somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদের কিছু স্মৃতি : ঈদ শুভেচ্ছা

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈদ নিয়ে নস্টালজিক হন অনেকেই। বিশেষত শৈশবের ঈদের কথা মনে করে নষ্টালজিক হওয়ার হার বেশি। তবে একটা বিষয় মাথায় আসলো। আসুন বিষয়টা শেয়ার করি। সবাই কি ঈদ নিয়ে নস্টালজিক হতে পারে? কেন জানি মনে হলো সবাই পারে না। আসলে বিষয়টা মাথায় আসলো নষ্টালজিয়া শব্দটা নিয়ে ভাবতে গিয়ে। নষ্টালজিয়া জোহানেস হপার নামরে একজন সুইস মেডিক্যাল স্টুডেন্ট প্রথম চালু করেন ১৬৮৮ সালে। শব্দটা যেমন অতীতের তেমন বয়ে চলছে অতীত স্মুতি। গ্রীক নস্টজ আর অ্যালগস শব্দের মিলনে নস্টালজিয়া এসেছে। নস্টস শব্দটার মানে রিটানিং হোম আর অ্যালগস শব্দটার মানে পেইন। সবমিলিয়ে সেই হোমসিকনেস জাতীয় কিছু হয় আর কি।

চিন্তা হলো- নস্টালজিয়া যদি হোমসিকনেস হয় তাহলে সবার ক্ষেত্রে হোমসিকনেস হবে কেন? যে লোকটা সারাজীবন একই বাড়িতে কাটাচ্ছে তার জন্য হোমসিকনেস কেন হবে! তবে এইসব হচ্ছে আজাইরা চিন্তা। :-/ অযথা ভাবসসস!! আশার কথা হলে নষ্টালজিয়া শব্দটার মুল ব্যবহার এখন অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। এখনো পর্যন্ত আভিধানিক অর্থে অনুযায়ী নষ্টালজিক হচ্ছে হোমসিকনেস এর অন্য রুপ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু ডিকশনারিতে এটার অর্থ অতীতের স্মৃতিময় সময় হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে অতীতের সেই সময়টা সেন্টিমেন্টাল হতে হবে, সেই সময়টার স্মৃতিচারণ মনের গভীরকে তাড়িত করবে। যাই হোক ধরে নেয়া যাক ঈদ নিয়ে সবাই নষ্টালজিক হতে পারবেন। সুতরাং আমি কিঞ্চিৎ মাত্রার নষ্টালজিক হলে মনে হয় না কোন সমস্যা হবে। B-)

০১.

ঈদের আগে চাঁদ দেখা থেকে শুরু করি। চাঁদ দেখা নিয়ে অনেক মজা হতো। কে আগে চাঁদ মামার বদনখানি দেখতে পারে সেইটা নিয়ে বিস্তর প্রতিযোগিতা হইতো। চাঁদ মামার বদনখানি আবার ওই দিনটাতে আমগো চিকনা জেডার চেয়ে চিকনা হয়ে থাকতো। :P খুঁজে বের করা খুব কঠিন কাজ। তারপরেও পাড়ার সকল পোলাপাইন মিলে চাঁদ খুঁজতে যেতাম মাঠে। কারো কারো হাতে ছোটখাটো দুরবীনও থাকতো। একবার এক ঈদে চাঁদ খুঁজতে গেছি পাড়ার সব পোলাপাইন মিলে। বেশ রাত হয়ে যায় কিন্তু আমরা চাঁদের দেখা পাই না। তারপরেও আমরা আশা ছাড়ি না। আমরা আনন্দ করে যাচ্ছি। হঠাৎ দুর থেকে কে জানি ব্যাটারি লাইটের আলো ফেলে আমাদের দিকে। একজন গুজব ছড়িয়ে দিলো সবাই বাজি ফুটাচ্ছি বলে পুলিশ চলে এসেছে। আর যায় কোথায়! সবাই দৌড়ে গিয়ে উঠলাম পাশের এক বাড়িতে। অনেকক্ষণ পর বের হয়ে আসলাম। দেখি আমাদের দলের কনিষ্টতম সদস্যটি কিছু বলতে চাচ্ছে। সুযোগ দিতেই বেশ উত্তেজনা নিয়ে জানালো ওই বাড়ি থেকে এক প্যাকেট মরিচা বাজি সে নিয়ে এসেছে। বের করে দেখাতে গেল আমাদের। দেখি সে বাড়িওয়ালার বিড়ির প্যাকেটটা চুরি করে নিয়ে এসেছে। :P বেশ হাসাহাসি চললো তা নিয়ে। :D:D

০০২.

