জেলে এবং জ্ঞানীর সরূপ।
০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:১৮
জ্ঞানী হচ্ছে জেলে সরূপ। জেলে যেমন জাল দিয়ে পুকুরে, খালে, বিলে, নদী-নালায়, সমুদ্রে মাছ ধরে বেড়ায়, জ্ঞানীয় তেমন সর্বত্রই জ্ঞান অন্বেষন করে।
এখন প্রশ্ন হলো আমি কেন জ্ঞানীকে জেলের সাথে তুলনা করলাম? এই কারণে যে, একজন জেলে তার জালটা যখন পুকুরে ফেলে কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর ধিরে ধিরে টেনে কিনারায় তুলে, তখন জালের মধ্যে শুধু মাছই উঠে তা না কিন্তু। মাছের সাথে কিছু পুকুরের ময়লা, কিছু শামুক, কিছু ঝিনুক, কিছু ব্যাঙ ইত্যদি বস্তুও উঠে। তাই অসাবধান ভাবে জাল টানতে গিয়ে মাছ যেন না বেড় হয়ে যায় সে জন্যে সে অতি সাবধানে জালটা টানতে থাকে। তারপর সে জালটাকে টেনে কিনারায় এনে সুন্দর ভাবে জালের গোড়াটা ধুয়ে নেয়, যেন জাল থেকে কাদা মাটিগুলো ধুয়ে জালটা পরিস্কার হয় এবং জালের মধ্যের সব কিছু দেখা যায়। এরপর জেলে জালটা ভাল পরিস্কার জায়গায় নিয়ে গিয়ে জালের মধ্যকার সব বস্তুগুলোকে ঝারা দিয়ে বের করে। সেটাও বেশ শৈল্পিক। প্রথমে জেলে জালটাকে উঁচু করে ধরে জালের মধ্যে আটকানো মাছ বা অন্যান্য ঝাড়-কুটা ঝেরে নিচে নামায় এবং একহাতে জালের মাথাটাকে গুটিয়ে ধরে ধরে। এক পায়ের উপর জালের গোড়াটা রেখে অন্য হাত দিয়ে জালটা সুন্দর ভাবে এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত ঝারা দেয়। এতে জালের মধ্যে আটকানো যত মাছ, ব্যাঙ, শামুক, ঝিনুক বা ময়লা উঠে তা বের করে ফেলতে পারে। এত জালটাও সুন্দর ভাবে পরিস্কারও হয়ে যায়, ফলে জালটা ভাল ভাবে পরিস্কার হলে পরবর্তীতে জালটা আবার পুকুরে ফেলতে সুবিধা হয়। তারপর জেলে জালটা ঝারার পর জাল থেকে বের হওয়া মাছ সহ অন্যান্য বস্তুগুলোর মধ্যে শুধু মাছগুলো নিয়ে সব নোংড়া বা অন্যান্য যা কিছু জালের সাথে উঠেছিল তা ফেলে রেখে দেয় বা ত্যাগ করে।
এতো গেল জেলের মাছ ধরার কাহিনী। এখন আসুন একজন জ্ঞানী কিভাবে জ্ঞান অর্জন করে। একজন জ্ঞানীও ঠিক তেমনি ভাবে জ্ঞান অর্জনের জন্যে বিভিন্ন জায়গায় বিচরণ করে। সে বিচরণশীল স্থান থেকে তার পঞ্চোন্দ্রিয় দিয়ে লব্ধ জ্ঞান ও জ্ঞানহীন বস্তু সবই অবলোকন করে এবং খুব সাবধানে সে জ্ঞান এবং জ্ঞানহীন বস্তুকে সহজেই পার্থক্য করে ফেলতে পারে। ফলে একজন জ্ঞানী সব কিছুর মধ্য থেকে শুধু জ্ঞান বস্তুটিকে গ্রহন করে বাকি জ্ঞানহীন বস্তুগুলোকে ত্যাগ করতে পারে। জ্ঞানীও যখন তার পঞ্চোন্দ্রিয় দ্বারা লব্ধ জ্ঞানের দর্শন লাভ করে তখন সেও অতি সাবধানে সেটাকে যাচায় বাছায় করে যাতে সহজে কোন ক্ষুদ্র জ্ঞানের বস্তুওটি যেন ফসকে বেড় না হয়ে যায়। ফলে একটি ক্ষুদ্র জ্ঞানের কারণে একটি বৃহৎ জ্ঞান তার কাছে অজানা থেকে যায়। অতএব একজন জ্ঞানী এবং একজন জেলের সরূপ আমার কাছে একই মনে হয়।
রামন বলেছেন:
অত্যান্ত জ্ঞান গর্ব ভরপুর পোষ্ট। তো ভাইজান বিলে নাকি নদীতে জাল ফেলেন ,জানার ইচ্ছাটি সংবরন করতে পারছি না।
লেখক বলেছেন:
সবত্রই। আসলেই মাছ মারতে খুব ভালই রাগে তাই না? কখনও জাল দিয়ে মাছ মেরেছেন?
