somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বুয়েটে রাজনৈতিক সন্ত্রাস প্রতিহত করুন

সনি হত্যা
২০০২ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় শনিবার; টেণ্ডার নিয়ে ছাত্রদলের দুই বিবাদমান পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত কেমিকৌশল বিভাগের এক ছাত্রী; বুয়েট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, আমরা পেলাম বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার অবসর; চান্সে খালেদা জিয়ার আদরের মুকি-টগর পাগাড়পার; সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য সংগঠিত হলো; মিছিল হলো, অনশন কার্যক্রম, ক্লাশ বর্জন, এর পর? এর পর একদিন দুপুরে অনশনরত ছাত্রদের শরীর থেকে স্যালাইন টেনে ছিঁড়ে ফেলা হলো, ঐ অবস্থাতেই মার দেয়া হলো কয়েকজন কে; সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বিপরীতে উপহার? আবারো সন্ত্রাস। আবারো বুয়েট বন্ধ অনির্দিষ্টকালের জন্য।


দুর্গাপুজার ছুটি ও অন্যান্য
বুয়েট ভিসি বললেন, ঐ দুইচারজন মাইনরিটির জন্য ছুটি দেয়া যাবে না; ছাত্ররা আন্দোলনে, ছুটি ঘোষণা; অন্তে ছাত্রদলের মাস্তানদের চান্সে প্যাঁদায় কারা যেন(লীগ ইত্যাদি...) ; পরের দিন হলের ডাইনিং থেকে তুলে এনে প্রতিশোধ, চিপায় চাপায় মাইর, শোধ-বোধ! আমার মনে পড়ে, ছাত্রদলের ছেলেদের একটা স্মরণীয় উক্তিঃ ছুটি তো দিলাম, আর কি চাস তরা? এছাড়া বিভিন্ন ব্যাচ এর র্যা্গ-লেভেল কম্পলেশন ইত্যাদি প্রোগ্রামের কথা বাদই দিলাম, ঐগুলি তো সরাসরি পকেটে...অধিকার আছে না! ক্ষমতাসীনের লেঙ্গুর বলে কথা।


চাঁদাবাজি
বুয়েটের সেন্ট্রাল ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে আহসানউল্লাহ-নজরুলের ক্যান্টিন, হলের দোকানগুলি তে, ত্যানা(বড় রাজনৈতিক দলগুলির ডুমা) রা এমনকি পলাশীতে মাছ নিয়া বসে যে মূর্খ লোকটা আর ভাবতে থাকে “স্যারেরা দেশের বড় বড় ম্যাগনেট(?)”, তার কাছ থেকেও মাছ নিয়ে আসে, এক দোকানদার এর কাছে গেলাম র্যা গ এর প্রোগ্রামের সময়, “স্যার আপনাদের হলের অমুক ভাই(ছাত্রদলের নেতা) এর কাছে মশলার টাকা টা...”। ছাত্রলীগের এক পাঁতি(ইনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক) বছর খানেক আগে পত্রিকার খবরেও চলে আসছিলেন [১]। সাবাশ বুয়েটিয়ান! সোনার মুকুটে যুক্ত হচ্ছে একের পর এক সাফল্যের পালক। এলামনাই এসোসিয়েশনের উদ্বৃত্ত টাকার দাবি, “স্যার ২৬ লাখ টাকা কি আপনি একাই খাবেন, না আমাদের ভাগ দেবেন? [২]”

এই ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে আমার মনে প্রশ্ন জাগে বুয়েটের উপাচার্য পদালংকার যিনি করছেন, তিনি কি দ্বিপদী নাকি চতুষ্পদী? এও সেই আঙ্গুলীয় হেলনে লেঙ্গুরীয় দোলানোর রাজনীতি, কি শিক্ষক, কি ছাত্র, আবারো অভিনন্দন!

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/swakkharblog_1299922792_2-200092_10150104550723616_598758615_6504567_2172175_n.jpg


সাম্প্রতিক বয়ান
পাঁচ তারিখে লীগের কর্মীরা প্রতিপক্ষ ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের মারধর করে পাঠিয়ে দেয় বুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারে। কি কারণ? “টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিবিরোধী” পোস্টার। এটা ঘটে শনিবার দুপুরে। ক্যাফেটেরিয়া তে। এর পর?[৩] নজরুল ইসলাম হল ও রশীদ হলের ফ্রণ্টের কর্মীদের রুমে ভাংচুর! পরের দিন সকালে নাস্তা করতে গিয়ে একই নেতা-কর্মীরা(গৌতম, মামুন, ...) আবার মারধরের স্বীকার এবং ক্যম্পাস ছাড়ার হুমকি। প্রশাসন কই? প্রশাসন এর আশ্বাস, “তোমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ, সন্ত্রাসীদের ব্যবস্থা নেয়া হবে, তোমরা হলেই থাকো!” ফলাফল? সাত তারিখ রাতে ক্যান্টিনে আবার। বর্ণনা পড়ুনঃ

গতকাল ৭ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় আহসান উল্লাহ হল কেন্টিনে খেতে গেলে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী রনক আহসানের নেতৃত্বে মাছুম, সোয়েব, ওয়ালিদ, জিয়াসহ প্রায় ২০/২৫ জন বহিরাগত সন্ত্রাসীরা লোহার রড, হকিস্টিক, লাঠিসহ হামলা করে গৌতম কুমার দে এবং মামুন মোর্শেদকে মারাত্বক ভাবে আহত করে। সন্ত্রাসীরা গৌতম কুমারকে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে মৃত মনে করে তারা চলে যায়। আশাঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। বুয়েট থেকে ঢাকা মেডিকেলের রাস্তা ৫ মিনিটের রাস্তা হলেও বারবার ফোন করার পরও ভিসি, ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রায় ২ ঘন্টা পর সেখানে উপস্থিত হন। সেখানেও কর্তৃপক্ষের কথায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের অসহায়ত্বের কথাই বারবার ফুটে ওঠে। কর্তৃপক্ষের এই নতজানু অবস্থান এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে দায়িত্বহীনতার পরিচয়ের কারণে এই বর্বর ঘটনাটি ঘটে।[৪]


এখানেই কি শেষ? পরের দিন আবার পলাশীর মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ফ্রন্ট কর্মীকে মেরে হাসপাতালে প্রেরণ।


এইবার?
সন্ত্রাস বিরোধী ছাত্র ঐক্য গঠিত হবে? কিন্তু এবার তো কেউ মরে নাই! কেউ কেউ বলে, রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক! কেউ আবার আবার ‘ফ্রণ্টেরই তো দোষ, এরাই সবসময় গ্যানজামের চান্স খুঁজে!’ শেখমুজিব কে নিয়ে বাজে কথাও নাকি লেখা আছে গৌতমের ডায়েরীতে। সে ডায়েরী যারা পড়েছে, তারা অন্তত ডায়েরী চুরির অভিযোগ থেকে রক্ষা পায় না।
তাহলে এবার কি করা যায়? আশু দাবি ২ টা, এক ভাংচুর ইত্যাদির ক্ষতিপূরণ প্রদান, জড়িতদের একাডেমিক শাস্তির ব্যবস্থা। ব্যবস্থা নিবে কে? প্রশাসন তো নিজের লেজ সামলাতেই ব্যস্ত!


সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা এবং
মোশাহিদা সুলতানা ঋতুর[৫] লেখা টা থেকে এইটুকু কোট না করে পারছি না,

শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য ছাত্রদের এই লড়াইকে সম্মান জানিয়ে আমরা চাই সন্ত্রাসীদের শাস্তি ও বিচার | সারা দেশবাসীর প্রয়োজন এই সব অকুতোভয় ছাত্রদের পাশে দাড়ানো | চার দিন ধরে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী তত্পরতার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান না নিয়ে বুয়েট প্রশাসন যেই নির্লিপ্ততার নমুনা আমাদের সামনে হাজির করেছে তা আবারও প্রমাণ করে আমাদের ছাত্রদের মধ্যে হীনম্মন্যতার বীজ বপণ করার জন্য দায়ী আমাদের প্রশাসন এবং আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা | আমাদের ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব মুক্ত করতে হলে নিষ্ক্রিয় প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে বাধ্য করতে হবে | যতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করবে ততদিন সারবে না সমাজের মধ্যেকার এই গভীর অসুখ – হীনম্মন্যতা।

প্রত্যেকবার কি ঘটে থাকে এবং পরিণতি তে কি হয় আমরা জানি; সনির মৃত্যুদিবস ভুলে গেছে অনেকেই, কিন্তু সেই সন্ত্রাসী মুকি-টগর এখনো ধরাধামেই আছে; আমাদের হীনমন্যতার প্রশ্রয় পেয়েই এরা টিকে ছিল, টিকে থাকে; এখনই সময়, এদের চিনে রাখি, এদের প্রতিহত করতে শুরু করি।
p.s. ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের নামগুলি মনে রাখুন(ব্যাচসহ): রওনক আহসান(০৪), বিতু(০৫), রানা(০৬), মোকাম্মেল(০৬), পলাশ(০৬), ফাইরুজ(০৬), মম(০৭), সামি(০৭), তন্ময়(০৭), মাসুম(০৭), সোয়েব(০৬), ওয়ালিদ(০৭), জিয়া(০৭)


[১] Click This Link
[২] Click This Link
[৩] Click This Link
[৪] http://move4world.com/?p=1060
[৫]http://opinion.bdnews24.com/bangla/2011/03/09/সনà§�তà§�রাস-হীনমনà§�যতা-ও-সà§�শ/
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/29343109 http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/29343109 2011-03-12 15:40:21
কেন সমাজতন্ত্র? - আলবার্ট আইনস্টাইন

[এই লেখাটি প্রথম ১৯৪৯ সালে Monthly Review তে ছাপা হয়]
অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে অদক্ষ কারো কি সমাজতন্ত্র বিষয়ে ধারণার প্রকাশ করা উচিত? অনেকগুলি কারণে আমি মনে করি করা উচিত।

প্রথমত, প্রশ্নটিকে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের দৃষ্টিকোন থেকে দেখা যাক। এটা মনে হতেই পারে যে, জোতির্বিদ্যা এবং অর্থনীতির মধ্যে পদ্ধতিগত কোনো পার্থক্য নেইঃ উভয় বিষয়ের বিজ্ঞানীরা সাধারণভাবে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার ব্যাখ্যার্থে গ্রহণযোগ্য কতগুলি সুত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করেন, যাতে এই সব ঘটনাগুলির পারস্পরিক সম্বন্ধের ব্যাপারগুলি বোঝা যায়। কিন্তু আসলে এদের মধ্যে পদ্ধতিগত অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। অর্থনীতির ক্ষেত্রে সাধারণ সুত্র আবিষ্কার অনেক কঠিন কারণ অর্থনৈতিক ঘটনাসমূহ প্রায়শই এত বেশি নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয় যে তাদেরকে আলাদাভাবে পরিমাপ করা যায় না। তাছাড়া মানব ইতিহাসের তথাকথিত সভ্যপর্যায়ের শুরু হতে আজ পর্যন্ত যে অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়েছে, তা এমন কিছু নিয়ামকের দ্বারা নির্ধারিত ও প্রভাবিত যেগুলি কোনোভাবেই স্রেফ অর্থনৈতিক নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইতিহাসের বেশিরভাগ জাতি তার অস্তিত্বের জন্য যুদ্ধজয়ের উপর ঋণী। বিজয়ী জনগোষ্ঠী আইনগত এবং অর্থনৈতিকভাবে বিজিত দেশের সুবিধাভোগকারী অবস্থানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। নিজেদের জন্য সৃষ্টি করেছে ভূ-সম্পত্তির উপর একচেটিয়া অধিকার এবং স্ব-শ্রেনী হতে যাজক সম্প্রদায়কে নিয়োগ করেছে। এই যাজক সম্প্রদায় শিক্ষাব্যস্থাকে কব্জা করার মাধ্যমে সামাজিক শ্রেনীভাগকে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের রূপ দিয়েছে, এবং এমন এক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা করেছে, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসচেতনভাবেই মানুষের সামাজিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।

কিন্তু ঐতিহাসিক ভাবে আমরা বিগতকালের কথাই বলি, আমরা কোনোভাবেই মানব প্রবৃত্তির উন্নয়নের সেই স্তর থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি যাকে থোর্স্টেইন ভেব্লেন “the predatory phase” বলে আখ্যায়িত করেছেন। যত ধরণের অর্থনৈতিক ঘটনাসমূহ প্রত্যক্ষ হয় সবই এই কালের এবং এর থেকে প্রাপ্ত সুত্রসমূহ কালান্তরে গ্রহণযোগ্য নয়। যেহেতু সমাজতন্ত্রের আসল উদ্দেশ্য হলো মানব উন্নয়নের এই predatory phase কে সম্পূর্ণভাবে অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়া, তাই বর্তমানের অর্থনৈতিক বিজ্ঞান ভবিষ্যতের সমাজতান্ত্রিক সমাজকে খুব বেশি স্পষ্ট করতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, সমাজতন্ত্র মূলত সামাজিক-নৈতিক একটি পরিণতির দিকে উদ্দিষ্ট। বিজ্ঞান কোনোভাবেই কোনো পরিণতির সৃষ্টি করে না, এমনকি ধীরে ধীরে সঞ্চারিতও করতে পারেনা, বড়জোড় পরিণতিতে পৌছানোর জন্য উপাদানের যোগান দিতে পারে। কিন্তু এই পরিণতিসমূহ কল্পিত হয় সুউচ্চ নৈতিক আদর্শের কিছু ব্যাক্তির দ্বারা। আর যদি এসব অপরিহার্য ও প্রচন্ড পরিণতিগুলি ইতোমধ্যে অর্জিত না হয়ে থাকে তবে,কিছু মানুষ এগুলোকে আত্মস্থ করে এবং সামনের দিকে নিয়ে যায়। এসব মানুষেরাই সমাজের সুস্থির বিবর্তনকে অর্ধসচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

এসব কারণেই আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে যতে মানবিক সমস্যার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিসমূহকে অতিশায়িত করা না হয়, এবং এটা মনে করা উচিত নয় যে শুধু মাত্র সুদক্ষ লোকেরাই সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিতকারী বিষয়াদি নিয়ে বক্তব্য দেয়ার আধিকার রাখে।

অনেকদিন ধরেই অসংখ্য মানুষ এই দাবি করে আসছেন যে সমাজ একটা সংকটের মধ্যে দিয়ে পার হচ্ছে, সমাজের স্থিরতা বা ভারসাম্য প্রচন্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। এটা এমন এক সময়ের বৈশিষ্ট যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সম্প্রদায় বা সংগঠনের প্রতি উদাসীন এবং ক্ষেত্র বিশেষে বৈরী হয়ে উঠে। আমার কথাকে বোঝানোর জন্য আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। সম্প্রতি আমি একজন বুদ্ধিমান ও বিদ্বান মানুষের সাথে আরেকটা যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছিলাম। আমার মত ছিলো যে, আরেকটা যুদ্ধ মানুষের অস্তিত্বকে মহাসংকটে ফেলে দেবে এবং এই মন্তব্য করেছিলাম যে শুধুমাত্র কোনো আন্তর্জাতিক মহাসংস্থাই পারে এই মহাবিপদ থেকে সুরক্ষা দিতে। তখন ঐ ব্যাক্তি বলে উঠলেন, “মানবজাতির পরিণতি ধ্বংস, এটা থেকে আপনি এত বিপরীতে কেন?”।

আমি নিশ্চিত যে মাত্র এক শতাব্দী বা তারও কম সময় আগে কেউ এ ধরণের কোনো মন্তব্যই করতে পারতো না। যারা নিজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ এবং সফল হবার কোনো আশাই রাখেন না তারাই এ ধরণের মন্তব্য করেন। এর উৎস এমন এক ধরণের বিষাদপূর্ণ একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা, যাতে এ সময়ের বেশিরভাগ মানুষই ভুগছে। এর কারণ কি? এর থেকে মুক্তির কোনো উপায় কি আছে?

