আমার প্রিয় পোস্ট
- আসেন ফন্টের দুনিয়াই ভাইসা যায়(পৃথিবীর সব ধরনের ফন্ট কালেকশন)







- বিডি গ্লাডিওটোর
- জানুন আপনার সেল ফোনটি আসল কিনা














- টিপস ম্যান
- নাস্তানাবুদ নাস্তিকতা : নাস্তিকতার অসারতা প্রমাণকারী ব্লগ পোষ্ট সঙ্কলন - স্বর্ণলতা
- ·٠•●♥ •●♥ •♫♫♫♫♫ কালেকশনে রাখুন উপমহাদেশের সেরা কিছু ইনস্ট্রুমেন্টাল এ্যালবাম - আমার আপলোড করা ♫♫♫·٠ -•●♥ ♫♫♫·٠ - কবির চৌধুরী
- নিজের সম্পাদনায়->> নিজেই হয়ে যান: আবৃত্তিকার.. - মুসাফির...
- বাংলাব্লগের লিংক খুঁজছেন?? এই নিন বাংলা ব্লগের লিংক; আর মজা করে ব্লগিং করুন। - আজাদ আল্-আমীন
- সাইবারপরিসরে, বিকল্প মাধ্যমের খোঁজে - ফাহমিদুল হক
- মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে ব্লগ - এস. এম. রায়হান
- বিংশ শতাব্দীর কিছু উল্লেখযোগ্য বক্তৃতা - নাজনীন১
- তাবিজ-কবজ সম্পর্কে মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের বক্তব্য এবং এর জবাব - সৈয়দ মবনু
- বিনামূল্যে পড়ুন MIT (Massachusetts Institute of Technology) তে - আলামিনস্টাইন
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা মুসলমানদের জন্য আত্মহত্যা'মাওলানা আবুল কালাম আজাদ - শাহানূর
- জন হেনরীর হাতুড়ি: "আমি মেশিনের হবো প্রতিদ্বন্দ্বী" - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ***টিপসঃ ইসলাম বিষয়ক প্রশ্ন বা ইসলামকে হেয় করে কোন লেখা দেখলে যা করণীয়*** - উমর
- ফ্রী ই-বুক ডাউনলোডের জন্য সেরা ১০টি ওয়েব সাইট - ইমতিয়াজ মাহমুদ সজিব
- এন্টি গল্প > সেই ডানকানা মাছটি আর ফিরে আসেনি > - মনজুরুল হক
- ই-বুকঃ ইসলাম ও নাস্তিকতা ২০১০ - ফুয়াদ০দিনহীন
- নাস্তিকতার স্বপক্ষের বহুল প্রচলিত যুক্তি খণ্ডন - এস. এম. রায়হান
- যারা অনুবাদকৃত কোরআন এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ভালো WebSite Link চান, তাদের জন্য

- কঠিন চিজ
- ** নাম না জানা (!) কিছু অসাধারন ও ফাটাফাটি সফটওয়্যার ** - একান্ত কথা
- বাংলা ব্লগ'স্ফেয়ারে মুক্ত'চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ লেখা/পোস্ট/ব্লগ সংগ্রহের উদ্যোগঃ সচেতন সকলে'র অংশগ্রহন কাম্য … - মনির হাসান
- আমরা ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যাবো নাকি যাবো না? - যারা ৭২ এর সংবিধান ও বর্তমান সংবিধান এর মধ্যে বিরোধ কি তা ভালো ভাবে বোঝেন না, তাদের জন্য এই পোস্ট। - নাহিদ মাহমুদ
- ভাইরাস ডিলিট করুন manually - অনিকেত প্রান্তর
- তপঃসিদ্ধ এক শাহ আবদুল করিম - আকাশ অম্বর
- ইন্টারনেটের যে সাইটগুলোতে সারাদিন কাটাই

- অরণ্যচারী
- মুনাফিক মওদুদী - তুষারপাত
- আমার প্রিয় লেখাগুলি নিয়ে ই-বুক - নাজিল আযামী
- বাংলা বই এর সাইট - মাহবুব জামান আশরাফী
- কমেডী ভিডিওগুলো। হা হা চে থে প গে
- শূন্য আরণ্যক
- যুগে যুগে সামহয়্যার ইন ব্লগ (স্ক্রিনশট) - ইন্ঞ্জিনিয়ার
- সামহয়ারে আসার আগে আমি যে লেখকদের চিনতাম পরে সামহয়ারেও যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন - মাহবুব মোর্শেদ
- Task Manager ডিজাবল হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনবেন কিভাবে? - আলোকিত পৃথিবী
- স্মৃতির পাতা জুড়ে প্রিয় চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফত - সীমান্ত আহমেদ
- রাহুল দেব বর্মন আছেন, থাকবেন। চিরকাল.......... - কপোত
- যদি ফেসবুক সহ আরো সাইট ব্যান হয়, তাহলে কী করবেন? - ত্রিভুজ
- মুছে যাওয়া ফাইল, ফোল্ডার পুনরুদ্ধার করুন নিমেষে। - কপোত
- ফ্রী সিডি! ফ্রী সিডি!! ফ্রী সিডি!!! কত সিডি দরকার আপনার?
- ইন্ঞ্জিনিয়ার
- গ্রামীনফোন মোডেম দিয়ে অন্য অপারেটরের(একটেল, বাংলালিংক,ওয়ারিদ) ইন্টারনেট ব্যাবহার - ফরহাদুল কবির
- ভাবছেন নির্লজ্জ, কিচ্ছু যায়-আসে না ( আমার এটম বোম
) - মেঘ
- প্রসঙ্গ নজরুল-গান্ধী : চমকে ওঠা ইতিহাসে কিছু বিভ্রান্তির জবাব - আবু নাঈম
- বাংলাদেশী মুদ্রার সচিত্র ইতিহাস - তুষারপাত
- কিছু প্রয়োজনীয় Google Seacrh টিপস n' টার্মস
- নাফিস ইফতেখার
- দিগন্ত ছোঁয়া বাঁশরীর সুর - রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত
- জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্বগতোক্তি এবং বিক্ষিপ্ত প্রশ্ন - সোজা কথা
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- বিকল্প কিছু সার্চ ইঞ্জিন - নাসির খান
- ... তাহলে ইসলামের "প্রানীর ছবি আকা হারাম"-নির্দেশটি কতটা যৌক্তিক ? - মনির হাসান
- ব্লগে আপনার পড়া সেরা ফান পোষ্ট কোনটা ?? - চিলে কোঠার সেপাই
- সব বাংলা বর্ণ নিয়ে বাক্য -এর উদাহরণ - সিউল রায়হান
- আগুন কমেন্ট সংকলন - আই লাভ ব্লগিং
- পাঁচ মিনিটে উইন্ডোজ ইনষ্টল- টিউটোরিয়াল - নাজিরুল হক
- ঈমান জোরদার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগ হইতে সংগৃহিত ক্লাসিক লেখা - দ্বিতীয়নাম
- সবার জন্য দরকারী কিছু ওয়েবসাইট এর ঠিকানা - রন্টি চৌধুরী
- আগামীবার যখন উইন্ডোজ নতুন করে সেটআপ দেবেন....... - নাফিস ইফতেখার
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- ইসলাম শান্তির/অশান্তির ধর্ম নিয়ে ব্লগার আরিফুর রহমানের সাথে আলোচনা। - হ্যারি সেলডন
- সামহোয়ারে আপনার পড়া সেরা তিনটি লেখা কি কি? (উৎসর্গ, নাস্তিকের ধর্মকথা, বিবর্তনবাদী) - জ্বিনের বাদশা
- জয়নুল আবেদিনের কিছু ছবি... - নষ্ট মাথার দুষ্ট বালিকা...
- যে বই গুলো পড়া দরকার (সবগুলোর লিস্ট) - সপ্নীল
- দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া -- ব্লগে বসে বিশ্বভ্রমণ - রাগিব
জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজ্যে মুসলমানঃ উত্থান ও পতন পর্ব-১১
০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৩৬
![]()
ইসলামে নানান উপ-সম্প্রদায়ের উদ্ভব ও বিকাশ
পূর্ববর্তী পর্বগুলোর আলোচনা হতে সন্দেহাতীতভাবেই বলা চলে যে, ইতিহাসের একটি সুনির্দিষ্ট সময়কালে মুসলমানদের মধ্য হতে কাতারে কাতারে বিজ্ঞানীর আবির্ভাব ঘটেছে এবং তাঁরা বিজ্ঞানের জগতে সে সময়ে মৌলিক এবং অনন্য অবদান রেখেছেন। উক্ত সময়কালে তাঁদের মাঝে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দার্শনিকেরও আবির্ভাব ঘটেছে, যাঁদের অবদান এখনো বর্তমান। ফলে, দর্শনে মুসলমানদের অনেক বড় অবদান ছিল এটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই বলা চলে। কিন্তু, দর্শনে রাজ্যে মুসলমানদের বিচরনকে অন্যান্য ক্ষেত্রের মত এতটা সরলভাবে চিহ্নিত করা হলে নিশ্চিতরূপেই ভুল হবে। প্রকৃতপক্ষে, মুসলমানদের প্রাথমিক উত্থান থেকে শুরু করে রাজ্য বিস্তার, বিজ্ঞানে অবদান, সভ্যতা বিনির্মাণ, অন্তর্কলহ এবং পতন সহ তাঁদের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকেই দর্শনের একটি দৃশ্যমান অবদান রয়েছে। মুসলমানদের জীবনযাত্রা এবং জীবনদর্শন একে অপরকে সমানভাবে প্রভাবিত করেছে।
ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দিলে, বড়মাপের দার্শনিক বলতে যা বোঝায়, মুসলমানদের মাঝে তার প্রথম দেখা মেলে আল-কিন্দির(৮১৩-৮৭৩) মাঝে এবং ইবন রুশদ্(১১২৬-১১৯৮) হচ্ছেন এক্ষেত্রে শেষ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। রুশদের পরেও ক’জন বড়মাপের দার্শনিক আবির্ভূত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরীদের মত ততটা প্রভাব ফেলতে পারেন নি। ফলে, স্পষ্টতঃই নবম শতকের মাঝামাঝি(আব্বাসীয় শাসনামল) থেকে প্রথম বড় মাপের দার্শনিককে পাওয়া যাচ্ছে এবং দ্বাদশ শতকেই মোটামুটি দার্শনিকেরা তিরোহিত হয়ে গিয়েছেন। অথচ, মুসলমানদের বিজ্ঞানে অবদানের শুরু হিসেবে অস্টম শতকের প্রথমার্ধকেই চিহ্নিত করা যায় এবং তা চতুর্দশ শতক পর্যন্ত কম-বেশী চলতে থাকে!
