আমার প্রিয় পোস্ট

ali-mahmed.com

ফাদার, আমারটা নেবেন? নেন না, নেন।

২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:২৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

ফাদার।
ফাদার মারিনো রিগন। ইতালীর নাগরিক। ১৯৫৩ সালে বাংলাদেশে আসেন।

১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধ। তিনি বানিয়ারচর গ্রামের ক্যাথলিক গির্জার প্রধান যাজক।
দিনের বেলায় গির্জা, ফাদার মারিনো গির্জার যাজক । কিন্তু ভোজবাজির মত রাতে গির্জাটা হয়ে যেত হাসপাতাল। তিনি গির্জাটাকে রাতের বেলায় বানিয়ে ফেলতেন হাসপাতাল, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে।
শত শত মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি, চিকিৎসা করেছেন, খাইয়েছেন। যুদ্ধের নারীকে করেছেন পূর্ণবাসিত। সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
১৯৭১-এ রিগন নিয়মিত ডায়েরি-দিনলিপি লিখতেন। তখন তার দিনলিপিতে লিপিবদ্ধ আছে বাঙালীদের উপর পাক-আর্মির নৃশংসতার কথা, রাজাকারদের তান্ডবের বর্ণনা।

একজন হেমায়েতউদ্দিন বীর বিক্রম।
ইনি ১৯৭১ সালে ছিলেন রামশীল গ্রামে দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধার দল হেমায়েত বাহিনীর প্রধান। এই বাহিনীর সঙ্গে পাক আর্মীর তুমুল যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে হতাহত হয় পাক আর্মীর ১৫৮ জন। আহত হন হেমায়েত বাহিনীর হেমায়েত।
যথারীতি চিকিত্সা করেন ফাদার রিগন। হেমায়েত প্রাণে বেঁচে যান।

পরে হেমায়েত বলেন, ওই সময় আমার চিকিত্সা করে ফাদার নিজের জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ওই সময় উপরে ছিলেন ঈশ্বর নীচে ফাদার রিগন।

গতবছর তিনি জটিল অপারেশনের জন্য ইতালী যাওয়ার আগে গির্জার লোকজনকে বলে গিয়েছিলেন, ইতালীতে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁকে যেন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়, এখানেই সমাহিত করা হয়।
যাওয়ার আগে তিনি (আশা নাজনীন, প্রথম আলো) ফোনে বলে গিয়েছিলেন জীবনানন্দের ভাষায়, আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়, এই ধানসিঁড়ি নদীর তীরে...।

আমরা ফাদার রিগন নামের ৮৩ বছরের এই মানুষটাকে এই ৩৭ বছরে কি দিয়েছি? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কত লম্বা লম্বা বাতচিত করেছি! আমার জানামতে ২০০৭ পর্যন্ত এই মানুষটিকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি অথচ তিনি বারবার আবেদন করেছেন তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য, তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি। পরের আপডেট আমার কাছে নাই।
আমার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে যখন ভিনদেশি অসাধারণ এইসব মানুষদের কাছে আমাদেরকে অকৃতজ্ঞ, নগ্ন করে দেয়া হয়।

হায়রে আইন- হায়রে গাইন। কার জন্য আইন! আইনের মারপ্যাচে গোলাম আযম এই দেশের নাগরিক হতে পারবেন অথচ এই মানুষটা নাগরিকত্ব পাবেন না! কেন? আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি কেনা জাতি বলে?

আফসোস, একজনের নাগরিকত্ব অন্যজনকে দেয়ার নিয়ম নাই। নইলে তুচ্ছ আমি, সীমাহীন আনন্দের সঙ্গে এই মানুষটার জন্য নিজের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতাম, অবলীলায়। আজীবন এই আনন্দ বয়ে বেড়াতাম, অগাবগা আমি, সমস্ত জীবনে অন্তত ভাল একটা কাজ করলাম।
আফসোস, এমনটা নিয়ম নাই।
কিন্তু, দেবদূতের মতো এই মানুষটার চশমার পেছনের ঝকঝকে চোখে চোখ রাখি কেমন করে!

