আমার প্রিয় পোস্ট

সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত...............।

~~মৃত্যুচিন্তায় কেটেছিল তিন দিবস আর তিন রজনী!~~

২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪৩

শেয়ারঃ
0 0 0

আমাদের রবীবাবু একটা মারাত্মক জিনিস। একই কথাকে কত রকমে ঘুরিয়ে বলা যায় তার জ্বলন্ত উদাহরন বুড়োটা। কম বয়সে লিখলেন,"মরণরে তুঁহু মম শ্যাম সমান" আর একটু বয়স হতেই বলে দিলেন, "মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে"!

বাদ দিন; লাইনে আসি। গত সপ্তাহের শেষে জ্বরে পড়েছিলাম। আমার জ্বর আবার একটু অন্য ধাঁচের। পড়লেই ১০২-১০৩ ডিগ্রি। মাথাব্যাথা, সর্দি-কাশি আর মাঝে মাঝে বমি। কিছুক্ষনের জন্য জ্বর নেমে যায়, আবার যেই কে সেই। এভাবেই তিন-চারদিন কেটে গেলে তারপরেই জ্বর বাবাজি কিছুটা পোষ মানেন। এবারো, এর ব্যতিক্রম কিছু হয় নি।

যে সময়টুকুতে জ্বর থাকে না, সে সময় আমি বই-টই পড়ে কাটাই, বিশেষ করে যে সব বই যেগুলো অনেক দিন ধরে চেষ্টা করেও পড়তে পারি নি । যেমন- এবার শেষ করলাম মারিয়ো পুজোর 'গডফাদার'; অবশ্য মূল বই নয়, সেবার অনুবাদটি। ইংরেজী বই হতে রস আস্বাদনের মত কলিজার জোর এখনো অর্জন করতে পারি নি, বিশেষ করে জ্বরের ঘোরে তো নয়ই।

যাই হোক, যে সময়টাতে প্রবল জ্বর থাকে, তখন অন্য রকম একটা ব্যাপার ঘটে। আশ্চর্য্য একটা ঝিম ধরা অনুভূতি। প্রচন্ড তাপে পুরো মাথাটাই যেন হালকা হয়ে যায়। সে সময় ক্ষিধে-তৃষ্ণার মত ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে কোন চিন্তাই থাকে না। খুব উপরের লেভেলের চিন্তা ভাবনা মাথায় খেলা করতে থাকে। যেমন- এবার ছিল মৃত্যুচিন্তা। তিন দিন ধরে ঘুরেফিরে মাথার ভেতরে শুধু একই ব্যাপার। এমন নয় যে, প্রবল অসুখে কিংবা অধূনা জনপ্রিয় টার্ম 'সোয়াইন ফ্লু'য়ের আশংকায় দূর্বল হয়ে মৃত্যুভয়ে এসব চিন্তা; বরং কেমন যেন একটা আধ্যাত্মিক ব্যাপার। ছোটবেলায় আমি বেশ ক'বার মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। সে সব স্মৃতিই বারেবার মনে আসছিল।



দুটোর কথা বলি।
এক.
তখন সবে স্কুলে ভর্তি হয়েছি। ছোট চাচার বিয়েতে সবাই মিলে বাড়ী গিয়েছি। চাচা-ফুফুদের ঐ জেনারেশনের শেষ প্রতিনিধিটির বিয়ে, সে হিসেবে গোটা বাড়ি লোকে লোকারণ্য। আনুপাতিক হারে আমার বয়সী বাচ্চা-কাচ্চা তো এক দঙ্গল। ততদিনে দুষ্টুমি-চঞ্চলতায় আমি বেশ নাম কামিয়ে ফেলেছি। গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ছি; অসমবয়সী কাজিনদের সাথে মারামারি বাঁধিয়ে দিচ্ছি। সে কারনে এত লোকজনের ভীড়েও আম্মু সব সময়ই আমায় চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু, কীভাবে যেন ঠিক হাতছাড়া হয়ে আমি সবার আড়ালে পুকুরের পাড়ে একাই লাফালাফি শুরু করলাম আর ফলাফল সোজা পানিতে। সাঁতার জানি না তখনো। পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছি। এদিকে ভয়ে চিৎকার ও করতে পারছি না। হাত-পা ছুঁড়তেও ভুলে গেছি। প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি সে সময় কিভাবে যেন এক ফুফাত বোনের চোখে পড়ে গেলাম আর সাথে সাথে উদ্ধার। সে যাত্রায় বেঁচে গেলাম। এর দু'বছর পরেই আমার আরেক ফুফাত বোন পুকুরে ডুবে মারা যায়। ও কিন্তু ভাল সাঁতার জানত! একেই কী নিয়তি বলে?

