ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - একটি অহেতুক বিতর্কের জবাব
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:০৩
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করেছিলেন- এরকম কথা ছাগু ব্লগার থেকে শুরু করে সরকারের অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও মাঝে মধ্যে বুলি আউরিয়ে থাকেন। আমার মনে হয় বিষয়টা পরিস্কার হওয়া দরকার।
তাই আপনাদের কে আমি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কলামিস্ট জনাব এ জেড এম আবদুল আলী এর লেখা ‘রবীন্দ্রনাথও মিথ্যাচারিতার শিকার!’ নিচে তুলে দিলাম যা সমকাল পত্রিকায় ১৮ নভেম্বর ২০০৭ এ প্রকাশিত হয়েছিল । এই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে সবারই একবার পড়া উচিত বলে আমি মনে করি।
--------------------------------------
--------------------------------------
কিছু কিছু মিথ্যাচার এবং ইতিহাস বিকৃতি আছে যেগুলোর কোনো প্রতিবাদ না করাই ভালো। সাধারণ মানুষ অনেক সময় অনেক শোনা-কথা বিশ্বাস করে এর-ওর নামে একথা-সেকথা বলে বেড়ায়। কিন্তু যে মানুষটি সম্পর্কে বলা হচ্ছে সেই মানুষটি যদি রবীন্দ্রনাথ হন তাহলে একটু মনোযোগ দিয়ে সেই কথা শুনতেই হয়। আর সেটি যদি কথা না হয়ে লেখা হয়, তাহলে বিষয়টির দিকে আরেকটু বেশি মনোযোগ না দিয়ে পারা যায় না। তবু যদি খুব সাধারণ এবং নাম না-জানা কোনো লেখক সেটি লেখেন তাহলেও সেদিকে গ্রাহ্য না করলেও চলে। কিন্তু একজন মোটামুটি পরিচিত এবং ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধেয় এবং কোনো একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ রকম কেউ একটি লেখা লেখেন তাহলে সেদিকে ভালো করে মনোযোগ দিতেই হয়।
সপ্তাহ কয়েক আগে আমার একজন শ্রদ্ধেয় জ্যেষ্ঠ কলিগ এবং পরবর্তী সময়ে এক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, ইমামউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি পত্রিকায় (চিত্রবাংলা) তার বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে লিখতে গিয়ে প্রসঙ্গত্রক্রমে লিখলেন, ‘১৯১২ সালের ২৮ মার্চ তারিখে কলকাতার গড়ের মাঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন এবং সেই কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পিছিয়ে যায়।’ যেহেতু তাকে চাকরি জীবন থেকে চিনতাম এবং পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে মোটামুটি যোগাযোগ ছিল তাই আমি তাকে টেলিফোনে বিষয়টি সম্পর্কে বিশদ জানার জন্য জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি এ বিষয়টি সম্পর্কে কোথায় তথ্য পেয়েছেন। তিনি তখন একটু মনে করে বললেন, তথ্যটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোনো বইতে পেয়েছেন। আমি তাকে অনুরোধ করে বললাম, স্যার, আমি একদিন আপনার বাসায় এসে ওই বইটি দেখব। তিনি সানন্দে আমাকে তার বাসায় চা খেতে ডাকলেন।
নানা কারণে এ বিষয়ে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে হঠাৎ করে আমার হাতে একটি বই এসে গেল। বইটি সম্পর্কে আমি গত ২১ অক্টোবর তারিখে সংবাদ পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছি। ওই বইটির লেখকও হুবহু ওই একই কথাগুলোই লিখেছেন। এই লেখকের বক্তব্য, ‘১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। এখানে বলা প্রয়োজন, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ব্যক্তি ও সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন।’ এই বইটির লেখক এমন একজন যার নামের সঙ্গে আমাদের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টার নামের হুবহু মিল আছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিদের মধ্যে একজন এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এ রকমের অভিযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি এবার একদিন আমার শ্রদ্ধেয় জ্যেষ্ঠ কলিগের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলাম। তিনি ততদিনে এ বিষয়ে কিছু উপাত্ত সংগ্রহ করে রেখে দিয়েছিলেন। তিনি সেগুলো আমার হাতে দিয়ে বললেন, আপনিও একটু পরীক্ষা করে দেখুন।
আমি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশে যারা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে গবেষণাদি করে থাকেন তাদের মধ্যে দু’জন, বন্ধুবর অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং অধ্যাপক হায়াৎ মামুদকে জিজ্ঞেস করে জানার চেষ্টা করেছি। তারা দু’জনেই জানিয়েছেন, এ রকম কোনো তথ্য তাদের চোখে পড়েনি। তাদেরই কথামতো আমি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের চারখন্ড- রবীন্দ্রজীবনীর সংশ্লিষ্ট খন্ড টি দেখেছি।
