১.
ই্উনিভার্সিটিতে ক্লাস না হলে মাঠে বসে যাই, কখনো সখনো কেন্টিনে বসে থাকি। চারপাশে অনেক হাসিমুখ দেখে দেখে অভ্যস্থ। কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই এক সহপাঠীর বিষন্ন চাহনী নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসা দেখলাম। মাঠে দাড়িয়ে গল্প করছি তখন। আমি তাকালাম বিষন্ন চাহনীর সহপাঠীটির দিকে। সবসময় তাকে হাসিমুখে দেখে অভ্যস্থ, ধারনা করলাম কিছু একটা হয়েছে। আমাকে আলাদা করে নিয়ে কথা বলা শুরু করলো।
সহপাঠীটি বললো তার মায়ের কথা। মা’ এখন খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত। ‘ কেমোথেরাপি ’ ছাড়া এই রোগ সারবে না। এর জন্য প্রয়োজন অনেক টাকা। সহপাঠীটি জানালো টাকার জন্য এরইমধ্যে মাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি অসহায়ভাবে শুনতে থাকি তার কথা। পরক্ষণই সহপাঠীটি বলে- একটা সময় হয়তো অনেক টাকা হবে, কিন্তু আমার মাকে যদি এখন বাঁচাতে না পারি তবে কি হবে ওই সময়ের এতো টাকা দিয়ে? কারজন্য আমি কিছু করবো?
অনুভুতির অলিন্দে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে উচ্চারিত শব্দগুলো। পৃথিবীতে মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা চিরন্তন। এই চিরন্তনতাই টেনে নেয় আমাকে। বিষন্ন করে দেয় মনটাকে। সহপাঠী আমাকে অনুরোধ করলো বিষয়টা নিয়ে লিখতে। হয়তো লেখালেখির মাধ্যমে বিষয়টা সম্পর্কে লোকজন জানবে। একজন মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে অনেক সন্তানেরা।
সহপাঠী ব্লগে একটি লেখা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে আমাকে। আমিও কথা দেই পোস্ট দিব। ব্লগে পোস্ট দেওয়াতো আর কঠিন কিছু না। ব্লগের মানবিক অর্জনগুলোর প্রতি বেশ উচ্চ ধারণা আছে আমার। সেইগুলো মনে করে বেশ ভরসা পাই। তখনই ভাবি, পোস্ট লিখবো একটা।
স্বার্থপরের মতো ব্যস্ত হয়ে পড়ি আমি। এর মধ্যে মায়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ যোগাড় করতে তাবত দিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় সহপাঠীরা। সহপাঠীটির সাথে দেখা হলেই পোস্ট দেওয়ার কথা মনে পড়ে যায়। এক ধরনের অপরাধবোধে আক্রান্ত হই। আজকের রাতটাও চলে যাচ্ছে।
উপলব্ধিটা তীক্ষ্ণ তীরের মতো বিঁধে। যতো দেরি হচ্ছে ততোই পিছিয়ে যাচ্ছি আমরা, আমরা সন্তানেরা.....একজন মাকে বাঁচাতে হবে........মায়ের ভালোবাসাকে বাঁচাতে হবে......
২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান অভি’র মা শিরিন সুলতানা। মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। ২০০৮ এর ২ আগস্ট রোগটি ধরা পড়ে। ভেতরে ভেতরে শুরু সেই সাত-আট বছর আগে। তখন ডাক্তাররা বলেছিলেন, সামান্য গ্যাস্ট্রিক। সেরে যাবে। কিন্তু তা সারেনি। এখন ডাক্তাররা বলছেন অভির মা খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত। বারডেম হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিন অ্যান্ড জিএইচপিডি’র চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেছেন ‘ কেমোথেরাপি ’ ছাড়া এই রোগ সারবে না।
মায়ের চিকিৎসার জন্য ১০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। এতো টাকা অভির পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব নয়। অভির স্কুল শিক্ষক বাবা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কুলিয়ে উঠতে পারছেন না আর। অভি এবং অভির ভাই ছুটে চলেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।
একই ক্লাসরুমে বসে অভির ক্লাস করা দেখি। ক্লাসের ফাকে তাকিয়ে তার বিষন্ন মুখ দেখি এখন। মনোযোগী হয়ে ক্লাস করতে পারে না সে। তার একমাত্র চিন্তা কিভাবে মাকে বাঁচানো যায়। মায়ের ভালোবাসা চিরন্তন বলেই একই চিন্তা সহপাঠীদেরও স্পর্শ করে যায়। তাই সবাই মিলে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করা হচ্ছে চিকিৎসার খরচের ফান্ড তোলার জন্য। মাকে বাঁচাতেই হবে................. মায়ের ভালোবাসাকে বাঁচাতে হবে......
এই ব্লগের মাধ্যমে সবাইকে অনুরোধ করছি, প্লিজ মায়ের চিকিৎসায় সাহায্য করতে আপনারা এগিয়ে আসুন।
অর্থসাহায্য পাঠাবার ঠিকানা:
মোঃ আতিকুর রহমান
জনতা ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শাখা।
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৩৪১০৮১৮৮।
অভির সাথে যোগাযোগের জন্য-০১৯১৪৩২১০২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

