পিথাগোরাসের মতে ৪ সংখ্যাটি একটি ম্যাজিকাল সংখ্যা। সংখ্যার ধারায় ৪ হচ্ছে প্রথম সংখ্যা যার বর্গমূল হয়। বর্গমূল ২ আবার প্রাইম নাম্বার। প্রধান দিক চারটি, পূর্ব,পশ্চিম,উত্তর, দক্ষিণ। সংখ্যা চার নিয়ে আলাদা করে আর কিছু এই মুহুর্তে বলার নাই। ৪ নিয়ে কথা বলার কারণ এই জন্মদিনে আমার যতো বছর হয়েছে সংখ্যাতত্ত্বে তার মান ৪। চারের প্রভাবেই কিনা এই জন্মদিনটা আমার জন্য ম্যাজিকাল। গত শতাব্দীতে যে ১৭ই আগস্ট আমি জন্মেছিলাম, সেই ১৭ আগস্ট ছিল সোমবার। আর আজকের জন্মদিনের ১৭ আগস্টও সোমবার।
জন্মদিন নিয়ে ছোট থেকে আলাদা আগ্রহ নিয়ে বেড়ে উঠেনি। আমার বেড়ে উঠা এমন একটি গ্রামে যেখানে জন্মদিন নামক উৎসবটির কোন পাত্তা নেই। কোন অবসরে কার কখন জন্মদিন চলে যায় কেউ খেয়াল-ই রাখে না। ছোটবেলায় জন্মদিনের উৎসব দেখতাম টিভির নাটক কিংবা সিনেমায়। নিজের জন্মদিন কেক কেটে উদযাপন তখন বহু দুরের স্বপ্ন। মনে আছে ক্লাস এইটে পড়ার সময় জন্মদিনে বাজার থেকে সস্তা কেক আর মোমবাতি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু লজ্জায় কাউকে বলতে পারলাম না-আমার জন্মদিন, কেক কাটবো। একা ঘরে একা কেক কেটেছিলাম। সময় পাল্টেছে অনেক বছর পরে। এখন জন্মদিনে আলাদা করে কিছু করা হয়। কিন্তু এখনো পাল্টায়নি সেই দ্বিধান্বিত বোধ। হয়তো জন্মদিন পালন না করতে করতে আমার পরিবারের সবাই তেমন করে আর জন্মদিনটা মনে রাখার চেষ্টা করে নি। কিংবা জন্মদিনটা আর দশটা স্বাভাবিক দিনের মতোই তাদের কাছে। আমিও এখন মনে করিয়ে দেই না। কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। এইবারের জন্মদিনে তেমনটাই হলো। সবার সঙ্গেই ফোনে কথা হলো। কিন্তু জন্মদিনের প্রসঙ্গ ওঠেই নি। আমি খুব করে প্রতীক্ষা করে আছি একসময় আমার আব্বু, আম্মু নিজে থেকেই আমার জন্মদিন জেনে যাবে। জেনে যাবে ঠিক না, তাদের জন্মদিন উদযাপনের কথা মনে পড়বে।
জীবনের সময়গুলো কেমন করে চলে যাচ্ছে। কতো কিছু করার পরিকল্পনা করি! কিন্তু দিনশেষে তার কয়টাইবা করতে পারি।
হয়তো আমার ম্যাজিকাল জন্মদিনটা স্মরণীয় করে রাখবে দুইটি উদ্যোগ। আজকে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো উদ্যোগ দুটি।
১. সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম যার নাম প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন। এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন টিকিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করা হবে। বিস্তারিত জানতে দেখতে পারেন- প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন।
২. বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গণ নিয়ে একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার নাম আমাদের ক্যাম্পাস। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটিকে একটি মডেল প্রকল্প হিসেবে দেখতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এমপাওয়ারমেন্টের চেষ্টা করা হবে। এটি হতে পারে বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। বিস্তারিত জানতে দেখতে পারেন- আমাদের ক্যাম্পাস
ব্লগের অনেকেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ফেইসবুকেও অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এই শুভেচ্ছাগুলো সাধারণ এই আমার জন্য অনেক অনুপ্রেরণার। আমি প্রায়শই মনে করি আমার জীবনটা স্বর্ণলতার মতো। স্বর্ণলতার যা কিছু দ্রুতি তা অবলম্বনকারী গাছটার জন্য। আমার জীবনের অবলম্বনকারী গাছ আমার বন্ধুরা। আমার সেইসব বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। আমার জীবনের সেরা সময়গুলো আমি ব্লগে কাটিয়েছি....কাটাচ্ছি। ব্লগের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
আরো একটা বছর কমে গেল জীবন থেকে! তারপরেও মনে হয় জীবন ভীষণ রকমের আনন্দময়! আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

