somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সাম্প্রতিক এমএলএম জোয়ার এবং ইউনিপেটুইউ
যেকোন এমএলএম এর প্ল্যানশোতে কখনো শুনবেন না লসের চান্স আছে। বরং ১১০% লাভ। কিভাবে? ১০০% কোম্পানীর লাভের গ্যারান্টি এবং বাকী ১০% যে পরিচিত ব্যাক্তি আপনাকে এমএলএম কোম্পানীতে ইনভাইট করছে সে লায়াবিলিটি নেয়ার ভান করবে। আপনার মনে চিন্তা আসবে তখন সাধারন ব্যবসায় লাভেরই ঠিক ঠিকানা নেই এখানে ১১০% লাভের সম্ভাবনা, অবশ্যই জয়েন করা দরকার। ব্রেন ওয়াশের ৬০% তখন শেষ। বাকি থাকে লোভ। সবারই কমবেশি লোভ রয়েছে। সবার মনেই সুপ্ত বাসনা থাকে তাড়াতাড়ি বড়লোক হতে। তারউপর যখন ১০ বছরে ৪০লক্ষ মানুষের মাঝে ১ জন ক্রাউন এম্বাসডার হয়েছে এবং এপার্টমেন্ট পেয়েছে বলে আপনাকে শো করবে তখন আপনি চিন্তা করবেন এত সোজা কাজে ১০ বছর লাগল কেন আর মনে মনে ডিসিশান নিবেন সামনের বছর এই কোম্পানী আরেকটা এপার্টমেন্ট বুক দিতে যাচ্ছে আপনার নামে। প্রাথমিক ভাবে এভাবেই ব্রেনওয়াশের কাজ হয়। লাভ আর লাভ এবং এপার্টমেন্ট মার্সিডিজ বেন্জের লোভ থেকেই এমএলএমে জড়িয়ে যান অনেকেই।

পরবর্তীতে কাজ করতে পারলে সময় নষ্ট, কাজ করতে না পারলে সময়টা বাচে। মানে আপনি কাজ করতে পারলে হয়ত ২ বছর লেগে থাকবেন এবং ফলাফল = ০। আর কাজ করতে না পারলে হয়ত ২ মাস লেগে থাকবেন এবং ফলাফল অবশ্যই = ০। অতএব দেখা যাচ্ছে কাজ করতে না পারলে বাকি ১বছর ১০ মাস আপনার সময়টা সেইভ হচ্ছে।

বর্তমানে ডেসটিনি টাইপ প্রথাগত এমএলএমের বাইরে আরো প্রচুর এমএলএম কোম্পানী আছে । এরা এমএলএম না বলে ইনভেস্টমেন্ট বলে। মানে একজনের নিচে আরেকজন জয়েন করানো, তার নিচের আরেকজন এভাবে। তাই বললাম এরা প্রথাগত এমএলএমের বাইরে। এদের মধ্য ইউনিপেটুইউ, ভিসারেভ, টিভিআই, স্পীকএশিয়া এগুলোর কথা শোনা যায়। আজ ইউনিপেটুইউ নিয়ে এখানে আলোচনা করব। তাদের ব্যবসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব, তাদের মত আমিও নিজে একটা প্ল্যান সাজাব এবং দেখব ফাইনালি কি হয়।

গোল্ড ইনভেস্টমেন্ট নামে ব্যবসা করা ইউনিপেটুইউতে গ্রাহককে একটা নূন্যতম পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করতে বলা হয় এবং প্রতি মাসে মাসে বিনিয়োগের ১০% করে মোট ১০ মাসে বিনিয়োগের ১০০% টাকা ফিরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু গ্রাহক টাকা ইউনিপেতে ধার দিলে এতে গ্রাহকের কি লাভ? লাভ হচ্ছে কোম্পানী গ্রাহককে বিনিয়োগের সমপরিমান টাকা ১০ মাসে ফেরত দিবে মাসিক কিস্তিতে । অর্থ্যাৎ কেউ এক লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে এরা মাসে
বিনিয়োগের ১০% = ১০ হাজার এবং
লাভের ১০% = ১০ হাজার মোট
মোট ২০ হাজার টাকা করে ১০ মাসে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে দিবে। এভাবে ১০ মাসে দ্বিগুন টাকার লোভে সবাই ইউনিপেতে বিনিয়োগ করছে এবং এ সংখ্যা দিনদিন বাড়ছেই।

