, দিন-রাত্রি আর ঘড়বাড়ির ঠিকানা না জানা মানুষ অসহায়ভাবে বুঝতে পেরেছে-

জানি শুধু চলতে হবে....খেয়া পাড়ে নিতেই হবে
আমি যে সাগর মাঝি রে.....।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে একবার এক নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সাহস করে এই গানটি গাইলাম। এই গানটি গাওয়ার সময় গানের মাঝখানে ‘বৈশাখেরই রুদ্র ঝড়ে আকাশ যখন ভেঙে পড়ে, খেয়া পাল আরো ছিঁড়ে যায়..’ এই লাইনটির পর যে উচ্চস্বরের টানটি রয়েছে (যেটি মূল গানের ক্ষেত্রে রথীন্দ্রনাথ রায় খুব সুন্দরভাবে দিয়ে থাকেন), আমি সেটাও বাদ দিলাম না।যদিও এই টানটি দেওয়ার সময় দম খুব কঠিন এক পর্যায়ে চলে যায়, তবুও আমি মূল গানের ধারার সাথে মিল রেখে টানটি দিয়ে বসলাম....। গানে আমি অপটু বলেই ঐ টান দিতে গিয়ে তবলার তাল টাল এর সাথে মিল রাখা আর সম্ভব হল না...।

কোনমতে গান শেষে স্টেজ থেকে নীচে নামলাম। কী আশ্চর্য্য! পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তদানীন্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ হারুণ অর রশীদ এসে আমার পিঠে হাত দিলেন। ‘ভালো হয়েছে, খুব ভালো হয়েছে, খুবই সুন্দর হয়েছে!’ আমি আমতা আমতা করে বলতে চাইলাম, ‘স্যার, মাঝে মাঝে তাল কেটে গেছে!’ কিন্তু স্যার আমার কোন কথাই শুনতে চাচ্ছেন না। তিনি তখন আবেগ নিয়ে পাশের আরেক শিক্ষককে বলে যাচ্ছেন, ‘দেখেছেন, ওর গলাটা কত উঁচুতে উঠেছিল, দেখেছেন?’

বহুদিন পর আজ এ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বুঝতে পারি, আমার গান তেমন ভালো না হওয়া সত্ত্বেও হারুন স্যারের কাছে যে কারণে সেদিন এতো ভালো লেগেছিল সেটি হচ্ছে, এসব গানের প্রতি তাঁদের মতো স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী মানুষদের অপরিসীম ভালো লাগা বোধ। স্বাধীনতা সংগ্রামের এই আসামান্য গানগুলো মোটামুটি সুর বজায় রেখে (খালি গলাতে হলেও) যে কেউই গেয়ে শোনাক না কেন, আজীবন তা দেশপ্রেমিক মানুষদের ভালোলাগায় ও ভালবাসায় সিক্ত হবেই....। এ গানগুলোর অন্তর্নিহিত প্রাণশক্তি ও মুগ্ধ করে দেবার ক্ষমতা এমনই শাশ্বত প্রবল।

(৮.) “চাঁদ, তুমি ফিরে যাও....” প্রত্যাশার অপরূপ চাঁদও যেভাবে অনাকাঙ্খিত হয়ে উঠেছিল একাত্তরে...

যদি বলা যায় এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের কোন গানটির বিষয়ে সবচেয়ে কম অবগত, তবে এই গানটির কথাই বলতে হয়। আজকের প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গানের কথা বলতে গেলে আমি এই গানটির কথা একবার হলেও বলি। গত ১৬ই ডিসেম্বরে অ্যরিল ও জানা আপা সহ আমরা বেশ কয়েকজন ব্লগার যখন বিজয় র্যােলী শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একত্রিত হয়েছিলাম, তখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আমি এই গানটির কথাই বলেছিলাম এবং খেয়াল করেছিলাম অনেক ব্লগারই এ গানটির কথা ইতিপূর্বে কখনো শোনেননি।

১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমাদের জীবনে ঈদ এসেছিল বর্ষপঞ্জীর স্বাভাবিক নিয়মেই। কিন্তু গোটা জাতী যখন পাকিস্তানী হানাদারদের অত্যাচার আর নিপীড়নে বিপর্যস্ত, মানুষের আর্তনাদ আর হাহাকারে যখন ভারী হয়ে উঠেছে এ দেশের বাতাস, যখন ক্ষোভ আর প্রতিশোধের অগ্নিশিখায় বিপন্ন নীলের আকাশ হয়ে উঠেছে রক্তলাল, তখন ঈদের একফালি আনন্দের চাঁদও যেন গীতি-কবির কাছে হয়ে উঠলো অনাকাঙ্খিত, অপ্রত্যাশিত কোন বিষয়। তাই তীব্র এক হাহাকার আর বেদনার আবেগ নিয়েই যেন তিনি লিখে ফেললেন –

চাঁদ তুমি ফিরে যাও, ফিরে যাও, ফিরে যাও, ফিরে যাও
চাঁদ তুমি ফিরে যাও,
দেখো বাংলার মানুষের হাহাকার-

আমি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঈদের আগের দিন রাতে এ গানটি কেবল একবার শুনেছিলাম। আমি সেসময় মাত্র চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। স্বাধীনতা যুদ্ধ কী এবং কেন, তা সঠিকভাবে আমি বুঝতামনা, তবে যেহেতু আমি খুব বেশী রেডিও শুনতাম, এবং বিভিন্নজনের কাছে শুনেছিলাম ঢাকা রেডিওর ৭০০ মিটার ব্যান্ড মার্কিং-এর একটু ডান দিকে ‘কখনো আসে কখনো আসেনা’ ধরনের একটি বেতার কেন্দ্র থেকে সুন্দর সুন্দর বাংলা গান, কথিকা ইত্যাদি শোনা যায় (যা আবার ভলিউম কমিয়ে শোনার বিষয়ে সেসময় সবার পরামর্শ ছিল), তাই স্বাধীনতার কোনকিছু না বুঝলেও স্বাধীন বাংলা বেতারের অনেক অনুষ্ঠানই আমার শোনা হয়েছিল।...

স্বাভাবিকভাবেই স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে ছোটবেলার স্মৃতিচারণে এ গানটির কথা যখনই আমার মনে হয়েছে, তখনই আমি ভেবেছি, সত্যিই কী এটা স্বাধীন বাংলা বেতারের গানই ছিল? নাকি নিছকই আমার কোন কল্পনা? গানটির কেবলমাত্র দুলাইন আমার মনে ছিল এবং দ্বিতীয় লাইনে ‘দেখো বাংলার মানুষের হাহাকার’ এর শেষ অংশে ‘হাহাকার’ নাকি অন্য কোন শব্দ ছিল সে বিষয়ে আমি এখনো দ্বিধান্বিত। সবচেয়ে বড় কথা, স্বাধীনতার পর প্রায় বিশ-বাইশ বছর পার হয়ে যাওয়া সময় পর্যন্ত আমি এ গানটি আর কখনো কোথাও দ্বিতীয়বার শুনতে পাইনি।...

এরপর এলো নব্বই এর দশকের কোন এক বিজয় দিবস অথবা ২৬ শে মার্চের রাত (সঠিক সাল ও তারিখ মনে নেই)। সম্ভবতঃ বিটিভি থেকেই প্রচারিত হচ্ছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের গান নিয়ে কোন এক অনুষ্ঠান। আর সে অনুষ্ঠানেই আমাকে চমকে দিয়ে একজন শিল্পী গাইতে লাগলেন সেই গান- ‘চাঁদ তুমি ফিরে যাও...’।

আমার সমস্ত শরীর দিয়ে যেন বিদ্যুত বয়ে গেল। দীর্ঘ বাইশ বছর পর ছোট্টবেলায় একবার মাত্র শোনা একটি গান আমি আবার শুনছি। এইতো, এইতো সেই গান! প্রথমে একক কণ্ঠে শিল্পি গেয়ে ওঠেন প্রথম লাইন, ‘চাঁদ তুমি ফিরে যাও...’, তারপর সমবেত কণ্ঠে সবাই গাইতে থাকেন ‘ফিরে যাও, ফিরে যাও, ফিরে যাও....’। সেই একই নিয়মে, একই সুরে, সেই একই আবেগ দিয়ে গাওয়া গান। শুনে আমি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম।... আমার মুখে কোন কথা নেই। আমি যেন এক ঘোর লাগানো আবিষ্কারের মধ্যে আছি! এক তীব্র নতুন উপলব্ধির মধ্য আছি!

একটি জাতীর জন্য , একটি ফুলকে বাঁচানোর জন্য কতো মানুষের কতোরকম প্রচেষ্টাই না ছিল! কেউ জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন যুদ্ধের রক্তলাল সংগ্রামী প্রাঙ্গনে, কেউ ঢেলে দিয়েছেন অনুপ্রেরণার অসীম আবেগ- রক্ত গরম করা গানের কথায় আর সুরের অসামান্য উত্তাল স্রোতধারায়।

তুচ্ছ ছিলো না কোনটাই।
হয়তো ভুলে গিয়ে আমরাই তুচ্ছ করেছি তাদের, অবজ্ঞা করেছি অমূল্য আত্নদানে পাওয়া অসামান্য এক স্বদেশ !

.............................................................................
২৬ শে মার্চ, ২০১০

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29124499 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29124499 2010-03-27 21:12:09
এতোটা রাখলে উপেক্ষায় প্রিয় দরোজার অন্য আড়ালে ! এতোটা রাখলে উপেক্ষায় প্রিয় দরোজার অন্য আড়ালে !
এতোটা অপারগ ভেবে পাঠালে শূন্যতায়
অনুভব-উচ্ছাস থেকে এতো দূরে !

কী আশ্চর্য্য দেখো, তবু আমি সেই
আমিই থেকে গেছি-
নিজস্ব নিবিড় আস্থায় নিয়ত অনড় !

অলিখিত অভিমান সব নির্বাসনে দিয়ে
আজো উল্লাসে কবিতার পতাকা ওড়াই,
শুভ্র-শহর ভরে দেই শব্দের চীৎকারে!

এতোটা রাখলে বিচ্ছিন্নতায়, এইভাবে সরালে প্রবল
প্রিয় ডায়রীর প্রিয় পৃষ্ঠার পরশ থেকে এতো দূরে !

এতোটা নিস্পৃহতায় বারবার মুছে ফেললে এই নাম
তোমার প্রিয় সব শব্দের জগত থেকে এতো দূরে !

তবু দেখো,
তবু আমি সেই
আমিই থেকে গেছি-
অনুযোগহীণ শাশ্বত সুখী মুখ

এখনো তোমার নামেই
সাজিয়ে রাখতে পারি
ঐশ্বর্য্য, শুভেচ্ছার-
এখনো তোমার নামেই
নিয়ত নৈবেদ্য পাঠাই

কেউ না জানুক
আকাশ, অনন্ত নীল শুধু জানে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29099740 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29099740 2010-02-17 15:44:59
ফিরে আসা নিঃশব্দ হতে নেই চলে যাওয়া 'সশব্দ' হলে ফিরে আসা 'নিঃশব্দ' হতে নেই-
চলে যাওয়া 'আবেগ-অশ্রুপূর্ণ' হলে
ফিরে আসা 'আনন্দ-অশ্রুবিহীণ' হতে নেই-

তুমি ফিরে আসছো জানা থাকলে
একটি মেঘের পালকে ভেসে সারারাত
আমার আনন্দঅশ্রু সব
আকাশে ভাসাতাম-

তুমি ফিরে আসছো জানা থাকলে
অজস্র ফুলের তোড়ায়
থর থর সাজিয়ে রাখতাম
তোমার ফেরার সব পথ-

তুমি ফিরে আসছো জানা থাকলে
একটি পাখীর কাছে মিনতি জানাতাম-
জীবনের সবচেয়ে সেরা সুন্দর গানটিই আজ শোনাও সুকণ্ঠী-
নিশ্চয়ই তুমি জানো ! মনটা কী প্রবল এক নিমিষেই
'ভাল' হয়ে গেল আজ!

তুমি ফিরে আসছো জানা থাকলে
খুব যত্ন করে সাজিয়ে রাখতাম সেই কবিতার খাতা
যেখানে তোমার না থাকা দিনগুলো
ফুটে আছে কষ্টে, নীরবতায়।

.............................................................

‘ফিরে আসা নিঃশব্দ হতে নেই’ লেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে। কিছুটা পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে কবিতাটি রিপোষ্ট করা হল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29095667 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29095667 2010-02-11 23:10:24
তুমিতো বলতে চেয়েছিলে আমাকেইঃ সঞ্জীব চৌধুরী স্মরণে তুমিতো বলতে চেয়েছিলে আমাকেই !
কী যে একা দীর্ঘ এক রাত-
কী যে কষ্টকর এক হেঁটে যাওয়া-
বিষন্ন বিরান পথে...

তুমি তো জানাতে চেয়েছিলে-আমাকেই !

অথচ দেখো, আমার জানতে জানতে কতদূর বিলম্ব হয়ে গেল!

আমার জানতে জানতে পৃথিবী হারিয়ে ফেললো
তার প্রিয় এক মানচিত্র-মিশেল।
আমার জানতে জানতে আকাশ হারালো তার প্রিয় এক
নক্ষত্র-নিখাদ।

ভোরের শিশির ভেজা ঘাস আর কান্নার মতো কিছু ফুল
স্তূপাকারে জমা হলো
তাঁর বুকের জমিনে-

আমার জানতে জানতে কীভাবে কখন শীতের বরফ জমে গেল
তার দুঠোটের ফাঁকে
কীভাবে কখন যেন তাঁর দীপ্র দুচোখ- 'অন্ধ' হয়ে গেল
'অন্ধ' করে দেওয়া এক 'চাঁদ' -স্পর্শ না করেই।...

আমার জানতে জানতে তাঁর অসহায় ঐশ্বর্য্যের হাত
নিথর নিরব হয়ে -অজান্তে কখন
বন্ধ করে দিলো-সেই অনন্তর
'ভুল দরোজায় কড়া নাড়া'.....।

তুমিতো বলতে চেয়েছিলে আমাকেই !
কীভাবে 'হাতের উপর হাতের, পরশ রবে না আর'
কিভাবে 'বৃষ্টি পড়ে অঝর ধারায়'
কীভাবে 'বৃক্ষে' র সবুজ ছুঁয়েছে
তোমার অন্তর।

কক্সবাজারের সৈকত থেকে -
'কে আমাকে দিয়েছিলো উত্তাল সাগর?'- অথবা
'কে আমাকে দিয়েছিলো লোনা-জল হাওয়া?'-এই
বেদনার্ত প্রশ্নের প্রসন্ন কোন জবাব ...
তুমিতো জানতে চেয়েছিলে আমার কাছ থেকেই ।

অথচ, দেখো-কতোটা দেরী হয়ে গেল আমার।...
তোমার শ্রুতির আওতায় পৌঁছুতে পৌছুতে-
শহর ঢেকে গেল কালো মেঘে...

সেই যে ভীষণ এক বজ্রপাতে নীভে গেল নগরীর সব আলো
সেই যে অজানা ঝড়ের ভয়াল এক তান্ডব
দুমড়ে মুচড়ে দিল আমাদের
সাজানো স্বপ্নগুলো সারারাত...

আমি কি জানতাম- সেই তান্ডব রাত্রিতেই
গাড়ী চলে না, চলে না.... বলতে বলতেই
তোমার গাড়ীও আটকে গেছে শেষতক
শেষযাত্রার এক 'জ্যামে'?

আমি কি জানতাম তুমি এতোটা অন্ধকার
অসহায় এক দেয়াল হাতড়ে হাতড়ে সারারাত-
কাতর হয়েছো-বেদনা বিবশ-এক নীলে-
অথচ হাসপাতালের এম্বুলেন্স তোমার কাছে পৌছুতে পারেনি !

তোমার বিপন্ন হাত তুলে কেউ হাতের ছোঁয়ায়
জানাতে পারেনি-
জীবন বাজী রেখে তোমার 'কিংবদন্তী'র স্বপ্নকে
বাঁচানোর জন্য 'আমরা আছি'!

তোমার অমন মায়াবী এক দল থেকে 'দলছুট' হয়ে
'সকাল দুপুর রাত্রি' পেরিয়ে-
'নিজের ছায়া' মাড়িয়ে-
তুমি যে হঠাৎ এমন তারকা হয়ে যেতে পারো দূরের আকাশের,
টিএসসিতে শায়িত তোমার স্থির হয়ে পড়া চোখ- দেখবার আগে
ভাবনার অতীত ছিল, এ কঠিন প্রবল সত্য, প্রভূত বেদনার !

তুমিতো বলতে চেয়েছিলে আমাকেই !
অথচ দেখো!
স্থির হয়ে যাওয়া পাথর চোখের নীরবতা ভেঙ্গে
তোমার 'না বলা সব কথা'
শেষতক আকাশ বলেছে শুধু-

শুধু বৃষ্টি ও বেদনার কালো মেঘ
মমতায় ছড়িয়ে দিয়েছে তাদের-

কষ্টের অন্তহীন-
ইথারে ইথারে।....



........................................................................
(‘তুমিতো বলতে চেয়েছিলে আমাকেই !’ লেখা হয়েছিল সঞ্জীবের মৃত্যুর বছরে অথাৎ ২০০৭ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর। আজ আরেক ২৫ শে ডিসেম্বরে সঞ্জীবের জন্মবার্ষিকী স্মরণে কবিতাটি কিছু পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে পুনরায় পোষ্ট করা হল।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29065097 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29065097 2009-12-25 01:41:20
আমার স্মৃতি ও অনুভবে মুক্তিযুদ্ধের গান (১ম পর্ব) (১.) ‘বিজয় নিশান, উড়ছে ঐ ’- যে গান দিয়ে শুরু হয় প্রতি বিজয় দিবসে আমার সকাল

বলা যায় বিষয়টা এখন আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিজয় দিবসের সকাল মানেই আমার পিসির সিডিরমে ঠাঁই করে নেবে বিশেষ একটি সিডি। এ সিডিতে রেকর্ড করা আছে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর উদ্যোগে সুরকার সমর দাশের সংগীত পরিচালনায় নতুন করে রেকর্ডকৃত এবং তৎকালীন সময়ে একটি STEREO লং প্লে রেকর্ডে প্রকাশিত স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত মুক্তিযুদ্ধের গানগুলো।

সিডি থেকে গানগুলো বাজানোর সময় আমার সারা শরীরে একটা অন্যরকম শিহরণ অনুভব করি। সিডি থেকে একটি নির্দিষ্ট গান সিলেক্ট করে আমি আমার বাসার ব্যালকনিতে গিয়ে দাড়াই। যতদূর দৃষ্টি যায় আশেপাশের বাসাগুলোর দিকে তাকাই। অন্যরকম এক শহরের উৎসবময় অন্যরকম এক রাস্তার দিকে তাকাই। চতুর্দিকে শুধু লাল আর সবুজ। ভীষণ গৌরবে সারা শহরময় উড়ছে বিজয় দিবসের উজ্জল আনন্দের পতাকা। ঠিক সেই মুহূর্তে কম্পিউটার থেকে শুরু হয়ে যায় আমার নির্বাচিত প্রথম গান- ‘বিজয় নিশান, উড়ছে ঐ, খুশীর হাওয়ায় শুধু উড়ছে...... উড়ছে উড়ছে উড়ছে, বাংলার ঘরে ঘরে.....।’.... হ্যা, এই গানটিই সবচেয়ে বেশী আন্দোলিত করে আমাকে প্রতি বিজয় দিবসের সকালে। এটি দিয়েই শুরু হয় আমার বিজয় দিবসের সকাল।

গানটির মধ্যে কী যাদু আছে তা বিধাতাই জানেন। তবে গানের মধ্যে কোরাস কণ্ঠে যখন ঐ লাইনটা পরপর তিনবার উচ্চারিত হয় -
‘মুক্তির আলো ঐ ঝরছে... মুক্তির আলো ঐ ঝরছে... মুক্তির আলো ঐ ঝরছে...’ তখন আমার সারা শরীর কেঁপে ওঠে । আমি যেন সারা শহরময় দেখতে পাই সেই মুক্তির আলো ঝরে পড়ার অসামান্য দৃশ্য কণিকা।

(২.) সালাম সালাম হাজার সালাম- আব্দুল জাব্বারের বেদনার্ত কণ্ঠের অসাধারণ শ্রদ্ধাঞ্জলী

মুক্তিযুদ্ধের গান শুনতে বসেছি, অথচ আব্দুল জাব্বারের বেদনার্ত ভরাট কন্ঠের ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গানটি শুনবোনা এটা ভাবাই যায়না। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর উদ্যোগে প্রকাশিত STEREO লং প্লে রেকর্ডে আব্দুল জাব্বারের কণ্ঠে মুক্তিযুদ্ধের বহুল আলোচিত এ গানটি নতুন করে রেকর্ড করার উদ্যোগ নেন ঐ লং প্লে রেকর্ড বের করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক বিশিষ্ট সুরকার সমর দাশ।

আমার যতোদূর মনে পড়ে তখনকার সংবাদপত্রের রিভিউ থেকে জেনেছিলাম আব্দুল জাব্বার সে সময়ে বেশ অসুস্থ থাকায় গানটি রেকর্ডিং এর ক্ষেত্রে অনেকবারের চেষ্টার পর OK হয়। গায়ক আব্দুল জাব্বারের সামনে তখন ছিল বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। গান হতে হবে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তার এ গানের প্রথম রেকর্ডর মতোই দরদ-সমৃদ্ধ আবার একই সাথে STEREO পদ্ধতিতে অত্যাধুনিক সিস্টেমে রেকর্ডিং করা হবে বলে সকল ট্রাকে সংযুক্ত মিউজিক ছাপিয়ে তার কন্ঠস্বর উপরে উঠতে হবে, নইলে গানটি মার খাবে।

অতঃপর অসুস্থ অবস্থায় থেকেও কেমন গাইলেন নতুন করে আব্দুল জাব্বার তার সেই বিখ্যাত গান? যদি আপনার কম্পিউটারে Sub-Woofer Speaker থেকে থাকে, যদি আপনার কম্পিউটারের Media Player -এর Equalizer ব্যবহার করার বিষয়ে আপনার মোটামুটি ধারণা থাকে, তবে একদিন শুনে দেখুন আব্দুল জাব্বারের বেদনার্ত ভরাট কন্ঠের সেই নতুনভাবে রেকর্ডকৃত গানটি।... বলা বাহুল্য অনেকেই Mono Player-এ অথবা রেডিওতে নতুনভাবে রেকর্ডকৃত এ গানটি শুনে মন্তব্য করে ফেলেন- গানটি আগের মতো তেমন ভালো হয়নি, কিন্তু আমি এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করি। আব্দুল জাব্বারের নতুনভাবে রেকর্ডকৃত গানটিতেও অসাধারণ দরদের ছোঁয়া পাওয়া যায়।

(৩.) ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ - কোথায় স্বপ্না রায়? কার কাছে আছে আসল রেকর্ড?