এ ধরণের প্রশ্ন উত্থাপন করা সহজ হলেও কোনো প্রকার নিশ্চয়তার সাথে এর উত্তর দেয়া কঠিন। যদিও আমি এটা সম্বন্ধে অবগত যে আমাদের চিন্তা ও চেষ্টাগুলো প্রায়শই অসংগতিপূর্ণ এবং অস্পষ্ট, তাদেরকে সহজ ও সাধারণ সুত্রের সাহায্যে প্রকাশ করা যায় না, তবুও আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

মানুষ হলো একই সাথে বিচ্ছিন্ন ও সামাজিক। বিচ্ছিন্নভাবে সে নিজের ও তার আশেপাশের সবার অস্তিত্বকে রক্ষা করার চেষ্টা করে, নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছাগুলোকে পূরণ করার চেষ্টা করে, তার সহজাত সামর্থ্যের উন্নয়ন করে। আর সামাজিকভাবে সে তার আশেপাশের মানুষের স্বীকৃতি ও সম্প্রীতিলাভের চেষ্টা করে, তাদের সাথে আনন্দকে ভাগ করার চেষ্টা করে, তাদের দুঃখ লাঘবের চেষ্টা করে, এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের চেষ্টা করে। শুধুমাত্র এসব বিবিধ পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই মানুষের বিশেষ চরিত্র গড়ে উঠে। আর এসবের বিশেষ সন্নিবেশ নির্ধারিত করে একজন মানুষ তার অভ্যন্তরের ভারসাম্য কি মাত্রায় অর্জন করতে পারবে, সমাজের কল্যাণে কতটুকু অবদান রাখতে পারবে। এটা খুবই সম্ভব যে এই দুই পৃথক প্রচেষ্টার আপেক্ষিক শক্তি জন্মসূত্রে নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে তা বহুলাংশে তৈরী হয় মানুষ যে পরিবেশে বেড়ে উঠে তার দ্বারা, সে যে সমাজে বেড়ে উঠে তার কাঠামোর দ্বারা, ঐতিহ্যের দ্বারা, এবং কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের মূল্যায়নের মাধ্যমে। “সমাজ”এর বিমূর্ত ধারণাটি একজন ব্যক্তির কাছে তার সমসাময়িক ও পূর্বতন সবকিছুর সাথে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্কের সমষ্টি। ব্যক্তি নিজে নিজে চিন্তা-চেষ্টা-অনুভব করতে পারে ও কাজ করতে পারে, কিন্তু তার শারীরিক, বৌদ্ধিক ও আবেগিক অস্তিত্বের জন্য সমাজের উপর এত বেশি নির্ভর করে যে, সামাজিক কাঠামোর বাইরে তাকে চিন্তা করা বা বোঝা সম্ভব নয়। সমাজই তাকে সারা জীবন ধরে খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান,যন্ত্রপাতি,ভাষা,চিন্তার পদ্ধতি ও চিন্তার বিষয়ের যোগান দেয়; তার জীবন ধারণ সম্ভব হয় অতীত ও বর্তমানের নিযুত-লক্ষের শ্রমের দ্বারা, যারা এই “সমাজ” নামের ছোট শব্দের পেছনে উহ্য।

ফলে এটা নিশ্চিত যে, সমাজের উপর নির্ভরতা প্রকৃতিতে পিঁপড়া ও মৌমাছির জন্য যেমন সত্য ও অলঙ্ঘ্য, তেমনি মানুষের ক্ষেত্রেও। পিঁপড়া ও মৌমাছির ক্ষেত্রে তাদের সমগ্র জীবন প্রক্রিয়াকে সুক্ষ্ণতম ভাগ পর্যন্ত বিশ্লেষণ করা যায় কিছু নির্দিষ্ট, জন্মসুত্রে প্রাপ্ত সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে, আর মানুষের ক্ষেত্রে সামাজিক বিন্যাস আর পারস্পরিক সম্পর্কগুলি নির্দিষ্ট নয় এবং পরিবর্তনশীল। নতুন নতুন কল্পনার সৃষ্টিকারী মানুষের মস্তিষ্ক, ভাষিক যোগাযোগের আশীর্বাদের ফলে এমন উন্নয়নের সম্ভব হয়েছে যা জৈবিক প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই উন্নয়ন সুচিত হয় ঐতিহ্য, প্রতিষ্ঠান, সম্প্রদায়, ভাষা, বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশল অর্জনসমূহ এবং শিল্পকর্মসমূহের দ্বারা। এভাবে বোঝা যাচ্ছে মানুষ কিভাবে তার জীবনকে নিজের কর্মের দ্বারা প্রভাবিত করে এবং এই প্রক্রিয়ায় সচেতন চিন্তা-চাহিদার ভূমিকা রয়েছে।

মানুষ জন্মের সময় উত্তরাধিকারসুত্রে যে শরীরতন্ত্র লাভ করে, আমরা একে অবশ্যই অপরিবর্তনীয় ধরে নেবো, এমনকি বিভিন্ন জৈবিক তাড়নাসমূহ যা মনুষ্য প্রজাতির বৈশিষ্ট্য। সেই সাথে তার জীবদ্দশায় সে লাভ করে মননতন্ত্র, যা সে আয়ত্ত করে সমাজের সাথে তার যোগাযোগ ও অন্য ধরণের প্রভাবের মাধ্যমে। এই মননই সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় এবং অনেকাংশে সমাজের সাথে ব্যক্তির সম্পর্ককে নির্ধারণ করে। আদিম রীতি-পদ্ধতিসমূহের তুলনামূলক অনুসন্ধানের মাধ্যমে আধুনিক নৃবিদ্যা আমাদের জানিয়েছে যে, মানুষের সামাজিক আচরণ বিভিন্ন রকম হতে পারে, এবং এটা নির্ভর করে সমাজে আধিপত্যকারী সংগঠনের উপর এবং বিরাজমান সাংস্কৃতিক মননের উপর। এর ফলে যারা মানবজাতির বৃহৎ অংশের উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকে আমি আশাবাদী হতে বলবো কারণ, মানব অস্তিত্ত্বকে বাতিল ঘোষণা করা যায় না, নিজের শারীরিক অস্তিত্বেরর জন্য হলেও নিজেরা একে অপরকে হত্যা করবে না অথবা নিজেকে ধ্বন্স করার মত নির্মম পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে না।

যদি আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি যে, জীবনকে আরামদায়ক করার জন্য এই সামজিক কাঠামো এবং মানুষের সাংস্কৃতিক আচরণ কিভাবে পরিবর্তিত হবে, আমাদের সবসময় কিছু বিষয় সম্বন্ধে সচেতন থাকতে হবে কারণ কিছু কিছু নিয়ামক আমরা কখনোই বদলাতে পারি না। আগেই বলা হয়েছে যে জৈবিক গঠনতন্ত্রের কোন কিছুই কোন ব্যবহারিক কারনেই পরিবর্তন করা যায় না। উপরন্তু বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে সংগঠিত প্রযুক্তি ও জনসংখ্যায় যে পরিবর্তনের ফলেও যে অবস্থার তৈরী হয়েছে তা টিকে থাকবে। তুলনামুলকভাবে ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে কোন জনগোষ্ঠীকে যদি অপরিহার্য দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয় তাহলে এক ধরণের উৎপাদন যন্ত্র কেন্দ্রিক শ্রমবিভাগ আবশ্যক। সে অলস সময়ের অবসান ঘটেছে যখন ছোট গোষ্ঠীগুলোও নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলো। এটা খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবে না যে, মানবজাতির আজ তৈরী হয়েছে সমগ্র গ্রহজুড়ে উৎপাদক শ্রেণী ও ভোক্তাশ্রেণী।

এ পর্যায়ে আমি এখন সংক্ষেপে বলতে পারি এই সংকটের মূল ব্যাপারটা আমার কাছে কি মনে হয়? এ সংকট ব্যক্তির সাথে সমাজের সম্পর্কের সাথে জড়িত। ব্যক্তি অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় সমাজের উপর তার নির্ভরশীলতার ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন। কিন্তু সে এই নির্ভরশীলতাকে অস্তিবাচক সম্পদ হিসেবে দেখে না, জৈবিক বন্ধন ভাবে না, রক্ষাকারী শক্তি মনে হয় না বরং তার স্বাভাবিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অস্তিত্বের প্রতি হুমকি মনে করে। সমাজে তার এমন অবস্থান তৈরী হয় যে, তার ইগোকেন্দ্রিক আকাঙ্ক্ষাগুলি সবসময় তুঙ্গে থাকে, আর তার সামাজিক তাড়নাগুলি স্বাভাবিকভাবেই থাকে দুর্বল আর আস্তে আস্তে কমতে থাকে। মানুষ সমাজের যে স্তরেই থকুক না কেন দিনে দিনে এই ক্রমহ্রাসমান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিজের ইগোর জালে অনিচ্ছাকৃতভাবে বন্দী হয়ে মানুষ নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে, একাকীত্ব লাভ করে আর জীবনের সহজ, স্বাভাবিক ও সাবলীল আনন্দলভ থেকে বঞ্চিত হয়। মানুষ শুধুমাত্র সমাজের প্রতি আত্মনিবেদনের মাধ্যমেই ক্ষুদ্র ও ঝঞ্ঝাপূর্ণ জীবনের মানে খুঁজে বের করতে পারে।

