সতত চেষ্টা নিতাছি তিন মাস্তানের থিকা দূরা থাকার; হিংসা, লোভ আর অহংকার। শেষ দুইটারে যদিওবা বাগে রাখছি, পরথম টা ফণা তুলবার চায়। না ভাই, সুন্দরী মাইয়া হিংসাইনা, গিনি সোনায়ও ত্যারছা চোখ দেইনা। গাড়ির দেশে থাইকাও রাস্তা চলি পুরান দ্বিচক্রযানে, টয়োটা নিসানের চাকায় মনের সুতা বাইন্ধা দেই নাই এখনো। আমার যাবতীয় হিংসা ওই 'স'-ওয়ালাগুলারে। বুঝলাম নাম তোদের স দিয়া, সুখ তাই তগো ঘরেই টোকা দিব?
যত্তগুলান মানুষরে দেখে এ জীবনে চোখ টাটাইছি, সবাই 'স'। ধরম একটাই এদের, শরম নাই। প্রাণখুলে হাসতে পারে। চরম দুখেও সুখ খুঁজে পায়। হাসতে হাসতে গড়ায়া পড়ে, কড়কড়ানি শব্দে কানে তালা লাগায়। হাফপ্যান্ট পরা বয়েসে পাইছিলাম এক 'স' বেগম রে। নায়াগ্রায় যত জল যেমনে গড়ায়, দিনভর তার তত হাসি খলবলায়। মা ঝাড়ি দিলো, তাও হাসে। মাথায় উকুন হইছে, তাও কেলায়। তরকারিতে লবণ দিসে একমণ, মাইয়া অংকে ১২ পাইছে, জামাইয়ের দাড়ি পাকছে দুইটা, তবুও সেই কলকলানি। দোয়া করি, হাসতে হাসতেই যেনো মরণ হয়গো তোমার স বেগম।
স্কুল জীবনে দেখা পাইলাম আরেক স রাণীর। এই জীবনে এমন সুন্দর মাইয়া মানুষ দেখি নাই, ঈমানে কইতেছি। দুইটা গজদন্ত। অবিরাম হাসে। হাসায়। বাদামের খোসার ভিতর থিকা, জ্যামিতি বক্সের কম্পাসের নিচ থিকা, বিজন স্যারের ভুঁড়ির ভিতর থিকাও থোকায় থোকায় আনন্দ নিয়া আসে। দুই গালে টোল পড়ে, ডান চোখ ইট্টু ঢাইকা যায়। কেলাশের পোলাগুলারে হাতে পায়ে ক্রেন বাঁইধা ঘোরায়, তবুও রাগ করতে পারিনা। এমন করে হাসতে পারে যে! বার্লির মতো পানসে সময়রেও ভরে দিতে পারে উচ্ছ্বলতায়। চোখ রাংগানি ডরায় না, ধামকিরে বুড়া আঙ্গুল দেখায়। তরে খোদায় এত হাসি দিয়া জন্ম দেছেরে সই!
আরেক স বালিকা। এক মাথা চুল, শরীল ভরা ক্যালোরি, আর গাল ভরা? আর কি, ওই সে হাসি। শুধু মুক্তা না, হাসলে আসমান শুদ্ধা তারা-রা খইসা পড়বার চায়। এই দুখভরা সাগরে এত হাসি তুই পাস কেমনে রে হাসিরাণী? সেইদিন ফোনে খবর দিলো, এক সই মেয়ের নাম রাখছে 'মাটি'। পোলা হইলে কি 'সিমেন্ট' রাখতো- এই চিন্তায় স-রাণী খালি হাসে আর হাসে। ওর হাসি আমার মগজে ঢোকে, ঠোঁটে আসেনা। কানের পোকা মাইরা ফালায়, মাগার মনের পাথর সরায়না। বুঝলাম, সবাই হাসতে পারেনা এমন। সুখের সিডর এ ভাইসা গেলেও না।
এবার 'স' রাজ। বেচারা পড়ছে মহা ফাঁপড়ে। হাই তুলতে পারেনা, কাশতে পারেনা, দাঁত খিলাইতে গেলেও ঝামেলা। ঠোঁট নড়লেই আশপাশের লোক ভাবে, হাসির কথা বলতেছে। এমনি তার ক্ষ্যামতা। জগতের সবকিছুতেই খুঁইজা পান হাস্য, লাস্য। একই কথা আমার মুখ দিয়া বের হলে মনে হয় ধর্মবাণী, আর তার উচ্চারণে তা হয়ে যায় সকলের অপার আনন্দের উৎস। যা বলে তাতেই লোকে তালি দেয়, নিজে যা শোনে তাতেই বাকবাকুম করে খুশীতে।
শতধারায় সুখ যেন বয়ে যায় আমার 'স' দের জীবনে।
দেখেশুনে ভেবেছি, পরবর্তী প্রজন্মের নাম হবে 'স' দিয়ে। আপাতত 'সূতাক্রিমি' ছাড়া কিছু মাথায় আসছেনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

