somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কিছু একান্ত কথা...কিছু একান্ত ভাবনা...
বেশ কিছুদিন ধরেই ব্লগ উত্তপ্ত ছিল মডারেশনজনিত ঘটনা-দূর্ঘটনা নিয়ে। পক্ষে-বিপক্ষে অনেক পোস্টই এসেছে। মডারেটরদের সাথে মতের অমিল ও তাদের মডারেশনের খড়গে পরে অনেকেই সামুকে কোরবানি করে অন্য কোথাও আশ্রয় নিয়েছেন। সেইসাথে অসংখ্য অজানা-অচেনা নিকের হাস্যজ্জ্বল উপস্থিতি দেখা গেছে।দূর্মুখেরা বলে এরা মডারেটর ও তাদের পোষ্য রেসিডেন্ট ভাঁড়দের আশির্বাদপুষ্ট।অবশ্য ইতিমধ্যেই এদের অনেকেরই লেঞ্জা ও ছাগইল্যা দাঁড়ি বের হয়ে গেছে;প্রকাশ পেয়েছে একটি বিশেষ ছাগুসম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এরা অথবা বলা যায়,"পুরনো ছাগু,নতুন নিকে".... আমার তেমন কিছু বলার নেই এদের সম্পর্কে,নেই কোন ক্ষোভ;কিন্তু আছে একরাশ হতাশা ও বিরক্তি.....

তবে আমার ঘটনা আরও বেশ কিছুদিন পুরোনো। ৬ মাসের বেশি হবে হয়তো....।ব্লগার হিসেবে আমি অতিসাধারণ একজন। আমার নেই তেমন কোন পরিচিতি,নেই আমার লেখার হাত। তাই নেই কোন শুভাকাংক্ষী।কিন্তু কিছু,কিছু ব্যাপারে (যেমন ছাগু ও নব্য রাজাকারদের বিরুদ্ধে) আমি সবসময়ই ছিলাম উচ্চকন্ঠ ও প্রতিক্রিয়াশীল। আর আমার প্রতিবাদী কন্ঠস্বর ছিল আমার করা কমেন্টগুলো। যাইহোক, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমরা সবাই খেয়াল করেছি যে পুরোনো সব চিহ্ণিত ছাগু ও রাজাকারদের পলায়ন ও নতুন নতুন সব নিকের মাধ্যমে তাদের আত্মপ্রকাশ।এদের অনেকেই এখন আবার হাওয়া....এই ছাগুদেরই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী কিছু পোস্ট ও কমেন্টের প্রতিবাদ স্বরূপ মডারেটরদের কাছে বেশ কিছু রিপোর্ট আমি তখন করেছিলাম। তাদের বিরুদ্ধে মডারেটররা কী পদক্ষেপ নিয়েছিল জানিনা,কিন্তু আমাকে তা নিয়ে ২বার জেনারেল করা হয়। ২য়বার করা হয় নিরাপদ হবার ১ দিনের মাঝেই।কী কারণে ও ঠিক কোন টপিকে আমাকে তা করা হয় তা তারা কখনই উল্লেখ করেনি।আমিও এগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত ছিলাম না।বরং জেনারেল হয়েও আমি একারণে খুশি ছিলাম যে আমি আমার প্রতিবাদ করতে পেরেছি;সুশীলদের মত নিজের বিবেকের কাছে হেরে যাইনি। এটা মার্চ এপ্রিলের ঘটনা। এরপর জুন মাসের দিকে হবে হয়তো,কোন এক ছাগুর ব্লগে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাকে কঠোর শব্দ ও বাক্য ব্যবহারের জের ধরে আমাকে ব্লক করা হয়। কারণ হিসেবে তারা শুধু আমাকে নোটিশ করে জানায় যে ৩খ রুল ভঙ্গের অপরাধে আমাকে ব্লক করা হয়েছে ও আমার ফ্রন্টপেজ ও কমেন্ট ব্যান করা হয়েছে ও আমার স্ট্যাটাস ওয়াচে রাখে। ২মাস ধরে তারা আমাকে ওয়াচ থেকে জেনারেল ও জেনারেল থেকে নিরাপদ করে। কিন্তু আশর্যজনকভাবে আমি তখন খেয়াল করি আমার স্ট্যাটাস নিরাপদ ব্লগার হলেও( যার পোস্ট সরাসরি প্রথম পাতায় আসার কথা) আমার ফ্রন্টপেজ ও কমেন্ট তখনও ব্লক করা,এমনকি আমার নিজের ব্লগেও!!! এইটা নিয়ে আমি তখন একটি পোস্ট দেই,যেখানে আমার নিজের কমেন্ট করার অধিকার ছিলনা। যাইহোক,এরপর আরও ২ মাস পর ব্লগার জটিলের পরামর্শে মডারেটরদের মেইল করে এখনও কেন এই অবস্থা রয়েছে জানতে চাই। এক এক করে ৪ টি মেইল আমি করি।কিন্তু কোন উত্তর আমি পাইনি।আমার প্রশ্নগুলো ছিল খুবই সাধারণ...কেন এখনও আমাকে ব্লক করে রাখা হয়েছে,যেখানে আমার স্ট্যাটাস নিরাপদ এবং আর কতদিন তারা আমাকে এভাবে রাখবেন কিংবা আদৌ তারা আমাকে ফ্রন্টপেজ ও কমেন্টের অধিকার ফিরিয়ে দিবেন কিনা ও যদি তারা তা ফিরিয়ে দিতে আর ইচ্ছুক না হন,তবে যেন তা আমাকে মেইল করে বা নোটিশ পাঠিয়ে জানিয়ে দেন। কিন্তু তারা কোন কিছু তো জানালোও না বরং এরপর যা করলো তা চরম হাস্যকর ও অপমানজনক। তারা পুনরায় আমাকে নোটিশ পাঠালো যে আমাকে রুল ভায়োলেশনের জন্য ফ্রন্টপেজ ও কমেন্ট ব্যান করা হয়েছে ও সেই সাথে হাস্যকরভাবে আমার স্ট্যাটাস আবারো ওয়াচে নিয়ে গেল !!!! এই অবস্থা দেখে আমি ১০ মিনিট হেসেছি ও তাদের কাছে আর কোন মেইল আমি আর করিনি, ইচ্ছেও করেনি;মনে হয়েছে এদের পিছনে শুধুই আমার সময় নষ্ট করার কোন মানে নেই।এটা অক্টোবর মাসের কথা। এরপরের ঘটনা আরও হাস্যকর ও বিভ্রান্তি মূলক।তখন তারা নীতিমালায় পরিবর্তন এনে কমেন্ট ব্যান যাদের তাদেরকে নিজের ব্লগে কমেন্টের অধিকার দেয় ও নতুন ব্লগ খোলা ও তাদের ফ্রন্টপেজ অ্যাক্সেস সক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তন করে। ।আর এইসময়ের ভিতরেই আমরা দেখেছি যে কিভাবে মডারেটরের কোপানলে পরে অনেকে পুরোনো ব্লগার ব্যান হয়েছেন ও অসংখ্য নতুন ব্লগার অতিসহজেই ফ্রন্টপেজ অ্যাক্সেস পেয়ে সঙ্কলন পাতা কিভাবে মিসইউজ করেছে বা করছে।এরমাঝে তারা আমাকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জেনারেল করে ও গত শুক্রবার পুনরায় আমাকে নিরাপদ করে; কিন্তু এবারো আমার ফ্রন্টপেজ ও কমেন্ট ব্যান করে রেখেছে;কিন্তু কোন কারণে ও কেন তা আজও তারা আমাকে জানায়নি ও আদৌ করবে কিনা তাও বলেনি .....যদিও এখন আমার তা জানার খুব একটি আগ্রহ বর্তমানে নেই,তারপরও ভদ্রতা ও সৌজন্যবোধ বলে একটি কথা থেকে যায়.....যা আমি মডারেটরদের থেকে আমি পাইনি....

এবার আমার নিজস্ব কিছু ভাবনা আমি সামুর মডারেটর,রেসিডেন্ট ও সাধারন ও অসাধারন ব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে চাই.... "মডারেটরবৃন্দ ,ব্লগ আমার কাছে একটি খোলা মাঠ;আপনারা হয়তো এই মাঠের মালিক,কিন্তু ব্লগারদের প্রতি আপনাদের ভূমিকা বা আচরণ এখানে মালিকের মত হওয়া উচিত নয়।আপনাদের ভূমিকা হওয়া উচিত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ; বলতে পারেন যেকোন খেলার রেফারি বা আম্পায়ারদের মত। আপনারা হয়তো জানেন যেকোন খেলাধূলায় মাঠের রেফারি বা আম্পায়ার যদি তার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা হারায় ও মাঠের মালিকের মত আচরণ করে তখন সে খেলা আর খেলা থাকেনা,হয়ে যায় চরম ভাঁড়ামি।এভাবে হয়তো খেলায় জয়ী হওয়া যায়,কিন্তু তা সন্মানের হয়না;বরং চরম ঘৃণিত হতে হয়।তাই বলতে চাই,এভাবে হয়তো আপনি ব্লগ টিকিয়ে রকখবেন,কিন্তু সেটা আর ব্লগ থাকবে না,হয়েযাবে ভাঁড়ামির স্থান;আর আমরা ব্লগে আপনাদের ভাঁড়ামি কাম্য করিনা....."

সবাইকে জানাই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা......... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/29050719 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/29050719 2009-11-28 03:49:21
ঈদ পরবর্তী প্যাচাঁল…এবং যথারীতি তা আজাইরা… http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/29014539 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/29014539 2009-09-23 01:49:41 ঈদের আজাইরা প্যাচাল…
এখন কন, আমার ঈদ কেমুন হইলো......

