somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বীরশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকর্তার ভাবনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। একাগ্রচিত্তের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শাসন কার্য- সৃষ্টিকর্তার জন্যে এরচেয়ে লজ্জার কিছু নেই। পাথরচাপা কষ্ট নিয়ে বললেন: এতো অপাপবিদ্ধ রক্ত, এতো রক্ত- এ নিয়ে আমি কি করব, কোথায় রাখব!

এদেশের ক-জন সেরা সন্তান সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ, একই সঙ্গে আবেদন করলেন, অল্প সময়ের জন্যে প্রিয় মাতৃভূমি দেখার অনুমতি দেয়া হোক।
এঁদের বলা হলো, এ রকম নিয়ম নেই। কিন্তু বীরশ্রেষ্ঠরা গোঁ ধরে রইলেন।

অবশেষে অনুমতি মিলল কিন্তু নিয়মকানুন বলে দেয়া হলো। কোনো অবস্থাতেই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না, সাতজনকেই একসঙ্গে থাকতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে ফেরা যাবে না।

ঢাকা।
১২ ডিসেম্বর।
আর মাত্র একদিন পর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, মাত্র তিনদিন পর বিজয় দিবস।

চোখের পলকে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ প্রিয় মাতৃভ’মিতে উদয় হলেন। মৃত্যুনীল যন্ত্রণায় তাঁদের দেহ মোচড় খাচ্ছে। ভুল করে তারা পাকিস্তানে চলে এসেছেন।
চারদিকে উড়ছে পাকিস্তানি পাতাকা পতপত করে। ঢাকা ছেয়ে গেছে পাকিস্তানি পতাকায়।

সিপাহী মোঃ মোস্তফা কামাল চেঁচিয়ে বললেন: কী আশ্চর্য, ওই, ওইতো দেখা যায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ?
ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ সুর মেলালেন: আরে আমিও তো স্টেডিয়াম দেখতে পাচ্ছি।
কিছুদূর এগুতেই ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রব অবাক হয়ে বললেন: অবাক কাণ্ড, এটাই তো সেই ঘড়িঅলা বিল্ডিংটা!
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ফুটপাতের অসংখ্য পত্রপত্রিকা নেড়েচেড়ে দেখলেন, সব বাংলা।
স্কোয়াডন ইঞ্জিনিয়ন মোহাম্মদ রুহুল আমীন অস্ফুট স্বরে বললেন: সবাই বাংলা ভাষায় কথা বলছে, এটা পাকিস্তান হতেই পারে না।

মতিঝিলে জ্যামে এঁরা অনেকক্ষণ আটকে রইলেন। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে সবুজ চত্বরে নাকি স্বাগত জানানো হবে।

এঁরা এদিক ওদিক বেশ সময় ঘুরে বেড়ালেন। ভাল লাগছে না, ভাল লাগছে না কিছুই!
একসময় সচেতন হয়ে ভারী লজ্জিত হলেন। আসার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়া উচিত ছিল।

কিন্তু জাতীয় স্মৃতিসৌধের চারপাশে মানব প্রাচীর ঘিরে আছে। বীরশ্রেষ্ঠরা অলৌকিক ক্ষমতার ব্যববহার না করে এ ব্যুহ ভেদ করতে পারলেন না।
একজন বীরশ্রেষ্ঠ, কঠিন নিষেধ বিস্মৃত হয়ে মুখ ফসকে বলে ফেললেন: কেন স্মৃতিসৌধে ঢুকতে দেবেন না, আমরা বীরশ্রেষ্ঠ, আমাদের কি এইটুকু অধিকারও নেই?
ভাগ্যিস, বীরশ্রেষ্ঠরা কি করে এখানে এ নিয়ে সৈনিক মাথা ঘামাল না। পাথর মুখে এক চুল আঁচড় না ফেলে বরফ ঠাণ্ডা গলায় বলল, পাকিস্তানের প্রাইম মিনিস্টার এখন ফুল দিচ্ছেন। আপনারা বীরশ্রেষ্ঠ হোন আর যাই হোন এ লোকের চেয়ে বড় না।

বীরশ্রেষ্ঠরা ফিরে আসছেন, থুতনী নীচু হতে হতে বুকে গিয়ে ঠেকছে। সবাই জামার ভেতর আটকে থাকা মেডেলটা খুলে ফেলার চেষ্টা করেছেন। মেডেলগুলো ফেলে দিতে গিয়ে তারা জমে গেলেন- এগুলোর গায়ে দৈববাণী জ্বলজ্বল করছে: আমার বীর সন্তান, যাদের চেয়ে প্রিয় আমার আর কেউই নাই।

*পুরনো লেখা বিধায় প্রথম পাতায় দিলাম না।
** সালটা সম্ভবত ৯২-৯৩ হবে। বাংলাদেশে পাকিস্তানের প্রাইম-মিনিস্টার এসেছিলেন। সমস্ত ঢাকা শহর পাকিস্তানি পতাকায় ঢেকে ফেলা হয়েছিল। দৃশ্যটা এখনও ভুলতে পারি না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28864514 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28864514 2008-11-04 14:04:35
বুক্কা এবং এক চিলতে আকাশ!
বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, বেটারে, আহা, কীসব দিন ছিল!
বুক্কা বলল, বাবা, ছোটবেলায় তুমি কি কি করতে? খুব দুষ্ট ছিলে বুঝি?
বাবা লাজুক গলায় বললেন, হুঁ, একবার মৌমাছির চাকে ঢিল দিলাম। দিল কামড়। মুখ ফুলে ঢোল। বাবা ছাতা দিয়ে দিলেন এক বাড়ি। জীবনে সেই প্রথম বাবার হাতে মার খেলাম। কেন জানি বাবার মেজাজ সেদিন খুব খারাপ ছিল।
বুক্কা বলল, মৌমাছির চাক কি বাবা?
বাবা বললেন, এই যে মধু; অ, তুই চিনবি কি করে! তুই তো ব্রেডের সঙ্গে খাস জ্যাম-জেলী। মধু কোত্থেকে আসে তোকে বলি। ফুল থেকে মৌমাছি মধু নিয়ে তার বাসায় জমায়। আগুনের ধোঁয়া দিলে মৌমাছিরা বাসা ছেড়ে চলে যায়। তখন ওদের বাসা ভেঙ্গে মধু সংগ্রহ করা হয়।
বুক্কা অবাক হয়ে বলল, বাবা আগুনে মৌমাছিরা মারা যায় না?
বাবা বিব্রত গলায় বললেন, তাতো মরবেই। তবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌমাছি চাষ করলে অবশ্য মৌমাছিরা মরে না।

বুক্কা চোখ গোল গোল করে বলল, বাবা মৌমাছির বাসা কি রকম দেখতে, এ্যাকুরিয়ামের মতো?
বাবা হাসলেন, ধুর পাগল। দাড়া তোকে সিডি এনে দেব। দেখি, খুঁজে পাই কিনা, কম্পিউটারে দেখতে পারবি।
বুক্কা ঠোঁট উল্টে বলল, সে তো আমিই পারি। জিসানের কাছে কত্তো সিডি।
বাবা অবাক হলেন, জিসান কে?
বুক্কা হড়বড় করে বলল, আমার বন্ধু। বাবা, তুমি ওকে চেন না, আশ্চর্য! ওর বাবা একজন মন্ত্রী!
বুক্কার বাবা গভীর শ্বাস ফেললেন, তোর বন্ধু-বান্ধব, সচিব-মন্ত্রীর ছেলে। অথচ আমার শৈশব-কৈশোরের বন্ধু ছিল কেউ ধোপার ছেলে, কেউ বা মুচির ছেলে।
বুক্কা আর্তনাদ করে উঠল, হোয়াট দ্য হেল য়্যু আ টকিং এবাউট . . .!
বাবা তীব্র গলায় বললেন, শাটআপ বুক্কা, জাস্ট শাটআপ। এসব কি অভদ্র কথা!
বুক্কা মাথা নীচু করে বলল, সরি বাবা।

বাবা সামলে নিয়ে বললেন, তো, যা বলছিলাম, আমার শৈশব-কৈশোর এদের কাছে ঋণী। আজ আমি যা কিছু, এর পেছনে এদের অনেক অবদান আছে। এটাই বাস্তব, আমি ওখান থেকেই উঠে এসেছি। আহা, কী সব দিন! এদের সঙ্গে কতো ডাংগুলি খেলেছি।
বুক্কার বিস্মিত গলা, ডাংগুলি কি বাবা?
বাবা ঝলমলে মুখে বললেন, খুব মজার একটা খেলা। এক লাল হলে আস্ত একটা গুদাম কেনা যেত। এড়ি, দুড়ি, তেলকা, চুড়ি, চম্পা, ডেগ, সুতেগ . . . এভাবে গুণে গুণে এক লাল হত। মুচির ছেলে গাদুরার কাছে আমি নিয়মিত হারতাম। সে গুদাম-টুদাম, নদী সব কিনে ফেলত। আমি ফতুর হয়ে যেতাম। পরে অসংখ্য কিল নিতে হতো।’
কিল কি বাবা?
বাবা হাসলেন, ইসরে বেটা, বলিস না, পিঠে দুমদুম করে মার!

বুক্কা এবার সত্যি সত্যি আগ্রহী হলো, বাবা এই খেলার কি সিডি পাওয়া যাবে?
বাবা কিছুণ ভেবে বললেন, মনে হয় না। আজকাল তোরা কী সব খেলা খেলিস- ব্যাকগ্যামন, পেসেন্স, গল্ফ, বিলিয়ার্র্ড, তাও কম্পিউটারে!
বুক্কা বলল, আর কি খেলা ছিল তোমাদের সময়, বাবা?
বাবা বললেন, কতো ধরনের খেলা। দাড়িয়াবান্ধা, এক্কা-দোক্কা। জানিস, গুলতি দিয়ে একবার না বিরাট একটা পাখি মেরেছিলাম।
বুক্কা থেমে থেমে বলল, কী নিষ্ঠুর ছিলে তুমি, বাবা!
বাবা দুঃখিত হলেন, হুঁ, এখন মনে পড়লে বড় কষ্ট হয়। আমার এক বন্ধুর এয়ারগান ছিল। ওরা শুধুমাত্র একবেলা খাওয়ার জন্য চল্লিশ-পঞ্চাশটা চড়ুই পাখি মারত!
বুক্কা শিউরে উঠলো, কী বিভৎস!
বাবা এক বুক কষ্ট নিয়ে বললেন, বুক্কা, জীবনে একবার আমি খুব বড় একটা অন্যায় করেছিলাম। বন্ধুর এয়ারগান দিয়ে একটা কাক মেরেছিলাম। ওই সময় কষ্ট লাগেনি। হতভম্ব হয়েছিলাম, যখন বন্ধুটি মৃত কাককে ফুটবলের মতো লাথি দিয়েছিল!
বুক্কা আর্তনাদ করে উঠলো, বাবা, তোমার পায়ে পড়ি আর বলো না।

বাবা কথা ঘুরাবার জন্য বললেন, বুঝলি, আমার না একটা রাখাল বন্ধুও ছিল। নামটা মনে নাই। ছোটবেলা থেকে আমি তো খুব বই পড়তাম। ক্লাসের বই না, আমাদের গুরুজনদের ভাষায় আউট বই। স্কুলের নাম করে বের হতাম, বাসা থেকে একটু দুরে ওই রাখালের গোয়ালঘর ছিল। আমার রাখাল বন্ধু আমাকে ভেতরে রেখে তালা বন্ধ করে গরু চরাতে বেরিয়ে যেত। আমি ধুমসে বই পড়তাম। দস্যু বনহুর, দস্যু রাণী, ফাল্গুণি, নিহার রঞ্জন, যা পেতাম তাই।
বুক্কা চোখ বড় বড় করে বলল, তুমি স্কুল ফাঁকি দিতে, বাবা!
বাবা বিব্রত গলায় বললেন, হুঁ। ওই আর কি, মানে সব সময় যেতাম না আর কি।
বাবা টিচাররা তোমায় কিছু বলত না?

