সময়ঘোড়ার রাশ টেনে ছিনিয়ে নিলাম একচিলতে রোদ্দুর। কর্মদিবসের অবসর আর উইকএণ্ডের স্বাদ ঘোরতর আলাদা, তারিয়ে তারিয়ে সে স্বাদটুকু নিচ্ছি। কাল রাতেই মনস্থির করেছিলাম, নিদারুণ ব্যস্ততার ফাঁকে ঝুপ করে চেয়ে নেবো একটা আস্ত দিনের ঘড়ি, নিছক নিজের মত করে কাঁটাগুলোকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবার জন্য। মোটা পর্দা আচ্ছা করে টেনে দিয়েছিলাম দুরন্ত সূর্যের বখাটে চোখ থেকে রেহাই পেতে। দশ ছুঁলো কি বারো পেরুলো, আমার কী? আমি তো আজ একদিনের রাজা। সময় আমার স্থির, ভাবনা অচঞ্চল।
অনেকদিন পর সকালভোজন হলো। ডিম পোচ আর রুটি, এককাপ কফি। এঁটো বাসনগুলো সিংকে কেমন বিচ্ছিরি হা করে আছে। আজ সব অসুন্দরকে ঝেঁটিয়ে তাড়াবো। চিনি, ডাল, মসলার গুঁড়ো নিজ নিজ ঠিকানায় পৌঁছে গেল প্লাস্টিক প্যাক থেকে। মুড়িঘন্ট হতে হতে হালুয়ায় রূপ নিয়ে নিলো একথালা বুট। ডিশ ওয়াশিং এ নেয়ে লাস্যময়ী ধাতব গুলো রূপের ফেরি করে গেলো চোখের সামনে দিয়ে। একটা ম্যাগাজিন, মানিকের ভাঁজমোড়ানো পাতা, কেনাকাটার রশিদ, আইস্ক্রিমের খোসা, খালি হওয়া পানীয়ের জার, এলোমেলো কাপড়গুলো, শূন্যগর্ভা টিস্যুবাক্স, আধেক খুলে রাখা তেলের শিশি, চুলে জড়ানো চিরুনি, খোসাহীন সিডি, ধূলোজমা টেডি, চালের গুঁড়ো, স্প্যাগেটির চিরল গাত্র, সব্বাই আজ আমার আঙ্গুল ছুঁতে পারবে।
আজ আমি সত্যজিত দেখবো, ইন্দ্রানী শুনবো, সুমনকে ভাববো। অনেকটা সময় নিয়ে দেশের জঞ্জাল চিনবো। বৃষ্টি ছুঁবো ছাতার গলুইয়ে হাত বাড়িয়ে নয়, নগ্ন পায়ে। টবের ফুল আমাকে অবসরের গান শোনাবে। ব্লগের সব্বাইকে কনে দেখার মত করে খুঁটিয়ে যাচাই করে নিবো। সময়ের হাতপা ধরে খানিক জিরিয়ে নিতে বলবো আমার উঠোনে।
নাহ, পারছিনা বোধ হয়। বিল দিতে হবে, বাড়ীভাড়া দিয়ে আসব, ফ্রিজ খালি প্রায়। কয়েকদিন ফল খাওয়া হচ্ছেনা। একটা প্রিন্টআউট নিতে হবে। জরুরি একটা ইমেইল। ওব্বাবা সাড়ে তিন। একটু আস্তে হাঁটো অরুণবাবু, আমার একটা দিন যে আজ! অনেক সাধের, যতন করে সাজাবো বলে।
এই যে প্রাণময় নিস্তব্ধতা, অলস অপরাহ্ন
প্রাত্যহিক নাগরিক সংগীতে আমার অরুচি
আলতো ভালবেসে চুম্বন আমার অবসরে,
রামধনুর সুন্দরের মতই সব বড় ক্ষণজন্মা।
শৈশবের কাঠিলজেন্সে চুমুক দিতে না দিতেই
বিদায়ের ঢং ঢং। ধ্যান ভাঙ্গে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