আমার মতে সকল প্রকার অশুভের উৎস হলো আজকের পুঁজিবাদী সমাজে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য। আমরা আমাদের সামনে দেখতে পাই এক বিশাল উৎপাদক শ্রেণী যারা তাদের যৌথ শ্রমের ফল থেকে পরস্পরকে বঞ্চিত করতে অবিরাম চেষ্টা করছে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরংচ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠিত আইনের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, উৎপাদনের উপায় তথা ভোক্তাপণ্য উৎপাদনের জন্য যে সামগ্রিক উৎপাদকযন্ত্র ও মূলধনজাতীয় দ্রব্যের প্রয়োজন তা আইনীভাবে আধিকাংশেই মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

আলোচনার সুবধার্থে এখন থেকে আমি যাদের উৎপাদনের উপায়ের উপর মালিকানা নেই তাদেরকে “শ্রমিকশ্রেণী” বলে আখ্যায়িত করব, যদিও এই শব্দটির যথার্থ প্রায়োগিক জায়গা নয়। উৎপাদনের উপায়ের উপর যার মালিকানা থাকে সে শ্রমিকের শ্রমকে কিনে নেয়ার মত অবস্থানে থাকে। উৎপাদনযন্ত্রে শ্রমিক নতুন দ্রব্য তৈরী করে যা পুঁজিবাদীর সম্পত্তিতে পরিণত হয়। এখানে ধর্তব্য হলো শ্রমিকের উৎপন্ন দ্রব্য ও তার মজুরির মধ্যে প্রকৃত মূল্যে নির্ণায়িত সম্পর্কের ব্যাপারটি। যেহেতু শ্রমচুক্তির ব্যাপারটি “বিনামূল্যে” নির্ধারিত হয়, তাই শ্রমিক যা গ্রহণ করে তা প্রকৃতমূল্যে নির্ণায়িত নয়, বরং তার ন্যূনতম প্রয়োজন এবং পুঁজিপতির প্রয়োজন এবং শ্রমের যোগানের উপর নির্ভর করে। আমাদের অবশ্যই এটা বোঝা দরকার যে, শ্রমিকের মজুরি তার উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্য অনুযায়ী নির্ধারিত নয়।

ব্যক্তিগত সম্পত্তি অল্প কিছু ব্যক্তির কুক্ষিগত হতে থাকে। এর কারণ অংশত পুঁজির প্রতিযোগীতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। ক্রমবর্ধিষ্ণু শ্রমবিভাগের ফলে ছোট ছোট উৎপাদন ইউনিটের জায়গায় বড় বড় ইউনিট গড়ে উঠে। এর ফলে তৈরী হয় এমন এক ব্যবস্থা যেখানে মূলধন জড়ো হতে থাকে সীমিত কিছু ব্যক্তির কাছে, এবং এই শক্তিকে গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক সমাজের দ্বারা আর নিয়ন্ত্রন করা যায় না। এটা অত্যন্ত স্পষ্ট কারণ নিজেদের প্রয়োজনেই পুঁজিপতিরা নির্বাহী বিভাগকে নির্বাচনের দ্বারা আলাদা রেখে, রাজনৈতিকদলগুলিকে আর্থিক ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে, প্রভাবিত করে এবং এদের মধ্যে থেকেই আবার বিভিন্ন নির্বাহী প্রতিনিধি নিয়োগ করে। এর পরিণতি হলো সমাজের এই সব প্রতিনিধিরা সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীর স্বার্থ যথেষ্ট পরিমাণে রক্ষা করতে পারেনা। আর এ অবস্থায় এই সব পুঁজিপতিরাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সকল প্রকার প্রধান সংবাদ মাধ্যমকে/ তথ্য উৎসকে নিয়িন্ত্রণ করে(প্রেস, রেডিও, শিক্ষা )। এর ফলে একজন ব্যক্তির পক্ষে নৈর্ব্যক্তিক উপসংহারে উপনীত হওয়া বা তার রাজনৈতিক অধিকারসমূহের সঠিক ব্যবহার দুষ্কর এবং কিছু ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মূলধনের উপর ব্যক্তিগত মালিকানার ধারণাকেন্দ্রিক এই অর্থণীতির বিরাজমান অবস্থাকে দুটি মূল নীতির দ্বারা সুচিত করা যায়ঃ প্রথমত উৎপাদনের উপায়(মূলধন) ব্যক্তিগত মালিকানায়, মালিকেরা নিজের ইচ্ছামতো এর বিনিময় করে এবং দ্বিতীয়ত বিনামূল্যের শ্রমচুক্তি। অবশ্য এর ফলে প্রকৃতপক্ষে বিশুদ্ধ পুঁজিবাদী সমাজ বলতে কোন কিছু নেই। এটা বোঝা উচিত যে, শ্রমিকশ্রেণীকে তিক্ত রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের মধ্য দিয়ে কিছু শ্রেণীর শ্রমিকের জন্য “বিনামূল্যের শ্রমচুক্তির” চেয়ে ভালো কোনো অবস্থায় পৌছে গেছে। তবে মোটের উপর এই অবস্থা “বিশুদ্ধ” পুঁজিবাদ থেকে খুব বেশি পৃথক নয়।

উৎপাদন করা হয় মুনাফার জন্য, চাহিদা অনুযায়ী নয়। এমন কোনো ব্যবস্থা নেই যে সমর্থ ও ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য সবসময় কর্মসংস্থানের সযোগ রয়েছে, একটা বিশাল “বেকার জনতা” সবসময়ই পাওয়া যায়। একজন শ্রমিক সবসময় তার কাজ হারানোর ভয়ে থাকে। যেহেতু বেকার এবং নিম্ন আয়ের শ্রমিকেরা মুনাফাজনক বাজারের তৈরী করে না, তাই ভোক্তা দ্রব্যের উৎপাদন সীমিত আকারে ঘটে যার ফলাফল বিপুল দুর্ভোগ। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রায়শই সকলের শ্রমের বোঝা কমানোর চেয়ে বেশি করে বেকারত্বের সৃষ্টি করে। মূলধনের বন্টন ও সুষ্ঠ ব্যবহার না হবার ফলে যে ক্রমবর্ধমান হতাশার উদ্রেক হচ্ছে তার জন্য দায়ী হলো মুনাফাকেন্দ্রিক চিন্তা আর সেই সাথে পুঁজিপতিদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগীতা। এই অসীম প্রতিযোগীতার ফলে ঘটে শ্রমের বিরাট অপচয় ও সামাজিক সচেতনতার প্রতি ব্যক্তির অনীহা যা আমি আগেই উল্লেখ করেছি।
ব্যক্তিমানুষের এই অনীহাকে আমি পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে করি। সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা এই সমস্যা ভোগ করে। এক ধরণের অতিশায়িত প্রতযোগীতামূলক ভীতি একজন ছাত্রের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়, তাকে ভবিষ্যত জীবনের জন্য অর্জিত সাফল্যের সাধনার শিক্ষা দেয়া হয়।

আমি মনে করি এই সব ভয়াবহ সমস্যার দূর করা সম্ভব সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা ও একই সাথে এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ যার উদ্দিষ্ট হবে সামাজিক লক্ষ্যসমূহ অর্জনের দিকে। এধরণের ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপায়সমুহের মালিকানা থাকবে সমাজের হাতে এবং উপযোগের ব্যবহার ঘটবে সূষ্ঠু। একটি পরিকল্পিত অর্থনীতি যা উৎপাদনের সাথে সমাজের চাহিদার সমন্বয় সাধন করে, সকল কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে সঠিকভাবে কাজের বন্টন করবে এবং প্রত্যেক নর, নারী ও শিশুর জীবন নির্বাহ নিশ্চিত করবে। প্রত্যেক ব্যক্তির শিক্ষা তার সহজাত প্রবৃত্তির উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজে ক্ষমতা ও সাফল্যের জায়গায় এক ধরণের দায়িত্ববোধ তৈরী করবে।

এটা খেয়াল রাখতে হবে যে পরিকল্পিত অর্থনীতির মানেই সমাজতন্ত্র নয়। পরিকল্পিত অর্থনীতি ব্যক্তির দাসত্বের মধ্য দিয়েও অর্জিত হতে পারে। সমাজতন্ত্রে উত্তরণের জন্য কয়েকটি দুরহ সমাজ-রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে হবেঃ কিভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রিয়করণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, আমলাতন্ত্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হওয়া ও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা ঠেকানো যাবে? ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করে বিপরীতে কিভাবে গনতান্ত্রিক আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা নিশ্চিত করা যায়?

সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য ও সমস্যা সম্বন্ধে স্পষ্টতা আমাদের এই পরিবর্তনের যুগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যেহেতু বর্তমানে এই সমস্যাগুলি নিয়ে মুক্ত ও অবাধ আলোচনার খুব বেশি সুযোগ নেই আমি মনে করি জনকল্যাণে এই পত্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28902056 http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28902056 2009-01-25 02:04:38
বুলশীট মানে গোবর
দশ নম্বরে বসে আড্ডা দিতাম দুইজন। কি কি বলেছি তার সব আজ আমি ঠিক ঠিক মনে করতে পারবো না। হয়তো সেও পারবে না। ছদ্ম-ইফেড্রিন আর নিকোটিনের ধূমায়িত সন্ধ্যাগুলিতে কি কি করতাম তার এখন আর হদিস নেই। হঠাৎ রোকেয়া সরণীতে জল বেড়ে গেলে আমাদের রিক্সাগুলিকে মনে হত ছোট ছোট নৌকা, বাসগুলি জাহাজ আর ট্যাক্সিগুলি দুষ্ট স্পীডবোট। আমি গুনতাম এক, দুই, ..., সাত, আবার এক, দুই, ..., সাত। সে গুনত পঁচিশ ছাব্বিশ, ...।

মাঝখানে সে ভারত গেল। ফিরে আসল এক মাস পর। ঠিক সেই চিরচেনা রূপে।

একদিন হঠাৎ আবিষ্কার করলাম ও ওর লেখা সবগুলি কবিতা, আঁকা সবগুলি ছবি পুঁড়িয়ে ফেলেছে। ওকে নতুন করে চিনলাম।

ওকে নিয়ে আমাদের সবার খুব টেনশন-চিন্তা। ওকে সুস্থ করে তোলা প্রয়োজন। প্রেম-ভালোবাসা-প্রশংসা যে কোন উপায়ে।

২.

একখানা গল্প লিখে শেষ করেছি। রাত বাজে ২টা। ওকে ফোন করলাম।
-"হ্যালো"
-"কিরে?"
-"একটা গল্প লিখলাম", বললাম।
-"লিখে ফেললি?"
-"হ্যা।" "তোকে পাঠিয়ে দিব। পড়িস।"

ওর একটা গল্পও কয়েকদিন আগে আমাকে লিখে পাঠিয়েছিল।

"হ্যা, অবশ্যই পাঠিয়ে দিস। আমি পড়ব। কিন্তু নিশ্চিত থাক প্রশংসা করব না। সবাই আমার গল্প পড়ে প্রশংসা করলেও আমি করি না। যেটা সত্যি মনে হবে তাই বলব। দেখিস।"

ওকে আবার নতুন করে চিনলাম। ভালোকথা, আমার গল্প পড়ে ও বলেছিলো, "বুলশীট হয়েছে।"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28872787 http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28872787 2008-11-22 23:05:17
২৭ তম বিসিএসঃ দ্বিতীয় দফা মৌখিক পরীক্ষা আগের লেখার লিঙ্ক
শহীদ মিনার প্রাঙ্গন। কিছু ভদ্রলোক এসেছেন বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে। পাশেই ২৭ তম বিসিএস এ বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা জড়ো হচ্ছে একে একে। উদ্দেশ্য যদি একটা মিছিল করা যায়। এদের বেশিরভাগ ডাক্তার। আমাদের সরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলি থেকে পাশ করা ডাক্তারদের বেশিরভাগের প্রথম লক্ষ্যই থাকে একটা সরকারী চাকরি। এরপর অন্য কিছু। যে ভদ্রলোকটি বাচ্চা নিয়ে এখানে এসেছেন তার সেবার ছিলো শেষবার বি সি এস এ বসার সুযোগ। প্রাথমিক ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত পার হয়ে নিয়োগ পাওয়ার অপেক্ষার ছিলেন এদের সবাই। কারো কারো সারা জীবনের স্বপ্নই ছিলো, এবং হয়ত এখনো আছে একটা সরকারী চাকরি। কারো সংসার চালানোর জন্য প্রয়োজন এই চাকরিটি। ভেবে দেখুন আমাদের দেশের এই সব সদ্য পাশ করা ডাক্তারেরা এছাড়া আর করবেই টা কি? জনগনের সেবা করার যে সুযোগ বি সি এস এর মাধ্যমে এটা যে তাদের দায়ে পড়ে প্রথম পছন্দ, সেটা আমাদের জন্য সৌভাগ্য নয় কি? যাই হোক ঐ মৌখিক পরীক্ষাটি বাতিল করা হলো। আবার ডাক দেয়া হলো মৌখিক পরীক্ষার।

প্রথমবার যে দুর্নীতির অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিল হয়েছিল, প্রশ্ন হলো দ্বিতীয়বারে কি পরীক্ষাটি দুর্নীতিমুক্ত ছিল? যতদূর খবর পাওয়া যাচ্ছে বা শোনা যাচ্ছে এই আন্দোলনরত ডাক্তারদের কাছ থেকে তা হলো এই পরীক্ষার আগেই ঠিক করা হয়ে গিয়েছিলো কাদেরকে নেয়া হবে বা বাদ দেয়া হবে। বেশ কিছু ডাক্তারকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, "বাংলাদেশের এমন পাঁচটি উপজেলার নাম বলুন যাদের নামের শেষ 'হা' দিয়ে?" ডাক্তাররা এ ধরণের প্রশ্ন আগে কোনদিন শোনেন নি এবং এটাই তাদের অযোগ্যতার প্রমাণ। ঝুমা আপুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনার আগে কি কি কাজ করেছেন তা নিয়ে ইংরেজীতে কিছু বলুন"। মৌখিক পরীক্ষার নামে এই ধরণের প্রহসন এবং নিয়োগ বাতিলের ফলাফল কি? এক পরীক্ষার্থী ইতোমধ্যে আত্মহত্যা করেছেন। সম্ভবত এটা ছিল তার শেষ বারের বি সি এস।

যাই হোক। যে দুই উপদেষ্টার এই বিষয় নিয়ে মিটিং করার কথা ছিলো তারা বিদেশে গেছেন। তাই তাদের দায়িত্ব কে পালন করবেন জানা নেই। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা প্রত্যেকদিন দপ্তরে যান সকাল নয়টার সময়। সেটা জেনে আজ সকালে ডাক্তারদের একটা প্রতিনিধি দল তার বাসায় আটটার সময় চলে যায়। কিন্তু তাদের সাওবার খবর পেয়েই কিনা উপদেষ্টা সাহেব এক ঘণ্টা আগেই অফিসে চলে যান। তাকে পাওয়া যায় নি। সম্পূর্ন অসংগঠিত অবস্থায় এই আন্দোলন চলছে। কারণ যারা আন্দোলন করবে তারা সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়েই একত্রিত হয়েছে এবং তাদের কোন প্রাক-সংগঠন থাকার কথা না। এরপরও প্রত্যেকেই তাদের প্রয়োজন থেকে তাদের দাবিগুলিকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সমস্যা হলো এই সংগঠনবিহীন মানুষগুলোর প্রতিনিধি হবার কথা যে মিডিয়ার, সেই মিডিয়াও তাদের পাশে ওভাবে নেই।