সেখানে ১৯১২ সালের ১৯ মার্চ কবির লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রার কথা আছে, কিন্তু ওই সময় অসুস্থ হয়ে তিনি শিলাইদহে চলে যান এ রকম একটি তথ্য ছাড়া সে বছরের মার্চ মাসে রবীন্দ্রনাথের কলকাতার আর কোনো তথ্য পাইনি। আরো একটু খোঁজখবরের জন্য আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়িকা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার বাড়িতে গিয়ে প্রশান্ত পালের প্রস্তাবিত বারো খন্ডের রবীন্দ্রনাথের জীবনীর প্রথম নয় খন্ড নাড়াচাড়া করে ষষ্ঠ খন্ডটি, যেখানে সংশ্লিষ্ট তারিখটি রয়েছে, সেটি ভালো করে দেখি। সেখানেও ওই বছরের ওই তারিখে কলকাতা শহরে রবীন্দ্রনাথের কোনো সভা-সমিতি সংক্রান্ত তথ্য পাইনি।
যা হোক, আমার শ্রদ্ধেয় জ্যেষ্ঠ কলিগ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরি থেকে পাওয়া একটি বই এবং একটি বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাগুলোর ফটোকপি আমাকে দিলেন।
প্রথমেই আমার দৃষ্টি গেল যে বইটির কয়েক পাতা ফটোকপি করে আমাকে দেওয়া হয়েছিল সেই পৃষ্ঠাগুলোর দিকে। ‘এ এক অন্য ইতিহাস’ (সংশোধিত নতুন সংস্করণ-২০০৫) নামের এই বইটির লেখক, গোলাম আহমাদ মোর্তজা, খ্যাতনামা গবেষক এবং বর্তমানকালের অন্যতম সংস্কারবাদী ঐতিহাসিক। প্রকাশক হচ্ছে ‘মুনশী মোহম্মদ মেহের উল্লাহ রিসার্চ একাডেমী’, ৪৫ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০। বইটির পৃষ্ঠা ১৫৯ থেকে উদ্ধৃত করছি।
সেখানে লেখা হয়েছে,
‘১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে এক বিরাট সমাবেশ করা হয়। তখন কবির বয়স ছিল ৫১ বছর। ঠিক তার দু’দিন আগে ২৬ মার্চ আর একটি গুরুত্বপুর্ন মিটিং হয়েছিল। সেখানেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হতে দেওয়া যাবে না। ওই গুরুত্বপুর্ন সভায় বাঘা বাঘা দেশীয় নেতারা উপস্হিত ছিলেন।’
এর পরের লাইনগুলো এ রকম,
‘নতুন রাজ্য পুনর্গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন কি-না বা শিক্ষা বিষয়ে করণীয় কী? তা আলোচনার এক জনপ্রতিনিধিপহৃর্ণ সভা হয় টাউন হলে’ [দ্রষ্টব্য কলকাতা ইতিহাসের দিনলিপি :৩য় খন্ড, চতুর্থ পর্ব (বিংশ শতাব্দী : প্রাক স্বাধীনতাকাল), এপ্রিল ১৯৯৫, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পর্ষদ কর্তৃক প্রকাশিত]।
এটি নিয়ে বন্ধুবর আনিসুজ্জামানকে দেখাতে উনি বললেন, উদ্ধৃত দুটি মোটামুটি ঠিকই আছে। আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকাতেই আমার এই অভিজ্ঞ গবেষক বল্পব্দুটি হেসে আমার মতো আমলা গবেষকদের ভুল ভাঙিয়ে দিয়ে বললেন, এই অনুচ্ছেদের প্রতিটি বাক্য আলাদা আলাদা করে পড়ূন। পড়লাম এবং পড়েই বুঝতে পারবেন যে ঐতিহাসিক নামের ওই সংস্কারবাদী দুর্বৃত্তের ধহৃর্তামিটি কত সুচতুর।
প্রথম বাক্যটি বলছে, ‘১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে এক বিরাট সমাবেশ করা হয়।’ সত্যিই তো, তা হতে পারে? কিন্তু সেখানে রবীন্দ্রনাথ কোথায়? পরবর্তী বাক্যটি বলছে, ‘তখন কবির বয়স ছিল ৫১ বছর।’ এই বাক্যটিও সত্য। ৮০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকা রবীন্দ্রনাথের ৫১ বছর বয়স তো একসময় হয়েছিল। তার পরের বাক্য দুটি এ রকম, ঠিক তার দু’দিন আগে ২৬ মার্চ আর একটি গুরুত্বপুর্ন মিটিং হয়েছিল। সেখানেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হতে দেওয়া যাবে না। ওই গুরুত্বপুর্ন সভায় বাঘা বাঘা দেশীয় নেতারা উপস্হিত ছিলেন।’ তা-ও হতে পারে এবং আমাদের জানা মতে, হয়েও ছিল। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সেখানে কোথায়? তার মানে, রবীন্দ্রনাথ তথাকথিত ওই ২৮ মার্চের সভা বা ২৬ মার্চের সভার ধারেকাছেও ছিলেন না।
সুচতুর ওই ঐতিহাসিক নামধারী লেখক গোলাম আহমাদ মোর্তজা তার বইয়ে এর পরের অনুচ্ছেদ শুরু করেছেন এভাবে,
‘প্রায় সব সংবাদপত্রগুলো যাতে ঢাকা ইউনিভার্সিটি না হয় তার জন্য শিল্প নিপুণতা দেখালেন তাদের লেখায়। আর ওই বিখ্যাত অথবা কুখ্যাত সভার সভাপতি যিনি হয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন ঠাকুরবাড়ির কবি রবীন্দ্রনাথ।’
পাঠক লক্ষ্য করুন, ২৬ মার্চ বা ২৮ মার্চ কোনো সভার সঙ্গেই রবীন্দ্রনাথের সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও কী ধূর্তামির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নামটি জড়ানো হয়েছে ওই ঘৃণ্য মিথ্যাচারটির সঙ্গে। ছদ্ম গবেষণার আড়ালে কুৎসা রটনার পরিকল্পনাটির সঙ্গে আরো কত তথাকথিত গবেষক জড়িত কে জানে।