এ গান এমন এক গান, যা এ দেশের প্রত্যকটি মানুষ হাজার হাজার বার শুনেছে। লক্ষ কোটি বার এ গান হয়তো বেজেছে এ দেশের শহর-বন্দর গ্রামে গঞ্জে....। হ্যাঁ, এই গান মুক্তিযুদ্ধের সেই আলোড়ন সৃষ্টিকারী গান -‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলবোনা..’ । গানটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গেয়েছিলেন স্বপ্না রায়। শোনা যায় স্বাধীনতার পর স্বপ্না রায় ভারতে চলে যান। ফলে ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর উদ্যোগে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত মুক্তিযুদ্ধের গানগুলো স্থায়ী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নতুনভাবে STEREO লং প্লে তে রেকর্ড করার সময় মুক্তিযুদ্ধের বহুল আলোচিত এ গানটি মূল শিল্পী স্বপ্না রায়ের কন্ঠে রেকর্ড করাতে ব্যর্থ হন সংগীত পরিচালক সুরকার সমর দাশ । তার বদলে বেছে নেওয়া হয় শিল্পী রিজিয়া কাবেরী এবং কোরাসে কন্ঠদানকারী কিছু সহ-শিল্পী। বলা বাহুল্য, গানটি মূল গানের কাছাকাছি হতে পারেনি।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতার পর বেতার ও টেলিভিশনে এই ঐতিহাসিক গানটি শাহীন মাহমুদ সহ একাধিক শিল্পীকে দিয়ে বিভিন্নবার বিভিন্নভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য্যের ব্যাপার, স্বপ্না রায়ের সেই অসাধারণ মেলোডিয়াস কন্ঠ ও তাঁর আবেগ আমি আর কোন শিল্পীর গলাতেই খুঁজে পাইনি। এ কারণেই এখনো কোন কোন বিজয় দিবসে যখন বাংলাদেশ বেতার থেকে স্বপ্না রায়ের কন্ঠে সেই মূল গানটি আমি শুনি, মুহূর্তে আমার চিত্ত চঞ্চল হয়ে ওঠে তা কোনভাবে ক্যাসেটে বা সিডিতে রেকর্ড করা যায় কী না ( এখনো পর্যন্ত তা করতে পারিনি..)।

খুব সম্ভবতঃ মূল গানটি বাংলাদেশ বেতারের ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসে সংরক্ষিত আছে। বাজারে মুক্তিযুদ্ধের গানের যেসব ক্যাসেট বা সিডি পাওয়া যায় তাতে মূল গানটি আমি পাইনি।

(৪.) ‘পূবের ঐ আকাশে সূর্য উঠেছে, আলোকে আলোকময়....’ যে গান হারিয়ে ফেলে আজ পথে পথে খুঁজি...

১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী -মার্চ মাসের কথা বলছি। তখন আমি চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র। স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক কিছুই তখন আমি বুঝি নাই। আমার শুধু মনে আছে, আমাদের ময়মনসিংহের বাসায় তখন প্রতিদিন ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকাটি রাখা হতো (স্বাধীনতার পর এটিই ‘দৈনিক বাংলা’ নামে প্রকাশিত হয়) । সেই পত্রিকায় খেয়াল করেছিলাম -শেষ পৃষ্ঠায় প্রায় অর্ধ পাতা জুড়ে বাটা কোম্পানীর এক বিজ্ঞাপনে একটি গানের বেশ কয়েকটি লাইন দিয়ে ছাপা একটি অভিনব বিজ্ঞাপন। ঐ বিজ্ঞাপনটিতে ঐ গানটির ঐ কয়েকটি লাইন ছাড়া আর কিছুই ছিলনা, শুধু নীচের দিকে তিনবার লেখা ছিল- বাটা, বাটা, বাটা ।

কী ছিল সেই গান? মনে আছে গানের প্রথম কটি লাইন ছিল এরকম-

পূবের ঐ আকাশে সূর্য উঠেছে, আলোকে আলোকময়...
পূবের ঐ আকাশে সূর্য উঠেছে, আলোকে আলোকময়...
জয় জয় জয়, জয় জয় জয়, জয় জয় জয়.... জয় বাংলা..

গানটি শুধু যে পত্রিকার বিজ্ঞাপনেই এলো, তা নয়, একইসঙ্গে গানটি বারবার রেডিও পাকিস্তান, ঢাকায় প্রচার করা শুরু হল (পরে জেনেছি তখন ছিল ফেব্রুয়ারী-মার্চের উত্তাল আন্দোলনের দিন, যার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে পাকিস্তান রেডিওর বাঙালী কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো এ ধরনের উদ্দীপনামূলক সংগীত ও অনুষ্ঠান প্রচার করা শুরু করে..)।

আমার আব্বা তখন একটি অফিসিয়াল ট্যুর শেষে মাত্র তুরস্ক থেকে ফিরে এসেছেন। তিনি তুরস্ক থেকে ফেরার সময় সাথে করে নিয়ে এসেছেন একটি ছোট্ট ফ্ল্যাট Sony ক্যাসেট রেকর্ডার। তখন বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাসায় আমরা স্পুল রেকর্ডার দেখে থাকলেও আর কোথাও কখনো ‘ক্যাসেট রেকর্ডার’ দেখিনি। তাই নতুন আনা ‘ক্যাসেট রেকর্ডার’ নিয়ে বাসায় শুরু হল নানা গবেষণা। তো গবেষণার এক পর্যায়ে একজনের হাতে লেগে Eject Button এ চাপ পড়তেই ভেতরের ক্যাসেটটি বাইরে বের হয়ে এলো। সাথে সাথে আমরা সবাই ভয় পেয়ে গেলাম। ভাবলাম নতুন আনা যন্ত্রটি বোধহয় ভেংগে গেছে।

কিন্তু আমাদের বড়মামা (যিনি তখন কলেজের ছাত্র) আমাদের আশ্বস্ত করলেন। রেকর্ডার-এর সাথে আনা ম্যানুয়াল পড়ে তিনি বের করলেন -যন্ত্রটি আসলে ভাঙ্গে নাই। যেটি বাইরে বেরিয়ে এসেছে সেটার নাম ‘ক্যাসেট’। পরে তুরস্ক থেকে আনা আব্বার স্যুটকেসে এরকম আরো কয়েকটি নতুন Blank ‘ক্যাসেট’ পাওয়া গেল।

এরপর শুরু হল Blank ক্যাসেট- এ কীভাবে গান বা কথা রেকর্ড করা যায় সে গবেষণা। আবারও আমার বড়মামা ম্যানুয়াল পড়ে রেকর্ড করার সব পদ্ধতি বের করলেন। রেকর্ড করার জন্য একটি মাইক্রোফোনও পাওয়া গেল সেটের বক্সের ভেতর।

কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের ভাই বোনদের সবার গান- কবিতা ইত্যাদি রেকর্ড করলেন আমার বড়মামা ( আমার কণ্ঠে তৎকালীন চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা বইয়ের অন্তর্ভুক্ত বন্দে আলী মিয়ার ‘ময়নামতীর চর’ কবিতাটি রেকর্ড করা হয়, যা এখনো আমার কাছে সংরক্ষিত আছে )। কন্ঠস্বর রেকর্ড করার যাবতীয় গবেষণা শেষ হওয়ার পর শুরু হল কীভাবে রেডিও থেকে গান রেকর্ড করা যায় সে গবেষণা। কয়েকদিনের মধ্যেই রেডিও থেকে প্রচুর গান রেকর্ড করা হল এবং অতঃপর একদিন রেডিও পাকিস্তান থেকে রেকর্ড করা হল সেই গান -
পূবের ঐ আকাশে সূর্য উঠেছে, আলোকে আলোকময়...
জয় জয় জয়, জয় জয় জয়, জয় জয় জয়.... জয় বাংলা..।

আমরা বারবার ক্যাসেট-রেকর্ডার থেকে Play করে করে শুনি সেই অসাধারণ সুন্দর এক গান। অবশ্য বলা বাহুল্য আমি শুধু গানের সুরের সৌন্দর্য্যটুকুই বুঝতাম, গানের কথার অর্থ আমি তেমন কিছুই বুঝতামনা। তবে আমার বড়বোন, মেঝোবোন ও আমার মামারা তখন স্বাধীনতা সংগ্রামের বিষয়ে অনেককিছু আলোচনা করতেন কিন্তু আমি তেমন কিছুই বুঝতামনা...। আমি শুধু বুঝতাম একটি ‘ভয়ের সময়’ আসছে সামনে। সবার কথায়, সবার ফিসফাস আলোচনায় সেই ভয়ের আভাস....।

দুই-আড়াই মাস পরের কথা লিখছি। সম্ভবতঃ মে বা জুন মাস। আমরা সবাই ময়মনসিংহের শহর থেকে পালিয়ে ফুলপুরের ‘বাইটকান্দি’ নামক এক গ্রামে আশ্রয় নিয়েছি। সেখানেও শান্তি নেই। প্রতিদিন ভয়ের খবর আসে, আগামীকালই পাকিস্তান আর্মি আসছে এ গ্রামে! কারোর আর রক্ষা নেই। আমরা ভয়ে হিম হয়ে যাই। আমাদের ভয়ের নানা কারণের মধ্যে আরেকটি বড় কারণ হলো ক্যাসেটে রেকর্ড করা সেই গান-

পূবের ঐ আকাশে সূর্য উঠেছে, আলোকে আলোকময়...
জয় জয় জয়, জয় জয় জয়, জয় জয় জয়.... জয় বাংলা..।

আমার বড়পা বার বার বলতে লাগলেন, এই গান আর রাখা যাবেনা। এটা ক্যাসেট থেকে মুছে ফেলতে হবে। যদি পাকিস্তান আর্মি এসে জিনিষপত্র চেক করতে গিয়ে এই ক্যাসেট খুঁজে পায় এবং By chance যদি কৌতুহলবশতঃ এ ক্যাসেট শুনতে গিয়ে এর ভেতরে এরকম মুক্তিসংগ্রাম সংক্রান্ত একটি গান খুঁজে পায়-তাহলে আমাদের কাউকে আর আস্ত রাখবে না- সবাইকেই মেরে ফেলবে।

আমি তখন অতশত ভয়ের ব্যাপার বুঝি না। আমি বার বার গানটিকে রাখতে চাইলাম। মেঝপাও আমাকে সমর্থন দিয়ে গানটি রাখতে চাইলো। কিন্তু এরপর একদিন যখন চূড়ান্ত খবর এলো যে পাকিস্তান আর্মি আগামীকাল এ গ্রামে আসছে, তখন বড়পা আর সাহস রাখতে পারলোনা। সে সেই রাত্রিতেই গানটি মুছে ফেললো ক্যাসেট থেকে।

ব্যস, সেই শেষ। গানটি হারিয়ে গেল আমার জীবন থেকে চিরতরে।
এরপর স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর পেরিয়ে গেলো দীর্ঘ আটত্রিশ বছর ! এখনো কোথাও মুক্তিযুদ্ধের গানের ক্যাসেট দেখলে, সিডি দেখলে আমি ঝাঁপিয়ে পড়ি তা সংগ্রহের জন্য। একুশের বইমেলা, বাংলা একাডেমী, বৈশাখী মেলা, গীতালি, গানের ডালি- কতো শত দোকানে আমি বারবার খুঁজেছি সেই হারিয়ে ফেলা স্মৃতিময় গান। কিন্তু নেই ! কী আশ্চর্য্য ! কোথাও এ গানটি নেই !

অনেকের সাথে কথা বলে দেখেছি, অনেকেই এ গান সম্পর্কে জানেন বা গানটির কথা সম্পর্কে অবহিত আছেন, কিন্তু ৭১ এর ফেব্রুয়ারী-মার্চের উত্তাল দিনগুলোর সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িত এ গানটি কেন কোথাও আজ আর নেই, তা জানেন না কেউই। এমনকি স্বাধীনতার পর এতোবার মুক্তিযুদ্ধের গানগুলো রেডিও টেলিভিষণে রিমেক হয়েছে, সেখানেও আমি কখনো এ গানটি রিমেক হতে বা অন্য কারো গলায়ও রেকর্ড হতে শুনিনি।

মুক্তিযুদ্ধের গান বিষয়ে এই স্মৃতি আর বেদনার একান্ত অনুভব শুধু আমিই একা একা বয়ে বেড়াই। ১৯৭১-এ চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া একজন মানুষের স্মৃতিতে কেন আটত্রিশ বছর ধরে একটি হারিয়ে ফেলা গানের লাইন মনে রয়ে গেল সেটিও হয়তো এক গবেষণারই বিষয়....। কেননা কিছুদিন আগে সেই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দেখি আমার বড়পা গান রেকর্ড ও মুছে ফেলা সংক্রান্ত সেইসব ঘটনাগুলো আর মনে করতে পারছে না...। এমনকি ঐ গানটা যে বড়পাই শেষপযর্ন্ত ক্যাসেট থেকে মুছে ফেলেছিল, সেটাও এখন আর তার মনে নেই....।

কী আশ্চর্য্য ! একই সময়ের একই ঘটনা একজন কতো সহজেই ভুলে গেছে, আর একজন মনে রেখে দিনের পর দিন পথে প্রান্তরে খুঁজে ফিরছে সেই গান।

এখনো স্বপ্ন দেখি, হয়তো হঠাৎ একদিন আলোকে আলোকময় হয়ে এ পৃথিবীতে নতুন এক সূর্য্য উঠেছে ! হয়তো সেদিন আমি অজানা এক আত্ম-অভিমানে ভুগে এই যন্ত্রনার শহর ছেড়ে দূরের এক গ্রামে গিয়ে হাজির হয়েছি। হয়তো হাঁটছি গ্রামের এক মেঠোপথ দিয়ে। গ্রামের এক চা-দোকানের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় ক্যাসেট প্লেয়ার থেকে হঠাৎ কানে ভেসে এলো কয়েকটা লাইন......

বুলিবুলিকে ধান দেবো আদর সোহাগ করে
সেইতো আমার খাজনা দেওয়া ভালবাসায় ভরে...

দস্যুগুলো পালিয়ে গেছে আজ আর কোন কথা নয়
জয় জয় জয়, জয় জয় জয়, জয় জয় জয়.... জয় বাংলা..।

পূবের ঐ আকাশে সূর্য উঠেছে, আলোকে আলোকময়...
জয় জয় জয়, জয় জয় জয়, জয় জয় জয়.... জয় বাংলা..।


আমি ছুটছি। দৌড়াচ্ছি। কিসের সাথে যেন ধাক্কা খেয়ে বারবার হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছি। কিন্তু তারপরেও পরমুহূর্তেই আবার উঠে দৌড়াচ্ছি। আবার ছুটছি! আবার দৌড়াচ্ছি!

আমাকে পৌঁছাতেই হবে ! আমাকে পৌঁছাতেই হবে এই ফিরে পাওয়া সুরের কাছে ! এই গানের কাছে!

এইতো সেই গান! এইতো সেই গান!!


.....................................................................................
( চলবেঃ লেখাটি তিন পর্বে সমাপ্য)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29060287 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29060287 2009-12-17 00:05:54
সামহয়্যার ইন ব্লগঃ আমার যতো অনুভব ২০০৫ এর পনেরই ডিসেম্বরের সকালটি নিশ্চয়ই এ পৃথিবীতে অন্যরকম এক ঔজ্বল্য অনুভব নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিল। সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য সেদিন উন্মুক্ত অপার আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল নতুন একটি কবিতার খাতা। তারা সেদিন অপার আনন্দ নিয়ে চোখ রেখেছিল মুখর কথামালার বিস্মিত এক নতুন জানালায়।

হয়তো সেদিন শহরে খুব বৃষ্টি ছিল। অথবা তীব্র রোদ্দুর।
তবু সেই অঝর বৃষ্টি অথবা খা খা রোদ্দুরের মাঝেও বিশ্বের সকল বাঙালীরা শুনেছিল নতুন এক আওয়াজ। সে আওয়াজ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ । সে আওয়াজ নতুন এক সৃষ্টির আওয়াজ। সে আওয়াজ “ যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা”-য় লিখতে পারার মতো অপার বিস্মিত এক আনন্দ-অভিব্যক্তির আওয়াজ !

সেই শুরু। সেই অদ্ভুত এক বাঁধ ভাঙার আনন্দ চীৎকারের মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু আমাদের প্রিয় সামহয়্যারইনের। সেই শুরু, আরেক ‘অসামান্য মুগ্ধতা’র হাত ধরে পাশাপাশি পথচলা। সেই শুরু, আরেক ‘অপ্রতিরোধ্য ভালবাসা’কে আজীবনের জন্য সঙ্গী করে নেওয়া।

সামহয়্যারকে নিয়ে ভাবতে বসলে আমি আমার ভালবাসার এ প্ল্যাটফমর্টিকে এভাবেই ভাবি। জীবনের ভালোলাগা যতো অনুভব আর ভালোবাসার স্মৃতিগুলোকে যে কোন মানুষ যেভাবে খুব যত্ন করে বুকের মধ্যে আলাদা এক খামে ভরে রাখে, সামহয়্যার-ইন সেভাবেই সারাক্ষণ এক গভীর যত্নে বিরাজ করে আমার ভেতর।

সামহয়্যারে খুব একটা সময় দিতে পারিনা, কিন্তু তারপরেও সামহয়্যার এক অপার আনন্দের কবিতার খাতার মতোই অনিন্দ্য সৌরভ ছড়িয়ে সারাক্ষণ আমার অস্তিত্ব অনুভবে মিশে থাকে।

আমি যখন কর্মস্রোতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, বাসায় ফিরেই অপার আনন্দে চোখ রাখি এই বিমুগ্ধ জানালায়। আমি যখন রাস্তার জ্যামে আটকে গেছি ঘন্টার পর ঘন্টা, তখন আমার মোবাইলের অপেরা মিনির উইন্ডোতে মুক্ত বাতাস নিয়ে হাজির প্রিয় সামহয়্যার ইন। আমি যখন তীব্র অসুস্থতায় হাসপাতালে, আমার জন্য যখন এতোটুকু নড়াচড়াও নিষেধ, জুনিয়র ডাক্তারের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলি, তুমি কী কোনভাবে ইন্টারনেট মডেমযুক্ত একটা ল্যাপটপ আমাকে এনে দিতে পারো? আমি আমার সামহয়্যার-কে একপলক দেখতে চাই।...

- কে সে? তোমার খুব প্রিয় কোন জন?
- হ্যা প্রিয়, খুব বেশী প্রিয়। সে এমন এক প্রিয়, যার কাছে পৌঁছাতে পারলেই পৃথিবীর অজস্র ভালবাসাকে ছোঁয়া যায়, যার কাছে পৌঁছাতে পারলেই পৃথিবীর অজস্র সব প্রিয় মানুষের সেরা অনুভব গুলো স্পর্শ করা যায়। যার কাছে পৌঁছাতে পারলেই, আমার চোখ- পরম প্রাপ্তির তীব্র আনন্দ অনুভবে ভিজে ওঠে।......

সামহয়্যারে লিখতে বসে প্রথম লিখেছিলাম, ‘এলেম স্বপ্নের দেশে, বাঁধ ভাঙার বিস্ময়কর আয়োজনে’...। লেখার বিপরীতে মানুষের কী প্রবল ভালবাসাই না পেয়ে গেলাম ! পাঠকের ভালবাসার তীব্র আলোক বিচ্ছুরণে আমি যেন নতুন এক পথের দেখা পেলাম। বৃষ্টির দিনের যতো গান নিয়ে লিখলাম- ‘যে গান বৃষ্টির, যে গান একান্ত অনুভবের’। সাদিক মোহাম্মদ আলম এর দেওয়া ইংরেজী কবিতার নয় আঙিকের বাংলা অনুবাদ করে তা দিয়ে দিলাম আরেক পোষ্ট। এরপর অসুস্থ ‘প্রাপ্তি’কে নিয়ে লেখা কবিতা- ‘কোথায় রাখবে তুমি সরিয়ে প্রাপ্তিকে, আর কতদূর?’

এইতো, এভাবেই আস্তে আস্তে শুরু নতুন এক আলোর রেখায় গুটি গুটি পায়ে পথচলা। যখন লিখতে পারিনা, যখন একেবারেই সময় পাইনা মুখ রাখতে এই প্রিয় জানালায়, তখন হঠাৎ একদিন এসে লগ-ইন করে লিখে ফেলি- ‘তুমি কেমন আছো? তুমি কেমন আছো প্রিয় সামহয়্যার ইন’?

আমার ব্লগজীবনের সবচেয়ে আশ্চর্য্যজনক একটি দিনের কথা বলি। একবার মাঝে লম্বা এক বিরতি দেওয়ার পর একদিন খুব ভোরে উঠে ব্লগে ঢুকেছি। চোখ গেল ডানদিকের মন্তব্য কলামের দিকে। হঠাৎ দেখি সেখানে একটি লেখার শিরোনাম- ‘সুনীল সমুদ্রের কবিতা’। আমি বিস্মিত, হতবাক। এ লেখাটি কার? কী বিষয় নিয়ে এ লেখা? আমি দ্রুত ক্লিক করে লেখাটিতে ঢুকে পড়লাম। কে জানতো, আমার জন্য এতো বিরাট বিস্ময় অপেক্ষা করছে ! দেখলাম- এই ব্লগের বিশিষ্ট ব্লগার ও গীতিকার/লেখক জনাব শেখ জলিল (তখনো পর্যন্ত শেখ জলিল ভাই আমার অচেনা, তার সাথে কোনদিন দেখাও হয়নি) ব্লগে প্রকাশিত আমার বিভিন্ন কবিতা থেকে উদ্ধৃতি ব্যবহার করে বিশ্লেষণমূলক এক বিশাল লেখা লিখেছেন আমার কবিতা বিষয়ে। দেখে আমার চোখে পানি এসে যাবার মতো অবস্থা। মানুষের এতো পাহাড় সমান ভালবাসার প্রতিদান আমি কীভাবে দেবো? আমি তো বিরাট কোন কবি নই। এই আমাকে নিয়ে শেখ জলিল কেন এমন একটি লেখা লিখলেন?

সামহয়্যারকে নিয়ে জড়িয়ে আছে আরো অনেক অনেক স্মৃতি। ২০০৬ সালের ২৩ শে জুন ‘প্রাপ্তি’ নামের ছোট্ট এক শিশুকে বাঁচানোর আন্দোলনে নেমে ব্লগাররা সব একত্রিত হয়েছিল কালপুরুষদার বাসায়। সেখানেই পরিচয় ঘটেছিলো শক্তিমান সব ব্লগারদের সাথে। সামহয়্যারের পাতায় তখন উৎসাহী ব্লগারদের কী প্রবল মানসম্মত সমৃদ্ধ সব লেখাই না পেতাম! আমার মনে আছে, কৌশিকদা একবার ‘আগুনের পরশমণি’ নামে একটা সিরিজ চালু করেছিলেন, যেখানে উপস্থিত থেকে ( আগে থেকেই নির্ধারণ করা) এক এক জন ব্লগার সারাদিন ধরে অন্যান্য পাঠক ব্লগারদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতেন। কী প্রবল জমজমাটই না ছিল সেইসব ক্রিয়েটিভ ব্লগ আড্ডা।

সাদিক মোহাম্মদ আলম মাঝে মাঝেই বিশ্বখ্যাত কবিদের সেরা সব কবিতার সংকলন ভিত্তিক (ইংরেজী অনুবাদ সহ) পোষ্ট দিতেন। একদিন ব্লগে ঢুকে দেখি- সাদিকের তেমনই এক পোষ্টের মন্তব্য কলামে একটি কবিতার চার লাইনের ইংরেজীর বিপরীতে বাংলা অনুবাদ কী হবে, সেই নিয়ে একের পর এক মন্তব্য পোষ্ট দেওয়া হচ্ছে- রীতিমতো কবিতা অনুবাদের প্রতিযোগিতার আসরের মতোই।...আমার কাছে সেইসময়ের সেইসব ক্রিয়েটিভ কর্মকান্ডে ব্লগারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের স্মৃতিটা খুব উজ্জ্বল হয়ে গেঁথে আছে!

