শীর্ষ জঙ্গিদের ফাঁসি হলেও আজো তাদের মদদদাতা ও গডফাদারদের টিকিটি ধরা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে জঙ্গি সংগঠন সৃষ্টি ও লালনকারী সেই জামাত-শিবির এখনো বহাল তবিয়তেই আছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও জঙ্গিদের গডফাদারদের ধরার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এদিকে ২০০৯ সালে আ’লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলেও জঙ্গিদের গডফাদারদের ধরে বিচারের মুখোমুখি করার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কাকতালীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জেএমবি’র আমীর জামাত নেতা মাওলানা সাইদুর রহমান ২০১০ সালের মে মাসে আটক হয়। ওহাবীবাদী মওদুদী জামাতের জঙ্গি কানেকশন ও জঙ্গি লালনের নানা কাহিনী জঙ্গি সর্দার মাও. সাইদুর ফাঁস করে দিয়েছে। এদিকে ২০১০ সালের জুলাই মাসে আরেক শীর্ষ জঙ্গি ভাগ্নে শহিদ আটক হয়। সে এককালে শিবির করতো। সেও জামাত-শিবিরের জঙ্গি মদদের তথ্য দিয়েছে। ২০১০ সালের জুন ও আগস্ট মাসে জঙ্গি গডফাদার মইত্যা রাজাকার নিজামী-মুজাহিদসহ জামাতের ৫ শীর্ষ নেতা আটক হয়। এদেরকে জঙ্গি সাইদুর ও ভাগ্নে শহিদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জঙ্গি কানেকশনের ব্যাপারে। জিজ্ঞাসাবাদে পিলে চমকানো তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। জঙ্গি কানেকশনের অপরাধে অ্যারেস্টও দেখানো হয়েছে। তারপরও মহাজোট সরকারের বিচারকরা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার মামলায়ও জামাতের শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের জামিন মঞ্জুর করেছে! রহস্যজনক ব্যাপার!! ফলে জঙ্গি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সরকারের তৎপরতাকে লোক দেখানো, মেকি, অসার বলেই মন্তব্য করেছেন দেশপ্রেমিক সচেতন মহল।
বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় ব্যাপকভাবে উত্থান ও বিস্তৃতি ঘটে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর। প্রথমদিকে ভিন্ন নামে গোপনে জঙ্গি তৎপরতা চালালেও ২০০৪ সালের প্রথমার্ধে রাজশাহীর বাগমারায় জঙ্গিবাদী সংগঠন ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা, বাংলাদেশ’ (জেএমজেবি) নামে প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড শুরু করে শীর্ষ জঙ্গি সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা সন্ত্রাসী। আর ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার মাধ্যমে প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ ঘটায় ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠন ‘জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ’ (জেএমবি)। পরবর্তীতে জানা যায় জেএমবি ও জেএমজেবি আসলে একই সংগঠন। অভিযোগ উঠে, মূলত স্বাধীনতাবিরোধী দল ধর্মব্যবসায়ী জামাতে মওদুদী ও তাদের ক্যাডারভিত্তিক ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরই এই জঙ্গিবাদী সংগঠন দু’টির জন্মদাতা। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার সুবাদে সরকার ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিশেষ নীলনকশার অংশ হিসেবেই গড়ে তোলা হয় এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে।
বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যেসব জঙ্গি ধরা পড়েছে তাদের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে জামাতের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা। দেখা যায়, আটককৃতদের অধিকাংশই (প্রায় ৬০ ভাগ) কোনো না কোনোভাবে জামাত-শিবিরের সঙ্গে জড়িত। তবে বিএনপি কাজ করেছে জামাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সহায়ক শক্তি হিসেবে। যদিও বিএনপি’র কতিপয় মন্ত্রী ও সাংসদ সরাসরি সশস্ত্র জঙ্গিদের মদদ দিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। (চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