সে যা-ই হোক, এবারে দৃষ্টি দেওয়া যাক ৩য় বইটির দিকে। বইটি আমার হাতে দিয়ে আমার জ্যেষ্ঠ কলিগ আই এ চৌধুরী আমাকে বললেন, এই বইতেও ওই কথা লেখা আছে। এই বইটির শিরোনাম, ‘বঙ্গভঙ্গ থেকে বাংলাদেশ ঢাকা-কলকাতাকেন্দ্রিক শত বছরের রাজনীতি ও হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক’। লেখকের নাম, মোহম্মদ আবদুল মন্নান। প্রকাশক আবদুর রউফ, ‘কথামেলা’ প্রকাশন। ২০০৭ সালে একুশের বইমেলায় প্রকাশিত এই বইটির প্রায় সর্বত্রই রয়েছে বঙ্গভঙ্গ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে নানা ধরনের সত্য ও অসত্য মন্তব্য। আমি সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে যেটুকু লেখা হয়েছে সেটুকুই উদ্ধৃত করব।
ওই বইয়ের পৃষ্ঠা ২০৭, অনুচ্ছেদ ১৫.৭-তে লেখা হয়েছে এই কথাগুলো, “রবীন্দ্রনাথ ও সুরেন্দ্রনাথের এক সুর- ‘১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে হিন্দুরা এক জনসভা করে। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’।”
উপরোক্ত গবেষকের নাম আমরা কেউ কখনো না শুনলেও তার প্রশংসায় উন্মুখ এই বইয়ের ভূমিকা লেখক, কবি আল মাহমুদ। দুই পৃষ্ঠাব্যাপী এই ভূমিকায় কবি আল মাহমুদ এই লেখকের ইতিহাস জ্ঞান এবং সত্য অনুসল্পব্দানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ ব্যাপারে আমার মন্তব্য কারো কারো কাছে প্রীতিকর মনে না হতে পারে। তাছাড়া এ ব্যাপারে তিক্ত মন্তব্য এখানে করতেও চাচ্ছি না।
ফিরে আসি প্রথম লেখক গোলাম আহমাদ মোর্তজার ‘এ এক অন্য ইতিহাস’ বইটিতে। এ বইটিতেই তিনি একজন সত্যিকারের ঐতিহাসিকের মতো তার বক্তব্যের সপক্ষে একটি তথ্যসহৃত্রের নির্দেশ দিয়েছেন। তার তথ্যসূত্রটি হচ্ছে, ‘কলকাতা ইতিহাসের দিনলিপি :৩য় খন্ড, চতুর্থ পর্ব (বিংশ শতাব্দী : প্রাক স্বাধীনতাকাল), এপ্রিল ১৯৯৫, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পর্ষদ কর্তৃক প্রকাশিত]’। মনে হচ্ছে, এটিই এই কাহিনী রচনার মহৃল উৎস হিসেবে এ দেশের সব লেখক তথা ঐতিহাসিকরা ব্যবহার করেছেন।
অতএব ভাবলাম ‘কলিকাতা ইতিহাসের দিনলিপি’টি দেখলেই রহস্যটি ভেদ হবে। বাংলা একাডেমীর সহায়তা পাওয়া গেল এ ব্যাপারে। একজন কলকাতায় ওই বইটি দেখে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটির অনুলিপি করে এনে দিলেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, ওই বইতে ওই তারিখের পাশে যে উক্তিটি রয়েছে সেটি এ রকম, ‘১৯১২ খ্রিষ্টাব্দ : ২৬ মার্চ নতুন রাজ্য পুনর্গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকা প্রয়োজন কি-না বা শিক্ষা বিষয় করণীয় কী?’ তা আলোচনার জন্য এক জনপ্রতিনিধিপুর্ণ সভা হয় টাউন হলে।’
‘গড়ের মাঠের বিশাল জনসভা’, ‘রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্ব’ কোনো কিছুরই অস্তিত্ব নেই সেই বইতে।
আপাতত এই হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গির ইতিহাস। আমার জানা নেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরিতে কত বই আছে বা কী বই আছে? তবে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে ওইসব মিথ্যাচারের বইয়ের পাশাপাশি যদি ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ প্রভাত মুখোপাধ্যায় বা প্রশান্ত পালের বইগুলো রাখতেন তবে জ্ঞানপিপাসুদের উপকার হতো।
--------------------------------------
--------------------------------------
আশা করি লেখাটি বিজ্ঞ ব্লগারগন মনোযোগ দিয়ে পড়বেন এবং এখানে আলোচনায় সামীল হবেন।
লেখক বলেছেন: দেখি না চেষ্টা করে! আমাকে যদি যুক্তি দিয়ে বুঝাতে পারে ক্ষতি কি?
আহমাদ মুজতবা বলেছেন:
হুম ম ম
সুশীল সমাজ বলেছেন:
দাদা, কি শুনাইলেন?''‘মুনশী মোহম্মদ মেহের উল্লাহ রিসার্চ একাডেমী’, ৪৫ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০। ''
এই একাডেমী তে ঢুকার কোন সিস্টেম জানলে জানায়েন।
পুতুল বলেছেন:
চেষ্ট করতে দোষ দেখি না, তয় সাফল্যের আশাও দেখি না।
এস্কিমো বলেছেন:
সুশান্ত,চমৎকার একটা রেফারেন্সসহ লেখা। আপনাকে ধন্যবাদ।
একটু অনুরোধ করতে চাই। একজন বিতর্ক সৃস্টিকারীকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়া চেষ্টা করাই কি ভাল নয়। আপনি উপরের এবং নীচের অংশের কিছু এডিট করে আলোচ্য ব্লগারে নাম ও রেফারেন্স সরিয়ে দিয়ে শিরোনামটি একটু সংশোধন করুন।
সন্ধ্যাপ্রদীপ বলেছেন:
এই মহামতিরে বুঝাইতে আজই আমি একটি পোস্ট দিয়েছিলাম । আমি আমার মত করে দিয়েছি, কিন্তু এমন একটি ইতিহাস-নির্ভর পোস্ট খুব ফিল করছিলাম । আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ আর কৃতগ্গতা ।প্রিয়তে রেখে দিলাম, ইন ফিউচার আরো এমন মহামতিদের জবাব দিতে ।
এস্কিমো বলেছেন:
যেমন হতে পারে:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - একটি অহেতুক বিতর্কের জবাব
এই ধরনেরর।
কেন বলছি সেটা পরের কমেন্ট ও জেনারেলের কমেন্ট লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন আশা করি।
লেখক বলেছেন: এই লোকটি কে? উনাকে সবাই অবহেলা করে কেন?