বাবা উত্তর দিলেন না। স্কুল ফাঁকি দেয়ার ব্যাপারটা বুক্কার সঙ্গে আলোচনা করতে ভাল লাগছিল না, কথা ঘুরাবার জন্য বললেন, বুক্কা, তোরা তো আবার বিদেশী লেখা ছাড়া এখন আর পড়িস না। কীসব যেন হ্যারী পটার . . . ।
বুক্কা মন খারাপ করা গলায় বলল, দেশে আমাদের জন্য দেশে কেউ লেখে নাকি?
বাবা বললেন, দেশে তোদের জন্য লেখালেখি করেন না এমন না, অনেকেই আছেন. . .। ছোট বেলায় রাশিয়ান একটা গল্প পড়েছিলাম, জানিস। লেখকের নামটা মনে নাই।
বুক্কা বলল, কি ছিল গল্পটা?
বাবা বললেন, বলি শোন: “কুয়োতলায় সব মায়েরা জড়ো হয়েছেন। মারা একসঙ্গে হলে যা হয় আর কি? রান্না-বান্না, শাড়ি-গহনা, এইসব নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। সবশেষে প্রসঙ্গ এলো কার সন্তান কতো প্রতিভাবান এই নিয়ে। দূরে সবার সন্তানরা খেলা করছিল।
এক মা তার এক সন্তানকে কাছে ডাকলেন। তার সন্তান চমৎকার ডিগবাজী খেল। সবাই মুগ্ধ। ওই সন্তানের মার মুখ ঝলমলে।
অন্য একজন মার সন্তান চমৎকার গান গাইল। কেউ বা কবিতা আবৃত্তি করল।
কেবল মাত্র একজন মা বিমর্ষ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। অন্যরা বলল: কিগো তোমার ছেলেকে ডাকলে না। ওই মা চোখ নীচু করে বললেন, আমার খোকার যে কোন গুণ নাই, বলে ভারী বালতিটা উঠিয়ে তিনি গুটিগুটি পায়ে এগুতে লাগলেন।
রোগা দুবলা কালো-কালো মতো তার সন্তান কোত্থেকে জানি ঝড়ের গতিতে এলো, মার ভারী বালতিটা ছিনিয়ে নিল। সোজা বাড়ীর দিকে হাঁটতে লাগল।”

বাবার চোখে জল। কিন্তু বাবা বুক্কার কাছ থেকে লুকাবার কোন চেষ্টাই করলেন না।
বাবা সামলে নিয়ে বললেন, মজার আরেকটা খেলা ছিল- রস, কস, সিঙ্গা, বুলবুল, মালেক, মুসতাক। জানিস, ঘুড়ি উড়ানো খেলায় আমার সঙ্গে কেউ পারত না। সুতোয় এমন মাঞ্জা দিতাম. . . ।
বুক্কার বিস্ময়ের শেষ নেই, মাঞ্জা কি বাবা?
বাবার শিশুর উচ্ছ্বাস, সুতোয় কাঁচ ভাঙ্গার গুড়ো, হেনতেন মিশিয়ে একটা সিরাপের মতো তৈরী করা হতো। বিশেষ পদ্ধতিতে সুতোয় মিশিয়ে নাটাইয়ের ওই সুতোয় মেশানো হতো। ব্যস, কেল্লা ফতে। অন্য ঘুড়ির সুতো লাগলেই, ঘ্যাচ ঘ্যাচ ঘ্যাচ। হা, হা, হা। কী মজা!

বুক্কা হ্যারী পটারের চশমার মতো চোখগুলো গোল করে অপার বিষ্ময়ে দেখছে বাবাকে। তাঁকে কী ছেলেমানুষই না দেখাচ্ছে! বাবা যেভাবে লাফাচ্ছেন, ছাদে না মাথা ঠুকে যায়! কী আশ্চর্য, বয়স্ক এই মানুষটার মধ্যে লুকিয়ে আছে ছোট্ট একটা শিশু!

বুক্কা দুঃখের শ্বাস ছাড়ল। বাবার এইসব মজার খেলাগুলো খেলার কোন উপায় নেই। শহর নামের কংক্রিটের এই আবর্জনার মাঝে ওরা থাকে বিশতলা এপার্টমেন্টে। চারপাশে উঁচু উঁচু দালান। খেলার মাঠ দূরের কথা এখানে আকাশই কই- চাঁদই মুখ লুকিয়ে ফেরে!

*পুরনো লেখা বিধায় আমার পাতায় রেখে দিলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28846229 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28846229 2008-09-22 00:51:21
হায় উদর, হায়! আজ নিরাপদ দূরুত্বে এটার মুখোমুখি হয়ে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেল। কেবল মনে হচ্ছে ফিচফিচ করে মেকি কান্না না, হাউমাউ করে কাঁদতে পারলে বেশ হত।

খুলনায় রাষ্ট্রয়ত্ত পাটকলের বকেয়া বেতনের দাবীতে ২৭ জন শ্রমিকনেতা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহুতি দিতে গিয়েছিলেন। এঁরা ঠান্ডা মাথায় যে কাজগুলো করেছেন, কেবল মনে হচ্ছে আমার চামড়ার নীচে অসংখ্য সরীসৃপ কিলবিল করছে।

এই ২৭ জন। প্রিয় মানুষদের মুখগুলো, নরক গমনের ভয় পেছনে ফেলে মৃত্যুকে ছুঁয়ে দিতে এগিয়ে চলা। শত-শত সহযোদ্ধাদের কান্না বাতাসে মিশে যায়, পায়ে দলে যায়। শরীর, মাথায় কাফনের কাপড়। শেষ নামায আদায়। তওবা করা। হাতে কেরোসিনের বোতল থেকে নিজের গায়ে ঢেলে দেয়া। ম্যাচ জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা...।
দমকল বাহিনীর লোকজনরা বুদ্ধি করে এদের গায়ে পানি ছিটিয়ে না দিলে...?
কী হত? এই দেশে কত মানুষই তো পোকা-মাকড়ের মত মারা যাচ্ছে। এর সংগে আরও কিছু সংখ্যা যোগ হত।

কিন্তু কে জানে, হয়তো কোন এক নির্বোধের বড্ড সমস্যা হয়ে যেত। কানে ভেসে আসা, চামড়া পোড়ার চড়চড় শব্দ কী ডেসিবল দিয়ে মাপা যেত? ধোঁয়াওঠা গরম গরম ভাতের গন্ধের সাথে কী চর্বিপোড়া গন্ধ একাকার হয়ে যেত? জানা নাই।

হায় জঠর! হায় ক্ষিধার কষ্ট! ক্ষিধার কষ্ট, বড় কষ্ট। এই কষ্টটা উপলব্ধি করার জন্য আমাদের কত কসরতই না করতে হয়। তবুও ক্ষিধা নামের পশুটাকে পুরোপুরি চেনা হয়ে উঠে না আজও!

এই ২৭ জন শ্রমিকনেতাদের দেখে কেবল মনে হচ্ছে আমাদের জাতীয় বিবৃতিবাজ নেতাদের মত কেবল বিবৃতি দিয়েই এঁরা ক্ষান্ত দেননি, অনায়াসে সত্যি সত্যি নেতা হয়ে উঠা।
আহা, যেসব নেতাদের জন্য আমরা আপামর জনতা অবলীলায় অমূল্য প্রাণ বিসর্জন দেই এরা এঁদের পাশে দাঁড়ালে সংখ্যাটা হত ২৮। অলীক ২৮!

আমি খুব আশা নিয়ে আছি, খুব আশা, আমাদের দেশের বিখ্যাতসব কলমবাজরা তাদের দামি কলম তুলে এদের পক্ষে ঝড় বইয়ে দেবেন। মুক্তচিন্তার দৈনিকগুলোতে প্রথম পাতায় মন্তব্য আকারে ঢাউস ঢাউস আগুনের গোলা উগরে দেবেন।
দেবেন কী? শক্তিশালী লেখকদের এইসব সামান্য বিষয় নিয়ে তাঁদের অন্য ভুবনের লেখাভরা মাথাটা ঘামাবার সুযোগ আছে কী! এঁরা তো জ্যোৎস্নায় থপথপ করে পায়চারি করে শরীরে কোমল জ্যোৎস্না মাখতে থাকেন, কচকচ করে জ্যোৎস্না চিবুতে চিবুতে কোন এক অজানা ভাবনায় তলিয়ে যান। জ্যোৎস্না-ফসর রাইত না হলে মরতে রাজি হন না, দম আটকে ঝুলে থাকেন।
তাদের কোন ক্ষুধার্ত চরিত্র চাঁদের দিকে তাকিয়ে কোন এক আলোকিত ভাবনা ভাববে। আমরা আয়েশ করে, ভুড়ি ভাসিয়ে সেই লেখাগুলো হাভাতের মতো গিলব।
এইসব সামান্য বিষয়ে এদের কলমবাজি করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই বিষয়ে আমি আমার সর্বস্ব বাজি রাখতে রাজি আছি। এমন বাজিতে হেরে গেলেও সুখ। অতীতে দেখেছি, একের পর এক পাটকলগুলো যখন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছিল আমাদের লেখক মহোদয়দের দেখলাম না তেমন গা করতে। কেন, আল্লা মালুম!

আসলে এদের ভাবনার জগৎ অপার্থিব, পরাবাস্তব- তীব্র আলোর ছটায় অন্যদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। আধুনিক, উত্তর আধুনিক সাহিত্যের চুলচেরা ফারাকের বিশ্লেষণ ব্যবচ্ছেদ করে করে ফুরসত আর কই!
এখন শক্তিশালি জনপ্রিয় লেখকরা কোন এক শপিং মলের ফিতা কাটতে ভারী আমোদ বোধ করেন বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ডিম ভাজতে।

যাই হোক, কেন ঘামের পাওনা পরিশোধ করা হবে না? রোডম্যাপওয়ালারা বলবেন, মিলগুলো লোকসান দিচ্ছে, টাকা আসবে কোত্থেকে? মিলগুলো চলছে না, কেন চলছে না?
বিভিন্ন অজুহাতে পূর্বেও অসংখ্য পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়াটা কেন অতীব জরুরি এই কুতর্ক করে লাভ নাই। এই পাটকলগুলো বন্ধ করার জন্য নাকি আমাদের পুরু মাখন খাওয়া বৈদেশিক দাতা মহোদয়দের তীব্র চাপ ছিল। এরা এই পাটকলগুলো বন্ধ করার জন্য মুঠো মুঠো ডলার দিতে আগ্রহি। সাধু-সাধু।
পাশ্ববর্তী অন্য দেশগুলোর জন্য আবার অন্য চিত্র। ওখানের জন্য নিয়মটা আবার অন্য রকম। ওখানে পাটকল চালু করার জন্য মুঠো মুঠো ডলার, ইউরো।
ভারতে পাটের সামগ্রী ব্যবহারের চাহিদা ৯০ ভাগ, আমাদের দেশে ৫ ভাগ। পাটকলগুলো লোকসানের অন্যতম কারণগুলোর কয়েকটা এমন: সীমাহীন দূর্নীতি, বিদ্যুত-পাওয়ার না থাকা। ১৬ ঘন্টা বিদ্যুত না থাকলে শ্রমিকদের দোষ দেয়া কেন- এরা কেন তাদের ঘামের মূল্য পাবেন না?