ফাদার ঠিকই বলেছিলেন, ‍‍"যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁরাই জয়ী। আমরা যারা বেঁচে আছি তারা স্বাধীনতার সুখ বা সুবিধাভোগী।"

আসলেই আমরা বড় সুবিধাভোগী। ধান্ধাবাজ। ভান করি স্বপ্নবাজের!

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): লজ্জালজ্জা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তিযাদ্ধা  বিভাগে ।

 

  • ২২ টি মন্তব্য
  • ২৬৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৬ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৩৫
comment by: রাতমজুর বলেছেন: ঠিক। অসাধারন লিখেছেন।
২. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৩৫
comment by: অচন্দ্রচেতন বলেছেন:
দারুন লেখা। ফাদার মারিনোর ব্যাপারে আরো জানতে চাই। তিনি এখন কোথায়? তথ্যসূত্র দেন।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৯

লেখক বলেছেন: ফাদারের লেটেস্ট আপডেট আমার কাছে নাই। কারও কাছে থাকলে, জানালে, আগাম কৃতজ্ঞতা।

৩. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৩৬
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: শুভ দা কেমন আছেন? খুব ভাল লাগলো লেখাটা। গর্ডন গ্রীনিজকে একসময় আইসিসি কাপ জয়ের কারণে উল্লসিত হয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছিল। আর যে মানুষটি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা তথা এদেশের মানুষের সেবা করে গেল তাঁর ভাগ্যে নাগরিকত্ব জোটেনা। হায় সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশ।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩২

লেখক বলেছেন: কালপুরুষ দা,
ভাল না।

গর্ডন গ্রীনিজকে একসময় ...
কাজের একটা তথ্য দিলেন। ভুলে গিয়েছিলাম। আপনি বলাতে মনে পড়ল। ধন্যবাদ।

৪. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪২
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ফাদার ঠিকই বলেছিলেন, ‍‍"যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁরাই জয়ী। আমরা যারা বেঁচে আছি তারা স্বাধীনতার সুখ বা সুবিধাভোগী।
৫. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৬
comment by: রাসেল ( ........) বলেছেন: পৃথিবীতে কয়েকটা কঠিন কাজের একটা হলো বাংলাদেশের ভিসা পাওয়া, আর অন্যটা হলো বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া। জন্মসূত্রেও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না ইদানিং।

আমি বেশ অনেক দিন আগে এমন একজন জনসেবকের কথা পড়েছিলাম যার সন্তান জন্মেছে এই দেশে তবে সেই সন্তানকে প্রতি ৬ মাস পর পর কানাডা যেতে হয় ভিসা রিনিউ করতে।
৬. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৪৬
comment by: অরুনাভ বলেছেন: হায়রে বিচিত্র আমাদের এই দেশটা........
৭. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:০২
comment by: আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: হুমম.......আমলাতান্ত্রিক ভাবে আমরা বড়ই অকৃতজ্ঞ জ়াতি।
৮. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:৩৬
comment by: অচেনা মানুষ বলেছেন: আইনের মারপ্যাচে গোলাম আযম এই দেশের নাগরিক হতে পারবেন অথচ এই মানুষটা নাগরিকত্ব পাবেন না!
আরও খারাপ লাগে যখন কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয় অথচ কোন অগ্ঞাত কারনে তার বিচার হয় না।
ধিক্কার জানাই এমন আইনের....
৯. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:৪৯
comment by: সামশুল আলম বলেছেন: আমি বুঝি না আমরা এতো অকৃতজ্ঞ জাতি কেন? যে মানুষগুলো ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে নিজের দেশ ফেলে আত্মীয় পরিজন ফেলে এই দেশের জন্য এত আত্মত্যাগ করলেন তাদের সামান্য স্বীকৃতি আমরা দিতে পারি না? তাদের এত অবদানের বিপরীতে আমরা যাই দেই না কেন তাঁদের ঋণ কখনো শোধ হবেনা। আমরা অন্তত নাগরিকত্বটুকু দিয়ে তাদের সম্মান জানাতে পারি। কিন্তু কেন যে আমরা সেটা পারছিনা তা এখনো আমার বোধগম্য হয় না। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে রবিশংকর , জর্জ হ্যারিসনদের কথা। তাঁরা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নামে এতবর একটা অবদান রাখলো বাংলাদেশের জন্য অথচ আজো কি আমরা তাঁদের আনুষ্ঠানিক কোন সংবর্ধনা কিংবা স্বীকৃতি দিয়েছি???
১০. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৩৩
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: বীরপ্রতীক ওডারল্যান্ডও মনে হয় জীবিতাবস্থায় নাগরিকত্ব পাননি,জর্জ হ্যারিসন বা জোয়ান বায়েজকেও আমরা সামান্য কৃতজ্ঞতা দেখাইনি,বিচিত্র কি এই দেশেই গোলাম আযম নাগরিকত্ব পাবে?
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৪

