দুর্ধর্ষ জঙ্গি ভগ্নে শহীদ শিবির থেকে জঙ্গিবাদের দীক্ষা পায় ॥
১২ রাজনৈতিক নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভাগ্নে শহীদের হিটলিস্টে
গতকালের পর
আল ইহসান ডেস্ক: পুলিশ জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলায় দায়েরকৃত একটি মামলায় গ্রেফতারকৃত ভাগ্নে শহীদকে ২০ বছর সাজা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও নাটোরের চাটমোহরে ব্র্যাক অফিসে হামলা, ক্ষেতলালে মহেশপুর থানা পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র লুট, লেখক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা চেষ্টা মামলাসহ দুই ডজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
গ্রেফতারকৃত জেএমবি নেতারা পুলিশকে জানিয়েছে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দামগাড়ার আব্দুল মজিদ ও আর্মি আনোয়ার জেএমবি’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে অর্থ যোগান দিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাসে চার হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা কালেকশন করে। এছাড়াও ধান কাটার মৌসুমে ওশর কালেকশন করে তারা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তাদের দেয়।
সূত্র মতে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর প্রাক্কালে দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের নাশকতা রোধে জামাতের আমীর মইত্যা রাজাকার মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর দেইল্যা রজাকার মাওলানা দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদী ওরফে বাংলার ইহুদী ও সেক্রেটারি জেনারেল মইজ্যা রাজাকার আলী আহসান মুজাহিদ এবং জেএমবি’র প্রধান সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করার পর রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে ভাগ্নে শহীদ জেএমবি’র নেতা কর্মীদের নিয়ে শিবিরের সাথে মিশে দুর্বার আন্দোলন ও দেশে নাশকতা সৃষ্টি উদ্দেশ্যে জেএমবি নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলে সফরে যায়।
পুলিশ জানায়, জেএমবি প্রধান ওহাবী নেতা মাওলানা আব্দুর রহমান ও সাবেক শিবির নেতা সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা সন্ত্রাসীসহ সংগঠনের হাইকমান্ডের কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর চিফ হিসেবে দায়িত্ব পায় জামাত নেতা মাওলানা সাইদুর রহমান। সাইদুর রহমান গ্রেফতারের পর সংগঠনের হাল ধরে ভাগ্নে শহীদ। দায়িত্ব পাওয়ার আগে শহীদ রাজশাহী বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় জেএমবি সদস্যদের সংগঠিত করার কাজে নিয়োজিত ছিল।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে সে মওদুদীবাদী জামাতের অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরে (রগকাটা বাহিনী) যোগ দেয়। ২০০০ সালে জেএমবি’র ঠাকুরগাঁও জেলা প্রধান তারিকুল ইসলাম ওরফে সাঈদ (বর্তমানে ভারতে পলাতক)-এর আমন্ত্রণে জেএমবি’তে যোগ দেয়। ২০০১ সালে এসহার সদস্য হয়ে ডিসেম্বরে লালমনিরহাট জেলার দায়িত্ব পায়। ২০০২ সালে দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে পেট্রোলবোমা হামলার পরই বাংলা সনত্রাসীকে প্রধান করে ‘ইসাবাহ’ নামে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ভাগ্নে শহীদ ওই কমিটির সদস্য থাকা অবস্থায় ২০০৪ সালে হাইকমান্ডের নির্দেশে সে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পায়।
২০০৭ সালে ওহাবীবাদী জঙ্গি নেতা মাওলানা আব্দুর রহমান ও বাংলা সন্ত্রাসীসহ শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর তাকে বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৮ সালে জেএমবি’র রাজশাহী বিভাগীয় চিফ জাহাঙ্গীর গ্রেফতার হলে সে এ অঞ্চলের দায়িত্ব পায়। ২০০৯ সালে জেএমবি’কে সংগঠিত করতে সাইদুরের নেতৃত্বে চার সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় যে শূরা কমিটি গঠন করা হয় সে ওই কমিটির সদস্য হিসেবে উত্তরাঞ্চলের দায়িত্ব পায়। কমিটির অন্য তিন সদস্যের মধ্যে আশরাফ আলী চট্টগ্রাম অঞ্চল, সোহেল মাহফুজ ঢাকা অঞ্চল এবং আবির উদ্দিন বরিশাল ও খুলনা অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। জেএমবি’র প্রধান সাইদুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর হাইকমান্ড নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ায় ভাগ্নে শহীদ নতুন পরিকল্পনায় সংগঠনকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। পাশাপাশি দেশে অসি'তিশীল পরিসি'তি সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ১২ জনের হিটলিস্ট তৈরি করে তাদের উপরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