আমাদের মত অগাবগারা কি আর এইসব জটিল বিষয় বুঝতে পারি- আমাদের মস্তিষ্ক তো ঘন্টা দরে বিক্রি করে দেই!
ওহে, এ দেশের সোনার শিল্প উদ্যোক্তারা, আপনাদের মধ্যে এমন কেউ কি ছিল না? ছিল না এমন কোন সোনার বাংলার সোনার সন্তান, যে এই রুগ্ন পাটকলগুলো দায়িত্ব নিতে পারতেন? অনেককেই দেখেছি, হেনতেন এমন কিছু নেই যা মার্কেটিং করতে পারেন না- ইশবগুলের ভুষিও ঝাঁ চকচকে প্যাকেট করে অবলীলায় মার্কেটিং করে ফেলেন। এক চিমটে ভুষি ৪ টাকা- পাবলিক দেদারসে কিনছে।
শ্লা ,পারেন না কেবল সোনার দেশের সোনার ছেলেরা সোনালী পাট মার্কেটিং করতে।

আহা, এমনটা হলে যে আমাদের জন্য যে ভারী বেদনার। কত্তো কত্তো গল্প যে আমরা মিস করব। শ্রমিকের যে মেয়েটি এসএসসি পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছিল, সে পরীক্ষা দিতে পারবে না। যে গৃহবধুটির সলাজ মুখে ঢলঢল করত কমনীয়তা সেই বধুটি বাসন মাজবে ।
একজন শ্রমিকের হাত যখন অবলীলায় ভিক্ষুকের হাতে পরিণত হবে, এরচে মজার আর কী হতে পারে, নাকি হওয়া উচিত!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28844185 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28844185 2008-09-17 00:43:57
বীরাঙ্গনা: ভাগীরথী বলতে হয় এক্ষেত্রে ওরা শুধু সফলই হয়নি, বর্বরতার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

অষ্টাদশী ভাগীরথী ছিল বরিশাল জেলার পিরোজপুর থানার বাঘমারা কদমতলীর এক বিধবা পল্লীবালা। বিয়ের এক বছর পর একটি পুত্র সন্তান কোলে নিয়েই তাকে বরণ করে নিতে হয় সুকঠিন বৈধব্য।
স্বামীর বিয়োগ ব্যথা তার তখনও কাটেনি। এরই মধ্যে দেশে নেমে এল ইয়াহিয়ার ঝটিকা বাহিনী। গত মে মাসের এক বিকালে ওরা চড়াও হলো ভাগীরথীদের গ্রামে। হত্যা করলো অনেককে, যাকে যেখানে যেভাবে পেলো।

এ নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ভাগীরথীকে ওরা মারতে পারলোনা। ওর দেহলাবণ্য দস্যুদের (পাক সেনাদের) মনে যে লালসা জাগিয়েছিল তাতেই হার মানল তাদের রক্ত পিপাসা। ওকে ট্রাকে তুলে নিয়ে এল পিরোজপুরে। তারপর ক্যাম্পে তার উপর চালানো হলো হিংস্র পাশবিক অত্যাচার।
সতী নারী ভাগীরথী। এ পরিস্থিতিতে মৃত্যুকে তিনি একমাত্র পরিত্রাণের উপায় বলে ভাবতে লাগলেন। ভাবতে ভাবতেই এক সময় এল নতুন চিন্তা, মৃত্যুই যদি বরণ করতে হয় ওদেরইবা রেহাই দেব কেন?

ভাগীরথী কৌশলের আশ্রয় নিল এবার। এখন আর অবাধ্য মেয়ে নয়, দস্তরমত খানদের(পাক সেনাদের) খুশী করতে শুরু করল, ওদের আস্থা অর্জনের আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে লাগলো।
বেশীদিন লাগলোনা, অল্প কদিনেই নারী লোলুপ ইয়াহিয়া বাহিনী ওর প্রতি দারুণ আকর্ষণ অনুভব করল। আর এই সুযোগে ভাগীরথী ওদের কাছে থেকে জেনে নিতে শুরু করল পাক বাহিনীর সব গোপন তথ্য।
এক পর্যায়ে বিশ্বাসভাজন ভাগীরথীকে ওরা নিজের গ্রামে, ঘরেও যেতে দিল। আর কোন বাঁধা নেই। ভাঘীরথী এখন নিয়মিত সামরিক ক্যাম্পে যায় আবার ফিরে আসে নিজ গ্রামে।

এরই মধ্যে বুদ্ধিমতি ভাগীরথী তাঁর মূল ল্য অর্জনের পথেও এগিয়ে গেল অনেকখানি। গোপনে মুক্তি বাহিনীর সাথে গড়ে তুলল ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। এরপরই এল আসল সুযোগ। জুন মাসের একদিন ভাগীরথী খান সেনাদের নিমন্ত্রণ করলো তাঁর নিজ গ্রামে। এদিকে মুক্তি বাহিনীকেও তৈরী রাখা হলো যথারীতি। ৪৫ জন খান সেনা হাসতে হাসতে বাগমার কদমতলা এসেছিল কিন্তু তার মধ্যে ৪/৫ জন ক্যাম্পে ফিরতে পেরেছে বুলেটের ত নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে। বাকিরা ভাগীরথীর গ্রামেই শিয়াল কুকুরের খোরাক হয়েছে।

এরপর আর ভাগীরথী ওদের ক্যাম্পে যায়নি। ওরাও বুঝেছে, এটা তারই কীর্তি। কীর্তিমানরা তাই হুকুম দিল জীবিত অথবা মৃত ভাগীরথীকে যে ধরিয়ে দিতে পারবে তাকে নগত এক হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।
কিন্তু ভাগীরথী তখনও জানতোনা ওর জন্য আরও দুঃসহ ভবিষ্যৎ অপো করছে। একদিন রাজাকারদের হাতে ধরা পড়লো ভাগীরথী। তাকে নিয়ে এল পিরোজপুর সামরিক ক্যাম্পে।

খান সেনারা এবার ভাগীরথীর উপর তাদের হিংস্রতার পরীক্ষার আয়োজন করলো। এক হাটবারে তাকে শহরের রাস্তায় এনে দাঁড় করানো হলো জনবহুল চৌমাথায়। সেখানে প্রকাশ্যে তার অঙ্গাবরণ খুলে ফেলল কয়েকজন খান সেনা। তারপর দু’গাছি দড়ি ওর দু’পায়ে বেঁধে একটি জীপে বেঁধে জ্যান্ত শহরের রাস্তায় টেনে বেড়াল ওরা মহাউৎসবে।

ঘন্টাখানেক রাজপথ পরিক্রমার পর আবার যখন ফিরে এল সেই চৌমাথায় তখনও ওর দেহে প্রাণের স্পন্দন রয়েছে। এবার তারা দু’টি পা দু’টি জীপের সাথে বেঁধে নিল এবং জীপ দু’টিকে চালিয়ে দিল বিপরীত দিকে।
ভাগীরথী দু’ভাগ হয়ে গেল। সেই দু’ভাগে দু’জীপে আবার শহর পরিক্রমা শেষ করে জল্লাদ খানরা আবার ফিরে এল সেই চৌমাথায় এবং এখানেই ফেলে রেখে গেল ওর বিকৃত মাংসগুলো।
একদিন দু’দিন করে সে মাংসগুলো ঐ রাস্তার মাটির সাথেই একাকার হয়ে গেল এক সময়। বাংলামায়ের ভাগীরথী এমনি ভাবে আবার মিশে গেল বাংলার ধুলিকণার সাথে...।

*তথ্য ঋণ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ,অষ্টম খন্ড
**সেই সময়কার ভাষারীতি প্রায় অবিকল রাখা হয়েছে।
***পুরনো লেখা বিধায় প্রথম পাতায় না দিয়ে আমার পাতায় রেখে দিলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28840825 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28840825 2008-09-09 18:58:07
ফাদার, আমারটা নেবেন? নেন না, নেন। ফাদার মারিনো রিগন। ইতালীর নাগরিক। ১৯৫৩ সালে বাংলাদেশে আসেন।

১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধ। তিনি বানিয়ারচর গ্রামের ক্যাথলিক গির্জার প্রধান যাজক।
দিনের বেলায় গির্জা, ফাদার মারিনো গির্জার যাজক । কিন্তু ভোজবাজির মত রাতে গির্জাটা হয়ে যেত হাসপাতাল। তিনি গির্জাটাকে রাতের বেলায় বানিয়ে ফেলতেন হাসপাতাল, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে।
শত শত মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি, চিকিৎসা করেছেন, খাইয়েছেন। যুদ্ধের নারীকে করেছেন পূর্ণবাসিত। সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
১৯৭১-এ রিগন নিয়মিত ডায়েরি-দিনলিপি লিখতেন। তখন তার দিনলিপিতে লিপিবদ্ধ আছে বাঙালীদের উপর পাক-আর্মির নৃশংসতার কথা, রাজাকারদের তান্ডবের বর্ণনা।

একজন হেমায়েতউদ্দিন বীর বিক্রম।
ইনি ১৯৭১ সালে ছিলেন রামশীল গ্রামে দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধার দল হেমায়েত বাহিনীর প্রধান। এই বাহিনীর সঙ্গে পাক আর্মীর তুমুল যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে হতাহত হয় পাক আর্মীর ১৫৮ জন। আহত হন হেমায়েত বাহিনীর হেমায়েত।
যথারীতি চিকিত্সা করেন ফাদার রিগন। হেমায়েত প্রাণে বেঁচে যান।

পরে হেমায়েত বলেন, ওই সময় আমার চিকিত্সা করে ফাদার নিজের জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ওই সময় উপরে ছিলেন ঈশ্বর নীচে ফাদার রিগন।

গতবছর তিনি জটিল অপারেশনের জন্য ইতালী যাওয়ার আগে গির্জার লোকজনকে বলে গিয়েছিলেন, ইতালীতে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁকে যেন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়, এখানেই সমাহিত করা হয়।
যাওয়ার আগে তিনি (আশা নাজনীন, প্রথম আলো) ফোনে বলে গিয়েছিলেন জীবনানন্দের ভাষায়, আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়, এই ধানসিঁড়ি নদীর তীরে...।

আমরা ফাদার রিগন নামের ৮৩ বছরের এই মানুষটাকে এই ৩৭ বছরে কি দিয়েছি? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কত লম্বা লম্বা বাতচিত করেছি! আমার জানামতে ২০০৭ পর্যন্ত এই মানুষটিকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি অথচ তিনি বারবার আবেদন করেছেন তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য, তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি। পরের আপডেট আমার কাছে নাই।
আমার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে যখন ভিনদেশি অসাধারণ এইসব মানুষদের কাছে আমাদেরকে অকৃতজ্ঞ, নগ্ন করে দেয়া হয়।

হায়রে আইন- হায়রে গাইন। কার জন্য আইন! আইনের মারপ্যাচে গোলাম আযম এই দেশের নাগরিক হতে পারবেন অথচ এই মানুষটা নাগরিকত্ব পাবেন না! কেন? আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি কেনা জাতি বলে?

