somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের অনাদি অনন্ত বাংগালীপনা

১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পেসিমিজম আর আত্মসমালোচনা-কে যারা এক করে দেখেন আমি তাদের দলে নই। বিদেশের মাটিতে নিজেদের ভুলগুলোকে জামদানি পাড়ে ঢেকে, সিল্কের পাঞ্জাবীর স্বর্ণ বোতামে লটকে ফোল্ডিং চেয়ারের সাথে ভাঁজ করে রেখে দিলেই খালাস হয়না আত্মগ্লানি। সেটা সামনে এনে ভাবতে হয়। এসে যায় আপনা থেকেই, উকুন পরিবারের কুট্টুর কুট্টুর কামড়ের মত ডালপালা ছড়ায় গ্রে-ম্যাটারে। সাম্প্রতিক বোধোদয় হল বিগত এক রোববার। মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি, জাপান এর অভিষেক আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলুম। খাসা কিছু বাংগালীপনা ভরে এনেছি ট্র্যাশ ব্যাগে করে।

দু'টো সাইটে শুরুর সময় ছিলো দু'রকম। দু'টা আর তিনটা। আয়োজকদের ফোন দিয়ে, দু'টায় শুরু হওয়া নিশ্চিত হয়ে বাসা থেকে বেরিয়েছি একটায়। পাশের বাসার ভাইয়া আটকে দিলেন আমাদের বোকামির প্রশংসা করে। উনার অনুমান, ৪ টার আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর প্রশ্নই আসেনা। সাময়িক বিরতি দিয়ে আবার শুভাগমণ করলাম এমনভাবে যাতে ৩.৪৫ এর দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছা যায়। অতিথি হয়ে এসেছেন ইমদাদুল হক মিলন। মঞ্চে উপবিষ্টদের ক্রম এবং বক্তব্যরতের খালি চেয়ারের অংক মিলিয়ে যা বোঝার বুঝে নিলাম মিলনায়তনে ঢুকেই। আত্মপ্রশংসা, চাটুকারিতা, বহুবার শোনা কথাগুলোর জাবরসমেত চুড়ান্তমাত্রার বিরক্তিকর বক্তব্য দিয়ে অতিথিরা ক্ষান্ত দিলেন ৫.১০ এর দিকে। মিলন-এর বক্তব্য অবশ্য অপেক্ষাকৃত কম যন্ত্রণাদায়ক হয়েছিলো। এরপর শুরু হলো কমিটির সবাইকে মঞ্চে ডাকা। গুনতে পারিনি, ৩০/৩৫ জনের মত হবেন। অডিয়েন্স থেকে মন্তব্য আসছিলো, "ভাই, সবাইরে নিয়েননা স্টেজে, হাততালি দেয়ার মত কিছু লোক রাখেন।"

উনারা সবাই উঠলেন এবং নামলেন। হলভর্তি দর্শক ক্লোজ-আপ রাজীব, সোনিয়ার গান এবং ফারাহ রুমা সহ আরো কিছু নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনা দেখার জন্য নির্ধারিত সময়ের তিন ঘন্টা পর পর্যন্ত অসীম আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সবাইকে সুখের সাগরে ভাসিয়ে ৫.৩০ টায় শিল্পীরা মুখ প্রদর্শনের অপার্থিব আনন্দভোগের সুযোগ পেলেন। রাজীবের গানের সাথে অডিয়েন্সের একপাশে উল্লম্ফ নৃত্য শুরু হলো। তার অব্যবহিত পরেই......হুমম যা ভেবেছেন তাই। পেশী প্রদর্শনী, খিস্তি খেউর, জুতাপেটা, শার্ট ছিঁড়ে ফেলা......ইত্যাদি ইত্যাদি। ওপাশে বসা নারী-শিশুরা ভয়ে দৌড় শুরু করলেন। জাপানি অভ্যাগতরা প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছুটতে লাগলেন। অন্য জাতীয়তার লোকেরাও ছিলেন। বাংলা গান, নাচ দেখতে এসে সবল, কর্মঠ বাংগালীর শক্তির খানিকটা আঁচ পেয়ে গেলেন। আয়োজকদের ঐকান্তিক চেষ্টায় এক পর্যায়ে হাতাহাতি বন্ধ হলো। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানেও এরকম শো হচ্ছে ইদানিং। গান শুরু হওয়ার সাথে সাথেই নাচ এবং নাচের সাথে পাল্লা দিয়ে হাতাহাতি চলতেই থাকে।

রাজীব, সোনিয়া, ফারাহ রুমা, আনিকা, জোসনা সবটুকু আন্তরিকতা ঢেলে সঙ্গীত এবং নৃত্যসুধা বিলিয়ে দিলেন। কিন্তু শো-ডাউনের তখনো বাকি। বীরেরা একটু পরপর দলবল নিয়ে পুরো অডিটরিয়াম চক্কর দেন, আর আমরা মুখকে চালকুমড়া বানিয়ে দোয়া ইউনুস পড়তে থাকি। বিজ্ঞাপন বিরতি শেষ করে কুস্তিগীরেরা আরেকবার ঝটিকা হাতাহাতি কিলাকিলি-র নৈপুণ্য প্রদর্শনে ব্রতী হলেন। মঞ্চে নাচেন সোনিয়া, অডিয়েন্সে নাচে বাংগালীর ইজ্জত।

নির্ধারিত সময়ের থেকে এক সেকেন্ডও বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু আলোচনা অনুষ্ঠানের পর নির্ধারিত যেটুকু সময় পাওয়া গেলো তাতে না সন্তুষ্ট শিল্পীরা, না দর্শকরা। নাহ, কষ্ট নেই। আমরা দেখেছি বাকপটুতা, কুস্তিনৈপুণ্য, ধ্রুপদী ভাষাচর্চা। বাংগালী হিসেবে আর কীই বা আশা করতে পারি!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:০০
৫৪টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×