আগের লেখার লিঙ্ক
শহীদ মিনার প্রাঙ্গন। কিছু ভদ্রলোক এসেছেন বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে। পাশেই ২৭ তম বিসিএস এ বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা জড়ো হচ্ছে একে একে। উদ্দেশ্য যদি একটা মিছিল করা যায়। এদের বেশিরভাগ ডাক্তার। আমাদের সরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলি থেকে পাশ করা ডাক্তারদের বেশিরভাগের প্রথম লক্ষ্যই থাকে একটা সরকারী চাকরি। এরপর অন্য কিছু। যে ভদ্রলোকটি বাচ্চা নিয়ে এখানে এসেছেন তার সেবার ছিলো শেষবার বি সি এস এ বসার সুযোগ। প্রাথমিক ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত পার হয়ে নিয়োগ পাওয়ার অপেক্ষার ছিলেন এদের সবাই। কারো কারো সারা জীবনের স্বপ্নই ছিলো, এবং হয়ত এখনো আছে একটা সরকারী চাকরি। কারো সংসার চালানোর জন্য প্রয়োজন এই চাকরিটি। ভেবে দেখুন আমাদের দেশের এই সব সদ্য পাশ করা ডাক্তারেরা এছাড়া আর করবেই টা কি? জনগনের সেবা করার যে সুযোগ বি সি এস এর মাধ্যমে এটা যে তাদের দায়ে পড়ে প্রথম পছন্দ, সেটা আমাদের জন্য সৌভাগ্য নয় কি? যাই হোক ঐ মৌখিক পরীক্ষাটি বাতিল করা হলো। আবার ডাক দেয়া হলো মৌখিক পরীক্ষার।
প্রথমবার যে দুর্নীতির অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিল হয়েছিল, প্রশ্ন হলো দ্বিতীয়বারে কি পরীক্ষাটি দুর্নীতিমুক্ত ছিল? যতদূর খবর পাওয়া যাচ্ছে বা শোনা যাচ্ছে এই আন্দোলনরত ডাক্তারদের কাছ থেকে তা হলো এই পরীক্ষার আগেই ঠিক করা হয়ে গিয়েছিলো কাদেরকে নেয়া হবে বা বাদ দেয়া হবে। বেশ কিছু ডাক্তারকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, "বাংলাদেশের এমন পাঁচটি উপজেলার নাম বলুন যাদের নামের শেষ 'হা' দিয়ে?" ডাক্তাররা এ ধরণের প্রশ্ন আগে কোনদিন শোনেন নি এবং এটাই তাদের অযোগ্যতার প্রমাণ। ঝুমা আপুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনার আগে কি কি কাজ করেছেন তা নিয়ে ইংরেজীতে কিছু বলুন"। মৌখিক পরীক্ষার নামে এই ধরণের প্রহসন এবং নিয়োগ বাতিলের ফলাফল কি? এক পরীক্ষার্থী ইতোমধ্যে আত্মহত্যা করেছেন। সম্ভবত এটা ছিল তার শেষ বারের বি সি এস।
যাই হোক। যে দুই উপদেষ্টার এই বিষয় নিয়ে মিটিং করার কথা ছিলো তারা বিদেশে গেছেন। তাই তাদের দায়িত্ব কে পালন করবেন জানা নেই। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা প্রত্যেকদিন দপ্তরে যান সকাল নয়টার সময়। সেটা জেনে আজ সকালে ডাক্তারদের একটা প্রতিনিধি দল তার বাসায় আটটার সময় চলে যায়। কিন্তু তাদের সাওবার খবর পেয়েই কিনা উপদেষ্টা সাহেব এক ঘণ্টা আগেই অফিসে চলে যান। তাকে পাওয়া যায় নি। সম্পূর্ন অসংগঠিত অবস্থায় এই আন্দোলন চলছে। কারণ যারা আন্দোলন করবে তারা সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়েই একত্রিত হয়েছে এবং তাদের কোন প্রাক-সংগঠন থাকার কথা না। এরপরও প্রত্যেকেই তাদের প্রয়োজন থেকে তাদের দাবিগুলিকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সমস্যা হলো এই সংগঠনবিহীন মানুষগুলোর প্রতিনিধি হবার কথা যে মিডিয়ার, সেই মিডিয়াও তাদের পাশে ওভাবে নেই।
দুঃখের হলেও সত্যি যে এই লোকগুলোকে নিয়ে মিডিয়া রাজনৈতিক দল কেউ এখন ইস্যু করবে না, কারণ এদের কোন সাধারণ পরিচয় নেই। তবে আশা করি গত ২০ মাস যাবৎ যে তড়িৎকর্মা সরকার আমাদের দেশে আছে তারা অন্তত ঘোড়ার গতিতে হলেও এদের একটা সমাধান দিবে। ফোঁড়া হলে হয় কেটে ফেলো অথবা মলম লাগাও। কিছু একটা তো করা দরকার। শরীরের অংশ তো।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