এই পরিসংখ্যান থেকে যে কেউই চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারেন যে, দর্শনের জগতে মুসলমানরা অনেক দেরীতে আবির্ভূত হয়ে অনেক তাড়াতাড়িই আড়ালে চলে গিয়েছেন এবং দৃশ্যতঃই মুসলমানদের বিজ্ঞানে অবদানের সাথে দর্শনের পদচারনা খুব বেশী সম্পর্কিত নয়। অথচ, এ কথা সত্যের অপলাপ মাত্র। সত্যি কথা হচ্ছে, ইসলামের আবির্ভাবের প্রথম দিন থেকেই মুসলমানদের মাঝে দর্শনের চর্চা শুরু হয়। এই লেখার শুরু দিকে দর্শনের প্রাথমিক আলোচনায় আমরা বলেছিলাম, দর্শনের সাথে মূল সম্পর্ক হচ্ছে প্রজ্ঞার, আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, প্রজ্ঞার প্রতি ভালোবাসার এবং এ শাস্ত্র তার বিচার বিশ্লেষণের পদ্ধতির সাহায্যে জীবন ও জগতের বিভিন্ন মৌলিক সমস্যাগুলি (যেগুলো যে কোন বিষয় থেকে উদ্ভূত হতে পারে) সমাধানের চেষ্টা করে। এ কথা সর্বজনস্বীকৃত যে, ইসলাম মানুষ এবং তার চারপাশের জগত সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র জীবনদর্শন(সে দর্শন সঠিক না ভুল- সেটি ভিন্ন আলোচনা) নিয়ে উপস্থিত হয় এবং মুসলমানদের জীবনে তার বাস্তবিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে তোলে। পরবর্তীতে, সম্রাজ্যের বিশাল বিস্তৃতি, আধুনিকতার প্রসার, এবং জাতিগত নানান ঘাত-প্রতিঘাতে এ দর্শনের বহুমুখী এবং বহুমাত্রার বিস্তার ঘটে। ফলশ্রুতিতে, নবম শতকে আল-কিন্দির আবির্ভাবের পূর্বেই আমরা মুসলমানদের মাঝে অন্ততঃ আধা ডজন স্বতন্ত্র দার্শনিক দল(Group) বা স্কুলের(School) দেখা পাই এবং এই দলগুলোই পরবর্তী দার্শনিকদের মননে প্রভাব বিস্তার করেছে। সাথে সাথে বিজিত দেশসমূহের দর্শনের প্রভাব তো ছিলই।
তাই, এ কথা বলাই বাহুল্য যে, এই দার্শনিক দল কিংবা স্কুলগুলো সম্পর্কে না জেনে পরবর্তী দার্শনিকদের কাজের আলোচনা করা যুক্তিযুক্ত নয়। কেননা, এদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাবেই পরবর্তী যুগের দার্শনিকদের আবির্ভাব ঘটেছিল। আবার, এই স্কুলগুলোর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস না জানলে এদের লালিত দর্শন সম্পর্কেও ধারনা করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, আরবের বুকে ইসলামের আবির্ভাব(৬১০ খৃষ্টাব্দ) থেকে শুরু করে বাগদাদে আব্বাসীয় শাসন প্রতিষ্ঠার(৭৫০ খৃষ্টাব্দ) আগপর্যন্ত সময়কালের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরার কোন বিকল্প নেই।
তারও আগে, একটি কথা না বলে পারছি না। মুসলমানদের মাঝে বিভিন্ন দল-উপদল সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোন কোন সাহাবীর(মুহাম্মাদের(স) সান্নিধ্যলাভকারী অনুসারী) ব্যক্তিগত ভুল ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত। এক্ষেত্রে, তাঁরা দোষে-গুনে ভরা মানুষই ছিলেন, এ সত্য যেমনি অস্বীকার করার কিছুই নেই, তেমনি এটিও অস্বীকার করার জো নেই যে, মুহাম্মাদের(স) বাণী পরবর্তী অনুসারীদের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা নূন্যতম কোন অনীহা বা গাফিলতি প্রদর্শন করেন নি। অতএব, তাঁদের এইসব ভুলের(ইচ্ছাকৃত-অনিচ্ছাকৃত) কারনে তাঁদের প্রতি খারাপ ধারনা পোষন করা অন্ততঃ কোন প্রায়োগিক(Practical) মুসলমানের পক্ষে উচিৎ নয়। কেননা, এঁদের সম্পর্কে খোদ কুরআনেই বলা হয়েছে, ....رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ...’আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট এবং তাঁরাও আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট’ (৯৮:৮)। অন্যদিকে, মুহাম্মাদ(স) তাঁর অবর্তমানে তাঁর সাহাবীদের উচ্চমর্যাদার ব্যাপারে বারেবারে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। তাই, পরবর্তী অনুচ্ছেদসমূহ পড়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন আবশ্যক।
![]()
মুহাম্মাদের(স) আবির্ভাবকালে আরবের বিভিন্ন গোত্রের অবস্থান
৫৭০ খৃষ্টাব্দে মক্কায় সম্ভ্রান্ত কুরায়শ বংশের হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহন করে প্রায় চার দশকের নিস্তরঙ্গ জীবনযাপনের পর আরবের ‘আল-আমীন’(সত্যবাদী) মুহাম্মাদ (محمد; ৫৭০-৬৩২)(স) হঠাৎ করেই একদিন এক নতুন ধর্মমত প্রচারে ব্রতী হলেন। তৎকালীন সমাজের বিচারে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক জীবনাদর্শ এবং স্বভাবতঃই ক্ষমতাসীন গোত্রপতিদের হাতে এর আদর্শ প্রচারের কারনে তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিগ্রহের স্বীকার হলেন। প্রায় এক যুগের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিরোধী পক্ষের সাথে সংখ্যানুপাতে কম হলেও তাঁর অনুসারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং তাঁরাও অত্যাচারিত হতে থাকেন। এদের মাঝে ছিলেন স্বীয় স্ত্রী খাদিজা(خديجة بنت خويلد; ৫৫৫-৬১৯)(রা), আবুবকর(أبو بكر الصديق; ৫৭৩-৬৩৪) (রা), উমর(عمر بن الخطاب; ৫৮৬-৬৪৪)(রা), উসমান(عثمان بن عفان; ৫৭৯-৬৫৬)(রা), আলী(علي بن أﺑﻲ طالب; ৫৯৮-৬৬১)(রা) সহ আরও অনেকেই। বিদ্রুপবান, শারিরীক নির্যাতন হতে শুরু করে হত্যা পর্যন্ত সবই সইতে হলো তাঁদের। সুদীর্ঘ এক যুগ সব অত্যাচার নিরবে সহ্য করে তিনি তাঁর আদর্শকে প্রচার করে চললেন। কিন্তু, অত্যাচারের মাত্রা এত বেশী হয়ে ওঠে যে, তিনি অবশেষে তাঁর অনুসারীদের সাথে নিয়ে মক্কা হতে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরের ইয়াসরিবে শহরে চলে আসতে বাধ্য হন। সময়ের হিসেবে সেটি ছিল ৬২২ খৃষ্টাব্দ এবং তখন থেকেই ইয়াসরিব পরিচিত হতে থাকে ‘মদীনা’ নামে। এখানেই তিনি তাঁর মতাদর্শ প্রচারের এক উর্বর ক্ষেত্রের সন্ধান পেয়ে যান। ছোট্ট কিন্তু সুগঠিত একটি নগর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে পূর্ণোদ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। ফলে, একে অংকুরেই বিনষ্ট করবার হিংস্র প্রয়াসে চারিদিক হতে ছুটে এলো শত্রুতার উত্তাল তরঙ্গ। এমনকি, আভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের জাল ও তাঁর পথকে করে তুললো বিপদসংকুল। এবার, তিনি কিন্তু আর মুখ বুঝে সইলেন না, রুখে দাঁড়ালেন। সকল বাধা-বিঘ্নকে মোকাবেলা করলেন দক্ষ হাতে। প্রখ্যাত আরববিদ আলফ্রেড গিয়োমের(Alfred Guillaume; ১৮৮৮-১৯৬৬) ভাষায়, “এ সব লড়াইয়ে জড়িত প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা কখনোই কয়েক হাজারের বেশী যায় নি, কিন্তু গুরুত্বে তারা বিশ্বের সেরা নিস্পত্তিকারী যুদ্ধের সমান”। অবশেষে, যে জন্মভুমির মাটি হতে রিক্ত হস্তে তিনি বিতাড়িত হয়েছিলেন, আট বছরের মাথায় সেখানেই প্রবেশ করলেন বিজয়ীর বেশে- দশ সহস্র একনিষ্ঠ অনুসারী নিয়ে। হাতে গোনা কিছু চরম শত্রু ছাড়া মক্কার নেতা আবু সুফিয়ান(صخر بن حرب; ৫৬০-৬৫০)(রা) সহ সকল বিরোধীকেই তিনি ক্ষমা করে দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। জীবন সায়াহ্নে তিনি ছিলেন বার লক্ষ বর্গমাইল বিস্তৃত এক সুবিশাল সম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি। প্রায় লক্ষাধিক নিবেদিত অনুসারীর সামনে এক চিরস্মরণীয় বিদায়ী ভাষন দানের মাধ্যমে তার এই জাগতিক ও আধ্যাত্মিক সম্রাজ্যের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি এ ধরাধাম ত্যাগ করলেন।
মুহাম্মাদ(স) আজীবন ছিলেন গনতন্ত্রমনা এবং এর উৎকৃষ্ট নিদর্শন হিসেবে জীবনসায়াহ্নে তিনি তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনয়নের দায়িত্ব তাঁর অনুসারীদের হাতেই সোপর্দ করে যান। তাই, তাঁর অবর্তমানে উত্তরাধিকারী নির্বাচনে সামান্য মতদ্বৈততা দেখা দেয়, যা মনোমালিন্যে পৌঁছার পূর্বেই, সকলের নিকট সম্মানিত আবুবকর(রা) সর্বসম্মতিক্রমে নেতা নির্বাচিত হন। এ সময়ে তাঁর উপাধি হলো ‘খলিফাতুল মুস্লেমিন’(মুসলমানদের প্রতিনিধি- সংক্ষেপে খলিফা)। শুরু হলো সত্যাশ্রয়ী খলিফাদের যুগ- খোলাফায়ে রাশেদুন(الخلفاء الراشدون)। তাঁর দুই বছরের ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ শাসনামল এক রকম জাযিরাতুল আরবের বিদ্রোহীদলসমূহের দমনেই কেটে যায়। এর মাঝেও কুরআনের সকল পংক্তিকে তিনি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে যেতে সক্ষম হন। তাঁর পরে ৬৩৪ খৃষ্টাব্দে খলিফা নির্বাচিত হন উমর(রা)।
এখানে বলে রাখা ভাল, মুহাম্মাদের(স) জীবদ্দশায়ই পারস্য এবং রোম সম্রাজ্যের সাথে নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের ছোট-খাট সীমান্ত সংঘর্ষ চলছিল। এই উভয় সম্রাজ্যই ইসলামী রাষ্ট্রকে নিজেদের জন্য হুমকি বলে মনে করা শুরু করে দিয়েছিল। আবুবকরের(রা) সময়ের আভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারনে সেদিকে মনোযোগ দেবার ফুসরত মেলে নি। উমর(রা) দায়িত্ব গ্রহন করেই সেদিকে নজর দিলেন। সন্দেহ নেই, আগের দুই যুগের পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহ রোম-পারস্য দুই সম্রাজ্যকেই দূর্বল করে দিয়েছিল। তবু, সেই পতনের যুগেও এরা এক এক ময়দানে লক্ষাধিক সৈন্য সমাবেশে সক্ষম ছিল এবং অন্ততঃ আধা ডজন যুদ্ধে তারা সেটা করে দেখিয়েছেও। কিন্তু, ফলাফল শুন্য। যে মরুচারী জাতি অন্য গোত্রকে রাতের আঁধারে আঘাত হানার চেয়ে বেশী বীরত্ব দেখাতে পারে নি, কী এক অদ্ভুত ক্ষমতাবলে তাঁদের মধ্য হতে খালিদ বিন ওয়ালিদ(خالد بن الوليد; ৫৯২-৬৪২)(রা), আমর ইবনুল আ’স(عمرو بن العاص; ৫৭৩-৬৬৪)(রা), সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস (سعد بن أبي وقاص; ?-৬৬৪)(রা) আর মুসান্না ইবন হারিসার মত দিগ্বিজয়ী বীর। তাঁদের সম্মিলিত আক্রমনের মুখে অর্ধযুগ অতিক্রমের আগেই হাজার বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত পারস্য সম্রাজ্য ধূলায় মিশে গেল আর রোম সম্রাজ্য বস্ফোরাসের ঐপারে ইউরোপের কোনায় টিমটিমে হয়ে জ্বলতে লাগল। সভ্যতার দুই আদিভূমি মেসোপটেমিয়া আর মিসর মুসলমানদের অধিকারে আসে এ সময়েই। অবশ্য, উমরের(রা) সময়ে মুহাম্মাদের(সা) সাথে নৈকট্যের ভিত্তিতে ভাতার পরিমান নির্ধারন কিছুটা ধন-বৈষম্যের সৃষ্টি করে, যার সুদুরপ্রসারী কুফল তিনি অনুধাবন করে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করলেও অপ্রত্যাশিত মৃত্যু তাঁকে সে অবসর দেয় নি। তবে, সেটি সহজেই দূর করা সম্ভব ছিল।
