আমার এই কাজিনটার বয়স আর আমার বয়স সমান। ছেলে হিসেবে ও চরম ভাল কিন্তু মাঝে মাঝে একটু চাপা মারে আর কি! আমরা দুই বান্দর যখন এক হই তখন যে কি পরিমান দুষ্টামি আর ফাইজলামি করি তা বলার কোন অবকাশ হয় না।
অনেক দিন পর আজকে এই দুইটা এক হইছিলাম। কম্পুটার মেলায় ঘুরবার গেছিলাম। কিন্তু মেলায় গিয়া মনটা খারাপ হইয়া গেল। যেদিকে চোখ যায় ওদেকেই কপোত-কপোতি। অনেক্ষণ ঘুরলাম। মেলার পাশাপাশি অনেক মানুষের খেলাও দেখলাম। এই যেমন প্রেমিক-প্রেমিকার ঝগড়া, পিচ্চি পোলাপানের তাগো পিতা-মাতার দ্বারা মাইর খাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। হের লগে গল্প করতাছিলাম ঠিকই তয় চারদিকের সব হ্যান্ডসাম পোলাগো লগে স্টাইলিশ সব মাইয়া দেইখা আমার মনের যে কি অবস্থা আর বুঝান যাইব না।
আমি খানিকটা অবাক হইলাম।
যা হোক, মিচকল পাওনের পর থাইকাই পোলাডা আমারে ইচ্ছামত পচাইবার লাগল। কইবার লাগল আমি ক্ষেত, আমারে দিয়া কিচ্ছু হইব না। এমনি মন খারাপ, পোলাডার টিটকারি শুইনা মনডা আরো খারাপ হইয়া গেল।
কাজিনঃনা আমি ব্যস্ত না। একেবারে ফ্রি। কোন অসুবিধা নাই। বল বল…
(ওইপাশ থেকে মনে হয় জিগাইল শব্দ কিসের)
কাজিনঃআরে একটু মেলায় আসছি। তাই শব্দ।
(ওখান থেকে মনে হয় প্রেমিকা সম্পর্কে কিছু বলল)
কাজিনঃআরে ধুর!! আমার কুনো প্রেমিকা নাই।
(ওখান থেকে মনে হয় বিশ্বাস করতে চায় নি)
কাজিনঃকেন তুমার মনে হইল আমার অনেক জিএফ??
(ওখান থেকে মনে হয় ফ্রেন্ডশিপ সম্পর্কে কিছু বলল)
কাজিনঃদেখ কাউকে না দেইখা ফ্রেন্ডশিপ করতে পারব কিন্তু এই রিলেশনটা কি শুধু ফ্রেন্ডশিপেই থাকবে?
(ওখান থেকে মনে হয় বলল পরে গভীর রিলেশন হবে)
কাজিনঃদেখ রিলেশন করার আগে কাউকে না দেইখা আমি রিলেশন করব না। আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই। আচ্ছা তোমার কি ফেসবুক আইডি আছে?
(ওখান থেকে মনে হয় না বোধক কিছু বলল)
কাজিনঃওও।(একটা গভীর দীর্ঘশাস) আচ্ছা তুমি কি তোমার কোন ছবি আমাকে মেইল করতে পারবা?
(ওখান থেকে মনে হয় মানা করল বা কোন সমস্যার কথা বলল)
কাজিনঃআচ্ছা আমরা কোথাও দেখা করি?
(ওখান থেকে মনে হয় মানা করল বা পরে দেখা করার কথা বলল)
কাজিনঃআচ্ছা, আর কিছুদিন কথা বলে তারপর।
উনাদের তখন কথা হইছে ১৫ মিনিট। কাজেই সব কথা লেখতে গেলে ব্লগের পাতা শেষ হইয়া যাইব। তাছাড়া আমার তো সব মনেও নাই। তয় ওগো কথা থেকে বুঝলাম মেয়েটা পর্থম এক নাম কইছে পরে আরেক নাম। প্রথমে কইছে এক স্কুলে পড়ে, আইজকা কইছে কলেজে।
যা হোকগা, মেলা থেকে বাইর হওনের সময় কাজিন আমারে কইল আমি যেন তার একটা উপকার করি। আমি জানবার চাইলাম কি উপকার। ও কইল যেদিন মেয়েটা ওর সাথে দেখা করবে সেদিন যেন ওইখানে আমিও থাকি। আমি তো চরম প্যাচে পরলাম। আর কিছু না কইয়া রাজনীতিবিদদের মত দুলকি চালে মাথা নাড়লাম।
এখন দেখা যাক, ঘটনা কোন দিকে যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