দুই.
এ ঘটনার মাস দশেক পর। আমরা এখন যে কলোনীতে থাকি সেখানে মাত্র আগের দিনই এসেছি। কলোনী মানেই তো বিশাল মাঠ আর সমবয়সী এক দঙ্গল ছেলেমেয়ে। কিন্তু, প্রথম দিন বলে আম্মু নামতে দিচ্ছেন না। সর্বোচ্চ দোতলার ল্যান্ডিঙে বসে বাচ্চা-কাচ্চাদের লাফালাফি দেখার অনুমতি পাওয়া গেল। ওখানে ল্যান্ডিঙের পাশেই ছিল একটা ল্যাম্পপোষ্ট আর কী একটা ঝুঁকে দেখতে গিয়ে আমি সেই ল্যাম্পপোষ্টটা ধরেই একটু ভর দিতে গেলাম। ঐ ল্যাম্পপোষ্টটা দু’দিন ধরে যে সর্ট সার্কিট হয়ে আছে কেউ জানত না। আমার তো জানার প্রশ্নই ওঠে না। মূহুর্তেই ২২০ ভোল্টের কারেন্ট শরীরে এমন এক কম্পনের সৃষ্টি করল যার তুলনা দেয়া সম্ভব নয়। দুই কি তিন সেকেন্ড- আমি প্রায় নির্জীব হয়ে গেছি এমন সময় আমাদের সে সময়ের কাজের ছেলেটা কিছু না বুঝেই আমাকে একটা ধাক্কা দিল আর সে ধাক্কাতেই বোধ হয় বেঁচে গেলাম! তবে ঐ দূর্ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন রূপে আমার ডানহাতের তালুতে একটা দৃষ্টিনন্দন পোড়া দাগ আমি বহন করে চলেছি গত বিশ বছর। আর আমাদের ঐ কাজের ছেলেটি (পরবর্তীতে যার নিজের সংসার হয়েছিল এবং আরো পরে মস্তিষ্কবিকৃতি দেখা দিয়েছিল), বছরদুয়েক আগে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। কেউ বাঁচাতে আসে নি।

পরবর্তী জীবনে ছাত্র রাজনীতির সময়ও এমন একটা-দু'টো অভিজ্ঞতা আছে; ও না জানালেই ভাল হবে।

এর মাঝেই শুক্রবার রাতে দশ মিনিটের জন্য ব্লগে এলাম আর নাহিদার কথাটা শুনে আরো বিমর্ষতায় আক্রান্ত হলাম। এত মানুষের ভালবাসা, নিঃস্বার্থ পরিশ্রম আর সাহায্য- কোন কিছুই মেয়েটার অমোঘ নিয়তিকে আটকে দিতে পারল না! সেদিন রাতেই যখন প্রচন্ড জ্বর আর মাথাব্যাথায় অস্থির হয়ে আম্মুকে ডাকছিলাম, (নিজেকে ভাল মানের আস্তিক দাবী করা সত্ত্বেও ব্যাথা-বেদনায় আমি কেন যেন মুখ ফুটে সবার আগে মা'কেই ডাকি!) তখনি হঠাৎ, এসব ছাপিয়ে আমার মনে হল, ভারতের অত্যাধুনিক ডাক্তারী যন্ত্রপাতির আবরনে শুয়ে থেকে ঐ দূর্ভাগা মেয়েটা শেষসময়ে তার আপনজনের স্পর্শ পেয়েছিল কি? মৃত্যু যখন সবদিক আঁধার করে মেয়েটিকে ঘিরে ধরেছিল, তখন কি সে অন্তত মা'কে সাথে পায় নি? জানি না আর কোনদিন জানতে পারব কীনা তাও জানি না! তবে, সেই মূহুর্তে আমার মাথাব্যাথা কমে গিয়ে এক অব্যক্ত হাহাকারে বুকটা শূণ্য হয়ে উঠেছিল।



