টানা বৃষ্টি হচ্ছে। গেল রাতে বৃষ্টিটাকে খুব উপভোগ করছি। রাতের বৃষ্টি আমার কাছে দারুন ভালো লাগে। সেজন্যই অনেকটা রাত জেগেছি গেল রাতে। ঘরের টিনের ছাদে বৃষ্টির শব্দ অদ্ভুত গানের মতো মনে হয়। কখনো বা মনে হয় বিষন্ন কিন্নর কন্ঠের গান। এইসব অনুসঙ্গ রেখে ঘুমানো কঠিন।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেও দেখি ঝিমঝিম বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির শব্দ....। সকালে একটা কাজে যাওয়ার কথা ছিল। গেলাম না ইচ্ছা করেই। বাসার ভিতরেই কাটিয়ে দিলাম একটা সকাল, অর্ধদুপুর।
এইসব বৃষ্টিমুখর দিনগুলো কেমন করে ও কেন জানি নস্টালজিক করে তুলে। অনেক স্মৃতিই চলে আসে সামনে। দেজা ভ্যু (Déjà vu) নামে ফ্রেঞ্জ একটা টার্ম আছে। বিষয়টা এমন যে কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মনে হবে ঐ ঘটনা বা ঐ ফিলিংস ঠিক ওইভাবে আগেও হয়েছিল। আমার ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে বৃষ্টিমুখর দিনে যে ভাবনাগুলো মনের ভিতরে জমা হয়েছিল, সেই একই ভাবনা উদয় হলো আজ। নিজের কাছে অনেকটা দেজা ভ্যু এর মতোই মনে হচ্ছে।
যে ভাবনা গুলোই প্রকাশ পেয়েছিল সেই দিনটাতে, সেই ভাবনাটা আজকের দিনের জন্য ও প্রযোজ্য।
"স্কুলের ক্লাস শেষে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। একগাদা বই সঙ্গে। ছেলেটি তাই সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বাসায় ফিরবে কি না! অবশেষে পকেট হাতড়িয়ে একটা কয়েন বের করে কিনে নিল একটা পলিথিনের ব্যাগ। বইগুলো ভরে নিল তার ভিতর। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ছেলেটি হেটে চলছে বাড়ির পানে। গ্রাম্য রাস্তাগুলোতো বৃষ্টি হলেই কাদা জমে যায়। সেই ভেজা রাস্তা দিয়েই হেটে চলছে সে। ঘরে ঢুকতেই সচল হয়ে উঠলো মায়ের হাত। মায়ের ছেলেটি বৃষ্টি ভিজে বাসায় হাজির। আচল দিয়ে মা মুছে দিচ্ছে তার বৃষ্টিভেজা চুল। ছেলেটি বৃষ্টি ভিজেও কেন বাসায় ফিরে আসছে মা তা জানে। সেও জানে দুপুরের খাবারটা একসাথে খাবে বলে মা তার বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে। তাই সে বাসায় ফিরে আসেই। কিছুক্ষণ পরেই একসাথে খেতে বসে মা ও ছেলেটি।
দৃশ্যপট এখন অনেক বদলে গেছে। ছেলেটি এখন ইট পাথরের শহরে জীবনের মানে খুঁজতে ব্যস্ত। বৃষ্টি নামলে দুর থেকে দেখে। রাস্তায় বৃষ্টি নামলে ভিজে ভিজে গন্তব্যে পৌছে খুব কম সময়। সিএনজি নিয়ে চলে যায় গন্তব্যে। সময়ের বুঝি অনেক পরিবর্তন। মাঝে মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজলেও বাসায় ফিরলে মা আর ছেলেটির ভেজা চুল মুছে দেয় না। একা নিজেকেই মুছতে হয় ভেজা চুল।
এখনো কোন দুপুর গড়ানো বিকালে হঠাৎ করেই বৃষ্টি নামে। এখনো বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে উঠে গ্রাম্য পথঘাট। বৃষ্টি নামা থামে না। বৃষ্টি নামে প্রতিনিয়ত। শুধু সেই ছেলেটি গ্রাম্য পথে বৃষ্টিতে ভিজে হাটতে হাটতে ঘরে পৌছায় না। বৃষ্টি নামলে আয়োজন করে গোসল করতে নামে না। বৃষ্টিতে ভেজা শেষে সাতার কাটতে বিলে চলে যায় না।
ছেলেবেলার বৃষ্টিমুখর সেই সময়গুলো ছেলেটি বেশ আগেই ফেলে এসেছে। গেরস্থালি ফেলে হঠাৎ চলে আসা বৃষ্টি সেই ছেলেটিকে এখন স্পর্শ করতে পারে না। বৃষ্টিবাড়ি যাবে বলে এখনো সে পথের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টির কথা ভাবে।
আহারে ছেলেবেলার বৃষ্টি। আহারে সেইসব বৃষ্টিমুখর দিনগুলো!!! "
নস্টালজিক হয়ে বেশিক্ষণ বসে থাকার উপায় নেই। ইট পাথরের এই নগরী বড্ড বেশি হিসাব মেনে চলে। এখানে ঘড়ি ঠিক করে দেয় কতোটা সময় প্রিয় মানুষদের সঙ্গে থাকতে হবে, কতোটা সময় অফিসের চারদেয়ারের ভিতর কাটাতে হবে। বৃষ্টি আমাকে যতোই নস্টালজিক করুক, অফিস ফাকি দেওয়ার উপায় নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