ইউনিপেতে এটা হল শুধুমাত্র বিনিয়োগের ১০০% লাভ। আবার কেউ চাইলে রেফারেলের মাধ্যমেও আয় করতে পারে। যে বিনিয়োগ করেছে সে যদি আরো বিনিয়োগের লোক জোগাড় করতে পারে তবে ১০% রেফারেল কমিশন পায়। আবার ঐ বিনিয়োগকারী নতুন কাউকে জয়েন করালেও কমিশন পায়। এভাবে বাইনারী ট্রির মাধ্যামে আনলিমিটেড ইনকাম চলতেই থাকে।

এখন ইউনিপেটুইউ এর মত একটা উদাহরন দিই, ধরুন আমি একজন ধাণ্দাবাজ কিন্তু কেউ জানেনা। আমি এখন প্ল্যান করলাম মানুষের সাথে ধান্দাবাজি করে আমি অনেক বড়লোক হয়ে যাব। মানুষের ক্রম অনুসারে বোঝানোর সুবিধার্থে আমি ১,২,৩, এভাবে ডাকব এবং পুরো ধান্দাবাজী পর্ব টা ২ ভাগে বিভক্ত করব।

প্রথম পর্ব

প্ল্যানানুযায়ী একটা কোম্পানী খুললাম। আমার খুব পরিচিত একজন যার নাম ১। একদিন আমি ১ এর কাছে এসে বললাম আমার কোম্পানীতে টাকা বিনিয়োগ করলে আমি ১০ মাসে দ্বিগুন করে দেব। খুব পরিচিত হলেও নগদ টাকা বলে কথা তাই ১ বিশ্বাস করল না। কিন্তু তাকে আমি আমার ওয়েবসাইটে রকমারী তথ্য দেখিয়ে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করলাম। ১ তেমন ইন্টারনেট জ্ঞানী না হওয়ায় আমি ওয়েবসাইটে কি দেখালাম ভালমত বুঝলনা। যেহেতু সে আমার পরিচিত তাই ধরা যাক টাকা লেনদেনের বেলায় আমার উপর তার ৫ % আস্থা আছে। সেই ৫% আস্থার সৌজন্য সে খুব অল্পসংখ্যক টাকা আমার কোম্পানীতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হল যে টাকা মার গেলেও তার কোন ক্ষতি হবেনা। ধরা যাক সে টাকার পরিমান এক হাজার। মাসে দুইশ টাকা করে তাকে ১০ মাসে দুই হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দিলাম। এবার সে একটু হলেও বিশ্বাস করল কারণ

১.আমি তার টাকা মাসে মাসে সময়মত ফেরত দিয়েছি
২.পালিয়ে যাইনি।

এখন আমার উপর তার আস্থার বাড়ল। ধরা যাক সেটার পরিমান ২০% ।

এরপর আরেকদিন তাকে গিয়ে বললাম আমার কোম্পানীতে বিনিয়োগের সুযোগ টা এখনো আছে। ১০ মাসে দ্বিগুন। তুমি কি আগ্রহী? আমি যেহেতু তার একটু হলেও আস্থা অর্জন করেছি এবার সে বিনিয়োগ করতে খুব বেশি দ্বিধা করল না এবং বিনিয়োগের পরিমানটাও বাড়াল। ধরা যাক সে টাকার পরিমান ৫ হাজার। মাসে ১ হাজার টাকা করে ১০ মাসে তাকে ১০ হাজার টাকা আমি ফেরত দিয়ে দিলাম। এবারও সে উপরের কারনে আমাকে আরো বেশি বিশ্বাস করল। একই ভাবে আমার উপর আস্থাও আরো বাড়ল। ধরা যাক সেটার পরিমান ৪০%।

এতটুকুই প্রথমভাগ। এই প্রথমভাগে আমার কোম্পানীর লস কত দেখি।
১ম বারে সে আমাকে দিল ১০০০ আমি তাকে দিলাম ২০০০
আমার লস ১হাজার,
দ্বিতীয়বারে সে আমাকে দিল ৫ হাজার আমি তাকে দিলাম দশ হাজার
আমার লস ৫হাজার।
দুই বারে আমার লস ৬হাজার।


