somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাপানে গাড়ির ব্যবসার কিছু কথা

১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অটোমোটিভ (অটোমোবাইল, মোটরসাইকেল এবং যন্ত্রাংশ) ইন্ডাস্ট্রিতে জাপানের একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা সবার জানা। ২০০৭ সালে দেশটির মোট রপ্তানী আয়ের ২২.১% এসেছে এ খাত থেকে। ২০০৮ সালের জানুয়ারী-নভেম্বর মাসে অটোমোবাইল রপ্তানী হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লক্ষ ৫ হাজার ১৭ টি যার মধ্যে টয়োটা করেছে ২ কোটি ৪১ লক্ষ ৯৬০ টি। দেশটির আয়ের প্রধান উৎসও এই খাত। প্রায় ৫.০১ মিলিয়ন জাপানিজ লোক গাড়ির উপর ভর করে বেঁচেবর্তে আছেন। তথ্যসূত্র

স্বর্গরাজ্যে নতুন এবং ব্যবহৃত গাড়ির ব্যবসায় অসংখ্য বিদেশী জড়িত। বাংলাদেশের বেশ কিছু বড় ব্যবসায়ী সম্মানজনক স্থান করে নিয়েছেন গাড়ি কেনাবেচা ব্যবসায়। এখানে মূল কেনাবেচা হয় নিলামে। মানুষের সততার উপর আস্থা রেখে এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি মিনিটে কোটি কোটি ইয়েনের ব্যবসা হচ্ছে নিলাম কেন্দ্রগুলিতে। নিবন্ধন থাকলে আর খুব দ্রুতগতির ইন্টারনেট থাকলে ঘরে বসেই রাজার হালে এ ব্যবসা করা যায়। করছেন অনেক বাংগালী।

আমার বর মাসুমের মুখে ঝাল খেয়ে এ পোস্টের অবতারণা। কিছুদিন এ লাইনে হাঁটায় তার কিছু অভিজ্ঞতার কথা গুছিয়ে লিখার চেষ্টা করছি। আঁটঘাট বেঁধে যারা ব্যবসায় নেমেছেন তাদের নিজের একটি কোম্পানী রয়েছে। কোম্পানী নিবন্ধনের জন্য ভালো মানের একটা ডিপোজিট থাকতে হয়, নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মী দেখাতে হয় অফিসে। নিবন্ধন নিলামে অংশগ্রহণের পূর্বশর্ত এবং কোম্পানী খোলার পরেও গাড়ি কেনায় অংশ নিতে বছরখানেক সময় লেগে যায়। নামকরা দুটি নিলাম কোম্পানী হচ্ছে USS AUCTION আর TOYOTA AUTO AUCTION। সপ্তাহের একেকটা নির্দিষ্ট দিন টোকিও, ইয়োকোহামা ইত্যাদি সাইটে কোম্পানীর এজেন্টরা নিলামে অংশ নেন। মাসুম এরকম একজন ব্যবসায়ীর সাথে টোকিও সাইটে নিলামে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তার ভাষায়, "এলাহী কাণ্ড। গড়ে প্রায় ১৪/১৫ হাজার গাড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন। বিশাল স্ক্রিনে আজকের নিলামে ওঠা প্রতিটা গাড়ির খুঁটিনাটি দেখানো হচ্ছে। আরামদায়ক চেয়ারে বসে কম্পিউটার ব্যবহার করে নিলামকারীরা মুহুর্মুহু পছন্দের দামটি জানিয়ে চলেছেন।" পার্কিং এ সাজিয়ে রাখা আছে সবগুলি গাড়ি। আজ কোনটা কোনটার জন্য দাম হাঁকাব এটা আগে থেকেই দেখে যেতে হয়। নিলাম সাইটে সব তথ্যই দেয়া থাকে। হাজার হাজার গাড়ির ভেতরে নিজের বাছাই করা গাড়িটি আসলে সতর্ক হয়ে নম্বর টিপে চলেছেন অংশ নেয়া সকলে।

এখানে ব্যবসায়ীরা দেশে একজন আমদানিকারক আর শোরুম মালিকের সাথে যোগাযোগ রাখেন। দু'পক্ষ মিলে গাড়ি কেনা এবং বিক্রির কাজটা করেন। দেশ থেকে চাহিদা জানানো হলে সেই মডেলের গাড়ির জন্য নিজের একটা বাজেট ঠিক করে নেন। তারপর নিলামে চলে চেষ্টা পছন্দনীয় দামে গাড়িটা কেনার। অনেক সময় টার্গেটের অনেক কমেও হয়, আবার বেশিও দিতে হয়। পুরোটাই নির্ভর করে নিলামে সেদিন কেমন দাম উঠলো তার উপর। গাড়ির দামের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে ফ্যাক্টরগুলো কাজ করে তা হলো - মাইলেজ (কত মাইল চলেছে) এবং কন্ডিশন। নিলাম কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে গাড়ির হাল হকিকত বিচার করে কন্ডিশনের উপর একটা রেটিং দেয়। ৪ রেটিং এর গাড়ি সবদিক থেকে বেশ ভালো বলা যায়। এর বেশি হলে তো কথাই নেই। মাইলেজ ৩০/৪০ হাজার কিলোমিটার হলে সেটাকে খুব ভালো বলা যাবে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যবসায়ী বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ৮০/৯০ হাজার মাইলেজের গাড়ি পছন্দ করেন। দেড়/দুই লাখ কিমি চলা গাড়ি সস্তায় পেয়ে গেলে সেটাও অনেকে কিনে নেন সানন্দে। দেশে নেয়ার পরে অনেকে রিডিং বদলে কম মাইলেজের গাড়ি বানিয়ে দাম হাঁকেন /:)। মাইলেজ এবং রেটিং এর উপরে গাড়ির দাম অনেক উঠানামা করে। একই বছরের একই মডেলের গাড়ি শুধু ঐ দুইটা বিষয়ে পিছিয়ে থাকলে দাম স্বভাবতই অনেক কমে যাবে। দেশের অনেক ক্রেতাই অনেক সময় বলেন, একই গাড়ি আমার পরিচিত একজন এত দিয়ে কিনলো, আপনি বেশি বলছেন কেন? দেশে আসলে অনেক বিক্রেতা কখনোই গাড়ির প্রকৃত অবস্থার কথা ক্রেতাকে জানান না। তথ্য গোপন করেন অথবা মিথ্যা তথ্য দেন। জাপান থেকে সরাসরি কেউ কিনাতে পারলে এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকা যায়। নিলামে অনেক বাজে গাড়ি কমদামে কিনে, দেশে একটু ঠিক করে নিয়ে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে শোরুমগুলিতে।

নিলাম দামের সাথে যুক্ত হয় শিপমেন্ট ফি, রিসাইকেল চার্জ (গাড়িটি কেনার সময়ই রিসাইকেল ফি দিয়ে দিতে হচ্ছে), জাপান সরকারের ট্যাক্স, নিলাম কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত চার্জ আর পোর্ট পর্যন্ত নেয়ার জন্য ক্যারিইং চার্জ। এ খরচগুলি নির্দিষ্ট। ব্যবসায়ীর ফি-টা এদিক ওদিক হতে পারে। চিটাগাং পোর্টে যাওয়ার পর আসে বাদবাকি খরচ যেটা মূলত আমদানি কর। একটা গাড়ি জাপান থেকে শিপমেন্ট হওয়ার সাধারণত তিন সপ্তাহের ভেতর চিটাগাং চলে যায়।

যতটুকু জানি শেয়ার করলাম। কারো কোন কাজে আসলে ভালো লাগবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৩
৪৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×