somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্ষপূর্তিতে আমার দু'কলম

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গেলো বছরগুলোর মত এবার ৩১শে ডিসেম্বর রাতে কোথাও কাউন্টডাউন দেখতে যাবো কিনা, ভাবছিলাম। দিন তারিখ হিসাব করে দেখি, আরে ২৬ তারিখ না? হ্যাঁ হ্যাঁ, মানে সা-ইনে আমার একবছর!!! অনেকের বছর ফেরার পোস্ট দেখে শখ হয়েছিল। এমন দিন আমারো আসবে। প্রথম পোস্ট দেয়ার পর কী অনুভূতি হয়েছিলো, কার পোস্টে প্রথম কমেন্ট করেছিলাম, কার কার কোন পোস্ট ভালো লেগেছে, কার সাথে ব্লগের বাইরে ঘনিষ্টতা হয়েছে এসবকিছু ভুলে গিয়ে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে বছরপূর্তি পোস্ট আবজাবে ভরে যাবে, এ বিষয়েও মোটামুটি নিশ্চিন্ত ছিলাম। একবছরে সাইন ব্লগ আমার ভাবনার রাজ্যে একটা জায়গা করে নিয়েছে. কখনো আমার দিনলিপির একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে জানান দিয়েছে, বরের নিরন্তর অভিযোগ শুনেছি :), ফেসবুকে ব্লগের অনেক বন্ধু যোগ হয়েছেন, রুধীণ আপুর বাসায় গিয়েছি, ফোনে কথা হয়েছে সাইফুর, সবাক, রাতমজুরের সাথে, পাশের বাড়ির ফেরারী পাখিকে (শাপলা আপু) ভালোমত সাইনের নেশা ধরিয়ে আমি মানে মানে সটকে পড়েছি :), মুকুটের সাথে দেখা হয়েছে সাইতামাতে, ইয়াহুতে কয়েকজনের সাথে নিয়মিত কথা হয় (শীতনিদ্রার সময়টুকু ছাড়া :()। আমাকে দু'জন ব্লক করেছিলেন, নাম মনে পড়ছেনা। ১৭ টা পোস্ট ড্রাফট করে ফেলেছি। দু'একটা কাগজে দেশে থাকতে লিখার সাহস করেছিলাম। অনেকে সে পরিচয় ধরে বলতো, আপনি ওই পেপারে লিখেননা? সেদিন একজন ফেসবুকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, আপনি সাইনের তাজীন? ওয়াও, নিউ আইডেন্টিটি। আমি উপভোগ করেছি, করি।

এখানে দেখা হয়েছে আগের পরিচিত অনেকের সাথে। হালুম হালুম করে অনেক লেখা গিলেছি। আমি আর পত্রিকা পড়িনা, ব্লগে সব পাই। সাহিত্য পাতাগুলোতে আগে চোখ বুলাতাম, এখন ব্লগের গল্প-সাহিত্য সমালোচনা পড়ে শেষ করতে পারিনা। সহপাঠী একজন বলল, তুই নাকি সাইনে ঝড় তুলছিস? হেসে বলি, আমি খড়কুটো। অসাধারণ সব প্রতিভা আর প্রত্যয়ের সামনে আমি খড়কুটোর মত ভেসে বেড়াতে মোটেও কুন্ঠিত নই। আমার দেশের ছেলেরা, মেয়েরা আমার ভাষায় আমার দেশের কথা বলে, স্বপ্ন দেখে। বাঁধভাঙ্গা আবেগে ভাসে, যুক্তি-তর্কে তরতর করে কীবোর্ড চষে। আমি টিনএজার দের মত মজার মজার খুনসুঁটিতে বেহায়ার মত ঢুকে পড়ি। ছেলেমেয়েগুলোর দুষ্টুমি দেখে বড়'পার হাসি দেই। একটা সময় গেছে ডোরাকাটা বিড়াল দেখে মনে হত, একটু অন্যরকম না? ব্লগে দিবো ছবি তুলে? একজন একটা গান দিয়েছিল ইয়াহুতে। অনুমতি চাইলাম, বাংলা করে ব্লগে শেয়ার করি? আমার বন্ধুতা বিষয়ক উপলব্ধির একটা শরীরী গন্ধ পেয়েছি এখানে। চোখের সামনে নেই, কিন্তু তবুও একটা ভীষণ অস্তিত্ব নিয়ে ছেলেমেয়েগুলো যেন পাশে আছে। এ ব্যাপারটা মনের ভেতর চাষ করতে পারাটাই এক অসাধারণ পাওয়া।

আমি পানি ঝেড়ে ফেলা হাঁসের মত থাকতে পছন্দ করি। নিজের ছোট্ট জগৎ নিয়ে। কোন স্রোতে, বিপরীতে, অভিযানে, যূথবদ্ধতায় আমি হাত মেলাতে পারিনি। কারো অংশ হতে পারিনি প্রবল উপস্থিতি নিয়ে। প্রকৃতি ছাপিয়ে সরব হইনি, হওয়াটা ধাতে আসেনা। কিন্তু সব শুভবোধ আমাকে অসম্ভব নাড়িয়ে গেছে, একবছরে সাইনের সব মানুষসুলভ প্রয়াস আমাকে শ্রদ্ধার এক সাগরের ভিতরের দিয়ে নিয়েছে। কিছু মানুষের অন্যরকম উজ্জ্বল মানসিক ধরণধারণের সামনে নিজের ক্ষুদ্রতায় আরে সেঁধিয়ে গেছি নিজের ভিতরে। এক মুহূর্তের জন্যও ভুলিনি, আমি দারুণভাবে মুগ্ধ হচ্ছি। আমার স্বজন এরা, আমি এদের নাড়ি নক্ষত্র চিনি। কিন্তু কী সব অসাধারণত্বের লালন করে এরা! হুট করে আর নিজেকে একরকম মনে হয়না যেন। ছেলেমেয়েগুলো একেকটা বাংলাদেশ বুকে নিয়ে আছে। একেকটা বিশ্বকে রচনা করে চলেছে। আমি পুরো দেশকে পাচ্ছি সা-ইনে। আমার শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য সব একসাথে ফিতেয় জড়াজড়ি করে আটকে রেখেছে ভালোবাসার সূতোয়।

একবছরে আমি কখনো এর চেয়ে বেশি কিছু চাইনি, পাইওনি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১২
৫৩টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×