প্রথমদিকে সামহয়্যারে লিখতে বসলেই আমি সারাক্ষণ ভাবতাম, কারা আছে- এই সুন্দর সুপ্রকাশিত কবিতার সৃদৃশ্য খাতাটির পেছনে? কারা প্রতিদিন অমন যত্ন করে সাজায় এই খোলা জানালার অপরূপ সব দৃশ্যাবলী? তখনও আরিল আর জানা একেবারেই আমার অজানা। আমি তখনো চিনিনা হাসিন আর ইমরান-কে, যাদের হাতে ‘একশো একটা’ লাল পদ্ম এনে দিলেও তাদের অমূল্য অবদানের ঋণ হয়তো কখনোই শোধ হবেনা।...

আস্তে আস্তে জানা হলো সব। সুন্দরের স্বপ্নে, সুন্দরের আয়োজনে কী প্রবল যুদ্ধে জয়ী হতে চাইছে নেপথ্যের কিছু স্বপ্ন-কারিগর। তারা একে একে বাংলা ফোনেটিকের যুদ্ধে জয়ী হলো, তারা একে একে সামহয়্যারকে বৈশাখী ফন্ট থেকে ইউনিকোডে রূপান্তরের যুদ্ধে জয়ী হলো। ২০০৭ এর ১ লা বোশেখের সকালে আমরা সামহয়্যারকে পেলাম নতুন এক অন্যরকম অবয়বে। সে অবয়ব হারিয়ে যাবার নয়। সে অবয়ব চিরস্থায়ী হতে পারার অনন্য এক গৌরবের। কেননা ‘ইউনিকোড বাংলা’য় সেদিনের সেই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কারণেই আজ থেকে একশো বছর পরেও সার্চ ইঞ্জিন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে সামহয়্যারের যে কোন লেখা..। বাংলা ভাষাভাষীদের হৃদয়ে এই অর্জনের আনন্দ তাই সীমাহীন।

সামহয়্যারের খোলা জানালাটিকে আজ যারা সাজাচ্ছে, তাদেরই একজন লাভলুদার সাথে সেদিন পরিচিত হলাম। এইসব স্বপ্ন কারিগরদের আমি আসলে অবাক চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু দেখি। কতো সহজেই তারা আমাদের প্রত্যাশিত স্বপ্নগুলোকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেয় সামহয়্যারের পাতায় পাতায়। কী প্রবল দৃপ্ত আনন্দে অনন্য সৌকর্য্য দিয়ে তারা আমাদের সকল ব্লগের পাতায় পাতায় উড়িয়ে দেয় বিজয় দিবসের মহান মর্যাদার জাতীয় পতাকা। যতোদিন সামহয়্যার থাকবে, সামহয়্যারের সাথে জড়িত নেপথ্যের সবার কষ্ট আর পরিশ্রমের স্রোত নিশ্চয়ই উজ্জ্বল এক স্রোতধারার মতো বইতে থাকবে ব্লগের পাতায় পাতায়, অনন্য অসাধারণ এক অববাহিকায়।

আজ থেকে একশো বছর পরেও হয়তো আবার এক ১৫ই ডিসেম্বরে আবার আকাশ জুড়ে খোলা হবে নতুন এক কবিতার খাতা। এক দুই তিন..তেত্রিশ, তেহাত্তর... কতো শত বাংলা ব্লগই না তখন মাতিয়ে রাখবে আগামীদিনের লেখক প্রজন্মদের। কিন্তু তারপরেও একটি ইতিহাস হয়ে যাওয়া পাখীর ডানায়, একটি ঐতিহাসিক মমর্র পাথরের বুকে দৃপ্ত আনন্দের অক্ষরে লেখা থাকবে কয়েকটি লাইন-

‘আমিই সামহয়্যার ইন ব্লগ-
আমিই উন্মুক্ত আকাশ জুড়ে লেখা তোমাদের সেই প্রথম কবিতার খাতা...
যাকে তোমরা ভালবেসেছো আজীবন!

যাকে তোমরা লালন করেছো সোচ্চার উচ্চারণে,
সকল আনন্দ-বেদনায়, সাগ্রহে- সাবলীল!’



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29059514 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29059514 2009-12-15 22:11:33
নোকিয়ার Say & Play ফাংশনঃ শুধু মুখে বলেই শুনে নিন যখন যেমন ইচ্ছে- যে কোন গান ...
প্রথমবার দেখার সময় পুরো বিষয়টি আপনার কাছে আশ্চর্য্যজনকই মনে হবে। আমার হাতে নোকিয়ার S60 সিরিজের একটি মোবাইল ফোন। এ ফোনের উপরের দিকের একটি বাটন আমি চেপে ধরলাম। একটি ছোট্ট বিপ শব্দ হলো।সাথে সাথে আমি বলে উঠলাম-‘শ্রীকান্ত আচার্য্য, আমার সারাটা দিন’। ব্যস, মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে মোবাইলটিতে শুরু হয়ে গেল শ্রীকান্ত আচার্য্যের বাংলা গান -‘আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ...বৃষ্টি তোমাকে দিলাম...’।

এরপর একটু পরেই এ গান বন্ধ করে দিয়ে আবার সেই একই বাটনে হাত রাখলাম। আবার বিপ শব্দ। এবার বলে উঠলাম-‘মান্না দে-কফি হাউসের সেই আড্ডাটা’। সাথে সাথে আবার শুরু হয়ে গেল মান্না দে-র সেই বিখ্যাত গান- ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই...’।

হ্যা, অবিশ্বাস্য মনে হলেও Nokia-র “Say & Play” ফাংশন সমৃদ্ধ 5320 মডেলের এক্সপ্রেস মিউজিক মোবাইল ফোন দিয়ে আজ এ অসাধারণ আনন্দের বিষয়টিই সম্ভব হয়েছে। আমার এ ফোনে এ পর্যন্ত দশ জন শিল্পীর গাওয়া প্রায় চারশ MP3 বাংলা গান ভরেছি। এই চারশ গানের মধ্য থেকে যখন যে গান শুনতে ইচ্ছে করে, আমি তা শুনতে পাচ্ছি শুধুমাত্র শিল্পীর নাম আর গানের প্রথম লাইন উচ্চারণ করেই।.....এ গান চালু করার জন্য মোবাইলের স্ক্রীনের দিকে তাকানো বা গানের তালিকা স্ক্রল করার কোন প্রয়োজন নেই। শুধু মোবাইলের উপরের দিকে সামান্য উঁচু হয়ে থাকা একটি গোলাকার বাটন চেপে ধরে (যা কীনা অন্ধকার ঘরেও শুধু হাত দিয়ে অনুভব করে চেপে ধরা সম্ভব) তারপর মোবাইলের কাছে মুখ নিয়ে শিল্পীর নাম এবং গানের প্রথম লাইন উচ্চারণ করলেই চলে । এভাবে শুধু মুখে উচ্চারণ করে Nokia ফোনে যখন যেমন ইচ্ছে যে কোন গান শোনার কাজে সাহায্যকারী এ গোলাকার বাটনটির নামও দেওয়া হয়েছে Say & Play Button.।



আমার কাছে নোকিয়া ফোনের গান সার্চ করার এই “স্পীচ রিকগনিশন” নির্ভর ফাংশনটি এ যাবৎ উদ্ভাবিত নোকিয়া ফোনের অন্য সকলপ্রকার ফাংশনের তুলনায় ‘সেরা ও চমকপ্রদ’ মনে হয়েছে। আমার মনে পড়ে, একসময় বিভিন্ন অডিও ক্যাসেট থেকে বেছে বেছে পছন্দের সেরা গানগুলো শুনতে গিয়ে আমাদের টেবিলে ক্যাসেটের পাহাড় জমে যেত। পছন্দের প্রিয় গানটি প্লে করার জন্য ক্যাসেট বারবার Rewind অথবা Forward করতে হত। এতে করে অনেকসময় ক্যাসেটের ফিতা-ও ছিঁড়ে যেত।...

এরপর এলো সিডি ডিভিডির যুগ। সেখানে যদিও কম্পিউটারের স্ক্রীনে চোখ রেখে গানের তালিকা ব্যবহার করে শুধু মাউস ক্লীকের মাধ্যমেই পছন্দের গানটি প্লে করার সুযোগ এলো, কিন্তু সেখানেও বিভিন্ন শিল্পীর দশ বারোটির বেশী পছন্দের গান শোনার জন্য হয়তো কভার/বক্স খুলে সিডি বের করতে হয় বিশ পঁচিশটি...। গান শোনা শেষ হলে নির্দিষ্ট কভার বা বক্সের ভেতর নির্দিষ্ট সিডিগুলো আবার ঠিকঠাক সাজিয়ে রাখতেও সময় লেগে যায় প্রচুর।...

হয়তোবা গান শোনার ক্ষেত্রে এইসব নানাধরনের অহেতুক ঝামেলার বিষয়গুলো এক নিমিষে দূর করতেই এসেছে নোকিয়ার Say & Play ফাংশান। যখন যেখানে ইচ্ছে- যে কোন প্রিয় গান শুধু শিল্পীর নাম আর গানের একটি লাইন উচ্চারণ করেই আপনি শুনতে পারবেন এখন। যদি কোন প্রচন্ড সঙ্গীত প্রিয় লোক এ বিষয়টি জানতে পেরে আনন্দ-আবেগে বিস্মিত হয়ে বলে ওঠেন- “আরে ! এটাইতো ছিল আমার সারা জীবনের একটি স্বপ্ন...!”, তবে তার উদ্দেশ্যে বলছি, আপনার সারাজীবন ধরে নীরবে নিঃশব্দে দেখা সেই স্বপ্নটিই আজ আনন্দময় বাস্তব। একেবারেই হাতের মুঠোয় এসে ধরা দিয়েছে সেই স্বপ্ন আজ।...

তবে আমার এ লেখা পড়েই চট করে কেউ Nokia 5320 কিনতে মার্কেটে চলে যাবেন না...। এই ফোনের এই Say & Play ফাংশান যথাযথভাবে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে আপনার আরো যা যা জানা প্রয়োজন তা হচ্ছে-

(১) বাংলা গানের ক্ষেত্রে Say & Play ফাংশন যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য আপনাকে সংশ্লিষ্ট গানগুলোর MP3 ট্যাগ এডিট করতে হবে। MP3 ট্যাগ এডিট করার সময় কম্পিউটারে বসে বাংলা গানগুলোর শিল্পীর নাম ও গানের প্রথম লাইন সঠিক বাংলা উচ্চারণ অনুযায়ী ‘ইংরেজী বর্ণমালা’য় লিখে তারপর নতুন করে Save করে নিতে হবে এবং ডাটা ক্যাবল বা কার্ড রীডার এর সাহায্যে পরিবর্তিত ট্যাগ যুক্ত গানগুলো কম্পিউটার থেকে মোবাইলে ভরতে হবে। (বাংলা গান ছাড়া শুধু ইংরেজী গানের ক্ষেত্রে Say & Play ফাংশান ব্যবহার করতে গেলে অবশ্য ট্যাগ এডিট এর ঝামেলায় তুলনামূলকভাবে কম যেতে হবে, কেননা অনেক MP3 ইংরেজী গানের ট্যাগেই শিল্পীর নাম বা গানের প্রথম লাইন সঠিকভাবেই লেখা দেখতে পাওয়া যায়।)


(২) MP3 ট্যাগ এডিট করার সময় একই শিল্পীর গানের ক্ষেত্রে একই ধরনের উচ্চারণ রীতি অনুসারে একই ধরনের বানান অনুসরণ করতে হবে। যেমন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানের ক্ষেত্রে শিল্পীর নাম হিসাবে একবার Hemanto Mukhopaddhay আরেকবার Hemanto Mukharjee লেখা যাবেনা। যে কোন একটি নামের ধরণ/বানান বেছে নিতে হবে। এতে করে আরো একটি সুবিধা পাওয়া যাবে। আপনি যখন ফোনের Say & Play বাটন চেপে ধরে কোন গানের প্রথম লাইন উচ্চারণ না করে শুধু শিল্পীর নাম হিসাবে Hemanto Mukhopaddhay উচ্চারণ করবেন তখন আপনার ফোনের মেমরী কার্ডে থাকা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সবগুলো গান অটোম্যাটিক্যালী সর্ট (Sort) হয়ে গিয়ে একের পর এক ফোনটিতে বাজতে থাকবে।

গানগুলোর MP3 ট্যাগ এডিট করার সময় আপনি ইচ্ছে করলে একজন শিল্পীর কয়েকটি নির্দিষ্ট গানের জন্য আপনার ইচ্ছে অনুসারে একটি অ্যালবাম-নাম সংযোজন করতে পারেন। পরে প্রয়োজনের সময় Say & Play বাটন চেপে সেই অ্যালবাম-এর নাম উচ্চারণ করেও সেই কয়েকটি নির্দিষ্ট গানকে (অ্যালবাম-এর নাম অনুসারে) সর্ট (Sort) করে একের পর এক শুনতে পারেন।

(৩) এছাড়াও গানগুলোর MP3 ট্যাগ এডিট করার সময় আপনি ইচ্ছে করলে Windows Media Player-11 ব্যবহার করে গানগুলোর অ্যালবামের ছবি হিসেবে সংশ্লিষ্ট শিল্পীর একটি ছবি (আপনার সংগ্রহ থেকে বা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে) Windows Media Player-11 -এর “Album Art” সংযোজনের নিয়মানুসারে সংযোজন করতে পারেন। এর ফলে গানগুলো মোবাইল ফোনে প্লে হবার সময় গানের সাথে সংশ্লিষ্ট শিল্পীর একটি ছবিও মোবাইল ফোনের পর্দায় ভেসে থাকবে।

(৪) এতো কিছুর পরেও আপনার ফোনে বাংলা গানের ক্ষেত্রে Say & Play ফাংশন শতকরা ১০০ ভাগ কার্যকর না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে আপনার ফোনের আভ্যন্তরীণ সেটিংস পরিবর্তন করে Speech Recognition Sensitivity-র মাত্রা Adjust করে নিতে হতে পারে।

আমার জানামতে, নোকিয়া এপর্যন্ত তাদের রিলিজ করা কেবলমাত্র দু-তিনটি মডেলের মোবাইল ফোনে এই Say & Play ফাংশন সংযোজন করেছে। নোকিয়ার Say & Play ফাংশন সংযোজিত প্রথম মোবাইল ফোনটি খুব সম্ভবত Nokia-5320 Xpress Music. এ ফোনটি সর্বোচ্চ চার গিগাবাইটের Micro SD Card সাপোর্ট করে। তাই কম করে হলেও প্রায় ১০০০ বাংলা MP3 গান এতে ভরা যায় অনায়াসেই। এছাড়াও ফোনটি নোকিয়ার S60 সিরিজের সিম্বিয়ান অপারেটিং সিস্টেম সমৃদ্ধ ফোন বলেই এতে অন্যান্য সফটওয়্যার ভরে আরো নানারকম কাজ করা যায় (ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আরো লেখার ইচ্ছে রাখছি) ।

বিনীতভাবে জানাই, আমি নিজে দীর্ঘদিনের চেষ্টায় প্রায় চারশ বাংলা গানের MP3 ট্যাগ এডিট করে (অর্থাৎ বাংলা উচ্চারণ অনুসারে সঠিক বানানে ইংরেজীতে শিল্পীর নাম ও গানের প্রথম লাইন লিখে) এগুলোকে স্পীচ রিকগনিশন-যোগ্য বানিয়েছি বা Say & Play ফাংশানের উপযোগী বানিয়েছি। আমি এ গানগুলোর ট্যাগে Windows Media Player-11 ব্যবহার করে Album Art হিসেবে শিল্পীর ছবিও সংযোজন করেছি। ফলে গানগুলো Nokia-5320 সেটে প্লে হবার সময় সংশ্লিষ্ট শিল্পীর ছবিও ভেসে থাকছে মোবাইলের স্ক্রীনে।...



পরিশেষে ঈদের একদিন পরের কথা বলি। সকাল থেকেই আকাশ কেমন যেন মেঘলা মেঘলা। এদিকে আমার পায়ে হঠাৎ করেই অজানা কোন কারণে ব্যথা শুরু হয়েছে। পায়ের ব্যথায় কাতর হয়ে আমি বিছানায় শুয়ে আছি। কিছুই ভালো লাগছে না, কিছুই করার নেই।... কী করবো, কীভাবে সময় কাটাবো ভাবছি।... এমন সময় আমার মোবাইলের Say & Play ফাংশনের কথা মনে পড়ল।... বিছানায় শোয়া অবস্থাতেই আস্তে আস্তে হাত বাড়িয়ে বালিশের কাছে পড়ে থাকা মোবাইলটাকে নিয়ে এলাম মুখের কাছে। চোখ বন্ধ করেই Say & Play ফাংশনের বাটনটাকে চেপে ধরে ফিসফিস করে শুধু বললাম-“সন্ধ্যা মুখার্জী, খোলা আকাশ কী এতো ভালো লাগতো”। ব্যস, শুরু হয়ে গেল সন্ধ্যার গাওয়া সেই অসাধারণ গান-

খোলা আকাশ কী এতো ভালো লাগতো ?
যদি কিছু কিছু মেঘ না-ই ঢাকতো !

বলো জীবন কী সুন্দর হতো এমন?
যদি একটুও ব্যথা না-ই থাকতো!

গানের যাদুমাখা কথার মধ্যে ডুবে যেতে যেতে ভাবছিলাম-আসলেই মাঝে মধ্যে এরকম কিছু কষ্টের মধ্যে থাকা ভালো। এরপর যেদিন সুস্থ হয়ে আবার হাঁটতে পারবো, এরপর যেদিন আবার সুস্থ দুই পায়ে ভর করে বাইরে বের হতে পারবো, সেদিন দিগন্ত বিস্তৃত আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিনের চিরচেনা এই পৃথিবীকে নিশ্চয়ই একটু অন্যরকম আরো বেশী ‘ভালো লাগাময়’ মনে হবে !

আধাঁর আছে বলেই তো আলোর এতো কদর! বেদনা আর বিচ্ছেদ আছে বলেই জীবনের সুখটাকে উপলব্ধি করা যায় আরো গভীরভাবে! এসব কথা যখন ভাবছি, মোবাইলে তখন ভেসে আসছে সন্ধ্যার গানের পরবর্তী অংশ-

যদি সারাক্ষণ থাকতাম সামনেই -
আমি দেখতাম আর আমার দাম নেই..

জেনো মাঝে মাঝে আড়ালে না হারালে..
ওই মন কী আমায় মনে রাখতো?....
....................................................................



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29054066 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29054066 2009-12-05 21:33:47
শোনাতে পারিনা তাই শোনাতে পারিনা তাই
শব্দগুলো লিখে রাখি ধ্রুবনীল
বেদনার অক্ষরে
নিদারুণ এক নিশ্চল নীরবতায়।

যে কান্না পারিনি পৌঁছাতে কোনদিন তোমার দরোজায়
আমিতো তাকেই সমুদ্র বানিয়ে
প্রতিদিন অথৈ আধার !

যে কষ্ট পদ্ম হয়ে ফোটে রাত্রিদিন এক নীলজল দিঘীতে আমার
তুমি তার দীর্ঘ সিঁড়ি ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কবে আর হাঁটতে আসবে বলো -
এই এক জনমে আবার?

যে দুঃখ রাত্রিদিন গোপন রেখেছি অবিরাম এক অলিন্দে আমার
আমিতো তাকেই বৃষ্টি বানিয়ে
ঝরিয়ে দিয়েছি সারারাত
শহরের প্রতি কোণে !

যে আশীষ রাত্রিদিন অশেষ হয়েছে
তোমার জন্য শুভ চাওয়ায়
আমিতো তাকেই শিউলী বানিয়ে
ছড়িয়ে দিয়েছি উঠোনময়, সমস্ত প্রাঙ্গণে তোমার!

শোনাতে পারিনা তাই
আর্ত চীৎকার সব সুরভিত গোলাপ বানিয়ে ভরে রাখি ফুলদানী
বিষন্ন বাগান ।

বোঝাতে পারিনা তাই
বৃক্ষেরা শুধু বোঝে এই বোধ
কেবল নিসর্গ নিরন্তর বোঝে
তুমি আজ, প্রকৃতই
কতোটা দূরত্বে আমার!

জানাতে পারিনা এক কষ্ট অবিকল, তবু দেখো!
সমস্ত শহর অবশেষে একদিন জেনে যায়

তোমাকে দেখিনা
বহুকাল!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29039116 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29039116 2009-11-07 09:42:13
বলধা গার্ডেনের সবুজ পত্র-পল্লবে আরেকটি আড্ডা সামহয়্যারের ব্লগারদের এবারের আড্ডা জমেছিলো টিকাটুলীর বলধা গার্ডেনের সবুজ প্রকৃতির মাঝে। আমার স্বামীবাগের বাসার অল্প কিছু দূরেই বলধা গার্ডেন। তাই প্রথম থেকেই ভাবছিলাম সময় পেলে যাওয়ার চেষ্টা করবো।...মনে পড়ে, প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষবার বলধা গার্ডেনে গিয়েছিলাম। তারপর আর যাওয়া হয়নি কখনো!

বাসার এতো কাছে অথচ বহুদিন আর দেখা হয়নি স্মৃতিতে ভাস্বর সেই হারানো সবুজ। কেমন আছে সেই বলধা গার্ডেন?.... কেমন আছে সেই সবুজ সুন্দর? সেই অসাধারণ নিসর্গ? সেই সুন্দর এক ছোট্ট পুকুর? পুকুর পাড়ের সুন্দর এক সিঁড়ি? ...

এসব ভাবতে ভাবতে একসময় এসে গেলাম অকুস্থলে। একঝাঁক তরুণ তাজা প্রাণের ব্লগারদের সাথে দেখা হলো। এরা প্রত্যেকেই আমার বয়সের তুলনায় অনেক ছোট। তাই সবার সাথে ছোট ভাইয়ের মতোই কথা বললাম।

এই তরূণ তাজাপ্রাণের ব্লগাররা আড্ডাটি ডাকার সময় প্রথম কয়েকদিন খুব করে একটি গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ব্লগের সবখানে তাদের আড্ডার আয়োজনের খবরটি ছড়িয়ে দিয়েছিলো। তাতে করে কেউ কেউ বিরক্ত হয়ে উঠলে পরবর্তীতে তারা হঠাৎ করেই খুব বেশী চুপ হয়ে যায় (হয়তোবা অভিমানেই!)। এমনকি বৃহস্পতিবারেও পরেরদিন যে বলধা গার্ডেনে আড্ডা হবে- এমন কোন নিশ্চিতকরণ পোষ্ট আমি ব্লগে খুঁজে পাইনি।

যাই হোক, এ সমস্ত কারণেই সম্ভবতঃ অনেকেই শেষ মুহুর্তে আড্ডা যে হবে তা' আর জানতে পারেননি।...তাছাড়া কিছুদিন আগেই একটি আড্ডা হয়ে যাওয়ায় ব্লগারদের মাঝে আড্ডা বিষয়ে কিছুটা ক্লান্তিও বোধহয় ছিলো!