৬৪৪ খৃষ্টাব্দে উমরের(রা) মৃত্যুর পর খলিফা নির্বাচিত হন উসমান(রা)। স্বভাবগত দিক হতে অত্যধিক কোমল এই ব্যক্তিটি তাঁর দুই পূর্বসূরীর চাইতে কম দূরদর্শী ছিলেন(এই বাক্যটির জন্য উত্তর আফ্রিকা হতে পাক-ভারত উপমহাদেশের অনেক ব্যক্তিই মুরতাদ ফতোয়া প্রাপ্ত হয়েছেন! অথচ, এটি একান্তই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়, ধর্মতত্ত্বের নয়!)। যাই হোক, তাঁর শাসনামলের প্রথম ছয় বছর ছিল শান্তিপূর্ণ। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে কুরআনের ভিন্ন ভিন্ন পঠনরীতিকে নিষিদ্ধ করে তিনি এসময়েই কুরায়শদের পঠনরীতিকে কুরআন পাঠের জন্য নির্ধারিত করে দেন। ইসলামী সম্রাজ্য ততদিনে আজারবাইজানের সীমানা পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু, তাঁর স্বভাবগত নরম স্বভাবের সুযোগ নিতে থাকেন তাঁর নিকটাত্মীয়রা(যেমনঃ মারওয়ান ইবন্ হাকাম(مروان بن الحكم; ৬২৩-৬৮৫))। এছাড়া, সান্নিধ্যলাভের দিক থেকে মুহাম্মাদের(স) দূরবর্তী লোকজন যারা আবার দূর্ভাগ্যক্রমে খলিফার আত্মীয়স্বজন, রাষ্ট্রের বড় বড় দায়িত্ব লাভ করতে থাকেন যা জনগণ সুদৃষ্টিতে দেখে নি। তিনি এসব উপলব্ধি করেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। কিন্তু, সে সময় তাঁকে দেয়া হলো না। জনগণের এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা হজ্জের মওসুমে অপ্রস্তুত অবস্থায় রাজধানী মদীনা আক্রমন করে খলিফাকে হত্যা করে। কুরআনের এই মহান সংকলক(জামিউল কুরআন) কুরআন পাঠরত অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেন।
![]()
উসমান(রা) কর্তৃক সংকলিত কুরআনের কপিসমূহের মাঝে একমাত্র টিকে থাকা কপিঃ সংরক্ষিত আছে তুরস্কে
জাতির এই দূর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ৬৫৬ খৃষ্টাব্দে হাল ধরেন আলী(রা)। তিনিও জনগণের রায়ে নির্বাচিত হন। কিন্তু, ইসলামের মহান ভ্রাতৃত্ববোধের নিচে চাপা পড়ে যাওয়া আরবীয় গোত্রবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আবু সুফিয়ানের(রা) পুত্র সিরিয়ার শাসনকর্তা মুয়াবিয়া(معاوية بن أبي سفيان; ৬০২-৬৮০)(রা) বিদ্রোহ করে বসেন। আত্মীয়তার দাবীতে তিনি সবার আগে উসমানের(রা) হত্যাকারীদের তাঁর হাতে তুলে দিতে বলেন, যা ছিল ন্যায়বিচার পরিপন্থী। মিসর হতে আমর ইবনুল আ’স(রা)ও তাঁর সাথে যোগদান করেন। খলিফা আলী(রা) বিদ্রোহ দমনে এগিয়ে যান। কিন্তু, সফলতার মুখ দেখার আগেই উম্মুল মু’মেনিন আয়েশার(عائشة; ?-৬৭৮)(রা) সাথে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয় এবং আয়েশা(রা) অস্ত্রধারণ করেন। উষ্ট্রের যুদ্ধে(৬৫৬) তাঁরা মুখোমুখি হলেও আলীর(রা) প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে স্বল্পসময়েই সংঘর্ষ থেমে যায়। কিন্তু, ততদিনে দেরী হয়ে গিয়েছিল। মুয়াবিয়া(রা) যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করে ফেলেছেন। তারপরেও, সিফ্ফিনের যুদ্ধে(৬৫৭) খলিফা তাঁকে প্রায় পরাজিতই করে ফেলেছিলেন। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে মুয়াবিয়া(রা) শান্তির প্রস্তাব দেন। শান্তিকামী খলিফাও সে প্রস্তাব মেনে নেন এবং সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তির ব্যাপারে সম্মত হন।
লক্ষ্য করুন, এ সময় পর্যন্ত মুসলমানদের মাঝে মতবিরোধ এমনকি ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ হলেও কোন নতুন মতবাদ কিংবা দর্শনের উদ্ভব হয় নি। কুরআন এবং সুন্নাহ তখনো পর্যন্ত মুসলমানদের জীবনদর্শনের একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিগণিত হচ্ছিল। মুহাম্মাদের(স) লক্ষাধিক অনুসারী তখনো সমগ্র রাষ্ট্রের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর মতাদর্শ প্রচারে নিমগ্ন। ফলে, জাগতিক ও পারলৌকিক সকল প্রকার দার্শনিক সমস্যার সমাধানে সকলে তাঁদের দিকেই ফিরেছিল। কিন্তু, আলী(রা) এবং মুয়াবিয়ার(রা) মধ্যবর্তী ঐ শান্তি আলোচনা চলাকালেই আলীর(রা) পক্ষের কতিপয় কট্টরপন্থী লোক বিগড়ে যায়। তারা এই সালিস আলোচনাকে আল্লাহর সাথে বিদ্রোহের শামিল করে ফেলে এবং আলীকে(রা) কাফের ঘোষনা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে। ঘর সামলাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন আলী(রা)। এই কট্টরপন্থী দলটিই ‘খারেজী’(خوارج) নামে পরিচিত এবং ইসলামের ইতিহাসে এরাই প্রথম মূলধারার বাইরে ভিন্ন দর্শনের জন্মদাতা। এদের মতবাদ নিয়ে আলোচনা পরের দিকের জন্য রেখে দেয়া হলো।
ওদিকে, ঐ সালিসে মুয়াবিয়ার(রা) প্রতিনিধি আমর ইবনুল আ’স(রা) কূটচালে অন্যায়ভাবে হারিয়ে দেন আলীর(রা) প্রতিনিধি আবু মুসা আশয়ারীকে(أبو موسى الأشعري; ?-৬৭২)(রা)। ফলে, সবদিক দিক দিয়েই শত্রুবেষ্টিত হয়ে ওঠেন তিনি এবং ৬৬১ খৃষ্টাব্দে এক খারেজী গুপ্তঘাতকের হাতেই তিনি নিহত হন। খারেজীরা মুয়াবিয়া(রা) এবং আমর ইবনুল আ’সকেও(রা) হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে ব্যর্থ হয়। এতে মুয়াবিয়ার(রা) ক্ষমতা লাভের পথ সুগম হয়ে ওঠে। ছয়মাসের মাথায় মুহাম্মাদের(স) দৌহিত্র এবং আলীর(র) পুত্র ইমাম হাসান(الحسن بن علي بن أﺑﻲ طالب; ৬২৫-৬৭২)(রা) খেলাফতের দাবী পরিত্যাগ করলে মুয়াবিয়া(রা) হয়ে ওঠেন মুসলিম সম্রাজ্যের একমাত্র অধিকর্তা এবং তাঁর হাত দিয়েই মুসলমানদের মাঝে প্রথম বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ উমাইয়ার নামানুসারে এ রাজবংশের নামকরন করা হয়। আলী(রা) বিদ্রোহীদের দমনে সুবিধার জন্য রাজধানী মদীনা থেকে কুফায় স্থানান্তর করেন আর মুয়াবিয়া একে নিয়ে যান তাঁর ক্ষমতার উৎসভূমি দামেস্কে। এখানে বলে রাখা ভাল, মুহাম্মাদের(স) গোত্র বনু হাশিম এবং বনু উমাইয়ার মাঝে ইসলাম পূর্ববর্তী যুগে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ ব্যাপক আকার ধারন করে যা ইসলমের মহান আদর্শের নীচে চাপা পড়ে যায়। আলী(রা) এবং মুয়াবিয়ার(রা) এই দ্বন্দ্বকে অনেকে ঐ বিদ্বেষের ফলশ্রুতি বলে মনে করলেও তা আংশিক সত্য, যা উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়েছে।
![]()
মুহাম্মাদ(স) এবং খোলাফায়ে রাশেদুনের হাতে ইসলামের বিস্তার
আলীর(রা) জীবদ্দশার শেষদিন পর্যন্ত যারা তাঁর সমর্থক ছিলেন, তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন কারনে তাঁকে মুহাম্মাদের(স) পরেই খেলাফতের জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি বলে ব্যক্তিগতভাবে মনে করতেন। তবে, সেটি কোন সম্প্রদায়গত বিশ্বাসে রূপ নেয় নি উসমানের(রা) খেলাফতের আগপর্যন্ত। কিন্তু, উসমানের(রা) দুঃখজনক মৃত্যু, আলীর(রা) খেলাফত পরবর্তী ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ ৫ বছর এবং পরবর্তীতে ৬৮০ খৃষ্টাব্দে মুয়াবিয়ার(রা) পুত্র ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর হাতে কারবালার প্রান্তরে মুহাম্মাদের(স) স্নেহের দৌহিত্র এবং আলির(রা) দ্বিতীয় পুত্র ইমাম হুসাইনের(حسين بن علي بن أﺑﻲ طالب; ৬২৬-৬৮০)(রা) সঙ্গীসাথীসহ নির্মমভাবে নিহত হবার মাধ্যমে এটি একটি মতবাদের রূপ নেয়। এরপরে, উমাইয়া এবং আব্বাসীয় শাসনামলে আলীর(রা) বংশধর এবং সমর্থকদের উপর নিরবিচ্ছিন্ন অত্যাচার এই মতবাদকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। প্রাথমিকভাবে শীআ’নে আলী(شيعة علي; আলীর অনুসারী) নামে পরিচিত এই দলটিকে পরবর্তী সময় হতে পরিভাষাগতভাবে শীআ’(شيعة) বলা হয়। এদের, দর্শন নিয়েও পরে আলোচনা করা হবে।
শীআ’ আর খারেজী এই দুই চরমপন্থী দলের পারস্পরিক মারামারির অবশ্যম্ভাবী ফলস্বরূপ মুর্জিয়া(المرجئة) নামে আরেকটি দর্শনের জন্ম হয়। আবদুল্লাহ ইবন উমর(عبدالله بن عمر بن الخطاب; ৬১৪-৬৯৪)(রা) কে এই মতাদর্শের প্রবক্তা বলা হয়ে থাকে। এই নরমপন্থী দলের মতবাদ নিয়েও আলোচনা হবে পরের দিকে।
উমাইয়া শাসনের ৯০ বছর ছিল কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামী সমাজের মূলনীতিসমূকে পদ্ধতিগতভাবে(Systemetically) একত্র করার যুগ। সন্দেহ নেই, জনগনের হাত হতে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে এসময়ের শাসকদল অত্যাচারের এক নতুন ধারা শুরু করেছিল। কিন্তু, সত্যনিষ্ঠ ইমাম ও আলেমগণ এর মাঝেও তাঁদের কাজ ঠিকই জারি রাখেন। সমস্যা দেখা দেয়, খৃষ্টীয় সপ্তম শতকের প্রথম দশকের মাঝেই মুহাম্মাদের(স) সাহাবীদের জীবন প্রদীপ একে একে নিভে যাওয়ায়। এতে তাঁর বাণী(হাদিস ও সুন্নাহ) সরাসরি শোনা লোকদের নিকট থেকে ইসলামী মতে সমস্যা সমাধানের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, এই সুযোগে বিভিন্ন সম্প্রদায় তাঁদের মতাদর্শের সমর্থনে হাদিস বিকৃত ও জাল করতে থাকে। আলেমরা এ সমস্যার মোকাবেলায় সত্য হাদিসসমূহ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জড়ো করতে শুরু করেন। এমনি সময়ে, খলিফা নির্বাচিত হন উমর ইবন আবদুল আজীজ(عمر ابن عبد العزيز; ৬৮২-৭২০)। উমাইয়া সম্রাটদের মাঝে একমাত্র ব্যতিক্রম এই অনুপম ব্যক্তিটি(যাঁকে খোলাফায়ে রাশেদুনের পঞ্চমজন বলে অভিহিত করা হয়) তাঁর ৩৭ মাসের সংক্ষিপ্ততম শাসনামলে মুসলমানদের চলার পথকে পুনরায় ইসলামের দিকে ঘুরিয়ে দেন। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় মুহাম্মাদের(স) বাণী সংগ্রহ চলতে থাকে। তাঁর অকালমৃত্যুতে এ পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ হয়ে গেলেও যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তা কয়েক শতক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে, ইমাম আবু হানিফা(أبو حنيفة; ৬৯৯-৭৬৫)(র), ইমাম মালিক ইবন আনাস(مالك بن أنس; ৭১১-৭৯৫)(র), ইমাম শাফেয়ী(ابو عبدالله محمد بن إدريس الشافعيّ; ৭৬৭-৮২০)(র) এবং ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল(احمد بن محمد بن حنبل ابو عبد الله الشيباني; ৭৮০-৮৫৫)(র) এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ইসলামের চারটি ভিন্ন ভিন্ন মাজ্হাব্(School of Thoughts)। অন্যদিকে, ইমাম বোখারী(محمد بن اسماعيل بن ابراهيم بن المغيرة بن بردزبه البخاري; ৮১০-৮৭০)(র), ইমাম মুসলিম(أبو الحسين مسلم بن الحجاج القشيري النيشابوري; ৮২১-৮৭৫)(র), ইমাম তিরমিজী(الترمذي; ৮২৪-৮৯২)(র), ইমাম নাসায়ী(أحمد بن شعيب بن شو علي بن سنان بن أبي عبد الرحمن آل النسائي; ৮২৯-৯১৫)(র), ইমাম আবু দাউদ(أبو داود سليمان بن الرماد 'اته آل أزادي آل; ৮১৭-৮৮৮)(র) এবং ইমাম ইবন্ মাজাহ্(ابو عبد الله محمد بن يزيد بن ماجه الربعي القزويني; ৮২৪-৮৮৭)(র)- এর নেতৃত্ব হাদিস সংগ্রহ এবং বাছাইয়ের মাধ্যমে ইসলামের সত্যিকারের মূলনীতি জানার পথ পরিষ্কার হয়ে ওঠে। *এখানে, স্পষ্টভাবেই লক্ষ্যনীয় যে, ৭৫০ সালে উমাইয়া শাসনের অবসানের পর আব্বাসীয় শাসন প্রতিষ্ঠার অনেক পর পর্যন্ত এই কাজ পুরোদমে চলতে থাকে। সন্দেহ নেই, এঁদের অনেকেই বিভিন্ন দর্শনসম্প্রদায়ের পূর্বের, কেউ কেউ সমসাময়িককালের, আবার কেউ পরের যুগের।কিন্তু, হাদিস ও ফিকহ্ শাস্ত্রের বিকাশের ধারাবাহিকতাটি বোঝানোর জন্য এই পুরো সময় ধরে নেতৃত্বদানকারী প্রধান প্রধান ব্যক্তিদের তালিকা দেয়া হল।
**আরো লক্ষ্য করুন, ইতিহাসের এ পর্যায়ে মুসলমানদের বিজ্ঞান আর দর্শনের জগতে অবদান রেখেছে বলে কথিত ‘মুতাজিলা’(المعتزلة) সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটলেও, তাঁরা তখনো খুববেশী প্রভাব বিস্তার করার মত কোন অবস্থানে পৌঁছান নি। আব্বাসীয় শাসনামলের স্বর্ণযুগে(৭৮৬-৮৩৩; হারুন আল-রশীদ এবং মা'মুনের শাসনামল) কীভাবে এই সম্প্রদায় দৃশ্যপটে চলে এল এবং এত বেশী প্রভাব রাখতে সক্ষম হলো, তা থাকছে পরের পর্বে।
*সংযোজন।
**সংশোধনী।
চলবে.....
