তুমি নাকি আমাকে অনেক অনুভব করতে। তখনো তুমি আমাকে দেখোনি আর আমিও তোমাকে দেখি নি। অথচ তুমি নাকি আমার কথা মনে করে আনন্দ পেতে, আমার অস্তিত্ব অনুভব করে এক ধরনের ভালোলাগায় ভাসতে। কি অদ্ভুত ভালোবাসা ....তাই না! এই কথাগুলো অবশ্য তোমার মুখে অনেক পরে শুনেছি। শুনে কি যে ভালো লেগেছিল আমার!
তার অনেকদিন পর তুমি আমাকে প্রথম দেখলে। অনেক কষ্টের ভিতর ছিলে তুমি। আমাকে শুধু একবার দেখে তাবত কষ্ট ভুলে গেলে তুমি। তাকিয়ে থাকলে আমার দিকে। অদ্ভুত রকমের ভালোবাসা..তাই না! সেই থেকে তুমিই আমার পৃথিবী। আমার সকাল থেকে রাত সবকিছুই আবর্তিত হতে থাকে তোমাকে ঘিরে। কখনো খুব আনন্দ পেলে তুমি জানতে পারতে প্রথমে, আবার কষ্ট পেলেও তুমি তাড়াতাড়ি আমার কাছে ছুটে আসতে। তোমাকে কাছে পেয়ে সবকিছুই ভুলে যেতাম। এতো ভালোবাসা কিভাবে যে হয়ে গিয়েছিল আমাদের মধ্যে।
একবার খুব কষ্ট পেলাম আমি। অনেক বিষন্নতায় ডুবে কেবল খুঁজতাম তোমাকে। সেই সময়টায় কেবল তোমাকে খুঁজে ফিরি। এঘর থেকে ওঘরে উকি দেই। কিন্তু তোমাকেই পাই না। অবশেষে পুরোটা দিন শেষে তোমাকে কাছে পাই।অদ্ভুত রকমের আনন্দ হয়েছিল তখন। অনেক পরে জানতে পারি অসুখ বাধিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়েছিলো তোমাকে। অথচ আমাকে জানানো হয় নি। পাছে আমি খুব কষ্ট পাই তাই। অথচ আমার একটু অসুখ বাধলে সবচেয়ে ব্যাতিব্যস্ত হয়ে উঠতে তুমি। কতো কিছু যে করতে চাইতে!! একবার খুব জ্বর হলো আমার। তুমি সারারাত আমার পাশে জেগে রইলে। কিছুক্ষণ পর পর মাথায় হাত রেখে দেখলে জ্বর কমলো কিনা।মানুষ এতো ভালোবাসে কিভাবে!
অন্ধকারকে তখন খুব ভয় পেতাম। অন্ধকারে দুর থেকে একটু শব্দ ভেসে আসলেই তোমাকে জড়িয়ে ধরতাম। আর তুমিও হাসিমুখে আমার পাগলামিকে মেনে নিতে। বিশ্বাস করো তোমার এতো এতো ভালোবাসাই আমায় মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। তোমার জন্যই আজকের এই আমি।
মনে আছে তোমার এঘর থেকে ও ঘরে যেতে চাইলেও তোমার হাত ধরে যেতাম। হাতটা ছাড়তে চাইতাম না। তোমার হাত ধরে বসে থাকতে কি যে ভালোলাগতো। এখন কেন তবে তোমার হাতটা ধরে বসে থাকতে পারি না! কেন এখন এতো দুরে তুমি! মা, জবাব দাও....। মা, আমি তোমার হাতটা ধরে বসে থাকতে চাই আজীবন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

