somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহ আবদুল করিম : জীবনধারণা ও সঙ্গীত-প্রবণতা

০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শাহ আবদুল করিম : জীবনধারণা ও সঙ্গীত-প্রবণতা
মোস্তাক আহমাদ দীন

আমি কখনো প্রাপ্তির ধার ধারিনি। প্রাপ্তি-সংবর্ধনা এগুলোর প্রতি আমার বিতৃষ্ণা ধরে গেছে। জীবনে এতো প্রতারিত হয়েছি যে নতুন করে প্রতারিত হতে ভয় লাগে। করিমকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কী দরকার আছে? করিমের গান তো বাংলার মাঠে-ঘাটে খুব ক্ষীণ স্বরে হলেও গাওয়া হয় এখনো। আমার সংবর্ধনা পাবার কোনো দরকার নেই আমার গানই আমার সংবর্ধনা। গানের ভেতর যে কথাগুলো বলার চেষ্টা করেছি তা প্রতিষ্ঠিত হওয়া এখোন জরুরি। নিঃস্ব পরিবারে জন্ম নিয়ে আমি এখনো নিঃস্বই থেকে গেছি, নিঃস্ব হবার যন্ত্রণাটা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাই। আমি আমার এলাকায় নিজের যৎসামান্য সামর্থ্য নিয়ে ‘বাঁচতে চাই’ নামে একটা সংগঠন করেছি। আমাদের চাওয়াটা খুব সামান্য,দুবেলা দুমুঠো খেয়ে শুধু বেঁচে থাকা। এই অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছে শোষকের দল।

কথাগুলো করিম বলেন ১৯৯৭ সালে; নাগরিক সমাজ যে-আচারবিচারকে সংবর্ধনা বলে আখ্যায়িত করে, তার মাধ্যমে তখন তিনি একটু-আধটু সংবর্ধিত; এর পরে তো সম্মাননা হাজারবিজার : একুশে পদক, প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা ইত্যাদি ইত্যাদি। শুরুর দিকের সেইসব সংবর্ধনাসভায় করিম যে-সবিনয় সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিতেন,বা কখনো কখনো তা এড়িয়ে, সরাসরি গানের মাধ্যমে তার ভাবটুকু প্রকাশ করতেন, তাতে তিনি যে ভাটির দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কবি, তা অতিশয় স্পষ্টরূপেই অভিব্যক্ত হতো। তাঁর এখনকার অবস্থান সুখ-দুঃখগত অনুভবের প্রায়-বাইরেই বলা চলে, স্মৃতিশক্তিও অপ্রখর, ফলে তাকে-ঘিরে-তৈরি-হওয়া সংবর্ধনাসভা, পুরস্কারের ঘটনা ও তার প্যাচপয়জার, শুভ-অশুভ প্রভৃতি তাঁকে আর আমতো তাড়িত/ভাবিত করার কথা নয়। ব্যাপারটি করিমেরভক্ত/ ঘনিষ্টজনদের জন্য ভালো হলো কি মন্দ হলো, সে-বিচারের আগে, তা পুরস্কারদাতাদের জন্যে বেশ খোশনসিবের কারণ যে হয়েছে, সেটা স্বীকার করতে হবে; না হলে, এইসব ক্ষেত্রে, করিমের মতো আদর্শবাদী ব্যক্তির পক্ষে মাঝেমধ্যে বেঁকে-বসার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। কেন বেঁকে-বসতে পারতেন-এর কারণ-অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে করিমের গানের দ্রোহচিহ্নিত প্রধানতম প্রবণতার দিকে এই লেখাটি এগোবে, এবং এ-কারণেই প্রথমে করিমচর্চা-বিষয়ে খানিকটা আলোকপাত জরুরি।

২.
করিমচর্চা বলতে যারা করিমকে নিয়ে ভাবেন, লেখেন. আর যারা তাঁর গান গেয়ে থাকেন, তাঁর জীবনাদর্শ অন্তরে লালন করেন, তাঁদের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে ধরতে হবে; এই দুই পক্ষের মধ্যেই লক্ষ-করার-মতো আরো দুটি দল রয়েছেন-এক দলের উদ্দেশ্য বাণিজ্য আর নিজের চিন্তা আরোপনের চেষ্টা, অন্য দল সত্যিকারের করিম-প্রেমী, তারা তাঁর লোকশ্রেয়মূলক ধারণারই অনুরক্ত।

গায়কদের মধ্যে তকবুল (প্রয়াত), আবদুল্লাহ, আকবর, সুনন্দ দাস, আবদুর রহমান, রুহি ঠাকুর (প্রয়াত), নবি হেসেন, আবদুর রব, সুধন, তোয়াহেদ, রণেশ ঠাকুর -এরা তাঁর সুখ-দুঃখের সঙ্গী; করিমের আজকের যে-প্রতিষ্ঠা, তার আগে থেকে-এমনকি কোনোদিন করিমের প্রতিষ্ঠা না হলেও- যারা তার গান গাইতেন, করিমের গানকে গ্রামে-গ্রামে, হাটে-মাঠে-ঘাটে পৌঁছে-দেওয়ার ক্ষেত্রে যাদের অবদান অনেক, এবং সবচেয়ে বড়ো কথা : সুরের সঙ্গে-সঙ্গে করিমের গানের মূল বার্তাটিকেও তারা মনে লালন করে প্রচারের জন্যে স্বতঃব্যগ্র। অন্য দলও যে করিমের অভক্ত, তা বলা যাবে না, তবে তারা অনেকাংশেই কিংবদন্তি করিমের জনপ্রিয় গানের গায়ক। শেষোক্ত গায়কেরা-করিমের জীবনধারণার বাস্তবায়ন ঘটুক আর না-ই ঘটুক- করিমের গানকে বাংলার সর্বত্র যে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাতে সাধারণ করিমভক্তরা অসুখী নন, তবে তাদের সুর-বিস্তারেরর মধ্যে সুর-বিকারের পরিচয় পেয়ে, কখনো-কখনো যন্ত্রানুষঙ্গজনিত অসঙ্গতির কারণে অস্বস্তিতে ভোগেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, যে-কারণে রুহি-রণেশ-রহমান-তোয়াহেদ প্রমুখ অস্বস্তির শিকার হন, করিমের দেশময় প্রচার/আচ্ছন্নতা সেই কারণবারিতেই। (অবশ্য এর সঙ্গে আরো রয়েছে প্রিন্ট ও টেলিমিডিয়ার সহযোগ, যা লালন ও হাসনের পরে আর কোনো লোককবির ক্ষেত্রে ঘটেছে বলে মনে হয় না।)