***আমাকে এখনও কমেন্ট করা থেকে বিরত রাখা হইছে....সব থেকে মজার কথা হইলো,আমার স্ট্যাটাস নিরাপদ,কিন্তু আমার পোস্ট শুধু আমার ব্লগেই প্রকশ হয়...সংকলিত পাতা তো দূরের কথা ক্রমানুসারেও প্রথম পাতায় আসেনা...অথচ নিরাপদ ব্লগার হিসেবে আমার লেখা সঙ্কলিত পাতাতে আসার কথা...৩ মাসের বেশি এই অবসতথা চলতাছে...মডুরে মেইল দিয়েছিলাম,কিন্তু তাদের কোন খবর নাই....মনে হয়না তারা চায় আমি আর এই ব্লগ থাকি....তাই আমার ব্লগে লেখা শুরু করছি আবার...দেখা যাআক কী হয়.....

****প্রচেত্যঃ কমেন্ট ও প্লাসের জন্য ধন্যবাদ... ঈদ মোবারক....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/29014199 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/29014199 2009-09-22 02:40:12
ঈদের চাঁদ দেখা.......

খুব বেশি কি আগের কথা? কত দিনই বা হবে? ১০ বৎসর....বা আরও হয়তো বছর খানেক বেশি.......এরই মাঝে জীবনের কতটাই পরিবর্তন.....শুধুই কি আমার জীবন???.... নাহ....শুধু আমারই না, চারিপাশের সবকিছুই আজ অসম্ভব সব পরিবর্তন নিয়ে আজ দাঁড়িয়ে....

আজ ঈদের চাঁদ রাত...ঈদের প্রতীক্ষায় থাকা আনন্দ ও উদ্দীপনায় ভরা একটি অনন্য রাত...ঈদের থেকেও চাঁদ রাতের উচ্ছ্বাটা আরও অনেক বেশি ছিল আমার কাছে...হয়তো সকলের কাছেই এই অনুভূতিটা একই রকম....ঈদের দিনের আনন্দটা তো বাঁধা,সেটা আসবেই...কিন্তু সেটা কবে হবে তা জানার জন্য রোজার শেষের দিকে যে চাপা উত্তেজনা তার অনুভূতিটা অন্যরকম...তাইতো ২৯ রোজার শেষে ইফতারের পরই সকলেরই মনে একই জিজ্ঞেসা...ঈদের চাঁদ কি ঊঠেছে??? কাল কি ঈদ হবে??? সকলেরই একবার হলেও ইচ্ছে হয় আকাশের মাঝে খুজতে ঈদের চাঁদকে......



কিন্তু আজ এক নগরজীবনের রাশি রাশি হাইরাইজ বিল্ডিং এর মাঝে কোথায় দেখা যায় পশ্চিমের আকাশ!!! আর কোথায়ই বা দেখা মেলে ঈদের চাঁদের??? ঈদের চাঁদ এখন খোজ মেলে চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষনায় আর স্যাটেলাইট টিভির ব্রেকিং নিউজে...হায় আমাদের ঈদের চাঁদ দেখা!!! হায় আমাদের চাঁদ রাতের আনন্দ...কেউ কি বলতে পারবেন আজ কেউ ঈদের চাঁদ দেখেছেন কিনা? কিংবা শেষ কবে ঈদের চাঁদ দেখে ঈদ পালন করেছেন? চাঁদ রাতের আনন্দ কী আর চাঁদ না দেখে হয়!!!


নাহ!!! আমার না হলেও চাঁদ রাতের আনন্দ এখনও হয়...তবে এ আনন্দ আজ ঝকঝকে আলোয় উজ্জ্বলিত বহুতল শপিং কমপ্লেক্সে আর মোবাইল ফোনের এসএমএস-এ...


জীবন সবসময়ই পরিবর্তনশীল... আর এটাই জীবনের কঠিন বাস্তবতা....


******(আজাইরা প্যাচাঁলে সবার চাঁদ রাতের আনন্দে বাগড়া দেয়ার জন্য দূঃখিত ও সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা...ঈদ মোবারাক)

*******আমার কমেন্ট ব্যান , আর পোস্টও প্রথম পাতায় আসবে বলে মনে হয়না, তাই কেউ না পড়ারই সম্ভাবনা বেশি...আর কেউ পড়লেও ও কষ্ট করে কমেন্ট দিলেও আমি কমেন্টের রিপ্লাই দিতে পারবো না...


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/29013786 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/29013786 2009-09-21 00:37:50
আমি আজ নিরাপদ, কিন্তু .....
*** এখনো ব্যান, তাই কমেন্ট করতে পারছিনা; আর পোস্টও প্রথম পাতায় আসছেনা। যদিও স্ট্যাটাস দেখাচ্ছে নিরাপদ!!! হাস্যকর অবস্থা। আমি বিরক্ত।

***এখনো আমাকে মডুরা কমেন্ট ব্যান করে নিরাপদ স্ট্যাটাস দিয়ে রেখেছে. ...
আজ ২৮তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষার রেজাল্ট দিল....আল্লাহর রহমতে পাশ করলাম....দোয়া কইরেন সবাই যাতে ভাইভাতেও পাশ করি আর মডুদের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়....

***আপডেট ১৫/০৯/০৯: আজ ৩ মাস হলো এখনো কমেন্ট ব্যান করে সেইফ স্ট্যাটাস দিয়ে রেখেছে;যদিও কোন পোস্ট প্রথম পাতায় আসে না...
@চাচামিঞা:মনে হয়না আমার এই অবস্থার পরিবর্তন এরা করবে; ভাবছি ব্লগ এ আসাই বন্ধ করে দিব.... আগ্রহটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে আমার....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28994513 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28994513 2009-08-16 00:36:31
আসুন একটু হাসার চেষ্টা করি...

আনন্দ ভ্রমন!!!


জাপাঁনি না হাপাঁনি??এইটা কোন জাপান!!? নিউক্যালি?


কে কে এই পরিবহনে ভ্রমনে ইচ্ছুক,হাত তোলেন...


বাংলাদেশের ফুটবলে ভবিষ্যত অনেক উজ্জ্বল....


ত্যাগেই সুখ!!!



______________________________________________

ছবিগুলো ফেসবুক থেকে সংগ্রহিত ও পুরোনো। অনেকেই হয়তো দেখেছেন। কেউ বিরক্ত হবে ক্ষমা প্রার্থী...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28962442 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28962442 2009-06-09 22:01:26
অ্যাপল আই-ফোন সম্পর্কিত সাহায্য চাই(সাময়িক ও জরুরী পোস্ট) http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28956664 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28956664 2009-05-27 21:57:44 আমার আমি...১৩/০৫/০৯
অনেক দিন পর আবার লিখতে বসলাম। অনেকটা জোর করেই। প্রতিদিনকার ঘটে যাওয়া ছোট ছোট ঘটনা কিংবা নিজের মনের ভিতরের শান্ত-অশান্ত চিন্তা ভাবনাগুলোকে লিখতে ইচ্ছে হয় সব সময়ই; কিন্তু আমার মত অলস ও অধৈর্যের পক্ষে তা প্রায়ই অসম্ভব ।এরসাথে নিজের ব্যস্ততা তো আছেই....

গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এমাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষা নিয়েই ছিলাম। ব্লগে পরীক্ষার সময়টাতে প্রতিদিনই এসেছি, কিন্তু আলসেমি করে কিছুই লিখিনি।এমন না যে এসময়টা পড়েছি...আমার আলসেমি পড়াকেও ছাড়েনি। আর তাই পরীক্ষার আগের রাত পড়ে পরীক্ষা দিলাম।ভাল না খারাপ হলো তা আমি খুজতে যাইনি।একটি করে পরীক্ষা শেষ হয়েছে আর আমি যেন তা থেকে উদ্ধার পেয়েছি। বিসিএসের বিষয়গুলো আমার জন্য বড়ই রসহীন। তাই মাঝে মাঝে পড়া রেখে নেটে বসেছি কিংবা টিভিও দেখেছি।মোটামুটি সব পরীক্ষাই ১ রাতের পড়া দিয়েই দিয়েছি। যা এসেছে আর আমি যা লিখেছি তাতে আমি নিজের ওপর সন্তুষ্ট। এরথেকে আর বেশি ভাল কিছু লেখা আমার পক্ষে সম্ভব হয়তো হতোনা। প্রায় ১২ বৎসর পর বাংলায় ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হল।খুবই কষ্ট হয়েছে লিখতে।কলম চলতেই চাচ্ছিলোনা।এরওপর, হাতের লেখা দেখে আমার নিজেরই হাসি এসেছে।তাও আমি খুশি।যদিও পরীক্ষা শেষ হয়নি এখনও,আমার বিষয়ের ২ টি পরীক্ষা এখনও বাকী।কিন্তু বিরিক্তিকর রকম শুকনো বিষয়গুলো শেষ হলো এটাই আমার জন্য মানসিক শান্তি। তবে এই পরীক্ষার একটা ব্যাপার আমার খুবই পক্ষে ছিলো।আমার পরীক্ষার সিট পরেছে আমার নিজেরই স্কুল/কলেজে। এখানেই আমি ক্লাস ৬ থেকে ১২ পর্যন্ত পরেছি।আর আমার বাসা থেকেও কাছে। প্রতিদিনই প্রায় হেটেই পরীক্ষার হলে গিয়েছি। আর কখনই মনে হয়নি অপিরিচিত কোন পরিবেশে আছি,যদিও স্বুলের শিক্ষকরা সবাই নতুন মুখ।তবে প্রথম পরীক্ষার সময় আমার অতিপরিচিত একজন স্যার ছিলেন।এইস্যারের কাছে আমি প্রায় ৪ বৎসর প্রাইভেট পরেছি।প্রথম দিন আমি পৌছেছিলাম সবার শেষে। স্যারকে দেখে বেশ খুশি হয়েছিলাম,স্যারও আমাকে দেখে খুশি হলেন। পরীক্ষা শেষে অনেক কিছুই জিজ্ঞেস করলেন। আর একটা ঘটনা হয়েছে এই পরীক্ষার সময়; আমার রুমেই আমার মেডিক্যালের ১ বৎসরের সিনিয়র ভাইয়ের সিট পরেছিলো।তার নাম আর আমার নাম একই ও তিনি মেডিক্যালে ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন। আমাকে দেখে প্রথমে উনি মনে হলো একটু ধাক্কা খেল,কিন্তু আমি হাসি মুখেই তার সাথে কথা বলেছি ,কিন্তু পরের পরীক্ষাগুলো তিনি আর দিলেন না।আমি অনেক অবাক হয়েছি কেন তিনি পরীক্ষা দিলেন না।এখনো জানি না।আমার কলেজে আমার মেডিক্যালের আরও অনেকেরই সিট পরেছে।এরমাঝে আমার ইয়ারমেট,একসময়কার রুমমেট ও ছাত্রদলের আর এক ভিপিও আছে। আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সেই বড় ভাইয়ের কথা।সেও কোন সদুত্তর দিতে পারলোনা;কিন্তু একবার আমাদের কে দোষারোপ করলো যে হয়তো আমরা তাকে পরীক্ষা দিতে দেইনি।কিন্তু এরকম নিচু মানসিকতা আমার বা আমাদের যে নেই সেটা বুঝার ক্ষমতা ওদের নেই। তা হলে আমার এই দোস্ত নিজেই পরীক্ষা দিতে পারতোনা।কারণ এরা মেডিক্যালে থাকতে অন্যদলের অনুসারী ছাত্র থেকে শুরু করে সাধারণ ছাত্র সবাইকেই বেশ জ্বালিয়েছে। আমাদের অনেক বন্ধু,সিনিয়র কিংবা জুনিয়রের প্রফেশনাল পরীক্ষা এরা দিতে দেয়নি।পরীক্ষার হলের সামনে দল-বল নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে যাতে চিহ্নিত কেউ পরীক্ষা দিতে না পারে; অনেকেই পরীক্ষা দিতে গিয়ে মার খেয়েছে এদের হাতে। আবার চাঁদা হিসেবে টাকাও নিয়েছে। যাক সেসব কথা। কিন্তু আমি এখনও জানতে চাই কেন সে পরীক্ষা দিলোনা। খোজ নিতে হবে সামনে...

প্রতিদিনই পরীক্ষা শেষে বের হয়ে আমার এক সিনিয়র রাজীব দা আর এক জুনিয়র সুমন সেন এর জন্য অপেক্ষা করতাম। এসময় আরও কিছু জুনিয়র ছেলে-মেয়ে এর সাথে দেখা হত। অনেকেই দেখলাম আমার মেডিক্যালের লিখিত পরীক্ষা দিলো আমার কলেজে। যাইহোক,পরীক্ষার শেষের পর মনটা হালকা লাগতো,মনে হত যাক এটা শেষ হলো!এরপর আমি আর সেই দু'জনে মিলে গল্প আর হাসি ঠাট্টা করতে করতে বাসার দিকে রওনা হতাম।আর এর ফাঁকে রাজীব দা কে আমি আর সুমন মিলে সিল মারার চেষ্টা করেছি। এটা আমাদের ক্যাম্পাস ট্রাডিশন যে সিনিয়ররা জুনিয়রদের খাওয়ায়। রাজীব দা খাইয়েছেন,তুবে আমিও খাইয়েছি। আর সুমন যেহেতু জুনিয়র সবার থেকে ও একটু গাই-গুই করতো,কিন্তু সেও খাইয়েছে যখন আমি বলেছি ওর থেকেও জুনিয়র আমি ডেকে আনবো...<img src=" style="border:0;" />।যাইহোক , পরীক্ষার পরের সময়টা ভালই কেটেছে।

১১ইমে আপাত শেষ পরীক্ষার পর বাসায় এসে দেখি নেটের কানেকশান নেই। গতকালও সারাদিন ছিলোনা।এসেছে রাতে। একবার ভাবলাম কিছু লিখি,কিন্তু নেটে বসার কিছুক্ষনের মাঝেই বিদ্যুত চলে গেল।পরে আর লেখার ইচ্ছে হলোনা। বিদ্যুত যাবার পর রাতের খাবার খাওয়ার সময় আম্মা আমাকে হঠাৎ 'তার' কথা জিজ্ঞেস করলো। আমি অবাক হয়নি,কিন্তু বিব্রত হলাম,যদিও মোমের আলোয় আম্মা হয়তো বুঝেনি।আমিও অবশ্য সরাসরিই বর্তমান অবস্থা জানিয়ে দিয়েছি এবং কী কারণ সেটাও।আম্মা শুনে কিছুটা মন খারাপ করেছে। খাওয়া শেষে আমার রুমে এসে অনেকক্ষন গল্প করলো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে; এরমাঝে তাঁর ছোট বেলার কিছু স্মৃতি আর আমার বর্তমান ঘটনা সম্পর্কে তাঁর মতামত জানালো।আমি যে জন্য এইসব কথা নিজ থেকে বলিনি সেটাই সে বললো। আমি পারিবারিক কথা-বার্তাতে আগ্রহ বোধ করিনা,তাই চুপ থাকলাম...অবশ্য আমার বলারই বা কী ছিলো???

আম্মা আজ সকালে বরিশাল চলে গেল।আমার নানা অনেকদিন থেকেই অসুস্থ। তাকে দেখেতে যাওয়াই উদ্দেশ্য।আম্মার স্কুল গ্রীষ্মের ছুটি,তাই বেড়াতে যাওয়া।আম্মা না থাকলে বাসা একদমই খালি খালি লাগে।একদমই ভাল লাগে না আমার ।যখন ছোট ছিলাম তখন আম্মা যদি আমাকে রেখে কোথাও যেত আমার বুক ফেঁটে কান্না পেত।এখন পায়না কিন্তু খারাপ লাগাটা রয়েগেছে।আমার ছোট ভাইয়ের অনুভূতিটা কেমন তা জানিনা।ওকে বুঝা সম্ভব না;বা হয়তো আমি কোন দিনই চেষ্টা করিনি।আসলে বড় ভাই হিসেবে আমি তেমন কোন দায়িত্ব নিইনি।মাঝে মাঝে এজন্য আমার নিজের কাছেই খারাপ লাগে ,তবে কখনো কখনো ওর আচরণ বরই অসহ্যকর ...তবে এটা ছোট বেলা থেকে খেয়াল করেছি আমাকে মাঝে মাঝে অনুকরণের চেষ্টা করে....

আম্মা না থাকলে আমাদের দুভাইয়ের সবকিছুই এলোমেলো হয়ে যায়। বাসায় আসা-যাওয়ার ও খাওয়া দাওয়ার কোন ঠিক থাকেনা। মাঝে মাঝে আমি ভাবি, আম্মা যখন সত্যি সত্যিই থাকবে না আমাদের কী অবস্থা হবে!!?? ভেবে কোন দিশা পাইনা,বুকের ভেতরটা কষ্টে ভরে ওঠে। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে আমরা কখনও আম্মার দিকে খেয়াল করিনা,তাঁর নিজের চাওয়া-পাওয়া,ভাল লাগা-খারাপ লাগা, শখ-আবদার কিছু নিয়েই ভাবিনা....এই মে মাসেরই ২১ তারিখে আমার আব্বার মৃত্যুর ১০ বৎসর হবে...এই সময়টাতে আমি কোন দিনও তাঁর কথা গভীরভাবে ভাবিনি...আমার আম্মা যেন বেঁচে আছেন আমাদের দুভাইয়ের স্বার্থপূরণের জন্য,তাঁর নিজস্ব যেন কিছুই নেই আজ!!!! .....আমরা আসলেই কতটা স্বার্থপর....এমনকি এখন পর্যন্ত ফোন করে খোঁজও নিলাম না ঠিক মত পৌছেছে কিনা...

