জাহেদ আহমদ কবিতা লিখেন তাঁর নিজস্ব ধ্যান-ধারণা-উপলব্ধি-অভিজ্ঞতা-অর্থব্যঞ্জনায় ঢং-রঙ মিশিয়ে, নানান বিকাশ বৈচিত্রের ঘোরে তাঁর কবিতাকে হাঁটতে শিখান ত্রিকালদর্শী পথে। তাঁর কবিতা পাঠের সবচে’ ভাল লাগার নানাবিধ ভ্রম হচ্ছে চারপাশ থেকে তুলে আনা বাস্তবতার চুড়ান্ত রূপ যেন চোখে চোখে হাসে… যা পাঠককে টেনে রাখার প্রধান মন্ত্র… শার্পটান। তাঁর কবিতায় সুর-ছন্দ-ধ্বনি পাঠককে ভাবায়, ছন্দ যে কবিতার প্রাণ, সুর যে কবিতার ভাব, তাঁর কবিতা পাঠককে সে বিষয়-বস্তুর ভেতর দোলায়, কবিতার ভেতরের গল্প পাঠকের আরো কাছে টানে। শব্দনির্মাণ, শব্দনির্বচন, শব্দবুননে সিদ্ধহস্ত নিভৃতচারি ও প্রচারবিমূখ এ প্রতিভাবান কবি শূন্যদশক শুরু থেকে অনবরত লিখছেন, লিটলম্যাগে তার কবিতা ছাপানোর অনীহা প্রখট। তাঁর জবানি ‘যা লিখি নিজের জন্য লিখি, তা আজো কবিতা কি-না সন্দেহ, সে সংশয় থেকে কোন লিটলম্যাগ সম্পাদককে কবিতা পাঠিয়ে বিব্রত করতে চাই না; আরো কিছু দিন লিখি ভাল লিখলে ছাপতে দেব।’
লিটলম্যাগ খোয়াব, জারুল, উজানগাঁ, অর্কিড ছাড়া আর কোথাও তাঁর লেখা চোখে পড়েনি।
শূন্য দশকের প্রতিভাবান এ কবিকে সংকলনবন্ধি করেছেন- সোহেল হাসান গালিব সম্পাদিত প্রথম দশকের নির্বাচিত সংকলনে, এবং অনন্ত সুজন সম্পাদিত প্রথম দশকের নির্বাচিত কবি ও কবিতা সংকলনে।
শূন্য দশকের নিভৃতচারি ও প্রচারবিমূখ প্রতিভাবান কবি জাহেদ আহমদ-এর আমার ভাললাগা
৫টি কবিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
কবিতা নিয়েই সারাক্ষণ নিজের বোধের ভেতর এক ধরণের নৈঃশব্দিক স্পর্শ অনুভব করি। হাতের কাছে, চোখের সামনে যা পাই পড়ি। ভাল লাগে আনন্দ পাই। ক্লান্তি আসে… কবিতার ভবিষ্যত ভাবনা আমার তেমন নেই, কবিতা পড়তে ভাল লাগে তাই বারবার পড়তে ইচ্ছে জাগে। কবিতা গুলো
আপনাদের ভাললাগা, না-লাগাটুকু বলুন; আর আমি পাঠ করি অশোক মিত্রের- কবিতা থেকে মিছিলে
পা
কারো কারো পায়ের গোছায় সহসাপ্রকাশ দেখে
রোপিত ধানের চারা নিয়ে মনে বেশ আশা জাগে
আর ভাবি এইবার ত্বরাত্বরি বর্ষা এসে যাবে
স্বীকারোক্তি
আর আমি রোদে ভিজি
বৃষ্টিতে পুড়ি
জ্বর হলে ফুরফুরে থাকে খুব
মেজাজ শরিফ
পাখি দেখলে বেড়ে যায় হৃদকম্পন
পাতার সুরতে কল্পনা করি
প্রেমিকার অবয়ব
আর যারা মাতৃভাষা ভুলে গিয়ে
ব্রজবুলি শেখে
শবেবরাতে তারা দেখি বহুত কামিয়াব
ছেঁউরিয়া যাইনি কভু
তবু আমি লালনের চ্যালা
কোন গুপ্ত ইশারায়
পরিচিত পাখিটিকে ডাকি রোজ
কায়মনে তসবিদানায়
তুক্কুত্
তুক্কুতধ্বনি দিয়ে দিয়ে
মুখে ফেনা উঠে এলো
খুঁজে তো আসে না তবু
চিমটি-কাটা কিশোরী কোনো ফ্রক কি’বা
আধা-পাতলুন পরিহিত
পরানশত্তুর মম থুতু-নিক্ষেপক
ক্ষণে ক্ষণে বাঁশঝাড় ছড়াতেছে শুধু
আরো কিছু নিঝুম পালক
দৃশ্যপটে আজ খালি
কামজ কামিজ আর ত্বকচিপা পুরো-পাতলুন
আমি কাকে ডাকি?- নিসর্গ নিঃসাড়া
খানিক বাদেই শুরু হবে ঝিঁঝি-জপ
বাঁশবন বেষ্টনী দিয়ে নামবে শাদা জ্বিন-পরী
-ঘনায়মান তাতিবের ওয়াক্ত…
ও ফ্রক, ও হাফপ্যান্ট
আমি এইখানে!
বালিশ
এত যে বৃষ্টির দিগদারী
এই টিনশেড ঘরে
আমি তন্দ্রাছেঁড়া তন্ময়তায় শুনি
পাশ-বালিশের গান
তার চোরা অভিমান
চৈত্রে ওড়া পেঁজা-পেঁজা শিমুল-শৈশব
মাঝে মাঝে আমিও শোনাই তাকে
মর্ম থেকে তুলে এনে
দুটো-একটা তীর
বর্ম পরে বসে-থাকা বন্ধুদের মুখ
আর আলগোছে ঘাড় তুলে চেয়েছিল
-ঘুমপাখি, পাতাচোখ
বর্ষা
রোজ দেখি মেয়েটিকে
আমাদের আঙিনায় ঝরে
অন্ধ ভালো বোঝে তার নৃত্য-তৎপরতা
তার মুদ্রা কদমের গোল ঘিরে-থাকা
মৃদুদেহ শাদা বর্শাফলা
আর তার তোড়া-তোড়া কথা- কথামালা
যেন জগজিৎ-চিত্রার জগৎ, গান
ঢুকে পড়ে কুহরে কর্ণে বালিশের বুকে
বধিরতা ঘন হয় আরো
দিনরাত বিবশতা অশ্বনিদ্রা বাড়ে
ভুল হয় পুনঃপুনঃ
কাল-ক্যালকুলেশন
সব নাকি ঋতুদোষ- লোকে বলে
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১০ সকাল ৭:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