গায়কদের কথা বাদ দিলে, করিমকে নিয়ে যারা ভাবেন আর লেখেন, তাঁদের মধ্যে এক পক্ষের করিম-প্রেম নিয়ে প্রশ্নই ওঠে না, বরং তাঁরা করিমের জীবন আর গান নিয়ে যে-লেখাগুলো লিখেছেন, সেগুলোতে করিমের প্রবণতা-নির্ণয়ের আকুলতা স্পষ্ট; সমস্যা অন্যপক্ষকে নিয়ে-তারা করিমের অনেক চিন্তাকে তাঁর সামগ্রিক চিন্তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে, তাতে করিম হয়ে পড়েন ভয়াবহ অপরিচিতিকরণের শিকার । শাহ আবদুল করিম ও এই ধারার বাউলদের মধ্যে যে-প্রবণতা এবং তাঁরা যে-আঙ্গিকে বিষয়-অনুষঙ্গকে জড়িয়ে-মুড়িয়ে গানে নিজেদের প্রকাশ করেন, তাতে যে-কারো পক্ষেই এমন মূল্যায়নের শিকার হওয়া স্বাভাবিক; এখন বিশেষ করে করিমকেই যে তার শিকার হতে হচ্ছে, তার কারণ তাঁর অভাবিতপূর্ব খ্যাতি। এ-পর্যায়ে কোনো বিশেষ মত বা চিন্তাকে যদি কেউ করিমের চিন্তার সঙ্গে মিলিয়ে, কখনো-বা বিসদৃশরূপে আরোপ করে প্রকাশ করেন, তাহলে প্রচারের কাজটা অনেকটাই সহজ হয়। নিচে একটি উদাহরণ দিলে ব্যাপারটি স্পষ্ট হতে পারে।

মাসিক বিশ্ববাংলা ২০০৭-এর এপ্রিল সংখ্যায় জনাব আব্দুর রশীদ লুলু একটি নিবন্ধ লিখেছেন, যার শিরোনাম ‘শাহ আব্দুল করিমের চিন্তা-চেতনায় আল্লাহ ও আধ্যাত্মিকতা’। এই লেখার লেখকের প্রবণতা বুঝবার জন্যে শুরুর প্যারাটি তুলে ধরা হলো : বাউল সম্রাট মরমি কবি শাহ আব্দুল করিম বিচিত্র বিষয়ে ভেবেছেন, লিখেছেন ও গেয়েছেন। বহু অভিধায় অভিষিক্ত শাহ আবদুল করিমের চিন্তা-চেতনার অন্যতম বিষয় হচ্ছে আল্লাহ ও আধ্যাত্মিকতা। এখানে আমরা তাঁর সে বিষয়ের উপর খানিকটা আলোকপাত করছি।

করিমের গানের যে-কোনও বিষয় নিয়ে আলোকপাত করার হক যে-কোনো নিবন্ধকারেরই রয়েছে;‘রবীন্দ্রসঙ্গীতে অধ্যাত্মবাদ’, ‘নজরুলকাব্যে প্রেম’, ‘জীবনানন্দকাব্যে প্রকৃতিচেতনা’ ইত্যাদি শিরোনামক একাডেমিক চর্চার অনেক উদাহরণ আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি-এই ধারায় আলোচনা কখনো-কখনো লেখককে বুঝতে যে সাহায্য করে না তা নয়, কিন্তু এতে প্রধানতম সমস্যা যেটা হয়, তা হলো লেখককে প্রায়শই হতে হয় খণ্ডমূল্যায়নের শিকার। যিনি মূল্যায়িত হন, তার ক্ষেত্রে মূল্যায়নের দৃষ্টান্ত প্রথম হলে, সেই আলোচনাটি চিহ্নায়নধর্মী-হওয়া স্বাভাবিক, ফলে আলোচককে আলোচিত ব্যক্তির সমগ্র পাঠবস্তু বিবেচনায় রেখে, তার মূল প্রবণতা খুঁজে বের না-করলে চলে না; আর সেই ব্যক্তি যদি এর আগে মূল্যায়িত হন এবং তার মূল প্রবণতাও চিহ্নিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তবে নতুন/পরবর্তী আলোচকের দায়িত্ব আরো বেড়ে যায়, তিনি যদি আলোচিত ব্যক্তিকে নতুনরূপে উপস্থাপিত করতে চান, তাহলে তাকে পূর্বের আলোচনাগুলিকে মাথায় রেখে যুক্তিসহযোগে তার মতটিকে প্রকাশ করতে হবে।

উপরি-উদ্ধৃত প্যারাটিতে লুলু সরলভাবেই বলেছেন যে, আবদুল করিম অনেক বিষয়ে ভেবেছেন, লিখেছেন, আর তিনি তাঁর লিখিত অনেক বিষয়ের মধ্য থেকে একটি-আল্লাহ ও আধ্যাত্মিকতা-বিষয় নিয়ে লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি লিখতেই পারেন, কিন্তু এখানে তাঁর এ-বিষয়টি মনে রাখা উচিৎ ছিল যে, শাহ আবদুল করিমের সমগ্র রচনা আমাদের চেতনাজগতে ধারনাগত যে-প্রবণতাটি তুলে ধরে, তার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে আলোচ্য বিষয়ে না-গেলে ব্যাপারটি নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে; বিশেষত যারা আবদুল করিম বিষয়ে অনবহিত, তাদের কাছে এই লেখাটি করিমকে অত্যন্ত খণ্ডিতভাবে যে উপস্থাপন করবে, তা যে-কোনো আদনা পাঠকও স্বীকার করবেন।