দুঃখের হলেও সত্যি যে এই লোকগুলোকে নিয়ে মিডিয়া রাজনৈতিক দল কেউ এখন ইস্যু করবে না, কারণ এদের কোন সাধারণ পরিচয় নেই। তবে আশা করি গত ২০ মাস যাবৎ যে তড়িৎকর্মা সরকার আমাদের দেশে আছে তারা অন্তত ঘোড়ার গতিতে হলেও এদের একটা সমাধান দিবে। ফোঁড়া হলে হয় কেটে ফেলো অথবা মলম লাগাও। কিছু একটা তো করা দরকার। শরীরের অংশ তো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28870926 http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28870926 2008-11-18 23:30:21
২৭ তম বিসিএসঃ অমীমাংসিত প্রশ্ন
দেশে এমনিতেই লক্ষ লক্ষ(কোটি হবে) বেকার লোকজন, নিয়োগে দুর্নীতি-অনিয়ম লেগেই আছে, সরকারী-বেসরকারী সবখানে, তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে কিছু বেকার শহীদ মিনারে না খেয়ে পড়ে আছে, "অনশন" করছে। আরো বেকার রাস্তাঘাটে না খেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারাও অনশন করছে। সবাই বেকার। তাহলে এই গোত্রটি কি কোন বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে?

বেকারত্ব আছে। এটাই সত্য এবং সরকার সেটা সামাল দিতে পারছেনা বহুদিন হলো। আমি ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি যে বেকারত্ব আমাদের দেশের জন্য একটি বিরাট সমস্যা। তার জন্য সরকার অনেক পদক্ষেপই নেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি মনে হয়েছে বিগত কিছু বছর(৫ বছরের বেশি সময় ধরে) সরকারী নিয়োগের সর্বোচ্চ জায়গা বি. সি. এস. এর প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেয়া বা সে ব্যবস্থা বহাল রাখা। এর মাধ্যমে সরকার বেকারদের(অযোগ্য) সহজে চাকুরী দেবার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে হয়। সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল, ২৭ তম তে গিয়ে একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল। মিডিয়া-পত্রিকা রব তোলাতে সরকার নিয়োগ পর্যন্ত যাবার পরও বাতিল করে দিতে বাধ্য হল। সব নিয়োগ বাতিল। যে প্রশ্ন পেয়েছে সেও বাদ, যে নিজ যোগ্যতায় পেয়েছে সেও বাদ। অবশ্য এটা যাচাই করার কোন উপায়ও নেই যে, কে যোগ্য কে নয়(!)।

কিন্তু বেশকিছুদিন হলো ২৭ তম বি সি এস এর নিয়োগ বাতিলকৃত কিছু বেকার সন্তানেরা যারা দ্বিতীয় দফায় টিকতে পারেনি তারা শহীদ মিনারে অবস্থান পূর্বক সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা মিডিয়ায় যথেষ্ট সারা পাচ্ছে বলে মনে হলো না। ঝুমা আপু আমার বন্ধু রোমেলের বোন। গত সপ্তাহে ঝুমা আপুর কাছ থেকে জানা গিয়েছিল যে অনশন চলছে, তার আগেই আমি পত্রিকায় দেখেছি। আজকে শুনি ঝুমা আপু নিজেই অসুস্থ, চারদিন ধরে ওদের সাথে যোগ দিয়েছে। তার মানে এত দিন ধরেও কর্তৃপক্ষ তথা মিডিয়ার যথেষ্ট মনোযোগ আকর্ষন করা যায়নি। সমকাল আর প্রথম আলোতে অবশ্য ফিচার করছে। তবে তা জোরালো মনে হলো না।

প্রত্থম আলো , সমকাল

মূল ব্যাপারটি হলো কিছু লোকের আন্দোলন আর কিছু লোকের কাছে যৌক্তিক নাও লাগতে পারে, কিন্তু তারা এভাবে মরে যেতে থাকলে অন্তত সরকারের উপরোয়ালাদের উচিত অনশন ভাঙাতে যাওয়া। আর মিডিয়া অন্যসব বিষয়ের মত এখানে ঠিক অবস্থান সম্বন্ধের নিশ্চিত হতে পারছে না।

আমি যা বুঝি তা হলো, এর জন্য দায়ী সরকার, তাই এদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া অবিলম্বে প্রয়োজন। চাকুরী ফিরিয়ে দেয়া হয়ত সম্ভব না, হয়ত সম্ভব(শোনা যাচ্ছে)। কিন্তু এ ধরণের ঘটনার জন্য সরকার তার দায়ভার ঠিক কিভাবে নিচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। ঘটনা কিন্তু এই অনশন থেকে আরম্ভ নয়, আরম্ভ বিসিএস এর প্রশ্ন পত্র দুর্নীতি এবং তার সাথে আরো নানা অব্যবস্থাপনা।

আশা করি মিডিয়া ও সরকারের উপর মহলের লোকদের টনক নড়বে, আর দেরী হয়ে গেলে বোধ করি দু-এক জন বেকার মরতে শুরু করে, বেকারত্ব সমস্যার শুণ্যতম সমাধানটি দিয়ে যাবে।

[আমার অনুরোধ যারা মিডিয়াতে আছেন, কিংবা সরকারের বিভিন্ন পদে, তারা যদি বিষয়টির একটা নিষ্পত্তি ঘটান, যাতে এরা অন্তত আর অসুস্থ না হয়]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28870030 http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28870030 2008-11-17 02:28:16
মাহমুদ দারবিশের কবিতাঃ অবরোধ কাল
অবরোধ কাল – মাহমুদ দারবিশ
(রামাল্লা, জানুয়ারি ২০০২)