আফসোস, একজনের নাগরিকত্ব অন্যজনকে দেয়ার নিয়ম নাই। নইলে তুচ্ছ আমি, সীমাহীন আনন্দের সঙ্গে এই মানুষটার জন্য নিজের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতাম, অবলীলায়। আজীবন এই আনন্দ বয়ে বেড়াতাম, অগাবগা আমি, সমস্ত জীবনে অন্তত ভাল একটা কাজ করলাম।
আফসোস, এমনটা নিয়ম নাই।
কিন্তু, দেবদূতের মতো এই মানুষটার চশমার পেছনের ঝকঝকে চোখে চোখ রাখি কেমন করে!

ফাদার ঠিকই বলেছিলেন, ‍‍"যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁরাই জয়ী। আমরা যারা বেঁচে আছি তারা স্বাধীনতার সুখ বা সুবিধাভোগী।"

আসলেই আমরা বড় সুবিধাভোগী। ধান্ধাবাজ। ভান করি স্বপ্নবাজের!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28834165 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28834165 2008-08-24 01:29:12
একমাত্র আদিবাসী বীর বিক্রম, মেডেলওয়ালা! একজন বীর বিক্রম।
একমাত্র আদিবাসি বীর বিক্রম। তিন পার্বত্য জেলার একমাত্র আদিবাসি বীর বিক্রম তিনি।

'৭১ এর ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যার হাতে এলএমজি, গ্রেনেড, মর্টার গর্জে উঠেছে বারবার। মাতৃভূমিকে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে স্বাধীন করতে মরণপণ যুদ্ধে যিনি ১৩ জন সদস্য নিয়ে অংশগ্রহন করেছেন।
দুঃসাহসী এ যোদ্ধার প্রতিটি অভিযান শত্রু সেনার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। একের পর এক বর্বর পাকিস্তানি সেনারা লুটিয়ে পড়েছে মাটিতে, মৃত্যুর কোলে।

বাঙালী নারীদের ওপর পাক সৈন্যদের বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে যিনি পাক বাহিনীর ১ কমান্ডারসহ সাত সেনাকে ধরে পুরুষাঙ্গষ কেটে হত্যা করে রাস্তায় শুইয়ে রেখেছিলেন।

অথচ এই বীর যোদ্ধাকে বিজয় দিবসে বান্দরবান টাউন হলে ১০০ টাকার প্রাইজ বন্ড দিয়ে সম্মানিত(!) করা হয়।

অশ্রুসজল চোখে উক্য চিং বীর বিক্রম প্রশ্ন রেখেছিলেন সাপ্তাহিক ২০০০-এর কাছে, কেন এই প্রাইজবন্ড দিয়ে আমাদের লজ্জা দেয়া?

... উক্য চিং বীর বিক্রম হা-হা করে হেসে হেসে বলছিলেন, ‍দ্যাখেন, করাচি থেকে পূর্ব পাকিস্তানে এসে '৭১ সালে কেমন গোল খেয়ে গেল পাকিস্তানিরা, কথা বলছেন আর বুকে ঝোলানো মেডেলগুলো ঝন ঝন করে উঠছে।

এই সময়ে তো আর যুদ্ধের ভাষায় ঝলসে উঠে না মারণাস্ত্র, তেমনি কাব্যের ভাষায় ঝলসে উঠেনি তার চোখ।
কিন্তু বাস্তব ভাষায় চিকচিক করে চোখ।

মেডেল। হায় মেডেল, হায়!

*পুরনো লেখা বলে প্রথম পাতায় দিলাম না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28830638 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28830638 2008-08-14 00:34:51
১৯৭১, নিধন ৩: - শ্রী যোগেশচন্দ্র ঘোষ দুস্থ-অসহায় মানুষের কল্যাণে নিবেদিত একটি প্রাণ! তাঁর জীবনের একমাত্র সাধনা ছিল ‘সাধনা ঔষধালয়’। যে ঔষধালয়ের খ্যাতি এ দেশ ছাড়িয়েও সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। নব নব সৃষ্টির মাঝেই যোগেশ বাবু বেঁচে ছিলেন।

পঁচিশে মার্চ।
পুরনো ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার অনেকেই এরই মধ্যে শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
সমস্ত এলাকায় বাড়ী কাম কারখানায় যোগেশ বাবু রয়ে গেলেন। বিরাট এলাকা জুড়ে সাধনা ঔষধালয় কারখানা। এখানেই তিনি কাটিয়েছেন জীবনের অধিকাংশ সময়! তাঁর একমাত্র সাধনাস্থল এই কারখানা- এখানকার একেকটা ইটে আছে তাঁর মমতার ছোঁয়া! নিঃসঙ্গ জীবনের একমাত্র সাথীরা ছিল কারখানার শ্রমিকরা। সবাই যখন কাজ সেরে ফিরে যেত তখন কেবল থাকতেন, সুরুজ মিয়া এবং রামপাল।

সুরুজ মিয়া এবং রামপাল কারখানার দারোয়ান। তাঁরা দীর্ঘ ১৭ বছর যোগেশ বাবুর সঙ্গে কাটিয়েছে। ২৫ শে মার্চের পর সবাই যখন একে একে বাবুকে ফেলে চলে গেল, গেলেন না কেবল এই ২ জন!

২৫ শে মার্চের পরের ঘটনা। গভীর রাত। একটি মিলিটারী জীপ এসে থামলো। ৫/৬ জন সশস্ত্র সৈনিক জীপ থেকে নামলো। তাদের সবার হাতে ভারী অস্ত্র। একে একে গেটের তালা ভেঙ্গে ফেললো তারা। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লো।

পাহারাদার সুরুজ মিয়ার হাতের বন্দুকও গর্জে উঠলো। সেনাদের দিকে তাক করে সেও গুলি ছোড়া শুরু করলো। শুরু হলো অসম যুদ্ধ। সামান্য অস্ত্র, সামান্যতম অস্ত্রচালনায় পারদর্শী একজন সাধারণ বাঙ্গালী সুরুজ মিয়া পাহারাদারের কাছে হার মানলো পাক সৈন্যরা।
রাতের আধারে পাক সেনারা পালিয়ে গেল।

সুরুজ মিয়া যোগেশ বাবুকে বললেন পালিয়ে যেতে। যোগেশ বাবুর এক কথা, মরতে হয় দেশের মাটিতে মরবো। আমার সন্তানসম এইসব ছেড়ে আমি কোথায় যাবো?

পরদিন সকাল। পাকিস্তানী আর্মি আবার ফিরে এলো। বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র এবং লোকবল নিয়ে। পাক সেনারা নীচে সবাইকে লাইন করে দাঁড় করালো।
এরা যোগেশ বাবুকে উপরে নিয়ে গেল। রাইফেলের মুখে ওই বয়স্ক মানুষটা কি বলেছিলেন তা কোনদিন আর জানা হবে না! পাক সেনারা তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মেরেছে। তাদের উল্লাসধ্বণী নীচে ভেসে আসছিল!

নীচের লোকজনরা সুযোগ বুঝে পালিয়ে প্রাণ বাঁচালো।

শুধু বয়স্ক এই মানুষটা পড়ে ছিলেন এলামেলো ভঙ্গিতে, মৃত- শরীরে অজস্র বেয়নেটের ত নিয়ে।

পাক আর্মিরা শুধু তাঁকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি- লুটে নিয়ে গিয়েছিল যোগেশ বাবুর অর্জিত সম্পদ। শুধু নিতে পারেনি যোগেশ বাবুর এ দেশের জন্য একবুক ভালোবাসা!

*তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ/ অষ্টম খন্ড)
**ভাষা ঈষৎ পরিবর্তিত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28829948 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28829948 2008-08-12 01:39:17
১৯৭১, নিধন:২- দানবীর নুতনচন্দ্র পাকিস্তানী সৈন্যরা তাঁকে- নুতননচন্দ্র সিংহকে, হত্যা করে প্রার্থনা করার সময়। সেই সময় তিনি মন্দিরে প্রার্থনা করছিলেন। জনৈক সালাউদ্দিন তাঁকে মন্দিরের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে আসে।

দানবীর নুতনচন্দ্র সিংহের চোখের সামনে মন্দিরটি উড়িয়ে দেয়া হয়। । তারপর তাঁকে হত্যা করা হয় নৃশংসভাবে।
যে মেজর তাঁকে গুলি করে হত্যা করার জন্য ৩টা গুলি করার পরও- সেই সালাউদ্দিন রিভলবারের গুলি ছুঁড়েছিল নতুনচন্দ্রের দিকে।
টানা ৩ দিন অবহেলায়, নুতনচন্দ্র সিংহের মৃতদেহ মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল, রাস্তায়!

নতুনচন্দ্র সিংহকে সবাই বারবার বলেছিল, এখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁর এক কথা, মরতে হলে দেশেই মরবো!

নিজের মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি বলে মনে ভারী কষ্ট ছিল তাঁর।। তখন রাউজান থানায় কোন বিদ্যালয় ছিল না! মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য তিনি আবাসিক সুবিধাসহ আধুনিক কুন্ডেশ্বরী বিদ্যাপীঠ গড়ে তুলেছিলেন।
শুধু রাউজান না, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে পড়ার জন্য ছাত্রীরা আসতো।
তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের ছিল, নিজস্ব ডাকঘর, সরাসরি টেলিফোন যোগাযোগ, পানির পাম্প, জেনারেটর, বাস ইত্যাদি।

তাঁর মৃত্যুর পর ওই সময়ের টাকায় প্রায় ২ লাখ টাকার সম্পত্তি লুট হয়!