লেখক বলেছেন: শিরোণাম বদল করে দিলাম ''ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - একটি অহেতুক বিতর্কের জবাব''।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
অঞ্জনা বলেছেন:
এই লেখা পড়ার পরে যদি ত্রিভুজ না নিজের ভুল না বুঝতে পারে তাহলে আমি ত্রিভুজকে আমার দু' পায়ের নিচ দিয়ে ১০০ বার যাওয়া আসা করতে বলবো।
স্নোবল বলেছেন:
আমি আর আপনে না হয় সামহোয়ারিনের মামুলী বল্গার, আর ত্রিভুজ না হয় কাঁঠাল পাতা চিবানো উৎকৃষ্ঠ ছাগু,কিন্তু জনাব ইমামউদ্দিন চৌধুরী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোন এক বইয়ের পৃষ্ঠায় কি না কি দেখে এত বড় একজান মানুষ সম্পর্কে এরকম মন্তব্য করেছিলেন কোন উদ্দেশ্যে? উনি ভিন্নসূত্র থেকে যাচাই করার চেস্টা করেননি কেন? আপনার এই 'শ্রদ্ধেয়' জেষ্ঠ কলিগটিকে আমার মোটেও শ্রদ্ধেয় মনে হচ্ছে না। উনাকেও আমার বেতনভুক্ত দালাল গোষ্ঠির কেউ মনে হচ্ছে।
এম.এ.হামিদ বলেছেন:
সু-শান্ত কঠিন জিনিষ নামাইসো। এখানে বুদ্ধির কদর থাকলে পোষ্ট টারে ষ্টিকি করতে বলতাম কিন্তু এটা সামওয়ার ইন, মুড়ি মিছড়ি একদর। বুকে ষ্টিকি করলাম
পথহারা বলেছেন:
সু-শান্ত,পোস্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার পোস্ট পরে যা বুঝলাম
একটি মাত্র বৈ তে আপনি প্রমান পান, যে রবিন্দ্রনাথের নাম নাই,
‘১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে এক বিরাট সমাবেশ করা হয়। তখন কবির বয়স ছিল ৫১ বছর। ঠিক তার দু’দিন আগে ২৬ মার্চ আর একটি গুরুত্বপুর্ন মিটিং হয়েছিল। সেখানেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হতে দেওয়া যাবে না। ওই গুরুত্বপুর্ন সভায় বাঘা বাঘা দেশীয় নেতারা উপস্হিত ছিলেন।’
বাকি বই গুলি আপনি একসেপ্ট করতে চাচ্ছেন না?????
সেটা কেনো????????????
ওকে!!!! ইভেন উপরের পেরাতে যা লেখা আছে সেখানে যদি প্রশ্ন করি রবিন্দ্রনাথ যিনি ততকালিন সবচেয়ে প্রভাবশালী পন্ডিত /সাহিত্যিক কোলকাতার উনার ভুমিকা কি ছিলো ঐ মিটিং এ....? উনি নিশ্চয় নিশ্চুপ ছিলেন না? আর নিশ্চুপ থাকলেও তো ওনার অন্যায়.......যেখানে একটা অন্যায় মিটিং হচ্ছে উনি নিরব থাকেনকেনো? নিরবতা ও সম্মতইর লক্ষন।
এগুলি আমার একান্তই নিজস্ব প্রশ্ন। দয়া করে মাইন্ড করবেন না। মন চাইলে ব্যাখ্যা দিয়েন না দিলে যা বুঝার বুঝে নিবো।
পোস্টের জন্য+
লেখক বলেছেন: ফিরে আসি প্রথম লেখক গোলাম আহমাদ মোর্তজার ‘এ এক অন্য ইতিহাস’ বইটিতে। এ বইটিতেই তিনি একজন সত্যিকারের ঐতিহাসিকের মতো তার বক্তব্যের সপক্ষে একটি তথ্যসহৃত্রের নির্দেশ দিয়েছেন। তার তথ্যসূত্রটি হচ্ছে, ‘কলকাতা ইতিহাসের দিনলিপি :৩য় খন্ড, চতুর্থ পর্ব (বিংশ শতাব্দী : প্রাক স্বাধীনতাকাল), এপ্রিল ১৯৯৫, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পর্ষদ কর্তৃক প্রকাশিত]’। মনে হচ্ছে, এটিই এই কাহিনী রচনার মহৃল উৎস হিসেবে এ দেশের সব লেখক তথা ঐতিহাসিকরা ব্যবহার করেছেন।
অতএব ভাবলাম ‘কলিকাতা ইতিহাসের দিনলিপি’টি দেখলেই রহস্যটি ভেদ হবে। বাংলা একাডেমীর সহায়তা পাওয়া গেল এ ব্যাপারে। একজন কলকাতায় ওই বইটি দেখে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটির অনুলিপি করে এনে দিলেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, ওই বইতে ওই তারিখের পাশে যে উক্তিটি রয়েছে সেটি এ রকম, ‘১৯১২ খ্রিষ্টাব্দ : ২৬ মার্চ নতুন রাজ্য পুনর্গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকা প্রয়োজন কি-না বা শিক্ষা বিষয় করণীয় কী?’ তা আলোচনার জন্য এক জনপ্রতিনিধিপুর্ণ সভা হয় টাউন হলে।’
