somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রদীপ শিখা তোমার লাগি, ভয়ে ভয়ে একা জাগি..........আমার কিছু কথা আছে, ভোরের বেলার তারার কাছে

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার প্রদীপ শিখা তোমার লাগি
ভয়ে ভয়ে একা জাগি
মনের কথা কানে কানে মৃদু মৃদু কও,
আমার কিছু কথা আছে
ভোরের বেলার তারার কাছে
সেই কথাটি তোমার কানে চুপি চুপি লও।

সাজিয়ে লেখার গুনটা খুব বেশি আমার মধ্যে নেই। মনের ভিতর যেভাবে অনুভব করি, যেভাবে ভাবগুলো গলে গলে প্রকাশিত হতে চায় ঠিক সেভাবেই রেখে দেই এই আমি। এইজন্যই বুঝি যদি শুরু করি সহজ ভাবনা থেকে ভাবনার নানা প্রতিফলন শেষে থামে অন্য অচেনা কোণে।
শুরুতেই এই যে এতো যত্ন নিয়ে বললাম- আমার প্রদীয় শিখা তোমার লাগি ভয়ে ভয়ে একা জাগি এই কথাগুলো আমার নয়। তবে যে প্রদীপ শিখাটি আমি নিজে নিজে একা একা জ্বালিয়ে রেখেছি সেটি অবশ্যই আমার। কবিতার লাইনগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তবে ভয়ে ভয়ে একা জাগার প্রদীপটিকে আমার নিজের মনে হয়। এরকম হয়তো সবারই ভয়ে ভয়ে জাগার একটা প্রদীপ আছেছ। মধ্যরাতে উঠে সেই প্রদীপের আলোর অদ্ভুত উজ্বলতা হয়তো কখনো দেখা যায়। সেই আলোতেই ভেসে উঠে প্রিয় কোন মুখ।

সেই অবাক আলোয় মানুষটি নষ্টালজিক হয়ে উঠে। নাগরিক এই ঢাকায় নিয়তই ইট পাথরের হিসাব গুনতে থাকা ছেলেটি ভাবে তার নষ্টালজিক অতীত নিয়ে। মধ্যরাতের নিশ্চুপ প্রহরে এক এক করে বলে ফেলে মনের সব কথা। কে শুনে তবে এইসব অমলিন কথাগুলো! বারান্দার খানিক দুরে দাড়িয়ে থাকা স্ট্রিট ল্যাম্পটাই কি তবে সেই কথাগুলোর শ্রোতা! এতো কিছুর হিসাব ছেলেটি করে না, কিংবা সে জানে একজীবনে এতো কিছুর হিসাব করতে নেই। তাই সে বলা আরম্ভ করে । কসমোপলিটান এই নগরীর মধ্যরাতে নিশ্চুপ হয়ে শুনে সেইসব কথা..............

................আমি নিতান্তই পল্লীগ্রাম থেকে উঠে আসা একজন। খুব সকালে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলে বিরক্ত হয়ে বাইরের দিকে তাকাতেই চোখে পড়তো নারকেল গাছটার উপর বসে থাকা একঝাক বর্ণীল পাখি। মনটা খুব করে ভালো হয়ে যেত। অতঃপর পায়ে শিশিরের ছোয়া লাগানোর জন্য প্রতিযোগিতা ! এতো গেল সেই ছোটবেলার গল্প। তারপর সময়ের স্রোতধারায় জেলাশহরে। অতঃপর ব্যাস্ততায় বেকে যাওয়া জমকালো এই মহানগরী। অজপাড়াগাঁয়ের সেই ছেলেটা এই আমি চারদিকে মিথের এতো এতো আয়োজন দেখে কেবলই অবাক হই। মানিয়ে নেওয়ার তীব্র একটা চেষ্টা প্রতিনিয়তই কুকড়ে দিতে থাকে আমাকে। অতঃপর আমার ভুবনে নতুন কিছুর সংযোজনে পেলাম কিছু ভালো বন্ধু, কিছু ভালো শুভাকাংখী। আমর হৃদয়ের অর্গলটা হঠাৎ করেই যেন হাট হয়ে খুলে গেল। অনেক অগোছালো করে ফেলছি।

আমার জীবনটা আজম্মই অগোছালো। আমার পড়ার টেবিরের অগোছালোতার কারনে মায়ের কত যে বকা হজম করেছি হিসেবেই রাখিনি। আমার এ অগোছালো ভাব পড়ার টেবিলেই সীমাবদ্ধ থাকলে বোধহয় মন্দ হতো না। তবে তা বেশ ভালোভাবেই বাসা বেধে আছে আমার ব্যাক্তিগত জীবনে। আমার কতা বলাতে অগোছালো ভাব, আমার চিন্তাতে অগোছালো ভাব কিংবা আমার পথ চলাতেও সেই অগোছালো ভাব। তবে এতকিছুর পরও মাঝেমধ্যে মনের ভিতর থেকে গভীরভাবে অনুভব করি আমার বুঝি একটা গোছালো সত্বা আছে। পিছুটান না রেখে নির্দ্বিধায় আমার এ গোছালো সত্বাটিকে বিলিয়ে দিতে পারি আমার প্রিয় মানুষগুলোর প্রতি।

এই যে বলি গ্লোবালাইজেশনের যুগে কসমোপলিটান সত্বা আমাদের বেশ ভালোভাবেই ঝেকে ধরেছে, তবুও অনুভব করি ,অস্তিত্বে স্পর্শ পাই এর বাইরেও আমার একটা সত্বা রয়েছে। যুতসই শব্দ এ মুহুর্তে খূঁজে পাচ্ছি না। যে সত্বা মায়া ও মমতার মিশেল।
মাঝেমধ্যে নিজেকে স্বর্ণলতার মতো মনে হয়। স্বর্ণলতা, এই যে এতো দ্রুতি ছড়ায় তা কেবলই অবলম্বনদানকারী গাছটির জন্য। আমার প্রায়ই মনে হয় , আমার জীবনে যদি আমার প্রিয় মানুষগুলো না থাকতো, তাহলে বুঝি আমি আমৃত্যই অপ্রকাশিত থাকতাম। দ্রুতি ছড়াতে পারতাম না কানাকড়িও।
৪১টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×