এই লেখার উপস্থাপনভঙ্গিমায় লেখকের নিজের চিন্তা-আরোপনের বিষয়টি নানা রূপেই অত্যন্ত প্রকট; বিষয় নির্বাচনের কথা বাদ দিলেও, নিবন্ধকার তার বক্তব্যের পক্ষে সেইসব গানের উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেছেন যে-গুলোতে করিম তাঁর আল্লাহ ও অধ্যাত্মগত ভক্তি-ভাবকে ব্যক্ত করেছেন সরল রেখায়, অথচ এর বাইরে করিম একই ভাবের আরো অনেক গান লিখেছেন, যে-গুলোকে তিনি উদ্ধৃত করার প্রয়োজনই মনে করেননি, কারণ সেসব সমভাবের হলেও বক্ররৈখিক, তীর্যক, এবং কোনোভাবেই তা শরিয়তের মোড়কে উপস্থাপন করবার জন্যে উপযুক্ত নয়। এই শেষ সমস্যাটাই সবচে বড় বাধা, কেননা নিবন্ধকারের মূল উদ্দেশ্য করিমকে শরিয়তের গাঁটছড়ায়-বেঁধে উপস্থিত করা। উদ্ধৃতিকণ্টকিত এই লেখার ফাঁকে ফাঁকে করিম-সম্পর্কে যে-কথাগুলো বলেছেন নিবন্ধকার, ধারাবাহিকভাবে তার উল্লেখ করলে দাঁড়ায়-‘শাহ আবদুল করিম বিশ্বাস করেন আল্লাহ দয়াময়, অন্তর্যামী’; ‘নিরাশা আঁধার মাঝে... একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে আশার আলো দেখেন’; ‘মহান আল্লাহ প্রেরিত মহা-পুরুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস অগাধ ও অকৃত্রিম। হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবকল্যাণে আগত সত্য নবি। সে কথা নিঃসঙ্কোচে শাহ আবদুল করিম নবি এসে দয়া করে দাও পাপীরে পদছায়া গানে বলেছেন’; ‘শুধু নবিজির রওজায় সালাম পৌঁছাতে উদগ্রীব নয় শাহ আবদুল করিম। একই সাথে তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা সহকারে নবির বংশধর ও সাহাবিদের সালাম জানাতে চান’; ‘আল্লা ও নবি রসুলের পাশাপাশি আল্লাহর ওলী-আওলিয়াদের প্রতি তাঁর ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রচুর’;-ধারাবাহিক এই সব বর্ণনার মধ্যে লেখক অকস্মাৎ উল্লেখ করেছেন ‘ইসলামের মূল স্তম্ভগুলো সম্পর্কে সজাগ সচেতন শাহ আবদুল করিমের স্বগত উচ্চারণ’ এবং উদ্ধৃত করেছেন করিমের দুটি পঙ্ক্তি-‘কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাতে ঈমানদার/মুর্শিদ ভজে তত্ত্ব খুঁজে কর মন ভবের ব্যাপার’। প্রথমোক্ত বিবরণ ও ছন্ন উদ্ধৃতিগুলো পাঠ করলে পাঠকের নিঃসন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক যে, এইসব গানে আবদুল করিম একেবারেই নির্দ্বন্দ্ব, ভাব-প্রকাশে ভক্তিগদগদ, কোথাও-কোথাও আত্মকেন্দ্রিকও। কালনীর ঢেউ-এর প্রথম গানটির উল্লেখ করে নিবন্ধকার বলেছেন যে করিম এখানে নিরাশ আঁধার মাঝে আল্লাহকে আলোরূপে দেখেন; কিন্তু এই তথ্যটুকুই যদিই গানের শেষ কথা হতো, তাহলে গানটির প্রথম দিককার পঙ্ক্তিগুলো এরকম হতো না :

সয়ালের দয়াল বন্ধুরে

তুমি যে সরল;

তোমার লাগিয়ারে বন্ধু

ভুবন পাগল রে


সয়ালের দয়াল রে বন্ধু

তুমি সর্বঘটে আছ;

জীবের জীবন নাম ধরিয়া

স্বরূপে মিশেছ রে

পুরো গানটিতে আল্লাহ শব্দটির উল্লেখ একবারও করেননি করিম, কিন্তু আলোচক এখানে আল্লাহকে খুঁজে পেয়েছেন, তারপরও, বন্ধু-র জায়গায় আল্লাহ শব্দ বসাতে আমাদের আপত্তি নেই; তবে. গানে কিন্তু করিম এখানে সেই বন্ধুর কথা বলেছেন, যার জন্যে গোটা ভুবন পাগল, সেই বন্ধু সর্বঘট-এ বিরাজিত এবং যিনি জীবের জীবন ধারণ করে স্বরূপে মিশেছেন। এটা তো শুধু তথ্যের কথা নয়, পরমত্বনিহিত তত্ত্বেরও কথা। প্রথম চার পঙ্ক্তি অর্থাৎ ধুয়াপদের ব্যাখ্যা/সম্প্রসারণ দ্বিতীয় অন্তরায়-বন্ধুর জন্যে (সারা) ভুবন পাগল, কারণ তিনি সর্বঘট-এ বিরাজিত; তত্ত্বে ‘সর্বঘট, মানে সর্বত্র; কাশীদাসী মহাভারতে আছে ‘আত্মরূপে সর্বঘটে ভ্রমিয়া বেড়ায়’, বাইশ কবির মনসামঙ্গলে আছে ‘তুমি সর্ব্বঘটময়’, অন্যত্র আছে ‘সর্ব্বঘটে আছে কৃষ্ণ’; এ-ছাড়া বঙ্গীয় শব্দকোষ-এ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুবলচন্দ্র মিত্র

সরল বাঙ্গালা অভিধান-এ ঘট-এর অর্থ করেছেন কলস, কুম্ভ, দেহ, মন আধার ইত্যাদি-এই সবই শক্তির প্রকৃতি ও ধারণার ইঙ্গিতবহ; কুরানের নিরাকার-প্রসঙ্গ আর গোটা জমিন/ভুবনকে সেজদার জায়গা-করে-দেওয়ার বিষয়টিও এই তত্ত্বের বিপ্রতীপ নয়। এখানে স্পিনোজার তত্ত্বের উল্লেখও অপ্রাসঙ্গিক হওয়ার কথা নয়, কিন্তু কথা না বাড়িয়ে আমরা সরাসরি করিমের বক্তব্যকে উপস্থাপন করতে পারি :

