প্রজাতন্ত্রের কর্মক্ষেত্রে শিবির বিলোপ অধ্যাদেশ-২০০৮। বাঙালীর প্রাণের দাবী লেখাটা পড়ে কলম ধরতে মনে চাইলো।
ছাত্রশিবিরের ছেলেপেলে কোথায় জয়েন করলো, কোথায় প্রভাব বিস্তার করলো তা নিয়ে আমাদের সকলের অনেক মাথাব্যাথা। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক ও নয়। ব্যক্তিগত জীবন বিশ্বাসের বিপরীত নীতিতে চলতে থাকা কাউকে সমাজ জীবনে প্রভাবশালী হতে দেখলে খারাপই লাগে।
কিন্তু, কথা হলো আমাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে।
স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ জনাব আবুল বারাকাত যে তথ্যটুকু আমাদের দিলেন, তাতে আতংকিত হবার হয়তো যথেষ্ট কারন রয়েছে। কিন্তু, আমাদের কথা হলো, "ক্যাম্পাসগুলির মতো সব জায়গায়ই তাদের সাইজ করতে হবে" কিংবা "''প্রজাতন্ত্রের কর্মক্ষেত্রে শিবির সাইজ অধ্যাদেশ''- এই পদ্ধতিতে কি আদৌ কতটা সমাধান সম্ভব?
আমাদের দেশে সরকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে যতই দুর্নীতি হোক না কেন, এ কথা অস্বীকার করবার যো নেই যে, নূণ্যতম পড়াশোনা না করে খুব একটা কেউ এসব নিয়োগ পায় না। ফাঁকটা রয়ে গিয়েছে সেখানেই।
বিসিএস প্রভৃতি সরকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে যে নিবীড় অধ্যয়ন প্রয়োজন তা পরীক্ষার্থী মাত্রই জানেন। আর তর্কাতিত ভাবেই এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শিবিরের ছেলেরা অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের ছেলেপেলেদের চেয়ে গড়পড়তা বেশি একাডেমিক। দলীয়ভাবে তারা সারা দেশে অনেকগুলো কোচিং সেন্টার চালায় এবং নিজেদের ছেলেদেরকেই এখানে মাষ্টারি করিয়ে দরকারী বিদ্যা ঝালিয়ে নেয়। আবার, বিসিএস পরীক্ষার আগে নিজেদের উদ্দ্যোগেই ভাল কোচিংএর ব্যবস্থা করায়। এসবের মাধ্যমে ওরা এমনিতেই অনেক দূর এগিয়ে যায়।
ফলে, রাজনীতিতে সক্রিয় ছেলেদের মধ্যে শিবিরের ছেলেরা এইসব পরীক্ষায় এগিয়েই থাকে। পরেরদিকে, কি হয় সেটা আমার জানার কথা নয়।
এখন, কথা হলো একজন যোগ্য প্রার্থীকে শুধুমাত্র ''শিবির করতো তাদের বাদ দেয়া" এই পদ্ধতি আমাদের অতি আবেগ এবং চিন্তার দৈন্যতারই বহিঃপ্রকাশ। শিবির কেন এগিয়ে গেল এই রাগে নিজেরা ও পড়ব না, ওদেরকে ও কাজ করতে দেবোনা- এ ধরনের পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত দেশটাকেই পিছিয়ে দেবে। সামনা-সামনি মোকাবেলা করতে না পারলে এভাবে তাদেরকে হঠানো যাবেনা- এই কথা বিগত ৩৭ বছরে বহুবার প্রমানিত হয়েছে।
আবেগের পাহাড় থেকে বাস্তবতার ধূলিতে নেমে আসতে না পারলে এই সব অধ্যাদেশ কোন কালেই কাজে আসবেনা। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের ও উচিত এ ব্যাপারে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া। "বাস্তব পদক্ষেপ" বলতে অবশ্যই আমি "ক্যাম্পাসগুলির মতো সব জায়গায়ই তাদের সাইজ করতে হবে" - এ ধরনের কথা বলছি না। এই কাজ করে যে হিতে-বিপরীত হয়েছে তার জন্য চবি, রাবি, শাবিপ্রবি এবং অধূনা ঢাবিতে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব-প্রতিপত্তির উদাহরণই যথেষ্ট। টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজির দিকে একটু কম মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার দিকে মন দিলে হয়তো ভবিষ্যতে শিবির ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