এখন ঘটনার ২য় পর্ব শুরু করলাম।

তাকে আরেকদিন গিয়ে বললাম আমার কোম্পানীতে বিনিয়োগের সুযোগটা এখনো আছে তুমি কি রাজী? সে বলল রাজী। তাকে বললাম এবার আরো একটা সুযোগ বেড়েছে। তুমি যদি কাউকে জোগাড় করে দাও যে আমার কোম্পানীতে তোমার মত বিনিয়োগ করবে তাহলে তার বিনিয়োগের ১০% তুমি সাথে সাথেই পাবে।

১ এবার আমার উপর ৪০% আস্থার কারনে বিনিয়োগের পরিমান বাড়িয়ে ১০ হাজার করল। এরপর তার এক বন্ধুকে (ধরি তার নাম ২) বলল আমি একটা কোম্পানীতে বিনিয়োগ করছি যেটা ১০ মাসে বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুন করে দেয়। আমি নিজে পাচ্ছি টাকা তুমি বিনিয়োগ করবে? ১ যেহেতু ২ এর অনেক পরিচিত এবং লাভ করছে সেহেতু ২ প্রাথমিক ভাবে কম টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল। ধরা যাক ৫ হাজার। আমি ৫ হাজারের ১০% ৫০০টাকা তৎক্ষনাৎ ১কে দিয়ে দিলাম। ফলে ১ আমার উপর রেফারেলের ব্যাপারেও আস্থা অর্জন করল তাই টোটাল আস্থা হল ৬০% (আগে ৪০% ছিল রেফারেলের ঘটনায় ২০% বেড়েছে)। ১ এই রেফারেলে টাকা পাওয়ার ঘটনা ২ কে বলল যে সে রেফারেলের টাকা পেয়েছে। ফলে ২ আমার উপর ২০% আস্থা অর্জন করল।

এবার ১ ও ২ দুজনেই রেফারেল বাড়ানোর দিকে মন দিল। এভাবে বাড়তে বাড়তে ৫০জন, ১০০জন, ৫০০ জন, ১০০০জন , ১০ হাজার জন করে করে বাড়তেই থাকল। আমিও সবার টাকা মাসিক হিসেবে দিতে থাকলাম। একসময় আমার কোম্পানীর উপর সবার আস্থাও ততদিনে ১০০%। সবাই তখন জমিজমা বিক্রি করে আমার কোম্পানীতে বিনিয়োগ শুরু করল। নতুন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের পরিমানও ততদিনে কোটি টাকায় ঠেকল। এরপরই শতশত কোটিটাকা নিয়ে আমি গায়েব হয়ে গেলাম।


ঘটনার কতগুলো উল্লেখ্য বিষয় -

সবার এককালিন বিনিয়োগের টাকার ২০% মাসিক কিস্তির টাকা হিসেবে আমি ঠিকমতই পরিশোধ করি, ফলে সবাই পরের মাস থেকে নতুন নতুন বিনিয়োগ কারী নিয়ে আসে। এভাবে আমার মুলধনও বাড়তে বাড়তে কোটি কোটি টাকা হয়ে যায়।

ধান্দাবাজীর শুধু ১ম ভাগ পর্যন্ত আমি লোকসম্মুখে ছিলাম এবং ১ই শুধু আমাকে চিনত। ২য় ভাগে আমি পুরোপুরি লোকচক্ষুর আড়ালে, কেউ আমাকে চিনে না। সবাই শুধু আমার একাউন্টে বিনিয়োগের টাকা জমা দেয়।

পুরো ব্যাপারটায় লোকসংখ্যা অগুনিত তাই কত টাকা ধান্দা করলাম আন্দাজ করা মুশকিল। বিনিয়োগকারীর সংখ্যা যদি কমপক্ষে এক লক্ষ হয় এবং প্রত্যেকে যদি কমপক্ষে এক লক্ষ টাকা করে বিনিয়োগ করে তবে মোট টাকার পরিমান দাড়ায় এক হাজার কোটি টাকা। আয় = ১ হাজার কোটি টাকা

ধরা যাক আমি চার মাস পরে পালিয়েছি। একলক্ষ টাকার মাসে ২০% = ২০হাজার করে ৪ মাস যদি আমি একলক্ষ বিনিয়োগকারীদের দেই তাহলে আমার খরচের পরিমান দাড়ায় ৮০০কোটি টাকা।
মানে ব্যায় = ৮০০ কোটি টাকা।

