জীবনানন্দ দাশ একবার বলেছিলেন, "সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি।" কথাটার তাৎপর্য আছে, কিন্তু এখনকার উত্তরাধুনিক যুগে আমরা কি আসলে পারি কবিকে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করতে? এখনকার কবিরা করবেন কি? "হে দারিদ্র্য! তুমি মোরে করেছো মহান।" দারিদ্র্য ছাড়া কি কবি জন্মাবেন না? অনন্ত সুখের দেশ বেহেস্তে কবিদের কি পাওয়া যাবে না? কবিরা ভ্রান্তি ছড়িয়ে বেড়ান বলেই কি তারা রাষ্ট্রের বা শাসকগোষ্ঠীর অপ্রিয় হয়ে উঠেন?
কোরানের সুরা আস-শুয়ারাতে বর্ণিত আছে, "আমি কি তোমাদের জানাব, কাদের উপর শয়তানরা অবতরণ করে? তারা অবতীর্ন হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর উপর। তারা শ্রুত কথা এনে দেয় আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে, তুমি কি দেখ না, যে তারা প্রত্যেক উপত্যকায় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং এমন কথা বলে যা তারা করে না...(২৬-২২৪)"। প্লেটোর জ্ঞানরাজ্যেও কবিরা নেই, সোভিয়েট সমাজতন্ত্রের দেশেও ব্রডস্কিকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়, মায়াকোভস্কিকে আত্মহত্যার কথা ভাবতে হয়।
ব্রডস্কির একটা বিখ্যাত সংলাপ এখানে উদ্ধৃত করছি, এটা হলো ১৯৬৪ সালে যখন তাকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে কাঠগড়ায় দাড়াতে হয়ে ছিলোঃ
বিচারকঃ মোটের উপর তোমার পেশা কি?
ব্রডস্কিঃ আমি একজন কবি এবং সাহিত্য অনুবাদক।
বিচারকঃ কে তোমাকে কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে? কে তোমাকে কবি পদে নিয়োগ দিয়েছে?
ব্রডস্কিঃ কেউ না। কে আমাকে মানুষ পদে নিয়োগ দিয়েছে?
বিচারকঃ তুমি এটা নিয়ে পড়ালেখা করেছো?
ব্রডস্কিঃ কোনটা নিয়ে?
বিচারকঃ কিভাবে কবি হতে হয়। তুমি তো হাই স্কুলও পাশ করতে পার নি, যেখানে প্রস্তুত করা হয়, যেখানে শেখানো হয়।
ব্রডস্কিঃ আমার মনে হয় না এটা কেউ স্কুল থেকে শিখতে পারে।
বিচারকঃ তাহলে কিভাবে?
ব্রডস্কিঃ আমার মনে হয় এটা আসে... ঈশ্বরের কাছ থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