আগের পর্বগুলোঃ
১. ভূমিকা পর্ব
২. বিজ্ঞানের দর্শন
৩. প্রাচীন বিজ্ঞানের ইতিহাস
৪. মৌলিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদান
৫. ব্যবহারিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদান
৬. রসায়নবিজ্ঞানে অবদান
৭. আলোকবিজ্ঞানে অবদান
৮. জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান- প্রথম পর্ব
৯. জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান- দ্বিতীয় পর্ব
১০. গণিতে অবদান
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ভক্ত হয়ে গিয়েছেন!!! ধন্যবাদ।
কিন্তু, এই বিশাল পোষ্ট তিন মিনিটে কেমন করে পড়ে শেষ করলেন, তার রহস্য জানতে মন চায়!
![]()
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন:
এই পর্বটিও অসম্ভব ভাল লাগল।
লেখক বলেছেন: ভাল লাগল বলে বেঁচে গেলাম কি?
![]()
ভাল না লাগলে গালি-গালাজ করাটা তো ভাল কথা নয়! বুঝতেই পারছেন, কোন পোষ্টের কথা বলছি? মেজাজ নিয়ন্ত্রনে রাখাটা জরুরী........
অযাচিত পরামর্শ দেবার জন্য দুঃখিত....![]()
পারভেজ আলম বলেছেন:
এতক্ষনে আলোচনার যায়গায় আসছেন। চালাইয়া যান। তবে ইতিহাস লেখার সময় রমান্টিসিজম পরিহার করলে ভাল হয়। উদাহরণস্বরূপ, সাহাবিদের বিষয়ে যেভাবে ধর্মীয় সতর্কতা অবলম্বন করে লিখেছেন সেভাবে ইতিহাস বর্ণনা করা উচিত না। ঐতিহাসিকের দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দেখলে মুহাম্মদ(স) এর মৃত্যুর পর খলিফা নির্বাচনে আবু বকর (র) এবং ওমর (র) যে কিছু দৃষ্টিকটু এবং কপট ঘটনার অবতারণা করেছিলেন তা এড়িয়ে যেতে পারতেন না, তেমনি পারতেন না ওসমান (র) এর স্বজনপ্রীতিকে হালকা ভাবে নিতে, ওসমান হত্যার বিচার করার ক্ষেত্রে আলী(র) অবস্থানও কিন্তু সন্দেহজনক। তিনি কেন বিচার করেন নাই, তার সঠিক ব্যাখ্যা অনেকের কাছেই ভাল লাগবেনা, বিষয়টা নেহায়েতই রাজনৈতিক। আর, শেষ পেরাটা নিয়ে আপত্তি করছি। আপনি ইমাম হাম্বলির কথা বলছেন, ইমাম বুখারির কথা বলছেন, বলছেন এরা ইসলাম ধর্মের হাদিস শরিয়তকে মোটামুটি একটা আকার দিয়ে প্রকৃত ইসলাম সুষ্পষ্ট করে ফেলেছেন এবং তারপর বললেন এসময় পর্যন্ত মুতাজিলাদের নাকি আবির্ভাবই হয় নাই। খেয়াল করেন, মুতাজিলা আন্দোলনের উৎস কাদরিয়া আন্দোলনের সূত্রপাত উমাইয়া শাসনের শুরুর দিকেই, এ আন্দোলনের গুরু মাবদ আল জুহানিকে হত্যা করা হয় ৬৯৯ খ্রীস্টাব্দে। ওয়সিল বিন আতার মৃত্যু ঘটে ৭৪৮ খৃষ্টাব্দে, তিনি ছিলেন মুতাজিলাদের প্রথম গুরু। এবার আপনি বলেন, হাম্বলি, বুখারি, মুসলিম এরা মুতাজিলাদের আগে আসলো কিভাবে?
আশা করি সংশোধন করবেন।
লেখক বলেছেন: শেষ পর্যন্ত তাহলে আপনার আলোচনার জায়গাতে এসে গেলাম!![]()
অনেকগুলো আপত্তি তুলেছেন। একে একে জবাব দেয়ার চেষ্টা করি।
১. সাহাবীদের ব্যাপারে যে সতর্কতা অবলম্বন করেছি তার সাথে শুধু ইতিহাস নয় বরং একটা বিশাল জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের ভিত্তি জড়িত। তাই, পাঠক যেন ইতিহাসের সাথে ধর্মতত্ত্বকে গুলিয়ে না ফেলেন সেজন্যই ঐ বোল্ড করা অনুচ্ছেদের অবতারণা। আপনি উলটোটাই বুঝেছেন!
২. মুহাম্মদ(স) এর মৃত্যুর পর খলিফা নির্বাচনে আবু বকর (রা) এবং ওমর (রা) কী কী দৃষ্টিকটু এবং কপট ঘটনার অবতারণা করেছিলেন-তা জানালে এ ব্যাপারে উত্তর দেব।
৩. উসমানের(রা) স্বজনপ্রীতির ব্যাপারে কথা হলো, তাঁর নিয়োগকৃত শাসকদের অনেকেই পূর্ববর্তী খলিফাদের সময়ে নিয়োগকৃত এবং তাঁরা অধিকাংশই যোগ্য ছিলেন। তাঁর ভুল ছিল যে, তিনি তাঁদেরকে সে সব স্থানে অনেকদিন ধরে নিয়োজিত রেখে আসন গেড়ে বসার সুযোগ দিয়েছিলেন, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সঠিক ছিল না। কিন্তু, আত্মীয়তার সম্পর্কের কারনে তিনি কাউকে অন্যায় সুযোগ দিয়েছিলেন এমন নিশ্চিত প্রমান নেই।
৪. উসমানের(রা) হত্যার বিচার কেন আলী(রা) করতে পারলেন না, তা বিস্তারিত লিখতে গেলে নূন্যতম দুইটি পোষ্ট লাগবে! তারপরেও আমি আমার পোষ্টেই কয়েক বাক্যে তা প্রকাশের চেষ্টা করেছি। আবারো বলছি, ঐ হত্যার বিচারে প্রথম বাধাদানকারী মুয়াবিয়া(রা) নিজেই। ন্যায়বিচারের পরিবর্তে তিনি হত্যাকারীদের তাঁর হাতে তুলে দেয়ার দাবী জানাচ্ছিলেন এবং এই দাবীতেই তিনি প্রথম বিদ্রোহের পতাকা তুলে ধরেন। অথচ, তখনো পর্যন্ত বিদ্রোহীরা রাজধানী মদিনার একটা বিরাট অংশ দখল করে রেখেছে! এরই মধ্যে আয়েশা(রা) এর অস্ত্রধারন এবং খারেজীদের বিদ্রোহ আলীকে(রা) আর সে বিচার করার মওকা দেয় নি। মনে রাখতে হবে তাঁর খেলাফত ৫ বছরেরও কম সময় স্থায়ী ছিল এবং একের পর এক বিদ্রোহ দমন করতেই এই সময়ের প্রায় পুরোটা ব্যয়িত হয়েছে!
৫. একটি দার্শনিক দলের আবির্ভাব হওয়ার জন্য আমি "এর আদর্শটি কেবল দুই-চারজনের মাথায় ঘুরপাক খেয়ে চলেছে" এমন অবস্থাকে মেনে নিতে রাজি নই। যতক্ষন পর্যন্ত না একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক না জুটছে ততক্ষন পরররযন্ত ওটা আদতে কোন দলই নয়! ওয়াসিল ইবন আতা থেকে মুতাজিলা সম্প্রদায়ের মূল দর্শনের সূত্রপাত, কিন্তু জনগনের উপর প্রভাব রাখার জন্য তাদেরকে আব্বাসীয় খেলাফত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। যেমনিভাবে আলীর অনুসারীরা শী'আতে পরিণত হতে উমাইয়া খেলাফতের শেষদিক চলে এসেছে। কাদেরিয়া সম্প্রদায়ের দর্শনের সাথে মুতাজিলা দর্শনের মিল থাকলেও এদের এক করে দেখা উচিৎ নয়।
৬. খৃষ্টীয় সপ্তন শতকে হাদিস সংগ্রহের জন্য যে আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছিল, তা পরবর্তী কয়েক শতক অব্যাহত ভাবেই চলে। এটি বোঝানোর জন্যই আমি প্রায় তিন শতক ব্যাপী বড় বড় মুহাদ্দিসদের নামগুলো উল্লেখ করেছি, যাদের কেউ কেউ মুতাজিলাদের আগের, কেউ সমসাময়িক কালের আর কেউ পরের।
৬. এই প্রথম একটি পোষ্টের প্রায় প্রতিটি বাক্যের পেছনে আমি বিশ্বাসযোগ্য রেফারেন্স ঘাঁটার সুযোগ পেয়েছি। অতএব, অযথা রোমান্টিসিজমে আক্রান্ত হওয়ার কোনই কারন নেই; ওটা আমার ধাতও নয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে নিজের মুসলিম পরিচয় দানে আমি কুন্ঠাবোধ করি না-এটি প্রথম পর্বেই বলে এসেছি।
অতএব, আরো কোন সন্দেহ-আপত্তি থাকলে নির্দ্বিধায় আলোচনায় আসুন।
আর চার ইমামের কথা বলতে চাই, উনারা নিজেরা কিন্তু কোন মতবাদ প্রচার করেননি, বিভিন্ন সময়ে সংগত কারণে পরিস্থিতি বুঝে, কোরআন এবং যতটুকু হাদীস তাদের হাতের নাগালে এসেছে তার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিচার করতেন, বা ফতোয়া দিতেন। অনেক সময়ে তাদের ভুলও হতো, তাদের গুরুরা বা অন্যান্যরা ভুল ধরতেন বা ভিন্ন মত দিতেন......এভাবে। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু অতি উৎসাহী লোক উনাদের চার মতবাদের নেতা হিসেবে ভাগ করে ফেলে। অনেকে আবার এটাও বলে এক মাজহাবের অনুসারীরা আরেক মাজহাবের কোন কিছু ফলো করতে পারবে না। এটা কেমন কথা? রাসূল(সাঃ)-এর কি কোন হাদীস আছে, যে আমার পরে চারটি মাজহাব আসবে, তার যেকোন একটিকে তোমরা ফলো করবে...............!!!!!! বা কোরআনের কোন আয়াত???
লেখক বলেছেন: চার ইমামের ব্যাপারে আপনার কথার সাথে একমত.....তাঁরা প্রত্যেকেই জীবন-সমস্যার ইসলামী সমাধানের খোঁজ করে করেছেন। এক্ষেত্রে, খুঁটিনাটি বিষয়ে তাঁদের মতদ্বৈততা ছিল। তবে, তাঁরা প্রত্যেকেই বলেছেন, কুরআন কিংবা হাদিসে কোন মত নিশ্চিতরূপে পাওয়া গেলে তাঁদের মত রহিত হয়ে যাবে, কুরআন-সুন্নাহের আনুগত্যই আগে প্রযোজ্য।
সমস্যা হলো, পরবর্তী যুগে যখন মাজহাবী তর্ক-বিতর্ক একটা খেল-তামাশা কিংবা সময় কাটানোর জন্য বিনোদনের উত্তম উৎস হয়ে গেল তখন। আমরা যাকে মাজ্হাবী মারামারি বলি তার সূচনা কিন্তু সেখান হতেই।
তারপরেও এসব নিয়ন্ত্রন করা যেত যদি সে সময়ের মত বেশীরভাগ মুসলমানই আরবী ভাষাটা কম-বেশী জানতেন। এখন, আরবী ভাষায় অজ্ঞ লোকের জন্য কোন না কোন ইমামের তাক্লীদ(অনুসরণ) ছাড়া গতি নেই।
http://en.wikipedia.org/wiki/Mu'tazili
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
দেখছি....
