প্রথম বই প্রকাশ
ডা.সুরাইয়া হেলেন
অনেকগুলো বছর পর আবার লিখলাম!কলম ধরলাম বললাম না,কারণ সেল ফোনে sms –এ ৪লাইনের কাব্য লিখে পাঠালাম কবি সৈয়দ-আল-ফারুকের মোবাইলে।এক ঝড়ের রাত ২টায় জেগেই ছিলাম,উড়ে এসে পড়লো ইত্তেফাক সাহিত্য সাময়িকীর পাতা।আল-ফারুক sms কবিতা চেয়ে পুরষ্কার ঘোষণা করেছে।ভাবনা চিন্তা না করেই মোবাইল টিপে লিখে দিলাম পাঠিয়ে।সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো প্রশ্ন নিয়ে,“কবির নাম কী?”
উত্তর দিলাম,“আমি কবি নই।নাম দিয়া কাম কী?”
সেই শুরু!পাল্টাপাল্টি কবিয়ালদের মতো উত্তর প্রতিউত্তর sms কাব্য ।চর্চাটা শুরু হয়ে গেলো !
তারপর ২০০৬-এ শুরু করলাম ব্লগিং।আমাকে হতবাক করে দিয়ে http://www.rutalented.com আমাকে “অমর ২১-এ প্রতিযোগিতা১৪১৩-”Award দিয়ে দিলো বিরাট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধুমধাম করে !ব্লগের পাঠক লেখক সবাই বলতে লাগলো,“বই ছাপান!”
আামি বলি,“ও হরি!এতো বড় বুকের পাটা আর কইলজা এখনো আমার হয় নাই।”
কিন্তু সবার পামে কাম হলো,পাটা কলিজা ফুলতে লাগলো।নিমরাজি হয়ে আমার কাব্য প্রতিভা যাচাইয়ের মানসে কবি আলাউদ্দিন-আল-আজাদ(বর্তমানে প্রয়াত)-কে ফোন করলাম এক দুপুর ঠিক ১২টায়!মনে মনে ভাবি,আমারই না আজ ১২টা বেজে যায়!
ফোন ধরেই কবি বললেন,“আগে তোমার জামিলাপার সাথে কথা বলো।”
ও রে আল্লাহ্,এই বয়সেও এই অবস্থা!
আপার সাথে কুশল বিনিময় করলাম।আপাই কবিকে বললেন,“এখন সময় নেই আমার,এই নাও ধরো,তুমি কথা বলো ।”
আল্লাহ্ মুখ তুলে চাইছে!
বিনীতভাবে আমতা আমতা করে বললাম,“ইয়ে মানে আমি একটা অন্যায় আর সাহসের কাজ করে ফেলেছি!”
“কী?কী করেছো?”
“কবিতা লেখার দুঃসাহস!”
“বাহ্!”
আমি বলি,“যাহ্!বাংলাভাষার ব জানিনা!এই ভাষা,ছন্দ,স্বরবৃত্ত,অক্ষরবৃত্ত,মাত্রাবৃত্ত,এগুলোতে আমি নিতান্তই মূর্খ।আমার লিটেরেচারের ওপর কোন পড়াশোনা জ্ঞান কিছুই নেই!আপনি তো ডক্টরেট,পন্ডিত।আমার লেখা একটা কবিতা শুনুন,তারপর বলুন আমা দ্বারা হবে কি না?”
খুব দরদ দিয়ে আবৃত্তি করে শোনালাম,“চলেই তো যাবো একদিন তোমাদের ছেড়ে…।”
উনি শিরোনাম শুনেই হাহাকার করা গলায় বলে উঠলেন,“এই বয়সে এমন কবিতা কেন লিখলে তুমি?”
“শুনুনই না আগে।জান কবুল কবিতার জন্যে !”
পড়া শেষ।আমাকে হতভম্ব করে দিয়ে কবি বললেন,“ভাষা,গাঁথুনি,ছন্দ,সব ঠিকঠাক আছে।কোথাও কোন ভুল নেই।এরকম ৩০-৪০টা কবিতা নিয়ে একটা বই বের করো।আশা করি আমাদের সাহিত্য জগতে তুমি অচিরেই একটা স্থায়ী আসন করে নিতে পারবে।”
আমি অবাক করা কণ্ঠে বলি,“এটা কবিতা হয়েছে?আমি যে ছন্দ,বৃত্ত,ত্রিভূজ, কিছুই অনুসরণ করিনি,যা মনে এসেছে লিখে ফেলেছি!”
কবি বললেন,!“কবি অবেগ দিয়ে যা লিখে তাই কবিতা।ব্যাকরণ মেনে কবিতা হয় না ।”
“থ্যাংকু,থ্যাংকু!”
আমি কোমর বেঁধে নামলাম বই ছাপানোর কাজে।স্বাস্থ্যবিষয়ক,অনুবাদ,হরর-লেখক ডা.মিজানুর রহমান কল্লোল,প্রকাশক ঠিক করে দিলেন।রাত জেগে মশার কামড় খেয়ে ডেঙ্গু বাঁধিয়ে,১৮ব্যাগ রক্ত গায়ে ঢুকিয়ে যমের সঙ্গে লড়াই করে,স্ক্রিপ্ট রেডি করে,একটা একটা শব্দ পরম যত্নে দেখে প্রুফ দেখে,আমার প্রতিনিধিসহ লেখক ডা.মোহিত কামালকে পাঠালাম বাংলাবাজারে।ফেরার পথে মোহিত ফোন করে বললো,“আপা গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে,ভালোই হইছে।আমরা টমটমে(ঘোড়ার গাড়ি)।পিকনিক পিকনিক ভাব!”
২০০৮-এর একুশের বইমেলায় অনন্যা আর সৃজনী থেকে ধ্রুব এষের প্রচ্ছদে ঝকঝকে ছাপা,১০০গ্রামের কাগজে ৪ফর্মার কবিতার ২টি বই, “পরমাণু পৃথিবীতে শেষ বিকেলের মেয়েটি” ও “নিঃসঙ্গ জনারণ্য”,আলোর মুখ দেখলো ।টি.ভি আর পত্রপত্রিকায়ও উঁকি দিয়ে গেলো ।
মানুষের স্বপ্ন এভাবেই বুঝি তার সাহসকে ছাড়িয়ে যায় !!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

