আমার প্রিয় পোস্ট
- পোকামানবের ঘর বসতি - মাহবুব সুমন
- খোদেজা পাঠানুভুতি - রাসেল ( ........)
- দুজন লেখক একজন ব্লগার - ফরিদ
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- ভুল মানুষের ডেরায় ০২ - রাসেল ( ........)
- রাসেলের সাম্প্রতিক ভ্রমণের পিকটোরিয়াল বর্ণনা - কৌশিক
- স্লো ইনিংসে অবশেষে ডাবল সেঞ্চুরী (দুইশ নাম্বার পোস্টে স্মৃতিচারণ) - জ্বিনের বাদশা
- শুভ্রতার প্রতীক শুভ(আলী মাহমেদ)। - হ্যারি সেলডন
- সত্যম শুভম সুন্দরমের সাথে একান্ত আলাপন - কৌশিক
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- সমালোচনা পর্ব 1 - রাসেল ( ........)
- শুভ'র সাথে সাক্ষাত - মোঃ সাকিব আল মাহমুদ
- অভিযানের নাম 'মেজবান সঙ্গে লইয়া ভ্রমন'। গন্তব্য শুভর বাড়ি এবং চতুর্থ মৃতু্যর উপাখ্যান - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- শুভ আর মমতাময়ীরে ক্ষমা করি নাই - মাশা
- আমরা যখন কয়েদী - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- আমাদের- শুভ'র ব্ল্লগিং... - আপন তারিক
- পড়ছি, আলী মাহমেদ শুভ'র ব্ল্লগিং - শেখ জলিল
- ব্লগারদের বই নিয়ে ব্লগব্লগর- ১ - শেখ জলিল
তাহের, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধি করে!
২২ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৫৫
আজ কি কর্নেল তাহেরের মৃত্যু দিবস?
(আজকের ২১.০৭.০৮ প্রথম আলো তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তাহের সম্বন্ধে একটা শব্দও পাইনি বলে খানিকটা ধন্ধে আছি, সত্যিই কী আজ তাঁর মৃত্যু দিবস? নাকি মুক্তচিন্তার দৈনিক দামি স্পেস নষ্ট করেনি! তাই যদি হয়, জয়তু মুক্তচিন্তা- বেঁচেবর্তে থাকো, ক্ষণে ক্ষণে মুক্তচিন্তা প্রসব করো!)
আমি অবশ্য তাঁর মৃত্যুর দিনকে মৃত্যু দিবস বলে মনে করি না। আজ এই অগ্নিপুরুষের কেবল খোলস বদলাবার দিন। আসলে এমন অগ্নিপুরুষকে মেরে ফেলা যায় না, কারও সাধ্য নাই, যমেরও।
কমান্ডো মেজর আনোয়ার হোসেন (অব) লিখেছিলেন এই অগ্নিপুরুষকে নিয়ে:
'১৯৬৭ সাল। আমি পাকিস্তানে ট্রেনিং নিচ্ছি। ওসময় পরিচয় কর্নেল (তৎকালীন মেজর) আবু তাহেরের সঙ্গে। কথাবার্তা হচ্ছিল বাংলায়:
কর্নেল তাহের: বাঙালী কমান্ডো তুমি?
আনোয়ার: ইয়েস স্যার।
কর্নেল তাহের: আমার খুব আনন্দ হচ্ছে তুমি কমান্ডো হচ্ছো, কিন্তু ভুলবে না, পরাধীন দেশ স্বাধীন করতে হবে।
আনোয়ার : স্যার, পরাধীন, পাকিস্তান তো স্বাধীন দেশ! কিসের কথা বলছেন বুঝতে পারছি না!
ক. তাহের (রাগী স্বরে): গোল্লায় যাক পাকিস্তান। তুমি একজন বাঙালী কমান্ডো, বুঝতে পারছ না কোন দেশ স্বাধীন করতে হবে?'
আনোয়ার স্তম্ভিত হলেন। ১৯৬৭ সালে বাঙালী নেতাদের মুখেও দেশ স্বাধীন করার কথা শোনা যেত না। অথচ একজন সৈনিক হয়ে কী দুর্দান্ত বিশ্বাস নিয়েই না উচ্চারণ করলেন।
একটা স্বপ্ন, জান্তব অদেখা স্বপ্ন!