সকালে আম্মাকে মামার বাসার উদ্দেশ্যে মিশুকে উঠিয়ে দিয়ে হাসপাতালে গেলাম। পরীক্ষার জন্য এ'কদিন যাইনি। আমি সহ আরও ৫ জনের বিসিএস পরীক্ষা ছিলো।তাই ওয়ার্ডের যে কী অবস্থা তা ভেবে পেলাম না। আর আমাদের সহকারী রেজিস্ট্রার বেটা একটা ছাগল। ওয়ার্ড ম্যানেজমেন্টের কোন আইডিয়াই তার নেই।আইএমও, ইন্টার্ণ সহ সকলেই এর ওপর বিরক্ত।কিন্তু এর এমনই অবস্থা যে সেটা বুঝার মত আই.কিউ এর নেই। যাইহোক, হাসপাতালে যেয়ে কিছুক্ষন ওয়ার্ডে বসে থেকে পরে আইএমও মিজান ভাইকে নিয়ে কেবিনের দিকে গেলাম। আমি পরীক্ষার আগে কেবিনে আমাদের ইউনিটের রুগিদের দেখতাম ।আমার সাথে মিজান ভাই থাকতো।কিন্তু তার থাকা না থাকা সমান কথা।যাইহোক, কোথায় কী রুগি আছে তা দেখে আসলাম। আর ধারণামতই বেশ কিছু মিস-ম্যানেজমেন্ট দেখলাম ও যথারীতি সহকারী রেজিস্ট্রারের ওপর মেজাজটা আরও খারাপ হলো। ওয়ার্ডে ফিরে এসে দেখি এসে আর তেমন কিছু করার ছিলোনা। এর মাঝে স্যার ২ বার রাউন্ড দিলেন।স্যারের মন মেজাজ বুঝা গেল বেশ ভাল,কারণ সে সহকারী রেজিস্ট্রারকে তার বিভিন্ন ছাগলামীর জন্য ঝারলেন না। তবে তার নতুন ছলামীর গল্প কেবিনে রাউন্ডের সময় রিজভী বললো,শুনে হাসাহাসি হলো রাউন্ডের পিছনে।স্যার অবশ্য আমার যেসব ব্যাপার নিয়ে প্রশ্ন ছিলো বা ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আপত্তি ছিলো সেগুলো ঠিক করে দিলেন নিজ থেকে;,যদিও এগুলো সহকারী রেজিস্ট্রারেই করা উচিত ছিলো।কিন্তু আমার সন্দেহ তার মাথায় এগুলো ধরে কিনা?? যাইহোক, তার নামে অনেক বদনাম হলো।আসলে তার কিছু কিছু কথা বার্তা ও কাজে আমি বেশ বিরক্ত ও খুব্ধ।যদিও একটা জরুরী দায়িত্ব তাকে আমি দিয়েছলাম অনেক পরীক্ষারও সপ্তাখানেক আগে, কিন্তু এইসব কারণে আর ইচ্ছা করেই খোজ নিইনি। নিব কিনা ভাবছি।কিন্তু ডিসিশন নিতে পারছিনা...

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে পিজিতে গেলাম। সামনের পরীক্ষারগুলোর পুরোনো বিসিএস প্রশ্নপত্র গুলো আশিকের কাছ থেকে নিয়ে আজিজ মার্কেটে গিয়ে ফটোকপি করালাম।এরমাঝে রাশেদ ও মামুনের সাথে আজিজে দুপুরে খেলাম। রাশেদ খাওয়ালো।রাশেদ ও মামুন দুইজনই আমার অন্য মেডিক্যালের বন্ধু।আজিজে এমন দোকান/রেস্টুরেন্টে আমি কখনও খাইনি। খাওয়া খারাপ হলো না,কিন্তু ভাবলাম প্রতিদিন এমন খাবার খাওয়া আমার পুক্ষে সম্ভব না।কিন্তু রাশেদ ,মামুন ওরা প্রতিদিনই খায়,বা খেতে বাধ্য হয়।এসব নিয়ে কথা বার্তা হলো।এরপর আজিজে ওদের রুমে গিয়ে অনেক সময় গল্প করে আবার পিজিতে ফিরে আসিকের সাথে দেখা করে বাসায় চলে এলাম। পুরোবাসায় আমি একা।একটু পর ছোট ভাই আসলো।আমি গোসল করে টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পরলাম। ঘুম ভাঙলো চেম্বার থেকে আসা ফোনে,৭টার দিকে। একদমই ইচ্ছে হলো না যেতে,মনে হলো আরো কিছু সময় ঘুমাই।পরে মোবাইলের রিংটোন অফ করে রেখে তাই করলাম।কিন্তু ঘুম আর গভীর হলোনা।৭।৩০এর দিকে ঊঠে দেখে অনেকগুলো মিসকল চেম্বার থেকে।আমি কলব্যাক করে বললাম আসছি।পরে চেম্বারে গিয়ে ৫ জন পেসেন্ট পেলাম। আমার জন্য ভালই হলো। চেন্বার থেকে বাসায় ফিরলাম ১০টার দিকে হয়তো। এরপর এসেই নেটে বসে ফেসবুক আর সা.ইনে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে এই লেখাটা লিখতে বসলাম....

এখনও রাতের খাবার খাইনি...রাতও অনেক হলো, আর সকালে ওটি...সাথে কাল ইভিনিং ডিউটি...এখনই খেয়ে ঘুমুতে যাওয়া উচিত...কিন্তু ইচ্ছে হচ্ছে না...

(রাত ১২টা ৫২মিনিট, ১৪/০৫/০৯ইং)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28950431 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28950431 2009-05-14 00:50:29
আমার আমি...২৩/০৪/০৯
গতকাল দিনের শুরুটা পরিকল্পনা মত হলনা। ইচ্ছে ছিল ৮টার মধ্যে উঠে ব্যাংকে গিয়ে ২৯তম বিসিএস এর জন্য পে-অর্ডার করে হাসপাতালে যাব; স্যার এর সাথে দেখা করে ছুটির কথা বলবো। কিন্তু ঘুম থেকে উঠলাম দেরী করে...৯টার দিকে উঠেছি হয়তো।উঠে ঠিক করতে পারছিলাম না কী করবো...একবার মনে হলো ব্যাংকে গিয়ে কাজ শেষ করে হাসপাতালে যাই।পরে সেই পরিকল্পনা বাদ দিয়ে ২৯তম বিসিএস এর ফরম ফিলাপ করলাম। এইবার জেনারেল ক্যাডারেও অ্যাপ্লাই করলাম...ফরেন ক্যাডার ও পুলিশ...<img src=" style="border:0;" />। এরপর ব্যাংকে গিয়ে দেখি বিশাল লাইন। অশেষ ধৈর্য প্রদর্শন করে টাকা জমা দিলাম পরীক্ষার জন্য।কিন্তু এরমাঝে আবিষ্কার করলাম ফরমের টাকার রশিদটা আনিনি,যেটা ফটোকপি করে ফরমের সাথে জমা দিতে হবে।অগ্যতা আবারো বাসায় গেলাম কষ্টকরে দুপুরের রোদের মাঝে।একদিক থেকে ভালই হলো, কারণ আমি অল্প টাকা নিয়ে বের হয়েছিলাম বাসা থেকে।বাসায় আসার পথে ফোনে দেখি একটা মিসকল,ইন্টার্নী আল-আমিনের।তাও সকাল ১০টা ১৫ মি. এর দিকে। তখন বাজে ১২টা। কল ব্যাক করলাম।৩বার কল দেয়ার পর ধরলো।বললাম কী ব্যাপার?বললো তেমন কিছুনা,এমনিতেই খোঁজ নেয়ার জন্য ফোন দিয়েছিলাম।এরপর যা জিজ্ঞেস করলো তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না...জিজ্ঞেস করলো আমার সে কেমন আছে...আমি কিছুটা অপ্রস্তুত ভাবে বললাম"কেন তুমি জান না?তোমার তো জানা উচিত।আমাদের ব্যাপারটা আর নেই" সে জিজ্ঞেস করলো 'কেন?' তার উত্তরও দিলাম।আর কথা বাড়ালো না,আমিও বাড়ালাম না। তবে পরে মনে হলো সে পুরো ব্যাপারটা জানে,তবুও আমাকে খোঁচা দেওয়ার জন্য আজ ফোন দিয়েছিল। ভাবলাম,ওকে এইভাবে না বলে অন্যভাবেও কথাটা ঘুরিয়ে দেয়া যেত...বলতে পারতাম ' তার খবর তো তোমার কাছেই ভাল থাকার কথা,কারণ ২ জন তো একসাথেই ইন্টার্ণী করছো'। কিন্তু এই কথাটা তখন মাথায় আসেনি। যাইহোক ,এরপর ভাবলাম তাকে ব্যাপারটা জানানো দরকার। কিন্তু তার মোবাইল গত ২৩ দিন ধরেই অফ। মাঝে মাঝে অন করে অবশ্য। তাই ভাবলাম একটা এসএমএস লিখি।তখন মোবাইলে আর টাকা ছিলোনা,পকেটেও না।এর মাঝেই বাসায় আসলাম।বাসায় এসেই টাকার রশিদ আর টাকা নিয়ে বের হয়ে গেলাম।ফার্মগেট যাবার পথে মোবাইলে টাকা ভরে তাকে এসএমএসটা করলাম।জানি এখনি ডেলিভারী হবেনা,তবুও চেক করলাম,এবং হলওনা...