বহুদিন ধরে পুষে রাখা, মৃত্যু নিয়ে নিজের একটা ফ্যান্টাসীর কথা বলে শেষ করি।
মৃত্যুযন্ত্রনায় নীল হয়ে আসা আমার শিথিল হয়ে আসা মাথাটা কোলে নিয়ে বসে আছে কোন এক মায়াময়ী (যার নাম-চেহারা কিছুই আমার কাছে স্পষ্ট নয়)। শেষ মূহুর্তে যখন সে কাঁদতে শুরু করবে তখনি ঝুম বৃষ্টির ছাঁট এসে আমাদের দু'জনকেই ভিজিয়ে দেবে। কান্নামাখা বৃষ্টি অথবা বৃষ্টিমাখা কান্নায় ভিজে ভিজে আমি পাড়ি দেব অকূল দরিয়া! এর ক'বছর পরেই এনরিক ইগ্লেসিয়াসের (Enrique Iglesias) একটি গানে এরকমই একটা দৃশ্য দেখেছিলাম। স্বপ্ন দেখার উপর কপিরাইট আইন থাকলে ঠিকই মামলা করে দিতাম!

 

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬
গোয়েবলস বলেছেন: আমার ও জ্বর হইচিল।এখনও ধাক্কা সামলাই উঠতে পারিনাই।:(( :((
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:১৫

লেখক বলেছেন: আমিও।
এখনো বেশ দূর্বল।

২. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭
ভাঙ্গন বলেছেন: নাহিদা ওপারে সুখে থাক।।

.
আর আমার জ্বর হলে ছেরাব্যারা অবস্থা হয়!
আইজকা আবার ফ্রিজের পানি খাইয়া ঠান্ডা লাগাইসি।
দেখার কেহ নাই!
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪

লেখক বলেছেন: আহারে........
দুঃখ....
একটা বিয়া কৈরালান।

আর নাহিদার জন্য শোক ও ভালবাসা।

৩. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৫৪
“রুবেল” বলেছেন: জ্বর থেকে যেন টাইফোয়েট না হয়।
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৬

লেখক বলেছেন: আল্লাহ না করুন।

৪. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৫৮
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: উচ্চমার্গের জ্বর হইলে তো জ্বরই ভালো।
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৯

লেখক বলেছেন: কন কিতা! শামীম ভাই?

৫. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:০৩
রোহান বলেছেন: আমার জ্বর ঠান্ডা কিছুই হয় নাই ইদানিং ;)

এনরিক এর হিরো গানের ভিড্যুটা তাইলে তোমার স্বপ্ন নকল কইরা বানাইছে... হুমমমমমম
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০২

লেখক বলেছেন: গানটা কি হিরো আছিলো নাকি?
মনে নাই।

৬. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:১৫
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন: দ্যাখো, প্রথম যাত্রায় তুমি বেঁচে গেলে কিন্তু মারা গেলো তোমার এক বোন। দ্বিতীয় দফায়ও তুমি বেঁচে গেলে কিন্তু পরবর্তীতে তার বলি হলো তোমার ত্রাণকর্তা সেই ছেলেটি। তবেই বোঝো তুমি কেমন কুফা !! ;) =p~
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০৫

লেখক বলেছেন: হুমম.. খারাপ বল নাই।

৭. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:১৬
রোহান বলেছেন: আরে তাইতো তোমার মইধ্যে তো কুফা ভাব সেরম। এইবার জ্বরের কুফা আবার যানি কার উপরে পড়ে ;)
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:১০

লেখক বলেছেন: আল্লাহ না করুন।

২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:২৯
অপ্‌সরা বলেছেন: আমারও জ্বর এসেছে। এমনিতে আমার মত সুস্থ্য মানুষ নেই । একটু মাথা ব্যাথাও কখনও হয়না। তাই জ্বর আসায় ভাবছি সোয়াইন ফ্লু কিনা।

যাইহোক লাস্টে তোমার লেখাটা একটা মৃত্যু কাব্য হয়ে উঠেছে।
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২৯

লেখক বলেছেন: তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে ওঠো।
সূচীকর্ম বিষয়ক পোষ্টের কদ্দুর?
ঐসব আজাইরা ফ্লু-টুএর নাম মুখে আনার দরকার নাই।

২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২

লেখক বলেছেন: হুমমমম...:( :( :(

১১. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৪১
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন: রোহানের বক্তব্যে উত্তম জাঝা ! ;)
২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:১১

লেখক বলেছেন: আইচ্ছা।

১২. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০৫
জনৈক আরাফাত বলেছেন: মৃত্যুচিন্তা নিয়মিত করিলে ইজ্জত নিয়মিত সামলে রাখা যায়!
২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২৩

লেখক বলেছেন: এইটা তো বড় জবরদস্ত কথা কইছেন ভাই!