কমান্ডো তাহেরের অসমসাহসিকতার বর্ণনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। অতি সাহসী মানুষরাও তাঁর অতুল সাহসের কথা এখনও স্মরণ করে শিউরে ওঠেন। নবীন কমান্ডোরা দূর থেকে তাহের নামের মানুষটাকে দেখে ফিসফিস করত, 'লুক, জেন্টলম্যান, দিস ইজ তাহের, আ লিজেন্ট ইন দ্য হিস্ট্রি অভ কামান্ডো ট্রেনিং। ...আ ম্যান ক্যান নট বী আ তাহের। হী ইজ আ সুপার, এক্সেপশনাল।
তাঁর সার্টিফিকেটে লেখা ছিল, তিনি পৃথিবীর যে কোন দেশের, যে কোন সেনাবাহিনীর সঙ্গে, যে কোন অবস্থায়, অনায়াসে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।
১৯৭১ সাল। রক্তাক্ত রণাংগন। তিনি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তান আর্মি থেকে পালিয়ে আসেন। অমিত সাহস নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একটাই স্বপ্ন, সিংহাবলোকন ন্যায় তাহেরের, স্বাধীন দেশ।
পাক কমান্ডাররা তাহের সম্বন্ধে তাদের সৈনিকদের হুশিয়ার করে দিত, 'ইয়াংম্যান, বী আ্যওয়ার অভ তাহের। হী ইজ আ ভলকানো, আ হানড্রেড পার্সেন্ট এক্সামপল, প্রফেশনাল। সো সেভ ইয়্যুর স্কীন'।
তাহেরের বাঁ পায়ে গুলি লেগে গেল, রক্ত ঝরছে বিরামহীন। চেষ্টা করেও থামাননো যাচ্ছে না। তাঁকে উদ্ধার করতে ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হেলিকপ্টার নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছল।
উদ্ধারকারি মিত্র বাহিনীর অফিসারকে তাহের হা হা করে হাসতে হাসতে বললেন: এরা কী যুদ্ধ করবে, শত্রুরা আমার মাথায়ই গুলি লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই, এরা আটকাতে পারবে না, এদের এই ক্ষমতাই নাই।
এই তাহেরই বাংলার সাধারণ হাজার-হাজার কৃষকদের ট্রেনিং দিয়ে একেকজনকে দুর্ধর্ষ যোদ্ধারূপে গড়ে তুলেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তাহের- স্যালুট ম্যান । (এটা অন্য সাইটের লিংক)
Click This Link
হায় তাহের, হায়- তোমাকে ধারণ করার ক্ষমতা আমাদের কখ-খনো হবে না। এমন একজন অকুতোভয় মানুষকে, একটা স্বপ্নকে, সামরিক আদালতে বিচারের প্রহসনের নামে ফট করে মেরে ফেলা আমাদের দেশেই সম্ভব। আসলে ভীরু, কাপুরুষদের এটা করা ব্যতীত উপায় ছিল না।
তাঁকে যেভাবে ফাঁসি দেয়া হয় প্রকারন্তরে এ খুনেরই নামান্তর। তাঁর ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যু করার মাত্র ৩ দিনের মাথায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অথচ জেল কোড অনুযায়ী ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যুর ২১ দিন আগে বা ২৮ দিন পরে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার বিধান নাই।
একজন কথিত জল্লাদ জনাব মোঃ সিরাজউদ্দিনের সাক্ষৎকার নেয়া হয়েছিল, মিনার মাহমুদের বিচিন্তায়।
'প্রশ্ন: ফাঁসির মঞ্চের কোনও ব্যক্তির আচরণ কি আপনার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে? যদি যায়, তবে সেই ব্যক্তিটি কে?
জল্লাদ সিরাজউদ্দিন: কর্ণেল তাহের। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াইয়া তিনি সহজভাবে কথা বলেছেন। একটা বিপ্লবী কবিতা পইড়া শোনাইছেন। আশ্চর্য! তিনি নিজের হাতে যমটুপি পরছেন। নিজেই ফাঁসির দড়ি নিজের গলায় লাগাইছেন। আমার মনে হয় ফাঁসির মঞ্চে এমন সাহস দুনিয়ার আর কেউ দেখাইতে পারে নাই।'
কাজলা গ্রামে, অযত্মে অবহেলায় শুয়ে থাকেন এই অগ্নিপুরুষ।
এ প্রজন্ম তাহেরকে কি কিছুই দিতে পারেনি, কি জানি! কিন্তু যখন দুর্বিনীত রাগী যুবকের উদ্ধত মাথা নুয়ে বুক ছুঁয়ে যায়, চোখ ভরে আসে জলে। চট করে মুখ ঘুরিয়ে নিলেই হয় কিন্তু এ লজ্জা মুছে ফেলার চেষ্টা করে না সে। জলভরা চোখে তাহেরের অদেখা স্বপ্ন তাঁকে ছুঁয়ে যায়। অস্ফুটে বলে, কমরেড, আমরা কী তোমায় স্পর্শ করতে পারি?