লেখক বলেছেন: তাও তো একজন বিদেশিকে এই সম্মান দেখিয়েছে..., এও কী কম!

১১. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৫২
comment by: ফেরারী পাখি বলেছেন: একটি বিশেষ অধ্যায় তুলে ধরার জন্য খুব ভালো লাগলো লেখাটা। ফাদার এখন কোথায় কেমন আছেন?
এটুকু জিজ্ঞাসা ছাড়া আসলে কিছু বলার ভাষা আমার জানা নেই।
১২. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:৩৯
comment by: ঐক্যতান বলেছেন: নটরডেম কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল ফাদার পিশেতো (Joseph Peixotto), এই লোকটাও বাংলাদেশকে ভালবেসে তার সারাজীবন এদেশে কাটিয়ে যখন নাগরিকত্ব চাইলেন, তাঁকে নাগরিকত্ব দেওয়া হল না। অথচ এদেশে শিক্ষা বিস্তারে উনার যে অবদান, তার কোন প্রতিদান চলে না। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ২২ বৎসর উনি নটরডেম কলেজের প্রিন্সিপাল হিসাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। প্রতিদানে উনি কিছুই চাননি, চেয়েছেন সারাজীবন যে দেশটাকে ভালবেসেছেন সেই দেশে শেষ জীবনটা কাটিয়ে দিতে। আমরা কি তাকে সেই সম্মানটুকু দিতে পারতাম না? আমরা যোগ্য লোককে যোগ্য সম্মান দিতে পারি না, অযোগ্য লোককে মাথায় করে রাখি।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৬

লেখক বলেছেন: দু:খজনক!

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৭

লেখক বলেছেন: কষ্ট!

১৩. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:১০
comment by: নাভদ বলেছেন: +
১৪. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:২৮
comment by: সোনালী ডানার সঙ্খচিল... বলেছেন: অফটপিক: শুভ মানে কুন শুভ? পোরফাইল ফুটুক্টা চেনা-চেনা লাগতেছে...
আব্দুল্লাহ-আল-মনসুর নাকি?
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৯

লেখক বলেছেন: পোরফাইল ফুটুক্টা আমার্ও চেনা-চেনা লাগতেছে কিন্তু আব্দুল্লাহ-আল-মনসুর নামটা আমার চেনা লাগতেছে না!

১৫. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬
comment by: বকলম বলেছেন: শুভ বস (ভাই ডাকা নিষেধ), বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে যতটা গর্ব লাগে অন্য দেশের নাগরিকত্ব দিলে ততটা লাগত কিনা সন্দেহ। কিন্তু যে মানুষটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো আমার দেশকে, আমার দেশের মানুষকে ভালবেসে কাটিয়ে দিয়েছেন তাঁকে আমার নাগরিকত্ব যদি আমিও দিয়ে দিতে পারতাম, তবে এতটুকু দুঃখবোধ হত না। বরং গর্ববোধ করতাম তার জন্য যে আমার দেশের জন্য তার জীবন, যৌবন উৎসর্গ করেছে। স্যালুট তাদেরকে যারা "মানুষ" নামের যর্থাথ স্বতাধীকারী।
১৬. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৫
comment by: ঝড়ো হাওয়া বলেছেন: বরাবরের মতই হৃদয় ছোয়া পোষ্ট।
শেষ লাইনটা খুবই সত্যি।
আর কিছু বলার নাই।

 



 


লেখালেখির ভূত, রাস্কেলটাকে খুঁজছি। পেলেই হয়, আছাড় দিয়ে 'পেটা' গেলে ফেলব।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৬৯৬৮