গন্তব্য এবার আগারগাঁও; পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নতুন অফিস সেখানে। মাঝে ফার্মগেট থেকে ফটোকপির কাজ শেষ করলাম।আর সব অ্যাটাস্টেশনের কাজ শেষ করলাম আগারগাঁও নেমে একটি চায়ের দোকানে বসে।পরে পিএসসির অফিসে গিয়ে ফরম জমা দিয়ে প্রবেশপত্র নিলাম।এরমাঝে জুবায়ের (আমার মেডিক্যাল এর আমার থেকে ৬ বৎসর জুনিয়র) ৩ বার ফোন দিল। আমি জানি সে কেন ফোন দিচ্ছে। আমি ধরিনি। পরে নিজেই ফোন ব্যাক করলাম। ফোন ধরলো জেনি (জুবায়েরের গার্লফ্রেন্ড/ওয়াফ...আমি শিয়র না)। আসলে জেনিই আমাকে কিছুদিন ধরে ফোন দিচ্ছিল; তার মেডিক্যাল সার্টিফিকেট লাগবে। চেষ্টা করেছিলাম অ্যাভয়েড করতে,কিন্তু পারিনি । আজ তাই ঠিক করলাম আর ঘুরাবো না ওদের। আবার ফোন করে জানলাম ওরা নিউমার্কেটে আছে। আমি বললাম তোমরা নিলক্ষেত থেকে একটা প্রেশক্রিপশনের পেজ প্রিন্ট করে আমাকে জানাও। আমি ফার্মগেটে অপেক্ষা করছি। এরপর আমি ফার্মগেট এসে ভাবলাম কী করা যায়?বাসায় যাব ,নাকি ওয়েট করবো?ভাবলাম কতক্ষনই বা ওদের লাগবে,খুব বেশী হলে ১ ঘন্টা...বাসায় যাবার থেকে ফার্মগেটেই ওয়েট করাটা ঠিক হবে মনে হলো। এইসময়টা কী করা যায় ভাবতেই মনে পরলো সাইবার ক্যাফের কথা। অনেক দিন যাওয়া হয়না,বাসায় নেটের লাইন নেবার পর হতে।তাছাড়া সেখানে এসির বাতাসে বসা যাবে। পরিচিত ক্যাফেতেই গেলাম। কিন্তু ক্যাফেতে বসে কোন মজা পাচ্ছিলাম না। কী করবো ...কোন কাজই ছিল না। পরে বিডিচ্যাটে ঢুকে একজনের সাথে অনেকক্ষন আজাইরা পেচাল পারলাম। শেষের দিকে আমি নিজেই বিরক্ত হয়ে রূঢ় হয়ে গেলাম কিছুটা। এরমাঝেই জুবায়ের ফোন দিয়ে জানাল ওদের কাজ শেষ।তখন বাজে ২টা ২০মি এর মত। ওদের ফার্মগেট আসতে বলে আমি আরো ২০ মিনিট ক্যাফেতে বসলাম।এরপর নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে ওদের ফোন দিয়ে শুনি ওরা তখনও শাহাবাগে।একটু রাগ হলো ওদের ওপর।বেশ ভালই ক্ষিদে পেয়েছিল...সকালেও নাস্তা করিনি।তাই মনে হলো এর থেকে বাসায় গেলেই ভাল হত।এইসময় আবার কী করবো ভেবে পেলাম না। একবার চিন্তা করলাম রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে নেই,গেলামও,কিন্তু ইচ্ছে হলোনা।আবার বের হয়ে চিন্তা করলাম একটা মাউস কেনা দরকার।কিন্তু দোকানে যেয়ে মাউস পছন্দ হলো না,দামেও পুসলো না। সেখান থেকে বের হয়ে আবার আর একটা ক্যাফেতে গেলাম।কিন্তু বসার আগেই ওদের ফোন...তারা পৌছেছে ফার্মগেট।আমিও বের হয়ে তাদের কাছে গেলাম।জেনিকে আমি এর আগে কখনো দেখিনি...আজ দেখলাম ।ওদের নিয়ে বসলাম রেস্টুরেন্টে। সেখানে জেনির মেডিক্যাল সার্টিফিকেট লিখে দিলাম।এরপর জেনির জোরাজুরিতে আমাকে কাবাব আর নান খেতে হলো।তখন প্রায় সাড়ে ৪টা বাজে। রেস্টুরেন্টের বিল আমি দিতে চাইলাম অনেককরে। কিন্তু আমার টাকা তারা ক্যাশ থেকে ফিরিয়ে নিল।এরপর সেখান থেকে বের হয়ে ওদের বিদায় দিয়ে আমি বাসায় আসলাম। যথারীতি ইলেক্ট্রিসিটি নেই।এসে গোসল করে বের হয়ে আসার কিছুক্ষনের মাঝেই অবশ্য ইলেক্ট্রিসিটি চলে আসলো। এরপর টিভি দেখতে বসলাম।স্টার মুভিজে লাস্ট কিং অফ স্কটল্যান্ড দেখাচ্ছিল। এর আগে শুরুটা দেখেছিলাম।বেশ ভালই লেগেছিল।তাই আজ এটাই দেখা শুরু করলাম।ঈদি আমিনের চরিত্রে ফরেস্ট হুইটেকার অসাধারণ অভিনয় করেছে। একদম শেষের দিকে আসতেই আবারো ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেল।অন্ধকারে কিছু্ক্ষন বসে থেকে ল্যাপটপটা নিয়ে বসলাম।ইটালিয়ান জব মুভিটা শেষ হয়নি,তাই সেটাই শুরু করলাম। এরমাঝে ইলেক্ট্রিসিটি আসলো।কিছুক্ষণ পর চেম্বার থেকে ফোন...রুগী এসেছে।যেতে ইচ্ছে করছিল না,মুভিটা শেষ করার ইচ্ছে ছিল।কিন্তু এটা বাদ দিয়ে চেম্বারে গেলাম।রুগী আমার খুব বেশি না, গড়ে ২ জন। আজ অনেক সময় বসে ছিলাম । ৪ জনে রুগী দেখলাম। এর মাঝে এলাকার মুরিব্বি একজন এসে আমার সাথে অনেক সময় নিয়ে গল্প করলো।আসলে আমার সম্পর্কে সব কিছু জানার চেষ্টা করলো। আমিও চালিয়ে গেলাম। চেম্বার থেকে বের হব, তখনই ৪ নং রুগীটা আসলো।তখন প্রায় পৌনে ১০টা। এরমাঝেই আমার একবৎসর জুনিয়র রাসেলের ফোন।জিজ্ঞেস করলো আমি কই; আর জানালো তার ইয়ার মেট বাবরকে(যাকে আমরা খুজছি অনেকদিন ধরেই)ধরার জন্য টোপ ফেলা হয়েছে।কোথায় আসতে হবে জেনে আমি বললাম আমি আসছি।এইফোনের মাঝেই আমার ১ ইয়ার সিনিয়র পিযুসদা'র ফোন...একই বিষয়।আমি জানালাম আসছি। এরপর শেষ রুগীটা দেখেই চেম্বার থেকে বের হয়ে নির্ধারিত স্থানের দিকে রওনা দিলাম। পথে যেতে যেতে ভাবছিলাম কী হতে পারে আজ? আমার ভূমিকাই বা কী হবে?আর এর ভবিষ্যতটাই বা কী?একবার মনে হলো না যাই।কিন্তু সেটা করলে ঠিক হবে না বুঝলাম।তবে ওদের পরিকল্পনা কী আমি না জানলেও এটা আমি বুঝতে পারছিলাম যে একটা ঝামেলা হবে ও ওদের প্লান কাজ করবেনা।কারণ আমার ইয়ারমেট গুলো সব পেঁচিয়ে ফেল্বে।আমি ওদের ভালভাবেই জানি।কাজের থেকে অকাজই বেশি করে তারা। কিন্তু জুনিয়ররা গোছান,সিনিয়র রাও। যেতে যেতে আর ফোন দিলাম না। নির্ধারিত স্থানের কাছাকাছি পৌছেই ফোন দিলাম প্রথমে পি্যুসদা'কে,কেটে দিল।এরপর রাসেল কে,জিজ্ঞেস করলাম কোন সমস্যা?বললো হ্যা।ওরা কোথায় তা জানলাম। পূর্ব নির্ধারিত স্থানের কাছে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ আর পুলিশ।আমি সেখান থেকে চলে গেলাম ওদের বর্তমান অবস্থানের দিকে।সেখানে গিয়ে জানলাম পুরো ঘটনা।বুঝলাম আমি যা ভেবেছি সেরকমই হয়েছে। বাবরকে পেয়েছে,কিছুটা উত্তম-মধ্যমও দিয়েছে,কিন্তু সেটা তার ডিজার্ভিং লেভেল টাচ করেনি।এর আগেই ঝামেলা হয়ে যায়। আর সবাই একসাথে সঠিক সময়ে পৌছাতেও পারেনি। এরমাঝেই বাবরের সহযোগী কামরুলকে নিয়ে নিলাঞ্জন হাজির।কামরুলই ছিল বাবরের টোপ।আমি কাছে যাওয়াতেই নিলা কামরুলকে সরিয়ে দিয়ে বললো ওকে আজ ছেড়ে দে। আমি আর কিছু বললাম না। কামরুলের ইয়ারমেটরাও কিছু বলছিলোনা,শুধু সুমন ছাড়া।সাথে রাজীবদাও এখনি তাকে ছাড়তে চাইছিলনা।সে আরও কিছু কামরুলের কাছ থেকে জানতে চাচ্ছিলো।কিন্তু নিলা ওকে ছেড়ে দিল।সুমন পিছন থেকে একবার শুধু ডাক দেওয়ার সাথে সাথেই কামরুল দৌড়ে পালালো।এরপর চললো ব্যর্থ অভিযানের ময়না তদন্ত ও কথা কাটা-কাটি। আরও কিছু বিষয় নিয়ে কথা হলো।পরে আমি আর সুমন বের হয়ে গেলাম।সাথে পরে কমলেশ আসলো।আমরা সিএনজি নিয়ে বাসার পথে রওনা হলাম।

বাসায় এসে দেখি যথারীতি ইলেক্ট্রিসিটি নেই। প্রচন্ড গরম।আবারো গোসোল করলাম।এর মাঝেই ইলেক্ট্রিসিটি চলে আসলো। কম্পিউটার অন করে দেখি নেটের লাইন নেই।তাই আবারো ল্যাপটপ ওপেন করে ইটানিয়ান জব মুভিটা শেষ করলাম।এর মাঝেই 'তাকে' পাঠানো দুপুরের এসএমএসটা ডেলিভারী হল।ভাবলাম কল দিব কিনা। জানি সে ধরবেনা,তাও দিলাম এবং আশা পূর্ণ হল,সে ফোন ধরলো না,কেটে দিয়ে অফ করে দিল। মুভি শেষ করে দেখি নেটের লাইন চলে এসেছে। সা.ইনে আর ফেসবুকে ঢুকলাম।ইয়াহু আর এমএসএনেও লগ ইন করলাম।ইয়াহুতে প্রাক্তন ইন্টার্নী সাদাতের সাথে ২৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রিপারেশন ও সিট প্লান নিয়ে কথা হলো।আমি এখনো কিছুই পড়িনি,সিট প্লানও জানিনা।সামনের সুপ্তাহে পরীক্ষা!!!

