somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তাজুল ইসলাম মুন্না
সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ালেখা করছি। পাশাপাশি অনলাইন জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করছি দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে। ব্লগে ফেরার ইচ্ছা বহুদিনের। একদিন হয়তো হুট করে আবারও রেগুলার হয়ে যাবো।

পিংকির আত্মহত্যা........রহস্য কি হতে পারে??? (একজন টিন-এজার ব্লগারের নিজস্ব অভিমত...)

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েকদিন ধরেই পত্রিকায় প্রতিদিন দেখছি পিংকি নামের নবম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু সংবাদটি। পিংকি আত্মহত্যা করেছে গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে। পিংকিকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে মুরাদ। এরকম দাবি করছে পিংকির পরিবার। কিন্তু মুরাদ বলছে যে সে নিদোর্ষ। পিংকির সাথে তার ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ কেন, সাংবাদিকরাও যে ধাধায় পড়ে গেছে তা বোঝা যাচ্ছে প্রতিদিনের পত্রিকা দেখলে। একদিন তারা লিখছে মুরাদের কথা, আরেকদিন পিংকির পরিবারের কথা। আমি সবদিক থেকে লিখে একটা সমাধানে আসার চেষ্টা করবো এই পোস্টে:::

পিংকির পরিবারের ভাষ্য: মুরাদ পিংকিকে সবসময় বিরক্ত করতো। আমরা যেটাকে ইভটিজিং বলে থাকি। সে এলাকার একটা বখাটে ছেলে। মুরাদ একদিন পিংকিকে থাপ্পড় মারে। এই থাপ্পড়ের অপমান থেকে নিজেকে বাঁচাতে পিংকি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

মুরাদের ভাষ্য: পিংকি এবং মুরাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মুরাদকে পিংকি ভালবাসতো। ব্যাপারটা মুরাদের মা জানার পরে সে পিংকিদের বাসায় একটা প্রস্তাব নিয়ে যান। কিন্তু মুরাদরা গরিব হওয়ার পিংকির বাবা-মা তা গ্রহণতো করেনই না বরং মুরাদের মা-কে অপমান করে বের করে দেন ঘর থেকে। আর পিংকির পরিবার পিংকিকেও নানাভাবে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে টর্চার করতে থাকে। এসব থেকে মুক্তি পেতে পিংকি আত্মহত্যা করে।



আমার কাছে মনে হয়েছে মুরাদের কথাগুলো অত্যন্ত যুক্তিসম্পন্ন এবং আমাদের বাস্তব জীবনে আমরা এরকম ঘটনার সম্মূখীন-ই বেশি হই। এবার আমি একটি কাহিনী তুলে ধরি আপনাদের সামনে। এটাকে পড়ে বলুন পিংকির আত্মহত্যার জন্য দায়ী কে???

পিংকি, অষ্টম শ্রেণীর একজন মেধাবী ছাত্রী। পিংকিদের বাসার দুই বাসা পাশেই থাকে মুরাদ। একদিন পিংকিকে স্কুল থেকে আসার সময় মুরাদ তাকে দেখে। এভাবে প্রতিদিন দেখতে দেখতে মুরাদের মধ্যে একটা ভাললাগা এসে যায়। এদিকে পিংকিও বুঝতে পারে একটা ছেলে তাকে সবসময় ফলো করে। ছেলেটাকে পিংকির কাছে মন্দ বলে মনে হয়না। পিংকিও পছন্দ করে ফেলে ছেলেটাকে। তাই একসময় দুইজনের এই ভাললাগাটা ভালবাসায় পরিণত হয়।

পিংকি এবং মুরাদের এই ভালবাসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে যায়। মুরাদের মা খবরটা জেনে পিংকিদের বাসায় প্রস্তাব নিয়ে যায়। কিন্তু মুরাদরা গরিব হওয়ায় পিংকির পরিবার তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনা। বরং তারা মুরাদের মা’কে অপমান করে ঘর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু এতোকিছুর পরেও মুরাদ আর পিংকির মধ্যে সম্পর্ক থেকে যায়। কারণ, তাদের একের অপরের প্রতি অগাধ ভালবাসা এবং পিংকির টিন-এজ আবেগ।

অন্য পাঁচটা সম্পর্কের মতো পিংকি আর মুরাদের ভালবাসায়ও ভুল বোঝাবুঝি এবং তা থেকে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। মুরাদের রাতের ঘুম নষ্ট হয়ে যায়। তাই সে ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করে। আর এদিকে পিংকি মুরাদের প্রতি তার ভালবাসা দেখাতে করে যতো পাগলামী।“তোমাকে না পেলে মরে যাবো”-এরকম দৃষ্টিকোণ থেকে সে তার হাত কাটে ইচ্ছা করে। মুরাদের এটা দেখে রাগ লাগে। তাই সে রাগের বসে পিংকিকে থাপ্পড় মেরে বসে। পিংকি থাপ্পড় খেয়ে ভাবে মুরাদ বোধহয় তাকে প্রত্যাখ্যান করলো। তাই সে মুরাদের প্রতি তার ভালবাসার সর্বশেষ প্রমাণ দেখাতে আত্মহত্যা করলো।।।







আমার মতে এটা মুরাদ আর পিংকির আসল ঘটনা। তাহলে এখন আপনারা প্রশ্ন করবেন। পিংকির মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? আমি বলবো, কেউ না। মুরাদ না, পিংকির পরিবারও না। দায়ী পিংকির টিনএজ আবেগ। আবেগ তাকে বুঝতে দেয়নি যে, “পিংকি, আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়। বরং এটা আরো সমস্যার সৃষ্টি করে।।।“



আমি নিজেও একজন টিনএজার। এই পোস্টটাকে যখন লিখছি আমি নিজেও তখন মারাত্মক মানসিক চাপের মাঝে আছি। কিন্তু এই চাপগুলোকে মোকাবিলা করে বেঁচে থাকা শিখতে হবে। টিনএজাররা যদি এভাবে করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তাহলে অকালে ঝরে পড়বে অনেকগুলো সম্ভাবনাময় জীবন।।।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫৩
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×