আমি ঈশ্বরকে এক বিশাল শক্তি হিসাবে গণ্য করি, ব্যক্তি হিসাবে নয়। ব্যক্তি কখনো একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে পারে না, শক্তি তা পারে।

বৈদ্যুতিক শক্তির কথা ধরুন, একই সাথে কোথাও বা ফ্যান ঘুরাচ্ছে, কোথাও বাতি জ্বালাচ্ছে, কোথাও ইন্ডাস্ট্রি চালাচ্ছে...।

মক্কাশরীফ আল্লার বাড়ী বোঝে না মন পাগলে
ব্যক্তি নয় সে শক্তি বটে আছে আকাশ পাতালে
এরকম মর্ম-সূক্ষ্ম মন্তব্য যিনি করতে পারেন, তাঁর গানকে নিজের বক্তব্যের পক্ষে উল্লেখ করার আগে একজন আলোচকের কতটুক দর্শন-জ্ঞান থাকা উচিৎ, সেই বিচার পাঠকের উপর থাকল।

এরপর, ‘নবি এসে দয়া করে দাও পাপীরে পদছায়া’ গানটির উল্লেখ করে নবির প্রতি করিমের ভক্তির কথা বলা হয়েছে, এর সঙ্গে-সঙ্গে তাঁর সাহাবি ও বংশধরদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার কথাও অনুল্লিখিত থাকেনি, কিন্তু মুর্শিদের প্রতি তাঁর মনোভাব কেমন ছিল তা এই লেখার কোথাও পাওয়া যায় না, যেন মুর্শিদ-ভক্তির মধ্যে আধ্যাত্মিকত্ব কিছু নেই। অথচ একজন বাউলের কাছে তার মুর্শিদ যে কতটুকু, তা যে-কোনো তাত্ত্বিক তো জানবেনই, বিষয়টি অনেক অরসিক ও অতাত্ত্বিকের কাছেও অজানা নয়। করিম লিখেছেন :

ভাবছ কি মন পীর বিনে নবীরে পাওয়া যায়।

পীরের বাক্য কর লক্ষ্য, ভেদ বুঝে নেও ইশারায়


দ্বিতীয় অন্তরায় আছে :

ফানা পীর শেখ হাসিল হলে, ফানা পীর রাসুল মিলে।

ফানা ফিল্লায় যাবে চলে, থাকিলে সোজা রাস্তায়

কখনো অভেদ-জ্ঞান, কখনো-বা পিরকে অগ্রাধিকার-দেওয়ার মনোভাব পোষণ করার জন্যে একজন শরিয়তপন্থী তাকে মুশরিক বলে অবাঞ্ছিত করলে করতেই পারেন, তাই বলে একজন বাউল/করিম-এর পক্ষে তা তোয়াক্কা করার প্রশ্নই ওঠে না।

এখানে শরিয়ত-প্রসঙ্গ উল্লেখ করার কারণ হলো নিবন্ধকার তার লেখায় এরপরই ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের উল্লেখ করে সে-বিষয়ে করিমের সজাগ-
সচেতন দৃষ্টির কথা বলেছেন। এই সচেতনতা কি পাঁচটি স্তম্ভের প্রতি তাঁর বিশেষ পক্ষপাতের সচেতনতা, না অন্যকিছু? গভীরভাবে পড়লে বোঝা যায়, লাইন দুটির মধ্যে প্রথম লাইনটি তথ্য

হিসেবে এলেও, দ্বিতীয় লাইনটির উল্লেখ করাই তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্য। এখানে পুরো গানটি তুলে দিলে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের প্রতি করিমের কোন ধরনের সজাগ-সচেতন মনোভাব ছিল, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

কলেমা নামাজ রোজা, হজ্ব জাকাতে ঈমানদার

মুর্শিদ ভজে তত্ত্ব খুঁজে কর মন ভবের ব্যাপার


আপন ঘরে অমূল্য ধন, আগে কর তার অন্বেষণ।

এসব কিন্তু নিশির স্বপন যা বল আমার আমার


আপন ঘরের বিচার কর, আগে মনে কলেমা পড়।

দিলের ভিতর নক্সা কর, ভাঙ্গবে রে ছয় রিপুর ঘাড়

পড় নামাজ হুজুরী দীলে, ধ্যানে দিদার মিলে।

হুজুরী নামাজ পড়িলে ঘুচবে মনের অন্ধকার

পলকে সজিদা কর, যোগ সাধনে তারে ধর।

মরিবার আগে মর, হইতে চাইলে ভব পার

ওজু গোসল নামাজ রোজা, বেহেস্তে যাওয়ার রাস্তা সোজা।

যে করে না নফছ রোজা, উপবাসে ফল কি তার

গলে মায়াফাঁসি আবদুল করিম হইল দোষী।

কোন যাকাতে আল্লা খুশী করিয়া দেখ বিচার


এখানে যে-কারো পক্ষে এই ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে যে করিম প্রথম বাক্যটির উপর একটি তথ্যগুণই আরোপ করেছেন মাত্র; আমরা সে-ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না, বরং পাঁচ স্তম্ভের প্রতি করিমের স্বীকৃতির ব্যাপারটি ধরে নিলেও বলব, এই বাক্যটি কোনোভাবেই তাঁর নিঃশর্ত সমর্পণের পরিচায়ক নয়; কারণ দ্বিতীয় পঙ্ক্তিই বলে দিচ্ছে, এই সব ভবের ব্যাপার করার জন্যে মুর্শিদ ভজা আর তত্ত্ব খোঁজাটা জরুরি। প্রথম অন্তরায় পাচ্ছি আপন ঘরের অমূল্য ধন সন্ধান করার কথা, দ্বিতীয় অন্তরায় আপন ঘরের বিচার করে, মনে কলেমা পড়ার কথা; তৃতীয় অন্তরায় নামাজ পড়ার কথা বললেও, তার

সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন-পড়তে হবে হুজুরি দীলে; চতুর্থ অন্তরায় এসে পলকে সজিদা দিতে বলে, জানাচ্ছেন বাউলদের ঘরের পদ্ধতি যোগসাধনার কথা, যার মাধ্যমে তারে অর্থাৎ পরমকে ধরতে হবে; পঞ্চম ও ষষ্ট অন্তরায় এসে স্তম্ভের বিষয়টি যে ব্যক্তিভেদে কখনো অপ্রয়োজনীয়, কখনো-কখনো অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়, তার কথাই বলেছেন। এই বিশেষ ব্যক্তি হলেন আশেক, যে মাশুক ছাড়া কিছুই বোঝে না; এর জন্যে সে মাঝে-মাঝে গতিপথ বদলায় : কখনো ফানা ফি শ্শায়খ, কখনো ফানা ফির্ রাছুল, কখনো সরাসরি ফানা ফি ল্লাহ। সব গন্তব্যই অর্থাৎ মুরশিদ-রাসুল-আল্লাহ এখানে একাকার : চরম ও পরম। করিমের গানে পাই :

আশেকের রাস্তা সোজা

আশেক থাকে মাশুক ধ্যানে

এই তার নামাজ. এই তার রোজা


আশেক চায় না আবেদ হতে

আশেক চায় না স্বর্গে যেতে।

আশেক চলে নেস্থী পথে,

হতে চায় না বিশ্বের রাজা


আশেক মৌলার খেলার পুতুল

আশেক প্রেম বাগানের বুলবুল,

ফানা পীর শেখ ফানায়ে রাসুল

ফানা ফিল্লায় রুহু তাজা

আশেক হলে মাশুক মিলে

এই কথা ঠিক আসলে,

করিম কয় তা না হলে

বেতবাগানে চন্দন খোঁজা

শরিয়তের মতে, এই সব অবশ্যই নাজায়েজ কথা; শরা-সিদ্ধ কোনো কিছু নয়, মাশুকের প্রতি আশেকের ধ্যানই তাঁর নামাজ ও রোজা, এর বাইরের যে-অনুসন্ধান তা বেতবাগানে চন্দন খোঁজার মতো অহেতু কাজ। এরকম শিরকি কথাবার্তা তার মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে হয়ত একসময় শরিয়ত ও তার ঝান্ডাধারীরা তাকে বিচারাধীন করেছিল। সেই সময়ের চিত্র পাই করিমের ভাষায় :

চাকরী তখন ছেড়ে দিলাম হাতে নিলাম একতারা

দিবারাত্রি গান গাই লোকে বলে বেশরা

উদাস মনের চিন্তাধারা, মন যাহা চায় তাই গাই


গ্রামের মুরব্বী আর মোল্লা সাহেবের মতে

ধর্মীয় আক্রমণ এল ঈদের দিন জামাতে

দোষী হই মোল্লাজীর মতে, পরকালে মুক্তি নাই


নিষেধ-বাধা না মানিয়া কুলের বাহির হইলাম

একতারা সঙ্গে নিয়া ঘর বাড়ী ছেড়ে দিলাম

ঘর ছাড়া বাউল সাজিলাম, সকলের করিম ভাই


নিষেধ-বাধা না-মানা কুলছাড়া এই বেশরা মানুষটি মোল্লা-মুরব্বিদের মনোতুষ্টি করতে না-পারলেও, ধীরে ধীরে তিনিই হয়ে উঠলেন সকলের প্রিয় করিমভাই। এই ব্যক্তিকে শরিয়তপন্থী কেউ যদি নিজেদেও বিশ্বাসের সঙ্গে মিলিয়ে প্রচারে ব্যবহার করেন, তাহলে স্বয়ং শরিয়তই যেমন বেকায়দায় পড়ে, তেমনি করিমকেও হতে হয় খণ্ডমূল্যায়ন কি বিমূল্যায়ন শিকার।

খণ্ড মূল্যায়নের আরেকটি উদাহরণ দেখা গেল মাসিক বিশ্ববাংলার ২০০৮-এর জানুয়ারি সংখ্যায় মুদ্রিত সৈয়দ মবনুর-নেওয়া সাক্ষাৎকার ও তার প্রাগ্বিবরণে; প্রথমে স্বীকার করা উচিৎ, সাক্ষাৎকারে শাহ আবদুল করিমের প্রতি জনাব মবনুর প্রেম ও শ্রদ্ধা অস্পষ্ট নয়, কিন্তু তা শেষপর্যন্ত এতটাই বিষম-রূপ পেয়েছে যে, তিনি তাঁর নিজের

চিন্তার জায়গায় করিমের মতো স্বতঃচিন্তককে পেতে গিয়ে তাঁর অস্থির চিত্তের পরিচয় তুলে ধরেছেন। অবশ্য মবনু পূর্বের নিবন্ধকারের মতো করিমের মূল প্রবণতাসমূহের উল্লেখ না-করেই এ-কাজটি করেননি, তিনি করিমের সমাজ ও রাজনীতিচেতনা, ‘মজলুম মানুষের মুক্তির স্বপ্নে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ’ থাকার বিষয়টিকে উল্লেখ করে তাঁর ইচ্ছাপূরণ ঘটিয়েছেন। তাঁর সমস্যা অনেকটাই বিশ্বাসগত : সেই শৈশব থেকে করিমকে দেখে, তার গান শুনে, কল্পনা ও বাস্তবে যে-করিমকে তিনি তাঁর মনে ঠাঁই দিয়েছেন, তাকে সেই রূপে অবিকল না-পাওয়ার কারণেই এই সমস্যার শুরু। প্রথম সাক্ষাৎকারের প্রাগ্বিবরণে তিনি উল্লেখ করেছেন :

শাহ করিম প্রায়ই আসেন আমাদের বাসায়। আমাদের বড় চাচা সৈয়দ আব্দুর রহমানের সাথে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। এই সূত্রে আমি খুব ছোটবেলা থেকে তাঁকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের বাসায় রহমান চাচা ছাড়া শাহ আবদুল করিমের মূল্য আর কারো কাছে তেমন ছিলো না। রহমান চাচার মতে-‘শাহ আব্দুল করিম আল্লাহর খাস লোক’, যাকে আমরা আল্লাহর ওলী বলে থাকি। তাঁর যুক্তি হলো-আল্লাহর সাথে খাস সম্পর্ক না-থাকলে করিম শাহ এতো উঁচুমার্গের আধ্যাত্মিক গান রচনা করতে পারতেন না। তা ছাড়া শাহ আব্দুল করিমের সম্পদের লোভ, খ্যাতির মোহ এবং হিংসা-বিদ্বেষ নেই।

