আমার দেখা ক্যাম্পাস রাজনীতি পর্ব-১ আওয়ামী লীগের ক্ষমতা শেষ হওয়ার মাস ছয়েক বাঁকি,হল ছাত্রলীগের সেক্রেটারী বেশ বেপরোয়া অযথাই সাধারন ছাত্রদের উপর চড়াও হতো,চড় থাপ্পর দেওয়া রীতিমতো বদভ্যাসে পরিণত হলো তার যেন পায়ে পানি ছুঁয়না ।একদিন শাহ আলমকে ডেকে নিয়ে তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালায় কপাল ফেটে রক্ত পড়তে লাগলো হলের দুএকজনের সাহায্যে শাহ আলমকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলো, ছয়টি সেলাইয়ে ছেয়ে গেলো কপাল কিন্তু কেন সে মার খেলো জানেনা ।আমি তাকে জিঙ্গেস করেছিলাম কেন এমন হলো?সে বললো আরে ভাই এসব জিগাইয়া লাভ আছে,ঊনারা পাওয়ার পলিট্রিক্স করে,ইচ্ছে হলেই যখন তখন যেই কাউকে মারতে পারে কোন কারন লাগেনা ।মাথাটা নিঁচু হয়ে গেলো শাহ আলমকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা ছিলনা!ঘটনার অনেকদিন পর শাহ আলম কথায় কথায় আমাকে বললো,ভাই আমি মার খেয়েছিলাম কেনো জানেন,আমার অপরাধ হলো সেক্রেটারীকে দেখে সালাম দেইনা আর প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে রাখি ব্যস!এই নেতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো হলে গাঁজার আসর বসানো সিনিয়র জুনিয়র মিলে গাঁজা খাওয়া মদ খাওয়া,আশে পাশের এলাকা থেকে উপলক্ষ ছাড়াই চাঁদা সংগ্রহ করা ।কিন্তু হল কর্তৃপক্ষ বরাবরের ন্যায় নীরব থাকতো!হলে বাহির থেকে খারাপ মেয়েদেরকে নিয়ে আসতো কেউ কিছু বলতে পারতোনা ।আমার কাছে বিষয়গুলো আজব লাগতো!একদিন ঐ নেতা সাব চড়া হলেন আমার উপর ,আমার অপরাধ আমার রুমে হলের ছেলে পেলে যায়,এক চোট নিয়ে নিলো আমার উপর,তুই কি হলের বাপ মা তোর কাছে এতো লোক যায় কেন?এতো আড্ডা কিসের,নন-পলিটিক্যাল হইয়া পলিটিক্যাল ছেলে পেলের মতো চললে হাড্ডি গুড়া কইরা পেকেটে ভরে বাড়িত পাঠাইয়া দিমু আমি সেদিন কিছু বলতে পারিনি কেবল হজম করেছি যদিও হজম করতে কষ্ট হয়েছিল ।পরাজিত সৈনিকের মতো সেদিন পালিয়ে এসেছি,হল কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানাতে চেয়েছি কিন্তু সিনিয়রদের নিষেধে করা হয়ে উঠেনি,সিনিয়ররা বললো খামাকা ঝামেলায় জড়াইয়া লাভ নেই,পরে ভেবে দেখলাম আসলেই তাই!ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত কতো ঘটনাই ঘটতেছে কই কোন প্রতিকারতো নেই।ওর রুম বরাবর আমার রুম হওয়ায় ওকে দেখলেই একটা করে গালি দিতাম প্রতিবাদস্বরুপ ।আমি এতো বেশি শক্ড হয়েছিলাম যে বিষয়টা ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রিয় নেতাকে বলেছিলাম কারন ঐ নেতা সম্পর্কে আমার আত্নীয়,ঐদিন ঘটনা শুনার পর ভালোমন্দ কিছুই বললোনা,কেবল একটা দীর্ঘোশ্বাস ছেড়ে উঠে গেলেন।বেশ কিছুদিন পর তৎকালীন ক্যাম্পাস সভাপতি আমাদের হলের ঐ নেতাকে নিয়ে আমার রুমে এসে ক্ষমা চেয়েছিলেন,পরে বুঝলাম সেন্ট্রাল থেকে নিশ্চয়ই কোন চাপ ছিল ।তারপর অবশ্য ঐ নেতা আর কোন ঝামেলা করেনাই।১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিশাল শো ডাইন হলো সেন্ট্রাল নেতৃবৃন্দও সেদিন যোগ দিয়েছিল,মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তৃতা দেবার পালা,এক পর্যায়ে গুনধর আমাদের হল সেক্রেটারীর পালা বক্তৃতার শেষ ফিনিশিংয়ে উনি কবির উদ্ধৃতি বললেন,তাই কবির কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই"আমরা শক্তি আমরা বল আমরা ছাত্রদল"ব্যস পুর সমাবেশে হাসির রোল পড়ে গেলো,স্টেজ থেকে দুজনে ধরে নেতা সাবকে পিছনে নিয়ে গেলো ।কি হয়েছিল পরে তৎক্ষনাৎ জানতে পারিনি ।সপ্তাহখানেক পরে নেতা সাবের হাতে ব্যান্ডেজ দেখে মনে হলো কার এতো সাহস ঐ লোকের গায়ে হাত তুলে!পরে অবশ্য জানতে পেরেছি ঐদিনের সমাবেশে ছাত্রদলের নাম বলাতে তার একটা হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে ।।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