‘গড়ের মাঠের বিশাল জনসভা’, ‘রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্ব’ কোনো কিছুরই অস্তিত্ব নেই সেই বইতে।
সু-শান্ত বলেছেন:
পথহারা, আপনের প্রশ্নের উত্তর আমার পোস্টে সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে, তাই আবার লেখাটি পড়তে বলবো।
মানুষ বলেছেন:
রবীন্দ্রনাথ মরিয়া বাঁচিয়াছেন।
নরাধম বলেছেন:
ভাল পোস্ট। শোকেসে রাখলাম।
পথহারা- আপনার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু লেখাতেই আছে। বেশিরভাগ ঢাকার বইগুলাতেই কোনো রেফারেন্স নাই কই থেকে ডাটা পাইছে, আর একমাত্র যেইটাতে আছে ঐটার রেফারেন্স হিসেবে কলকাতার বইটাতে চেক করতেই দেখা গেল- "‘গড়ের মাঠের বিশাল জনসভা’, ‘রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্ব’ কোনো কিছুরই অস্তিত্ব নেই সেই বইতে।" ধন্যবাদ।
পথহারা বলেছেন:
হা হা!!!!!! আমার মনে হয় আপনি হয়তো কাট পেস্ট করেছেন । আমি প্রায় মুখস্ত করে ফেলেছি.....পরতে পরতে.................still I have the same questions..............পছন্দনীয় তথ্যগুলো একসেপ্ট করেই যদি কনক্লুশন টাটেন তাহলে বলার কিছু নাই.................। যে কারনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন / আল মাহমুদের কথা আপনার কাছে একসেপ্টেবল মনে হয় না........ঠিক সেকারনে সমকালের মতো পত্রিকায় পাবিলিস্ট হওয়া কোনো লেখার উপর বিশ্বাস স্থাপন না করলেও মনে হয়না দোষের কিছু হবে। তাছাড়া পশ্চিমবংগের রাজ্য করতিক প্রকাশিত বইতে পশ্চিম বংগের স্বারথ বিরধি ইতিহাস রচিত হবে.......ভাবতেই নিজেকে বোকা বোকা লাগে...........এনিওয়ে ইটস ওকে........যা বুঝার বুঝছি.......থ্যাংস এগেইন.........@সু-শান্ত
পথহারা বলেছেন:
হামিদ ভাই, আল মাহমুদ একসময় তোমগো মতো পোরগতিশীল ছিলো...শামসুর রাহমানের লগে সুরা পান করতো আর নারী বিষয়ক কোবতে লিকতো...জামাতে যোগদেওয়াতে তারে হঠাত পরদেশি (মিথ্যাবাদি/ অচ্ছুত) বানানো টা মনে হয় ঠিক না..........
নরাধম বলেছেন:
পথহারা, আল মাহমুদ কবি হিসেবে অসাধারন তাতে কোন সন্দেহ নেই। সোনালি কাবিন এক অসাধারন সৃষ্টি। কিন্তু আমি নিজে তাকে বিটিভি'তে মিথ্যাচার করতে শুনেছি গত সরকারের আমলে "স্বনামধন্য" জাতীয় কোন এক অনুষ্টানে। তাই মানুষ হিসেবে তাকে তেমন উঁচুমানের বলতে পারতেছিনা। উল্লেখ্য মানুষ হিসেবে রবীন্দ্রনাথেরও অনেক দোষ ছিল কিন্তু মিথ্যাবাদী ছিলেননা। মিথ্যাবাদীতা চরম শটতা, আমার কাছে এর নিচে কোন পাপ নেই।
পথহারা বলেছেন:
নরু.......মিথ্যা কতা সবাই কয় কমবেশি.....কেউ এসমারট আর কেউ নাদান.......
তুমি মনে থিকা যারে ভালোবাসো তার কতা সব সময় মিডা লাগবো .......আর অপোজিটটা তিতা.........কি কৈতে চাই বুইজা লৈয়ো.....
সুশীল সমাজ বলেছেন:
@নরাধম, পথহারা কে কি বুঝান? সে তো বলে দিছে: সে যা বুঝার বুঝছে!
হট্টগোল বলেছেন:
পথহারা @ তাইলে তুমিই দুইচারটা বইয়ের নাম, তথ্য, উপাত্ত আমাগোরে দেও।
তাইলে আমরা সমকাল আর পশ্চিমবঙ্গের বই ছাড়াও কিছু রেফারেন্স পাইতাম।
তা কবে দিবা এই পুস্টে ঘুষণা দিয়া যাও
সু-শান্ত বলেছেন:
কৈলাশ বলেছেন: খুব মনোযোগ দিয়ে পুরা লেখাটা পড়লাম। খুব ভাল একটা পোস্ট হইছে সু-শান্ত। অনেক ধন্যবাদ। অফ টপিক- বাংলাক্রিকেটে আইসেন টাইম থাকলে। বাংলাক্রিকেটে একবার গিয়েছিলাম, ঐখানে যুক্তির চেয়ে আবেগ বেশি মনে হয়েছে।
লেখক বলেছেন: আর সবাই গায়ের জোরে কথা বলে।
পথহারা বলেছেন:
@হট্টগোল
আমার রেফেরেন্স থাকলে আগেই দিতাম । আমি ইমামউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এর মুখথন শুনছি.....একলেকচারে........তারপরথন....মনের মৈদ্যে পেজকি লাগে...........