তারপরেও জমে ওঠে আড্ডা। অনেক পরিচিত মুখ পাইনি। তারপরেও নতুন মুখের তরুণদের কাছ থেকেই শুনলাম তাদের ব্লগে আসার গল্প। তাদের সবারই ব্লগকে অসাধারণভাবে ভালোবাসার গল্প। ব্লগ কী ভাবে তাদের জীবনে জড়িয়ে গেছে সেইসব মজার মজার সব কথা।...

একটি সুন্দর মুখ খুব হাসছিলো। তার নাম পিংকি। আরেক সুন্দর তাজা প্রাণ খুব রসিকতা করে কথা বলছিলো- সে বাংলাদেশ ফায়সাল। আর সেই সাথে তার নামের আরেক মিতা হ্যান্ডসাম তরুণ এস কে ফয়সাল আলম তো ছিলোই।...

এক এক করে ব্লগ জীবনের আরো কথা শোনালো আড্ডার প্রধান আয়োজক মোজাম্মেল প্রধান (সে আসলে বয়সে একেবারেই তরুণ-ছবি দেখে আমরা সবাই তাকে খুব বয়স্ক ভেবেছিলাম), আমিনুল ইসলাম মামুন, ১৯৭১ স্বাধীনতা, নীট এন্ড ক্লীন, পিংকী, পল্লব শাহরিয়ার, সায়াদ, আব্দুল্লাহ আল মনসুর, সালাহউদ্দির আহমদ, এস কে ফয়সাল আলম, সুমন আহমেদ স্বাধীন, সুজন মৌলিক অপূর্ব, বাংলাদেশ ফয়সাল, জাহিদ আবেদীন সহ চেনা-অচেনা সব ব্লগাররা।

এবারের আড্ডায় একটা নতুন বিষয় ঘটেছে। সামহয়্যারের ব্লগাররা ছাড়াও বলধা গার্ডেনে বেড়ানোর জন্য আগত অনেক সাধারণ মানুষ দাড়িয়ে দাড়িয়ে ব্লগারদের কথা শুনেছে। বুঝতে চেষ্টা করেছে এই ব্লগাররা আসলে কারা!

আড্ডার শেষের দিকে বেলুন ফোলানো ও ফাটানোর একটা মজার প্রতিযোগিতাও হয়। আর সবশেষে গার্ডেনের বাইরে গিয়ে এক রেষ্টুরেন্টে বসে চলে মোগলাই পরাটা আর কোল্ড ড্রিংকস-খাওয়ার পর্ব।

আমার ক্যামেরায় আড্ডার কিছু ছবি তুলেছিলাম। সেগুলো থেকে কয়েকটি এখানে দিচ্ছিঃ


































.........................................................................







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29031271 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29031271 2009-10-24 20:00:09
অক্ষয় অব্যয় আপেল এবং ফ্রীজার-বিহীন আগামীদিনের বাংলাদেশ ছবির আপেল দুটো আমার বাসার ডাইনিং টেবিলে রাখা আছে। প্রায় মাস দুয়েক আগে বাসায় দুকেজি আপেল কেনা হয়েছিল। সেখান থেকেই দুটো আপেল খাওয়া হয়নি বলে টেবিলের উপরে ঝুড়িতে রাখা ছিল। বেশ কিছুদিন পর খেয়াল করলাম- অনেকদিন পার হয়ে গেলেও আপেল দুটোর মধ্যে কোন পরিবর্তন নেই। অর্থাৎ পঁচে যাওয়া বা গলে যাওয়া কিংবা সামান্যতম নরম হয়ে যাওয়ারও কোন লক্ষণ নেই।

আমাদের আগ্রহ বেড়ে গেল। আপেল দুটো দিনের পর দিন একই অবস্থানে রাখা হল। এক এক করে পার হয়ে গেল দুমাস। কিন্তু আপেল দুটোর কোন পরিবর্তন নেই । যেন অক্ষয় অব্যয় দুই আপেল। মনে হচ্ছে এ আপেল ভালো রাখার জন্য রেফ্রিজারেটরে রাখার কোন দরকার নেই! উন্মুক্ত আকাশেই হয়তো অক্ষয় অব্যয় দুই জ্বলজ্বলে তারার মতো অমর হয়ে বেঁচে থাকবে এ আপেল। শুধু এক মাস, দু মাস নয়। .....হয়তোবা হাজার হাজার বছর। হয়তোবা অনন্তকাল!

আমরা আমাদের কূটবুদ্ধির রসায়ন দিয়ে আপেলকে অমর বানিয়েছি। আর শুধু কি আপেল? আমার আরেক বন্ধু জানিয়েছে অক্ষয় টমেটোর কথা। সেটিও ফ্রিজারের বাইরেই পাথরের মতো শক্ত থাকে বহুদিন । কোন পচন নেই। কোন বিনাশ নেই। পচন আর বিনাশ বিহীন এক অদ্ভুত অক্ষয় বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। শুনেছি রাজধানীতে প্রেরনের আগে রাজশাহীতে উন্মুক্ত স্থানেই স্তূপাকারে সাজানো টমেটোতে প্রকাশ্যে কেমিক্যাল স্প্রে করা হয়। সবাই তাকিয়ে তাকিয়ে সে দৃশ্য দেখে। ঢাকায় বসে টমেটোর সালাদ খাওয়ার সময় আমরা ঢাকার ভোক্তারা হা হুতাশ করতে থাকি- কেন লবন দিয়ে এক ঘন্টা আগে মাখানো সত্ত্বেও সালাদের টমেটো নরম হচ্ছে না...!

কয়েকদিন আগে পচন আর বিনাশবিহীন অদ্ভুত সাফল্য গাঁথার আরেক গল্প শুনলাম। এক ভদ্রলোক বাজার থেকে শৈল মাছ কিনে এনেছেন। হঠাৎ বাড়ী থেকে মা’য়ের স্ট্রোকের সংবাদ শুনে উনি দ্রুত পুরো ফ্যামিলি নিয়ে দেশের বাড়ীতে রওয়ানা হয়ে যান।.. যাওয়ার সময় তাড়াহুড়োর কারণে শৈল মাছ ফ্রীজারে রেখে যেতে ভুলে গেলেন।... দুদিন পর বাসায় ফেরার সময় তারা সবাই প্রায় শতভাগ নিশ্চিত যে, বাসায় ফিরেই তীব্র দুর্গন্ধ পাবেন মাছ পঁচে যাওয়ার।..... কিন্তু কীসের কী! দেশের আবহাওয়া-তো পচন আর বিনাশবিহীণ! তাই দুদিন পরেও তারা পেয়ে গেলেন অক্ষয় অব্যয় শৈল মাছ। পঁচা নয়, গলা নয়, তখনো পুরোপুরি খাওয়ার উপযোগী !!....

অতএব আগামী দিনের নতুন বর-বধূদের জন্য মহা সুসংবাদ! আগে যেমন নতুন সংসার পাতার পরপরই একটি রেফ্রিজারেটর/ডিপফ্রিজ কেনার চেষ্টায় সবাই তটস্থ হয়ে থাকতেন, সেটির প্রয়োজন বা অত্যাবশ্যকতা ফুরিয়ে যাচ্ছে অচিরেই।.. আগামী দিনের অক্ষয় অব্যয় নতুন আবহাওয়ার বাংলাদেশে রেফ্রিজারেটর বা ডিপফ্রিজার ছাড়াই চলতে পারবেন মহা উল্লাসে! কোনরূপ শীতলতার স্পর্শ ছাড়াই দিনের পর দিন টিকে থাকবে আমাদের দেশের সব শাক-সবজী, শষ্য ভান্ডার আর ফল-ফলাদী।


একটি সময় আসছে সামনে- অসাধারণ
যখন এই অক্ষয় অব্যয় সব খাদ্য
আর মহাপ্রাণ ফল-ফলাদীর ভারে
নত হয়ে যাবে আমার স্বদেশ...

একটি সময় আসছে সামনে- আনন্দের
যখন মাছেরা অমর হবে, বাড়ীতে বাড়ীতে সব
খাবারের টেবিলগুলো ভরে থাকবে পঁচন আর
বিনাশবিহীণ অপরূপ সব খাদ্য ভান্ডারে

একটি সময় আসছে সামনে- বেদনার
যখন শুধু মানুষেরা অমরত্ব পাবেনা কিছুতেই
মরবার বহু আগেই তারা মরে থাকবে সঙ্গীহীণ
কঠিন সব রোগে ভুগে, একা একা-

শুধু নিজেদের অমর বানাবার জন্য
কোন রসায়নদ্রব্য খুঁজে পাবে না তারা
তন্ন তন্ন করেও সারাদেশে.....
শুধু নিজেদের পঁচন আর বিনাশ তারা
ঠেকাতে পারবেনা শেষমেশ
নিজেদের কদর্য কূটকৌশলের অবশ্যম্ভাবী পরিণামে!

একটি সময় আসছে সামনে- লজ্জার!
যখন চিন্তামগ্ন চোখে একদিন খুব ভোরে
আবার আমাদের দিকে চেয়ে মৃদু হাসবেন
প্রিয় কবি শামসুর রাহমান..

একটি কবিতার বইয়ের দিকে অঙ্গুলী হেনে
নিশ্চিত বলে উঠবেন-
আমিতো বলেছি সেই কবেই-
উদ্ভট উটের পিছে চলেছে স্বদেশ!

................................................................
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29030457 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29030457 2009-10-23 10:24:30
যখন এভাবে বহুদিন পর তুমি মনে করো আমাকে আবার... যখন এভাবে বহুদিন পর তুমি মনে করো আমাকে আবার
বুকের অলিন্দে জমা অভিমানী সব মেঘ
অপার আনন্দে ভেসে উড়ে যায় দ্রুত-

একটি ডাহুক এসে চীৎকারে জাগায় শহর-
একটি নদীর পাশে গিয়ে আনন্দ অনুযোগে বলি-

কতোকাল পর দেখো
পাথর মৃত্তিকা-আমার
আমাকে ডেকেছে!


যখন এভাবে বহুদিন পর, তুমি তোমার অভিমান সব
তুলে রাখো হিমঘরে কিছুদিন-

যখন একটি খুঁজে পাওয়া কবিতার খাতায়
তোমার দীর্ঘ আঁকিবুঁকি
ডাকতে থাকে আমাকেই
সারাক্ষণ এই শহরময় অমোঘ তৃষ্ণায়

যখন বহুদিন পর তুমি নতুন প্রকম্পনে ভেসে-
সাজাও আমাকে বারবার
নতুন থেকে নতুনতর অনিঃশেষ সজ্জায়

তখন আশ্চর্য্য এক আনন্দের প্রফুল্ল অর্গল খুলে
প্রাঞ্জল পৃথিবীকে বলি-

কতোকাল পর দেখো
পাথর-মৃত্তিকা আমার
আমাকে বুঝেছে!


........................................................................
রচনাঃ ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29026984 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29026984 2009-10-17 00:11:08
অতঃপর আড্ডা নিয়ে একটি পদ্য... সবার মুখেই হাজার কথা, খই-এর মতো ফুটছিলো।

সরোবরের পাশে সবুজ বৃষ্টি মাখা ঘাস ছিলো
ব্লগাররা সব আড়াল ভেঙ্গে যে যার প্রিয় খুঁজছিলো।

কেউ দাড়িয়ে কাছে আবার কেউ দাড়িয়ে দূরে
কেউবা আবার নিক লুকিয়ে অন্য নামে ঘুরে।

শামীম নামের সেই ছেলেটা আগের মতোই আছে
ছোঁ মেরে তাই প্যাকেট কেড়ে লজেন্সগুলো বাছে।

ক্যামেরাম্যান আর রাতমজুরের আনন্দে চোখ হাসে
অনেক আশার আড্ডাটি বেশ জমজমাট-ই আছে !

বৃষ্টি ধারায় ভিজেও দেখো ব্লগাররা সব আসে
আব্দুল্লাহ আল মনসুর তাই সার্থকতায় ভাসে।

কালপুরুষ আর পল্লী বাউল সারাক্ষণই কাছে
আরিয়ানা মিষ্টি চোখে অন্ধ দাড়কাক দ্যাখে।

সবার প্রিয়-র সাথে বসে রথে চেপে এলাম
দুর্ভাষী আর নীল ভ্রমরা ব্যতিক্রমী-ও পেলাম।

মিলটন আর শিবলী ছাড়াও পথিক আছে বসে
ঘাসফুল আর ফারা তন্বী কাব্য সুখে হাসে।

মন মানেনা তারপরেও ভোরের তারার পাশে
অমাবস্যার চাঁদ খানাকেই বৃত্তবন্দী দেখে।

সুপ্ত জটিল চাচামিঞা এলোমেলো রাগে
জানপরী যে মেয়ে পরী নয়- কে জানিত আগে!

গোয়েবলসকে গান শুনিয়ে ফয়সালরকস খুশী
ভেংচুকের এক ভেংচি দেখে কে যেন দেয় ঘুষি।

সুপ্ত তপু ভিজামন সব চোরকাঁটা-তে বিধে
লাল দরজা রক্ত রঙ-এ ভরায় আনন্দতে।

তাজাকলমের তাজা হাওয়াতে উড়ে আসে আইরিন
তার ছাতাতে ঠাঁই নিতে চায় স্পর্শহীণ কিছুদিন।

রোহান খোঁচায় শামশীরকে, হয় গতি এক কাজের
মনপুরা নেয় দায়িত্ব তার, মনের মানুষ খোঁজের।

শ্রাবণসন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালায় জাফনা মনি কোলে
খুশবু এসে খুশবু ছড়ায়, কেউ না তারে ভোলে।

শুভ শফিকুল ব্যতিক্রমী সাথে ইউনুস খান
কাবাব খাওয়ার আগেই পালায় পারভীন রহমান।

গলায় ঝোলায় দড়ির মালা দন্ডিত পুরুষ
যাযাবর পাখীর পাশেই বসে মুখ ও মুখোশ!

সোনালীডানা জুলভার্ণ আর হমপগ্রের চোখে
লেকের জলের মিষ্টি হাওয়ায় স্নিগ্ধ স্মৃতি ভাসে।

আমের আঁটির ভেপু বাজায় আরেক মজার ব্লগার
কেন জানি হায় বধূটি তার মুখটি শুধু লুকায়!

আলঝেইমার ক্রিষ্টোসান আর রশীদুল হাসান
আবু সালেহ লেকের জলে স্বপ্নতরী ভাসান।

পারভেজ আর প্রত্যুপন্ন বেজায়রকম খুশী
ছবি তুললো শরৎ সবার, অন্ধকারেই বেশী!

মেজবাহ য়াযাদ সবার সাথেই বন্ধুসুলভ খুব
সাইকেল আরোহী-কে দেখে তৃপ্ত সৌম্য মুখ।

আমোকা নামের আরেক ব্লগার খুব চেঁচালো সুখে
আড্ডা স্মৃতিচারণ কালে নাম যেন না বাদ পড়ে!

‌মনপুরা যে পল্লী ভাবী কেউ বোঝেনি আগে
আরিয়ানার কুলফিবরফ শামীম খেলো শেষে!

সবাই লেখে আড্ডা নিয়ে কঠিন জটিল গদ্য
সমুদ্র তাই সুনীল সুখে লিখলো শেষে পদ্য!

..............................................................]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29020388 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29020388 2009-10-04 19:20:00
অন্তরের আরেক আপনঃ মুগ্ধ জানালার সেই মানুষদের ডাক আজ রবীন্দ্র সরোবরে... বেশ কিছুদিন আগে মৃত্যু বিষয়ে একটা কবিতা লিখেছিলাম। সেখানে কয়েকটা লাইন ছিলো এরকম-

জোর করে কেউ দিওনা পাঠিয়ে অতল, অসার
দীর্ঘ অজানা সেই অন্ধকারে।

আমি নিভে গেলে এই নীলাকাশ, নীলাঞ্জণা, নীল নদী
গাঢ় নীল কষ্টে ভুগবে....
আমি নিভে গেলে এই নিশি-ভোর, নিত্য দুপুর
নীরার চোখের জলে যাবে ভিজে.....

আমার এ কবিতা পড়ার পর আমার এক বন্ধু হাসতে হাসতে দুষ্টুমী করে জিজ্ঞেস করেছিলো- ‘তুমি নিভে গেলে শুধু কি এরাই কষ্ট পাবে আর কাঁদবে? আর কেউ নয়?’
আমিও হাসতে হাসতে বলেছিলাম- আরো কেউ কেউ হয়তো কাঁদবে, বিষন্ন হবে- আমি ঠিক সিওর নই....আমি ঠিক জানিনা.....।

হ্যা, অবস্থাটা এরকমই ছিলো । এইতো কয়েকবছর আগেও আমি জানতাম- আমার অন্তরের একান্ত আপন, একান্ত কাছের মানুষগুলো বলতে আছে শুধু নিজের ফ্যামিলি, নিজের বন্ধু-বান্ধব আর নিকটাত্মীয় কিছু মানুষ।... এর বাইরে এ জগতের আর কে-ই বা আমাকে চিনে? আর কে-ই বা আমাকে মনে রাখবে? আর কে-ই বা কোন বিষন্ন বিকেলে ভাববে- একমুঠো ফুল রেখে আসি- এই মানুষটির শেষ শয্যার পাশে?...

কিন্তু ধারণাটা বদলে গেলো সেদিনই - যেদিন হঠাৎ করেই দেখা হয়ে গেলো- ব্লগার নুরুন্নবী হাসিবের সাথে। আমি মৌচাক মোড়ে দাড়িয়ে আছি আগারগাঁও যাবো বলে।.. একটা সিএন জি খুঁজছি। চতুর্দিকের ভীষণ রোদে ঘামছি।...হঠাৎ করেই কানে ভেসে এলো এক ডাক- কেমন আছেন ভাইয়া?... আমি অবাক হয়ে পেছনে তাকালাম। সুন্দর হাসিমুখের এক উজ্জল তরুণ। খুব পরিচিত একটা মুখ। অথচ আমি যেন ঠিক চিনতে পারছি না....। আমার যেন ঠিক মনে পড়ছে না...।

কাছে এসে সে-ই বিনম্র স্বরে তার পরিচয় বলে ফেললো। সাথে সাথে আমিও চিনে ফেললাম তাকে। সে আর কেউ নয়। আমাদের নূরুন্নবী হাসিব। আমাদের সামহয়্যারইন ব্লগের প্রমিনেন্ট উজ্জল ব্লগার। আমাদের প্রতিদিনের মুগ্ধ জানালার আরেক সঙ্গী। আমাদের প্রতিদিনের অজস্র কথামালার আরেক কথক। আমাদের অন্তরের আরেক আপন।...

আমি তখন ভেতরে ভেতরে খুব লজ্জা আর বিব্রত বোধ করছি। কেন আমি পরিচয় দেবার আগেই চিনতে পারলামনা ব্লগার হাসিব-কে? তবে কি সত্যিই শেষপর্যন্ত বয়সের ভার আমাকে আক্রান্ত করতে শুরু করেছে?...

হাসিব ততোক্ষণে নানা কুশল জিজ্ঞাসা শুরু করেছে আমাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠলাম দুজন। পরে দুজনেই স্বকল্প বাসে উঠলাম। আমি নামলাম আগারগাঁওয়ে। কিন্তু হাসিব তারো আগের এক ষ্টেশনে নামলো। তাই খুব বেশিক্ষণ কথা বলার সুযোগ হলোনা।...

কিন্তু যতোক্ষণ কথা বলেছি- ততোক্ষণ কেবলই অনুভব করেছি- এই ধরণের মানুষদের সাথে কথা বলতে পেরে আমি একধরণের তৃপ্তি অনুভব করছি।.. আমি একধরণের আনন্দ অনুভবের মধ্যে সময় যাপন করছি।...

সবসময়ই লক্ষ্য করেছি, ব্লগারদের সাথে সাক্ষাতের সময় আমার ভেতরে এ ধরণের অনুভূতিটাই জেগে ওঠে। এ ধরনের অদ্ভুত ভালোলাগা বোধটাই কাজ করে।... আমি কখনোই ব্লগারদের সাধারণ মানের মানুষ হিসেবে ভাবিনা। যারা প্রতিদিন নানা কথামালায় প্রকাশ করছে নিজেকে, যারা প্রতিদিন নিজ মাতৃভাষায় নানা অনুভবের আঙ্গীকে তুলে ধরছে তার নিজস্ব অনুভব, তাদের সবাইকে আমার উচ্চ মনের মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করতে ভালো লাগে। আমি তাদের সবাইকে অন্তরের অভিবাদন জানাতে চাই। বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ আর বাংলার মানুষদের জন্য তাদের লেখনী শক্তির সকল ক্ষীপ্রতা আর অবদানকে আমি মাথায় তুলে রাখতে চাই।

প্রতিদিন সকালে সামহয়্যারইনের মুগ্ধ জানালায় মুখ রেখে আমার তাই খুব বলতে ইচ্ছে করে, হে অনলাইনের শক্তিধর লেখকেরা, তোমরা যারা তোমাদের মেধা আর লেখনী শক্তির জোরে উপকার করে যাচ্ছো এই ভাষার, এই সমাজ ও এই রাষ্ট্রের, তারা আজ অভিনন্দন নাও। অভিনন্দন নাও মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে- মানবতাবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে তোমাদের অসাধারণ সব কর্মযজ্ঞ আর নিঃস্বার্থ অবদানের জন্যে....।

হাসিব এর সাথে দেখা হওয়ার দিনটাতেই আগারগাঁও থেকে ফেরার পথে আমি ছোটখাটো একটি দুর্ঘটনায় পড়ে গেলাম। যে বাসে উঠেছিলাম তার ছাদে ঝোলানো একটি ফ্যানে লেগে আমার মাথার মাঝখানে প্রচন্ড আঘাত পেলাম। কিছুটা কেটেও গেলো।.... বেশ কিছুক্ষণ মনে হয় চোখে কিছু দেখছিলামনা।... সমস্ত পৃথিবী আঁধার হয়ে আসছিলো।....

সেদিন রাত্রিতেই বিছানায় শুয়ে শুয়ে সারাদিনের সবগুলো কথা নতুন করে ভাবতে গিয়ে প্রথম আমি অনুভব করলাম- সেদিনের সেই দুর্ঘটনায় আমার খারাপ কিছু হলে শুধু আমার আত্মীয় স্বজন, বন্ধু- বান্ধব আর পরিবারের একান্ত সদস্যরাই শুধু সেকথা জানতে পারতো তা নয়- নিশ্চয়ই সামহয়্যারইন ব্লগেও পৌছে যেতো সে খবর.....হয়তো হাসিবই তার বিষন্ন কলম দিয়ে লিখতো -দুর্ঘটনার মাত্র কয়েকঘন্টা আগেই আমার দেখা হয়েছিলো সুনীল সমুদ্র’দার সঙ্গে.... ।

..... এরকম একটি ভাবনা বা কল্পনা থেকেই আমি অনুভব করলাম, আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধবের সীমানা ছাড়িয়ে আমার প্রতিদিনের এ পৃথিবীতে- আমার অজান্তেই সৃষ্টি হয়ে গেছে আমার অন্তরের আরেক আপন। আমার ভালোবাসার আরেক সোপান -সামহয়্যারইনের প্রিয় যতো ব্লগার !