পারভেজ আলম বলেছেন:
নাজনিন ১, ইমামদের সম্বন্ধে যা বললেন তা সমন্বয় করার জন্য সহজ হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা তা না। চার ইমামের চিন্তা চেতনায় ফারাক আছে, ভাল ফারাক। হানাফি আর হাম্বলি এই দুই মাজহাবের মাঝে বড় রকমের কিছু পার্থক্য আছে শরিয়তের উৎস নিয়ে। এই চার মাজহাবকে এখন যত কাছাকাছি মনে হয় আগে এমন ছিলনা। চার মাজহাবের ইমামকেই সুন্নিদের জন্য বৈধ করেন ১৪ অথবা ১৫ শতকের একজন খলিফা, রাজনৈতিক কারনে। খলিফার নাম মনে পরছেনা, সময়টাও ভুল হতে পারে, তবে ঘটনা সঠিক, আমি রেফারেন্স ঘেটে সূত্র দিয়ে যাব পরে।
লেখক বলেছেন: নাজনীন১ এর মন্তব্যের উত্তরে আমি যা বলেছি, তা পড়ার অনুরোধ রইল।
আর আপনি যে খলিফার কথা বলছেন, তাঁর পরিচয় দেয়ার পরে এ নিয়ে বাকী কথা বলা যাবে।![]()
আসিফ মহিউদ্দীন বলেছেন:
তায়েফ ভাই, আপনার লেখাগুলোকে নিরপেক্ষ বলতে পারছি না-ভয়াবহ ভাবে পক্ষপাত দুষ্ট। লেখা পড়ে বোঝা যাচ্ছে যে আপনি মুসলিম বিজ্ঞানীদের পক্ষে লিখছেন, সত্যানুসন্ধানে আপনার আগ্রহ বোঝা যাচ্ছে না। নির্মোহ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে আসলে একটা গুরুত্বপুর্ন লেখাও আবর্জনায় পরিনত হতে পারে।
আপনি সমালোচনা সহ্য করেন কিনা জানি না, ভায়ে ভয়ে আছি। আশা করি আমাকে কোন বিশেষ গোত্রভুক্ত করে দেবেন না একটা মন্তব্য পড়েই। সামু ব্লগে এই ধরনের আচরন খুব সাধারন।
ধন্যবাদ, লেখা চালিয়ে যান।
লেখক বলেছেন: শতভাগ নিরপেক্ষ লেখার যোগ্যতা আমার নেই-স্বীকার করি। তাই বলে, ভয়াবহরকমের পক্ষপাত দুষ্ট বললে একটু স্পেসিফিক্যালি জানতে ইচ্ছুক যে কোথায় কোথায় ভয়াবহরকমের পক্ষপাত ঘটিয়েছি।![]()
সমালোচনা সহ্য করার মন-মানসিকতা না থাকলে এই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে দিনের পর দিন লেগে থাকার কষ্ট করতাম না। ব্যক্তিগতভাবে আমি যে রকমই হই না কেন, এই ব্লগে কেউ কখনো, কোন পরিস্থিতিতে আমাকে সীমা অতিক্রম করতে দেখে নি। আমি পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভদ্রতাবোধকে সকলের উপরে ঠাঁই দিই।
শেষ কথা হলো, আমি সমলোচনা সহ্য করি আর না করি, আমার ভুল ধরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব কিন্তু সকল পাঠকের- একথাও আমি এই সিরিজের শুরু থেকেই বলে এসেছি। ভুল সংশোধন না করলে সেটি আমারই ব্যর্থতাআর আপনার সফলতা হচ্ছে ভুলের চিহ্নিতকরণ।
আশা করি, এখন এই ব্লগে এসেই আপত্তিগুলো জানিয়ে যাবেন। ভয় পাবেন না.......![]()
লেখক বলেছেন: কিন্তু অতি উৎসাহী আমলকারীরা সেটা আর ফলো করতে চাই না, এতো কষ্ট করে মাথা ঘামাবে নাকি, যা আছে তাই-ই সই -- এ নীতিতে চলেছে, তাইতো এতো মাজহাব।- পুরোপুরি একমত নই!![]()
সমস্যার সূত্রপাত পরবর্তী যুগে যখন মাজহাবী তর্ক-বিতর্ক একটা খেল-তামাশা কিংবা সময় কাটানোর জন্য বিনোদনের উত্তম উৎস হয়ে গেল তখন। আমরা যাকে মাজ্হাবী মারামারি বলি তার সূচনা কিন্তু সেখান হতেই।
তারপরেও এসব নিয়ন্ত্রন করা যেত যদি সে সময়ের মত বেশীরভাগ মুসলমানই আরবী ভাষাটা কম-বেশী জানতেন। এখন, আরবী ভাষায় অজ্ঞ লোকের জন্য কোন না কোন ইমামের তাক্লীদ(অনুসরণ) ছাড়া গতি নেই।
Click This Link
ব্যাখ্যা আপনার পছন্দ হবে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহে আছি।
এর আগে ব্লগার ঝড়১২৩-এর সাথেও এটা নিয়ে ডিবেট হয়েছে।
লেখক বলেছেন: আবুবকরের(রা) খলিফা বিয়োগের ব্যাপারে আমি পারভেজের উত্তরের অপেক্ষায় আছি....
আর ঝড়১২৩!!!! ওরে বাবারে!!![]()
ঐ ভদ্রলোক আসলেই এক ঝড়........খালি 'আপনি বুঝবেন না,' 'দিল দিয়ে বুঝতে হবে', এই সব বেগর্বাই.......
আবু লাহাব নিয়ে আমার এক পোষ্টের মন্তব্যের ঘরে তাঁর কথাবার্তায় মাথা ঘুরে যাওয়ার যোগাড়...........কোন সূত্র নেই, কিছু নেই; অন্যদিকে, আবেগের আতিশয্যে লেখা-মন্তব্য সবই অগোছালো......এই মূর্তিমান বিপদের সামনে তাহলে আপনাকেও পড়তে হয়েছিল??..
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
পড়ছি, কমেন্টগুলো সহ। আলোচনা পরে।
লেখক বলেছেন: ভাল......
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
৭ নম্বরে আসিফ মহিউদ্দীন, ব্লগে একটা পোষ্ট কইরা কেউ যদি আশা করে সমালোচনা হবে না তাইলে সে বোকার স্বর্গে বাস করে। অবশ্যই আপনার কোনো যুক্তি থাকলে আপনি তা দিবেন। তবে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট কথা বলা উচিত। আপনি লাইন ধইরা ধইরা বলেন কোন জায়গায় আপনার মনে হইছে লেখা পক্ষপাত দুষ্ট। এবং আপনার কথার পক্ষে প্রমান দিবেন। এইভাবে গড়পড়তা সমালোচনা কমেন্ট হয় না। আশা করি আপনারো সমালোচনা সহ্য করার ব্যাপারে আপনিও তায়েফের মতন উদার হবেন।
লেখক বলেছেন: তায়েফের মতন উদার !!!!
তেলায়িত হৈলাম!!![]()
![]()
আসিফ মহিউদ্দীন ভাল মানুষ; ব্লগীয় কালচারে একটু ভীত- এই আর কী!
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
এই সিরিজের জন্য তায়েফ আহমেদ কে যেমন ধন্যবাদ দিই ঠিক তেমন পারভেজ আলম, নাজনীন১ আর মহামতি খারেজীরেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। এদের কমেন্ট ছাড়া এই সিরিজ পোষ্ট পইরা এরকম মজা পাওয়া যাইত না।
লেখক বলেছেন: এমনভাবে ধন্যবাদজ্ঞাপন কইরা লিখলা যেন, আমি এইপর্ব দিয়া লেখা শেষ কইরা দিতেছি.....![]()
যাদের নাম বলছো তারা এই ব্লগে প্রাতঃস্মরণীয়....তবে। খারেজীর জায়গাটা একটু উপরে.........![]()
আমি এবং আঁধার বলেছেন:
আপনার এই পোস্টটি ব্যাপকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট- সবগুলো পয়েন্ট তুলে ধরতে গেলে তা অনেক বড় হয়ে যাবে। স্রেফ একটা উদাহরণই দেই-তিনি(উসমান) এসব উপলব্ধি করেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। কিন্তু, সে সময় তাঁকে দেয়া হলো না। জনগণের এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা হজ্জের মওসুমে অপ্রস্তুত অবস্থায় রাজধানী মদীনা আক্রমন করে খলিফাকে হত্যা করে।
যার ব্যাখ্যায় আপনি নং কমেন্টের জবাবে লিখেছেন-
৩. উসমানের(রা) স্বজনপ্রীতির ব্যাপারে কথা হলো, তাঁর নিয়োগকৃত শাসকদের অনেকেই পূর্ববর্তী খলিফাদের সময়ে নিয়োগকৃত এবং তাঁরা অধিকাংশই যোগ্য ছিলেন। তাঁর ভুল ছিল যে, তিনি তাঁদেরকে সে সব স্থানে অনেকদিন ধরে নিয়োজিত রেখে আসন গেড়ে বসার সুযোগ দিয়েছিলেন, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সঠিক ছিল না। কিন্তু, আত্মীয়তার সম্পর্কের কারনে তিনি কাউকে অন্যায় সুযোগ দিয়েছিলেন এমন নিশ্চিত প্রমান নেই।
আসুন দেখি-
তার সৎ ভাই আব্দুল্লাহ ছিলেন কাতীবে ওহি। তার বিরুদ্ধে কুরয়ানের পাণ্ডুলিপি বিকৃতির অভিযোগ উঠলেও উসমানের সুপারিশে তাকে মাফ করে দেওয়া হয়। তিনি কাফের হয়ে যান এবং মক্কাবিজয়ের পরে প্রাণরক্ষার তাগিদে(তিনি সহ আরো ৯ জনের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারী করার পরে) আবার মুসলিম হন।উসমান পরে খিলাফতের কালে তাকে উচ্চপদে বহাল করেন এবং আব্দুল্লাহর ব্যাপক দুর্নীতির জন্য সমালোচিত হন(১)
তার আরেক সৎভাই আল-ওয়ালিদ ইবন উকবাহ নবীর মুখে থুতু ছেটানোর জন্য নিন্দিত ছিলেন, তাকে তিনি কুফার গভর্নর বানান। চাচাতো ভাই মারওয়ান ইবন আল হাকাম কে দিওয়ান বিভাগের হেড বানান। আরো অসংখ্য স্বজনপ্রীতি করেন তিনি।(২)
তিনি এদের উপহারও গ্রহণ করতেন।
এদের লাগাম ছাড়া দুর্নীতি এবং উমাইয়াদের ব্যাপক আধিপত্যে ক্ষুদ্ধ, শংকিত হয়ে বিদ্রোহ দানা বাঁধতে থাকে। পাশাপাশি উত্তরাধিকারের দাবিদার হন তিনজন, তালহা, যুবায়ের এবং আলী। আলীপন্থীরা কুফায় বিদ্রোহ করেন। মিশরে এ বিদ্রোহ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
৬৫৬ সালে মিশর থেকে ৫০০ বিদ্রোহীর এক বহর এসে মদীনায় খলীফাকে গৃহবন্দী করে। ১ম খলীফার পুত্র মুহম্মদ প্রথম বলপূর্বক ঘরে ঢোকেন এবং ১ম আঘাতটি করেন। তারপরে অসংখ্যজনের আঘাতে মৃত্যু হয় বৃদ্ধ খলীফার।(৩)
এর পরে প্রতিক্রিয়ায় জটিল মিথস্ক্রিয়া চলে আরবদের বিভিন্ন গোত্রে, দাবার গুটি হিসেবে আয়েশাকে ব্যবহার করেন মুয়াবিয়া। আয়েশার সাথে আলীর পুরাতন ব্যক্তিত্বের সংঘর্ষও এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ফলাফলে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ এবং মুয়াবিয়ার শেষ হাসি।
এতকিছুর পেছনে মূল কারণ যদি উসমানের ব্যাপক স্বজনপ্রীতি, অক্ষম শাসন এবং দুর্নীতিতে পরোক্ষ সমর্থন করাকে আপনি চিহ্নিত করতে না পারেন, তবে অবশ্যই আপনার পর্যবেক্ষণ পক্ষপাতদুষ্ট।
ধন্যবাদ।
সূত্র- ০- আরবজাতির ইতিহাস- হিট্টি ১-কুরয়ান ৬- ৯৩, বাইজাবি- ১খণ্ড ৩০০ পৃঃ ২-ইবন হাজার চতুর্থ খন্ড ২২৩-২২৪, ইবন সাদ ৩ খণ্ড ১ম পরিচ্ছদ, ৪৪ পৃ, মাসউদি, ৪ খণ্ড ২৫৭ পৃ। ৩- ইবন সাদ ৩ খণ্ড ১ম পরিচ্ছদ, ৫১ পৃ
লেখক বলেছেন: প্রথম কথা হচ্ছে, উসমান(রা) রাষ্ট্রের কতিপয় বড় বড় পদে(সকল পদে নয়) নিজের আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দিয়ে ছিলেন। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, এঁদের অনেকেই ঐ পদে দায়িত্বপালনরত আগের ব্যাক্তিবর্গের চাইতে কম যোগ্য ছিলেন। দুটোই সত্য কথা।
