-------------------------------------------------------
বড় অদ্ভুত ছেলেটা। মুখ ভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি। চুল জট পাকানো। দেখেই মনে হয় বহুদিন পানির সংস্পর্শে আসেনি। চোখের নিচে কাল দাগ দেখেই বোঝা যায়, ঘুম হয় না নিয়মিত। তার পরও সে নিয়মিতই ক্লাসে আসে। ছেলেটার সবচেয়ে অদ্ভুদ ব্যাপার হচ্ছে, প্রতিদিনই সাদা রঙের একটা পাঞ্জাবী পরে আসে। বুকে কালো সুতার কাজ করা। ভার্সিটির প্রথম দিন থেকেই একই পোশাকে দেখে আসছি। কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখিনা। সব সময় উৎসুক চোখে কি যেন খুঁজে ফেরে। চোখ দুটো যেন কিসের নেশায় বিভোর। প্রতিদিনের মতো আজও ছেলেটা ক্লাসে আসে। স্যার আজ ক্লাসে ঢুকেই কি মনে করে যেন সেই ছেলেটাকেই দাড় করালেন, "তোমার সমস্যা কি?" স্যারের প্রশ্ন। ছেলেটার অনুসন্ধিৎসু চোখে ভ্যাবাচেকার ভাব। তার মধ্যে কি যেন খেলা করল। সে ধীর লয়ে ক্লাসরুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। চারদিকে গাঢ় চোখে তাকাল।
"আমি যখন প্রথম সুহাকে দেখি, তখনই আমার মাঝে কিছু এসে ভর করলো। অনেক আগে বোনা বীজ ফুঁড়ে যেন সদ্য চারাগাছ জন্মাল। সে আমাকে দেখতে লাগলো, আমি বিভোর দৃষ্টিতে তাকে...। তারপর একসঙ্গে বহুদূর চলা। সে হাতে হাত রেখে কথা দিয়েছিল একসঙ্গে চলার। আমিও কথা দিয়েছিলাম। পয়লা বৈশাখে আমাকে অনেকটা জোর করে নিয়ে গেল কাছাকাছি একটা দোকানে। কিনে দিল একটা সাদা পাঞ্জাবি। সে কিনলো একটা লাল টুকটুকে শাড়ি। বলল, "কালকে তুমি আমাকে বউয়ের সাজে দেখবে।" বৈশাখের সকালবেলা উঠে চলে গেলাম রমনার বটমূলে। মনে উৎসবের আমেজ। হঠাৎ সুহার ফোন। "এই দাড়াও, আমি আর ২০মিনিটের মধ্যে আসছি।" সেই ২০মিনিট আমার জীবনে এখনো শেষ হয়নি। এই প্রথম ও শেষবার আমার পাগলিটা কোনো কথা দিয়ে তা রাখতে পারল না। রোড অ্যাক্সিডেন্টে তার লাশটা যখন ঢাকা মেডিকেলে পড়ে ছিল, আমি তখনো তার আসার অপেক্ষায়। জানতে পেরে যখন হাসপাতালে পৌছলাম, দেখি পাগলিটা কি সুন্দর আমার জন্য চুপটি করে অপেক্ষা করছে। আমি তার কানের কাছে গিয়ে শুধু বললাম, "এই লক্ষ্মী, আমি অপেক্ষায় থাকব।"
ছেলেটা থামল এই বলে। চোখের পানিতে ভিজে গেছে তার সাদা পাঞ্জাবীটা। "আমি সেই দিন থেকে এই পাঞ্জাবিটা পরে বের হই। যেখানেই যাই, এটা পরে যাই। কেন যাব না? হঠাৎ লক্ষীটার সঙ্গে আমার দেখা হলো। সে যদি আমাকে এই পাঞ্জাবিতে না দেখে, তাহলে অনেক রাগ করবে না? আমি তো তাকে কথা দিয়েছিলাম। এমনিতেও আমার লক্ষ্মীটা অনেক অভিমানি"
মো. নাজমুল হোসেন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