’৭১-এ যুদ্ধের সময়, প্রাণ বাঁচাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৭ জন অধ্যাপক সস্ত্রীক এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সৈয়দ আলী আহসান, ড. এ আর মল্লিক, ড. আনিসুজ্জামান, ড. কোরাইশী প্রমুখ- এদের মধ্যে অন্যতম!
*তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28829944 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28829944 2008-08-12 01:34:41
হায় রাজাকার, হায়!
রেজাকার বা রাজাকাররা পাকিস্তানী আর্মিদেরকে অবলীলায় বাঙ্গালী মেয়েদেরতুলে দিত ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যার মোড়কে- যুদ্ধে এরা নাকি ‘মালে গণিমত’! আমাদের এইসব অভাগা মেয়েদের জান্তব চিৎকার রাজাকারদের হৃদয়ে কোন আঁচড় কাটত কিনা কে জানে! কে জানে, এইসব রাজাকার হয়তো ছিল একেকজন চলমান মেশিন- হৃদয়হীন।

“একদিন পাকিস্তানী আর্মি এক রাজাকারকে মেয়ে যোগাড় করে দিতে বলে। ওই রাজাকার অনেক খুঁজেও কোন মেয়ে যোগাড় করে দিতে ব্যর্থ হলে, পাকিস্তানী আর্মিরা রাজাকারকে বলে তার বাড়ীতে নিয়ে যেতে।
রাজাকার সরল মনে পাকিস্তানী আর্মিদেরকে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। রাজাকারের বাড়ীতে গিয়েই আর্মিরা ভেতরে ঢুকে পড়ে- তারা দেখে রাজাকারের মা বসে আছেন।
তারপরেই আর্মিরা বাইরে চলে আসে এবং রাজাকারের বুকে রাইফেল ধরে তার চোখের সামনে, তার মাকে উপর্যুপরি, একে একে সবাই ধর্ষণ করে।

এক সময় আর্মিরা তাদের ক্যাম্পে চলে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওই রাজাকারটি এরপর অজানার উদ্দেশ্যে হারিয়ে যায়- তার আর কোন খবর পাওয়া যায়নি।”
(স্বাধীনতার দলিল, অষ্টম খন্ড)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28829943 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28829943 2008-08-12 01:28:47
১৯৭১, নিধন ১: ড. আবুল খায়ের
একদিনের ঘটনা। তিনি নিজেই গাড়ী চালিয়ে যাচ্ছেন। সিগনালের লাল বাতি দেখে গাড়ী থামালেন।
লাল বাতী সবুজ হলো । সবুজ থেকে আবার লাল হলো কিন্তু এই আত্মভোলা মানুষটা গাড়ী থামিয়ে চুপচাপ গাড়ীতে বসে আছেন, ভুলেই গেলেন তাকে আবার গাড়ীটা চালাতে হবে।

কিন্তু আল বদররা এই আলাভোলা মানুষটাকেও ক্ষমা করেনি!

ড. আবুল খায়েরের ফ্ল্যাট ছিল নীচ তলায়। ১৪ ডিসেম্বর। সকাল ৮টা।

ঘুমাবার পোষাক পায়জামা, শার্ট পরেই তিনি পায়চারী করছেন। এই আলাভোলা মানুষটা এমন, তাঁর গায়ের চাদরটা যে তাঁর স্ত্রীর এটা আর খেয়ালই করেননি।
ভাবছিলেন, কারফিউ উঠে গেলেই তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখান থেকে অন্য কোথাও চলে যাবেন- তাঁর স্ত্রী বারবার তাগাদা দিচ্ছিলেন।

এমনি সময় আল বদরের লোকজনরা এসে হাজির হলো। তাঁকে ঠিক ওই অবস্থায়ই ধরে নিয়ে গেল।

আলবদরদের সঙ্গে তাঁর কি কথা হয়েছিল, তা কেউ শোনেনি! ড. আবুল খায়ের তাঁর স্ত্রীকেও কিছু বলে যেতে পারেননি!
*তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ।

(ওই মানুষটার শেষ কথা আমরা জানি না, জানা হবে না আর। কেউ কোন দিন এটাও দেখবে না, সিগনালের বাতী লাল থেকে সবুজ হচ্ছে, সবুজ থেকে লাল কিন্তু একটা গাড়ী থেমেই আছে। ভেতরে আলাভোলা, বুদ্ধিদীপ্ত একজন মানুষ- যার চোখগুলো অসম্ভব ঝকঝকে- যার চোখে আটকে থাকে গোটা সুর্যটা!)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28829939 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28829939 2008-08-12 01:23:22
একালের নাইট, একালের যুদ্ধাপরাধি। কুইক্সোট অভ লা মানচা মরেও শান্তি পাচ্ছেন না। তাঁর মতো সৎ, দূঃসাহসিক-ডাকাবুকো নাইট জীবিত নেই বলেই সম্ভবত পৃথিবীটা ভরে গেছে অনাচার, দুঃশাসনে। উহু, আড়মোড়া ভেঙ্গে হুড়মুড় করে জেগে উঠতেই হয়, মরে গা ভাসিয়ে থাকা চলে না। অবশ্য ডন কুইক্সোটের মত নাইটরা নাকি কখনও মৃত্যু বরণ করেন না, খোলস বদলান মাত্র।

বাংলাদেশে আসবেন মনস্থ করলেন। এ সিদ্ধান্তের পেছনে লুকিয়ে আছে বিশাল এক ক্ষুব্ধতা। শুনেছেন এ জাতি অতিশয় পাজি। প্রকাশ্যে বীরবর বয়স্ত একজন মানুষকে তার সন্তানসম কেউ লাথি মারে আর লক্ষ-লক্ষ মানুষ তা অবলোকন করে। অথচ ওই অতি দুষ্টকে শায়েস্তা করতে, তার কেশাগ্র স্পর্শ করার ক্ষমতা নাকি কারও নাই! ধিক, ধিক-ধিক।
নাহ, এর একটা বিহিত করা আবশ্যক।

ডন কুইক্সোট তার শালপ্রাংশু-কিসমিস টাইপের শরীর অদ্ভুত ভঙ্গিতে বাঁকিয়ে বিকট হাই তুললেন। লাফিয়ে উঠতে গিয়ে সামলে নিলেন যখন বুঝতে পারলেন এই বজ্রপাতের উৎস তিনি নিজেই। তাঁর পার্শ্বচর, পৃথুল-থলথলে শরিরের সাংকো পানযাকে বললেন: সাংকো, জীবনটা এক যুদ্ধ, নিরন্তর যুদ্ধ- তৈরি হও, আমি যুদ্ধে বের হব।
সাংকো চোখ কচলাতে কচলাতে ভাবল, যন্ত্রণা, আবার যুদ্ধের ভূত চেপেছে। লোকটার মাথা কি আবারও এলোমেলো হয়ে গেল! হাই চেপে ভূঁড়িতে হাত বুলিয়ে বলল: স্যার নাইট, খেয়ে-দেয়ে একটু গড়িয়ে নিলে হতো না।
ডন কুইক্সোট গাঁকগাঁক করে উঠলেন: আরে এ গাধা বলে কি, চারদিকে এতো অন্যায়-অবিচার, তুই কি খেয়ে ঘুমিয়ে রসাতলে যেতে চাস- তোর কি আঠারো মাসে বছর!

সাজ-সাজ রব পড়ে গেল, ডন কুইক্সোট তাঁর বর্শা, অসি শাণ দিতে বসলেন। অবশ্য এ তরবারি দিয়ে মুরগির গলা দু-ভাগ হবে কি না সন্দেহ! তার বর্শাটা দিয়ে কলাগাছ এফোঁড়-ওফোঁড় করতে , তা প্রায় ঘন্টাখানেক তো লাগতেই পারে।
ডন কুইক্সোট তার লজঝড় মার্কা পুরোদস্তুর যুদ্ধের পোশাকে, তাঁর প্রিয় দুর্ধর্ষ ঘোড়া রোজিন্যান্ট-এ চাপলেন। সাংকো পানযা তার গাধা ড্যাপল নিয়ে অনিচ্ছা সত্বেও পিছু নিল।

বঙ্গাল দেশের মহা সুন্দরীদের হাবভাব নাইট ডন কুইক্সোটকে তিলমাত্র প্রভাবিত করছে না। টকটকে লাল রঙের প্রলেপ মাখানো হাত পায়ের লম্বা-লম্বা নখ দেখে মনে হচ্ছে শকুনের রক্তাক্ত পা। উৎকট লিপস্টিক-রুজে মাখামাখি ঠোঁট, গাল দেখে বিড়বিড় করলেন: ড্রাকুলী।
স্যার নাইট একটু গুলিয়ে ফেলেছেন। ড্রাকুলী না বলে বলতে পারতেন ড্রাকুলার মেয়ে অথবা মহিলা ড্রাকুলা। অভিজাত মহিলাদের কামানো ভ্রু দেখে আঁতকে উঠলেন মড়ার খুলি ভেবে।
ধনুর্ভঙ্গ পণ করায় কিনা কে জানে ডন কুইক্সোট-এর সমস্ত মন ছেয়ে আছে ইনার প্রেমিকা ডালসিনিয়া দেল টোবাসো। দেল টোবাসোর আকাশ পাতাল রূপ ছিল কি না সেটা আলোচ্য বিষয় না কিন্তু ইনার চোখে অন্যরা নস্যি। আসলে লাইলীকে দেখতে হয় মজনুর চোখ দিয়ে- দেল টোবাসোকে দেখতে হবে ডন কুইক্সোটের চোখে।

ঘোড়া রোজিন্যান্ট তার হাড্ডিসার শরীর নিয়ে পূর্ণ গতিতে ছুটছে (সত্য বলতে কি গতি গাধার চেয়ে কম) ভিআইপি রোড ধরে। ঘোড়া মধ্যরাস্তা পেরুতে গিয়ে দুহাত উঁচু আইল্যান্ডে মাথা বাঁধিয়ে চার পা আকাশে তুলে দিল। ডন কুইক্সোটকে গড়াগড়ি খেতে দেখে সাংকো টেনে তুলল। ধুলায় ধবলীভূত নাইট ব্যাথায় কুঁইকুঁই করে গা ঝাড়া দিলেন। থসথসে দেহের হাড় গুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
রাগ চেপে একজনকে জিঞ্জেস করলেন: এইসব কি!
লোকটা অবঞ্জাভরে বলল, অ, এইটা আইল্যান্ড। ক-দিন পর পর এটার নমুনা আমরা বদল করি। একবার গাছ লাগালাম তো পরের বার কেটে ফেললাম। সিরামিক ইট বসিয়ে রেলিং দিয়ে ক-দিন পর ওটা গুঁড়িয়ে রঙ দিয়ে দিলাম। ইচ্ছে হলে আবার গাছ লাগালাম। ইনফ্যাক্ট, আমরা ভাংচুর না করে থাকতে পারি না, পরিশ্রমী জাতি তো। আপনি হয়তো ক-দিন পর দেখবেন দুহাত উঁচু এ দেয়ালের চিহ্নমাত্র নেই। শোভা পাচ্ছে দশ হাত গভীর ড্রেন, ওটাই আইল্যান্ড।

ডন কুইক্সোট এগুচ্ছেন, ক্রমশ মন খারাপ হচ্ছে, স্পষ্ট দৈববাণী (রেডিও, টেলিভিশনকে দৈববাণী ভাবছেন) শুনছেন, বারংবার: পূর্বে এ দেশে অযুত-নিযুত সমস্যা ছিল, এখন কোন সমস্যা নাই। ভবিষ্যৱ হবে আরো চমৎকার।
ডন কুইক্সোট একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, তুমি কি আমায় মুক্তিযোদ্ধা ওই মানুষটার খোঁজ দিতে পার, খুনিদের বিচার চাইতে গেলে যাকে প্রকাশ্যে লাথি মারা হয়েছিল?
যাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলেন সে বিরক্ত হয়ে বলল, মুক্তিযোদ্ধা নামের যে বয়স্ক মানুষটাকে লাথি মারা হয়েছিল, ওই মানুষটাকে তো সবাই খুঁজছে, মোস্ট ওয়ান্টেড পারসন। ১৯৭১-এ স্বাধিনতার নামে গন্ডগোল লাগিয়ে দেশটার বারোটা বাজিয়েছিল। এইসব যুদ্ধাপরাধিদের এখন খুঁজে বের করে বিচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আসলে ডন কুইক্সোট তার ধীরগতির কারণে এই দেশে পৌঁছতে অনেক দেরি করে ফেলছেন। দাবার ছক পাল্টে গেছে।
ডন কুইক্সোট গভীর বিষাদে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন: সাংকো, এখানে আমার অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই, চলো অন্য কোথাও।