এই দুইটির বাইরে উসমানের(রা) শাসনামল ছিল অত্যধিক সফল। সমগ্র রাষ্ট্রকে ১২টি প্রদেশে ভাগ করে সুশাসন ধরে রাখায় তিনি অবদান রেখেছেন। রাজস্ব ব্যবস্থাও ভাল ছিল।(১)
সন্দেহ নেই, সেক্রেটারী হিসেবে মারওয়ান ইবন হাকামের নিযুক্তি একটি বড় মাপের ভুল ছিল। বৈষয়িক যোগ্যতায় মারওয়ান অনেক উপরের দিকে হলেও ইসলামী রাষ্ট্রের প্রানশক্তি অনুধাবনে এই ভদ্রলোক অক্ষম ছিলেন।(২)
এর বাইরে অন্যান্য প্রদেশে তাঁর নিয়োগকৃত শাসনকর্তাদের অযোগ্যতার খবরও তাঁর কাছে পৌঁছাচ্ছিল।(খেয়াল করুন, এসবই তাঁর খেলাফতের শেষ তিন-চার বছরের ঘটনা) তিনি এ বিষয়ে সঠিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়াও শুরু করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি তাঁরই নিযুক্ত ওয়ালিদ ইবন উক্বাকে অযোগ্যতার কারনে বরখাস্ত করেন।(৩)
এটাও সন্দেহ নেই, তাঁর নিযুক্ত বেশীরভাগ শাসনকর্তার উপরে জনগণ অসন্তুষ্ট ছিল। এর কারন এটি ছিল না যে, তাঁরা সকলেই অযোগ্য ছিলেন। কারন ছিল যে, তাঁদের চেয়েও যোগ্য ব্যক্তি তখনো বর্তমান ছিলেন। খলিফার আত্মীয় হওয়ার চেয়ে যোগ্যতার প্রশ্নই জনগণের কাছে বেশী ছিল। যে কারনে, বসরার শাসনকর্তা সাঈদ ইবনুল আসের উপর অসন্তুষ্ট হলেও ষড়যন্ত্রকারীরা যখন বিদ্রোহের ডাক দেয়, তখন জনগণকে পাশে পায় নি।(৪) ফলে, এরা কুফা ও মিসর থেকে সমমনা উগ্রবাদীদের(যাদের সংখ্যা সাকূল্যে ২০০০) পত্রযোগাযোগের মাধ্যমে আকস্মিক মদীনায় জড়ো হয়ে মদীনার অধিকার গ্রহন করে এবং খলিফাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে।(৫) ফলে, তিনি তাঁর ভুলগুলো শুধরে নেবার সুযোগ পান নি। এর ভিত্তিতে তাঁকে পুরোপুরি অযোগ্য শাসক বলা চলে কীনা, আমি বুঝতে পারছি না।
বরং, বিদ্রোহীরা যখন তাঁর গৃহ অবরোধ করে বসেছিল, তখনো তিনি এদেরকে শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান চাইছিলেন। এ কারনে, মদীনায় তাঁর পক্ষাবলম্বী ব্যক্তিবর্গকে তিনি অস্ত্রধারনে বিরত রাখেন। এক মুসলমান আরেক মুসলমানের রক্তপান করুক, তিনি তা চান নি, যা একজন ক্ষমতালোভী শাসকের সাথে তাঁর গনতন্ত্রমনস্কতার সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে।(৬)
তালহা(রা), যুবায়ের(রা) কিংবা আলী(রা) খেলাফতের দাবীদার হওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। কেননা, তখনো পর্যন্ত মুসলমানদের কেউই খেলাফতের দাবী করা নীতিগতভাবে সম্ভব ছিল না। তালহা(রা) এবং যুবায়ের(রা) খেলাফতের দাবীতে বিদ্রোহ করেন নি, করেছেন উসমানের হত্যার বিচারের দাবীতে। উসমানের(রা) মৃত্যুর পর আলীকে(রা)শাসনভার গ্রহন করার জন্য বলা হলে, তিনিও জনগনের মতামত না নিয়ে সেটা গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি মুয়াবিয়া(রা)ও আলীর(রা) জীবদ্দশায় সরাসরি খেলাফতের দাবী করেন নি। এরপরেও তাঁদের নাম জড়ানো হয় এজন্য যে, উমর(রা) তাঁর পরবর্তী খলিফার নির্বাচনে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেন, তাতে এই তিনজনই তখনো পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
আবদুল্লাহ ইবন আবি সারাহ্ উসমানের(রা) সৎ ভাই নয়, দুধভাই ছিলেন।এছাড়া, তাঁর ব্যাপারে আপনি যা লিখেছেন, তার সবই সত্য। ওয়ালিদ ইবন উকবার থুথু ছিটানোর ব্যাপারটা আমার জানা নেই। যাই হোক, তাঁরা পরবর্তীতে নিষ্ঠাবান মুসলমানই ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহনপূর্ববর্তী জীবনের কার্যকলাপ এক্ষেত্রে খুববেশী ধর্তব্য নয়। কেননা, সেক্ষেত্রে, আপনি উমরকে(রা)ও খেলাফতের অযোগ্য, খালিদকে(রা) সেনাপতি পদে অযোগ্য বলতে পারেন। তাঁরা ইসলাম পূর্ববর্তীযুগে মুহাম্মাদকে(স) হত্যার চেষ্টা করেছিলেন!
আলী এবং আয়েশার(রা) ব্যক্তিত্বের সংঘাতের ব্যাপারে কোনকিছু আমার জানা নেই।
তথ্যসূত্রঃ
১. Click This Link
২. তাবারী, তৃতীয় খন্ড(পৃ ২৯৬-৯৭); আল-বেদায়া ওয়ান নেহায়া, সপ্তম খন্ড (পৃ ১৭২-৭৩)
৩. ফতহুল বারী, কিতাবুল মানাকেব(মানাকেবে উসমান)
৪. তাবাকাত ইবন সা’দ, পঞ্চম খন্ড(পৃ ৩২-৩৩); তাবারী, তৃতীয় খন্ড(পৃ ৩৭২)
৫. তাবাকাত ইবন সা’দ, তৃতীয় খন্ড(পৃ ৬৬)
৬. তাবাকাত ইবন সা’দ, তৃতীয় খন্ড(পৃ ৭০-৭১)
পারভেজ আলম বলেছেন:
আমি এবং আধার'রে অনেক ধন্যবাদ। তিনি আমার পুরা খাটনিটাই কমাইয়া দিছেন। এই খাটনিটা আজকা রাতে করতাম কিনা সন্দেহ আছে। তায়েফ আহমেদ, আমার মন্তব্যের জবাবে আপনার ৫ এবং ৬ নং জবাব নিচে বোল্ড করে দিলাম
৫. একটি দার্শনিক দলের আবির্ভাব হওয়ার জন্য আমি "এর আদর্শটি কেবল দুই-চারজনের মাথায় ঘুরপাক খেয়ে চলেছে" এমন অবস্থাকে মেনে নিতে রাজি নই। যতক্ষন পর্যন্ত না একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক না জুটছে ততক্ষন পরররযন্ত ওটা আদতে কোন দলই নয়! ওয়াসিল ইবন আতা থেকে মুতাজিলা সম্প্রদায়ের মূল দর্শনের সূত্রপাত, কিন্তু জনগনের উপর প্রভাব রাখার জন্য তাদেরকে আব্বাসীয় খেলাফত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। যেমনিভাবে আলীর অনুসারীরা শী'আতে পরিণত হতে উমাইয়া খেলাফতের শেষদিক চলে এসেছে। কাদেরিয়া সম্প্রদায়ের দর্শনের সাথে মুতাজিলা দর্শনের মিল থাকলেও এদের এক করে দেখা উচিৎ নয়। ৬. খৃষ্টীয় সপ্তন শতকে হাদিস সংগ্রহের জন্য যে আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছিল, তা পরবর্তী কয়েক শতক অব্যাহত ভাবেই চলে। এটি বোঝানোর জন্যই আমি প্রায় তিন শতক ব্যাপী বড় বড় মুহাদ্দিসদের নামগুলো উল্লেখ করেছি, যাদের কেউ কেউ মুতাজিলাদের আগের, কেউ সমসাময়িক কালের আর কেউ পরের।
কাদরিয়া এবং মুতাজিলা মতামত দুই চারজনের মাথায় চলেছে এইটা ঠিক না। আমি শুধু গুরুদের নাম উল্লেখ করেছি। কাদরিয়া এবং মুতাজিলা আন্দোলনের মধ্যে সম্পর্ক অস্বিকার করার উপায় নাই, ওয়াসিল বিন আতা নিজেই শুরুতে একজন কাদরিয়া ছিলেন। ব্যাপক প্রতিষ্ঠা পেতে মুতাজিলাদের সময় লেগেছে কথা সত্য, এইরকম সময় লেগেছে অন্যান্য মাজহাবগুলোরও প্রতিষ্ঠা পেতে, খলিফা মুতাওয়াক্কিলের আগেতো হাম্বলিরা কোন রাজ সমর্থনই পায় নাই। সেই হিসাবে আপনি যেসব মাজহাবের উল্লেখ করেছেন মুতাজিলারা তাদের অনেকেরই পূর্ববর্তী। আর ৬ নম্বরে আপনি নিজেই স্বিকার করেছেন আপনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের সবাই মুতাজিলাদের আগের নয়, কেউ কেউ আগের, কেউ সমসাময়িক এবং অন্যরা পরবর্তি সময়ের। সুতরাং, এই বক্তব্য মূল পোস্টে আপনি মুতাজিলাদের সম্বন্ধে যা বলেছেন তার বিরুদ্ধে যায়। আপনার মূল পোস্টে আপনি বলতে চেয়ছেন যে কোরআন, হাদিস, সুন্নাহ নির্ভর অর্থডক্স ইসলাম পুরোপুরি খাতা কলমে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মুতাজিলাদের আবির্ভাব হয়েছে যা আপনার ৬ নম্বর জবাবের পরিপন্থী।
লেখক বলেছেন: আপনার আপত্তি আর আমার জবাবের মাঝের ফাঁকটা ধরতে পেরেছি বলে মনে হচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই, শেষের দুই অনুচ্ছেদে পরিবর্তন(সংযোজনী এবং সংশোধনী) আনলাম। দেখে নেবেন আশা করি!![]()
সবার বাদবাকী আপত্তিগুলোর জবাবও তৈরী রয়েছে। একটু সময় নিয়ে দিয়ে দিচ্ছি........![]()
পারভেজ আলম বলেছেন:
হাদিস সংগ্রহ এবং বাছাইয়ের মাধ্যমে ইসলামের সত্যিকারের মূলনীতি জানার পথ পরিষ্কার হয়ে ওঠে
লক্ষ্য করুন, মুসলমানদের বিজ্ঞান আর দর্শনের জগতে অবদান রেখেছে বলে কথিত ‘মুতাজিলা’(المعتزلة) সম্প্রদায়ের উদ্ভব ইতিহাসের এ পর্যায় পর্যন্তও ঘটে নি। কীভাবে এই সম্প্রদায় দৃশ্যপটে চলে এল এবং এত বেশী প্রভাব রাখতে সক্ষম হলো, তা থাকছে পরের পর্বে।
খেয়াল করেন, আপনি স্পষ্ট ভাষায় বলছেন এই পর্যায় পর্যন্ত মুতাজিলাদের উদ্ভবই ঘটে নাই, এইখানেই আপত্তি করছি।
আরেকটা কথা, এই পোস্ট বহির্ভূত হইলেও আলোচনায় আইসা পরে। হাদিস সংগ্রহ ও বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটা আপনি বিশুদ্ধ মনে করেন কি?
লেখক বলেছেন: মুতাজিলাদের ব্যাপারে সংযোজনী-সংশোধনী তো আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।
আর হাদিসকে যদি আপনি ইতিহাস হিসেবে বিবেচনা করেন,(মুহাম্মাদের(স) জীবন ও কর্মের যে অংশটুকু মুসলিম ধর্মতত্ত্বের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত তার বর্ণনাই তো হাদিস) তাহলে এটি নিশ্চিতভাবেই বলা চলে যে, ঐ ইতিহাস সংগ্রহ এবং বাছাইয়ের ব্যাপারে পৃথিবীর ইতিহাসে আগে-পরে এত সাবধানতা এবং সুক্ষ্মতা বিচার করা হয় নি।
আপনার সিরিজের প্রথম পর্বে কী বলেছিলাম মনে আছে?"সুন্নাতে রাসূলের(স) আইনগত মর্যাদা এবং এর সংকলনের ইতিহাসের উপরে আপনার জানার পরিধি কম বলেই আমার মনে হয়েছে।" ![]()
এটি বিস্তারিত আলোচনার বিষয় এবং এই সিরিজের সাথে খুব বেশী সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বলে কিছুই বললাম না.....