উদ্ধৃতিতে তাঁর বড় চাচা ছাড়া বাসার অন্য কারো কাছে করিমের তেমন কোনো মূল্য যে ছিল না, তার শরিয়তসম্মত কিছু কারণ আছে; কিন্তু পরে তাঁর নিজের কাছে করিমের সবিশেষ মূল্য তৈরি-হওয়ায়, তাঁর একনিষ্ঠ বিশ্বাসের জায়গায় করিমের বহুনিষ্ঠতা/বহুমুখিতা মায় লোকপ্রতীতিজাত ধর্মধারণাকে স্থাপন করতে গিয়েই এই সমস্যাটির শুরু। তিনি তাঁর সাক্ষাৎকারের প্রাগ্বিবরণে একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন : মরমি কবি মজির উদ্দিনের বাড়িতে অনুষ্ঠেয় উৎসবে শাহ আবদুল করিমকে নেওয়ার প্রস্তাব করলে, উপস্থিত সকলেই একবাক্যে রাজি হলেও, কেউ কেউ খোয়াব-কে-দেওয়া করিমের একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গটি উপস্থাপন করেন। কিন্তু তিনি তখনো সাক্ষাৎকার না-পড়লেও, করিম-সম্পর্কে পূর্বধারণা থাকায় তার বিষয়বস্তুর সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে সন্দিহান হলেন। তাঁর মনে পড়ল, শিকওয়াহ লেখার কারণে ভারতের একদল আলেম ইকবালকে কাফের ফতোয়া দিলে, তৎকালিক আরেকজন বিখ্যাত আলেম মাওলানা আনোয়ার শাহ কাশমিরী সেই ফতোয়ায় স্বাক্ষর না-নিয়ে, বিষয়টি নিয়ে বোঝাপড়া করার জন্যে লাহোরে ইকবালের বাড়িতে মেহমান হলেন, যার ফলে, ইকবাল জওয়াবে শিকওয়া লিখে তাঁর ইঙ্গিতসূক্ষ্ম বিষয়-অনুষঙ্গকে আরো খোলাসা করেন।-মবনুও অনেকটা এই ভাবেই, মনের সংশয় দূর করার জন্যে, পূর্বোক্ত সাক্ষাৎকারের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করার জন্যে, অস্তি-নাস্তি বিষয়টি নিরূপণ করতে করিমের কাছে যান। এই সাক্ষাৎকারটিই বিশ্ববাংলার প্রথম সাক্ষাৎকার হিসেবে মুদ্রিত, শাহ আবদুল করিমের মন্তব্য হিসেবে যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘আমি নাস্তিক নই’; শিরোনামেই প্রকট যে, সাক্ষাৎকারে প্রধানতম লক্ষ্য ছিল করিমের অস্তি-নাস্তি নিরূপণ; শিরোনাম, সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন ও বর্ণনা দেখে বোঝা যায়, এর সাক্ষাৎকারগ্রাহক বুঝাতে চাচ্ছেন, খোয়াব-এ যারা সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল করিমকে নাস্তিকরূপে প্রতিষ্ঠিত করা, অথচ আমাদের মতে, খোয়াবে করিম এমন একটি মন্তব্যও করেননি যাতে, ধর্মের মর্মগত বিচার করলে, প্রমাণিত হয় তিনি আস্তিক নন? এ-বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আগে পুরো সাক্ষাৎকারটি উদ্ধৃত করতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু পরিসরগত কারণে এখানে আমরা প্রয়োজনীয় অংশগুলোগুলোই শুধু উদ্ধৃত করছি। প্রথম কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষাৎকারগ্রাহক খোয়াব-এ-দেওয়া উত্তরের প্রতিধ্বনি পেয়েছেন বলেই সেগুলোর উল্লেখ না-করে অস্তি-নাস্তি-বিষয়ক প্রশ্ন ও উত্তর উপস্থাপন করা হলো :

মবনু : ‘খোয়াব’ এর অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে আপনি বলেছেন, ‘আসমানী খোদাকে মানি না’ তাহলে আপনি কি নাস্তিক?

শাহ করিম : না আমি নাস্তিক নই। আমি বলেছি আকাশে নয়, পাতালে নয়, খোদা মানুষের অন্তরে। রাসুল (সা.) বলেছেন-‘কুলুবুল মু’মিনিনা আসিল্লাহী তায়ালা।’

আল্লাহ যে বলেছেন, নাহনু আকরাবু ইলাইহী মিন হাবলিল ওয়ারিদ’। তাই আমি বিশ্বাস করি।

তাই আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ আমার শাহ রগ থেকে আরো কাছে। আকাশে খোদা এতো দূর আমি মনে করি না। আমি খোদাকে বিশ্বাস করি। আমি বলেছিলাম আকাশে খোদা মানি না। ওরা অর্থ উঠিয়েছে আকাশের খোদা মানি না।


এখন আমি খোয়াবের সাক্ষাৎকার থেকে,- দীর্ঘ হলেও- বিচারের সুবিধার্থে আসমানি খোদা ও ধর্ম বিষয়ক পুরো মন্তব্যটি তুলে ধরছি :


খোয়াব : আমরা যতদূর জানি, প্রচলিত ধর্ম-ব্যবস্থায় আপনি খুব একটা বিশ্বাসী নন। বিভিন্ন গানে আপনার এ বিষয়ক চিন্তাধারা ঘুরে ফিরে এসেছে বারাবার। ধর্মকে আসলে কিভাবে দেখেন আপনি?