ফেসবুক আর সা.ইনে তেমন কিছুই পেলাম না ইন্টারেস্টিং।গতরাতের লেখা ব্লগের কমেন্ট গুলোর উত্তর দিলাম।এরপর ভাবলাম আজকের কথা গুলো লিখবো কিনা।ইচ্ছে করছিলোনা।তারপরও কেন জানি ব্লগস্পটে নিজের একটা ব্লগ খুলে লেখা শুরু করে দিলাম...

এখন ৩টা বেজে ৩৫ মিনিট। পাক্কা ২ ঘন্টা!!! টানা লিখেছি এইপুরো সময়টা!!! প্রচন্ড খুদে পেয়েছে...এখনও রাতের খাবার খাইনি...খেতে যাব এখন। এরপর ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি...কাল সকালে আবার একটা নতুন দিন...জানিনা কী অপেক্ষা করছে আমার জন্য...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28941518 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28941518 2009-04-23 03:38:22
আমার আমি...
আমার জন্য কোন কিছু লেখাই খুব সাহসের ব্যাপার। আর যদি সেটা হয় নিজেকে নিয়ে তাহলে তো মোটামুটি দুঃসাহসিক ব্যাপার।কিছু লিখতে গেলেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।গুছিয়ে উঠতে পারিনা ভালভাবে। তাই অনেক সময় শুরু করেও আর আগাতে পারিনি,ধৈর্যচ্যুতি হয়েছে।তাও আজ সাহস করলাম...

লিখতে ইচ্ছে হয় অনেক কিছুই, মস্তিষ্কের গভীরে থাকা আনন্দ-বেদনার স্মৃতি থেকে শুরু করে প্রতিদিনকার কথা কিংবা অজানা কোন প্রশ্নের উত্তর খুজে বেড়ানো ভাবনা...যার উত্তর হয়তো আমি কোন দিনও পাবোনা কিন্তু খুজে যাব হয়তো অনন্ত কাল...

সাধারণ মানুষ আমি।চিন্তাগুলোও আমার সাধারণ। স্বপ্ন বলতে তেমন কিছুই নাই। যা ছিল হারিয়েছি। তাই এখন আর স্বপ্ন দেখিনা, ভয় হয়। জীবনে যা সামনে আসে তাই চেষ্টা করি গ্রহণ করার। ভবিষ্যত পরিকল্পনা বলতে কিছুই নেই আমার। চেষ্টা করেছিলাম দু’বার , দু’বারই ব্যর্থ। মাঝখানে শুধু শুধু কষ্ট পাওয়া। তাই আমি বর্তমান নিয়েই বাঁচি। মাঝে মাঝে অবশ্য বেদনার্ত অতীতটা খোঁচায়, তবে তা এখন আর মনের মাঝে রক্তপাত করেনা...বাস্তবতা আমাকে শক্ত করেছে অনেক...


গতকাল সারাদিনই গেল তেমন কিছু না করে। ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠলাম অনেক কষ্ট করে ... রাতে ঘুমিয়েছিলাম দেরী করে,ভোর রাতের দিকে। এরপর সেই প্রতিদিনকার একই রুটিন অনুযায়ী চলা...হাসপাতালের পথে বাসা থকে বের হলাম ৮টা ৩০ এর দিকে।৯টার কিছু আগে পৌছালাম। আজ রুটিন ওটি ডেট ছিল। ৩টা মাত্র কেস, তাও প্রথমটা মিস। পরের ২টা দেখলাম। একটাতেও ওয়াশ নিলাম না। ইচ্ছে হচ্ছিলো না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম। মাঝে সদ্য থার্ড ইয়ারে ওঠা পাকিস্তানি একটা মেয়ের বার বার জিজ্ঞেস করা বিভিন্ন কৌতুহল মূলক প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করছিলাম। এর ফাঁকে চেষ্টা করছিলাম স্যারের মুড কেমন বোঝার ;ইচ্ছে ছিলো ২৮তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্য ছুটি চাব। মনসুরের সাথে এই নিয়ে আলাপ করলাম। জুয়েলকেও বললাম। জুয়েল ভাব নিল। আমি আর মনসুর এই নিয়ে হাসাহাসি করলাম। পরে ঠিক করলাম এখন আর স্যারকে বলবনা। আজ আমি আর মনসুর চেষ্টা করবো স্যারকে জানাতে। ওটি থেকে বের হলাম ১টার দিকে। ওয়ার্ডে আসলাম এরপর। কিছুক্ষন বসলাম, বাসায় চলে আসবো কিনা ভাবলাম। ওয়ার্ডে আমার আজ কোন কাজই ছিলনা। তাই ঠিক করলাম বাসায় চলে আসবো।এর ফাঁকে রুগিদের কিছু পরামর্শ দিতে হল।ইন্টার্নী ইন্দিরাকেও তার এক রুগি নিয়ে কিছু কথা বললাম। এরপর বাসার পথে বের হলাম...শাহাবাগে যাওয়ার পথে ঢাকা ভার্সিটির রাস্তায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একটা স্মৃতি বার বার খোঁচাচ্ছিল,পাত্তা দিলাম না...কিংবা দিলাম...ঠিক বুঝতে পারলাম না...

বাসায় পৌছে আজ কিছুটা ভাগ্যবান মনে হল, কারণ ইলেক্ট্রিসিটি ছিল আজ। যদিও জানতাম একটু পর চলে যাবে এবং গেলও। এর কিছুক্ষনপর আম্মা আসলো স্কুল থেকে।ততক্ষনে ইলেক্ট্রিসিটি নেই। চেষ্টা করলাম কিছু সময় পেপার পড়ার,তেমন কিছুই পড়ার মত নেই। খেলার পাতাও আজ আকর্ষনহীন মনে হল।এরমাঝে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। ঘন্টাখানেক পর ইলেক্ট্রিসিটি আসলে গোসল করে খেয়ে টিভি দেখতে বসলাম। আবারো ইলেক্ট্রিসিটি নেই।আবারো ঘুমানোর ব্যর্থ চেষ্টা। এভাবেই করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। এরমাঝে বারান্দাতে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি গোধুলির আলোয় রক্তাক্ত মেঘ। তারাতারি ক্যামেরাটা বের করে কিছু ছবি তুললাম। অন্ধকার পুরোপুরি অল্প সময়ের মাঝেই নেমে এল। কিছুক্ষন একাই বসে রইলাম বারান্দাতে।অনেক বাতাস ছিল। সেই সাথে ছিল মনের মাঝে নিজেকে নিয়ে একান্ত কিছু ভাবনা কিংবা চাপা ক্ষোভ...জানিনা কী এটা...






চেম্বার থেকে ফোন আসলো ৪ বার। অন্যরুমে থাকায় ফোন ধরতে পারলাম না। ইচ্ছেও হচ্ছিল না আজ চেম্বারে যাওয়ার। তাই ইচ্ছে করেই ফোনের থেকে দূরে ছিলাম। আবারো টিভি দেখার চেষ্টা করলাম। এবং আবারো ইলেক্ট্রিসিটি নেই।ভাবলাম বের হব। চেম্বারে ফোন দিয়ে জানালাম আমি এখন ফ্রি আছি,কেউ আসলে আমাকে জানাতে। বন্ধু(!) জামালকে এর মাঝে ফোন দিলাম।বাসায় নেই সে। ইচ্ছে ছিল ওর বাসায় গিয়ে গতমাসের কক্স’সবাজার ট্যুরে আমার ক্যামেরার তোলা কিছু ছবি যা আমার কাছে নেই তা নিয়ে আসবো ।সেই সাথে লেমনের পাওনা টাকা নিয়েও কথা বলব। কিছুই হলনা। প্লান ছিল ইলেক্ট্রিসিটি আসলে ২৯তম বিসিএসের ফরম ফিলাপ করবো, তাও করলাম না। আবারো ইলেক্ট্রিসিটি গেল। এবার লেমনের ল্যাপটপটা বের করে একটা হিন্দী মুভি দেখলাম।অনেক দিন পর হিন্দী মুভি দেখলাম। ভাল লাগলো না খারাপ বুঝলাম না।এরপর ইটানিয়ান জব মুভিটা দেখা শুরু করে কিছুক্ষন পর দেখি ল্যাপটপে চার্জ নেই।তাই সেটা বন্ধ করে দিলাম। এদিকে মশার কামড়ে অস্থির হয়ে উঠছিলাম। ইলেক্ট্রিসিটি আসলো দেড় ঘন্ট পর। ভাত খেলাম। এরপর নেটে বসলাম।ফেসবুক, সা.ইনে কিছুক্ষন ঘুরলাম।বিকেলে তোলা ছবিগুলো ফেসবুকে দিলাম।এরপর হঠাৎ করেই ইচ্ছে হল আজ কিছু লেখার।কিছুক্ষন ভাবলাম কী লিখবো....ঘড়িতে তখন দেখি ২টা বেজে ৭ মিনিট...এটা দিয়েই লেখা শুরু করে দিলাম...