পারভেজ আলম বলেছেন:
আর, খলিফা নির্বাচনে আবু বকর আর ওমরের দৃষ্টিকটু ঘটনা ঘটানোর বর্ণনা পরে দিবনে। আজকে ইকটু যাইতে হবে। তবে নবীর দাফন করার চেয়ে আবু বকর এবং ওমর যে খলিফা নির্বাচন নিয়াই বেশি ব্যাস্ত ছিলেন এইটা জানেন বোধহয়। আর ১ নম্বরের উত্তরে, আমি উলটা বুঝছি কি না এখনো বুঝতাছিনা। ইতিহাস লেখার সময় ধর্মীয় সতর্কবাণী দেয়া আমি সঠিক মনে করিনা।
লেখক বলেছেন: মহানবীর(স) মৃত্যুর পর দাফনের আগেই খলিফা নির্বাচনে ব্যস্ত শুধু আবুবকর(রা)-উমরই(রা) নন; বরং, পুরো সাহাবা সমাজই ব্যস্ত ছিলেন! কারন আছে নিশ্চয়ই।
ইতিহাস আলোচনায় ধর্মীয় সতর্কবানী দেয়ার ঔচিত্য-অনৌচিত্য নিয়ে বলার আগে এটা বুঝে নেয়া দরকার যে, যেুসব মানুষের নিয়ে এই পর্বের আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে, তাঁদের জীবনের কার্যকলাপের একটি বিশাল অংশের সাথে মুসলিম ধর্মতত্ত্বের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের সাথে জড়িয়ে আছে মুসলমানদের গভীর আবেগ-অনুভূতি যার ফলশ্রুতিতে নির্জলা ইতিহাস আর ধর্মতত্ত্বের মাঝে পার্থক্যটি বুঝে নেয়া কঠিন হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং এ পার্থক্য নিরুপনের ব্যর্থতা লেখার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করত। কারন, এ ধরনের পাঠকের সংখ্যাই আমাদের দেশে বেশী। এমতাবস্থায়, এই ব্যাপারটি পরিষ্কার করে না দিলে ইতিমধ্যে "আমি মহান সাহাবীদের(রা) অহেতুক সমালোচনা করছি" বলে কী পরিমান মন্তব্যের তীর ছুটে আসত, আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না....![]()
লেখক বলেছেন: পরের ইতিহাসের দিকে যেতে সময় লাগবে!![]()
অলস ছেলে বলেছেন:
পড়লাম, পড়ছি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। সাথেই থাকার জন্য। কিন্তু, দিনে দিনে মন্তব্যের পরিধি এক-দুই শব্দে নেমে এলো কেন- বুঝতে পারছি না!![]()
আসাদ বাবু বলেছেন:
তায়েফ, অনেক পড়াশোনা করতে হচ্ছে বন্ধু? কষ্টকর, কষ্টকর।
যাই হোক,আম-মানুষ আমি। একটা কথা না কইয়া পারতাছি না। হাদিস-কোরান বাদে তোমরা (তুমি ও তোমার প্রাজ্ঞ পাঠকেরা) যে সব রেফারেন্স দিতাছো তার বিশ্বাসযোগ্যতা কতোটুকো? চোখ বন্ধ কইরা এগুলারে স্ট্যান্ডার্ড মানা যায়? তুমিই ভালো বলতে পারবা। দেয়ালের দুইপাশে দুইখান টুলে উইঠা তোমরা দুই পক্ষ (পক্ষ না বইলা পারলাম না; বেকুব মানুষের সোজা-সাপ্টা জ্যানারালাইজেশেন, ডিসেশন ম্যাকিং) ব্যাপক যুক্তিতর্ক চালাইতাছো। টুল গুলার পায়া ঠিক আছে তো?
মানুষ বড় ভাবপ্রবন জাত ভায়া। খালি ব্লগাররাই মানুষ না, ইতিহাসবেত্তারাও। ভাবুক সম্প্রদায় কল্পনাশক্তিরে বড় বেশি কাজে লাগায়। এই 'কল্পনাশক্তি'-রেই ডরাই।
হাদিস-কোরান বাদে যে আর কোন রেফারেন্স থাকতে পারে না মোটেই এমন না। তয় কথা হইলো আম্মাজান বিষ দিলেও চোখ বুইজা খাওন যায়, দূর-সম্পর্কের চাচারা দিলে তো পারি না। স্পর্শকাতর কিছু বিষয়েও তোমগো ভয়েস খুবই লাউড এন্ড বোল্ড। পইড়াই মনে হইতাছে তোমরা শতভাগ নিশ্চিত।পলায়ন-প্রবৃত্তি আমার মইধ্যে প্রবল; স্পর্শকাতর জিনিস গুলা কি পয়েন্ট আউট করুম না। আমার স্পর্শকাতরতার বলয় আমার নিজের হাতে গড়া। প্রত্যেকরই। বলয় গুলার পরিধি এক হয় না, তয় কিছু কমন রিজিয়ন থাকে মনে লয়। 'কমন রিজিয়নে' তোমার যাওয়া-আসা আছে বইলাই আমার বিশ্বাস।
লেখক বলেছেন: বন্ধু, তোমার এই মন্তব্যের কি জবাব দিমু সেইটা নিয়া চিন্তায় আছি, আইজ কয়েক দিন। একে তো তুমি জ্ঞানী-গুনী, ভবিষ্যতের দেশ-বরেণ্য বিজ্ঞানী, তোমারে জ্ঞান দেয়া আমার মত অভাজনের সাজে না। তারউপর, কোন বিষয়ে তোমার ভুল জনসমক্ষে ধরায়া দেয়ার মত ধৃষ্টতা করুম কীনা- সেইটাও ভাবতেছিলাম!
প্রথম কথা হৈল, তুমি মা আর চাচার মধ্যে আচরনের পার্থক্যটা ধরতে পারলেও মা কোনটা আর চাচায় কোনটা সেইটা বুঝতে পারো নাই!
দ্বিতীয় কথা হৈল, স্পর্শকাতর ব্যাপার এড়াইয়া চলা খারাপ না যতক্ষন না সেইটা গায়ের উপ্রে আইসা পড়ে। তোমার মত আমিও স্বাভাবিক অবস্থায় কমন রিজিওনে চলার পক্ষপাতী। কিন্তু, ইসলামের ইতিহাসে খেলাফত থেইকা রাজতন্ত্রের বিবর্তন আর এর সাথে সাথে নানান মতাদর্শের জন্ম নিয়া কথা বলতে গেলে, এইসব স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ এড়াইয়া যাওয়ার কোনই উপায় নাই! তারপরেও, আমি এক প্যারা কথা বোল্ড কইরা দিছি যাতে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কারো ভুল ধারনা না হয়!
কুরআন-হাদিসের ব্যাপারে তোমার যে আস্থা, সেইটা সাধারন মুসলমানের জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু, কথা হৈল, এইসব হাদিস গ্রন্থ আমরা যাগো মারফত পাইলাম, হেরাই আবার ঐসব স্পর্শকাতর ইতিহাসের বক্তা! সন্দেহ নাই, হাদিসগুলান যেই রকম যুক্তি-বুদ্ধি আর ঐশীবাণীর কষ্টিপাথরে ফেইলা যাচাই-বাছাই করা হৈছে, সাধারণ ইতিহাসের বর্ণনায় সেইটা রক্ষিত হয় নাই। পৃথিবীর ইতিহাসে ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে এইটাই স্বাভাবিক রীতি। তারপরেও, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণিত ইতিহাসই বেশী গুরুত্ব পাইছে। আর এইখানে, আমি খালি সেই কথাগুলান তুইলা ধরছি, যেগুলান বিগত চৌদ্দশ' বছর ধইরাই ছড়ানো ছিটানো আছে এবং যেগুলার ব্যাপারে কোন বড় মাপের মত পার্থক্য নাই।
আশা করি, তোমারে কিছুটা ক্লীয়ার করতে পারছি। ভুল হৈলে গুস্তাখী মাফ!![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
পারভেজ আলম বলেছেন:
সংযোজন এবং সংশোধনীর জন্য ধন্যবাদ। আপনার এই বিশেষ গুনের জন্য আপনি প্রশংসিত হবেন। তবে সহিহ সিত্তার লেখকবৃন্দ এবং মুতাজিলাদের স্বর্ণযুগ প্রায় সমসাময়িক। সহিহ সিত্তার গুরুত্ব কিন্তু বৃদ্ধি পেয়েছে মুতাজিলাদের পতনের পরই।
লেখক বলেছেন: যৌক্তিকভাবে ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া হলে, সংশোধনে আমার কোনকালেই আপত্তি ছিল না!![]()
মুতাজিলাদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরেরদিকে থাকছে....
জুল ভার্ন বলেছেন:
প্রিয় তায়েফ, এই পর্বের কিছু কিছু যায়গায় কিছুটা ভিন্ন মত আমারো রয়েছে-যা মিঃ পারভেজ আলম এবং আমিও আধার খুব সুন্দর ভাবে তুলেধরেছেন এবং আপনি তাঁদের মন্তব্যে চমতকার জবাব দিয়ে আমার ভ্রান্তিগুলো ভাংতে সহায়ক হয়েছেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ অসম্ভব সুন্দর এবং গবেশনাধর্মী একটা পরিশ্রমী লেখার জন্য। সেই সংগে ধন্যবাদ জানাই একজন ধীমান পাঠক জনাব পারভেজ আলমকেও অসংগতিগুলো তুলেধরার জন্য।
লেখক বলেছেন: জনাব, আপনার মন্তব্য সবসময়ই উৎসাহব্যঞ্জক। এই পোষ্টের বিষয়বস্তু নিয়ে বিগত তের শতাব্দী ধরেই কম বেশী মতবিরোধ-মতদ্বৈততা রয়েছে। এখানেও সেসব উঠে আসাই স্বাভাবিক।
পারভেজ আলম একনিষ্ঠ পাঠক এবং মন্তব্যকারী- সন্দেহ নেই।
আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে.....![]()
আসিফ মহিউদ্দীন বলেছেন:
সংযোজন সংশোধনের জন্য সাধুবাদ না দিয়ে পারছি না। আপনার লেখার গুরুত্ব আমি আবারও স্বীকার করছি।তায়েফ ভাই, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আমি আওয়ামী দালাল বা জামাতি গর্দভ গুলার কাছ থেকে শুনতে যতটা না স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, বদরুদ্দিন উমরের থেকে জানতে অনেক বেশি অনেক বেশি পছন্দ করি। বদরুদ্দিন উমর সরাসরি একপক্ষে যুক্ত থাকার পরেও তার তৈরি ইতিহাসের দিকে আঙ্গুল তুলতে পারি না।
আশা করি কি বলতে চাচ্ছি বুঝতে পেরেছেন।
আপনার লেখাগুলো আমি মনযোগ দিয়েই পড়ছি, কিন্তু মন্তব্য দেয়ার সময় করতে পারছি না। মন্তব্য দিতে হলে আবারও আমার বেশ কিছু ইতিহাস ঘাটতে হবে, ছোট ছোট অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনার অবকাশ আছে। আপাতত সময় পাচ্ছি না। তবে সময় পেলেই আপনার এই লেখার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একটা লেখা দেয়ার ইচ্ছা আছে।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
একটা কথা মনে করিয়ে দিই।
প্রথম পর্বের মন্তব্যের একেবারে শুরুর দিকে একজন ব্লগার এই লেখার ব্যাপারে আমি কমন মুসলিম মানসিকতায় ভোগার আশংকা প্রকাশ করেছিলেন। তার উত্তরে আমি বলেছিলাম,"মুসলিম মানসিকতা বলতে যদি 'মুসলিমেরাই সবার চেয়ে ভাল, আর সব খারাপ'- এই মানসিকতাকে বোঝান, তাহলে আশা করি আপনার ভুল ভেঙে যাবে। আর যদি 'আমি মুসলিম, ইসলামের অনুসারী'- এই মানসিকতাকে বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে আমি এই মানসিকতা মরণ পর্যন্ত বহন করতে ইচ্ছুক।"
বদরউদ্দীন উমরের সাথে আমার তুলনা চলে না। তারপরেও আপনি তাঁর সরাসরি একপক্ষে যুক্ত থাকার কথা তোলায়, আমি উপরোক্ত উদাহরণ দিলাম।
সময়ের অভাব নিয়ে তো কিছুই করার নেই; আমরা সবাই জীবিকার পেছনে অবিশ্রান্ত দৌড়াচ্ছি।
তারপরেও সময় পেলে আপনার ছোট-বড় সকল আলোচনাকেই আমি স্বাগত জানাই।
আমি মনে করি, ভুল করাটা দোষের কিছু নয়; ভুল প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে স্বীকার না করাটাই অপরাধ। কে জানে, আপনার প্রশ্ন আমার কতগুলো ভুল ধারনার অবসান ঘটায়??