এরপর আমি পালালে ২০০কোটি টাকা আমার ধান্দা। যদিও আসল পরিমানটা আরো অনেক অনেক বেশি কারণ এক লক্ষ বিনিয়োগ কারী অবশ্যই একসাথে বিনিয়োগ করেনি। আর রেফারেল পদ্ধতিতে বাড়তে থাকবে ফলে প্রথম দিকে সবাই কম পরিমান বিনিয়োগ করবে এবং আস্তে আস্তে বেশি করে বিনিয়োগ করতে থাকবে। ফলে মাসিক ২০% যে টাকা দিতে হবে ওটা প্রথম দিকে কম দিতে হবে তাই এই উদাহরনে ৮০০কোটি খরচের টাকা প্রকৃত পরিমানের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও সব বেসম্ভব সম্ভব হলেও আমার ২০০কোটি টাকা নেট লাভ। বাকিটা আপনারা বুঝে নিন।


ফ্রিকোয়েন্টলি আস্কড কোয়েশ্চেনস FAQ

# আপনি আপনার উদাহরনে চার মাস পর্যন্ত সৎ থেকেছেন এরপর ভেগেছেন। ইউনিপে তো ৪ মাসের বেশি সময় ধরে আছে এখনো কেন ভাগল না?

উত্তর - ব্যাপারটা এমন নয় যে প্রথম মাসের বিনিয়োগকারী ব্যতীত নতুন বিনিয়োগকারী আসেনি। বরং বিনিয়োগকারীর পরিমানও দিনদিন বাড়ছে এবং বিনিয়োগের পরিমানও বাড়ছে। আর উপরের টোটাল ব্যাপারটা আমার একটা ফর্মুলা মাত্র যেটাতে কত ধান্দা। এই ফর্মুলাতে কত লাভ হতে পারে এটা আন্দাজের জন্য কতগুলো ধ্রুবক ব্যবহার ধরতে হয়েছে।
ধ্রুবক ১ ছিল - বিনিয়োগকারীর সংখ্যা যেটা আমি ধরেছি ১ লক্ষ, কিন্তু ইউনিপেতে এটা ধ্রুবক নয়, দিনদিন বাড়ছে।
আর ধ্রুবক ২ ছিল - বিনিয়োগের পরিমান যেটা আমি ধরেছি ১ লক্ষ এটাও বাস্তবে ইউনিপেতে ধ্রুবক নয়, ওখানে ৪২হাজার থেকে শুরু করে আপনার যত ইচ্ছা বিনিয়োগ করতে পারেন।
তাই আমার প্ল্যানে ভাগার জন্য চতুর্থ মাসটাই উপযুক্ত সময় ছিল। ইউনিপেতে যেহেতু দিনদিন পরিমান বাড়ছে ওদের প্ল্যানে ওরা যখন উপযুক্ত সময় মনে করে তখন ভাগবে।

# ইউনিপে তো এখন গ্রাহকদের মাসে মাসে ২০% দিয়ে দিচ্ছে। কখন ইউনিপে ভাগবে বলে আপনার ধারনা?

উত্তর - যতদিন আস্থা আছে ততদিন ব্যবসা করবে, কারণ আস্থা বৃদ্ধি মানে বিনিয়োগের পরিমানও বৃদ্ধি আর বিনিয়োগকারীও বৃদ্ধি। যদিও বিনিয়োগকারীদের মাসিক ২০% ফিরিয়ে দিতে হবে কিন্তু সেই গ্যাপটা নতুন বিনিয়োগকারী এসে পুরন করে দিবে। যখনই সাধারণ মানুষের মাঝে একটু অনুসন্ধিৎসু মনোভাব আসবে এবং সরকারও একটু আধটু নড়ার চেষ্টা করবে তখনই গা ঢাকা দেয়ার চমৎকার সময়।

