গতকালকে আমারই করা একটি মন্তব্যকে নিম্নে ব্লগ আকারে প্রকাশ করলাম।
বঙ্কিম চন্দ্র তাঁর সাহিত্যেকর্মে বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়কে চাষার জাত বলে উল্লেখ করেছিল। যৌবনের প্রারম্ভে যখন সাহিত্যচর্চা করতাম তখন আমাকে ভীষন কষ্ট দিয়েছিল বঙ্কিম চন্দ্রের এ মন্তব্যে। শুধু তায় নয়, তিনি তাঁর রচনায় দাস দাসীদের নাম রাখতেন কোন মুসলিম নাম অনুসারে। তাঁর মধ্যে সাম্প্রদায়ীক মানসিকতার জন্য তাঁকে মনে মনে ঘৃণা করতাম তখন। অবশ্য তিনি এ মন্তব্যের দ্বারা ইঙ্গিত করতে চেয়েছিলেন যে সুফিজমের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিম্ন বর্ণের হিন্দুরাই কেবল ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলমান হয়েছিল এ বাংলায়, অর্থাৎ এ বাংলার কোন মুসলিম কোন দিনই জ্ঞান, সংস্কৃতি, আচার আচরন এবং কৃষ্টিতে কখনই উন্নততর হতে পারেনা, তায় হয়ত তাঁর সাহিত্যে মুসলমানদের সম্পর্কে এ ধরনের ভাব ধারাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন।
দেড়শত বছর আগে তাঁর এ মন্তব্য বা ধারণা যে একেবারই অমূলক ছিল তা কিন্তু বলা যাবে না। আজ যদি আমরা আমাদের দিকে তাকায় তাহলে সত্যিই লজ্জা লাগে যে আমরা আসলেই চাষার জাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি, আমাদের আত্মমর্যাদাটাকে উন্নত করতে পারিনি। নিগ্রাহকরা আমাদেরকে নিগৃহিত করলে আমরা আজও মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে তাদের তাচ্ছিল্য হজম করি। পারলে আমরা আমাদের প্রভুকে সন্তুষ্ট করার জন্য আমাদের নিজেদের মধ্যে কথা এবং কার্য্য দ্বারা একে অন্যেকে উলঙ্গ করতে ছাড়ি না। যা আগে নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের সামনে করতো।
অথচ এই পূর্ব বাংলার নব্বই ভাগ মানুষ মুসলমান। ইসলাম ধর্মের মত একটা সুন্দর পাথেয় যাদের পথ চলার সঙ্গী, যার দ্বারা ইসলামের কর্ণধারক হজরত মুহাম্মাদ (সঃ) ঘৃণা দিয়ে নয় শুধু ভাললবাসা আর সুশিক্ষা দিয়ে ইসলাম গ্রহনের পূর্বে নিকৃষ্ট মানব রূপে চিহ্নিত উমর (আঃ)-কে খাঁটি সোনায় রূপান্তর করেছিলেন। ইসলাম গ্রহনের পূর্বে সেই নিকৃষ্ট ব্যক্তিটি, ইসলাম গ্রহনের পরে আচার আচরন মানমর্যাদায় এতটায় উন্নতি লাভ করেছিল, যিঁনি চার খলিফাদের মধ্যে শ্রেষ্ট খলিফা হিসাবে পরবর্তিতে আত্মপ্রকাশ লাভ করেছিলেন। জানিনা কবে আমরা এ সুশিক্ষা লাভ করতে পারবো, আর কবে আমাদের গা থেকে চাষার গন্ধ দূর করে মর্যাদাশীল জাতিতে রূপান্তরিত হতে পারবো।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