লেখক বলেছেন: আর আপনি এদ্দিন পরে এলেন!!![]()
রাজিব খান০০৭ বলেছেন:
এত সময় আমি পাই না কেন। +++
লেখক বলেছেন: কারন, আপনি বড় বড় রাজকার্যে ব্যস্ত থাকেন.......![]()
![]()
![]()
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা হইয়া পড়তে পারলাম! বেশ কয়েকবার ঘুরেও পড়তে পারি নাই অস্থির মাথার জন্য! পোস্ট আর মন্তব্যের জবাব গুলা কিন্তু সত্যিই চরম অইছে! দুইটাই চরম কালেকশনের জিনিস!!আবারো কইতাছি, দারুন লাগলো পড়তে!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দিতে দেরী হওয়ার জন্য দুঃখিত।
অনেক যন্ত্রনায় ছিলাম।
লেখক বলেছেন: আপনার কাজে লাগলে খুশী হবো....
মেহেরুবা বলেছেন:
এই পোষ্টটা অনেক সময় নিয়ে পড়লাম। আমাদের মহানবী (সঃ) এর সময়কাল সম্পর্কে অনেক কিছু জানা গেল।উসমান(রা)(জামিউল কুরআন) কর্তৃক সংকলিত কুরআনের কপিসমূহের মাঝে একমাত্র টিকে থাকা কপিটি দেখে খুব ভাল লাগল।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!
লেখক বলেছেন: সত্যিকার অর্থেই এই পোষ্টটা একটু সময় নিয়ে পড়া উচিৎ(নিজের পোষ্ট বলে বলছি না
)। আপনি পড়েছেন দেখে সম্মানিতবোধ করলাম....![]()
দীপান্বিতা বলেছেন:
হুম্! এখন খুব বেশি আসা হচ্ছে না...... তবে, এখন আপনাকে তো পুরো প্রফেসর লাগছে! যা থিসিস্ দিয়েছেন! ছবি এতো কম কেন!
লেখক বলেছেন: প্রফেসর!! এত বড় গালি তো অনেক দিন কেউ দেয় নি!!!
![]()
এত ছবি কোত্থেকে পাব!! আর সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি পাওয়াটাও কঠিন।
যাই হোক, এদিকে, এই ব্লগ পাড়ায়, আসা কমিয়ে দেয়া চলবে না, আমরা আনন্দবাজারের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চাই না!![]()
আমি এবং আঁধার বলেছেন:
এই বিষয়ে আর কোনো কমেন্ট করবো না, ব্যাপারটি স্পর্শকাতর পর্যায়ে চলে যাবে; আপনি ধর্মতত্ত্ব আর ইতিহাসের মাঝে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। ইতিহাসে ধর্মতত্ত্ব বা ধর্মীয় মর্যাদায় কার বেশি শোধন হয়েছে সেগুলো নিয়ে সম্ভবত চরিত্রবিচার করা হয়না। উসমানের সময়ের ইতিহাস এর খলনায়কদের পেছনের ঘটনাগুলো কিন্তু এসেছে এভাবে, তাদের আচার-আচরণে অতীষ্ঠ হয়েই জনগণ এসব বলেছে(আমরা যেমন টেন পার্সেন্ট, চিনি জাফর, ডিজিঠাল সরকার বলি) রাজনৈতিক তথা ঐতিহাসিক চরিত্রবিচারে তাই এসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ধর্মতত্ত্বে তেমন না হলেও( লক্ষ্য করুন, প্রাচীন আরব ঐতিহাসিকও এর গুরুত্ব বুঝে তা উল্লেখ করতে ভোলেননি)।এটাও সন্দেহ নেই, তাঁর নিযুক্ত বেশীরভাগ শাসনকর্তার উপরে জনগণ অসন্তুষ্ট ছিল। এর কারন এটি ছিল না যে, তাঁরা সকলেই অযোগ্য ছিলেন। কারন ছিল যে, তাঁদের চেয়েও যোগ্য ব্যক্তি তখনো বর্তমান ছিলেন। খলিফার আত্মীয় হওয়ার চেয়ে যোগ্যতার প্রশ্নই জনগণের কাছে বেশী ছিল।
খুবই কনফিউজিং লাগলো! একেতো তাদের চেয়ে যোগ্য লোক আছে, তারপরে আবার এরা খলীফার আত্মীয়! এদের দুর্নীতিও প্রকাশ্য(যা আপনি উল্লেখ করেননি)। তাহলে জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়বে না কেন? আফটার অল আরবরা সবসময়ই নিরপেক্ষতায় এবং যোগ্যতায় বিশ্বাসী ছিলো। এরা তবে উগ্রবাদী হয় কি করে? ১ম খলীফার ছেলের উগ্রবাদী হওয়ার কারণ কি? তাকে তো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এর আগে বা পরে কখনোই দেখা যায়নি!
একটা বিশাল সাম্রাজ্য(ইসলামিক সাম্রাজ্য তখন আরবীয় ঘোড়ার বেগেই ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র) এর কেন্দ্রবিন্দুতে খলীফাকে সুদুর কুফা আর মিসর থেকে এসে অবরোধ করে ফেলা হলো, অথচ কোনো প্রতিরোধই করা হলো না! আলী, জোবায়ের, তালহা এরা স্পটে উপস্থিত থেকেও কোন ব্যবস্থা নিলেন না বা নিতে পারলেন না? নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলে এ থেকেই কি স্পষ্ট নয় যে সে সময় খলীফার প্রতি সমর্থণ কত কমে গিয়েছিলো বা খলীফার শাসন ব্যবস্থা/নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতোটা অকার্যকর হয়ে পড়েছিলো?
মনে রাখা ভালো এটা কিন্তু কোনো ক্যু দে তা ছিলো না, এটা ছিলো নির্জলা বিদ্রোহ, এবং কোনো বিদ্রোহই অকাট্য কারণ ছাড়া হয়না
আলী এবং আয়েশার মাঝে বাগানের মালিকানা সংক্রান্ত একটা পুরনো বিবাদ ছিলো, আলীর খবর জানা যায়না তবে আয়েশা ব্যাপারটিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছিলেন।(সত্যিকার অর্থে এর মাঝে ফাতেমা আর আবুবকরকেও হিসাব করতে হবে।)
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: প্রথমেই ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।![]()
কেননা, আপনার আগের মন্তব্যের জবাবে আরো কিছু বলার ছিল, যা আপনার এই মন্তব্যের আগে বলতে চাইছিলাম না। এখন বলি।
প্রথমতঃ ধর্মতত্ত্ব এবং ইতিহাসের সামঞ্জস্য বিধানে আমার এই যে, হিমশিম খাওয়া- এটা একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। আমার চেয়ে শতগুনে যোগ্য ঐতিহাসিকেরা বিগত তের শতক ধরেই হিমশিম খাচ্ছেন(অবশ্য, যারা একপেশে ইতিহাস লিখেন, তাদের কথা ভিন্ন)। এই ব্যাপারটায় লক্ষ্য রেখেই আমি পোষ্টে বোল্ড করে একটি অনুচ্ছেদ লিখেছি, যাতে ইতিহাস এবং ধর্মতত্ত্বের পার্থক্যটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। কতটা সফল হয়েছি, তা পাঠকের বিবেচনা।
দ্বিতীয়তঃ এই পোষ্টের উদ্দেশ্য ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন দার্শনিক দলের উদ্ভবের পেছনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারনা দেয়া; সিরিজে মূল যে বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা স্বাভাবিকভাবেই এই প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার খুব বেশী সুযোগ দেয় না। এ কারনেই, ঘটনাগুলোর শুধুমাত্র ইঙ্গিত দিয়েই শেষ করে দিয়েছি, কার দায়-দায়িত্ব কত, তা নিয়ে মাথা ঘামাই নি। তারপরেও খেয়াল করুন, আপনি আপনার মন্তব্যে যেখানকার রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন, আমিও চেষ্টা করেছি সেসব বই থেকেই রেফারেন্স টানতে....
তৃতীয়তঃ জনগণ কেন সে সময়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়লো না, বরং অনূন্য দুই সহস্র জনগণ হতে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি বিক্ষুব্ধ হলো? বিশাল সম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু খলিফা কেন বিনা বাধায় অবরুদ্ধ হয়ে গেলেন? কেন সে সময়ের মক্কাবাসী(যাঁদের মধ্যে বড় বড় সাহাবীরাও শামিল ছিলেন) এর প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে সক্ষম হলেন না?- এ প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে হলে, ঐ নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের কাঠামো, এর খেলাফতের চরিত্র এবং ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটকে একেবারে বিস্তারিতভাবে আলোচনায় আনতে হবে, আধুনিক রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার সাথে তুলনা করে ঐ অবস্থাকে বিবেচনা করলে ভুল ধারনা হতে বাধ্য। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, এই মূহুর্তে এটি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার অবস্থা নেই। পরে কখনো আলাদা পোষ্ট আকারে আলোচনা করা যাবে।
সরকার সেলিম বলেছেন:
আমার ইমেলে একটু নক করবেন প্লিজ....
লেখক বলেছেন: থেকে মেইল পাঠানো হয়েছে....
সোমহেপি বলেছেন:
পর্ব কি আরো চলবে?
লেখক বলেছেন: বিরক্ত হয়ে গেলেন বুঝি?
![]()
দীপান্বিতা বলেছেন:
এমা!আমার মাথায় এত্ত ঢোকে না আর কি!
শুভ নববর্ষ ....কেমন কাটল সারাদিন!
লেখক বলেছেন: আর কাটাকাটি!!
অফিস করতে হয়েছে সারাদিন!! ছুটি পাই নি!![]()
যাই হোক, আমাদের তো কাল গেল, আপনাদের আজ; শুভ নববর্ষ.....
শৈল্পিক ভাবনা বলেছেন:
পুরা লেখাটিই ভাল লাগলো কিন্তু এরছেয়ে ভাল লেগেছে কমেন্টের ঘরে চমৎকার আলোচনা। সবাইকে অনেক মুবারকবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ.....
লেখক বলেছেন: আগেই পড়ে ফেলেছেন!! ব্লগে নাকি কম কম আসেন??
এর মাঝেও?? ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: হে হে হে.. তেলায়িত হইলাম.........![]()
আমি ছাড়া সবাই ভাল বলেছেন:
আগামী পর্ব কবেরে ভাই
লেখক বলেছেন: দিয়ে দিছি!![]()
লেখক বলেছেন: কষ্টের শেষ নাই.........
লেখক বলেছেন: নববর্ষ জানাতে দেরী করে ফেললাম...পাকাপাকিভাবে দেশে আসছো শুনলাম...
লেখক বলেছেন: কস্টে আছি, দেখতেই পাচ্ছো!
৮ তারিখের পরে আর কিছুই লিখতে পারছি না!![]()
তোমাকে দেখে খুউউউব ভাল লাগছে..
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
এই পর্বটা মনে হচ্ছে অনেক আলোচনা/সমালোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে । ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়েছে !
চলুক ।
একসাথে বসে পড়তে হবে । সব শেষ হলে একটা ইবুক পাব্লিশ করতে করতে পারেন ।
লেখক বলেছেন: আলোচনা/সমালোচনা!!
তা আর বলতে......
ই-বুক!!??
দেখা যাক। আগে শেষ তো করি....
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
থেমে আছে কেন? পরের পর্ব কই?
লেখক বলেছেন: একটু পরেই আসছে.........পর্বটি লিখতে গিয়ে অসম্ভব কষ্ট হলো, চরম অলসতায় প্রথম তিনটি বাক্য লিখতেই এক সপ্তাহ চলে গিয়েছে! বাকী লেখায়ও তার ছাপ সুষ্পষ্ট। তার উপর নেটের অবস্থা তো সবার জানাই। ক্ষমাপ্রার্থী, পাঠকের কাছে।![]()
অট: এই পোস্ট পড়তে গিয়ে পুরা একঘন্টা চলে গেল। এইজন্যই তোমার পোস্ট ঢুকতে ইচ্ছে করে না
লেখক বলেছেন: ভাল লেগেছে জেনে আমারো ভাল লাগল....
মুয়াবিয়ার(রা) যত ভুলই থাকুক না কেন, তিনি রাসুলুল্লাহের(স) সাহাবী ছহিলেন। তাঁর নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে 'রাযিআল্লাহ আনহু' বলা উচিৎ নলে মনে করি।
আমার পোষ্টে ঢুকার জন্য আমি তো বাধ্য করি নাই!![]()
![]()
আসাদ বাবু বলেছেন:
খেক্ খেক্ খেক্ ... আমি যে সিরাম জ্ঞানী আবার নতুন কইরা জানলাম.....যাই হোক, লেখাটা চমৎকার...বরাবরের মত... প্রথম কমেন্টে লিখতে ভুইলা গেস্লাম
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যকে আপনার বিনয় হিসেবে নিলাম।![]()
অপু২৮৩৮ বলেছেন:
নতুন বিষয় জানলাম। বাকি পর্বগুলো পড়া শুরু করছি। অনেক শুভ কামনা আর ধন্যবাদ জেনো।
লেখক বলেছেন: হঠাৎ করে পড়ার সুযোগ পেয়ে গেলেন!
![]()
হাতে কাজের পরিমান কম নাকি!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















চলুক ,।