এখানে পাহাড়ের ঢালের উপর,
গোধূলি আর সময়ের উদ্যত কামানের মুখোমুখি
ধ্বসে যাওয়া বিম্বদের বাগানের কাছাকাছি,
আমরা তাই করি যা বন্দীরা করে,
আর যা কর্মহীনেরা করে,
করে যাই কামনার চাষবাস।
***
একটি দেশ প্রস্তুতি নেয় ব্রাহ্মমুহূর্তের,
আমরা সম্মূঢ় হতে থাকি
আমরা যে কাছ থেকে দেখছি বিজয়ের ক্ষণঃ
আর কোনো রাতের মধ্যে রাত জ্বালাবে না শত্রুশেল
আমাদের শত্রুরা সতর্ক, তাই জ্বেলে দেয় আলো
পাতালঘরের অন্ধকারের ভেতর।
***
এখানে কোনো “আমি” নেই।
আদম খোঁজে তার মৃত্তিকার ধূলি।
***
মৃত্যুর সীমানায় দাঁড়িয়ে সে বলেঃ
আর কোনো হদিসের সন্ধানে হারাবো নাঃ
মুক্ত, আমি নির্বানের কাছাকাছি।
হাতের মুঠোয় আমার পরাহকাল
জীবনকে অতিক্রম করে গিয়ে,
আবার জন্ম নিব স্বরাট আর আশ্রয়হীন,
আমার নাম হবে আশ্বিনের আকাশের নীলের অক্ষরে।
***
তুমি, দরজায় দাঁড়িয়ে থেকো না, ভেতরে এসো,
আমাদের সাথে বসে পান করো আরবের কফি
তুমিও আমাদের মত করে মানুষ
তুমি, বাড়িগুলির সদরের পথে দাঁড়িয়ে থেকো না
আমাদের ভোরবেলাগুলিতে বের হয়ে এসো
আমরাও নিশ্চিত ভাবে
তোমাদের মত করে মানুষ!
***
যখন দিগন্ত হারিয়ে যায় চরাচর, সাদা, সাদা ঘুঘুর দল
উড়ে যায়, ধুয়ে দিয়ে যায় বেহেশতের গন্ডলেখা
অবারিত পাখায় ভরে করে দীপ্তি নিয়ে ফেরে, অধিকার নিয়ে
ইথার আর উৎসবের, উঁচুতে, আরো উঁচুতে, সাদা, সাদা ঘুঘুর দল
উড়ে যায়, আহা শুধু আকাশটাই যদি
সত্য হত [দুটো বোমার মধ্যে পড়া একজন আমায় বলেছিলো]।
***
সৈন্যদের পিছনে সাইপ্রেসবন, মিনারগুলি রক্ষা করে
আকাশটাকে পতনের আগে, ইস্পাতের ঘেরাও এর
পিছনে সৈনিকেরা পেচ্ছাব করে – একটা সতর্ক ট্যাঙ্কের
চোখ ফাঁকি দিয়ে, শরতের সুবর্ণ বিভ্রান্তি শেষ হয়
রবিবারের প্রার্থনা শেষের কোলাহলের মত চওড়া রাস্তায়…
***
[একজন খুনীর প্রতি] বন্দীর মুখটাতে চেয়ে দেখো
একটু সচেতন হলেই দেখতে, গ্যাস চ্যাম্বারে
তোমার মায়ের মুখ, রাইফেলের প্রয়োজন তোমার ফুরোতো,
তুমিও মত বদলে বলতেঃ এভাবে আর
খুঁজে পাওয়া যাবে না কারো পরিচয়।
***
অবরোধ হলো প্রতীক্ষার কাল
অপেক্ষা হেলানো সিঁড়িতে বসে, বিক্ষুব্ধ ঝড়ের মাঝে।
***
একা, আমরা সবাই একা, তলানির মতো নীচে পড়ে
যদি না পাই সেই ইন্দ্রধনু অবকাশ।
***
এই চক্রবালের ওপারে আমাদের ভাইয়েরা আছে।
শ্রেষ্ঠ ভাইয়েরা। যারা আমাদের ভালোবাসে। তারা দেখে আর কাঁদে।
তারপর কানে কানে, একে অন্যকে বলেঃ
“আহা, যদি ঘোষণা আসতো এই অবরোধ…” তারা শেষ না করতেইঃ
“আমাদের পরিত্যক্ত করো না, আমাদের ছেড়ে যেওনা”।
***
আমরা হারাচ্ছিঃ প্রতিদিন দুই থেকে আট জন শহীদ
আরো দশজন আহত।
আরো বিশটা বাড়ি।
আরো পঞ্চাশটা জলপাই গাছ…
যুক্ত হয় এই নিরন্তর ধ্বংসের মাঝে
যুক্ত হয় কবিতায়, নাটকে আর অসমাপ্ত ক্যানভাসে।
***
মেঘের কাছে এক নারীর আকুতিঃ জড়িয়ে ধরো আমার প্রিয়তমকে
আমার সারা দেহ যে তারই রক্তে স্নাত।
***
প্রিয়, তুমি যদি বৃষ্টি না হও
তবে বৃক্ষ হও
ফলদ সন্তষ্টিতে, বৃক্ষ হও
প্রিয়, তুমি যদি বৃক্ষ না হও
তবে পাষাণ হও
আর্দ্রতার সম্পৃক্তিতে, পাষাণ হও
প্রিয়, তুমি যদি পাষাণ না হও
তবে চাঁদ হও
ভালোবাসার নারীর সুখস্বপ্নে, চাঁদ হও
[পুত্রের জানাজায় তার প্রতি এক মা]
***
হে প্রহরী, তোমায় কি ক্লান্ত করেনি
আমাদের জন্য প্রতিদিনের মরুপ্রতীক্ষা
আর আমাদের ক্ষতের মধ্যে জেগে উঠা বিকীর্ণ গোলাপ
হে প্রহরী,তুমি কি ক্লান্ত নও।
***
এই অসীম নীলের একটুকু ছোঁয়া
লাঘব করে দিতে পারে
এই সময়ের ভার
ধুঁয়ে দিতে পারে
এখানকার পাঁক।
***
কোথায় সে অস্তিত্ব, শীর্ষপতনের পর
নেমে এসে কোমল পায়ে
আমার পাশাপাশি, হাতে হাত, ঠিক যেমন, পুরানো
দুই সখা, যারা পবিত্র রুটি ভাগ করেছিলো
আর সেই পুরাতন পানপাত্রে সুরা
আবার এই পথে আমরা হেটে যাবো
এর পর আমাদের দিবসের দুটি ভিন্ন অস্তাচলেঃ
আমি রয়ে যাবো অন্তরালে, আর সে
ফিরে দখল নেবে তার পর্বতচূড়ায়।
***
আমার ধ্বংসের উপর বিম্বগুলি আহরিৎ
নেকড়েটা ঢলে পড়ে আমার ছাগলের গায়ে
আমারই মতন সেও স্বপ্ন দেখে, ফেরেশতারাও তেমনি
জীবন এখানে…ঐখানে নয়।
***
এই অবরোধের সময়ে, কাল স্থানে বদলায়
আবদ্ধ অসীমের ইন্দ্রজালে
এই অবরোধের সময়ে, স্থান কালে বদলায়
অতীত আর ভবিষ্যতহীন সময়।
***
শহীদের আত্মা আমাকে ঘিরে ধরেঃ প্রতিবার যখন আমি একটা নতুন দিনে পার করে যাই
আর আমাকে প্রশ্ন করেঃ কোথায় তুমি? অভিধানে ফিরিয়ে নাও
সব শব্দ যা আমাকে দিয়ে ছিলে
প্রতিধ্বনির কোলাহল থেকে নিদ্রিতকে মুক্তি দাও।
***
শহীদের আত্মা আমাকে আলোকিত করেঃ দিগন্তের ওপারে
আমি তাকাই নি
আমি যে ভালোবাসি জীবন, অমরত্বের সৌকুমার্য
আর এই পৃথিবীর উপর ডুমুর আর পাইনের গাছ
কিন্তু আমি তাকে ছুতে পারি না, তবু আমার শেষ সম্বলটুকু নিয়ে সেই লক্ষ্যে ছুটিঃ নীলিমার মতো প্রবাহিত শোণিতধারায়।
***
শহীদের আত্মা আমাকে সতর্ক করেঃ তাদের উচ্চকিত উচ্চারণে বিভ্রান্ত হয়ো না,
বিশ্বাস করো আমার পিতাকে, কান্নার সময়, আমার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকেন
কিভাবে আমরা বদলেছি চরিত্র, হে পুত্র, আমার আগে কিভাবে চলে গেলে
আমি আগে, আমিই প্রথমে।
***
শহীদের আত্মা আমাকে ঘিরে ধরেঃ আমার বাসস্থান আর অযত্নের আসবাব, যা কিছু আমি বদলেছি
বিছানায় একটা গজলা হরিণ
আঙুলের উপর রেখেছি শুক্লপক্ষের নতুন চাদঁ
বেদনার শমতাকাঙ্ক্ষায়।
***
এই অবরোধে শেষমেশ আমরাও পরিপূর্ণ স্বাধীনতায় মেনে নেবো এক উদার দাসত্ব!
***
প্রতিরোধ হলো আপনার স্বস্থ হৃদয়ের আশ্বাস
অণ্ডকোষের স্বাস্থ্য আর তোমার প্রনিধানযোগ্য ব্যাধিঃ
কামনার ব্যাধি।
***
আর যতটুকু বাকী থাকে ভোরের, আমি হেটে যাই আমার বাইরে
আর যতটুকু বাকী থাকে রাত্রির, আমি শুনি আমার ভেতরের পদধ্বনি।
***
অভিবাদন তাদের যারা আমারই মতন অপেক্ষা করে
তীব্র মদিরতাময় আলোর, প্রজাপতির পাখায়,
এই সুড়ঙ্গের অন্ধকারের ভিতর।
***
অভিবাদন তাদের যারা আমার সাথে পানপাত্র ভাগ করে
শুণ্যতাকে দ্বিধাভক্ত করে পার হওয়া ঘনীভূত রাতঃ
অভিবাদন আমার অশরীরী আত্মাকে
***
আমার বন্ধুরা সর্বদা আমার বিদায় ভোজের প্রস্তুতি নিচ্ছে
ওক গাছের ছায়ায় প্রশান্তির সমাধি
সময়ের মর্মরে রচিত এপিটাফ
আর আমিও সর্বদা তাদেরকে জানাজায় দেখতে চাই
তাহলে কে মরেছে...কে?
***
কবিতা হলো একটা কুকুরের বাচ্চা, শুণ্যতা কামড়ায়;
কবিতা হলো শোণিতহীন আঘাত।
***
আমাদের কফির পেয়ালা, পাখি আর হরিদ্বর্ণ বৃক্ষ
নীলাভ ছায়ার নীচে, গজলা হরিণের ন্যায়
খেলা করে সূর্যটা, এ দেয়াল থেকে ও দেয়ালে
মেঘের নীহারবিন্দুগুলি আছে ঠিক সেই,
অনন্ত আকাশের যতটুকু বাকী আছে আমাদের জন্য।
আর যা কিছু বাকী আছে প্রলম্বিত অনুধ্যানে
বলে দেয় - এই সকালটা কত প্রবল, অনবদ্য;
আর আমরা মহাকালের সঙ্গী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28835405 http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28835405 2008-08-27 01:23:25
সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্যঃ তেল, জল, আলো...
শিরোনাম হল, "সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্যঃ তেল, জল, আলো..."। প্রথমে, সাম্রাজ্যবাদ কি জিনিস? তাত্ত্বিকভাবে পুঁজিবাদ তার একচেটিয়া অবস্থায় পৌছানোর আগেই এই অবস্থায় পৌছানোর কথা। সাম্রাজ্যবাদের সহায়ক সমরবাদ। গত একশত বছর ধরে ব্রিটিশ নৌবাহিনী আর মার্কিন সেনাদের যত্রতত্র ঢুকে পড়া, সারা পৃথিবীকে নিজের মনে করার আগ্রাসী মনোভাবে সাম্রাজ্যবাদ না হোক সমরবাদ কি জিনিস টের পাওয়া যায়। কিন্তু কি চায় এই সাম্রাজ্যবাদ? সাম্রাজ্যবাদ আসলে সবকিছু চায়। পুঁজিবাদ যেমন সবকিছুকেই পণ্য করে ফেলতে চায় তেমনি সাম্রাজ্যবাদ চায় না এমন কিছু নাই, আর সামরিক শক্তির সুবিধা নিয়ে সে যা চায় তার প্রায় সবকিছুই করায়ত্ত করে ফেলে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে ব্যাপারটা স্পষ্ট হবে। ২ টা বিশ্বযুদ্ধ কারা করল? কেন হ্ল? ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী গুটিকয়েক দেশ, জাপান আর নব্য আমেরিকার জ্বালায় ঘুম নষ্ট হয় এশিয়া, আফ্রিকা আর ল্যাটিন আমেরিকার বেশিরভাগ শান্তিকামী মানুষের। একবার চাইলো তো মিশরের কাছ থেকে "সুয়েজ খাল" নিয়ে নিতে, আরেকবার জোর করে "ইসরায়েল" বানালো, যখন তখন একে ওকে হুমকি, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া আক্রমণ, তেলের জন্য ইরান, ইরাকে বহু চক্রান্ত, ইত্যাদি ইত্যাদি। বরাবরের আক্রমণের লক্ষ্য কিন্তু হয় এশিয়া নয় আফ্রিকা নয় ল্যাটিন আমেরিকা। সমরাস্ত্রের ব্যবসার জন্য দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধাতেও বাধে না এদের। মনে করে দেখুন ইরাক-ইরান যুদ্ধের কথা, অথবা আফ্রিকার দেশগুলিতে সবগুলি গৃহযুদ্ধ।