এ-ও কি কম পাওয়া, কিছুই না?
তাহেরের মত মানুষকে মেরে ফেলা যায় না, এঁরা খোলস বদলান কেবল। একটা স্বপ্নকে খুন করা যায় না- স্বপ্ন ফিরে আসে বারবার।
বাংলার এমন দামাল সন্তান বারবার ফিরে আসে এই ধান-শালিকের দেশে, মার কাছে। দুঃখি মা-টা হাহাকার নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন, কবে ফিরবে তার প্রিয় সন্তান...।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার পছন্দের লেখা বিভাগে ।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
কর্নেল তাহেরের জন্য শ্রদ্ধা । http://www.col-taher.com/
লেখক বলেছেন: লিংকটার জন্য ধন্যবাদ।
রাঙা মীয়া বলেছেন:
কর্নেল তাহেরের জন্য শ্রদ্ধা ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আকাশচুরি বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
রাঙা মীয়া বলেছেন:
সত্যিকারের অকুতোভয় সৈনিক
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: মমমমমমহু
ব্রাইট বলেছেন:
+
ব্রাইট বলেছেন:
ক. তাহের (রাগী স্বরে): গোল্লায় যাক পাকিস্তান। তুমি একজন বাঙালী কমান্ডো, বুঝতে পারছ না কোন দেশ স্বাধীন করতে হবে?'আনোয়ার স্তম্ভিত হলেন। ১৯৬৭ সালে বাঙালী নেতাদের মুখেও দেশ স্বাধীন করার কথা শোনা যেত না। অথচ একজন সৈনিক হয়ে কী দুর্দান্ত বিশ্বাস নিয়েই না উচ্চারণ করলেন।
লেখক বলেছেন: আসলেই অকল্পনীয়!
ব্রাইট বলেছেন:
স্যালুট!
ফ্রুলিংক্স বলেছেন:
স্যালুট। কিছু মৃত্যুর পরওয়া নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধার কাছে উনার ব্যাপারে শুনেছিলাম। যারা কর্নেল তাহেরের মতো বিরত্তে ফাসিতে ঝুলেনি। অনেকদিন পর দেখা হলো। কোথায় থাকেন আজকাল??
লেখক বলেছেন: হুঁ, অনেক দিন পর।
থাকি আজ এবং কালের মাঝামাঝি...।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
তাহের মৃত্যদিবসে তাঁকে রেড-স্যালুট।আপনাকে ধন্যবাদ।আপনার উদ্ধৃতিটুকু কিসেবা প্রকাশণী থেকে প্রকাশিত "হেলকমান্ডো" থেকে নেওয়া?পড়েছিলাম ৯৫'য়ে ক্লাসটেনের ছাত্র তখণ।কি আশ্চর্য এখণো মনে আছে।কর্ণেল তাহের'রা এমনি হয়,রাষ্ট্র তাদের স্মরণ না করলেও ঠিকই মানুষের মনে থেকে যায়।
লেখক বলেছেন: ঠিক ধরেছেন। হেল কমান্ডো থেকে। যেহেতু মে. আনোয়ারের কথা উল্লেখ করেছি তাই বইটার নাম দেইনি। হেল কমান্ডো অসাধারণ একটা বই, কি বলেন?
ধন্যবাদ আপনাকেও।
লেখক বলেছেন: চলে যাচ্ছে। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আসলেই...।
নাঈম বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
দস্যু বনহুর বলেছেন:
তাহেরের জন্য শ্রদ্ধা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
রাহা বলেছেন:
ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও।
স্বাধীন বাংলা বলেছেন:
জাতীয় বীর কর্ণেল তাহের এর জন্য শ্রদ্ধা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
কঁাকন বলেছেন:
শ্রদ্ধা
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
রুধীণ বলেছেন:
গভীর শ্রদ্ধা....
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।
শুভ বলেছেন:
ইতিহাস, ফিরে আসে বারবার...।
কানা বাবা বলেছেন:
তাহেরের স্বপ্নের দেশেই তাহেররা 'খুন' হন আর মাননীয় বেঈমানগণ ম'রে গিয়ে হন 'শহীদ'!
আশ্চর্য লাগে এটাই; সেই তথাকথিত 'শহীদী' আদর্শের বীজমন্ত্রধারী নির্বোধ লোকের সংখ্যা এখনো কোটি ছাড়িয়ে!
এতোটা কৃতঘ্ন কেন আমরা?


