এখন ৩টা ৪৫মি।

সকালে উঠতে হবে ৮টার আগেই। ইচ্ছে আছে ব্যাংকে যাব প্রথম ঘন্টাতেই। ২৯তম এর জন্য পে-অর্ডার করতে হবে। এরপর হাসপাতালে যাব। স্যারের সাথে কথা বলতে হবে আজ। স্যার কী বলবেন বুঝতে পারছিনা। দেখা যাক...

ঘুমানো দরকার।কিন্তু জানি ঘুম আসবেনা...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28941056 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28941056 2009-04-22 03:56:05
ছবি ব্লগ (কক্স'সবাজার)























সবশেষে সকলকে অনুরোধ,প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে কক্স'সবাজার ও সুন্দরবনকে ভোট দিন....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28937144 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28937144 2009-04-12 20:05:24
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও আমার একান্ত ভাবনা....
কিছুক্ষন আগেই প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিলেন। প্রথমে কিছুটা বিরক্ত ছিলাম, কিন্তু পরে তিনি যা বলেছেন তা আমার মনে হয়না কোন ভুল ছিল।এইঅবস্থায় এর থেকে বেশি কিছু আপাতত করা সম্ভব না।কেন না তা আমি আগেই ব্যাখ্যা করেছি। বিডিআর এর সকল দাবি সরকার পূর্ণ করবে এই আশ্বাস দেয়াছাড়া আর তেমন কিছুই করার নাই কারণ চাইলেই একদিনে বিডিআরকে নতুন কমান্ডের আওতায় আনা সম্ভব নয়। তাদেরকে চেইন অফ কমান্ড মেনে নিয়ে আপাতত সেনাবাহিনীর অধিনেই থাকতে হবে। আর তা যদি তারা না মানেন তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে বাধ্য। এবং তা যে কোথায় গিয়ে থেকবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন....।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি বিরোধীদলের আরও অংশগ্রহন আশা করলেও তা না দেখে হতাশ ।তবে সেই সাথে খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এই জন্য যে এখন পর্যন্ত তারা নেগেটিভ রাজনীতি করছেন না।

দেশের এই চরম পরিস্থিতিতে আমি মনে করি দেশের সকল জনগনকে বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরী ....

সেই সাথে সকলকে অনুরোধ , ঘোলা পানিতে যারা মাছ শিকারে নেমেছেন, তাদের চিহ্নিত করুন ও তাদের প্রতিরোধ করুন। মনে রাখবেন এরা দেশ প্রেমিক নয়, এরা ভন্ড ও প্রতারক......]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28916913 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28916913 2009-02-26 15:31:59
নতুনের মাঝে পুরনো অনুভূতির প্রকাশ কিংবা অন্যকিছু....

শুরুটা হয়েছিল অনাকাংখীত ঘটনার মাধ্যমে....কিন্তু শুরুটা অনিবার্যই ছিল....সব বাঁধা অতিক্রম করে আমার সেই কুয়াকাটা ভ্রমন আর ভোরের আলোতে সমুদ্রের বালুটতে গোঁড়ালি পানিতে দাঁড়িয়ে তোমাকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার মাঝে আমাদের শুরু.....এরপর আবার কিছু অনাকাংখীত ঘটনা....তোমার আমাকে খুঁজে ফেরা আর আমার তোমাকে....তোমাকে খুঁজে পাওয়ার সে সন্ধ্যা....এই ফেব্রুয়ারী মাসই ছিল.....সাদা-কালো জীবনটা আমার রঙিন হয়ে ওঠা....আনন্দের অনুভূতির নতুন রুপে বিমোহিত আমার প্রতিটা মুহূর্ত....তোমাকে কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কিংবা রাগ-অভিমানের বেদনার মাঝেও ভালবাসার গন্ধে পাগল আমার অশান্ত মন....কোন বাঁধাই আমার জন্য বাঁধা নয়.....মাথার ওপর ছাত্রত্ব থেকে বহি্স্কারের হুমকি কিংবা আদালতের খড়গ কোন কিছুতেই তখন আমার পাত্তা নেই....বিন্দুমাত্র দুঃচিন্তা নেই ২ মাস পরের ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার....কিছুতেই আমি বিচলিত নই,শুধু তোমার মলিন চেহারা ছাড়া....তোমাকে সান্তনা দেয়ার মাঝেই আমার খুঁজে নেয়া নিজের আত্মবিশ্বাস....জীবনের প্রতিটা সেকেন্ড আমার তখন আনন্দময়....উড়ছি আমি তখন নীল আকাশে....তোমার ভালবাসার শক্তিতে....এর মাঝে ছোট্ট ঝড়.....তোমার হারিয়ে যাওয়া.....এলোমেলো সব আমার....তোমার ভালবাসার শক্তিহীন আমার স্বর্গ থেকে পতন....তীব্র বেদনার প্রতিটা মুহূর্ত...অশান্ত রাতগুলো ......হারানো ভালবাসার খোঁজে পাগলপ্রায় আমার ছুটে বেড়ানো.....পাঁচটি বৎসর...কিভাবে কেঁটে গেল!!!...

আবার এই ফেব্রুয়ারী মাস...এবার মাটিতে আমি, জীবনের সাধারন আনন্দ খুঁজে বেড়ান আমি.....কিছু চাইনা,অনেক পেয়েছি...... শুধু চাই নির্মল আনন্দ, আর ছুড়ে ফেলতে সকল অতীত...এবার সেন্ট মার্টিন...নীল আকাশ আর সবুজ-নীল পানিতে ছুঁড়ে ফেলা আমার নীল বেদনা... নতুনকে বরণ করে নেয়ার ভয়...দ্বিধা...কিংবা অন্যকিছু...জানিনা কী সেটা...তবে আনন্দের নতুন রুপ দেখা,মনটাকে আবারো খুলে দেওয়া...সাগরের নির্মল বাতাসে উঁড়ে যাওয়া সকল কষ্টগুলো...তারমাঝে নতুনের হাতের ছোঁয়া,একসাথে হেঁটে বেড়ান,সাগরের হীম শীতল পানির স্পর্শের মাঝে দু’জনের অনুভুতিটাকে বোঝার চেষ্টা...প্রথম অনুভূতির সাথে নতুনের তুলনা...জানিনা কেমন সেটা...শুধু জানি...আমি মুক্ত...আমি মুক্ত...আমি মুক্ত...




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28907422 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28907422 2009-02-06 13:05:11
হোস্টেল জীবন, ছাত্র রাজনীতি ও স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প (গল্প নয় সত্যি......)
সন্ধ্যার পর নামাজ শেষে হোস্টেলের নিচের মামার দোকান থেকে ডিম-বন দিয়ে নাস্তা করে রুমে ফিরে এল রাফি। রুমে আসার সময়ই সে মনে মনে হিসেব করছিলো আর মাত্র ৪ দিন বাকি পরীক্ষার। আর তা ভাবতেই বুকের ভেতর একটা ভয়ার্ত শীতল ভাব আসলো। এটা নতুন নয়। এর আগেও বড় বড় পরীক্ষা ও প্রফের আগে সে এমন বোধ করতো। শুধু সেই নয়, কম-বেশী সবারই একই অনুভূতি হয়। এক এক জনের মুখের দিকে তাকালেই বেশ ভালভাবেই সেটা বুঝা যায়। রাফি রুমে ফিরে এসে দেখলো রুমমেটরা অলরেডি পড়তে বসে গেছে। নিজেকে সামলে নিতে সে খাটে এসে বসলো, আর মনে মনে নিজেকে মনে মনে বলতে লাগলো"YOU CAN DO IT...YOU HAVE TO DO IT";সাথে সাথে সে ভাবতে লাগলো এবার পাশ করলেই গত ৫ বৎসরের সকল কষ্ট আর পরিশ্রমের ফল সে পাবে....পূর্ণ হবে নিজের ও বাবা-মা, ভাই-বোনের স্বপ্ন.....পাশের রেজাল্ট নিয়ে সে বাসায় ফিরবে নবীন চিকিৎসক হিসেবে.....এরপর তার বাসার আনন্দময় পরিবেশটার কথা ভাবতেই রাফির মনটা অনেকটা হালকা হয়ে এলো, মনের মাঝে একটি অজানা শক্তি নাড়া দিয়ে উঠলো....ওকে পারতেই হবে....গত ২ মাস ধরে এভাবেই সে নিজেকে সামলেছে, সকল মানসিক চাপকে সে মোকাবেলা করেছে,নিজেকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছে।এরপর রাফি পড়তে বসলো....