২০০০ সালের কথা। বলিভিয়াতে ঘটে এক অভিনব ঘটনা। লা পাজ থেকে ৪০০ কিমি দক্ষিণপূর্বের কোচাবাম্বা উপত্যকার রাজধানীতে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচুতে থাকায় সেখানে জলের পাম্পগুলিতে তেমন চাপ ছিলনা, ফলে জলের সরবরাহে বেশ সমস্যা হত। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক ও আই এম এফ এর পরামর্শে নয় লক্ষাধিক জন অধ্যুষিত ঐ শহরে জল সরবরাহের দায়িত্ব ঔপনিবেশিক কায়দায় চালিত সরকার দিয়ে দেয় একটি প্রাইভেট কোম্পানীকে। মজার শুরু ওখান থেকেই। দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল আমেরিকা, ইতালি আর স্পেনের তিন কোম্পানীর যৌথ মালিকানাধীন আগাস ডেল টুনারি নামের এক কোম্পানিকে। সে প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পাবার সাথে সাথেই স্থানীয় সকল প্রকার জলের উৎসের উপর খবরদারি করা শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে। জলের দামের বৃদ্ধি করা হয় এবং একেকটা পরিবায়ের মোট ব্যায়ের এক তৃতীয়াংশের মত খরচ হতে থাকে জলের পিছনে।


একেবারে দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের অবস্থা হয় ভয়াবহ। এমনকি মহল্লাগুলির মধ্যে স্থানীয়ভাবে অধিবাসীরা যেসব কুয়া/ ইদাঁরা স্থাপন করেছিলো সেগুলির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। সবচেয়ে হাস্যকর ও নির্মম অধ্যাদেশ ছিলো, ওখানে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।


ফলাফল আর কি? জলের অপর নাম জীবন, আর তাই জীবনের জন্য যুদ্ধ বা বিদ্রোহ। বলিভিয়ানরা এটার নাম দিয়েছিলো "water war"। যতই যুক্তিসঙ্গত আন্দোলন হোক আর কর্তৃপক্ষ বা জনগনের বিপক্ষের সরকারের দাবি যতই ভুয়া হোক, এসব আন্দোলন এত সহজে সফল হয় না। আর কিছু মানুষকে এগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েও বোঝানো যায় না। আর্মি গুলিও ছুড়েছিল ঐ আন্দোলনে। শেষে অবশ্য সরকার বাধ্য হয় ঐ কোম্পানীর সাথে চুক্তি বাতিল করতে। আই এম এফ আর ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক যে দরিদ্র দেশের কোন ভালো চায় না এ ব্যাপারটা নিশ্চিত।


গত কয়েকমাস ধরেই আমাদের দেশে এক বিজ্ঞানীর কথা শুনে আসছি যিনি বিনা খরচে বিদ্যুত উৎপাদনে করবে এমন এক যন্ত্রের উদ্ভাবন করেছেন। অভিনন্দন তাকে। আমাদের দেশের মত দরিদ্র দেশের জন্য সামনের দিনে জ্বালানী ও অন্যান্য মাধ্যমে শক্তির সংকট দেখা দিবে এটা নিশ্চিত, এ ধরণের আবিষ্কার তাই আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। আরো বছর খানেক আগে প্রথম আলোতে আমাদের দেশের এক তরুন বিজ্ঞানী শাহরিয়ারের খবর পাই যিনি জার্মানীতে সৌর শক্তির উপর গবেষণা করেন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। আমাদের দেশের জন্য এবং ভবিষ্যতে সমগ্র পৃথিবীর শক্তির উৎস হতে পারে সরাসরিভাবে এই সূর্যালোক।

ব্লগার কৌশিকের ব্লগে ব্লগস্টোরি ২০৩৬ পড়ছিলাম। মনে হল ততদিনে নিশ্চয়ই আমাদের সারা দেশ সৌর শক্তির রূপান্তরের মাধ্যমে শক্তির চাহিদা মেটাবে। সাথে সাথেই একটা ভয় ঢুকে গেল। প্রযুক্তির সব কিছুই তো সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলির হাতে। সে ক্ষেত্রে আমাদের মতো দরিদ্রদেশগুলি কি সৌরশক্তিও ঠিক ভাবে পাবো? হয়ত দেখা যবে আকাশের একটা অংশের উপর কব্জা বসাচ্ছে আমেরিকা বা তখনকার সাম্রাজ্যবাদের অধিপতিরা। আকাশকে প্রয়োজনে এরা ঢেকে দিতে পারে, এদের উপর বিশ্বাস নেই। তখনও হয়ত একদল বলবে, ঠিকই তো আছে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনেই করা হচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমাদের সাবধান হবার সময় এখনো শেষ হয়ে যায় নি। শুনেছি আমাদের সমুদ্রও কেড়ে নেবার একটা পায়তার করছে সাম্রাজ্যবাদীরা, আর এটার সাথে আমাদের প্রতিবেশী ও তথাকথিত বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের হাতও আছে। সাম্রাজ্যবাদ আর কি কি নিবে? তেল, জল, আকাশ, সমুদ্র, আর কি? হয়ত একদিন বলবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেবার জন্যও টাকা লাগবে। সে দিন যাতে আমরা না দেখি, সে কামনায় রইলাম।

ধন্যবাদ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28827994 http://www.somewhereinblog.net/blog/swakkharblog/28827994 2008-08-06 14:14:30