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন:
আমি তো ঐভাবে ভেবে দেখি নাই। আমি আমার ছোট বেলায় জাল দিয়ে মাছ মারার বিষয়টাকে কল্পনা করে এই পোস্টটা লিখেছি। আপনি ভেবে দেখুন সেটাকে কি বলা যেতে পারে এবং তার উপর ভিত্তি করে একটা পোস্ট দিয়ে দিন। আমরা নাহয় সেখানে মন্তব্য করব ক্ষন।
রামন বলেছেন:
আমি তো ভাইজান জ্ঞানী নই । আদার বেপারী আমি জালের খবর কি ভাবে রাখবো।
লেখক বলেছেন:
জাল দিয়ে মাছ মারতে হলে বেশ্যার বাড়ী থেকে ইমামের বাড়ী পর্যন্ত যত খাল বিল আছে তা সব চষে বেড়াতে হবে। তাহলে মাছের খলোই ভরবে। নচেৎ ফাঁকা খলোই নিয়ে বাড়ী ফিরতে হবে।
যান বিনা গুরু দক্ষিনায় একটা টাস্ক দিয়ে দিলাম। পারলে চেষ্টা করে দেখেন। পথ খুব কঠিন, ভেবে চিন্তে পা বাড়াবেন।
রাজর্ষী বলেছেন:
"জ্ঞানীও যখন তার পঞ্চোন্দ্রিয় দ্বারা লব্ধ জ্ঞানের দর্শন লাভ করে তখন সেও অতি সাবধানে সেটাকে যাচায় বাছায় করে যাতে সহজে কোন ক্ষুদ্র জ্ঞানের বস্তুওটি যেন ফসকে বেড় না হয়ে যায়। ফলে একটি ক্ষুদ্র জ্ঞানের কারণে একটি বৃহৎ জ্ঞান তার কাছে অজানা থেকে যায়.অতএব একজন জ্ঞানী এবং একজন জেলের সরূপ আমার কাছে একই মনে হয়। "জেলেরাও কি জ্ঞানীদের মত ক্ষুদ্র মাছের কারনে বৃহৎ মাছ হাতছাড়া করে?
