মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের ভেতরে গণহত্যাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলগুলোর বিরূপ মনোভাব ও বিশ্বজনমত গড়ে উঠতে থাকে। এরই প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তানিরা বিদেশে অবস্থানরত কিছু বাঙালি এবং দেশের কতিপয় তথাকথিত বুদ্ধিজীবীকে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বিশ্বজনমত গড়ে তোলার অপচেষ্টা চালায়। এই দালালরা লন্ডনের একটি দৈনিকে বাঙালিদের প্রতিনিধি সেজে পাকিস্তানি শাসকদের গণহত্যাকে সমর্থন করে প্রথম পাতায় একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। এ বিজ্ঞাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. সাজ্জাদ হোসেন বলে যে, পাক বাহিনীর আক্রমণ ছিলো অনিবার্য। সে জানায় যে, কতিপয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও দুষ্কৃতকারী (অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধারা) দেশে এমন অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল যে, সেনাবাহিনীকে বাধ্য হয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়। সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সে বলে যে, সেনাবাহিনীর কারণেই বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। এদিনে পাক সেনারা বাঙালি গণহত্যা অব্যাহত রাখার নতুন কৌশল হিসেবে জারি করে ১৬২ নম্বর সামরিক আদেশ। এই আদেশবলে নতুন করে গঠন করা হয় ৬ নম্বর সামরিক সেক্টর।
এদিন প্রচার করা হয় বিদেশী সাংবাদিকদের কাছে দেয়া ইয়াহিয়া খানের সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিব দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত। অবশ্যই তার বিচার করা হবে। শেখ মুজিব দেশদ্রোহী কার্য, প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের উস্কানি দিয়েছে। তার জন্যেই আজ দেশের এই অবস্থা। তাছাড়া তিনি তার নির্বাচনী ওয়াদা থেকে সরে এসেছিলেন। শেখ মুজিব বিদেশীদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে এমন অপরাধ করেছেন যে, তাকে অনুরূপ অপরাধকারী যে কোনো ব্যক্তির ন্যায় শাস্তি ভোগ করতে হবে।’ ইয়াহিয়া সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনারা অপরাধীদের সঙ্গে কিরূপ আচরণ করেন?’
এদিন রাজাকাররা কুষ্টিয়া সদর মহকুমার কুমারখালী থানার পাল্টি গ্রামে ২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা এবং ২ জনকে আটক করে। ঘাতক শান্তিকমিটির চেয়ারম্যান খেলাফত আলী ও তার ছেলে রাজাকারদের সহায়তায় আরো ৬ জনকে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে নিজের হাতে গুলি করে খুন করে চেয়ারম্যানপুত্র শহীদুল ইসলাম।
এদিন খন্দকার আজিজুর রহমান ও রঈসউদ্দীনকে যথাক্রমে আহ্বায়ক ও সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট শান্তিকমিটি পুনর্গঠিত করা হয় গাইবান্ধায়।
[তথ্যসূত্র: দৈনিক পাকিস্তান, ধর্মব্যবসায়ী ঘাতক জামাতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম ৫, ৬, ৭ আগস্ট ১৯৭১ ঈসায়ী।]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



