আহমদ সায়েম মূলত কবিতা ও গদ্য লিখে... তাকে পরিচয় করার কিছু নেই; কারণ তার সূনৃত তৃতীয় সংখ্যার ৩৭পৃষ্ঠা সম্পাদকীয় পাঠের অভিজ্ঞতা-অনুভূতি বাংলাসাহিত্যের বোদ্ধাপাঠক মহল মনে রাখবেন দীর্ঘদিন। বিভিন্ন পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যের ছোটকাগজ সূনৃত সম্পাদক আহমদ সায়েম এটুকুই বলা যায়।
________________________________আহমদ সায়েমের কবিতা
মেঘমন্ত্র-ক
অন্য কিছু'র দরকার দেখি না-- একখণ্ড
মেঘ, বৃষ্টি বা ছাই
রাঙা চুনুরি দিয়ে ঢেকে দেয়া দুপুর অথবা
যে কোনো জবার শরীর নিঃশ্বাসের মতো
শব্দিত হয়
যে সব মুখ দেহান্ত হয়েছে গত জ্যোৎস্নায়, আজ
সারাদিন তারা মুদ্রিত হচ্ছে গাঁদাফুলের
সরল সংসারে
ওরাই এখন শূল
মিথ্যে মিথ্যে খেলা করে সারা কবিতায়
মেঘমন্ত্র-খ
তোমার মুখ দেখিব এই বাগদানে কতোবার কাঙাল
সেজেছি
প্রিয় মুখ মেঘেই কাতর অন্য কোনো ছায়া-- ফের
জন্মের মতো যেন
হাওয়ার মাঝে কথাই শুধু বাড়ে
বাড়ে ঘুমের প্রকাশ
পায়ের ছন্দ
দুপুর
নদীপথ পার হওয়ার মন্ত্র
আয়ুর মাঝে খেলা করছে অন্য রচনা, স্তূপ হয়ে যাচ্ছে
বিষাদ
ক্রোধ
বার বার বাধা পাচ্ছি আর জ্ঞান হচ্ছে-- কুয়াশায় আঁকা
এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস
মেঘমন্ত্র-গ
অদ্য যেন মন সায় দিচ্ছে অন্তত
অল্পনিধি তুলে রাখি
আগামী দিন ও হলুদ সময়ের প্রতি
শৈশবে কোনো কানন বা অরণ্য ছিলো না মনে
শুধুই গন্ধ পাওয়া যেত শূল ও জলের....
এখন ভোর হলে মনে হয় ভুল
কাজের স্তূপের মাঝে খেলা করে
অস্পষ্ট মুখ ও ছায়াহীন করিডোর
আর যেন উদ্ধার নেই
সশব্দে মেঘমন্ত্র খেলবে সকল নির্ঘুম নিমেষগুলি
মেঘমন্ত্র-ঘ
অনেকগুলো শব্দে-শব্দে নিভৃতি নিয়ে ফিরে এলে
যেন নেমে আসে সুকুমারত্বহীন এক ভাঙা সময়
আরো বহুদূরে ভেজা-ভেজা স্ফূর্তী আর ভ্রমণের ছন্দ
বহুদূরে ভানুগাছের গল্প, তার
চিঠি ও বহ্নি'র গল্প
পথ যেতে যেতে শকুনের স্বমূর্তি এখন
বিকেলের ছায়ার মাটিতে বিস্ময় আঁকা হয় আর
তা এখন রক্তের মাঝে প্রতি সন্ধ্যে খেলা করে
মেঘমন্ত্র-ঙ
সব যেন আগুন মনে হয় বার-বার বাতাসের শব্দে দীর্ঘনিঃশ্বাস
পাওয়া যায় কিছু মুখ খুব সত্য হয়ে দেখা দেয়, মুখগুলো সাথে
করে ক্রাইসিসগুলো অদেখায় তুলে রাখি-- একবার বাতাসের
সঙ্গ পেয়ে ভাবিত হই যেন শৈশব, আরো কিছু নৈকর্ট্য আসা,
ভেঙে-ভেঙে দেখা সকল ঘুমের ইমারত, স্মৃতির কুঁড়েঘর আর
এখানেও রাত্রি পাওয়া গেলে ফের অন্য অর্থ হয়-হাওয়ার মাঝে
ঝোলানো কাচের দেয়াল-- যার সংসার আঁকা রক্তের সায়রে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

