somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোল্ডফিশের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা

২৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গোল্ডফিশ ঘরের কোনে সাজানো অ্যাকুরিয়ামের এপাশ থেকে ওপাশে যায়। অ্যাকুরিয়ামের একপাশ থেকে অন্য পাশে যেতে যেতেই গোল্ডফিশটি ভুলে যায় তার আগের তাবত স্মৃতি। ধরা যাক একটি গোল্ডফিশ অ্যাকুরিয়ামের একপাশে। হঠাৎ করেই তার অ্যাকুরিয়ামের অন্যপাশে থাকা একটি গোল্ডফিশকে মনে ধরে গেল। কিছু রোমান্টিক কথা শোনাবে বলে গোল্ডফিশটি যাত্রা শুরু করলো অ্যাকুরিয়ামের অন্যপাশের দিকে। কিন্তু হায় অন্যপাশে গিয়ে গোল্ডফিশটি হারিয়ে বসেছে তার আগের স্মৃতি। তার রোমান্টিক আলাপন হয়ে উঠে না আর। কারণ গোল্ডফিশের স্মৃতি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের। বহু সাধ আর সাধ্যি করেও গোল্ডফিশটি মনে করতে পারে না তার আগের স্মৃতিগুলোকে। লাল, নীল, হলুদ , সবুজ কতো রঙের স্মৃতি......
গোল্ডফিশের স্মৃতি নিয়ে আলাপনের উদ্দেশ্য হলো নিজের স্মৃতির অবতারণা। নিজের স্মৃতিকে মনে হয় গোল্ডফিশের স্মৃতি। মনে হয় গোল্ডফিশের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছি। কাটিয়ে দিচ্ছি একটা জীবন........

১.
প্রতিদিন ভোর হয়। বাড়ির তাবত লোকেরা তখন সূর্য দেখে। আর একজনের চোখ তখন অগোছালো একটি টেবিলের দিকে। মহল্লার ছোট্ট ছেলেমেয়েরা তখন দৌড়ে যায় ফুল কুড়াতে। মালা গাথতে গাথতে কোন কিশোরী মেয়ে আনমনেই গন্ধ শুকে জুই কামিনীর। আর প্রিয় মানুষটি তখন সেই ছেলেটির পুরানো একটি শার্ট নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। প্রিয় ছেলের গন্ধ কি তবে সেই শার্টটাতেই রয়েছে! মায়ের চোখের কোনটা ভিজে উঠে ক্রমশ..ধীরে..ধীরে..। ছেলের স্কুলের ছুটি হয় বিকালে। বাসায় ফিরতে ফিরতে পড়ন্ত বিকাল। মা তখনো অপেক্ষায় থাকে। দুপুরে খাওয়া হয় না তার। বাড়ির তাবত লোক তখন হয়তো খেয়ে ভাতঘুম দিচ্ছে। ছেলে ঘরে ফিরে স্কুল শেষে। তারপর একসাথে মা-ছেলে খেয়ে নেয় দুপুরের খাবার।
অনেকদিন পরের বাস্তবতা হলো ছেলেটিকে ইট পাথরের এক নগরীতে থাকতে হচ্ছে। জীবনের নানা স্তরে আড়ি পেতে আছে বাস্তবতা। পড়ন্ত বিকালগুলোতে একসাথে খাওয়া হয় না। মায়ের কথা মনে পড়ে মাঝরাত পার করে খেতে বসলে। অথচ মা বলেছিল ঠিক মতো তিনবেলা খেয়ে নিতে। জীবনের বেড়াজালে বাধা পড়া ছেলেটি ঠিকমতো খায় না। কতো যে অনিয়ম। ভুলেই বুঝি গেছে মায়ের বলে দেওয়া সেই কথাগুলো। হায়রে গোল্ডফিশের স্মৃতি.....।

২.
ছোটবেলায় ছেলেটিকে তার প্রায় কাজই করতে হতো আব্বুর সাহায্য নিয়ে। প্রায় সকালেই আব্বুর হাত ধরে গ্রাম্যপথ হেটে হেটে তার যাওয়া হতো বাজারে। মজাদার খাবারের লোভ ছিল। তারপর অনেকটা বয়স পর্যন্ত সব কাজেই আব্বুকেই লাগতো। হয়তো শার্ট কিনতে হবে...কিংবা কোন কিছু লাগবে..নিজে পছন্দ করতে পারতো না। আব্বুই কিনে দিত সবকিছু।
একদিন স্কুলে যাওয়ার আগে বাবা বাসায় ছিল না বলে টাকা নিয়ে স্কুলে যেতে পারে নি ছেলেটি। পকেট শুন্য, তাই টিফিন পিরিয়ডে পানি খেয়ে বসে আছে খেলার মাঠের একপাশে। হঠাৎ দুর থেকে ডাক শুনে ছেলেটি অবাক হয়ে দেখে বাবা দাড়িয়ে আছে। কাছে গেলে হাতে পেয়ে যায় টাকা, যা দিয়ে টিফিন কিনে খেয়ে নিতে বলা হয়। অথচ স্কুলটি বাড়ি থেকে অনেক দুরে ছিল। ছেলেটি যাতে টিফিন পিরিয়ডে কিছু খেতে পারে, তার জন্যই বাবা গিয়েছিল স্কুলে।
বসবাস করা নগরীতে আসার আগে বাবাটি অনেক কথাই বলে দিয়েছিল। অনেক উপদেশ, অনেক দিকনির্দেশনা। অথচ ছেলেটি অনেক কথাই মানতে পারছে না এখন। ভুলেই বসে আছে বলে দেওয়া সেইসব উপদেশের কথা। হায়রে গোল্ডফিশের স্মৃতি..........।

৩.
অনেক ধরনের জ্ঞানী কথা শুনতে হয় পারিপার্শ্বিকতা থেকে। অনেক ধরনের আশ্বাসও পাওয়া যায়। এই হবে, সেই হবে....আরো কতো কি!! অবশেষে অনেক কিছুই হয় না। আমাদের কেবল দিন গুনতে হয়। অনেক আশ্বাসের নিচে চাপা পড়ে যায় আমাদের একান্ত দীর্ঘশ্বাসগুলো। কমতো হলো না....এতোটা বছর স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর চলে গেল। যারা একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে জীবন দিয়ে গেছে তাদের স্বপ্ন কি আজো পুরণ হয়েছে! এই দেশেই সাহসী উচ্চারণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা অপমানিত হয়।তার বিচার চেয়ে আমরা বেশিদুর এগুতে পারি না। থেমে যায় সেই গুঞ্জন। অতঃপর সেই মুক্তিযোদ্ধা বয়ে বেড়ায় তার একান্ত কষ্টগুলো। আমরা কিছুই করতে পারিনা। অথচ এই দেশেই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে ঘুড়ে বেড়ায়। আমরা বলে বলে এক পর্যায়ে চুপ হয়ে যাই। বিচার হয় না যুদ্ধাপরাধীদের। আমরা তাতেও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে এক সময় চুপ হয়ে যাই।
আমাদের স্মৃতিশক্তি কি এতোই কম! আমরা কি এতো সহজেই ভুলে যাই সেইসব অনুপ্রেরণার কথা! হায়রে গোল্ডফিশের স্মৃতি বয়ে চলছি আমরা....
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:১০
৪০টি মন্তব্য ৪০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×