সেদিন এক জাপানি ভদ্রলোক ওনোদেরা আর তার পরিচিত আরেক ভদ্রমহিলা কিমুরা-কে বাসায় দাওয়াত দিয়েছিলাম। ওনোদেরা পেশায় স্থাপত্য প্রকৌশলী, বাংলাদেশে মিরপুরে ওয়াটার পাম্পের একটা প্রজেক্টে কনসাল্টেন্ট হিসেবে কাজ করছেন ছ'মাস ধরে। বসন্তের ছুটিতে জাপান এসেছেন। আলাপের এক পর্যায়ে পেড়েই বসলাম কথাটা, বাংলাদেশ কেমন লাগছে? নেগেটিভ কিছু শুনবো ভেবেই প্রশ্নটা করতে ইচ্ছে হচ্ছিলোনা এতক্ষণ। কৌতূহলের কাছে পরাস্ত হলাম। জাপানিরা কাউকে আশাহত করতে চায়না, মুখের উপর নিদারুণ সত্য বলা থেকে বিরত থাকে। ওনোদেরা ব্যতিক্রম করলেন, করতে বাধ্য হলেন। কপালের কুঞ্চনে একরাশ বিরক্তি আমার আর মাসুমের চোখ এড়ালোনা। মুখ খুললেন একটু খানিক ভেবে নিয়ে। "সরকারি লোকেরা কাজ করতে চায়না একেবারে। আমি ওদের ব্যাপারে খুবই হতাশ।" কিমুরার চোয়াল ঝুলে পড়লো বিস্ময়ে, "কাজ করতে চায়না? এটা আবার কেমন?" একজন জাপানিজের চিন্তায় কুলালোনা একটা কর্মচারী কাজ করতে চায়না, কথাটার মানে আসলে কী।
ওনোদেরা ক্রমাগত ব্যতিক্রমী জাপানিজ হতেই থাকলেন। "এত ভীড়, এত ট্রাফিক জ্যাম"। ব্যাগ থেকে বাংলাদেশের একটা ইংরেজি দৈনিক বের করে ঢাকার ট্রাফিক জ্যামের ছবি দেখালেন কিমুরাকে। হয়ত শুনে বিশ্বাস করবেনা, তাই বেশ কটি পেপার কাটিং নিয়ে এসেছেন বন্ধুদের দেখাতে। সে ছবি দেখে আমরাই বাকহীন। বলতে থাকলেন, তোমাদের দেশে ধনী গরীবের এতটা তফাত, অবিশ্বাস্য! লোডশেডিং এর বর্ণনা শুনে কিমুরা কিছুটা ধন্দের মধ্যে পড়ে গেলেন। তাকে বোঝাতে আমাদের বেগ পেতে হলো এই বস্তুটা আসলে কী।
মুখ আমসি করে মাসুম জিজ্ঞেস করলো, তোমার কাছে ভালো লেগেছে এমন কিছুই কি নেই? বেচারা মহা চিন্তায় পড়ে গেলো, আমার কাছে মায়াই লাগছিলো। আমতা আমতা করে বললেন, বেশ কিছু সবুজ জায়গা আছে ঢাকাতে, সেগুলি সুন্দর। পার্কগুলোতে ঢুকেছেন কিনা আর ঢুকলেই বা কী অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা জিজ্ঞেস করতে আর সাহসে কুলালোনা।
রেঁধেছিলাম খিচুড়ি আর খাসির মাংস। শুধু মাংস খেলেন ওনোদেরা বেশ কয়েক পিস। সেই মাংস খেয়ে আমার আর মাসুমের পরের দিন স্টমাক আপসেট। উনাদের কী অবস্থা হয়েছে ভাবতেই অনুশোচনায় ভুগছি। বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে নিশ্চই এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলবেন কাউকে। আমি দুঃখিত ওনোদেরা সান, দেশে বিদেশে কোথাও বাংলাদেশ নিয়ে ভালো স্মৃতি জমা হলোনা এখনো তোমার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