# তার মানে কেউ ইউনিপেতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারবেনা?

উত্তর - যতদিন কোম্পানী টিকে আছে ততদিন লেনদেন চলবে। তাই কোম্পানী টিকে থাকলে অবশ্যই বিনিয়োগের টাকাটা দ্বিগুন তুলে নিতে পারবেন। প্রত্যোকটা পিরামিড এমএলএম স্কীমের মত, পিরামিডের উপরের দিকের গ্রাহক লাভবান হয় আর নিচের দিকে বিরাট সংখ্যক গ্রাহক ধরা খায়। আপনি যদি উপরের দিকের গ্রাহক মানে প্রথমদিককার গ্রাহক হতে পারেন তবে বিনিয়োগ ফিরে পাবেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sweetkissblog/29289442 http://www.somewhereinblog.net/blog/sweetkissblog/29289442 2010-12-14 13:18:05
ব্যবসা করবেন ব্যবসা? এমএলএম ব্যবসা? মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ের একটি চমৎকার উদাহরণ হিসেবে বলা হয় আপনি একটা পণ্য ব্যবহার করলেন এবং আপনার ভাল লাগলে সেটা অন্যজনকে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করলেন। যেমন একটা মুভি আপনার ভাল লাগল। সেটা আপনার বন্ধুকেও দেখতে বললেন। এভাবে পরোক্ষভাবে আপনি মুভিটির প্রচারণা / অ্যাডভার্টাইজ করলেন কিন্তু ঐ মুভির সংগে জড়িত কেউ আপনাকে কোন কমিশন দিলনা। কিন্তু মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ে আপনাকে একটা পণ্যর গুনগত মান অন্যকে প্রচার করলে বিনিময়ে ঐ পণ্যর মালিক আপনাকে একটি নির্দিষ্ট কমিশন দিবে। এতে আপনারও লাভ এবং পণ্য মালিকের লাভ। কিন্তু আপনাকে জোর করে যদি একটা নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে বলা হয় এবং ঐ পণ্য ভাল বা খারাপ যাই হোক জোর করে অন্যকে যদি বলতে বলা হয় পণ্যটি ভাল তবে?

সাধারণ বাজারে (ট্রাডিশনাল মার্কেটিং) যেসকল পণ্য বিক্রি হয় তা নিত্যব্যবহার্য যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্য থাকার কারণে মানুষ কিনতে পারে, কিন্তু মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ে এমন সব পণ্য বিক্রি করা হয় যা মানুষের জন্য কম প্রয়োজনীয়, অর্থ্যাৎ না কিনলেও চলে। যেমন বাংলাদেশের একটি এমএলএম প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রচলিত নাইজেলা নামক তেলের কথা বলা যায়। ঐ এমএলএম কোম্পানীতে ডিস্ট্রিবিউটরশীপ পেতে হলে যেকোন একটি পণ্য কিনতে হয়। প্রথমে নাইজেলা নিয়ে বলছি, ঐ প্যাকেজে নাইজেলা তেল দেয়া হয় ১০ বোতল (২৫০ মিলি: সম্ভবত)। ৫ বোতল খাওয়ার এবং ৫ বোতল মাখার। ১০ বোতলের দাম নেয়া হয় ৬০০০/ টাকা। প্রতি বোতলের দাম আসে ছয়শত টাকা করে। বাংলাদেশের মত গরীব দেশে ৬০০ টাকা দিয়ে একটা তেলের বোতল কেনার মতও মানুষের লোকের অভাব নেই। কারণ তাকে ডিস্ট্রিবিউটরশীপ পেতে হবে। আর অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ডিস্ট্রিবিউটরশীপ হতেও কিছু সংখ্যক মানুষ রাজী। কারণ ভবিষ্যতে বিরাট অংকের টাকা আয় করার সুযোগ। দশ বোতল তেলই কিনতে হবে প্রতি বোতল ৬০০ টাকা করে।এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় পন্য গ্রাহককে কিনতে বাধ্য করা সুস্পষ্ট প্রতারণা । আর মুহাম্মদ (সা) বলেছেন
"যে প্রতারণা করে সে আমার দলভুক্ত না "(মুসলিম ও তিরমিযি)


এমএলএম ব্যবসা যারা করেন তাদের একটা যুক্তি অহরহ দিতে শুনি বেকারত্বের সমস্যা। সরকার এবং প্রাইভেট কোম্পানীগুলো পর্যাপ্ত চাকরী দিতে পারছেনা। অনেকটা অসহায় হয়েই তারা এমএলএম ব্যবসা শুরু করেছে। আমার কথা হল যে ব্যক্তি বেকারত্বের জ্বালা বুঝে, সে নিশ্চয়ই টাকার মর্মও বুঝবে। কিভাবে তাহলে সে ৬০০ টাকা শুধু মাত্র একটা খাওয়ার / গায়ে মাখার তেলের পিছনে খরছ করে? তাও পাক্কা ১০ বোতল একসাথে কিভাবে কিনে? এ কোন ধরনের বিলাসিতা?