২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:২৬

লেখক বলেছেন: তওবা- আস্তাগফিরিল্লাহ!
রোযা-রমযানের দিনে এইডা কী দিলা মিঞা!
আইচ্ছা যাও।
রযার পরে দেইখ্যা লমু। :P

১৪. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৪
শ।মসীর বলেছেন: নিয়তি - কি আর কমু।
২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:১৫

লেখক বলেছেন: সেটাই।

২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২৬

লেখক বলেছেন: :(

১৬. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৩৬
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: মরণরে তুঁহু মম শ্যাম সমান----- কয় জনের মৃত্যু শ্যাম সমান হয়।

খুব সুন্দর লিখেছেন। উপমা, তুলনা,--আবেগ, উপস্থাপনা সব মিলে অসাধারণ লাগল লেখাটা।

এবারে একটু উপদেশ, স্যালাইন খান বেশি করে দ্রুত সুস্থ্য হয়ে যাবেন।
২৯ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:১৮

লেখক বলেছেন: উপদেশের জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু, সমস্যা হলো, স্যালাইন খাওয়ার কথা শুনলেই আমার মনটা সব সময় বিষিয়ে ওঠে।

"অসাধারণ লাগল লেখাটা। "- এই অসাধারণত্ব যতটা না লেখার গুনে তার চেয়ে বেশী পড়ার গুনে..........।

১৭. ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:২২
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন: এট বেশী মৃত্যু আর এত অকালে দেখতে হয়েছে যে মৃত্যু নিয়ে আর কোনো ফ্যান্টাসী নাই, মনে হয় অনুভূতিও নাই। মৃত্যুকে এখন শুধু দেখে যাওয়া নির্মোকভাবে ;
দিনযাপনের বাকী বাস্তবতার মতই।
তোমার একসিডেন্ট দেখি আমার সাথেই মেলে। জীবনে প্রথমবার মরতে বসেছিলাম মায়ের নানা বাড়ীর দীঘিতে। এখন চমৎকার সাঁতার পারি, কিন্তু আজ পঁচিশ বছর পরও
সেই আতংক মাথাচাড়া দেয় ওই দীঘির পাশে গেলেই।
দ্বিতীয়বার খোলাপ্লাগে লেগে ঝলসে যাওয়া। ছয়মাস ছিলাম হাসপাতালে, এখনো একটা দাগ বয়ে চলি হাতে।
তৃতীয়বার অবিশ্রান্ত বমিতে ভয়ংকর ক্লান্ত হয়ে পড়ে থাকা, ঢাকার ব্যাচেলর নিবাসে কেউ নাই, মোবাইলটা টেবিল থেকে নেবার ও শক্তি ছিলো না।
সিস্টেমে ইমারজেন্সী হওয়ায় আমাকে ফোনে না পেয়ে অফিস থেকে পাঠানো ড্রাইভার এসে চারঘন্টা পর অজ্ঞান উদ্ধার করা।

বেঁচে আছি, এই ঢের !
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৪৭

লেখক বলেছেন: "বেঁচে আছি, এই ঢের !"

ভাল বলেছেন। কথাটা পছন্দৈছে। :)

১৮. ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:০০
পাথুরে বলেছেন: রোহান বলেছেন: আরে তাইতো তোমার মইধ্যে তো কুফা ভাব সেরম। এইবার জ্বরের কুফা আবার যানি কার উপরে পড়ে
----------------------------------------------------------------------

গত ৪ দিন যাবত সর্দি-কাশি, সোয়াইন ফ্লু নাকি কে জানে? তুই সুস্থ হইলি ক্যান????????? আর আমারেই পাইলি রোগ ঝাড়তে??
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩১

লেখক বলেছেন: আবার জিগস্‌।
এখন কী অবস্থা?

১৯. ৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭
পাথুরে বলেছেন: বাইরে ট্রাফিক জ্যাম, ভিত্রে মাথা জ্যাম। ব্যাপক আমোদ পাচ্ছি। :(
৩০ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৭

লেখক বলেছেন: কুভ বালু........