সেইসব প্রিয় মানুষেরা আসলেই আমার কতোটা প্রিয় আমি সবসময় তা ঠিক বোঝাতে পারিনা। তবে আমি চেষ্টা করেছি আমার কয়েকটি লেখায় আমার সেই নীরব ভালোবাসাকে তুলে ধরতে। সামহয়্যারে নিয়মিত হতে না পারার যন্ত্রনা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি সেই কষ্টকে তুলে ধরেছি কেমন আছো প্রিয় সামহয়্যার ইন? (1) এবং কেমন আছো প্রিয় সামহয়্যার ইন? (2) শীষর্ক দুটি লেখার বিস্তৃত পরিসরে । সামহয়্যারের ব্লগাররা আমার অজান্তেই আমার কতোটা আপন হয়ে গেছে তা তুলে ধরেছি তুমি ভালো আছো? তুমি ভালো আছো, প্রিয় সামহয়্যার ইন? শিরোণামের লেখাটির মাঝে....। তারপরেও কখনো কখনো মনে হয়- সেই ভালোবাসার সঠিক বহিঃপ্রকাশ এখনো সম্পন্ন হয়নি যথাযথভাবে।... হয়তো এখনো অনেক কিছুই বলার বাকী রয়ে গেছে সেইসব প্রিয় ব্লগারদের।...

বলতে চাইলেও অনেকসময় আর বলা হয়ে ওঠে না- কোন কোন ব্লগারের লেখা কীভাবে কেমন করে আমাকে এ বৈরী পৃথিবীতে নতুনভাবে বাঁচতে উৎসাহিত করে ! লিখতে চাইলেও অনেকসময় আর লেখা হয়ে ওঠে না- কোন কোন ব্লগারের লেখা পড়তে পড়তে আমি কীভাবে কেমন করে আবেগ আপ্লুত হয়ে ভেবেছি- “আমি সবকিছু ছাড়তে পারি, তবু হে ব্লগ, শুধু তোমাকেই ছাড়তে পারবোনা। “.....

ব্লগারদের অপরূপ অসাধারন সংসর্গ ইদানীং আমাকে অন্যায় আর অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতেও সাহস যোগাচ্ছে। এইতো কিছুদিন আগেই এক সরকারী কার্যালয়ে এক কাজে গিয়ে সেখানকার তীব্র অনিয়ম ও বিশৃংখলা দেখে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠলাম। তখন সাথে ছিলো আমার এক বন্ধু। আমাকে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ করতে দেখে আমার সেই বন্ধু আমাকে সতর্ক করে দিয়ে বললো- সব ব্যাপারে সবখানে এভাবে প্রতিবাদ করতে যেয়োনা- পরে তুমি নিজেই বিপদে পড়বে। আমি চট করে বলে বসলাম- আমার আবার কিসের বিপদ? দরকার হলে আমি এসব অনিয়মের কথা ছবি সহ ব্লগে তুলে নিয়ে আসবো। ইন্টারনেট বিশ্বের হাজার হাজার সমাজ-সচেতন দেশ-প্রেমিক ব্লগার নিশ্চয়ই আমাকে সমর্থন দেবে! আমার আবার কিসের ভয়?...

বন্ধুকে এ কথা বলে উত্তর দেবার পর আমি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম। কি আশ্চর্য্য ! কী ভীষণ আশ্চর্য্য ! কয়েকবছর আগেও আমি নিজেকে খুব একা ভাবতাম। দেশ অথবা সমাজের কোন অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কোন সাহস আমার ছিলোনা.... । অথচ এখন আমি আর নিজেকে একা ভাবিনা....। যে কোন কঠিন পদক্ষেপের সময় মনে হয়- অজস্র সমাজ সচেতন দেশপ্রেমিক ব্লগারদের ভালোবাসা আমার সবচেয়ে সুকঠিন সাহসী সঙ্গী।


**********************************

অন্তরের আরেক আপন, হৃদয়ের একান্ত কাছাকাছি সেইসব মানুষদের ডাক এলো মোবাইলে। মেসেজ পাঠিয়েছে ব্লগার রাতমজুর। Hello mate, Oct 2 Friday @ 5 pm ejta gooltani adda hoibo dhanmondi lake. Aile Khushi hoitam…..With wishes- RAATMOJUR আমি বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মেসেজটি পড়লাম। একবার দুবার অজস্রবার....।

আমি কি যাবো ? আমি কি যেতে পারবো তাদের সবার সাথে দেখা করতে ?

অনেক্ষণ ধরে অদ্ভুত এক আনন্দ অনুভব আমার সমস্ত সত্তাকে গ্রাস করলো।....
আসলে এই মেসেজ আমার কাছে সাধারণ কোন মেসেজ নয়। এই ডাক আমার কাছে সাধারণ কোন ডাক নয় । এই ডাক অন্তরের আরেক আপন- প্রতিদিনের মুগ্ধ জানালার সেইসব প্রিয় মানুষদের ডাক।

এই ডাক - অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে উঠে আসা একান্ত আন্তরিকতার এক ডাক।
এই ডাক - বিশুদ্ধ অনাবিল এক ভালবাসার.....।


রোদ হোক। বৃষ্টি হোক।
শহর থমকে থাকুক যানজটে।
তবুও এই ডাক উপেক্ষা করার সাধ্য আমার নেই.....।

.............................................................................]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29019231 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/29019231 2009-10-02 15:18:05
দেখা না হোক... দেখা না হোক-
কোনদিন আর দেখা না হোক !
শুধু তুমি এই শহরের বুকে আছো
এই এক অলীক আনন্দে বিভোর হয়ে-আমি প্রতিদিন
তৃষ্ণার পৃথিবীতে নামি।

হয়তো কোন এক মেঘ
খুব উঁচু এক আকাশ থেকে প্রতিদিন
দেখতে পায়- তোমাকে,

হয়তো কোন এক অচেনা বাস-স্টপেজ
তোমাকে প্রতিদিন
প্রীতির ছায়ায় রাখে কিছুক্ষণ,

হয়তো কোন এক নীলাভ ছাতার নীচে মুখ ঢেকে
তুমি ঝিরিঝিরি অপরূপ বৃষ্টিতে-এই বর্ষায়
আমার অজানা পথ ধরে
পথে নামো !

অথচ কী আশ্চর্য্য দেখো
কোনদিন আমার একবারও দেখা হয়না
তোমার কুশল জানা সেই সব মেঘেদের সাথে...

কোনদিন সারাটা শহর হেঁটেও আমি
খুঁজে পাইনি তোমার ঠিকানা-জানা সেই
অদেখা অলীক এক স্বপ্নের বাস-স্টপেজ...।

কোনদিন সেই নীলাভ ছাতার কাছে গিয়ে বলতে পারিনি-
তুমিও কি আমার মতোই
কোন অলৌকিক গন্ধ পেয়েছ তার অপ্সরী চুলের ?

তুমিও কি আমার মতোই
অহর্নিশ খুঁজে ফেরো তাকে
নক্ষত্রে, নীলিমায় ? নীল রঙ বেদনার খামে?

দেখা না হোক-
কোনদিন আর দেখা না হোক !
শুধু তুমি এই শহরের বুকে আছো
এই এক আনন্দ ভেলায় চড়ে-আমি প্রতিদিন
দুঃসহ জীবন ঠেলে নতুন জীবনের পথে নামি...!

যখন হঠাৎ আসা ভয়াবহ বন্যার স্রোত
এ শহর ডুবিয়ে দেয় নৈরাশ্যে, নোনা জলে

তখন একলা ভোরে
শেফালী ফুলের কাছে গিয়ে অকপটে বলি-
জেনে রাখো-
আমার আপন আরো এক হৃদয়
এই শহরেই মিশে আছে !

যখন হঠাৎ খরায়
এ শহর বদলে যায়
জেগে ওঠে রুক্ষতায় নিঃসঙ্গ মরুভূমি

তখন তপ্ত রোদে
দয়ার্দ্র ঝরণার কাছে গিয়ে অকপটে বলি-

শুধু আমার পিপাসা মিটলেই সুখী হতে পারিনা আমি-
আমার যে আপন আরো এক সতৃষ্ণ পথ
এই শহরেই মিশে আছে...!

তুমি কি পৌঁছে দিতে পারো না একবার... ?
সমুদ্র সমান এই
শুভাশীষ
তাকে?

দেখা না হোক-
কোনদিন আর দেখা না হোক !

তবু শুধু তোমার দুচোখ যেন
দেখতে পায়- প্রতিদিন
প্রাঞ্জল আনন্দের প্রফুল্ল পৃথিবী ।


................................................................................
দেখা না হোক- ইতিপূর্বে প্রথম আলো ব্লগে পোষ্ট করা হয়েছিল। কিছুটা পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের পর সামহয়্যারে পোষ্ট করা হ’ল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28998818 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28998818 2009-08-24 08:48:40
আকাশকে দুঃখ দিতে নেই! আকাশকে দুঃখ দিতে নেই!

অকারণ দুঃখ দিলে
আকাশও এমনি করে ভাসিয়ে দেয় এই শহর
এই নর্দমা, এই অলি-গলি
এমনই প্রবল এক অনন্ত রাত্রির বৃষ্টিতে....!

তুমি কি কান পেতে একবার
জানতে চেয়েছিলে তার সব ক্ষোভ?

তুমি কি একবার
মমতায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছিলে
কতোটা জমাট বাঁধা অভিমান -তার বুকে
এমন অদেখা বৃষ্টি হয়ে জমেছিলো
দীর্ঘকাল?

তুমি কি অঙ্গুলি গুণে দেখেছিলে একবার ?
আমাদের কী প্রবল অবহেলা-
আমাদের কী বিশাল দোষের পাহাড়
কতোটা উচ্চ অসীমে উঠে
ঢেকে ফেলে সুষমা সব, সুবর্ণ নিলীমার!

তুমি কি জানতে তার পিঠ, প্রকৃতই
ঠেকে গিয়েছিলো
শেষ দেয়ালের গায়ে?

তুমি কি জানতে -অতঃপর চোখ বুঁজে
ঠোঁটে ঠোঁট চেপে
এক রাত্রিতে সে ধৈর্য্য হারাবে... শেষমেষ ?

আর খুব ভোরে
ঘুম ভাঙতেই তুমি দেখবে সমস্ত শহর তোমার
ভাসছে বন্যায় -
সমস্ত শহর তোমার ঢেকে গেছে নিদারুণ
দীর্ঘ জমাট বাধা-কষ্টের বৃষ্টিতে !

আকাশকে দুঃখ দিতে নেই!

তুমি জানতে না-
আকাশও অসীম ক্ষমতাধর নয়, বাস্তবিক।

আকাশও পারে না শেষমেষ
এতোটা অশেষ দুঃখভার
এইভাবে অনন্তকাল, কান্নাবিহীন বয়ে যেতে।

......................................................................

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28984933 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28984933 2009-07-28 10:36:31
কতোবার বৃষ্টি এলে...? কতোবার বৃষ্টি এলে, ভিজে যায়
এমন নিরাসক্ত, নিসর্গ তোমার?

কতোবার বৃষ্টি এলে-তুমি অতঃপর, দাঁড়াও আয়নায়
সীমাহীন এক অন্তর্দাহ, অনুতাপী সময়ের মুখোমুখী?

কতোবার পূর্ণচাঁদ, গ্রাস করলে এ শহর গোগ্রাসে
তোমার খুব মনে পড়ে যায়-
এমনই আনন্দ জ্যোছনায়, অন্য এক রাতে-
কতোটা সুন্দর ছিল, অপেক্ষারত, অধীর আরেকজন !

কতোবার শহর জাগলে, পাখীদের কলরবে
খুব ভোরে, তুমি আরো একবার-উন্মণা, স্মৃতিচারী হও...?

কতোবার সিক্ত ঘাসের দিকে তাকালে
তোমার হঠাৎ খুব মনে পড়ে যায়-
হাজারো শিশির তুমি মাড়িয়ে গেছো কতোবার-
শূন্যতায় ছুঁড়ে দিয়ে-ব্যথাতুর
অন্য আরেক মন?

কতোবার শহর কাঁপলে ভূকম্পনে, অতঃপর
ভয়াবহ ধস নামে- তোমারও সুকঠিন
অনড় সত্তায় !
কতোবার ফেটে চৌচির, এ মৃত্তিকার কষ্ট ফাটল ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কান্নাভেজা চোখে তোমার খুব মনে পড়ে যায়-

একটি বুকের ব্যালকনি ভেঙে চুঁড়ে -কী প্রবল নিষ্ঠুরতায়
তুমি হেঁটে গেছো এই পথ-
এমন নিশ্চিন্তে, এতোদূর !

কতোবার বৃষ্টি এলে টলে যায়-এমন নিস্পৃহ
পাথর মৌনতা তোমার?
কতোবার শহর ভাসলে বন্যায়-আষাঢ়ের ঢলে-

একটি বিষন্ন চোখ-
তোমার খুব মনে পড়ে যায়....
কী প্রবল দিয়েছিলে ছুঁড়ে, ফিরিয়ে অবহেলায়-
সীমাহীন সুতীব্র ব্যাকুল এক
সখ্যতার বিপরীতে!

কতোবার বৃষ্টি এলে, তুমি অতঃপর অনুভব করো
শহর যাচ্ছে ভিজে, সারারাত, প্রবল অনুতাপে-
কতোবার বৃষ্টি এলে তুমি বুঝে ফেলো-ভালো নেই!
তোমার খুব পরিচিত একজন আজ
এই বৃষ্টিতে ভালো নেই!

কতোবার বৃষ্টি এলে তুমি আরেকবার ভাবতে পারো
কী দারুণ জীবন্ত আছো, আজো অক্ষয়, এ মনের
অমৃত অনুভবে-

কতোবার তোমাকে দেখার সাধ
কষ্টের অক্ষরে গেঁথে ভাসালে শীতলক্ষায়
অতঃপর তোমার কাছে প্রমাণিত হয়-
একজন আজো সেরকম
সমুদ্র সমান ভালোবাসে!

কতোবার বৃষ্টি এলে, তুমি অতঃপর তাকাও জানালায়-
কতোবার ভেঙে চুড়ে নিঃস এ হৃদয়ের
মানচিত্র হলে এ জানালার কাঁচ,
তুমি ফিরে পাও-নিমিষেই, হারানো সেই অনুভব-

কতোবার তোমার চোখের পাতা ভিজে জবজবে হলে
তুমি অতঃপর দেখতে পাও-
এ শহর কী নিদারুন ঢেকে গেছে-
ধবধবে সাদা, অনাবিল শুভ্র সব
কষ্টের কবিতার শিলাবৃষ্টিতে!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28957499 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28957499 2009-05-29 18:49:47
কিছু গানের গল্প ও সহেলীর প্রিয় সেই গান... ১৯৯২ সালঃ ঢাকার পাটুয়াটুলীর এক দোকানে

ষাট শতকের বাংলা সিনেমার গানগুলোর প্রতি আমার আলাদা এক ধরনের দুর্বলতা আছে। মাহমুদুন্নবী, বশির আহমেদ, খন্দকার ফারুক আহমেদ, আব্দুল জাব্বার, সাবিনা ইয়াসমিন প্রমুখ শিল্পীদের গাওয়া সেসময়ের জনপ্রিয় গানগুলো এখনো আমাকে নষ্টালজিয়ায় আক্রান্ত করে।

১৯৯২ সালের এক ঘটনার কথা বলি। এখনকার মতো সেসময় সিডি/ডিভিডির তেমন একটা প্রচলন ছিলোনা। আমরা তখন ক্যাসেট প্লেয়ারেই গান শুনতাম বেশী। কোন এক বৃষ্টির দিনে অফিস থেকে বের হয়ে আমি হাজির হলাম পাটুয়াটুলীর এক গান রেকর্ডিং এর দোকানে। আমার কাছে খুব উন্নতমানের একটা SONY -90 মিনিট এর Blank ক্যাসেট।

আমি দোকানের রেকর্ডিং এর কাজে নিয়োজিত লোকটিকে বললাম- আপনাদের কাছে ষাট শতকের বাংলা সিনেমার গানের যতো রেকর্ড আছে তার একটা তালিকা দেন। আমি সেখান থেকে পছন্দ করে এই ক্যাসেটে কিছু গান রেকর্ড করাবো। লোকটি প্রথমে বুঝতে পারলোনা আমি কি বলছি। পরে আমি যখন আবার তাকে বুঝিয়ে বললাম তখন অবাক বিস্ময়ে সে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।

সম্ভবতঃ লোকটি তার সারা জীবনে কখনো দেখেনি যে বাংলা সিনেমার গান কেউ এতো দামী ও উন্নতমানের SONY-৯০ মিনিটের ক্যাসেটে রেকর্ড করাতে চায়। এই দোকান থেকে যারা বাংলা সিনেমার গান রেকর্ড করায় তারা সাধারনত কম দামী Ordinary ৬০ মিনিটের ক্যাসেটেই তা রেকর্ড করায়। তাই আমার দিকে কতোক্ষণ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ করেই সে যেন খুব আনন্দিত হয়ে তীব্র সক্রিয় হয়ে উঠলো ।

সে বারবার আমাকে নিশ্চয়তা দিতে থাকলো, আমার ক্যাসেটটি সে স্পেশাল যত্ন নিয়ে খুব সুন্দরভাবে রেকর্ড করে দেবে। বহুদিন পর বাংলা সিনেমার গানের এমন আগ্রহী এক শ্রোতা পেয়ে সে যেন মহাখুশী।

আমি তাকে গান নির্বাচন করে দেওয়া শুরু করলাম। পুরনো প্রিয় গানগুলো যেন একটাও বাদ না পরে, সে চেষ্টা চালাতে শুরু করলাম। ‘‘ভুলে গেছি সুর ওগো, স্বরলিপি নেই’’ আমার খুব প্রিয় একটা গান। আচ্ছা এই গানটা কি আপনার কাছে আছে? হ্যা, আছে, লোকটি আশ্বস্ত করলো আমাকে। আর ঐ গানটা? ঐ যে, “....সুরের ভুবনে- আমি আজো পথচারী, ক্ষমা করে দিও, যদি না তোমায়, মনের মতো গান শোনাতে পারি... ”। ঐ গানটা কি আছে? জ্বী, ওটাও আছে।

আমি আনন্দে নেচে উঠলাম । কী আশ্চর্য্য, এই দোকানটাতে আমার প্রিয় ষাট-সত্তর দশকের প্রায় সবগুলো সিনেমা গানেরই রেকর্ড অথবা লং-প্লে আছে। এখন শুধু সেসব থেকে বেছে বেছে ক্যাসেটের ফিতায় নিতে পারলেই হলো।...

আমি একের পর এক নির্বাচন করলাম-(১) ভুলে গেছি সুর ওগো স্বরলিপি নেই (২) তুমি কখন এসে দাড়িয়ে আছো, আমার অজান্তে (৩) আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন (৪) তুমি যে আমার কবিতা (৫) কে আমায় আলোর ঠিকানা বলে দেবে.. (৬) মন যদি ভেঙ্গে যায় যাক যাক কিছু বলবোনা..(৭) আমি যে কেবল বলেই চলি (৮) ডোকোনা আমারে তুমি কাছে ডেকোনা (৯) আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল (১০) গীতিময় সেই দিন চিরদিন বুঝি আর রলোনা (১১) ফুলের মালা পড়িয়ে দিলে আমায় আপন হাতে (১২) গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে... (১৩) ওগো মোর মধুমিতা (১৪) প্রেমের নাম বাসনা সে কথা বুঝিনি আগে (১৫) পীচ ঢালা এই পথটারে ভালো বেসেছি (১৬) সুরের ভুবনে আমি আজো পথচারী (১৭) কোথায় তোমায় যেন দেখেছি (১৮) তুমি যদি বলে যেতে (১৯) এই স্বপ্ন ঘেরা দিন রাখবো ধরে (২০) রোদে পুড়ে পীচ গলে এই শহরে...(২১) নেই অভিযোগ কারো কাছে, নেই কোন অভিমান (২২) আমাকে পোড়াতে যদি এতো লাগে ভালো...

এভাবে প্রাথমিক সিলেকশানের পর লোকটিকে আমি আমার প্রিয় আরো কয়েকটি গানের কথা জিজ্ঞেস করলাম। খুব সম্ভবতঃ বিনিময় ছবির একটি গান শুনেছিলাম এরকম-“তুমি কেন বোঝ না যে, কতো কথা মনে জাগে, কেন যে বলতে চেয়েও পারিনা...”। গানটি আমার খুব ভালো লাগে, তাই সেটাও খোঁজ করলাম। কিন্তু লোকটি জানালো গানটি তার সংগ্রহে নেই।

একেবারে ছোট্ট বয়সে আমার জীবনে প্রথম দেখা ছবির নাম ‘আঁকাবাঁকা’। সেই ছবির একটা গান ছিলো- “মুক্তো সে নয়, মাণিক সে নয়, বলছে আমার মন..”। সেই গানটিও পেলাম না সেখানে। কিন্তু যা পেলাম তাওতো কম নয়।...

একমাস পরের কথা । রেকর্ড হয়ে যাবার পর সেই ক্যাসেট তখন আমার কাছে। ঠিক আমার কাছে বললে ভুল হবে। কারণ ক্যাসেটটি তখন আমার বন্ধু বান্ধব আর আত্মীয় স্বজনদের কাছে হাতে হাতে ঘুরছে। সবাই বলে- এমন সুন্দর ক্যাসেটে এতো মানসম্পন্ন রেকর্ডিং-এ পুরনো ছবির গান! এসব গান তুমি পেলে কোথায়?...

আমি আর পুরোটা ভেঙে বলিনা । আমি যে খুঁজে খুঁজে পাটুয়াটুলীর এক দোকানে গিয়ে এসব গান খুঁজে বের করেছি তা’ আর বলিনা। শুধু বলি- “কোথা থেকে পেলাম-তা জানার দরকার নেই, শুধু গানগুলো কেমন লাগলো তা’ বলেন!”

২০০৪ সালঃ চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে

১২ (বারো) বছর পরের ঘটনা। ২০০৪ সাল। চাকুরীতে একটা প্রমোশন হবার পর আমাকে ঢাকা থেকে বদলী হয়ে যেতে হলো চট্টগ্রামে। আমার সংসার পড়ে রইলো ঢাকায় আর আমি চট্টগ্রামে গিয়ে উঠলাম আমার ছোট এক ভাইয়ের বাসায়। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা দীর্ঘ ট্রেন জার্নি । চট্টগ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার রাতের ট্রেনে চড়ে শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছে যাই, আবার শুক্রবার রাতেই ট্রেনে উঠে শনিবার সকালে পৌছে যাই চট্টগ্রামে।

সে এক আশ্চর্য্য সময় গেছে আমার জীবনে। একের পর এক ট্রেন জার্নির নানা সব অভিজ্ঞতা জমা হতে লাগলো আমার ভান্ডারে। ট্রেন জার্নির দীর্ঘ ছয় ঘন্টা সময় পার করার জন্য এক একদিন এক এক রকমের বিষয় বেছে নিতাম আমি। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সনি ওয়াকম্যানে গান শোনার বিষয়টাই প্রধান্য পেতো । তখন এমন একটা সময় আমরা অতিক্রম করছি যখন ক্যাসেটে গান শোনার চল প্রায় উঠে যেতে বসেছে আর সে জায়গাটি আস্তে আস্তে দখল করে নিচ্ছে সিডি-ডিভিডি। কিন্তু আমার ওয়াকম্যানটি যেহেতু ক্যাসেট প্লেয়ার তাই আমাকে সিডির বদলে ক্যাসেট কেনার দিকেই মনোনিবেশ করতে হতো তখনো।

প্রায়ই অফিস শেষে আমি চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে গিয়ে এটা সেটা কিনে সময় কাটাতাম। রাস্তার পাশে দাড়িয়ে নানা অডিও ক্যাসেটও কিনেছি সেখান থেকেই। ঢাকার পাটুয়াটুলী থেকে রেকর্ড করে আনা আমার সেই অনেক শখের বাংলা সিনেমার গানের ক্যাসেটটি তখন আর আমার কাছে নেই। দীর্ঘ বারো বছরের ব্যবধানে কখন যে কীভাবে ক্যাসেটটি হারিয়ে গেছে তা আমি নিজেও সঠিক বলতে পারিনা।...

রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাশ থেকে অডিও ক্যাসেট কিনতে গিয়ে আমি আবার খুঁজতে থাকি কোন ক্যাসেটে ষাট-সত্তর দশকের বাংলা সিনেমার গান আছে। খুব বেশী কষ্ট করতে হলোনা।...শেষপর্যন্ত পেয়ে গেলাম। একটি নয়, দুটি নয়, তিন তিনটি ক্যাসেট, যেখানে সেসময়কার বাংলা সিনেমার অসাধারণ সব মেলোডিয়াস গান রয়েছে।... ক্যাসেট তিনটি কেনার সময় ক্যাসেটের পেছনের কাভারে প্রিন্টেড গানের তালিকা দেখেই আমার মনে হয়েছিলো- ক্যাসেটের দু একটি গান যেন আমার কাছে একেবারেই নতুন, আগে কখনো শুনেছি বা কোথাও এ গানের লাইন লেখা দেখেছি বলেও মনে হয়না।..... অথচ এমনটি হবার কথা নয়।... কেননা ছোটবেলায় আমি ছিলাম ঢাকা রেডিওর কমার্শিয়াল সার্ভিস (যা পরে ‘বিজ্ঞাপন তরঙ্গ’ নামে অভিহিত হয়)-এর একজন একনিষ্ঠ শ্রোতা। অতএব ষাট-সত্তর দশকের কোন বাংলা সিনেমার ভালো কোন গান আমার একেবারেই শোনা হয়নি, এটা আমার কাছে রীতিমতো অবিশ্বাস্যই ছিলো। তাই ক্যাসেটগুলো কেনার পর পরই আমার ঝোঁক তৈরী হয়ে গেলো- ‘না শোনা গানগুলো’ আগে শোনার জন্য।

কিন্তু ক্যাসেট তিনটি যেদিন কিনলাম সেদিন বৃহষ্পতিবার। ঢাকায় আসার জন্য রাতের ট্রেনের টিকিট কিনেছি। তাই ট্রেনে চড়ার আগে আর গানগুলো শোনা হলোনা। রাত এগারোটার দিকে ট্রেনে বসে ওয়াকম্যানে ভরলাম সেই ক্যাসেট। ক্যাসেটের ফিতা ফার্ষ্ট ফরোয়ার্ড আর রিওয়াইন্ড করে টেনে নিয়ে গেলাম ঠিক সেখানটাতে- যেখানে আমার না শোনা একটি গান রয়েছে।...



২০০৪ সালঃ রাতের তূর্ণা নিশীথায় সেই এক গানের আবিস্কার


রাতের ছুটে চলা তূর্ণা নিশীথায় তখন দুরন্ত এক গতি। কেন জানি আকাশটা মেঘলা ছিল বিকেল থেকেই। আমি ট্রেনের জানালা গলে একটু বাইরে তাকালাম- বেশ বৃষ্টি পড়ছে বাইরে। বৃষ্টির মধ্যে আকাশের পূর্ণ চাঁদের আলো যেন অপরূপ এক রহস্যের আলো-আঁধার তৈরী করেছে প্রকৃতিতে। কি আশ্চর্য্য এক মাদকতাময় পরিবেশ! কী আশ্চর্য্য এক মাধুরী মন্ডিত রাত!
আমার হাত ওয়াকম্যানের প্লে-বাটন স্পর্শ করল। এক মুহূর্ত মাত্র! তারপর বেজে উঠলো সেই গান-“ তুমি আমায় ভালোবাসো, তাইতো জীবন মধুর হলো, স্বপ্ন আমার তোমায় নিয়ে রঙে রঙে- রঙ ছড়ালো....”। গলা শুনেই বুঝলাম গানটির শিল্পী মাহমুদুন্নবী আর সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর রাত যতো বাড়তে লাগলো আমি বারবার ক্যাসেট রিওয়াইন্ড করে সেই এক গানই বারবার শুনতে লাগলাম। কেমন এক আশ্চর্য্য মিষ্টি সুর এই গানের! কেমন এক আশ্চর্য্য মাদকতা জড়িয়ে আছে এ গানের সর্বাঙ্গে! এ গান শুনলে কেমন যেন অদ্ভুত এক ভালোলাগা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র সত্তায় !

কোথায় ছিল এ গান এতোদিন? পুরনো দিনের বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় ডুয়েট গান বলতে আমরা সবাই মাহমুদুন্নবী আর সাবিনা ইয়াসমিন এর গাওয়া “ তুমি যে আমার কবিতা, আমার বাঁশীর রাগিনী ” গানটিকেই জানি। কিন্তু ঐ দুজন শিল্পীর-ই গাওয়া আরেকটি গান যে এতোটা সুন্দর, তা আমরা অনেকেই জানিনা। কেন যে এ গানটি পুরনো দিনের অন্যান্য গানের তুলনায় তেমন পরিচিতি পায়নি, তা আমি ভেবে পেলাম না। তবে কি এ গানটি শুধু আমার কাছেই ভালো লাগলো? আর কারো কাছে কী এ গানটি তেমন সুন্দর বলে প্রতীয়মান হয়নি বা ভবিষ্যতেও হবে না?.....

কী জানি! আমি ভেবে পেলাম না, কেন এ গানটি পুরনো দিনের জনপ্রিয় রোমান্টিক ডুয়েট গানের তালিকায় তেমন জোরালো ভাবে স্থান পায়নি। অবশ্য এরপর যে কয়েক মাস আমি চট্টগ্রাম-এ ছিলাম, সে কয়েকমাস এ গানটি হয়ে উঠলো আমার নিত্য শোনা এক প্রিয় গান। শুধু তাই নয়, আমার ঢাকা-চট্টগ্রাম আর চট্টগ্রাম-ঢাকা ট্রেন জার্নির সময়েও এ গান হয়ে উঠলো আমার সনি ওয়াকম্যানে বেজে চলা নিত্য সুরেলা এক পথ সঙ্গী।....


২০০৬ সালঃ প্রিয় গান যখন পুনঃবন্দী হলো সামিনার কণ্ঠে

কেটে গেছে আরো অনেকগুলো বছর।
আমি চট্টগ্রাম থেকে বদলী হয়ে ঢাকা এসেছি। সেই ক্যাসেট বাক্সবন্দী হয়ে আরো অনেক পুরনো ক্যাসেট-এর সাথে স্থান নিয়েছে আমার বাসার স্টোর রুমে। এখন স্বাভাবিকভাবেই ক্যাসেট আর কেউ শোনে না বলে সেগুলো আর বের করা হয়না।... যা কিছু গান শুনি, কম্পিউটারে সিডি বা ডিভিডি চালিয়েই শুনি।...

খুব সম্ভবতঃ ২০০৬ সালের শেষ দিকের কথা। জানলাম- ওয়ার্ল্ড মিউজিক এর বিশেষ প্রযোজনায় সামিনা চৌধুরীর অডিও গানের এক সিডি বের হবে বাজারে। সিডির শিরোণাম- ‘ সুরে রঙ ’। সেই সিডিতে নাকি সামিনা চৌধুরীর সেরা ১৮ টি গান সংযোজিত হবে। আমি অনেকদিন আগে থেকেই সামিনা চৌধুরীর গানের খুব ভক্ত। তাঁর গাওয়া- “বাঁশী আমার বেজে বেজে হলো সারা- সেতো এলোনা ” গানটি আমাকে বরাবরই ভীষণভাবে বিমোহিত করে।..

তাই সামিনা চৌধুরীর সিডির অপেক্ষায় থাকলাম। বের হলো সিডি। সেই সিডি পেয়ে সবচেয়ে যে বিষয়টি ভালো লাগলো তা হলো সামিনার খুবই জনপ্রিয় গান “কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে...” গানটি সেই সিডিতে রিমেক করা হয়েছে এবং সেখানে সামিনার সাথে লাকী আখন্দের হামিং খুবই চমৎকার হয়েছে।... কিন্তু আমি জানতামনা সেই সিডিতে বিস্ময় আছে আরো।... অবাক হয়ে খেয়াল করলাম সেই সিডিতে সামিনার কন্ঠে রিমেক হয়েছে- মাহমুদুন্নবী ও সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ষাট শতকের সেই অসাধারণ অথচ কম-পরিচিত গান -“তুমি আমায় ভালোবাসো, তাইতো জীবন মধুর হলো...”।

আমি সামিনার কণ্ঠে গানটি পেয়ে ভীষণ আবেগে আন্দোলিত হলাম। ভীষণ ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করলাম- যা ভালো, যা সুন্দর- তা চিরকালই ভালো...। তা চিরকাল সবার কাছেই ভালো....। তাই যে গানটি নিয়ে আমি কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলাম- যে গানটি নিয়ে ভাবছিলাম- তা শুধু আমার কাছেই ভালো লেগেছে কীনা- আসলে দেখলাম, সেই ভাবনার কোন প্রকৃত যৌক্তিকতা নেই। আসলে আমার পছন্দ কখনোই কোনকালে এতোটা খারাপ ছিলোনা...। যে গানটি আমার কাছে এতো ভালো লেগেছিলো, সেই গানটি আসলে সবার কাছেই ভালো লাগার মতো এক গান। সে গানের আবেদন নিশ্চয়ই শাশ্বতঃ.... নিশ্চয়ই চিরন্তন! তা’ না হলে সামিনা চৌধুরীই বা এতো কম পরিচিত এ গানটি রিমেক করতে যাবেন কেন?


২০০৯ সালঃ সেই গান যখন ব্লগার সহেলীর পোস্টে

আমার এ লেখার শেষ প্রান্তে এসে বলবো ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসের কথা। বলবো সামহয়্যার ইন ব্লগের ব্লগার সহেলীর কথা। বলবো তার পোস্ট করা ‘প্রিয়-গান বিষয়ক’ একটি পোস্টের কথা....।

অনেকেই জানেন সামহয়্যারইন ব্লগে আমার বিচরণ খুব একটা নিয়মিত নয়। অনেকদিন পর পর আমি হঠাৎ করেই এখানে আসি।.... সেভাবেই সেদিন অনেকদিন পর সামহয়্যারে এসেছি। পরিচিত ভক্ত ব্লগারদের ব্লগগুলো বিচরণ করতে গিয়ে হঠাৎ করেই সহেলীর ব্লগে ঢুকে লক্ষ্য করলাম সামিনা চৌধুরীর গাওয়া সেই রিমেক গানটি নিয়েই সহেলী একটি লেখা পোস্ট করেছেন। পোষ্টের শিরোনাম-
তুমি আমায় ভালবাসো...(সামিনা চৌধুরী)

সহেলী সম্ভবতঃ জানেন না যে সামিনার কণ্ঠের গানটি মূল গান নয়- মূল গানটি গেয়েছিলেন মাহমুদুন্নবী ও সাবিনা ইয়াসমিন সেই ষাট শতকের আমলে ‘আগন্তুক’ ছবিতে। সম্ভবতঃ না জানার কারণেই তাঁর পোস্টে তিনি বা তার পোস্টের মন্তব্যে অন্য ব্লগাররা কেউ মূল গানটির কথা উল্লেখ করেননি।..

যাই হোক, সহেলীর এই লেখা আবার আমাকে মনে করিয়ে দিলো- যা ভালো, যা সুন্দর- তা চিরকালই ভালো...। তা চিরকাল সবার কাছেই ভালো....। একারণেই আমার সেই চট্টগ্রামের নানা স্মৃতি বিজড়িত এ গানটি এতো বছর পর আরো একজনের প্রিয় হয়ে উঠলো....। আরো একজন ভাবতে পারলো....এ গানটি নিয়ে পোস্ট দেয়া যায়...।

একেই বোধহয় বলে অনুভব আর অনুভূতির মিল। একেই বোধহয় বলে এক সমান্তরালে বয়ে চলা। ... লক্ষ্য করলাম এই গান বিষয়ে সহেলীর পোস্ট পড়ার পর অনেক ব্লগারই সহেলীকে এ গানটির লিঙ্ক দিতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সহেলী তা’ দিতে পারেননি। এমনকি মৃণ্ময় আহমেদ- যিনি সহেলীর বিভিন্ন লেখায় গানের লিঙ্ক দিয়ে সহায়তা করেন তিনিও এ গানের কোন লিঙ্ক খুঁজে পাননি।.....


২০০৯ সালঃ সেই গান যেভাবে ইন্টারনেটের ই-স্নিপ্সে

প্রিয় গানটির লিংক ইন্টারনেটের কোথাও নেই-এই বিষয়টা আমাকে কিছুটা ভাবিয়েই তুললো। সহেলীর লেখার মন্তব্যে একজন ব্লগার সাজেস্ট করেছিলো ই-স্নিপ্স ডট কমে গানটি আপলোড করতে...। আমি সামহয়্যারের ব্লগারদের জন্য শেষপর্যন্ত সেখানেই গানটি আপলোড করার সিদ্ধান্ত নিলাম।.... ভাবলাম- শুধু সামিনার কন্ঠে গাওয়া রিমেক গানটিই নয়- আমি সাবিনা ইয়াসমিন আর মাহমুদুন্নবীর গাওয়া অরিজিনাল গানটিও আপলোড করবো সেখানে।... কিন্তু কোথায় সেই অরিজিন্যাল গান? কোথায় সেই জরাজীর্ণ ক্যাসেট? ... টানা দুদিন চেষ্টার পর স্টোর রূমের এক বাক্স থেকে খুঁজে পেলাম সেই অডিও ক্যাসেট।... খুঁজে পেলাম সেই গান- “তুমি আমায় ভালোবাসো, তাইতো জীবন মধুর হলো...”।

মাত্র কয়েকমাস হলো এডোব অডিশন দিয়ে সাউন্ড এডিটিং এর কাজ শিখেছি। তাই একটি স্টেরিও ওয়াকম্যান দিয়ে সেই ক্যাসেট থেকে সেই গানের আউটপুট নিয়ে এলাম এডোব অডিশন এর এডিটিং প্যানেলে।... ক্যাসেটের সেই গান প্রথমে WAV ফরম্যাটে, তারপর পুরনো দিনের রেকর্ডের ‘হিস’ আওয়াজ কমানোর জন্য কিছুটা এডিটিং সম্পন্ন করার পর MP3 ফরম্যাটে রেকর্ড করলাম কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে....।

পরের দিনের সকাল। অনেকদিন পর ঢাকার আকাশে বৃষ্টি নেমেছে । আমার খুব ভালো লাগছে সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতির মাঝে এমন বৃষ্টি...। আহা! কতোকাল এমন বৃষ্টি দেখিনা। কতোকাল এমন বৃষ্টি ভেজা মাটির গন্ধ শুনিনা!.....

সকালে নেটের স্পীড ভালো থাকে। ই-স্নিপ্সে ঢুকে একাউন্ট খুলে ফেললাম। গান দুটো আপলোড করার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। কিন্তু তার আগেই বিদ্যুত চলে গেল। খুব বিরক্ত লাগলো। এমন একটি সময়ে বাধা পড়লো!

কেটে গেলো আরো কয়েকদিন। শেষপর্যন্ত বেশ কয়েকদিনের ব্যবধানে আপলোড করলাম গান দুটি। চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাশ থেকে কেনা অডিও ক্যাসেটের সাবিনা ইয়াসমিন আর মাহমুদুন্নবীর কন্ঠে গাওয়া আগন্তুক ছবির সেই গান শেষপর্যন্ত MP3 ফরম্যাটে আপলোড হলো ইন্টারনেটের ই-স্নিপ্সে। একই সাথে সামিনার গলায় গাওয়া রিমেকটিও পাওয়া যাবে সেখানেই। গানদুটির লিংক দিলাম এখানে-
তুমি আমায় ভালোবাসো, তাইতো জীবন মধুর হলো..


যে অনুভব ভালোলাগার, যে অনুভব চিরকালের....

আমাদের ভালো লাগা গানটি সবার কাছেই ভালো লাগবে- এমন কোন কথা নেই.....। তবে কারো কারো কাছে নিশ্চয়ই আমাদের মতোই ভালো লাগবে। যেভাবে ভালো লেগেছে সহেলীর কাছে, যেভাবে ভালো লেগেছে সামিনা চৌধুরীর কাছে (ভালো না লাগলে তিনি নিশ্চয়ই এটা তাঁর কণ্ঠে পুনঃ রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নিতেন না...), সেভাবেই এ গান নিশ্চয়ই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা কোন না কোন বাঙালীর কাছে নিশ্চয়ই ভালো লাগবে একদিন...অনন্তর....।


যা ভালো, তা বোধহয় চিরকালের জন্যই ভালো ।

তা নিশ্চয়ই চিরকাল এগিয়ে যায়-
এক ভালো লাগা অনুভব থেকে আরেক ভালো লাগা অনুভবের
স্পর্শকাতর দরোজায়.....।


.....................................................................................


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28951208 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28951208 2009-05-15 19:14:40
এই দূরত্ব বিপ্রতীপ নয়... (সাজির জন্মদিনে) কোন কোন শুভেচ্ছার তীব্রতা
ভেঙে ফেলে- দূরত্বের
দীর্ঘ নীরবতা
ছায়া সুনিবিড়, অপরূপ সঙ্গীতে।


এই দূরত্ব অপারগ নয়, উদার অর্পনের।
কোন কোন ইচ্ছের তীব্রতা
দুমরে মুচরে ফেলে-দূরত্বের
সীমাহীন শীতলতা
উৎসর্গের অনাবিল, অপরূপ প্রতিদানে।


এই দূরত্ব অনতিক্রম্য নয়, বিস্মৃতি বিমোচনের।
কোন কোন স্মৃতির ফাল্গুণ
এক লহমায় জড়ো করে কৃষ্ণচূড়া সব
কবোষ্ণ কান্নার, পর্বত পাদদেশে।

এই দূরত্বের দীর্ঘ অলসতা বারবার অসার প্রমাণিত করে
ধেয়ে যায়
শুভেচ্ছার তীব্র আলোক
তোমার শুভ্র সব-স্মৃতিময় দিনের
অনবদ্য
অনাবিল অঙ্গনে।


.................................
(গতকাল ১৯ শে এপ্রিল ছিল আমাদের প্রিয় ব্লগার সুলতানা শিরীণ সাজির জন্মদিন। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এই কবিতা।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28940309 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28940309 2009-04-20 08:27:24
সুনীল সমুদ্রের ক্যামেরায় ও কমিকস-এ এবারের পিকনিক ব্লগারদের আয়োজিত পিকনিককে আমি একটু আলাদাভাবেই দেখি।

একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়া, কিছু সময় কাটানো, কিছু ভালো খাওয়া দাওয়া, তারপর হৈ হুল্লোড় করে ফিরে আসা- এই বৃত্তবন্দী পিকনিক-ছকের বাইরেও যে কারণে ব্লগারদের পিকনিক অনুষ্ঠানের আয়োজন আমাকে খুব বেশী করে কাছে টানতে থাকে, তা হচ্ছে ভার্চুয়াল জগতের চেনা-অচেনা ব্লগারদের সাথে পরিচিতির ব্যাপক সুযোগ। নিতান্ত বিপাকে না পড়লে সে সুযোগটি আমি হাতছাড়া করতে চাইনা কখনোই।

এবারেও যখন বসন্ত পিকনিকের ঘোষণা এলো, আমার ভেতরে অনুভব করতে থাকি একটি আনন্দের অণুরণন। একটি সুন্দর সময়ের জন্য সুমোহন এক অপেক্ষা.. । তাহলে সত্যিই শেষপর্যন্ত আবার হতে যাচ্ছে পিকনিক! আবার ব্লগাররা একত্রিত হচ্ছে এক মোহনায় ! আবার একটি আনন্দময় ঝরণাধারার উষ্ণ ফল্গুধারার পাশে এক হবে তারা !

আবার তারা কথা বলবে-প্রিয় ব্লগারদের সঙ্গে।
প্রিয় সব অনুভব নিয়ে।
প্রিয় সব দেখা-অদেখা মানুষের হৃদ্যতার অনুপম উষ্ণ ছোঁয়ায়.... ।

হয়তো এমন হবে, হাতে হাত মেলাতে গিয়ে এক ব্লগার আরেক ব্লগারকে উদ্দেশ্য করে বলবেন- আরে! আপনি তো দেখি একেবারেই অন্যরকম! না জেনে, না দেখে আপনাকে কতো গালাগাল দিয়েছি ব্লগে!

পিকনিকের দিনটিকে ঘিরে এমন সব শুভ সুন্দর প্রত্যাশার ডালপালা-ই ভেতরে ভেতরে বিস্তৃত হচ্ছিলো । পিকনিকের দিনটিতে গিয়ে অতঃপর সেইসব প্রত্যাশার নীরব নিভৃত বৃক্ষ সরব হয়েছে -পরিপূর্ণ সার্থকতায়।

স্পটে পৌছাতে দেরী হয়ে যাওয়া আর খাবার আসতে দেরী হওয়া-এই দুটি অঘটনকে বাদ দিলে পিকনিকের আর সব আয়োজন সুন্দর স্পটের নয়নাভিরাম প্রকৃতির স্পর্শে মোটামুটি সূচারুভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল । পিকনিকের পরিশ্রমী আয়োজকরা, বলা যায়, অনেকাংশেই সফল হয়েছেন।

পিকনিক নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকগুলো পোষ্ট হয়েছে ব্লগে। সামহয়্যারের অনিয়মিত ব্লগার হিসাবে আমি প্রায় দশ দিন পর যে পোষ্টটি নিয়ে হাজির হলাম- তার বিষয়বস্তু আমার নিজের কাছেও প্রথম। অর্থাৎ এই প্রথমবারের মতো আমি ছবি ব্যবহার করে কমিকস বানালাম। কেবলমাত্র হিউমার-এর দিকে লক্ষ্য রেখেই কমিকস গুলো তৈরী করেছি, আশাকরি ছবির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে কমিকস বা কৌতুকগুলোকে সহজভাবেই নেবেন।


১. যার যার স্বপ্ন


২. কীভাবে কালপুরুষ..

৩. ২৪ নম্বর নিক...(?)

৪. সিরিয়াস টক থেকে দূরত্বে...

৫. বিব্রত মাণিকজোড়

৬. কার তোলা ছবি কেমন ?

৭. ভাবনা -ব্লগে প্রথম পোষ্ট

৮. তিন এর পর আরেক তিন

৯. হুল্লোড়ে দেখা

১০. ব্লগে শান্তি প্রতিষ্ঠা

১১. মেডিকেল ছাত্রী

১২. পানি গোনা

১৩. ক্ষুদে সাংবাদিক

১৪. নড়বড়ে সাঁকোতে উঠে সারিয়া যখন বিপদে-১

১৫. নড়বড়ে সাঁকোতে উঠে সারিয়া যখন বিপদে-২

১৬. মোবাইলে মগ্ন

১৭. কবি হয়ে ওঠা

১৮. কথা আদায়ের কঠিন আবদারে..

১৯. পাঞ্জায় পথিক

২০. মডারেশন ও ব্যান

২১. আচার যখন উপকারে..

২২. উত্তাপে আচার

২৩. হ্যান্ডসাম বনাম হরর পথিক

২৪. প্রাপ্তি ও পরিত্যাগ-১

২৫. প্রাপ্তি ও পরিত্যাগ-২

২৬. আসল প্রাপ্তি-সাধের লাউ

২৭. কবি কীভাবে কমিকস বানালেন..



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28927758 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28927758 2009-03-22 08:22:54
প্রিয় সাজি, কেমন দেখে গেলেন- প্রিয় স্বদেশ? প্রিয় সাজি,

ঠিক জানিনা, কতোটা ভালো আছেন।

তবে এটা জানি, আর মাত্র একটি দিন।....
আর একটি দিন পরেই আপনি ফিরে যাবেন আবার প্রবাসে।

আবার কানাডার কোন শীতের সকালের মনোমুগ্ধকর তুষারপাত অথবা বহুদূরের কোন পাহাড় ঘেষা শহরের রাস্তা দিয়ে একাকী গাড়ীতে চলার অপরূপ আনন্দ হয়তো এক একটি বিস্ময়কর গোলাপ অথবা এক একটি বিনিদ্র জ্যোছনার অপরূপ রাত্রি হয়ে ফুটে উঠতে থাকবে আপনার কবিতায়...।

কানাডার নীরব নির্জন ছিমছাম সুন্দর কোন পাহাড়ীপথে, আপনার কবিতায় বহুবার বলা সেই স্বপ্নের মতো কোন ওভারকোট আর স্কার্ফ পড়ে আনমনে একাকী হাঁটতে গিয়ে-আপনার কি হঠাৎ মনে পড়ে যাবে, ফেব্রুয়ারি ২০০৯ মাসটা আপনি কাটিয়েছিলেন এই প্রিয় স্বদেশেই? আপনার কি মনে পড়ে যাবে-এই স্বদেশের কিছু রক্তিম কৃষ্ণচূড়া দেখার প্রত্যাশায় এসে আপনি শেষমেষ দেখে গেছেন ভয়ানক রক্তাক্ত এক কৃষ্ণপক্ষ, ভয়ংকর বেদনাময় এক নদী সমান রক্তের অবিশ্বাস্য এক হোলি খেলা? আপনার কি মনে পড়বে আবার- স্বদেশের যে পবিত্র মাটিতে খালি পায়ে একটু হেঁটে আপনি স্বাদ নিতে চেয়েছিলেন বাঙালীর চিরন্তণ মমতার, সেখানেই মমতাহীণ হিংস্র কদর্যতায় গেঁথে ফেলা কিছু মানুষের লাশ-আপনাকে ঠেলে দিয়েছিলো নির্বাক, অবিশ্বাস্য, কবিতাবিহীণ এক জ্যোছনাশূন্য স্তব্ধতায়?

আর কি কোন একুশের বইমেলায়, কোন স্বদেশের স্মরণ অনুষ্ঠানে, আপনি শোনাতে পারবেন-সেই অনিন্দ্য উচ্চারণ-‘এক জ্যোছনায় তুমি আর আমি?’

এরপর আবার কোন বিষণ্ণ রাত্রিতে, আবার কোন বৃষ্টির রাতে যখন হু হু কান্নার মতো এই দেশের কথা আপনার মনে পড়তে থাকবে, তখন কি আপনিও সেই আরেকজন মানুষের মতো বলে উঠবেন, “ আমি ভালো নেই , আমি ভালো নেই, শুধু তুমি ভালো থেকো দেশ! ”

২৬ শে জানুয়ারীর যে সকালটিতে আপনি পা রেখেছিলেন দেশের মাটিতে, সেই দিনটাও হয়তো আপনাকে স্তব্ধই করে দিয়েছিলো। তবে সেই অনুভবের সাথে আজকের অনুভবের নিশ্চয়ই অনেক তফাৎ।

আপনার সেদিনের সেই স্তব্ধতা ছিলো অপার মুগ্ধতার! সেই স্তব্ধতা ছিল বিস্ময়ের, আনন্দের! আপনার সেই স্তব্ধতা ছিল বহুদিন পর ফিরে পাওয়া-চিরচেনা ঢাকার রাজপথে আবার হাঁটতে পারার তীব্র আনন্দের অপরিসীম এক নির্বাক স্তব্ধতা!

যতোদূর মনে পড়ে, সেদিন আকাশে কোন বৃষ্টি ছিলোনা।
মেঘের চিহ্ণ তো নয়ই। বরং অদ্ভুত এক উজ্জল রোদের আলোয় ভেসে যাচ্ছিলো নগরী। ঠিক ক’টায় আপনার প্লেন ঢাকার আকাশ স্পর্শ করেছিলো তা জানা নেই, তবে জানি, আমাদের কয়েকজন ব্লগার সেদিন আপনাকে হৃদয়ের শুভ্র শুভেচ্ছায় স্বাগত জানাতে গিয়েছিলো।

বিশ্বজুড়ে ব্লগাররা অন্তর্জালের এক ভার্চুয়াল চরিত্র। সাধারণভাবে প্রকাশ্য আলোয় ব্লগারদের আসার কথা নয়। কিন্তু বাঙালী ব্লগার বলে কথা! বাঙালীর আবেগ, বাঙালীর সামাজিকতা, বাঙালীর দায়িত্ববোধ ও আপ্যায়ণমুখী স্বভাব খুব সহজেই তাকে টেনে বের করে আনে মুখোশের আড়াল থেকে বাইরের সুস্পষ্ট আলোয়।

সেই যে ‘প্রাপ্তি’ নামের ছোট্ট মেয়েটাকে বাঁচানোর জন্য কিছু ব্লগার বেরিয়ে এসেছিলো লুকানো নিক-এর আড়াল থেকে বাইরে, তারা আর ফিরতে পারেনি ভার্চুয়াল মুখোশের অজানা অন্তরালে। প্রাপ্তি থেকে শাশ্বত, শাশ্বত থেকে উপমা -এক এর পর এক বিপন্ন মানবতাকে বাঁচানোর দায়িত্ববোধ বাঙালী ব্লগারদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সীমাহীন শুদ্ধতার অপরূপ এক সুস্পষ্ট বারান্দায়।

কিন্তু সেই সুস্পষ্ট বারান্দা, সেই সুন্দর আঙিনার অন্য আরেক চিত্রও হয়তো আপনি দেখে গেলেন সাজি।আপনি দেখলেন, বাঙালীর অন্তহীন ঐক্যের এই অপরূপ মোহনা থেকেই কিভাবে সৃস্টি হয়ে যায় অনাকাংখিত সব বিভেদ। কিভাবে এলোমেলো সব ভুল অনুভব, কিভাবে অষ্পষ্ট সব ভ্রান্ত উপলব্ধি থেকে অযথা দীর্ঘ দূরত্বে চলে যায়, প্রিয় সব ব্লগার আমাদের !

আমাদের প্রিয় সামহয়্যারকে আমি বরাবরই তুলনা করেছি-প্রতিদিন চোখ রাখা এক মুগ্ধ জানালার সাথে। সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী ব্লগাররা প্রতিদিন এই জানালায় চোখ রেখে যেন নতুন সঞ্জীবনী শক্তিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে লেখালেখির তাড়নায় নতুন করে পরিশুদ্ধ হয়ে ওঠে ! অথচ সেই ব্লগ যখন আক্রান্ত হয় কদর্য কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে, সেই ব্লগ যখন ভাসতে থাকে আক্রমণাত্বক গালাগালির বন্যায়, তখন খুব কি ইচ্ছে করে না, জানালাটা খুব দ্রুত বন্ধ করে দেই?

খুব কি ইচ্ছে করে না, চীৎকার করে পৃথিবীর সব বাংলা ভাষাভাষীদের বলি, আমাদের ব্যর্থতার এই অংশটুকু তোমরা দেখতে এসোনা।.... আমাদের গালাগালির এই অংশটুকু তোমাদের অনাবিস্কৃত থাকুক। তোমরা চোখ বন্ধ করে রাখো।....যতোক্ষণ না আমরা ফিরে যেতে পারি, অনাকাংখিত বিভেদ থেকে ঐক্যের অপরূপ, শুদ্ধ মোহনায়।

আমি জানি, ঢাকায় আসার পর প্রথম কয়েকটি দিন খুব চমৎকার কেটেছিলো আপনার। ফেব্রুয়ারী আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের মাস। এই মাসে আমাদের নানা আয়োজন। আপনি এসেই সম্ভবতঃ দুদিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব পেয়েছিলেন।

পেয়েছিলেন প্রতিদিনের বইমেলায় নতুন নতুন বইয়ের প্রকাশনা উৎসব। পেয়েছিলেন অতিথিপ্রিয় বাঙালীর প্রাণের উষ্ণতা। দেখেছেন সাহিত্যের আড্ডা, দেখেছেন লেখক-কবি-গল্পকারদের প্রাণোচ্ছল ব্যস্ততা। দেখেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য নিবেদিত প্রাণ মানুষদের ঐকান্তিক প্রয়াস।

ব্লগারদের মিলনমেলায় উপমা নামের একটি ছোট্ট শিশুকে বাঁচানোর ঐকান্তিক মহতী প্রয়াসও আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন।যখন উপমার জন্য মানবতাকামী ডেডিকেটেড ব্লগাররা ফাল্গুণের শিশিরসিক্ত স্নিগ্ধতায় সারিবদ্ধ হয় এক মোহনায়, যখন এই ছোট্টমেয়েটির জন্য আকুলতা আর সমবেদনা জানিয়ে সামহয়্যারের আকাশ জুড়ে একের পর এক ফুটে উঠতে থাকে -অপূর্ব চন্দ্রিমার মতো হৃদয়স্পর্শী সব মমতাময় পোষ্ট, যখন ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দের ভেতর এক থোকা বিবর্ণ বিষণ্ণ গোলাপের মতো উপমা’র বিপন্ন দৃষ্টির সাথে মিলে মিশে যায় দায়িত্ববোধে সমুজ্জ্বল আমাদের ব্লগারদের সমব্যাথী চোখ, তখনও কি আপনার একবারও মনে হয়েছিলো-এই এতোসব উজ্জলতার পরেও, ব্লগারদের ত্যাগ-আত্মোৎসর্গের এতোসব বিকীর্ণ শুভ্র আলোকছটার পরেও আবার আমাদের ব্লগ ‘উত্তপ্ত হয়ে ধূসর-ম্লান’ হয়ে যেতে পারে কিছু অসহিষ্ণু বিভেদ জটিলতায়? আবার এখানে আসতে পারে ব্যান অথবা আনব্যান এর মত ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ সব আলোচনা-প্রসঙ্গ?

আমি লক্ষ্য করেছি দেশে কাটানো সময়টাতে আপনার তেমন কোন নতুন পোষ্ট আসেনি সামহয়্যারের পাতায়। কী আশ্চর্য্য! দেশে এসে দেশের অবাক সান্নিধ্যে যেন থমকে গেলেন কবি। খুব কি নিবিড় কোন জ্যোছনায় ডুবে থাকলেন কবি? নাকি প্রিয় মানুষের ভিড়ে হারানো কাউকে অন্তহীণ খুঁজে বেড়ানো? লালমনিরহাটের লাল নীল সূতোয় বাঁধা কিশোরী বয়সের হারানো কবিতার খাতায় কী কী খুঁজে পেলেন-স্মৃতিমগ্ন কবি?

অবশ্য সাজি, আমার খুব মনে পড়ে, কয়েকদিন আগের এক রাত্রিতে টেলিফোনে কথা বলার সময়-আপনি যেন অনেকটা আনমনেই বলে উঠলেন-‘ছোট ছেলেটার জন্য মন খুব খারাপ লাগছে....’। মুহুর্তে আমি বুঝলাম-এই দেশের সমুদ্র সৈকতে আছড়ে পড়া সব ঢেউ, লালমনিরহাটের লাল নীল সোনালি স্মৃতি- যতোই হাতছানি দিয়ে ডাকুক আপনাকে-আকাশ অরণ্য আর পাহাড় পর্বতের সকল সীমানা ছাড়িয়ে-অনেক দূরের সেই কানাডা শহরেই পড়ে আছে আপনার আসল শেকড়- আপনার আজন্ম আদরের রাইয়ান আর রাশীক। আপনি কবি, আপনি আবেগপ্রবণ, আপনি দেশপ্রমিক। কিন্তু চিরন্তণ এক বাঙালী মায়ের মমতার ঔদার্য্য যেন মুহুর্তে হাজারো উজ্জ্বল শিখায় সমুন্নত হয়ে অবাক বিস্ময়ে ঢেকে ফেলে আর সব পরিচয়ের প্রজ্জ্বল পথরেখা। সব পরিচয়ের সীমানা ছাড়িয়ে কোথায় যেন বাজতে শুরু করে গান..... “ কতোদূর.... আর কতোদূর..... বলো মা....” ।


দেশে কাটানো এই একমাসের ভেতরেই একুশের ভোর এসে শোকার্ত পায়ে দাঁড়িয়েছে আপনার দরোজায়....।আমার মনে পড়ে, আমার এক প্রবাসী বন্ধু প্রায়ই অনুযোগ আর হাহাকার করতো-একুশের প্রভাতফেরীর গাম্ভীর্য্যময় থমথমে বেদনার্ত মিছিলে আর সে শামিল হতে পারে না বলে। সেদিক থেকে আপনি ভাগ্যবান..। আপনি দেশে এসেছেন একুশের মাসে। এমন একটি মাস- যে মাসে এ দেশের আকাশ-অরণ্য- নিলীমায়, জলে-স্থলে--অন্তরীক্ষে, আমাদের হৃদয় অভ্যন্তরের স্পর্শের অতীত কোন অন্তিম গহীনে, অণুক্ষণ অজান্তেই ভেসে বেড়াতে থাকে পৃথিবীর শোকাবহতম সেই অনন্ত জিজ্ঞাসার কান্নাবিধুর সঙ্গীত-“আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি?”


একুশ স্মরণে বাঙালীর এই চিরন্তণ মিলনমেলা, বাঙালীর এইসব প্রাত্যহিক প্রাণের উৎসবে ভেসে যেতে যেতে আপনার কি কখনো মনে হয়েছিলো, বাঙালীর এই ইতিহাস ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার প্রয়াস বাধাগস্ত করতেই নীরবে ধেয়ে আসছে কোন অশুভ দিন? আপনার কি কখনো মনে হয়েছিলো, আবার এই দেশের বুক রক্তাক্ত হবে, আবার এই ফাল্গুনেই এই মাটির বুকে লুটিয়ে পড়বে রাশি রাশি রক্তে বিলীন সব অমূল্য কৃষ্ণচূড়া!

না, আমি জানি, আপনি তেমনটি ভাবতে পারেননি। আর শুধু আপনি কেন? এই শহরের বুকে কলংক হয়ে লেপ্টে থাকা সব কালের, সব যুগের, সব অনাকাংখিত রক্তপাতের ঘটনাগুলোই কোন বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন লোক ভেতরে ভেতরে মেনে নিতে পারেনি।...

আর কবিরা?
কবিরাতো নয়ই। এসব বিষয়ে কবিদের অনুভব আরো সুস্পষ্ট, আরো গভীর, আরো তীক্ষ্ণ....।

একারণেই শব্দের সীমাহীণ আশ্চর্য্য সুন্দর ব্যবহার প্রয়োগ করে ‘হন্তারকদের প্রতি’ শিরোণামে কবি শহীদ কাদরী লিখে ফেলেন বেদনা বিধুর আরেক কৃষ্ণ সকালের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে হৃদয় চমকে দেওয়া এক স্তব্ধতার কবিতা-

“বাঘ কিংবা ভালুকের মতো নয়,
বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা হাঙরের দল নয়,
না, কোনো উপমায় তাদের গ্রেপ্তার করা যাবে না।

তাদের পরনে ছিল ইউনিফর্ম,
বুট, সৈনিকদের টুপি,
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাদের কথাও হয়েছিল,

তারা ব্যবহার করেছিল
এক্কেবারে খাঁটি বাঙালির মতো,
বাঙলা ভাষা। অস্বীকার করার উপায় নেই ওরা
মানুষের মতো
দেখতে, এবং ওরা মানুষই,
ওরা বাঙলার মানুষ

এর চেয়ে ভয়াবহ কোনো কথা আমি আর
শুনব না কোনোদিন”।

প্রিয় সাজি, যারা ২৫ শে ফেব্রুয়ারীর সকালটিকেও ঢেকে দিয়েছিল নিষ্ঠুর রক্তের এক অবিশ্বাস্য আল্পনায়-তারাও মানুষ ছিল এদেশেরই- তারাও ছিল এই বাঙলারই মানুষ।.....

হয়তো এর চেয়ে ভয়াবহ কোনো কথা-আমরাও আর শুনব না কোনদিন !

..................................

ভালো থাকুন সাজি।
ভালো থাকুক আপনার সব শুভ উচ্চারণ।
ভালো থাকুক আপনার সব শুভ কবিতা।.....

অনুমান করি, এইবার প্রবাসে ফিরেই আপনার সব লেখায়, সব কবিতায়, সব গানের সুরে হয়তো বারবার বলতে চাইবেন-

‘আমি ভালো থাকবো, আমি অবশ্যই ভালো থাকবো-
যদি শুধু তুমি ভালো থাকো দেশ...!
যদি শুধু তুমি স্বাভাবিক থাকো দেশ...!’



শুভেচ্ছান্তে,

সুনীল সমুদ্র

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28919808 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28919808 2009-03-04 07:50:48
তুমি চলে গেলে এমন হয়...
তুমি চলে গেলে বুঝি,
তোমাকে বিদায় দিতে মনে মনে অপ্রস্তুত
হয়তো আমিই ছিলাম, সবচেয়ে বেশী

হয়তো আমার বাগান জুড়েই ফুটে থাকলো সব
না বলা কথার গোলাপ
বিষন্নতায় বিব্রত খুব, আধোমুখী।

হয়তো তোমাকে দেবার জন্য সযত্নে রেখে দেওয়া
একটি পাখীর পালক
ভুল করে শেষতক, রয়ে গেছে এই বুকপকেটেই

হয়তো তোমার জন্যই
সোনালী ফিঁতেয় বেঁধে রেখে দেওয়া এক নীল খাম
সারাজীবন আমাকে মনে করিয়ে দেবে
কী ভীষণ ভুলোমন ছিল বলে-পারিনি পৌঁছাতে শেষমেষ
বিদায়ী ট্রেনের সেই বিমর্ষ দরোজায়।

তুমি চলে গেলে এইসব টুকরো টুকরো সব ব্যর্থতা আমার
আমি সারারাত জোড়া দেই
অনুক্ত কথার এক সুবিশাল সম্পাদনা টেবিলে

বারবার গুণে দেখি, কতোবার
একটি আলাদা বিকেল-
আলাদা খামের মধ্যে ভরে রেখেও শেষমেষ
পারিনি পৌঁছে দিতে সন্ধ্যায়
তোমার সখ্যতায়।

তুমি চলে গেলে এমন হয়-
তুমি চলে গেলে ভাবি, একটি গানের সুর
কতোবার শোনাতে চেয়েছি তোমাকে এই
অপারগ বেসুরো গলাতেই-

ভাবি, কতোবার রাত্রির নিঃস্তব্ধতা ভেঙ্গে
তোমার জন্য লেখা কবিতার আবৃত্তি আমার
ভেসে গেছে নির্জনতায়, নিস্পৃহ এক
অন্ধকার কালো মেঘে।

তুমি চলে গেলে ইতস্ততঃ এখানে সেখানে
তোমার ফেলে রেখে যাওয়া স্মৃতির রুমালগুলো
এইভাবে যত্নে জড়ো করি,

ভাবি, হয়তো অজানা অচেনা কোন কষ্ট নিয়েই
শেষমেষ ফিরে গেছো তুমি-
হয়তো শহর পারেনি সার্থকতায়
তুলে দিতে কিছু ফুল
যথাযথ সম্ভাষণে, ঐ হাতে-

হয়তো নিস্পৃহ নগর ব্যর্থ হয়েছে নিদারুণ
সাজাতে নৈর্বেদ্য তোমার, বিদায়ের পথে পথে।

হয়তো আমার উপর কোন অজানা অনুযোগ নিয়েই
শেষতক ফিরে গেছো তুমি-

হয়তো আমার কাছে, একান্ত অধিকার ছুঁয়ে
যেটুকু প্রাপ্তি ছিল তোমার
আমি তার কোনটাই, মেটাতে পারিনি!

তুমি চলে গেলে এইসব ব্যর্থতার তালিকা নিয়ে
এলোমেলো, ঠিকানাবিহীন সব পথ হেঁটে চলি-

কখনো অবাক হয়ে ভাবি-
যে শব্দমালা লিখেছি দিনের পর দিন, কবিতার খাতায়-
বুকের অলিন্দে,
না বলা কথার নির্জনতায়- নিঃশব্দে, নিরিবিলি-

আমি কি পেরেছি তা, অতঃপর
শুভেচ্ছার গালিচা বানিয়ে
একবারও বিছিয়ে দিতে, দ্বিধাহীণ দৃঢ়তায়
তোমার চলে যাওয়া, কান্নার পথে পথে?


..........................................................................................
(একই সাথে পড়া যেতে পারে আমার অন্য আরেকটি কবিতাঃ
তুমি ফিরে আসলেই শুধু এমন হয়... )



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28915591 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28915591 2009-02-24 08:37:52
সারাটা শহর জুড়ে তুমি নেই... সারাটা শহর জুড়ে কোথাও তোমার কোন খোঁজ নেই।
আকাশ, অরণ্য অথবা সাগর -- কেউ একজনও জানেনা
কোন খোঁজ।
সারাটা শহর হাতড়ে হাতড়ে আমি
হারানো এক মানুষ খুঁজে চলি।

এমন বিরাট শহরে দেখো একজনও শুভাকাংখী নেই-
এমন বিরাট শহরে এমন একজনও নেই-

একান্ত আপন হয়ে জানাবে একবার
কিভাবে কাটছে তোমার- এতোসব সন্ধ্যা সাবলীল!

সারাটা শহর আমি তন্ন তন্ন করে খুঁজে চলি-
সারাটা শহর সহস্রবার উল্টো-পাল্টা করে দেখি
কোথাও অজান্তেই গোপন রয়েছে কিনা
তোমাকে স্পর্শের জ্যোতির্ময় যাদু-মায়া-
তোমাকে অনুভবের অনবদ্য কোন ক্ল্যাসিক ম্যাজিক।

দেখি এমন কোন রহস্যময় সুড়ঙ্গ,
এমন কোন অজানা পথ আছে কিনা-
যেখানে আমার পাথর হয়ে যাওয়া কষ্টগুলো রেখে দিলে
গলতে গলতে সেগুলো সব
দীর্ঘশ্বাস হয়ে পৌঁছে যেতে পারে-
রাতারাতি, তোমার কাছে।

অথচ দেখো- সারাটা শহর জুড়ে একজনও
শুভাকাংখী সমব্যথী নেই,
একজনও নেই-
আমার চাওয়াটুকু বুঝে -
একটি গোলাপ রেখে আসবে খুব ভোরে
শীতার্ত তোমার জানালায়।

যেন সবাই বিমুখ আজ খুব।
যেন বিরাট এই শহরে শুধু তোমার কথা তুললেই
সকল মানুষ মুখ ভার করে নত হয়ে থাকে-
যেন আমাকে একটিবার তোমার কথা বলে দিলেই
ভীষণ এক গৃহযুদ্ধ বেঁধে যাবে পৃথিবীতে-

যেন একবার তোমাকে দেখতে চাওয়া মানে
আমি ভুল করে চেয়ে ফেলেছি- সেই প্রবল ভয়াবহ নিষিদ্ধ এক চাওয়া-
যার অপরাধে পৃথিবীশুদ্ধ সব ‌ভালবাসা উপড়ে ফেলা হবে
বিশুদ্ধ শেকড় থেকে-রাতারাতি।

এতোটা নির্মমতার পরেও দেখো- নিঃশব্দেই বেঁচে থাকি-
এতোটা অসহায়ত্বের পরেও দেখো-
প্রতিবার- অনিঃশেষ আকুলতায়
তোমাকে দেখার প্রত্যাশায়, পুনরায় চোখ খুলি ।

অন্ততঃ একজন আমি জানি
কী অপার অবহেলায় হারিয়ে ফেলেছি চেনা পথ-
স্বপ্ন আর আনন্দের মুগ্ধ পৃথিবী থেকে-চিরতরে !
কী বিশাল ভুলের মুহুর্তে, তুচ্ছ করেছি এক
আস্থায় বাড়িয়ে দেওয়া হাত
ভয়াবহ, ক্ষমাহীণ, অনিঃশেষ নীরবতায়।

কেউ না জানুক, অন্ততঃ একজন আমি জানি
কিভাবে মৃত্যু হয়েছে খুব যত্নে গড়া এক কবিতার,
অর্বাচীন কবির আনাড়ী অদূরদর্শী এক হাতে !