২। আরেকটা বহুল প্রচারিত প্রোডাক্ট হল গাছ বা ট্রি প্লান্টেশান। এখানেও রয়েছে বিশাল ধোকাবাজি। কেউ গাছের চারা কিনে ডিস্ট্রিবিউটর হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে তাকে কিনতে হবে ১৫ টি গাছের চারা। মূল্য ৫০০০/ টাকা। একটা চারা গাছের মূল্য পড়ে গড়ে ৩৩৩/ টাকা। চিন্তা করে দেখুন নার্সারীতে সাধারণত একটি গাছের চারা কত হতে পারে? ২০? ৩০? ৪০? ৫০? অথচ মাল্টি লেভেল মার্কেটিংয়ে একটি গাছের চারা কিনতে হচ্ছে তিনশত তেত্রিশ টাকা দিয়ে। তাও আবার ১৫ টা চারা একসাথে কিনতে হবে। এখানেও জোর করে অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা উক্ত এমএলএম কোম্পানী বনায়ন করে দেশের পরিবেশ রক্ষা করছে বলে মিথ্যা দাবি করছে। এটাকে কোনমতেই বনায়ন বলা যাবেনা। কারণ এখানে দেশের ও পরিবেশের স্বার্থ নেই, রয়েছে ব্যবসায়িক স্বার্থ। ১২ বছর পরে ঠিকই গাছগুলো কেটে ফেলা হবে। এই বনায়ন জিনিসটা একটা ব্যবসায়িক উসিলা মাত্র যেটা দিয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করা যায়।

৩। আরো কিছু প্রোডাক্ট রয়েছে যেমন ফুট ম্যসেন্জার, হেলথ বড়ি, ইত্যাদি ইত্যাদি। যেসবের ট্রাডিশনাল মার্কেটের প্রাইস সম্পর্কে গ্রাহকের কোন ধারণাই নেই। ফলে ইচ্ছামত দাম সেট করে এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। এখানেও গ্রাহককে অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য (যেটার দাম সম্পর্কে গ্রাহক অজ্ঞাত ) কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

মুহাম্মদ (সা) বলেছেন :
"পণ্যের মূল্য সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান নেই এমন লোকের কাছে উচ্চ মূল্যে পণ্য বিক্রি করা নিঃসন্দেহে এক প্রকার জুলম।"
(ইবনে রুশদ, আল কাওয়ায়েদ, পৃষ্ঠা ৬০১)

আর হাজার হাজার টাকা খরচ করে যে ব্যক্তি পা মেসেজ করাতে পারে তার মুখে বেকারত্বের কথা মানায় না।

৪। বর্তমানে নতুন একটি গুজব শুনছি। ২০১২ সালের মধ্য বেকার দূর হবে । সবাই ৫০৪০০/ টাকা করে মাসে ইনকাম করবে। ৫০৪০০ টাকা মাসে ফিক্সড ইনকাম করতে হলে একটা পজিশনে যেতে হয় যেটার নাম ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ। কথা হচ্ছে ঐ কোম্পানীতে ওদের ভাষ্যমতে ডিস্ট্রিবিউটর আছে ২৫ লাখ+। কিন্তু বর্তমান ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ ৪০ এর ভিতরে। মানে ২৫ লাখের মাঝখানে ৪০ জন একটা পজিশনে যেতে পেরেছে। আর এই ৪০ সংখ্যায় আসতে সময় লেগেছে ৯ বছর। কিভাবে আর ২ বছরের মধ্য ওরা প্রায় ১ কোটি বেকার দূর করে তাদেরকে ৫০৪০০ টাকা ইনকাম করাবে ? আশা সেতো মরিচীকা!

৫। ট্রাডিশনাল মার্কেটিং সিস্টেমে পণ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত আসার মাঝখানে বিভিন্ন শ্রেণীর সুবিধাভোগী থাকেন। যেমন
উৎপাদক → এজেন্ট → পাইকার → খুচরা বিক্রেতা → ভোক্তা।