২০. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৭
আহমেদ রাকিব বলেছেন: তোমার ব্লগে এসে কেন জানি আমার মনে হলো তিনটা পোষ্ট আমি পড়িনি। তিনটা খুললাম। একটা একটা করে পড়তে গিয়ে দেখি আগের দুইটাই আমি আগে পড়েছি। শুধু এই পোষ্টটা পড়া বাকি ছিল। পড়ে ভালো লাগলো। মৃত্যু ব্যাপারটা জীবত সব মানুষের কাছেই কম বেশি একটা ফ্যান্টাসী। কেউ কেউ এটাকে ফ্যান্টাসী বানিয়েই হয়ত জীবন সাজায়। এটাকে গন্তব্য মেনে নিয়েই যতদিন হাসি আনন্দে বেঁচে থাকা যায়। সবাই যেখানে কুফা বিষয় খুঁজে পেল, সেখানটাতে আমার কেমন যেন একটা ভিন্ন অনুভূতি হচ্ছিল। হয়তো ওদের মৃত্যু সংবাদ ক্ষনিকের জন্য হলেও তোমাকে ভুগিয়েছে এক সূক্ষ্ণ যন্ত্রণায়। ওদের জন্য কিছু করতে পারার সুযোগ না পাবার যন্ত্রণায়। লেখাটা ভালো লাগলো। খুবই গোছানো। ভাল থাকো।
০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: এতদিন পরে এসে হলেও লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমি লিখি শুধুই আমার জন্য।
তাই বোধহয় এক একজন এক এক রকম অনুভূতির শিকার হয়। তবে, মৃত্যু ব্যাপারটা জীবত সব মানুষের কাছেই কম বেশি একটা ফ্যান্টাসী- এটি বেশ সত্যি কথা।

২১. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৬
অ্যামাটার বলেছেন: ব্লগে অনেক লেখার ভীড়ে একটা মনোমুগ্ধকর লেখা পড়লাম। সুন্দর। ঘটনা দুইটা পড়ে ভয় পেলাম। মৃত্যুচিন্তা থেকে পারতপক্ষে দূরে থাকি। নাহিদার আত্মার শান্তি কামনায়...
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: নাহিদার আত্মার শান্তি কামনা করছি।
ধন্যবাদ।

২২. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫১
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
এত সুন্দর একট লেখা.......মৃত্যু নিয়েও এত সুন্দর লেখা হতে পারে?
সাথে নিয়ে গেলাম।
অনেক শুভকামনা।লেখা চলুক........।
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৫

লেখক বলেছেন: কতটা সুন্দর হয়েছে বলতে পারবো না।
তবে, লিখবার সময় আবেগের কমতি ছিল না।

২৩. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪২
আকাশ অম্বর বলেছেন: ভালো লাগলো লেখাটা, তায়েফ আহমাদ।

অনেক শুভকামনা।
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, আকাশ অম্বর।
ভাল থাকুন।

২৪. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২০
রুবেল শাহ বলেছেন:

অসাধারণ লেখা..............

তবে এই ধরণের চিন্তা ভাবানাকে মাইনাস

====

দোয়া করবেন আমার জন্য

=======

ভাল থাক হয় যেনো..............
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১১

লেখক বলেছেন: এই ধরণের চিন্তা ভাবনাকে মাইনাস।
কই? মাইনাসটাকে তো খুঁজে পেলাম না!
:)

দোয়া থাকল।

২৫. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৪
লীনা দিলরূবা বলেছেন: সাঁতার জানি না তখনো। পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছি। এদিকে ভয়ে চিৎকার ও করতে পারছি না। হাত-পা ছুঁড়তেও ভুলে গেছি। প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি সে সময় কিভাবে যেন এক ফুফাত বোনের চোখে পড়ে গেলাম আর সাথে সাথে উদ্ধার। সে যাত্রায় বেঁচে গেলাম। এর দু'বছর পরেই আমার আরেক ফুফাত বোন পুকুরে ডুবে মারা যায়। ও কিন্তু ভাল সাঁতার জানত! একেই কী নিয়তি বলে?
---------------------
নিয়তি! হয়তোবা।
লেখাটা মন ছুঁয়ে গেল।
০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন: স্মৃতিচারণের মত হয়েছে লেখাটি-অনেকটা আত্মকথন।
মন ছুঁয়েছে জেনে ভাল লাগল।

২৬. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪২
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: আমি এখনো সাতার জানি না। আপনি জানেন? পানিতে ডুবে আমাদের স্কুলের একটা ছেলে মারা গিয়েছিল। বাচ্চাদের জন্মের পরই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাতার শেখান একটা অবশ্য কর্তব্য বাবা মায়ের।