তাছাড়া সু-শান্ত তো কৈলো.......ইসলামিক ফা.. এ আচে..তয় লাব নাই..সেগুলিতে আবার দেকবা......হয় আলমাহমুদ ভুমিকা লেকচে নয়তো খতিব ওবাডুল্লা( মিরিতো) লেকচে......সো নন একসেপ্টেবল বাই অল......
আমি যদি একটা পোরোসনো করি.........
যে মানুষটারে আমরার দেশের মানুষ (ধরমো /বরনো নিরবিষেশে) এত ভালোবাসে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পোরতিষ্ঠায় তার ভুমিকার ইতিহাস পোরোনবিদ্ধ হবে কেন? ডিফেন্সিভ হবে কেন? এই রকম একজন সোরোদ্ধা ভাজন মানুষের ইতিহাস তো হওয়া উচিত......অফেন্সিভ....যেখানে সরবো অগ্রে দেকাযাবে তাকে পুরবো বাংলার গরিব মুসলমানদের শিক্ষা বিস্তারের মিছিলে.........
লেখক বলেছেন: ইমামউদ্দিন আহমদ সাহেব যে ভুল জেনেছেন এটা তো বুঝতে পেরেছেন , নাকি?
আপনারে আমি বাংলাক্রিকেটে দেখছি একদিন।
আবেগের কথাটা মানছি- আশরাফুল'রা যেই ক্রিকেট খেলে বেশিরভাগ দিন তাতে যুক্তি দিয়া বিচার করলে আর সার্পোটই করা যাবে না....বাড়াবাড়ি করে বেশি পোলাপাইন।
খুব ভাল ডিবেট হ্য় 'ফরগেট ক্রিকেটে' - পারলে মাঝে মাঝে ঢু মাইরেন, ভাল থাকবেন।
নরাধম বলেছেন:
রবীন্দ্রনাথকে ব্যক্তি হিসেবে দেখতে গেলে আমাদের প্রচলিত দৃষ্টিভংগীতে তার অনেক দোষই ধরা পড়বে। সুনীল গাংগোপাধ্যায়ের "প্রথম আলো" তে মোটামোটি রবীন্দ্রনাথের জীবনে উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে। কিন্তু তাই বলে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, গান এগুলোর মূল্য কোন অংশে কমে না। রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিলে তো বাংলা সাহিত্য আর কিছুই থাকেনা। পথহারা, মিথ্যা বলার একটা সীমা আছে। আল মাহমুদ প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচারিতা করেছে। একজন মুক্তিযুদ্ধা হয়ে এরকম অধপতন অবশ্যই নিন্দনীয়।
হট্টগোল বলেছেন:
পথহারা @ তাইলে এখন কি করা তুমি একটা সাজেশন দাও। আমরা কারে রেফারেন্স ধইরা কথা কমু।
রবীন্দ্রনাথরে লইয়া কারা প্রশ্ন তুলছে, কিজন্য তুলছে তুমি তো ভালোই বুঝতাছ। প্যাঁচ লাগাও কেন? প্যাচ লাগাও ভালো কথা। তিনকোনার লেভেলে নাইমা আইসা প্যাচ লাগাইও না।
রেফারেন্স দিতে পারো নাই ভালো কথা। মনের মধ্যে প্রশ্ন আসছে তাও ভালো কথা। একটু জাইনা শুইন্যা কয়দিন পর আবার আইস। তাইলে আমাগোও লাভ হয়। নতুন কিছু জানতে পারি
এস্কিমো বলেছেন:
যে মানুষটারে আমরার দেশের মানুষ (ধরমো /বরনো নিরবিষেশে) এত ভালোবাসে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পোরতিষ্ঠায় তার ভুমিকার ইতিহাস পোরোনবিদ্ধ হবে কেন? ডিফেন্সিভ হবে কেন? এই রকম একজন সোরোদ্ধা ভাজন মানুষের ইতিহাস তো হওয়া উচিত......অফেন্সিভ....যেখানে সরবো অগ্রে দেকাযাবে তাকে পুরবো বাংলার গরিব মুসলমানদের শিক্ষা বিস্তারের মিছিলে.........- এই প্রশ্নের মাঝেই আছে আপনের সব গুলি উত্তর। প্রশ্নগুলো ভাগ করেন এইভাবে, রবীন্দ্রনাথ কেন ডিফেন্সিভ পজিশনে?