করিম শাহ : আমি কখনো আসমানী খোদাকে মান্য করি না। মানুষের মধ্যে যে খোদা বিরাজ করে আমি তার চরণে পূজা দেই। মন্ত্রপড়া ধর্ম নয়, কর্মকেই ধর্ম মনে করি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে হজ্ব পালনের চেয়ে এই টাকাগুলো দিয়ে দেশের দুঃখী দরিদ্র মানুষের সেবা করাটাকে অনেক বড় কাজ মনে করি। প্রচলিত ধর্ম-ব্যবস্থা আমাদের মধ্যে সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ তৈরী করে দিয়েছে। কতিপয় হীন মোল্লা-পুরুতরা আমাদের ভাইয়ে ভাইয়ে বিভাজন নিয়ে এসেছে। এই বিভাজনই যদি ধর্ম হয় সেই ধর্মের কপালে আমি লাত্থি মারি। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’ এই হলো আমার ধর্ম। নামাজ রোজার মতো লোকদেখানো কর্মে আমার আস্থা নেই। কতিপয় কাঠ-মোল্লারা ধর্মকে তাদের নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে। আমার এলাকায় প্রতিবছর শীতের সময় সারারাত ওয়াজের মাহফিল হয়। দূর-দূরান্ত থেকে বিশিষ্ট ওয়াজীরা আসে ওয়াজ করতে। তারা সারারাত ধরে আল্লা রসুলের কথা তো নয়; শুধু আমার নাম ধরেই অকথ্য কুকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কী আমার অপরাধ? গান গাইলে কি কেউ নর্দমার কীট হয়ে যায়? (করিম শাহর শ্বাস-প্রশ্বাস পড়ছে দ্রুত, জোশে কণ্ঠস্বর চাগান দিয়ে উঠছে ক্রমে।) এই মোল্লারা ইংরেজ আমলে ইংরেজী পড়তে বারণ করেছিলো, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানীদের পক্ষে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো। আজো তাদের দাপট সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে। এগুলো দেখে মনে হয়, একাই আবার যুদ্ধ করি। একাই লড়াইয়ের ময়দানে নামি, জীবনের ভয় এখোন আর করি না। আরেক যুদ্ধ অবধারিত হয়ে পড়েছে, এছাড়া আর মুক্তি নেই (করিম শাহের চোখ থেকে জল উপচে পড়ছে)।

কী বলব কতই বা বলব, দুঃখে ভেতরটা পাথর হয়ে আছে। আমার এক শিষ্য তার নাম ছিল আকবর। সে সিদ্ধি টিদ্ধি খেতো বোধ হয়। আকবর মারা গেল অকালেই। তার মৃত্যুর কথা মাইকে ঘোষণা দেবার জন্যে আমি নিজে মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে বল্লাম। ইমাম তো ঘোষণা করবেনই না বরং জানাজার নামাজ পড়াবেন না বলে সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন। আকবরের দোষটা ছিল সে আমার শিষ্য। আমি গান গাই, আমি কাফির। শুধু আমি গিয়ে যদি উনার হাত ধরে তওবা করি তাহলেই আকবরের জানাজার নামাজ পড়ানো যায় কি-না এ নিয়ে তিনি ভেবে দেখবেন। বেতনভোগী এই চাকরটার কথা শোনে রাগে দুঃখে ভেতরটা বিষিয়ে গেলো। আতরাফের সবাই তাকে বাৎসরিক যে চাঁদা দিয়ে রাখে সেই চাঁদার একটা ভাগ তো আমিও দেই। তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই বলিনি কথাটা আমার গ্রামবাসীর কানে একটা ঝামেলা হয়ত বেধে যেতে পারে। অগত্যা আমি নিজেই জানাজা পড়িয়ে আকবরের কবর দেই। এই কথা মনে আসলে আজো চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।


এখানে দীর্ঘ উদ্ধৃতিটি তুলে-দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, করিমের ধর্মভাবনাকে আবার একসঙ্গে নতুন-করে পড়ে-নেওয়া, আর এই প্রশ্নটুকু রাখা যে : এতে কি প্রমাণিত হয় করিম নাস্তিক? বা, প্রশ্নকারীর প্রশ্নের ধরনের মধ্যে এরকম কথা-বলানোর প্ররোচনামূলক কোনো ইঙ্গিত আছে কি না? এছাড়া এই জিজ্ঞাসাটিও রাখা যে, খোয়াব আর বিশ্ববাংলা-য় আসমানি খোদা বিষয়ক করিমের যে-দুটি মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছে কি না, বা দুটি মন্তব্যের প্রকৃত অভিলক্ষ্যটা এক কি না। খোয়াবের মন্তব্যে একটি বাক্যের মাধ্যমে ‘আমি কখনো আসমানী খোদাকে মান্য করি না’ বলে, পরেই তিনি চলে গেছেন বাউল মতের সেই দিকে, যেখানে মানবজীবনের অভিপ্রায়ের সঙ্গে সকল বাউলই নিজেকে দায়বদ্ধ মনে করেন; জালাল খাঁ যে বলেছেন, ‘মানুষ থুইয়া খোদা ভজ এই মন্ত্রণা কে দিয়াছে’, এ-ও সেই ধারার গান; করিম ও জালাল খাঁর এমন উক্তি পড়ে কেউ যদি এর মধ্যে নাস্তিচিহ্ন খুঁজে পান, তাহলে হতাশ-হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমাদের মতে, খোয়াবের মন্তব্যে খোদাকে আসমান অর্থাৎ স্থানগত সীমায় বেঁধে দিলে তাঁর অখণ্ডত্ব যে খণ্ডিত হয়ে পড়ে, করিমের আপত্তির জায়গাটা সেখানে ছিল; এই মন্তব্য থেকে কোনো পাঠক যদি ‘খোদা আসমানে থাকেন’-এই বার্তাটি পান, তাহলে তার ভাষা ও দর্শন-জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এ-প্রসঙ্গে সৈয়দ মবনুর প্রশ্নের জবাবে করিম বলেছেন : ‘আমি বলেছিলাম আকাশে খোদা মানি না। ওরা অর্থ উঠিয়েছে আকাশের খোদা মানি না’। করিম প্রথম বাক্যটি দিয়ে আকাশে যে খোদার অবস্থান, আর দ্বিতীয় বাক্যটি দিয়ে, আকাশের মালিক যে-খোদা-এই দুটি বিষয়কে পৃথক করে তাঁর অবস্থানটিকে স্বচ্ছ করতে চেয়েছেন। দুটি বাক্যের অর্থগত সূক্ষ্মতা যে-করিমের মননে ধরা পড়ে, তাঁর কাছে, খোদাকে স্থান/পাত্রগত সীমায় অস্বীকারের মধ্য দিয়ে খোদায় অস্বীকার যে প্রকাশ পায় না, বরং তাঁর অখণ্ড নিরাকারত্বটাই যে এতে প্রকাশ পায়, তা ধরা না-পড়ার কথা না। তাহলে অন্য অর্থ-ওঠানোর অভিযোগ কেন করলেন করিম? না কি তিনি নাস্তিক কি না, একজন প্রশ্নকারীর এরকম সরাসরি প্রশ্নের কারণে তিনি ভাবতে বাধ্য হয়েছেন যে, অন্য সবাই তাঁর খোয়াবের মন্তব্যের বিপরীত অর্থ উঠাচ্ছে? এমন ভাবনা জাগার যুক্তিসঙ্গত কারণ হলো : খোয়াবের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পর আজ পর্যন্ত অন্য কোথাও মুখে বা লিখিতভাবে কোনো প্রতিবাদ করেছেন বলে জানি না, সাক্ষাৎকারটি ভূমিকা ও গ্রন্থনা যিনি করেছেন সেই টি এম আহমেদ কায়সার, খোয়াব-এর সম্পাদক হাবিবুররহমান এনার, মঞ্জু রহমান লেবু ও এই রচনালেখক শাহ আবদুল করিমের সঙ্গে আরো অনেকবার এত ঘনিষ্ট সময় কাটিয়েছেন যে, সাক্ষাৎকারবিষয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্য তা আমাদের কাছে ব্যক্ত করতেন। সেই ১৯৯৭ সালে, প্রচণ্ড আবেগ নিয়ে প্রায় অপরিকল্পিতভাবে একটি ভাঙাবধির টেপরেকর্ডারসহ চার জন তরুণ উজানধলে পৌঁছালে, ওই দিন রাতে যে-সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়, সেটিই ছিল শাহ আবদুল করিমের প্রথম প্রামাণিক সাক্ষাৎকার; আজ এতদিন পরও মনে হয়, গানের বাইরে জনসমাজে করিমের মূল বার্তা পৌঁছে-দেওয়ার জন্যে এর একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল; তাই এখনকার হাজারবিজার সংবর্ধনার আগের সময়ের সেই সাক্ষাৎকারটি যে একেবারে হেলাফেলায় নিয়েছিলেন করিম, তা ভাববার কোনো কারণ নেই।