আমরা দুজনেই ভাগ্যবান যে আমাদের মরতে হয় নাই। বাকী জীবন বোনাস।

মৃত্যুযন্ত্রনায় নীল হয়ে আসা আমার শিথিল হয়ে আসা মাথাটা কোলে নিয়ে বসে আছে কোন এক মায়াময়ী (যার নাম-চেহারা কিছুই আমার কাছে স্পষ্ট নয়)। শেষ মূহুর্তে যখন সে কাঁদতে শুরু করবে তখনি ঝুম বৃষ্টির ছাঁট এসে আমাদের দু'জনকেই ভিজিয়ে দেবে। কান্নামাখা বৃষ্টি অথবা বৃষ্টিমাখা কান্নায় ভিজে ভিজে আমি পাড়ি দেব অকূল দরিয়া!

ভাই চোখে পানি আইনা দেওয়ার মত কথা লেখছেন। আমার বাবা মায়ের ভালবাসায় সম্পর্ক মানে প্রেমের বিয়ে। সন্তান হিসেবেও তারা সবসময় ভালবাসায় আমাকে ঘিরে রেখেছেন। বাবা মা মাঝে মাঝে যখন মজা করে ঝগড়া করে, তর্ক করে মনে হয় স্বর্গের দরকার নাই আমি আমার বাবা মায়ের সাথেই থাকতে চাই। আমার মেজ খালাও প্রেম করে বিয়ে করেছেন। এইসব দেখে এখন মাঝে মাঝে বুকটা হাহাকার করে উঠে। আমি জানি আমার বাবা বা আংকেলের জন্য মায়াময়ীরা আছেন। উনাদের মাথা রাখার জন্য কোল আছে। সমস্যা হল উনাদের দেখে আমার কাছে সম্পর্কের মাপকাঠি অনেক উচুতে উঠে গেছে। সাধারণ সম্পর্কে আমি খুশী না। তাই মাঝে মাঝে বুকটা হাহাকার করে ওঠে।

ধুর শালা জীবন!
২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১২

লেখক বলেছেন: ঐ ঘটনার পরেই আমাকে জোর করে সাঁতার শেখানো হয়েছিল।:)
বাবা-মা'কে নিয়ে আপনার স্বর্গ রচিত হোক আর সেই স্বর্গে আসুক এক মায়াময়ী- এই কামনা রইল।

আর জীবনের উপরে রাগ করে লাভ নাই; মরার আগ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে হবে!
:|

২৭. ১৫ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৫
চতুষ্কোণ বলেছেন: লেখাটা অনেক আগে পড়া। তখন কারো কোন লেখাতেই কমেন্ট করতাম না। আমি কমেন্ট করা শুরু করি সম্ভবত সেপ্টেম্বর থেকে। যদিও আগষ্ট থেকেই নিয়মিত ব্লগ পড়া শুরু করি। লেখা ভাললেগেছিল। শুভকামনা।
১৫ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১১:২৩

লেখক বলেছেন: শুকনো ধন্যবাদ দেয়া ছাড়া আর কিছুই বলার নেই।

২৮. ০৯ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:৫৮
অলস ছেলে বলেছেন: হমমম। মরণরে, তুহু মম শ্যাম সম :)
১২ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:৫৯

লেখক বলেছেন: :(:(:(

২৯. ১৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:১৬
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: ঈমানে কইতাছি, আমি এই পোস্ট আগে পড়ি নাই। :)
তবে আমিও একবার মাল্টিপ্ল্যাগ নিয়ে মাতবরি করতে গিয়ে ইলেকট্রিক শক খেয়েছিলাম। মিনিটখানেক আটকে ছিলাম- তাও আবার ঘরের দরজা বন্ধ করে। বেঁচে যাওয়াটা আল্লাহর অশেষ নেয়ামত।
ঐ সময় আমার জীবনে মৃত্যুচিন্তা এসেছিল কঠিনভাবে। ক্লাস ফোরের ঘটনা কিন্তু এখনও সেই স্মৃতি ভুলতে পারিনি।
১৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:১৯

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, অভিজ্ঞতা শেয়ার করবার জন্য।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯০২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ঘুমাতে অত্যন্ত ভালোবাসি। আর ভালোবাসি পড়তে।
স্বপ্ন দেখি একটি স্বপ্নীল পৃথিবীর।
সত্যকে ভালোবাসি, হোক তা নিজের মতের বিপরীত।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই