somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়ের জন্য সাহায্য প্রার্থনা

২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
ই্উনিভার্সিটিতে ক্লাস না হলে মাঠে বসে যাই, কখনো সখনো কেন্টিনে বসে থাকি। চারপাশে অনেক হাসিমুখ দেখে দেখে অভ্যস্থ। কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই এক সহপাঠীর বিষন্ন চাহনী নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসা দেখলাম। মাঠে দাড়িয়ে গল্প করছি তখন। আমি তাকালাম বিষন্ন চাহনীর সহপাঠীটির দিকে। সবসময় তাকে হাসিমুখে দেখে অভ্যস্থ, ধারনা করলাম কিছু একটা হয়েছে। আমাকে আলাদা করে নিয়ে কথা বলা শুরু করলো।

সহপাঠীটি বললো তার মায়ের কথা। মা’ এখন খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত। ‘ কেমোথেরাপি ’ ছাড়া এই রোগ সারবে না। এর জন্য প্রয়োজন অনেক টাকা। সহপাঠীটি জানালো টাকার জন্য এরইমধ্যে মাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি অসহায়ভাবে শুনতে থাকি তার কথা। পরক্ষণই সহপাঠীটি বলে- একটা সময় হয়তো অনেক টাকা হবে, কিন্তু আমার মাকে যদি এখন বাঁচাতে না পারি তবে কি হবে ওই সময়ের এতো টাকা দিয়ে? কারজন্য আমি কিছু করবো?

অনুভুতির অলিন্দে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে উচ্চারিত শব্দগুলো। পৃথিবীতে মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা চিরন্তন। এই চিরন্তনতাই টেনে নেয় আমাকে। বিষন্ন করে দেয় মনটাকে। সহপাঠী আমাকে অনুরোধ করলো বিষয়টা নিয়ে লিখতে। হয়তো লেখালেখির মাধ্যমে বিষয়টা সম্পর্কে লোকজন জানবে। একজন মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে অনেক সন্তানেরা।

সহপাঠী ব্লগে একটি লেখা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে আমাকে। আমিও কথা দেই পোস্ট দিব। ব্লগে পোস্ট দেওয়াতো আর কঠিন কিছু না। ব্লগের মানবিক অর্জনগুলোর প্রতি বেশ উচ্চ ধারণা আছে আমার। সেইগুলো মনে করে বেশ ভরসা পাই। তখনই ভাবি, পোস্ট লিখবো একটা।

স্বার্থপরের মতো ব্যস্ত হয়ে পড়ি আমি। এর মধ্যে মায়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ যোগাড় করতে তাবত দিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় সহপাঠীরা। সহপাঠীটির সাথে দেখা হলেই পোস্ট দেওয়ার কথা মনে পড়ে যায়। এক ধরনের অপরাধবোধে আক্রান্ত হই। আজকের রাতটাও চলে যাচ্ছে।

উপলব্ধিটা তীক্ষ্ণ তীরের মতো বিঁধে। যতো দেরি হচ্ছে ততোই পিছিয়ে যাচ্ছি আমরা, আমরা সন্তানেরা.....একজন মাকে বাঁচাতে হবে........মায়ের ভালোবাসাকে বাঁচাতে হবে......

২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান অভি’র মা শিরিন সুলতানা। মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। ২০০৮ এর ২ আগস্ট রোগটি ধরা পড়ে। ভেতরে ভেতরে শুরু সেই সাত-আট বছর আগে। তখন ডাক্তাররা বলেছিলেন, সামান্য গ্যাস্ট্রিক। সেরে যাবে। কিন্তু তা সারেনি। এখন ডাক্তাররা বলছেন অভির মা খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত। বারডেম হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিন অ্যান্ড জিএইচপিডি’র চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেছেন ‘ কেমোথেরাপি ’ ছাড়া এই রোগ সারবে না।

মায়ের চিকিৎসার জন্য ১০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। এতো টাকা অভির পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব নয়। অভির স্কুল শিক্ষক বাবা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কুলিয়ে উঠতে পারছেন না আর। অভি এবং অভির ভাই ছুটে চলেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

একই ক্লাসরুমে বসে অভির ক্লাস করা দেখি। ক্লাসের ফাকে তাকিয়ে তার বিষন্ন মুখ দেখি এখন। মনোযোগী হয়ে ক্লাস করতে পারে না সে। তার একমাত্র চিন্তা কিভাবে মাকে বাঁচানো যায়। মায়ের ভালোবাসা চিরন্তন বলেই একই চিন্তা সহপাঠীদেরও স্পর্শ করে যায়। তাই সবাই মিলে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করা হচ্ছে চিকিৎসার খরচের ফান্ড তোলার জন্য। মাকে বাঁচাতেই হবে................. মায়ের ভালোবাসাকে বাঁচাতে হবে......

এই ব্লগের মাধ্যমে সবাইকে অনুরোধ করছি, প্লিজ মায়ের চিকিৎসায় সাহায্য করতে আপনারা এগিয়ে আসুন।

অর্থসাহায্য পাঠাবার ঠিকানা:
মোঃ আতিকুর রহমান
জনতা ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শাখা।
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৩৪১০৮১৮৮।

অভির সাথে যোগাযোগের জন্য-০১৯১৪৩২১০২০
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×