ঈদের দিনে খুব সকালবেলা উঠে গোসল করা ছোটবেলার একটা প্রতিযোগিতা ছিল। পাড়ার সব ছোট পোলাপাইনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো কে আগে গোসল করতে পারে। সবার আগে গোসল করে পোলাপাইনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের বলে আসতাম আর জানিয়ে আসতাম প্রতিযোগিতায় তারা হেরে গেছে। একবার খুব শীতের এক সকালে উঠে গোসল করতে গেলাম। বেশ বীরত্ব দেখিয়ে গোসল শেষ করলাম। গোসল শেষ হওয়ার পর শুরু হলো কাপুনি। :(( আর যায় কোথায়! রান্নার আগুনের পাশে বসে রইলাম অনেকক্ষণ। সেই ঈদে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে বলতে পারিনি আমি আগে গোসল করেছি।

০০৩.

ঈদের দিনে বিকাল বেলা আমাদের গ্রামের স্কুল মাঠে ক্রিকেট অথবা ফুটবল খেলা হয়। এক ঈদের দিন বিকালে ক্রিকেট খেলা হলো। খুব আগ্রহ নিয়ে মাঠে নামলাম। আমি ব্যাটিংয়ে মোটামোটি মানের, বোলিংয়ে তেমন ভালো না, ফিল্ডিংয়ে খুবই ভালো। তো সেই দিন কিভাবে জানি হঠাৎ করে ব্যাটিংয়ে ভালো হয়ে গেলাম। একখান সেঞ্চুরি করে ফেললাম। :D:) অবশ্য মাঠের বামদিকে সীমানা ছোট ছিল। আমি বেশিরভাগ চার ছক্কা ওইদিক দিয়াই মারছি। সেই থেকে আমার ভাব বেড়ে গেল। সবাইকে বলে বেড়াতে লাগলাম আমার ব্যাটিং সাফল্যের কথা। তারপরে অবশ্য সেই পোলাপাইনদের সাথে আর ক্রিকেট খেলিনি। যদি খারাপ খেলে আগের সুনামটা হারাই। :P

০০৪.

এক ঈদে নামাজ পড়ে এসে কিছু খেয়ে দুপুরের দিকে একটা ঈদ সংখ্যা নিয়ে বিছানায় গেলাম। কিছুক্ষণ পড়ার পর কিছুটা ঘুম ঘুম লাগলো। একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। সেইঘুম ভাঙলো সন্ধ্যায়!! অবশ্য অনেক ডাকাডাকি হইছে এর মাঝে! তবে আমি সজাগ পাই নি। পরে একসময় লোকজনেরা ভাবলো থাক বেচারা ঘুমাক। সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে মন খারাপ হলো বেশ!! আহারে ঈদের দিনে ঘুরার কতো প্ল্যান ছিলো...সব শেষ!!! X( ঘুমায়া কাটলো ঈদের দিনটা!! আমার প্রোফাইলের ছবিটা অবশ্য এখনো ঘুমিয়ে আছে। ;)

০০৫.

আবার ঈদ এসেছে। ঈদ নিজেই আনন্দ মানে বহন করলেও চরম বাস্তবতা হচ্ছে ঈদ সবার জন্য আনন্দময় হয়ে উঠে না। সামাজিক, অর্থনৈতিক বৈষম্যের যে বাঁধ তা থেকেই যায়। যাই হোক তারপরেও ঈদ এসেছে..সবাই সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা করে ঈদে আনন্দ করতে।

ঈদে সকল ব্লগারকে শুভেচ্ছা রইলো। ঈদ মোবারক।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৬
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×