এই প্রশ্নের উত্তরে জন্যে আপনাকে ১৯৪৭ সাথে থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশে ( তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানে) রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যে রাজনীতি হয়েছে সেই ইতিহাস একটু দেখতে হবে।
এস্কিমো বলেছেন:
আরেকটা কথা। রবি ঠাকুর আসলে অপেন্সিভেই আছে। শুধু কিছু মানুষ (তিনকোনা হুজুরের মতো) এই বিতর্কটা উসকে দেয় - কেন?এই বিষয়ে একটা ছোট পোস্ট দিছিলাম :
Click This Link
অনিশ্চিত বলেছেন:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে বিতর্ক এর আগেও বহুবার ছড়ানো হয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, যারা বিতর্কগুলো ছড়ায় তাদের সামনে যেহেতু তাৎক্ষণিক প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হয় না এবং ধর্মীয় কারণে এটি একটি ভিন্নমাত্রা পায়, ফলে অনেক শিক্ষিত ব্যক্তিও প্রমাণ ছাড়াই এসব কথা বিশ্বাস করে। লেখাটি আগেই সংগ্রহ করে রেখেছিলাম সমকাল থেকে। আপনি দিয়ে ভালো করেছেন। কাজে লাগবে।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
শান্ত দা ... দারুন লাগলো .... দারুন
আহমেদ জালাল বলেছেন:
ব্লগে দেখি বসন্তের ফল্গুধারা। আপনার পরিশ্রম আমাদের অনেক আনন্দের খোরাক। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।সাহিত্যের যাদুবাস্তবতা দেখি এখন গবেষনায়। পরিনাম তিন কোনার আত্মসন্তুষ্টি। ঘট শূন্য হলে এ ভাবেই কোনো পক্ষকে খুশি করে তবে তাদের টিকে থাকতে হয়। এরা সেরকমই;
আলমাহমুদের সৃষ্ঠিশিল কর্ম আমাদের চেতনা; আর এখনকার আলমাহমুদ যন্ত্রবৎ। এখন তার উক্তি তাই ঘর ঘর শব্দমাত্র।
উন্মনা রহমান বলেছেন:
রেফারেন্স বানানোর একটা কাহিনী আমি আবিস্কার করেছিলাম। স্যাটেলাইট কম্যুনিকেশনের কয়েকশত জার্নালের বেশ কয়েকটি পেপারে একটি রেফারেন্স পাই। ঐ রেফারেন্স পেপারটি দেখার জন্য আমি খুব আগ্রহ বোধ করি। ঐ জার্নালের সংশ্লিষ্ট সংখ্যাটি কোথাও খুঁজে না পেয়ে তার পরের সংখ্যার একটি ঘোষনা দেখে তাজ্জব হই। তা হচ্ছে রেফারেন্সক্বত সংখ্যাটি আদৌ প্রকাশিত হয়নি, পরের সংখ্যার সাথে একত্রে বেরিয়েছে। অর্থাৎ রেফারেন্সটির আদৌ অস্তিত্ব নেই। কোর্স ডিরেক্টরকে ব্যাপারটি দেখালে তিনিও হতবাক হয়ে গেলেন। একজন একটা বানোয়াট রেফারেন্স ব্যবহার করার পর চেইন রিএ্যাকশনের মত আরো আনেকে সেটা ব্যবহার করতে থাকে।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
পথহারা বলেছেন: হামিদ ভাই, আল মাহমুদ একসময় তোমগো মতো পোরগতিশীল ছিলো...শামসুর রাহমানের লগে সুরা পান করতো আর নারী বিষয়ক কোবতে লিকতো...জামাতে যোগদেওয়াতে তারে হঠাত পরদেশি (মিথ্যাবাদি/ অচ্ছুত) বানানো টা মনে হয় ঠিক না..........
জামাতে যোগ দিলে মানুষ কি মানুষ থাকে? তখন তাগো মুখের কথা আর গুয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। বাঁদুরের মত দুইই এক পথ দিয়া বাইর হয়।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। তবে, কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সেই সব বইগুলোর নিরপেক্ষতাও যেমন প্রশ্নবিদ্ধি, তেমনি ঐ সব কালামিস্টের (তা সে যেই হোক না কেন?) কালামও প্রশ্নবিদ্ধ। উভয় গ্রুপই প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্যে লিখে। এক গ্রুপের রেফারেন্সে যেমন রবীন্দ্রনাথকে দোষারোপ করা যায় না, তেমনি অন্য গ্রুপের রেফারেন্সে সাফাইও দেওয়া যায় না।
আমার মনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বা ইতিহাস বিভাগে এ নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। কলকাতার বঙ্গভঙ্গ রদের সমর্থন কারী ও এর পক্ষের আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধীতা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাদের পক্ষেই ছিলেন। হয়ত, সেই থেকে ধারণা করা হয়, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধীতা করেছিলেন। তিনি সেই গ্রুপের সমর্থক যারা তৎকালীন পূর্ব বাংলার সমৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যদিও এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে যে, ষাটের দশকে রবীন্দ্রনাথকে পাকিস্তান সরকার বয়কট করার পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের একটা গ্রুপ রবীন্দ্রনাথ বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধীতা করলেই রবীন্দ্রনাথ মানুষ বা কবি হিসেবে তার স্থান হারাবেন না নিশ্চয়ই। রাজনৈতিক কারনে মানুষের নানান অবস্থান নিতে হয়। বিশেষ করে আমাদের সমাজে যেখানে হয় সাদা বা কালো হতে হয়। মডারেট কোন স্থান এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে রাজনৈতিক অবস্থান দিয়ে মানুষের অন্য সব গুনাবলীকে বিবেচনা করা যায় না বা উচিত নয় একেবারেই।
যদি ধরেই নেই, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধীতা করেছিলেন, তবুও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বা ছাত্রদের রবীন্দ্রপ্রীতিতে কোন বাধা আসা অনুচিত। আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের এমনই উদার হওয়ার শিক্ষা দেয়।
লেখক বলেছেন: আপনি কেন ধরে নিবেন যে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধীতা করেছিলেন ?
চাইলেই তো আমি কারো সম্পর্কে প্রপাগান্ডা ছড়াতে পারি না, আপনি ও না।
শয়তান বলেছেন:
চলুক +
রাশেদ বলেছেন:
জটিল পোস্ট।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রতিনিয়তঃ পরিবর্তনশীলতার একজন বুর্জোয়া মানসিকতার জমিদার...আর ঐ আমলে এই বুর্জোয়া মানসিকতাটাই ছিলো সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল অবস্থান। ধর্মের প্রতিক্রিয়াশীলতা নিয়াও তার অবস্থান অনেক শক্তিশালি ছিলো...