*চরিত্রগুলোর নাম নেয়া হয়েছে: Cervantes-এর Don Quixote থেকে
**পুরনো লেখা বিধায় প্রথম পাতায় দিলাম না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28827124 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28827124 2008-08-04 01:06:03
বীরাঙ্গনা: মিসেস টি নিয়েলসন
...প্রথমে আমার উপর পাশবিক অত্যাচার করে একজন বাঙালী। আমি বিস্ময়ে বোবা হয়ে গিয়েছিলাম।
...আমাদের শাড়ি পরতে বা দোপাট্টা ব্যবহার করতে দেয়া হত না। কোন ক্যাম্পে নাকি কোন একটা মেয়ে গলায় শাড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

...প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, যে সব রমণী মাতৃভূমির জন্য তাদের সতীত্ব , নারীত্ব হারিয়েছে তিনি তাদের বীরাঙ্গনা আখ্যায় ভূষিত করেছেন। অন্তরের শ্রদ্ধা জানালাম সেই মহানায়কের উদ্দেশ্যে। আমি বীরাঙ্গনা, এতোবড় সম্মান আমি পেয়েছি। আমি ধন্য কিন্তু চোখের জল কেন জানি না বাঁধা মানে না। বাবাকে দেখবার জন্য, তাদের খবর নেবার জন্য অস্থির হয়ে গেছি। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য এমন কাউকে দেখি না যাঁকে অনুরোধ করা যায়। শেষে পুনর্বাসন কেন্দ্রের কার্যনির্বাহী অফিসার মোসফেকা মাহমুদকে বাবার ঠিকানা দিলাম। পথের দিকে তাকিয়ে থাকি, যেন খবর পেয়েই বাবা ছুটে আসবেন। কিন্তু না দিন গড়িয়ে সপ্তাহ গেল। খবর পেলাম বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে সে সব মেরামত করা নিয়ে বাবা ব্যস্ত, আসবেন কয়েক দিনের মধ্যে। শুধু উচ্চারণ করলাম,‘বাবা তুমিও’!

ইত্যবসরে আমার গর্ভপাত করানো হল, কারণ এতদিনে বাস্তবতা বুঝে গেছি।
...আপা (নীলিমা ইব্রাহীম), আপনি তো দেখেছেন মেয়েরা কিছুতেই গর্ভপাতে রাজি হয়নি। আপা , আপনার মনে আছে মর্জিনার কথা? সেই যে ফ্রকপরা মেয়েটি। আপনাকে দেখলেই চিৎকার করত আপনি তার ছেলেকে চুরি করে বিদেশ পাঠিয়ে দেবেন।

আপনি মর্জিনার কষ্ট দেখে পাঠাতে আগ্রহি ছিলেন না।
...বঙ্গবন্ধুকে যখন বলেছিলাম (নীলিমা ইব্রাহীম) উনি বল্লেন, ‘না আপা, পিতৃপরিচয় যাদের নেই সবাইকে পাঠিয়ে দেন। মানুষের সন্তান মানুষের মতো বড় হোক। তাছাড়া ওই দুষিত রক্ত আমি এদেশে রাখতে চাই না’।

...নিয়েলের ভালবাসা, স্নেহ, মমতা আমার অতীতকাল মুছে ফেলল। তারা ব্যানার্জী থেকে আমি হলাম মিসেস টি নিয়েলসন ।
...স্বদেশে আমার সত্যিকার পরিচয় নেই, তারা ব্যানার্জী মরে গেছে ... আমি কোথায়? ওদের কাছে আমি ঘৃণ্য, নিন্দিত, মৃত।

...দেশে সম্মান মর্যাদা যা পেয়েছি মিসেস টি নিয়েলসন আর টমাসের মা হিসাবে।
...জন্ম দিলে জননী হওয়া যায় কিন্তু লালন পালন না করলে মা হওয়া যায় না। আমি জন্মেছিলাম সোনার বাংলায়, লালিত হচ্ছি ডেনমার্কের ভূমিতে। তবুও সেই মাটিতেই হবে আমার শেষ শয্যা...।

* ঋণ: নীলিমা ইব্রাহীম
** ভাষারীতি সামান্য পরিবর্তিত
*** এই পোস্টগুলো বছর দুয়েক আগে এখানে পোস্ট করেছিলাম বিধায় প্রথম পাতায় দিচ্ছি না। ‘বীরাঙ্গনা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বিভাগে আমার পাতায় রাখব। যারা পূর্বে পড়েননি তাদের কেউ পড়লে এতেই আমার আনন্দ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28826402 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28826402 2008-08-02 01:03:35
বীরাঙ্গনা: মিসেস রাবেয়া খাতুন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ। পাক বাহিনী অতর্কিতে হামলা করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। ২৬শে মার্চ সকাল পর্যন্ত বাঙ্গালী পুলিশ বাহিনী প্রাণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যান কিন্ত সীমিত ক্ষমতায় পাক বাহিনীকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেননি।
নিরুপায় তাঁদের প্রাণ ব্যতীত দেয়ার মতো আর কিছুই ছিল না!
বাঙ্গালী পুলিশদের নৃশংস ভাবে হত্যা করে পাক বাহিনীর শুরু করে তাদের তান্ডবলীলা। অনেকের সঙ্গে মিসেস রাবেয়া খাতুনকেও বের করে নিয়ে আসে।

রাবেয়া খাতুনসহ সবাইকে শারীরিক চরম অত্যাচার করে একে একে মেরে ফেলা শুরু করে।

মিসেস রাবেয়া খাতুন এই বলে নিজের প্রাণ রক্ষা করেন: আমি সুইপার, আমাকে তোমরা মেরে ফেললে তোমাদের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার মতো কেউ থাকবে না।
নিজেদের সুবিধার কারণে পাক বাহিনী তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে এই শর্তে, তিনি এখানে সুইপারের কাজ চালিয়ে যাবেন। মিসেস রাবেয়া খাতুন, এখানে থাকার সূত্রে জানতে পারেন, না জানা অনেক কথা। পাক সেনারা সাময়িক ক্যাম্প বানায় রাজারবাগ ব্যারাককে।

পাক সেনারা তাদের দালালদের সহায়তায় রাজধানীর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অভিজাত এলাকা থেকে অসংখ্য বাঙ্গালী বালিকা, যুবতীদের এখানে ধরে নিয়ে আসে। এদের উপর শুধু চরম শারীরিক অত্যাচারই করেই এরা থেমে থাকেনি- অবলীলায় কেটে ফেলেছে, ছিড়ে ফেলেছে শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো। এমন কোন অন্যায় নেই যা ওই সময় এরা করেনি। মেয়েদের রোমহর্ষক চিৎকার ঢাকা পড়ে গেছে মদ খাওয়া এইসব পশুদের হ্যা হ্যা হাসির তোড়ে।

মিসেস রাবেয়া খাতুন তাঁর কাজ করার ছল করে যে অবর্ননীয় দৃশ্য দেখেছেন, পরে বর্ণনা দিয়েছেন, একজন মানুষকে অসুস্থ করে দেয়ার জন্য, মাথায় সমস্যা করে পাগল করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট!
এই বর্ণনাগুলো পড়তে কষ্ট হয়- বড় কষ্ট হয়, বুক ভেঙ্গে আসে।
এই অভাগা মেয়েদের বাহ্যজ্ঞান লোপ পেত- তখন তাঁদের ময়লা পরিস্কার করার জন্য ডাক পড়তো মিসেস রাবেয়া খাতুনের। অসহায় তিনি, নির্বাকদৃষ্টিতে দেখা ছাড়া তাঁর কোন উপায় ছিল না।
তারপরও তিনি সময়ে সময়ে সুযোগ পেলেই এখান থেকে কিছু মেয়েদেরকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেন।

* তথ্য ঋণ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড
** এই পোস্টগুলো বছর দুয়েক আগে এখানে পোস্ট করেছিলাম বিধায় প্রথম পাতায় দিচ্ছি না।
‘বীরাঙ্গনা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বিভাগে আমার পাতায় এইসব লেখাগুলো রাখব। যারা পূর্বে পড়েননি তাদের কেউ পড়লে এতেই আমার আনন্দ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28826400 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28826400 2008-08-02 00:55:50
মা
মা’র বাচ্চাটা এলো ঝড়ের গতিতে। পেছনে সে রেখে এসেছে দোমড়ানো-মোচড়ানো শিশু বৃক্ষ, ঘন ধুলোর মেঘ। আর রেখে এসেছে একরাশ হাহাকার।

মা হাতি শুঁড় ঝেড়ে বিরক্তি প্রকাশ করল, এভাবে দৌড়ায় পাগল-পাগলু। তুই কি পাগলু?
হাতির বাচ্চা থমকে দাঁড়াল। রাগ চেপে কর্কশ গলায় বলল, সবার তো দেখি দুটা কান একটা মুখ। তোমার কি একটা কান দুটা মুখ? তাই তুমি শোন কম, বল বেশি!
মা হাতি বেয়াদব সন্তানকে শাসন করার জন্য শুঁড় দিয়ে চড় দিতে এগিয়ে এলো। চড় দেয়া হল না। পা থেকে মাথা পর্যন্ত কেঁপে উঠল। তার প্রিয়জনের সমস্ত শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। খোকা কোত্থেকে রক্তারক্তি কান্ড করে এলো!

মা হাতি ছলছল চোখে বলল, তোর এ অবস্থা হলো কি করে?
বাচ্চা হাতি শুঁড় দিয়ে চোখ মুছে বলল: মা-মা, অ মা, আমি না রেললাইন পার হচ্ছিলাম। তাড়াহুড়োয় হুমড়ি খেয়ে পড়লাম। হঠাৎ করে একটা রেলগাড়ি ধাক্কা দিয়ে এ অবস্থা করেছে। কী নিষ্ঠুর মা, থামাবার চেষ্টা করে দাঁড়ানো দূরের কথা একবার ফিরেও তাকায়নি! আমার এই অবস্থা দেখে মানুষগুলো হইহই করছিল।

মা হাতির পা থেকে শুঁড় পর্যন্ত অসহ্য রাগে জ্বলে গেল। মানুষ পেয়েছেটা কী! দিন দিন এরা কী অমানুষই না হচ্ছে। তাদের দাঁত (আইভরী) কেটে নেয়। এটা-ওটা ঘোড়ার ডিম বানায়। আরে বদ, দাঁত দিয়ে শখের জিনিস বানালে নিজেদের দাঁত খুলে বানা না, নিষেধ করছেটা কে!
জঙ্গলের জমিদার হাতি অথচ হাতিকে গাধার পর্যায়ে নামিয়ে আনে। টনকে টন কাঠ টেনে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। ধরে ধরে চিড়িয়াখানায় আটকে রাখে। কী দুঃসাহস, হাতিদের বলে শুঁড় উঠিয়ে মানুষকে সালাম দাও, চার পা তুলে ছোট কাঠের টুকরায় উঠে দাঁড়াও। কী কষ্ট-কী কষ্ট!

