somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং বৃহৎ সংকোচন

১০ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এ মহাবিশ্বের এমন কোনো স্থান খূঁজে পাওয়া যাবে না যা মূলত স্থির রয়েছে। আমাদের ক্ষুদ্র এ পৃথিবীও সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রতি সেকেন্ডে ১৬ মাইল বেগে ছুটে চলেছে। সূর্য গ্যালাক্সিকে আবর্তন করে চলেছে তার সমস্ত পরিবার নিয়ে। আমাদের মিল্কওয়ে গ্যালাক্সি, যার ব্যাস হচ্ছে এক লক্ষ আলোকবর্ষ সেও সূর্যের কক্ষপথকে ২৪০ মিলিয়ন বছরে একবার আর্বতন করছে। আইনস্টাইনের চোখে যেমন কোনো কিছুই ধ্রুব নয় তেমন্ মহাবিশ্বের পরম স্থিতি বলেও কিছু নেই। মহাবিশ্বের প্রতিটি অনু পরমানু ও গতিশীল। গ্রিক বিজ্ঞানী অ্যারিস্টল পৃথিবী কে মহাবিশ্বের কেন্দ্র করে অসীম মহাবিশ্বেটাকে একদম ছোট করে ফেলেছিলেন। চরম ভুল করেছিলেন তিনি। নিউটনের পক্ষেও মহাবিশ্বের কেন্দ্র নির্ণয় করা সম্বব হয়নি। মহাবিশ্বের কেন্দ্র নির্ণয় আদৌ সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ আছে। ১৯২৯ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল ঘোষনা করেন যে গ্যালাক্সি সমূহ প্রতিনিয়ত আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ তথ্য থেকে আপাতদৃষ্টিতে অ্যারিস্টটলের ধারনাই সঠিক মনে হতে পারে । আসল ঘটনা হচ্ছে হাবল যদি পৃথিবীর বাইরে অন্য কোন গ্রহে বসে এরকম ঘোষনা দিতেন তবে তিনি একই কথা বলতেন। মূলত আমাদের মহাবিশ্ব সব জায়গা থেকে প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এ মহাবিশ্বের সম্প্রসারন ঘটছে। আর এ সম্প্রসারনীল মহাবিশ্বের কথাই বলেছেন বিজ্ঞানী এডউইন হাবল। ব্যস্ততম এ সম্প্রসারনশীল মহাবিশ্বের ধারণা থেকেই বিজ্ঞানীগন এ প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। এটি সমস্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বের এমন একটি অবস্থা যখন অসীম ঘনত্বের এক উত্তপ্ত বিন্দু ব্যতীত সমস্তটাই সীমাহীন শূন্য। এই অসীম ঘনত্বের বিন্দুটিকে সিঙ্গুলারিটি বলা হয়। সিঙ্গুলারিটি নামক এই অসীম ঘনত্বের উত্তপ্ত বিন্দুটির মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমেই মহাবিশ্ব ছড়িয়ে পড়ে। মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রাথমিক এ ঘটনাকে বিগ ব্যাংগ থিওরি বলা হয়। এ বিগ ব্যাংগ সংঘটনের মাধ্যমেই সময়ের সৃষ্টি হয়। আজ থেকে প্রায় ১৩০০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাংক পর্যায়ে শীতল ও ঘনীভূত অবস্থায় সৃষ্টি হয় গ্যালাক্সি। গ্যালাক্সিগুলোর অভ্যন্তরে চক্রাকারে ঘূর্ণায়মান নীহারিকা ঘনীভূত হয়ে তৈরি হয় নক্ষত্র। গ্যালাক্সিগুলো একে অপরের থেকে প্রতিনিয়ত দূরে সরে যাচ্ছে। যে সমস্ত গ্যালাক্সির দূরত্ব অন্য গ্যালাক্সির থেকে যত বেশি সে সমস্ত গ্যালাক্সির দূরে সরে যাবার বেগও তত বেশি। এভাবেই মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে যে সম্প্রসারন শুরু হয়েছিল বিগ ব্যাংগ সংঘঠিত হওয়ার মুহূর্ত থেকে। মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে হতে বিরাট আয়তন প্রাপ্ত হবে এবং তারপর আবার চুপসে যাবে। এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম বইয়ে এমনটিই লিখেছেন তাত্ত্বিক পর্দাথবিজ্ঞানী স্টিফেন ডব্লু হকিং। এ মহবিশ্ব যেমন সম্প্রসারিত হচ্ছে তেমনি এক সময় সংকুচিত হবে। বর্তমানে প্রাপ্ত উপাত্তহতে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন এ মহাবিশ্বে হয়তো সমতল এবং অসীম সময় পর্যন্ত এর সম্প্রসারণ চলতে থাকবে এবং এরপর থেমে যাবে। পরে হয়তো নক্ষত্রপুঞ্জসমূহ পরস্পরের দিকে ধাবিত হবে এবং সংকোচন ঘটাবে। স্টিফেন হকিং এর মতে এক অর্থে কৃষ্ণগহ্বর থেকে দূরে থাকলেও (বিশ্ব চুপসে গেলে বা সংকোচিত হলে) আমাদের সবার মৃত্যু অবধারিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এ মহাবিশে¡র প্রতিটি বস্তুই ইলেকট্রন প্রোটন এবং নিউটন এ তিনটি মৌলিক কণিকা নিয়ে গঠিত। কোনো বস্তু হতে যখন কোয়ান্টাম বা ফোটন নির্গত হয় তখন আমরা উক্ত বস্তুকে দেখতে পাই। মহাবিশ্বে এমন অজস্র বস্তু রয়েগেছে যা আজও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা এরকম বস্তুর অস্তিত্ব আছে এবং শুধু অস্তিত্বই নয় বরং তা আমাদের পরিচিত বস্তু সমূহকেও পরিমানে ছাড়িয়ে যাবে। ধারণা করা হয় মহাবিশ্বর ৯০ শতাংশ এ অনাবিস্কৃত বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত। এ অদৃশ্য বস্তুসমূহকে ডার্ক ম্যাটার বলা হয়। এ অনির্ণীত ডার্ক ম্যাটার এর অদৃশ্য শক্তিই মহাবিশ্বকে পরিচলিত করেছে বলে ধারনা করা হয়। মহাবিশ্বের ভারসাম্যও বজায় রাখছে ডার্ক ম্যাটার। সাম্প্রতিককালে বহু বছর পূর্বের দুটি বিশাল গ্যালাক্সির মধ্যাকার সংঘর্ষের তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ডার্ক ম্যাটার এর অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রায় নিশ্চিত হতে চলেছেন। এ ব্যাপারে ম্যাক্সিম মার্কেডি এর মন্তব্য হচ্ছে বিগ ব্যাংয়ের পরে এটাই সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক ঘটনা। ভবিষ্যতে যদি ডার্ক ম্যাটার এর অস্তিত্ব পুরোপুরি ভাবে নির্ণয় করা যায় তবে এ মহাবিশ্বের শেষ পরিণতি সম্পর্কে সঠিক বিষয় বির্ধারন করা যাবে। অতএব মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে।



সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৩৩
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×