জ্ঞানী জেলে জাল থেকে একটা ডানকিনে মাছ অতি যত্নে তুলছে আর ঐ দিক দিয়া জাল থেইক্যা বড় বড় রুই মাছ লাফাইতে লাফাইতে চইলে যাচ্ছে পানিতে।
জ্ঞান দেখে মরি মরি .....।
লেখক বলেছেন:
বাবুর্চির জ্ঞানে যা ধরে তা থেকেই সে ততটুকুই বলবে এটায় সঠিক।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
আচ্ছা একটা প্রশ্ন ছিল!! কিছু মনে করবেন না। আপনার পোস্টে কারা কারা প্লাস দেয়? আসলে, প্রায়ই দেখি আপনার পোস্ট গুলোয় দুই তিনটা প্লাস দেখা যায়, তাই জিজ্ঞাসা করলাম।
লেখক বলেছেন:
আমি মনে কিছু করি নাই এবং করিও না। তবে আপনি একটু মনে করে বসে আছেন, যখন থেকে আমি বিএনপির উপর কিছু পোস্ট দিয়েছি তখন থেকে। এতে আমার করার কিছুই নেই, কারণ আমি রাজনৈতিক বিশ্লেষন করার সময় বর্তমান পরিস্থিতি আমাকে যা ভাবাই তা তুলে ধরার চেষ্টা করি মাত্র। আমার বিশ্লেষনের সাথে অনেকরই ভিন্ন মত থাকতে পারে। তবে আমি দেখেছি আমার বিশ্লেষন ৮০% সবসময় সঠিক হয়েছে। আমার বিশ্লেষন ভিত্তিক পোস্টগুলি হয়তো আপনি পড়েছেন এবং লক্ষ্যও করেছেন।
এখন আসি আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে। পোস্টে রেটিং আমার কাছে এত গুরুত্বপূণৃ বিষয় না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কে আমার পোস্টে নেগেটিভ মন্তব্য করলো, তবে সেটা অবশ্যই গঠন মুলোক হতে হবে। কারণ নেগেটিভ মন্তব্যের উত্তর দেয়া আমার জন্যে ফরজ হয়ে দাঁড়ায়, তাই। তবে যারা প্লাস দেয় তারা অবশ্য ছোটকরেও হলে মন্তব্য লেখে। কিন্তু আমার পোস্টে যারা মাইনাস দেয় তারা মন্তব্য করে না। কারণ তাদের অধিকাংশকেই আমি ব্লক করে রেখেছি।
নাজিম উদদীন বলেছেন:
সুন্দর বলেছেন, তয় বানান ঠিক করেন।
লেখক বলেছেন:
ভাই সব বলিয়েন বানান ঠিক করতে বলিয়েন না, এটা পারবো না। আমি কখনও পরীক্ষার খাতাও বিভাইজ দেইনি।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
আমিও কখনও পরীক্ষার খাতা রিভাইস দেই নাই। বোরিং কাজ
লেখক বলেছেন:
যাক একটা কাজে মিল খুঁজে পেলাম।
রাজর্ষী বলেছেন:
ভাই চেতেন ক্যা? আপনে পড়নের লাইগা এত সুন্দর জ্ঞানগর্ভ পোস্ট দিসেন, পাবলিক পড়ে, আমিও পড়ি, পাবলিক বুঝে আমি বুঝিনা।হেল্যাইগা প্রশ্ন করি, অসংগতি দেখলে মন্তব্য করি, ভুল হৈলে বুঝায়া কৈলেই তো হয়।
হোনেন আমি যাই বলি অহন পর্যন্ত আপনেই আমার হিট ব্লগার। আপনের লেহা পইরা আমি চরমানন্দ লাভ করি। আপনে মিয়া আমার উপর বিলা হইয়েন না।
লেখক বলেছেন:
গুরু কি চেতছেননি? শিষ্য অধমের গুস্তাখী মাফ কইরা দিয়েন।
রাজর্ষী বলেছেন:
অহন আমারে বুঝায়া বলেন বড় মাছ রেখে ছোট মাছ লইলে কি লাভ, এখানে জ্ঞান কোথায় পাইলেন। আপনে যেহেতু কইছেন সেহেতু কিছু একটা আছে, কিন্তু আমার এন্টিনাতে ক্যাচ করতাসেনা। কন কন বুঝাইয়া কন।
লেখক বলেছেন:
জ্ঞান আহরন করা এবং জাল দিয়ে মাছ ধরাটাকে আমি তুলনা করেছি এখানে। ছোট বেলায় জাল দিয়ে মাছ ধরতাম। বেশ মজা লাগতো। হঠাৎ গত কাল সেই ছোটবেলার জাল দিয়ে মাছ ধরার ঘটনা মনে পড়ে গেল। তাই লিখে ফেললাম।
আমি তো পোস্টে বলি নাই বড়মাছ বাদে খালি ছোট মাছ ধরাতে গুরুত্ব দিতে। আমি বলেছি জাল যখন জেলে টানে অতি সাবধানে টানে, যেন ছোট মাছও না বের হয়ে যায়। অনেক ছোট ছোট জ্ঞান আছে যা জানা না থাকলে বড় জ্ঞানের সন্ধান পাওয়া যায় না। অতএব ছোট মাছটাও না বড়টাও না।

