লেখক বলেছেন: দু' একজন আলোচকের নাম ঠিকানা দিলে তো ভালো হয়!
আমরা ও একটু পাত্তা লাগাইতাম।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
মিশরীয় যুগে প্যাপিরাস দিয়া কাগজ বানানো হইত। সেই টেকনোলজী ধার কইরা জামাত-শিবির কাঠাল পাতা দিয়া কাগজ বানাইছে। তবে এই কাগজের বৈশিষ্ঠ হইলো এতে লেখাপড়ার সময় লেখক ও পাঠকের মধ্যে ছাগলীয় আত্মা ভর করে
লেখক বলেছেন: Simon Fraser University'র লাইব্রেরিতে তাজ হাসমী এর যে ছয়টি প্রকাশনা আছে সেগুলি হলো:
1. Women and Islam in Bangladesh : beyond subjection and tyranny / Taj. I. Hashmi
Hashmi, Taj ul-Islam, 1948-
Call number: HQ 1745.6 H375 2000
Library: Bennett, 2000
2.Women and Islam in Bangladesh [electronic resource] : beyond subjection and tyranny / Taj I. Hashmi. [electronic resource] :
Hashmi, Taj ul-Islam, 1948-
Call number:
Library: WEB, 2000
3.Region and partition : Bengal, Punjab and the partition of the subcontinent / edited by Ian Talbot a
Call number: DS 480.842 R44 1999
Library: Bennett, 1999
4.Islam, Muslims, and the modern state : case-studies of muslims in thirteen countries / edited by Hus
Call number: JC 49 I85 1994
Library: Bennett, 1994
5.Peasant utopia : the communalization of class politics in East Bengal, 1920-1947 / Taj ul-Islam Hash
Hashmi, Taj ul-Islam, 1948-
Call number: DS 485 B49 H385 1994
Library: Belzberg, Surrey, 1994
6. Pakistan as a peasant utopia : the communalization of class politics in East Bengal, 1920-1947 / Taj
Hashmi, Taj ul-Islam, 1948-
Call number: DS 485 B49 H38 1992
Library: Bennet
দয়া করে বলবেন কি এগুলোর মধ্যে কোনটিতে বলা আছে রবি ঠাকুরের ডি, ইউ বিরোধিতার কথা।
লেখক বলেছেন:
The Tagore Mania: Identity Crisis and Anti-Bangladesh Syndrome । আপনি কি মুক্তমনার এই লেখাটির কথা বলেছেন?
লেখক বলেছেন: নাকি এটা?
Communalism in Undivided Bengal: Shrouding Class Conflict with Religion
Taj Hashmi
Simon Fraser University, Canada
Published on May 24, 2006
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
সু-শান্ত,
আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেক দরকারি পোস্ট। প্রিয়তে রাখলাম।
আমি যে পোস্ট টি দিয়েছি- তা প্রকাশের আগ মুহুর্তে আপনার এ পোস্ট পড়ি। প্রকাশ করবো কি-না সে ব্যাপারে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলাম- শেষপর্যন্ত প্রকাশ করি।
তবে, আসল জবাবটা আপনিই দিয়ে দিয়েছেন।
আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
আপনে যেই তালিকা দিছেন এগুলি তার বই যদ্দূর জানি...
লেখক বলেছেন: আর তাতেই আপনি কিভাবে বুঝলেন রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করেছেন। আমার মনে হয় আপনাকে আবারো ভাবা উচিত আপনার মন্তব্য নিয়ে।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
চাইলেই তো আমি কারো সম্পর্কে প্রপাগান্ডা ছড়াতে পারি না, আপনি ও নাতাহলে পোপাগান্ডা কেমনে ছড়ায়?? আমার পরিচিত বাংলাদেশের অনেক শিক্ষিত মানুষও বিশ্বাস করে, নজরুলের অসুস্থতার পেছনে, নাকি রবীন্দ্রনাথের হাত ছিল। রবীন্দ্রনাথ নাকি নজরুলকে অসুস্থ করেছে। অথচ, তারা এটা হিসাব করতে পারে না, ১৯৪১ এ রবীন্দ্রনাথ গত হন আর নজরুলের অসুস্থতার লক্ষণ শুরু হয় ১৯৪২ থেকে।
একেই বলে প্রোপাগান্ডা। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বাংলাদেশে প্রোপাগান্ডাতে উভয় পক্ষই সমান ভাবে সক্রিয়।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
তাছাড় গড়ের মাঠের সভায় উপস্থিত না থাকলেই বা কি আসে যায়। বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতাকারীরাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ছিল এবং আপনি স্বীকার করবেন নিশ্চয়ই যে রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধতাবাদীদের মধ্যে প্রথম সারির। আর বঙ্গভঙ্গ পূর্ব বঙ্গের মানুষদের জন্য যে কতটা সুফল বয়ে এনেছিল বা আনতে পারতো তা সবাই জানে। এ জন্য এটা রদের পেছনে যারা ছিল তারা সবাই পূর্ববঙ্গের মানুষের প্রতিপক্ষ। হয়ত এ কারনে অনেকেই ধরে নেন, যে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও বিরোধীতা করেছিলেন। বাঙালি হিসেবে আমাদের দূর্ভাগ্য যে, আমরা সাদা কালোর মাঝে কোন রং চিনি না। হয় সাদা নয়তো কালো। এক্ষেত্রেও হয়ত তাই।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে।

















এর আগে বহু লোক হেরে বুঝাইতে ব্যর্থ হইছে,
উলু বনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নাই।