আমার প্রিয় পোস্ট

স্বর্গে যাবে কে? ------ সুশীল সুমন

০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:১৯

শেয়ারঃ
0 0 0

স্বর্গ ও নরক একটি সন্দেহবোধক ধারনা। এদুটি জিনিস থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে। এই সম্পর্কে মোটামুটি তিনটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
১. স্বর্গ ও নরক রয়েছে যথাক্রমে ধর্মবিশ্বাসী ও তাতে অবিশ্বাসীদের জন্যে। অবশ্য ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে যারা পাপী তারা নরকে গেলেও শাস্তি ভোগের পর স্বর্গে ফিরে আসবে। এবং তাতে অনন্ত কাল থাকবে। পক্ষান্তরে ধর্মে অবিশ্বাসীরা চরিত্রবান ও মানবতার সেবক হলেও নরকে যাবে এবং তাতে অনন্ত কাল থাকবে।
২. স্বর্গ ও নরক বলে কিছুই নেই।শুধু মাত্র লোকদেরকে অন্যায় থেকে ফেরানোর জন্যে এটি পাতা হয়েছে।
৩. পাপ পূণ্যের জন্যে রয়েছে জম্মান্তরের ব্যবস্থা, স্বর্গ নরক নয়।
প্রথম দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়েই আমি বলতে চাই, যদি স্বর্গ নরক থাকে,তবে স্বর্গে শুধু চরিত্রবান ও মানবসেবাকারীরাই যাওয়ার কথা, হোক সে ধর্মে বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী। তেমনি নরকে শুধু চরিত্রহীন ও মানবতার শত্রুরাই যাবার কথা। হোক সে ধর্মে বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী। কেননা স্রষ্টা নিশ্চয়ই এমন সংকীর্ণমনা নন যে কেউ তাকে না মানলে বা তার পুজো না করলে তিনি তাকে নরকে ভরে দেবেন। তিনি নিশ্চয় মানুষের ভালো চান। এবং মানুষকে ভালো দেখতে চান। তাই মনে হয় ধার্মিক চরিত্রহীন ও মানবতার শত্রুদেরকে স্রষ্টা বেশি শাস্তি দিবেন। যেহেতু তারা স্রষ্টার পরিচয় ও আদেশ জেনেও এবং তা মানার অঙ্গীকার করেও অপরাধ করেছে। এরুপ অপরাধ অবশ্যই তাদের চেয়ে জঘন্য যারা স্রষ্টার অস্তিত্বকে সঠিক মনে না করার কারনে এরুপ কোন দায়বোধ অনুভব করার কথা নয়। সুতরাং ধর্মে অবিশ্বাসের চেয়ে বিশ্বাসই বেশি ভাল কিন্তু ধর্মবিশ্বাসী চরিত্রহীন ও মানবতার শত্রুরাই অধিক নিকৃষ্ট। আর চরিত্রবান ও মানবতার সেবকরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ। ধর্মে বিশ্বাসী হোক অথবা না হোক।
কারন ধর্মের উদ্দেশ্য হচ্ছে নৈতিকতার বিকাশ সাধন।

 

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:১০
রাহা বলেছেন: খুবই জটিল বিষয়, এসব নিয়ে ভাবতে গেলে খবর আছে... তারটার ছিড়ে যাবার সম্ভবনা থাকে... না ভাবাই ভালো ...
২. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:১৭
সুশীল সুমন বলেছেন: বিষয়টি অবশ্যি জটিল, কিন্তু তাদের জন্যে যারা ধার্মিকতা বা ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করে। কিন্তু যারা যুক্তিশীল উদার মানবতাপ্রেমী তারা কী বলবে- যখন দেখি ধার্মিক ও ধর্মনিরপেক্ষ উভয় প্লাটফরমের ব্যক্তিদের দ্বারা মানবতা উপেক্ষিত, মানুষেরা প্রতারিত ও প্রহসনের শিকার।
৩. ১১ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:০০
তারিক-আল-হাসান বলেছেন: আমি মনে করি, ধার্মিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা সাধারন বিষয়, যদি আমরা এটাকে সাধারন ভাবে নিতে পারি। ঢাবিতে আমার কয়েকজন বন্ধু আছে। তারা কেউ কট্টর ধার্মিক,আবার কেউ কট্টর নাস্তিক। কিন্তু তারা অন্তরঙ্গ বন্ধু। এখানে কি হল? কিছুই হল না। মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়নি। তারা এটাকে সহজ ভাবে নিয়েছে। সেকুলারিজম এবং নাস্তিক্যবাদের মধ্যে কমন একটা ইস্যূ রয়েছে। ধর্মের সাথে তাদের মত পার্থক্য আছে ,থাকতেই পারে। আসল ব্যাপার হচ্ছে নীতি নৈতিকতা, বিবেক ও মাবতাবোধ। যার মানবতাবোধ আর বিবেক নেই তার ধার্মিকতা অথবা নাস্তিকতা কোনটারই মূল্য নেই।
৪. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৫৩
সুশীল সুমন বলেছেন: তারেক আল হাসানকে তার সুন্দর মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। কেমন হয় যদি আমরা ধার্মিকতা ও ধর্ম নিরেপক্ষেতার থেকে মুক্ত হয়ে শুধু মাত্র মানবতার বিকাশ সাধনে সচেতন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই?

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬৮৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