একটা বিশেষ বিষয় নিয়ে কথা বলতে কলম ধরলাম আজ। আর তা হলো "গালিগালাজ"।
আমাদের এই ব্লগের কিছু সংখ্যক চিহ্নিত ব্লগার (পরিচয় উল্লেখ করা বাহুল্য মনে করছি) ইদানিং কথায় কথায় এক আরেকজনের চৌদ্দপুরুষ-পূর্বপুরুষ ধরে যেভাবে গালিগালাজের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন তা কখনোই শোভনতার পর্যায়ে পড়ে না। মানুষে মানুষে মতের অনৈক্য, ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অমিল থাকাটাই স্বাভাবিক; কিন্তু তাই বলে মতের বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত রেষারেষির পর্যায়ে টেনে নিয়ে যাওয়া কখনোই ভালো লক্ষণ নয়। নৈতিকতা-সভ্যতার দৃষ্টিকোন থেকে এর কুফল না বললেও চলে। পৃথিবীর কোন ধর্মই (হোক তা ইসলাম, হিন্দু কিংবা অন্য কোন ধর্ম) একে সমর্থন করে না। অথচ, আধুনিকতা-মুক্তবুদ্ধির সমর্থক কেউ কেউ তো এখানে গালিগালাজকে একটা শিল্পকর্মের(!) স্থরে উন্নীত করেছেন। অন্যদিকে, আরো মজার ব্যাপার হলো, এই ব্লগের ইসলামের(!) তথাকথিত ধ্বজাধারীদের অনেকেই (পরিচয় উল্লেখ করছিনা) আবার এই কাজে ভয়াবহ রকমের পারদর্শী। অনেকটা "কেউ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান"! এদিকে আমার মত যাঁরা ছাপোষা (সাতে ও নেই, পাঁচে ও নেই), যাঁরা মতামত দেয়ার চাইতে মতামত পড়তে বেশি ভালোবাসেন তাদের তো নাভীশ্বাস উঠে যাবার যোগাড়! এ ব্যাপারে সকলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করাটা নিশ্চয়ই দোষনীয় কিছু নয়। একটু পরমতসহিষ্ণু হলেই মনে হয় আমরা একটা সুন্দর এবং প্রানবন্ত ব্লগ পাবো। সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এই কামনায় কুরআন- হাদীসের কয়েকটা রেফারেন্স দিতে বাধ্য হলাম। অন্যদের ও কাজে লাগতে পারে।
আল কুরআনঃ
"ভাল আর মন্দ কখনোই সমান নয়; তুমি মন্দ প্রতিহত কর সবচাইতে ভালো দিয়ে-তাহলে দেখবে তোমার শত্রুই হবে অন্তরঙ্গ বন্ধু। এই গুনাবলীর অধিকারী হয় তারাই যারা ধৈর্য্যশীল; এই গুনাবলীর অধিকারী হয় তারাই যারা মহাভাগ্যবান।"
(সুরাহ হা-মীম-আস্সিজদাহঃ ৩৪-৩৫)
আল হাদীসঃ
১. এক ব্যক্তি হযরত আবু বকরকে (রাঃ) সমানে গালিগালাজ দিয়ে যাচ্ছিলো; আর তিনি চুপচাপ তা হজম করে যাচ্ছিলেন। কাছেই মহানবী (সঃ) বসে বসে তা শুনছিলেন আর মিটিমিটি হাসছিলেন। কিছুক্ষন পর অধৈর্য্য হয়ে আবু বকর (রাঃ) ও ঐ ব্যক্তিকে একটি গালি দিয়ে বসলেন। সাথে সাথে মহানবীর (সঃ) মুখ কালো হয়ে গেল; তিনি সেখান হতে উঠে চলে এলেন। আবু বকর (রাঃ), মহানবীর (সঃ) পেছনে পেছনে এলেন এবং জানতে চাইলেন কেন প্রথমে তিনি হাসছিলেন আর কেনইবা পরে উঠে এলেন? মহানবী (সঃ) তাঁকে বললেন, "যখন তুমি নিশ্চুপ হয়ে গালাগাল হজম করছিলে, তখন আল্লাহর একজন ফেরেশতা তোমার হয়ে ঐ লোকের উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলো। তাই হাসছিলাম। যেই তুমি মুখ খুললে অমনি ফেরেশতা চলে গেলো আর শয়তান এসে সেখানে বসলো। আমি তো শয়তানের সাথে এক স্থানে বসে থাকতে পারি না; তাই উঠে এলাম।"
(রেফারেন্স জানা নাই; একজন পরিচিত থেকে শোনা হাদিস। প্রাসংগিক বিধায় উল্লেখ করলাম।)
2. The Prophet said, “Abusing a Muslim is Fusuq (an evil doing) and killing him is Kufr (disbelief)." (Bukhari :: Book 1 :: Volume 2 :: Hadith 46 )
3. Narrated Al-Ma'rur: At Ar-Rabadha I met Abu Dhar who was wearing a cloak, and his slave, too, was wearing a similar one. I asked about the reason for it. He replied, "I abused a person by calling his mother with bad names." The Prophet said to me, 'O Abu Dhar! Did you abuse him by calling his mother with bad names? You still have some characteristics of ignorance. Your slaves are your brothers and Allah has put them under your command. So whoever has a brother under his command should feed him of what he eats and dress him of what he wears. Do not ask them (slaves) to do things beyond their capacity (power) and if you do so, then help them.' “(Bukhari:: Book 1 :: Volume 2 :: Hadith 29 )
সবশেষে বলতে চাই, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত দেবার জন্য এই লেখাটা লিখিনি। তারপরেও, কেউ মনে আঘাত পেলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


