ঈদ নিয়ে নস্টালজিক হন অনেকেই। বিশেষত শৈশবের ঈদের কথা মনে করে নষ্টালজিক হওয়ার হার বেশি। তবে একটা বিষয় মাথায় আসলো। আসুন বিষয়টা শেয়ার করি। সবাই কি ঈদ নিয়ে নস্টালজিক হতে পারে? কেন জানি মনে হলো সবাই পারে না। আসলে বিষয়টা মাথায় আসলো নষ্টালজিয়া শব্দটা নিয়ে ভাবতে গিয়ে। নষ্টালজিয়া জোহানেস হপার নামরে একজন সুইস মেডিক্যাল স্টুডেন্ট প্রথম চালু করেন ১৬৮৮ সালে। শব্দটা যেমন অতীতের তেমন বয়ে চলছে অতীত স্মুতি। গ্রীক নস্টজ আর অ্যালগস শব্দের মিলনে নস্টালজিয়া এসেছে। নস্টস শব্দটার মানে রিটানিং হোম আর অ্যালগস শব্দটার মানে পেইন। সবমিলিয়ে সেই হোমসিকনেস জাতীয় কিছু হয় আর কি।
চিন্তা হলো- নস্টালজিয়া যদি হোমসিকনেস হয় তাহলে সবার ক্ষেত্রে হোমসিকনেস হবে কেন? যে লোকটা সারাজীবন একই বাড়িতে কাটাচ্ছে তার জন্য হোমসিকনেস কেন হবে! তবে এইসব হচ্ছে আজাইরা চিন্তা।
০১.
ঈদের আগে চাঁদ দেখা থেকে শুরু করি। চাঁদ দেখা নিয়ে অনেক মজা হতো। কে আগে চাঁদ মামার বদনখানি দেখতে পারে সেইটা নিয়ে বিস্তর প্রতিযোগিতা হইতো। চাঁদ মামার বদনখানি আবার ওই দিনটাতে আমগো চিকনা জেডার চেয়ে চিকনা হয়ে থাকতো।
০০২.
ঈদের দিনে খুব সকালবেলা উঠে গোসল করা ছোটবেলার একটা প্রতিযোগিতা ছিল। পাড়ার সব ছোট পোলাপাইনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো কে আগে গোসল করতে পারে। সবার আগে গোসল করে পোলাপাইনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের বলে আসতাম আর জানিয়ে আসতাম প্রতিযোগিতায় তারা হেরে গেছে। একবার খুব শীতের এক সকালে উঠে গোসল করতে গেলাম। বেশ বীরত্ব দেখিয়ে গোসল শেষ করলাম। গোসল শেষ হওয়ার পর শুরু হলো কাপুনি।
০০৩.
ঈদের দিনে বিকাল বেলা আমাদের গ্রামের স্কুল মাঠে ক্রিকেট অথবা ফুটবল খেলা হয়। এক ঈদের দিন বিকালে ক্রিকেট খেলা হলো। খুব আগ্রহ নিয়ে মাঠে নামলাম। আমি ব্যাটিংয়ে মোটামোটি মানের, বোলিংয়ে তেমন ভালো না, ফিল্ডিংয়ে খুবই ভালো। তো সেই দিন কিভাবে জানি হঠাৎ করে ব্যাটিংয়ে ভালো হয়ে গেলাম। একখান সেঞ্চুরি করে ফেললাম।
০০৪.
এক ঈদে নামাজ পড়ে এসে কিছু খেয়ে দুপুরের দিকে একটা ঈদ সংখ্যা নিয়ে বিছানায় গেলাম। কিছুক্ষণ পড়ার পর কিছুটা ঘুম ঘুম লাগলো। একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। সেইঘুম ভাঙলো সন্ধ্যায়!! অবশ্য অনেক ডাকাডাকি হইছে এর মাঝে! তবে আমি সজাগ পাই নি। পরে একসময় লোকজনেরা ভাবলো থাক বেচারা ঘুমাক। সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে মন খারাপ হলো বেশ!! আহারে ঈদের দিনে ঘুরার কতো প্ল্যান ছিলো...সব শেষ!!!
০০৫.
আবার ঈদ এসেছে। ঈদ নিজেই আনন্দ মানে বহন করলেও চরম বাস্তবতা হচ্ছে ঈদ সবার জন্য আনন্দময় হয়ে উঠে না। সামাজিক, অর্থনৈতিক বৈষম্যের যে বাঁধ তা থেকেই যায়। যাই হোক তারপরেও ঈদ এসেছে..সবাই সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা করে ঈদে আনন্দ করতে।
ঈদে সকল ব্লগারকে শুভেচ্ছা রইলো। ঈদ মোবারক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