বিশ্ববাংলার প্রথম সাক্ষাৎকারে শাহ আবদুল করিমকে সৈয়দ মবনু আরেকটি প্রশ্ন করেছেন, সেটি হলো : ‘আপনাকে অনেকে বাম, নাস্তিক, বা কমিউনিস্ট করতে চায়। এ সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?’ জবাবে করিম বলেন ‘তারা যাই বলেন, আমি কিন্তু নাস্তিক নই। আমি আল্লাহর বিশ্বাসী এবং সর্বদা প্রার্থনা করি আমার শেষ নিঃশ্বাস যেনো ত্যাগ হয় আল্লাহ আল্লাহ বলে। এটাই আমার শেষ কথা। তারা আমায় নাস্তিক কিংবা যাই বলুক। আমি যে শোষণের বিরুদ্ধে বলি তাই অনেকে ভাবে আমি কমিউনিস্ট। আমি কমিউনিস্ট বা নাস্তিক নই। আমি আমার প্রভুর বিশ্বাসী। যারা আমাদের উপর অন্যায় করে আমি তাদের বিরুদ্ধে বলি। এটা আমার চরিত্র এটা আমার চরিত্র। এটা ইসলামের বৈশিষ্ট্য’। কিন্তু কথা হলো, এরকম একটি প্রশ্ন করার আগে, কে কোথায় কোনদিন করিমকে নাস্তিক, বাম, কমিউনিস্ট ইত্যাদি বানাতে চেয়েছে, তার সপ্রমাণ উল্লেখটা কি এখানে জরুরি ছিল না? বাম ধারার অনেক সংগঠনে করিমের গণসংগীত আগে জীবন গাওয়া হয়েছে, এখনো সেরকম গাওয়া হয়; করিমের গানের বেদনার সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ও বেদনার অনেক জায়গা মিলে-যাওয়ায় তারা এই কাজটি করেন, এতে করিম আপত্তি তো করেনইনি বরং অনেক সময় তিনি নিজেও গান গেয়ে তাঁদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন, কিন্তু তাই বলে তারা যদি করিমকে কমিউনিস্ট প্রতিপন্ন করতে চান, তাহলে শরিয়তপন্থীদের মতো এরাও যে করিমের মতো বহুচেতনাময় ব্যক্তিত্বকে নিজেদের প্রচারে ব্যবহার করে বেকায়দায় পড়বে, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। প্রশ্নের মধ্যে অভিযুক্তদেরকে ‘অনেকে’ বলে অনির্দিষ্ট করায় উপরের কথাগুলো বলা হলো, কিন্তু প্রশ্নকারী এই প্রশ্ন করার সময়ও খোয়াব-এর সাক্ষাৎকারীদের যদি মাথায় রেখে থাকেন তাহলে বলতে হয়, নাস্তিক কমিউনিস্ট প্রভৃতি প্রতিপন্ন করার কোনো মতলব যদি এখানে তাদের মধ্যে থাকত, তাহলে অনন্যোপায় হয়ে নিজের শিষ্যর জানাজা নিজে পড়ানোর মধ্য দিয়ে করিমের মধ্যে আচারগত যে-অনিবার্যতাটুকু প্রকাশ পায়, তা এই সাক্ষাৎকারে চেপে যেতে পারতেন।

সাক্ষাৎকারে অন্য আরেকটি প্রশ্নে কোরান হাদিস-সিদ্ধতার দোহাই দিয়ে বলা হয়েছে যে, দু-কাঁধের ফেরেস্তাকে তিনি মান্য করেন কি না, করিম সেটির উত্তর-দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি, এতে আরো বলা হয়েছে তিনি বেহেস্ত দোযখ মানেন কি না, করিম জবাবে বলেছেন, ইহকালের উপর জোর দিয়ে পরকালেও যে তার অস্তিত্ব আছে সেই বিশ্বাস ব্যক্ত করেন, যদিও তাঁর এই বিশ্বাসটি রূপক না বাস্তব তা স্পষ্ট করে কোথাও বলেন নি।

__________________________________চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৫
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×