নিশ্চিত জানি, নিজ হাতে নিজস্ব প্রেম হত্যার
বিরাট লজ্জায় সেদিন পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল।

সেদিন শহরের শীতলক্ষ্যার বুকে কোন কপোত ওড়েনি,
সেদিন লজ্জায় রমনার পার্কের বেঞ্চিতে কোন যুগল বসেনি
সেদিন পৃথিবীর সকল কবির সমস্ত প্রেমের কবিতা ক্রোক করা হয়েছিল
পৃথিবীর তাবৎ সাহিত্য সংগ্রহ থেকে।

সে বিপুল অবিশ্বাস্য ঘটনা-
সূর্য্য সহসা বিশ্বাসই করেনি।
সে বিপুল নির্লজ্জ সরে যাওয়া দেখে-
চাঁদতো লজ্জায় দিশেহারা !

তারপরেও দেখো স্তব্ধ গহীণে কোন আকাশ কাঁদেনি।
তারপরেও দেখো- ছেড়ে গেছি অবলীলায়
প্রিয় সেই প্রাঙ্গন, নির্দ্ধিধায়।

এই ছেড়ে যাওয়া-
কি প্রবল এক ছেড়ে যাওয়া দেখো !
একটি পথও আর আমাকে এসে বলেনা,
এই পথে হেঁটে গেলে আবার তোমার সাথে দেখা হবে !

একটি মানুষও আমাকে এসে বলেনা,
একবার তাঁর সাথে দেখা হয়েছে হঠাৎ।
একবার অন্যরকম হেসে সে জানতে চেয়েছে--
কেমন কাটায় দিন, সেই এক অথর্ব মানুষ?

কি প্রবল ছেড়ে যাওয়া দেখো !
আমি শহরের মিনার দেখে প্রার্থনায় নতজানু হই
শহর আমাকে বলেনা-
কোনখানে আমার শব্দগুলো রেখে দিলে-
বিষন্ন ভায়োলিন হয়ে একদিন
পৌঁছে যাবে- তোমার দরোজায়।

সারাটা শহর জুড়ে তুমি নেই !
যেন শহর-নিঃস হয়ে গেছে খুব
এই এক তুমি ছাড়া !

তোমাকে অন্বেষণের এই অনন্ত বিষাদ
অতঃপর- তোমার কি জানা হবে কোনদিন ?
তুমি কি সত্যিই জানতে পারবে কোনদিন
তোমার দৃঢ়তার কাছে হেরে গেছি সেই কবে?
কেন আজ-
তোমার নীরবতার কাছে এতো বেশী নতজানু?

তোমাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে
শহরের বুকে ঝরে গেছে কতোসব অমূল্য রাত্রি আমার !
শিশিরকণায় ভিজে কতোবার
অপেক্ষার সকাল হয়েছে সুদীর্ঘ- সন্তাপী অনুতাপে
তুমি কি জানবে কোনদিন?

একবার ভুলের পাথর সরিয়ে-
তুমি কি আসবে ফের
প্রিয় পরিচিত শহর, আর তার
অনবদ্য সঙ্গতায় ?

আমি অনুভব করি
তোমার আলোর রেখা-আজো অবিরাম
অনন্তর চারপাশে ঘোরে-
আমি অনুভব করি-তোমার নিঃশ্বাস ছুঁয়ে
আজো সঙ্গোপনে
শীতের শিউলি ছোঁয়- সকালের পবিত্র শিশির।

আমি বিশ্বাস করি-তোমার বিদীর্ণ চীৎকারে
অতঃপর একদিন-
মধ্যরাত্রিতে জেগে ওঠবে- এ সমগ্র শহর-
তোমার আর্ত চীৎকারে -ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে
শহরের নিঃস-নীল, বেদনার্ত নীরবতা।

সারাটা শহর জুড়ে তুমি নেই!
অথচ সেইদিন-
লাল নীল আলোর ঝরনায়
একটি ক্ষমার গোলাপ হাতে
সারা শহরেই-নিদারুণ ছড়িয়ে পড়বে তুমি।

অপার আনন্দ চোখে শহর দেখবে-অপলক
আমার অন্তহীণ অবিরাম অপেক্ষার চারপাশে
কী প্রবল ভয়াবহ- ছুটে আসা-
সহস্র সহস্র সব তুমি!



....................................................................................
(এই কবিতাটিও পোষ্ট করা হয়েছিল ‘আমার 'অন্য আকাশ'’ নিক থেকে। এখন এখানে এনে জড়ো করলাম।)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28914566 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28914566 2009-02-22 08:02:10
ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যা দূর করে নিন সহজেই....

(ক) সমস্যার মেঘ......যেখান থেকে শুরু

উইন্ডোজ এক্সপির সার্ভিস প্যাক-২-তে প্রথম যখন ইউনিকোড বাংলা ব্যবহারের সুযোগ অন্তর্ভূক্ত হল তখন থেকেই বাংলা ফন্টের আকার বা সাইজ জনিত একটি সমস্যা বারবার আমাদেরকে বিপাকে ফেলেছে। ইউনিকোড বাংলার প্রচলন শুরু হবার পর থেকেই লক্ষ্য করা গেছে যে, উইন্ডোজ এক্সপির একমাত্র ডিফল্ট বাংলা ইউনিকোড ফন্ট -Vrinda- এর আকার অপেক্ষাকৃতভাবে বা তূলনামূলকভাবে অনেক, অনেক ছোট।

কোন নির্দিষ্ট সাইজের Vrinda ফন্টের আকার বা আকৃতি, অন্য যে কোন সমান সাইজের স্টান্ডার্ড ইংরেজী ফন্টের তূলনায় অনেক অনেক ছোট বলেই ইউনিকোড বাংলার ব্যবহারকারীদের মধ্যে Vrinda ফন্টটিকে এড়ানোর একটি চেষ্টা সবসময়ই লক্ষ্য করা যায়।

এখানে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করতে হয় যে, ইউনিকোড বাংলার কোন ওয়েবপেজে যখন নির্দিষ্ট কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্ট এমবেড করা থাকে না, তখন ঐ ওয়েবপেজটি বাংলা অক্ষর দেখানোর জন্য নিজে থেকেই বেছে নেয় উইন্ডোজের ডিফল্ট ইউনিকোড বাংলা ফন্ট- Vrinda কে। আর তখনই ঘটে যায় আসল বিপত্তি। আমরা দেখতে পাই বাংলা অক্ষরগুলো এত ছোট দেখাচ্ছে যে তা’ কিছুতেই পড়া যাচ্ছে না। অবশ্য আধুনিক অনেক ব্রাউজারেই Text Font কে Zoom করে দেখাবার ব্যবস্থা বহাল আছে। কিন্তু সঙ্গত কারণেই সেটিকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যার স্থায়ী কোন সমাধান হিসেবে মেনে নেওয়া যায়না।


(খ) সমস্যার মেঘের বিস্তার......ফেসবুকে

সাম্প্রতিককালে ফেসবুকের ব্যবহার অনেক বেড়েছে।এই ফেসবুকে ইউনিকোড বাংলায় লেখালেখি করা যায় ইচ্ছেমতো! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই লেখা পড়বার ক্ষেত্রে অনেকেই অভিযোগ করেন যে, তাদের পিসিতে ফেসবুকের ওয়েবসাইটের বাংলা অক্ষরগুলো এতো ছোট দেখাচ্ছে যে তা একেবারেই পড়ার অনুপযোগী। আসুন আজকের এ লেখার মাধ্যমে ফেসবুক তথা যে কোন ইউনিকোড বাংলার ওয়েবসাইটেই বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান আমরা খুঁজতে চেষ্টা করবো।

(গ) ইউনিকোড বাংলার তিনটি স্টান্ডার্ড ফন্ট-এর তুলনামূলক আলোচনা

ইউনিকোড বাংলার ওয়েবসাইটগুলোতে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যার স্থায়ী কোন সুন্দর সমাধান খুঁজতে যাবার প্রথম পর্বে আসুন আমরা ইউনিকোড বাংলার তিনটি স্টান্ডার্ড ফন্ট (Vrinda, Solaimanlipi ও Siyam Rupali) এর আকার সম্বন্ধেই আরেকটু বিষদভাবে জানতে চেষ্টা করি।

১৪ সাইজের ইংরেজী Arial ফন্টের তুলনায় ১৪ সাইজের তিনটি প্রধান বাংলা ইউনিকোড ফন্ট যথাঃ Vrinda, Solaimanlipi ও Siyam Rupali র আকার কতোটা বড় বা ছোট তা নীচের চিত্র থেকে সহজেই বোঝা যাবেঃ



উপরের চিত্রে খেয়াল করুন- ১৪ সাইজের ফন্টে লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’-লাইনটি পরপর তিনটি প্রধান বাংলা ইউনিকোড ফন্ট যথাঃ Vrinda, Solaimanlipi ও Siyam Rupali র মাধ্যমে কিভাবে কোন আকৃতিতে উপস্থাপিত হচ্ছে।

একটু গভীর ভাবে খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন যে, ১৪ সাইজের ইংরেজী Arial ফন্টের তুলনায় ১৪ সাইজের Vrinda ফন্ট দ্বারা লিখিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ লেখাটির আকার বা আকৃতি খুবই ছোট । ১৪ সাইজের Vrinda ফন্টের তুলনায় ১৪ সাইজের Solaimanlipi ফন্ট দ্বারা লিখিত ঐ একই বাক্য তুলনামূলকভাবে কিছুটা বড় কিন্তু এটি আবার ১৪ সাইজের ইংরেজী Arial ফন্ট দ্বারা লিখিত Aamar Sonar Bangla, Aami Tomay Valobashi লেখাটির আকার বা আকৃতির তুলনায় ছোট।

অতএব Solaimanlipi ফন্টটি অন্য অনেকদিক থেকে গ্রহণযোগ্যতা পেলেও Corresponding Size -এর ইংরেজী ফন্টের তুলনায় আকৃতিতে কিছুটা ছোট হওয়ায় তা Vrinda সমস্যার বিকল্প সমাধান হিসেবে খুব বেশী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

ইউনিকোড বাংলার ফন্টের এমন দূরাবস্থার সময়েই সবাইকে চমকে দিয়ে যে ফন্টটি আবির্ভূত হয়েছে তার নাম -Siyam Rupali. উপরের ছবিতে ১৪ সাইজের Siyam Rupali ফন্ট দ্বারা লিখিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’-লেখাটুকু খেয়াল করুন এবং দেখুন যে এর আকার বা আকৃতি ১৪ সাইজের ইংরেজী Arial ফন্ট দ্বারা লিখিত ‘Aamar Sonar Bangla, Aami Tomay Valobashi’-র তুলনায় প্রায় সমান আকারের এবং অন্য দুটি বাংলা ইউনিকোড ফন্ট তথা Vrinda ও Solaimanlipi-র আকৃতির তুলনায়ও যথেষ্ট বড়।


(ঘ) মেঘের আকাশে একফালি রোদ্দুর-সিয়াম রূপালী

পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদের তূলনামূলক আলোচনায় উল্লেখিত কারণগুলোর জন্যই ইউনিকোড বাংলায় তৈরী করা যাবতীয় ওয়েবসাইটসমূহের ‘বাংলা অক্ষর’ ছোট দেখাজনিত যে কোন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই বেছে নিতে হবে ইউনিকোড বাংলা ফন্ট Siyam Rupali. সারা বিশ্বের সকল ইউনিকোড বাংলা ফন্টগুলোর মধ্যে Siyam Rupali-ই সম্ভবতঃ এখনো পর্যন্ত একমাত্র ইউনিকোড বাংলা ফন্ট যা তার দৃষ্টি নন্দন অবয়বের সঙ্গে সঙ্গে Corresponding Size -এর ইংরেজী স্টান্ডার্ড ফন্টগুলোর আকার বা আকৃতির সঙ্গেও সমান সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সমর্থ্য হয়েছে।

সিয়াম রূপালী ফন্টটি ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে
সিয়াম রুপালী ফন্ট

সঙ্গত কারণেই ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যাটির সমাধানের জন্য আমরা বেছে নেবো বাঙালীদের জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ রূপে আবির্ভূত ফন্ট Siyam Rupali-কে। তবে Siyam Rupali ফন্টটি আপনার পিসিতে ইন্সটলেশনের পর তা’ ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে, আপনার ব্যবহৃত ব্রাউজারটির ডিফল্ট ফন্ট হিসাবে আপনি Siyam Rupali-কেই নির্বাচিত বা সিলেক্ট করতে পেরেছেন কি না।


(ঙ) কিভাবে সিয়াম রূপালী হবে আপনার ব্রাউজারের ডিফল্ট ফন্ট?

ফেসবুক, বাংলা উইকিপিডিয়া ইত্যাদি ওয়েবসাইটের ওয়েবপেজে কিন্তু নির্দিষ্ট কোন ‘বাংলা ইউনিকোড ফন্ট’ এমবেড করা থাকে না। ফলে ইন্টারনেট ব্রাউজারের ডিফল্ট ইউনিকোড বাংলা ফন্টটিই ঐ পেজসমূহের বাংলা ফন্ট হিসেবে কাজ করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে ‘সিয়াম রূপালী’ ফন্টকে আপনি আপনার ব্রাউজারের ডিফল্ট ফন্ট হিসাবে নির্বাচিত বা সিলেক্ট করবেন? উদাহরণস্বরূপ যদি ধরে নেই যে আপনার ব্রাউজার হচ্ছে মাইক্রোসফট এর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার তাহলে তার ডিফল্ট ফন্ট হিসাবে ‘সিয়াম রূপালী’কে নির্বাচনের জন্য নীচের স্টেপগুলো ফলো করুনঃ

(১) আপনার ব্রাউজারে Internet Explorer এর Internet Options-এ যান।
(২) Font Options এর আওতায় Language Script হিসেবে Bengali নির্বাচন করে সেখান থেকে Siyam Rupali ফন্টটি নির্বাচিত করুন।
(৩) এরপর OK করে বেরিয়ে আসুন।


(চ) সমস্যার আকাশ থেকে দূরের অস্তাচলে পাঠান Vrinda ফন্টকে
(সিয়াম রূপালীকে আপনার পিসির উইন্ডোজের ডিফল্ট ফন্ট হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করে নিন)

শুধু ব্রাউজারের ডিফল্ট ফন্ট হিসেবেই নয়, আপনি ইচ্ছে করলে সিয়াম রূপালীকে আপনার পিসির উইন্ডোজের ডিফল্ট ফন্ট হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করে নিতে পারেন। এরজন্য আপনি Font Fixer নামক এক চমৎকার Software এর সাহায্য নিতে পারেন। Font Fixer ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে-
ফন্ট ফিক্সার সফটওয়্যার

Font Fixer দিয়ে Vrinda কে রিপ্লেস করে তার স্থলে Siyam Rupali কে আপনার এক্সপি অপারেটিং সিস্টেম এর ডিফল্ট বাংলা ফন্ট হিসাবে ইনস্টল করে নিলে আপনি অতিরিক্ত আরো যেসব সুবিধা পাবেন তা হচ্ছেঃ

(১) বাংলা উইকিপিডিয়া, ফেসবুক বা ইউনিকোড বাংলার অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে সাথে আপনার পিসির সম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেমেই বাংলা অক্ষর অতি ক্ষুদ্র দেখার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

(২) ফলে আপনার পিসির Internet Explorer উইন্ডোর একেবারে উপরের টাইটেল বারেও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের নাম বাংলায় স্পষ্টাক্ষরে দেখা যাবে।

(৩) ইচ্ছে করলে উইন্ডোজের ফাইল ফোল্ডারের নামও খুব সহজেই বাংলায় দেয়া সম্ভব হবে।

Font Fixer দিয়ে Vrinda কে রিপ্লেস করে তার স্থলে Siyam Rupali কে আপনার এক্সপি অপারেটিং সিস্টেম এর ডিফল্ট বাংলা ফন্ট হিসাবে ইনস্টল করে নিলে সেইক্ষেত্রে Vrinda ফন্টটি আন-ইনষ্টল হয়ে C ড্রাইভে অবস্থান নেয়। আপনি যদি পরবর্তীতে পুনরায় Vrinda কে আপনার পিসিতে ইনষ্টল করতে চান তবে তা C ড্রাইভ থেকে করা যাবে সহজেই।


(ছ) কীভাবে ব্যবহার করবেন Font Fixer সফটওয়্যার?




Font Fixer ফাইলটি ডাউনলোড করে তা পিসিতে ইনষ্টল করার পর তার আইকনে ডাবল ক্লিক করে ওপেন করে অপশন উইন্ডোতে গিয়ে ডিফল্ট ফন্ট হিসাবে Siyam Rupali-কে সিলেক্ট করে দিতে হবে। এরপর Fix it বোতামে ক্লিক করে OK বাটন চাপতে হবে। এসময় Set as IE default for Bengali অপশনের পাশে টিক চিহ্ণ দিয়ে রাখলে একইসাথে আপনার নির্বাচিত ফন্টটি আপনার IE ব্রাউজারের ডিফল্ট ফন্ট হিসাবেও নির্বাচিত হয়ে যাবে।

(জ) সম্ভাব্য সমস্যা ও প্রতিকার

ধরা যাক, উপরোল্লিখিত নিয়মে সবকিছু করার পর ফেসবুকে সিয়াম রূপালী ফন্ট দ্বারা স্বাভাবিক আকারের বড় বাংলা অক্ষর দেখতে পাওয়া গেল, কিন্তু দেখা গেল সামহয়্যারইন ব্লগ বা প্রথম আলো ব্লগ ব্রাউজ করতে গেলেঐ সিয়াম রূপালী ফন্ট দ্বারা তাদের অক্ষরগুলো অতি অস্বাভাবিক বিসদৃশ আকারের বড় দেখা যাচ্ছে । সেক্ষেত্রে, সেই সমস্যা দূর করার জন্য আপনি কি করবেন?

সেক্ষেত্রে নিচের নির্দেশনা ফলো করুনঃ

ধরা যাক আপনি ব্যবহার করছেন Mozilla Firefox. তাহলে আপনার Firefox Window এর Tools মেনুতে গিয়ে Options এ ক্লিক করুন। এরপর Content ট্যাবে ক্লিক করে এর নীচের দিকে Fonts & Colors এর আওতাভূক্ত ঘরে দেখুন একস্থানে লেখা আছেঃ

Default Font : Siyam Rupali Size : 16 ( যেকোন সাইজ থাকতে পারে)

অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে যে, এই Browser এর Default Font হিসাবে Siyam Rupali নির্ধারিত আছে। কিন্তু ঐ একই লাইনের ডান দিকে দেখুন Advance নামের আরেকটি বাটন আছে। এবার আপনি উক্ত Advance বাটনটিতে ক্লিক করুন।

Fonts শিরোণামের যে নতুন ডায়ালগ বক্সটি ওপেন হবে, তাতে দেখুন একস্থানে একটি অপশন আছে- Allow pages to choose their own fonts, instead of my selections above.

আপনি উক্ত অপশনটির বাম দিকের চেকবক্সে টিক চিহ্ণ বসিয়ে দিন এবং OK করে বেরিয়ে আসুন। দেখবেন এখন আপনার ব্রাউজারের ডিফল্ট ফন্ট হিসাবে Siyam Rupali নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও সামহয়্যার ইন ব্লগ ওপেন হবে Solaimanlipi ফন্ট দিয়ে, সেই আগের মতো স্বাভাবিক সাইজ নিয়েই। অথাৎ ঐ অপশন নির্ধারণ করে দিলে যেসব ওয়েবপেজে বিশেষ কোন ফন্ট (কোন নির্দিষ্ট ফন্ট-সাইজ সহ) এমবেড করা থাকে, সেইসব পেজ সেই ফন্ট ও সেই ফন্ট-সাইজ নিয়েই ওপেন হবে।

একারণেই এই পদ্ধতি সেট করে রাখলে আপনি ফেসবুক দেখতে পাবেন Siyam Rupali-র অপেক্ষাকৃত বড় অক্ষরে, আবার সামহয়্যার ইন ব্লগ বা প্রথম আলো ব্লগ দেখতে পাবেন তাদের পূর্বনির্ধারিত বা এমবেডেড ফন্ট Solaimanlipi - দিয়ে, সেই পেজের জন্য নির্দিষ্ট করা ফন্ট-সাইজেই।

উল্লেখ্য যে, Solaimanlipi ফন্টের আকার অপেক্ষাকৃত ছোট বলে ওয়েবপেজ ডিজাইনাররা এই ফন্ট এমবেড করার সময় আগে থেকেই এই ফন্টের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে নির্দিষ্ট করে রাখেন। ফলে আগে থেকেই ফন্ট এমবেড করা এইসব সাইট Siyam Rupali-র মতো স্বাভাবিক আকারের ফন্ট দিয়ে দেখতে গেলে তা অনেক বড় দেখায় ।

আরো উল্লেখ্য যে, Face Book এবং বাংলা উইকিপিডিয়া সহ আরো অনেক ওয়েবপেজেই নির্দিষ্ট কোন ফন্ট এমবেড করা থাকেনা, ফলে সেসব ওয়েবপেজগুলো দেখার ক্ষেত্রেই Siyam Rupali- ফন্টের কার্যকারিতা বা উপকারটি বোঝা যায় বেশী। সামহয়্যার ইন ব্লগ বা প্রথম আলো ব্লগ এর ক্ষেত্রে Siyam Rupali- ফন্টের কার্যকারিতা বা উপকার বোঝার কোন উপায় নেই।

........................................................................
মহান ভাষা আন্দোলনের মাসে, একুশের এই মহান লগ্নে আপনার কম্পিউটারের বাংলা দেখার সমস্যাগুলো দূর করার জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিন এখনই। আপনার সমস্যা আলোচনার জন্য মন্তব্যের ঘর গুলোতো প্রস্তুত আছেই !


লিংকগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতাঃ ফেসবুকের Shabab Mustafa.

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28914093 http://www.somewhereinblog.net/blog/sunilsamudrablog/28914093 2009-02-21 03:13:29