মা হাতি (সরোষে): দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা। আসুক আজ রেলগাড়ি। হাতি চেনে না! দেখাচ্ছি, হাউ মেনি কলা গাছ, হাউ মেনি ব্যানানা।
বাচ্চা হাতি (ভীত গলায়): মা-মা, দোহাই তোমার ওমন করো না। রেলগাড়ির কি শক্তি তুমি জান না, স্রেফ কলাগাছের ভর্তা হয়ে যাবে।

মা হাতি এর উত্তর দিল না। মনে মনে বলল, এ জীবন কোন দিনের জন্যে? যে মা তার সন্তানের জন্যে প্রতিশোধ নিতে জানে না তার বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই! খোকা জানে না ওর জন্যে রয়েছে কী অসম্ভব মমতা। এটা বলা হয় না। হাতি তো আর মানুষ না যে দিনে একশবার বলবে, খোকা রে, তুই আমার চোখের মনি, কুনকুনি, ঠুনঠুনি, ভুনভুনি, ঝুনঝুনি। তার মাথায় কেমন ভোঁতা যন্ত্রণা হচ্ছে, চারপাশে এতো বাতাস অথচ ফুসফুসটা খালি মনে হচ্ছে। আজ তাকে আটকায় এমন সাধ্য কারও নাই।

মা হাতি শুঁড় উঠিয়ে বুঝতে পারছে একটা ট্রেন আসছে, এখনও অবশ্য বহুদূরে। বাচ্চাকে হিমগলায় বলল, আয় আমার সঙ্গে।
মা হাতি আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে ছুটে গেল। আজ মানুষের নাগাল পেলেই হয়, মাথায় পা তুলে স্রেফ কলার ভর্তা বানিয়ে ফেলবে। মোটাসোটা একটা গাছ ভেঙ্গে বনবন করে মাথার উপর ঘোরাল। রেললাইন জুড়ে আগুন চোখে দাঁড়িয়ে রইল।
ইন্টারসিটি ট্রেনটা ঘনঘন হুইসেল বাজিয়ে আসছে। রেললাইনের উপর বিশাল গাছ দেখে দাড়িয়ে পড়তে বাধ্য হল। মা হাতি গাছটা শুঁড়ে পেঁচিয়ে ইঞ্জিনের গায়ে দমাদম পিটিয়ে ইঞ্জিন অচল করে ফেলল।

এই ট্রেনেই বুকিন ওর বাবা-মার সঙ্গে সিলেট থেকে ফিরছে। জোর ব্রেক কষে হঠাৎ ট্রেনটা থেমে যাওয়ায় বাবা সিট থেকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেছেন। চশমা কোথায় যেন ছিটকে পড়েছে। বুকিনের বাবা পাগলের মতো এদিক-ওদিক হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, আমার চশমা, আমার চশমা!
বুকিনের মা চেঁচিয়ে বললেন, আল্লাগো কী হলো, হে মাবুদ . . . ।
বুকিনের বাবা আবার বললেন, আমার চশমা!
বুকিনের মা এবার রেগে গেলেন, আল্লা খোদার নাম নাই, খালি আমার চশমা, আমার চশমা। চশমা তোমায় বাঁচাবে!
বুকিনের বাবা কাতর গলায় বললেন, বুকিনের মা, চশমা ছাড়া আমি তো কিছুই দেখতে পাই না।

বুকিনের বুকটা ধ্বক করে উঠল। বাবা চশমা পরেন জানত। বাবা যে চশমা ছাড়া প্রায় অন্ধ এটা আজ বুঝল। আহারে, মানুষটাকে কী অসহায়ই না দেখাচ্ছে!
বাবা সামলে নিয়ে বললেন, বুকিন, বাবা দেখ তো বাইরে কী হচ্ছে। খবরদার জানালা দিয়ে মাথা বেশি বার করবি না।
বুকিন ভয়ে ভয়ে মাথা বের করে বলল, বাবা, লোকজন সব দৌড়াদৌড়ি করছে। হাতিরা নাকি গাড়ি আক্রমণ করেছে। অ-বাবা, দেখ দেখ, একটা হাতির বাচ্চার শরীর থেকে কত রক্তই না ঝরছে। ইস, বেচারা, ইস-স! অজানা কারণে বুকিনের চোখ পানিতে ছাপাছাপি।

বাচ্চা হাতি (আর্দ্র গলায় ): মা, মা, ওই দেখ একটা কী ফুটফুটে মানুষের বাচ্চা! কী মায়া মায়া চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। মা-মা, দেখ, মানুষের বাচ্চাটা আমাকে দেখে কাঁদছে!
মা হাতি (আগুন চোখে): এত কিছু দেখতে হয় না, মন নরম হয়ে যায়। আজ যাকে পাবো তাকেই ভর্তা করে ফেলব। আজ ছাড়াছাড়ি নাই।
বাচ্চা হাতি: মা, তোমার পায়ে পড়ি এদের ক্ষমা করে দাও! মা, মাগো, আমার গা ছুঁয়ে বলো! আহা, বলই না মা, তুমি না আমার লক্ষী মামইন্যা।
মা হাতি পরম মমতায় শুঁড় দিয়ে তার বাচ্চাকে পেঁচিয়ে ধরল। লম্বা শ্বাস ফেলে মা হাতি তার বাচ্চাকে নিয়ে জঙ্গলের দিকে এগুতে এগুতে ভাবল, মানুষদের বড় মজা, এরা ইচ্ছা করলেই চট করে মানুষ থেকে অমানুষ হয়ে যায়। পশুদের কষ্টের শেষ নাই, এরা না হতে পারে মানুষ, না হতে পারে পুরোপুরি পশু!

*মূল ঘটনা সত্য। বছর পনের আগে খবরের কাগজের সংবাদটা ছিল এই রকম: “সিলেট লাইনে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে একটা হাতির বাচ্চা আহত হয়। পরে হাতি এসে অন্য একটা ট্রেনকে শুঁড় দিয়ে পিটিয়ে ট্রেনের ইঞ্জিন অচল করে ফেলে।”

(আসলে পৃথিবীর সব মা অবিকল এক! কে জানে, এ জন্যই হয়তো এ কথাটা এসেছে: ঈশ্বর তাঁর মমতা বোঝাতে গিয়ে বলছেন, আমার পক্ষে তো সব জায়গায় থাকা সম্ভব না, তাই আমি অজস্র মা সৃষ্টি করেছি)।
**পুরনো লেখা কিন্তু আমার পছন্দের।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28825444 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28825444 2008-07-30 00:29:04
এইডস, বাঁচতে হলে জানতে হবে।
আগাম সতর্কবাণী: সূক্ষাতিসূক্ষ রুচিসম্পন্ন যারা এবং শিশু, তাদের এই লেখাটা না পড়াই উত্তম।

ইনি একজন যাদুকর ছিলেন। হুডিনি, কপারফিল্ড, জুয়েল আইচ এর কাছে নস্যি! ইনি দিব্যি ঘুরে বেড়াতেন সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে , প্রাইভেট কোর্ট বসিয়ে যাকে খুশি তাকে বিচার করতেন মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কিন্তু কেউ তাকে দেখতে পেত না!
যেমন ধরা যাক, তার একমুখ আউলা-ঝাউলা দাড়ি। দাড়ি দূরের কথা , দাড়ি যেখানে গজিয়েছিল, মুখ-মুখমন্ডল। সেই মুখমন্ডল লেগে থাকত যে শরিরে সেই শরির । ওই গোটা শরির নিয়ে দিব্যি দাবড়ে বেড়িয়েছেন কিন্তু এই দেশের চৌকশ পুলিশ বাহিনি তার শরির দূরে থাক দাড়িটিও খুজেঁ পেত না। এটা আসলে যাদু, স্রেফ যাদু।

ইনি বঙ্গাল ভাই।
তবে ইনাকে একবার আটকানো হয়ছিল। এই বঙ্গাল ভাইয়ের জেলখানায় বিভিন্ন মহাপুরুষদের সঙ্গে উঠা-বসা ছিল (রিমেম্বার আর কিছু না, বাট আ য়্যাম নট শিয়্যুর)।

যাই হোক, জেল থেকে বেরিয়ে তিনি চিন্তা করলেন কি পেশা বেছে নেবেন? লেখক হয়ে লাভ নাই, লেখালেখি করে এই দেশে ভাত দূরের কথা রুটিও মেলে না। ফাও গালি মেলে!
একটা ওয়েব-সাইটে নাকি এসেছিলেন চাকরির জন্য। ওই ওয়েব-সাইটটা চালান একজন বিদেশী। ওই ব্লগাধিপতির সঙ্গে কথাবার্তা ছিল নিম্নরূপ:
বঙ্গাল ভাই: হা-ডু-ডু, হালু- হালু, আপনে ভালু?
ওই ব্লগাধিপতি: আমি হা-ডু-ডু খেলা পারি না। আর হালু-আলু খাই না।
বঙ্গাল ভাই: আলু না, পুছ করলাম ভালু আছেন কিনা?
ব্লগাধিপতি: আপনি এভাবে বাংলা বলছেন কেন? হয় শুদ্ধ করে বাংলা বলেন নইলে ইংরাজি।
বঙ্গাল ভাই(উষ্মা নিয়ে) : ইংরাজী মুরতাদের ভাষা, মুরতাদের ভাষা বললে হারপিক দিয়ে কুলি করতে হয় এস্তেঞ্জার পর শিরীষ কাগজ ব্যবহার করতে হয়। এইটা বড় কষ্ট, তাই আমি মুরতাদের ভাষায় কথা বলি না। যাক, বাংলা যখন বুঝতে পারেন, বাঁচলাম। একটা চাকরি চাইছিলাম।
ব্লগাধিপতি(বিস্মিত হয়ে) : এখানে আপনি কী চাকরি করবেন?
বঙ্গাল ভাই: আমার নাম শোনেন নাই, আমি বঙ্গালভাই। পাবলিকদের ছহীহ বংলা শিখাব।
ব্লগাধিপতি: দু:খিত, আমার এই সাইটে বাংলা জানা লোকদের অভাব নাই।
বঙ্গাল ভাই যাওয়ার আগে হুমকি দিয়ে গিয়েছিলেন, বোমা মেরে এই ওয়েব-সাইটের সমস্ত নরমতার (সফটওয়্যার মুরতাদের ভাষা বলে তিনি উচ্চারণ করেননি) এলোমেলো করে দেবেন।

অবশেষে নিরুপায় বঙ্গালভাই পীর হয়ে গেলেন, পীর হতে নাকি কোন যোগ্যতা লাগে না- কোন পরিক্ষা দিতে হয় না! কী মজা!
তো, পীর হয়ে প্রতি নিঃশ্বাসে হাক মাওলা-হাক মাওলা বলেন! সব সমস্যার সমাধান দেন! সবচেয়ে বেশি নামডাক হলো, বঙ্গাল হুজুরের দোয়ায় শতশত সন্তান প্রত্যাশী মহিলার (পুরুষদের হওয়ার নিয়ম নাই) সন্তান হল।
সিস্টেমটা কী জানা যায়নি কিন্তু হুজুরের দোয়া বিফলে যায় কমই! বাচ্চাগুলোর চেহারাও হয় বঙ্গাল হুজুরের মত, বঙ্গানুরানি!