আর মাল্টিলেভেল মার্কেটিং সিস্টেমের নিয়ম অনুযায়ী পণ্য উৎপাদক থেকে সরাসরি ভোক্তার হাতের নাগালে চলে আসবে। মাঝখানে কোন মধ্যস্থতাকারী থাকতে পারবে না। এভাবে হলে পণ্যর দামও কমে যাওয়ার কথা। কারণ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর হস্তক্ষেপে ট্রাডিশনাল মার্কেটিংয়ে দ্রব্যমূল্য যায় যেটা এমএলএমে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আসলেই কি নেই? তাহলে একটা সাধারণ তেলের বোতলের দাম কেন ৬০০ টাকা হবে? বড়জোর ৩০০ টাকা হতে পারে সর্বোচ্চ। তাহলে বাকী ৩০০ টাকা আমি কাকে দিলাম? এভাবে পাবলিককে ধোকা দেয়া হচ্ছে।

একটি জিনিস খেয়াল করবেন এমএলএম সিস্টেমে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়না। কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মানুষের জানা। তাই এসব জিনিসপত্রে এভাবে ডাকাতি করা সম্ভবনা। যেমন চাল, ডাল, ময়দা ইত্যাদি।

৬। আমরা বাংলাদেশে একটা রীতি দেখি। সেটা হল ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনের রীতি। বিভিন্ন সরকারকে বছরে বছরে বিভিন্ন প্রজেক্টের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করতে দেখি কিন্তু সে অনুপাতে প্রজেক্ট গুলোর আলোর মুখ দেখিনা। সেরকম কিছু প্রজেক্ট বাংলাদেশী একটি এমএলএম কোম্পানীও নিয়েছে এবং বরাবরের মত ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনেই সীমিত আছে। (কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুধু জায়গার ছবি দেখেই সন্তুষ্ট থাকুন)।


টুইন টাওয়ার /<img src=" style="border:0;" />



শপিং মল /<img src=" style="border:0;" />



বিভাগীয় কার্যালয়ের জমি



২২ তলা ভবন <img src=" style="border:0;" />



ভিত্তি প্রস্থর <img src=" style="border:0;" />



সাইনবোর্ড



বড়লোকদের জায়গা



৫০ তলা বিল্ডিং মিরপুরে <img src=" style="border:0;" />




৭। আরেকটা পয়েন্ট যেটা মুল পোস্টে দিতে ভুলে গিয়েছি ***

৭। একটি বাংলাদেশী কোম্পানীতে ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ হলে পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয় একটা নোয়াহ গাড়ি। কিছুদিন আগে কোম্পানীটির একজন (রাজীব মিত্র) ডায়মন্ড হলে সেলিব্রেশন পার্টির আয়োজন করা হয় চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে। বিশাল আয়োজন। একটি টিভি চ্যানেল (বৈশাখী টিভি) সরাসরি সম্প্রচার করে অনুষ্ঠান টি।

উপস্থিত অতিথির সংখ্যা ছিল ওদের হিসাবমতে প্রায় ২৫ হাজার। প্রত্যোক অতিথিকে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়েছিল। টিকিটের দাম কত হতে পারে আন্দাজ করুনতো? ৫০০ টাকা। ৫০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আরেকজনের সেলিব্রেশনও দেখতে পারেন তথাকথিত এককালের বেকাররা।

আমার কথা হল অতিথি সংখ্যা যদি ২০ হাজার ধরি এবং টিকিট মূল্য ৫০০ হলে মোট আয় হয় এক কোটি টাকা। একটা নোয়াহ গাড়ির দাম কত? ২০ লাখ? অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ কত খরচ হতে পারে? ৩০ লাখ? বাকি ৫০ লাখ টাকা কই গেল?

এরকম ২ নাম্বারি করে প্রতিটা ডায়মন্ডকে একটা নোয়াহ গাড়ি উপহার দেয়া কি কষ্টসাধ্য কিছু?

সবচেয়ে বড় কথা অতিথিদের টিকিটের টাকা দিয়ে আরেকজনকে গাড়ি কিনে দেয়া, অতিথিদের টাকায় আরেকজনের সেলিব্রেশন দেয়া!



সব শেষে বলব, ব্যবসা করবেন বুঝে শুনে বিনিয়োগ করবেন। কোন লোভ করে নয়। কারণ লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।

(আমার বন্ধুদের বেশীরভাগই এখন ব্রেন ওয়াশড। আমাদের সার্কেলে একমাত্র আমিই এখনো এমএলএম করিনা। পোস্টটি সেইসব ব্রেন ওয়াশড বন্ধুদের উৎসর্গ কৃত।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sweetkissblog/29088722 http://www.somewhereinblog.net/blog/sweetkissblog/29088722 2010-01-31 05:45:35