গেলো বছরগুলোর মত এবার ৩১শে ডিসেম্বর রাতে কোথাও কাউন্টডাউন দেখতে যাবো কিনা, ভাবছিলাম। দিন তারিখ হিসাব করে দেখি, আরে ২৬ তারিখ না? হ্যাঁ হ্যাঁ, মানে সা-ইনে আমার একবছর!!! অনেকের বছর ফেরার পোস্ট দেখে শখ হয়েছিল। এমন দিন আমারো আসবে। প্রথম পোস্ট দেয়ার পর কী অনুভূতি হয়েছিলো, কার পোস্টে প্রথম কমেন্ট করেছিলাম, কার কার কোন পোস্ট ভালো লেগেছে, কার সাথে ব্লগের বাইরে ঘনিষ্টতা হয়েছে এসবকিছু ভুলে গিয়ে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে বছরপূর্তি পোস্ট আবজাবে ভরে যাবে, এ বিষয়েও মোটামুটি নিশ্চিন্ত ছিলাম। একবছরে সাইন ব্লগ আমার ভাবনার রাজ্যে একটা জায়গা করে নিয়েছে. কখনো আমার দিনলিপির একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে জানান দিয়েছে, বরের নিরন্তর অভিযোগ শুনেছি
এখানে দেখা হয়েছে আগের পরিচিত অনেকের সাথে। হালুম হালুম করে অনেক লেখা গিলেছি। আমি আর পত্রিকা পড়িনা, ব্লগে সব পাই। সাহিত্য পাতাগুলোতে আগে চোখ বুলাতাম, এখন ব্লগের গল্প-সাহিত্য সমালোচনা পড়ে শেষ করতে পারিনা। সহপাঠী একজন বলল, তুই নাকি সাইনে ঝড় তুলছিস? হেসে বলি, আমি খড়কুটো। অসাধারণ সব প্রতিভা আর প্রত্যয়ের সামনে আমি খড়কুটোর মত ভেসে বেড়াতে মোটেও কুন্ঠিত নই। আমার দেশের ছেলেরা, মেয়েরা আমার ভাষায় আমার দেশের কথা বলে, স্বপ্ন দেখে। বাঁধভাঙ্গা আবেগে ভাসে, যুক্তি-তর্কে তরতর করে কীবোর্ড চষে। আমি টিনএজার দের মত মজার মজার খুনসুঁটিতে বেহায়ার মত ঢুকে পড়ি। ছেলেমেয়েগুলোর দুষ্টুমি দেখে বড়'পার হাসি দেই। একটা সময় গেছে ডোরাকাটা বিড়াল দেখে মনে হত, একটু অন্যরকম না? ব্লগে দিবো ছবি তুলে? একজন একটা গান দিয়েছিল ইয়াহুতে। অনুমতি চাইলাম, বাংলা করে ব্লগে শেয়ার করি? আমার বন্ধুতা বিষয়ক উপলব্ধির একটা শরীরী গন্ধ পেয়েছি এখানে। চোখের সামনে নেই, কিন্তু তবুও একটা ভীষণ অস্তিত্ব নিয়ে ছেলেমেয়েগুলো যেন পাশে আছে। এ ব্যাপারটা মনের ভেতর চাষ করতে পারাটাই এক অসাধারণ পাওয়া।
আমি পানি ঝেড়ে ফেলা হাঁসের মত থাকতে পছন্দ করি। নিজের ছোট্ট জগৎ নিয়ে। কোন স্রোতে, বিপরীতে, অভিযানে, যূথবদ্ধতায় আমি হাত মেলাতে পারিনি। কারো অংশ হতে পারিনি প্রবল উপস্থিতি নিয়ে। প্রকৃতি ছাপিয়ে সরব হইনি, হওয়াটা ধাতে আসেনা। কিন্তু সব শুভবোধ আমাকে অসম্ভব নাড়িয়ে গেছে, একবছরে সাইনের সব মানুষসুলভ প্রয়াস আমাকে শ্রদ্ধার এক সাগরের ভিতরের দিয়ে নিয়েছে। কিছু মানুষের অন্যরকম উজ্জ্বল মানসিক ধরণধারণের সামনে নিজের ক্ষুদ্রতায় আরে সেঁধিয়ে গেছি নিজের ভিতরে। এক মুহূর্তের জন্যও ভুলিনি, আমি দারুণভাবে মুগ্ধ হচ্ছি। আমার স্বজন এরা, আমি এদের নাড়ি নক্ষত্র চিনি। কিন্তু কী সব অসাধারণত্বের লালন করে এরা! হুট করে আর নিজেকে একরকম মনে হয়না যেন। ছেলেমেয়েগুলো একেকটা বাংলাদেশ বুকে নিয়ে আছে। একেকটা বিশ্বকে রচনা করে চলেছে। আমি পুরো দেশকে পাচ্ছি সা-ইনে। আমার শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য সব একসাথে ফিতেয় জড়াজড়ি করে আটকে রেখেছে ভালোবাসার সূতোয়।
একবছরে আমি কখনো এর চেয়ে বেশি কিছু চাইনি, পাইওনি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