কী কারণে জানা যায়নি হুজুরেআলা বঙ্গাল ভাইয়ের মনে একদিন ভয় ঢুকল। আল্লার ভয় না, এইডসের ভয়! সম্ভবত কারও কাছে শুনেছিলেন এইডস হলে বাঁচার উপায় নাই। বাঁচতে হলে জানতে হবে।
পীর সাহেবরা আপামর জনতার সব রোগের চিকিৎসা করেন কিন্তু নিজের চিকিৎসা করান ডাক্তার দিয়ে! বঙ্গাল হুজুরেরও ডাক্তারের কাছে না গিয়ে উপায়ই বা কী! বাঁচতে হলে জানতে হবে।

ডাক্তার: আপনি কি কোন নেশায় আসক্ত? সুঁই ব্যবহার করেন?
বঙ্গাল ভাই: নাহ, আমার একটাই নেশা চার্জারে বোমা রাখা আর সুযোগ পেলে তা ফাটিয়ে দেয়া।
ডাক্তার (বিভ্রান্ত চোখে) : নিজের রেক...(সেন্সর) ফাটালে বেঁচে থাকেন কেমন করে!
বঙ্গাল ভাই(অমায়িক হেসে) : আরে না না, ওখানে রাখি কিন্তু ফাটাই অন্যখানে। আমার বিষয়টা একটু গোপনিয়। কাছে আসেন কানে কানে বলি।
ডাক্তার (ভয়ে ভয়ে) : কে জানে এর চার্জারের বোমাটা না এক্ষুনি ফেটে যায়।

সব শুনে ডাক্তার সাহেব বঙ্গাল ভাইকে বললেন, আপনি...ব্যবহার করেন, যেটা প্রত্যেক দায়িত্ববান পুরুষ ব্যবহার করে, এইডস থেকে বাঁচার এটাই উপায়।
হুজুরেআলা বঙ্গাল ভাই অপার আনন্দে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফিরে এলেন এবং ... ব্যবহার করে দস্তরমতো দায়িত্ববান পুরুষ! বাঁচতে হলে জানতে হয়।

কিন্তু হায়! বিকট একটা সমস্যা দেখা দিল, ;‘দায়িত্ববান পুরুষ’ বঙ্গাল ভাই হুজুরের দোয়া এখন আর কাজ করে না, মহিলাদের সন্তান হওয়া বন্ধ হয়ে গেল।

*এই লেখাটার অংশবিশেষ ছাপা হয়েছিল অন্য কোথাও। যারা পড়েছিলেন তাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ।

*পশ্চাদবাণী: আমরা ফটো-ছবি না, যে গম্ভীর মুখের একটা ফটো তুলে দেয়ালে লটকে দিলাম, আজীবন একই ভঙ্গির ছবি ঝুলতে থাকল।
কঠিন-গম্ভীর টাইপের লেখাই লেখা হবে, হালকা চালের কোন বিষয় লেখা যাবে না এমন মাথার দিব্যি কেউ দেয়নি আমায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28823532 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28823532 2008-07-24 01:46:53
একজন জজ সাহেব- একজন মুক্তিযোদ্ধা(!)
....কেমন করে চলে এলো ২৫শে মার্চ । বাবা মায়ের জিদে গ্রামে চলে গেলেন একান্ত অনিচ্ছাসত্বেও। ....বাবা আমাদের গ্রামে যাবার জন্য খবর পাঠালেন।

....হঠাৎ একদিন আমার ছোট ভাই অদৃশ্য। ১৭/১৮ বছরের ছেলে। ছোট্ট কাগজে মাকে আর আমাকে লিখে গেল, যুদ্ধে যাচ্ছি, তাড়াতাড়ি দেশে চলে যাও।
মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। বললেন, ফারুককে খবর দে।

....আজ রাতেই দেশে চলে যাব।

....ঠিক সন্ধ্যায় ফারুক বলল, খালাম্মা চলে যাচ্ছেন, চলুন আমি পৌছে দিয়ে আসি।

....দু’খানা বেবীট্যাক্সি ডাকা হলো। আমি মার সঙ্গে যাচ্ছিলাম ফারুক আমাকে তারটায় উঠতে বলল। মা আর সোনালী (বোন) সামনেরটায় উঠল। কিছুদুর যাবার পর আমাদের বেবীট্যাক্সি সোজা স্টেশনের পথে না গিয়ে বাঁ দিকে সেনানিবাসের পথ ধরল।

....চিত্কার করে বললাম, এই বেবী থামো । না, সে তার গতি বাড়িয়ে দিল। আমি লাফ দেবার চেষ্টা করলাম। কিন্ত ফারুক সঙ্গে গায়ের শক্তিতে না পেরে ওর হাতে আমার সব কটা দাঁত বসিয়ে দিলাম। যন্ত্রণায় চিত্কার করে উঠল পশুটা। তারপর বেবীট্যাক্সি থামিয়ে ওই জানোয়ারটা আমার মুখ বাঁধলো। তারপর সোজা সেনানিবাস। আমি বন্দী হলাম।
ফারুক আমাকে উপহার দিয়ে এলো।

ফারুক এখন জজ সাহেব। আর কখনোও হাফ শার্ট পরে না। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দেয়। কেউ হাতের দাগ দেখে ফেললে বলে মুক্তিযুদ্ধে আহত হলেছিল বেয়ানাট চার্জে । দেখুন তাহলে এ দেশে মুক্তিযোদ্ধা কারা?

এরপর সব আমার কাছে দুঃস্বপ্ন.... অবশেষে একদিন....। জয় বাংলা ধ্বনি আরও জোরদার হচ্ছে। ....

কয়েকজনের মিলিত কন্ঠ, এবারে মা, আপনারা বাইরে আসুন। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা আপনাদের নিতে এসেছি। কিন্তু এত লোকের সামনে আমি সম্পূর্ণ বিবস্ত্র, উলঙ্গ। দৌড়ে আবার বাংকারে ঢুকতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বিশাল এক পুরুষ, এক শিখ আমাকে আড়াল করে দাড়ালেন, তার মাথার পাগড়িটা খুলে আমাকে যতোটুকু সম্ভব আবৃত করলেন।…" (ঋণঃ আমি বীরাঙ্গনা বলছি, নীলিমা ইব্রাহিম)

এই জজ সাহেব নিশ্চয়ই অসংখ্য বিচারিক কার্য সম্পাদন করেছেন। তার কলমের খোঁচায় অনেকের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে। তিনি নিশ্চয়ই বিভিন্ন সভায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বলতে গিয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছেন। আমরা হাঁ করে মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্বের কাহিনি শুনেছি, চোখের জল ফেলেছি।

আমরা বড় অভাগা জাতি নইলে মুক্তিযুদ্ধের সব ডকুমেন্টসগুলো যথাসময়ে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করিনি কেন! করলে, এমন অনেক জজ সাহেবের পরিচয় উম্মচিত হয় না কেন? তাকে শাস্তি পেতে হয় না কেন?

আমি মনে করি, কে কোন পরিচয়ধারি তারচেয়ে জরুরি হচ্ছে কে অপরাধি, এই দেশের স্বাধীনতার সময় কারা কারা অন্যায় করেছিল।
কে কথিত-কে তথাকথিত, কে হিন্দু-কে মুসলমান, কে পাকিস্তানি-কে ভারতীয়, কে বিহারি-কে বাঙ্গালি, কে রাজাকার-কে মুক্তিযোদ্ধা তারচেয়ে অতি জরুরি হচ্ছে কে যুদ্ধাপরাধি। যে অন্যায় করেছে সেই অন্যায়কারি, শাস্তিযোগ্য।

কোন অপরাধের বিচার না হলে সরকারের কাস্টডিতে থাকা জাতীয় নেতাদের, এ দেশের সেরা সন্তানদের ফট করে মেরে ফেলা যাবে, বয়স্ক একজন মানুষকে জনসমক্ষে লাথি মারা যাবে, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে কোটি কোটি মানুষ তা প্রত্যক্ষ করবে। এই ধারাবাহিকতা চলতেই থাকবে। আমরা রোপণ করব একেকটা বিষবৃক্ষ।

অপরাধি হলে সে প্রাইম মিনিস্টার নাকি পোস্ট মাস্টার , ৩৭ বছর গেল নাকি ৩৭০ বছর তাতে কী! অপরাধিকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, হবেই। রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না! Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28823189 http://www.somewhereinblog.net/blog/suvroblog/28823189 2008-07-23 01:12:53
তাহের, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধি করে!
আজ কি কর্নেল তাহেরের মৃত্যু দিবস?
(আজকের ২১.০৭.০৮ প্রথম আলো তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তাহের সম্বন্ধে একটা শব্দও পাইনি বলে খানিকটা ধন্ধে আছি, সত্যিই কী আজ তাঁর মৃত্যু দিবস? নাকি মুক্তচিন্তার দৈনিক দামি স্পেস নষ্ট করেনি! তাই যদি হয়, জয়তু মুক্তচিন্তা- বেঁচেবর্তে থাকো, ক্ষণে ক্ষণে মুক্তচিন্তা প্রসব করো!)

আমি অবশ্য তাঁর মৃত্যুর দিনকে মৃত্যু দিবস বলে মনে করি না। আজ এই অগ্নিপুরুষের কেবল খোলস বদলাবার দিন। আসলে এমন অগ্নিপুরুষকে মেরে ফেলা যায় না, কারও সাধ্য নাই, যমেরও।

কমান্ডো মেজর আনোয়ার হোসেন (অব) লিখেছিলেন এই অগ্নিপুরুষকে নিয়ে:
‌'১৯৬৭ সাল। আমি পাকিস্তানে ট্রেনিং নিচ্ছি। ওসময় পরিচয় কর্নেল (তৎকালীন মেজর) আবু তাহেরের সঙ্গে। কথাবার্তা হচ্ছিল বাংলায়:
কর্নেল তাহের: বাঙালী কমান্ডো তুমি?
আনোয়ার: ইয়েস স্যার।
কর্নেল তাহের: আমার খুব আনন্দ হচ্ছে তুমি কমান্ডো হচ্ছো, কিন্তু ভুলবে না, পরাধীন দেশ স্বাধীন করতে হবে।
আনোয়ার : স্যার, পরাধীন, পাকিস্তান তো স্বাধীন দেশ! কিসের কথা বলছেন বুঝতে পারছি না!
ক. তাহের (রাগী স্বরে): গোল্লায় যাক পাকিস্তান। তুমি একজন বাঙালী কমান্ডো, বুঝতে পারছ না কোন দেশ স্বাধীন করতে হবে?'
আনোয়ার স্তম্ভিত হলেন। ১৯৬৭ সালে বাঙালী নেতাদের মুখেও দেশ স্বাধীন করার কথা শোনা যেত না। অথচ একজন সৈনিক হয়ে কী দুর্দান্ত বিশ্বাস নিয়েই না উচ্চারণ করলেন।
একটা স্বপ্ন, জান্তব অদেখা স্বপ্ন!

কমান্ডো তাহেরের অসমসাহসিকতার বর্ণনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। অতি সাহসী মানুষরাও তাঁর অতুল সাহসের কথা এখনও স্মরণ করে শিউরে ওঠেন। নবীন কমান্ডোরা দূর থেকে তাহের নামের মানুষটাকে দেখে ফিসফিস করত, 'লুক, জেন্টলম্যান, দিস ইজ তাহের, আ লিজেন্ট ইন দ্য হিস্ট্রি অভ কামান্ডো ট্রেনিং। ...আ ম্যান ক্যান নট বী আ তাহের। হী ইজ আ সুপার, এক্সেপশনাল।
তাঁর সার্টিফিকেটে লেখা ছিল, তিনি পৃথিবীর যে কোন দেশে