একটানা পৌনে ১০টা পর্যন্ত পড়ে রাফি নামাজ ও রাতের খাবারের জন্য একটা ব্রেক নেয়। এর পর রুমে এসে আরও ১৫ রেস্ট; এসময়টা সে বিছানায় শুয়ে থাকে চোখ বন্ধ করে, সারা রাত পড়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়ার জন্য এই সময় বরাদ্ধ। আজও সে একই নিয়েমে শুয়ে আছে কিছুক্ষণ হলো। তার রুমমেটরা ২জন রুমে , পড়তে বসবে বসবে এমন অবস্থা; আর একজন(অপু) এখনো রুমে আসেনি, সে গিয়েছে লেডিস হোস্টেলে, তার মেয়ে বন্ধুর সাথে এই সময় ৩০ মিনিট না কাটালে সারা রাতের পড়াই মাটি...। এর মাঝেই রাফি তার রুমের সামনে অনেক গুলো পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলো, সাথে কিছুটা উচ্চস্বরের কথা বার্তা। চোখ বুঝেই সে বোঝার চেষ্টা করলো এই পরীক্ষার আগে এখন আবার কাদের আগমন? পরীক্ষার আগে সাধারনত কেউ পরীক্ষার্থীদের রুমে কেউ ডিস্টার্ব করেনা। তবে মাঝে মাঝে পরীক্ষার্থীরা নিজেরাই হঠাৎ করে ৩/৪ জন এক হয়ে মজা করার জন্য ও কিছুটা মানসিক চাপ কমানোর জন্য একজন আর একজনের রুমের কলস (যাতে বুয়ারা খাবার পানি দিয়ে যায়) ভাঙ্গে। একটা ভাঙ্গা শুরু হলেই সেই ইয়ারের সব কলস ১৫-২০ মিনিটেড় মধ্যে ভাঙ্গা সারা হয়ে যায়; এই ১৫-২০ মিনিট বেশ হাউ-কাউ আর মজা হয়। এটাই পরীক্ষার আগের রাতের এন্টারটেইনমেন্ট। আজও কি সে রকম কিছু হচ্ছে নাকি?রাফি বুঝার চেষ্টা করলো আসল অবস্থাটা কী।কিন্তু আজ সে সেরকম আভাস পাচ্ছেনা। কারা যেন রাগত স্বরে চিল্লা-পাল্লা করছে, এর মাঝেই সে তার নাম শুনতে পারলো। কী হচ্ছে এসব? সে উঠে বসলো। দেখলো তার রুম মেট ২ জন রুমে নেই, তাদের গলার আওয়াজ সে শুনতে পেল রুমের সামনের করিডরে, সাথে তাদের আরও একজন ইয়ার মেট বন্ধুর গলাও সে শুনতে পেলো....মারুফ....কলেজের বর্তমান সংসদের ভি.পি সে; ইয়ার মেট হিসেবে তার সাথে ভাল সম্পর্ক রাফির।কিন্তু আজ মারুফের উচ্চস্বর তার কাছে অন্যরকম মনে হলো। কী হলো ভাবতে ভাবতে রাফি রুম থেকে বের হয়ে করিডরে এলো....

১৫-২০ জনের জটলা করিডরে, ইয়ারমেট আছে ২/৪ জন, বাকি সবাই বিভিন্ন ইয়ারের জুনিয়র। প্রায় সবার হাতেই ডাইনিংয়ের রান্না ঘরের চলা কাঠ।এদের মাঝে অনেকের সাথেই রাফির ভাল সম্পর্ক;অনেককেই সে বিভিন্ন সময় পড়াশুনা ও অন্যান্য বিষয়ে সাহায্য করেছে, একনকি অনেকেই প্রথম ক্যাম্পাসে এসে রাফির রুমে থেকেছে, তার বেডে ঘুমিয়েছে। যাইহোক, রাফি করিডরে আসতেই ওকে মারুফ সহ অন্যান্যরা ওকে ঘিরে ধরলো...ওর রুম মেট ২ জনকে অন্যান্যরা চলে যেতে বলল, কিন্তু তারা না গিয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভাবে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে....রাফি বুঝতে পারছিলোনা কী করবে.....। জুনিয়ররা এর মাঝেই রাফির ১৪ পুরুষ নিয়ে গালাগালি শুরু করে দিয়েছে।আর মারুফ হঠাৎ করেই কিছু বুঝে উঠার আগেই রাফির শার্টের কলার চেপে ধরে এক্টা ঘুসি দিয়ে বলে উঠে “ খাঙ্কির পো তুই ছাত্রলীগ করস!!!???তুই জানস না দেশে এখনো আমরা ক্ষমতায়???ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ করা নিষিদ্ধ তুই জানস না???” রাফি বলতে শুরু করে “কেন? আমরা ছাত্রলীগ করি এটা তো নতুন না, কিন্তু আজ কী হলো......?” কিন্তু রাফির কথা শেষ হবার আগেই শুরু হয়ে যায় সবার সম্মিলিত আক্রমন...একের পর এক ঘুসি,চড়,থাপ্পর আর চলার বারি পরতে থাকে রাফির শরীরে...সাথে সাথে ভেসে আসতে কানে থাকে বিভিন্ন বাণী “ মাগির পুতের সাহস কত ছাত্রলীগ করে !!! ওর নেত্রীরে গ্রেনেড মারছি এরপরও এইগুলার তেজ কমে নায়!!! আজকে ওরে শেষ কইরা দিমু, দেখমু ওর কোন আব্বা আজকে ওরে বাঁচায়... অর নেত্রীরে আমরা ......” রাফি বুঝতে পারেনা কোন দিক সামলাবে, একদিক ঠেকাতে গেলে অন্যদিক থেকে একের পর এক আঘাত আসতে থাকে ...আর চোখের সামনে উঠে আসে ক্ষমতার দাপটে মত্ত একের পর এক পরিচিত মুখের বিভৎস রুপ । এভাবেই মারতে মারতে রাফিকে ওরা নিয়ে যায় হোস্টেলের নীচ তলায় পিছনের ব্লকের একটি রুমে......যাওয়ার পথে রাফি দেখে চারদিকের অসংখ্য নিরীহ ছাত্রের কাতর চোখ তাকে দেখছে......।


নীচ তলার এই রুমটা পরিত্যক্ত... কেউই এখানে থাকেনা...আসলে থাকার মত কোন পরিবেশই নেই এই রুমের...আবছা অন্ধকার ও স্যাত স্যাতে রুমে রাফিকে নিয়ে ঢুকে মারুফ, সাথে তাদের ইয়ারমেট আরো ৩ জন ( সুমন, মামুন আর শিবিরের আহাদ)। জুনিয়ররা থেকে যায় রুমের বাহিরে, কিন্তু তাদের উচ্চস্বরের গালাগালি ও হাসাহাসি শুনতে পায় রাফি। মারুফ রুমে ঢুকেই বন্ধ করে দেয় দরজা... এরপর ৪ জন মিলে রুমে আগেই রক্ষিত ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটাতে শুরু করে আবার...রাফির শরীর অবশ হয়ে আসে...কোন বোধই ওর আর নেই...নেই দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা...রাফি পরে যায় ফ্লোরে...কিন্তু থামেনা ওদের আঘাত ও বানী “শুয়োরের বাচ্চার সাহস কত ক্যম্পাসে ছাত্রলীগের মিছিল করে!!! ওর নেত্রীরে গ্রেনেড দিয়া উড়াইয়া দিতে পারি আর এই বাঞ্চোতগুলা মিছিল মারায়...তোর নেত্রীরে আমরা......” এইঅবস্থা কতক্ষন চলে রাফি আর জানে না...সে জ্ঞান হারায়...

জ্ঞান হারানোর আগে একটি কথাই শুধু রাফির মনে পরে, এই কী সেই মারুফ যার মৃত্যুপথযাত্রী মা এর জন্য মাত্র ২ মাস আগেই রাফি নিজের ১ ব্যাগ রক্ত দিয়েছে...
রাফির জ্ঞান ফিরে পরদিন দুপুরে...সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে সে নিজেকে খুজে পেল সেই রুমের মেঝেতে...রুমের কোনার তাকিয়ে সে দেখতে পেল তার রুমমেট অপু নিজের বা হাত কোলে নিয়ে বসে আছে...। রাফি বুঝতে পারলো অপুকেও ওরা গতকাল রাত্রে ক্যাম্পাস থেকে ধরে একই ভাবে পিটিয়ে নিয়ে এসেছে......অপুর বা হাতটা ভেঙ্গে গেছে সেটাও সে বুঝতে পারলো...। প্রচন্ড ব্যাথা আর ক্ষোভে এই প্রথম রাফির চোখ দিয়ে পানি এসে গেলো...একই সাথে সে দেখলো অপুর চোখেও পানি...২জনই লজ্জা আর ক্ষোভে চোখ ফিরিয়ে নিলো একজন আর একজন থেকে...

পরদিন দুপুরে রাফি আর অপুর বাবা ঢাকা থেকে এসে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। এজন্য তাদের মারুফকে ১০ হাজার করে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়।কলেজের প্রিন্সিপাল ও লোকাল প্রসাশন থেকে তারা কোন সাহায্যই পাননি, বরং বিভিন্নভাবে তাদের অপদস্ত করা হয়।


ঢাকা এসে রাফি জানতে পারে অপুকে ওরা ধরে নিয়ে আসে তার মেয়ে বন্ধুর পাশ থেকে...এবং ওরা শুধু অপুর হাত ই ভেঙ্গে দেয়নি, মারুফ সিগারেট দিয়ে পুরিয়ে দেয় অপুর চেহারা ও হাতের বিভিন্ন অংশ। অপুর ভাঙ্গা হাতের জন্য অপারেশন করতে হয়, লাগাতে হয় স্ক্র-প্লেট। ২ মাস তাকে হাস্পাতালে থাকতে হয়। রাফিকেও তা থেথলে যাওয়া মাংসপেশীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকতে হয় ১০ দিন...বাসায় বিছানায় থাকে রাফি ১ মাস...।


সেটা ২০০৪ সালের আগস্ট মাসের ২৭ তারিখের ঘটনা।১লা সেপ্টেম্বর ছিল তাদের ফাইনাল পরীক্ষা। সেবার আর তাদের পরীক্ষা দেয়া হয়নি। পরেরবার জানুয়ারী সেশনে তারা পরীক্ষা দেয়। তবে সে জন্য তাদের মারুফকে আবারো টাকা দিতে হয়...আর করতে হয় অনেক কিছু , যা বলার মত না...।

আজ ২০০৯ সালের ১৪ই জানুয়ারী। মারুফকে খুজে পাওয়া যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
রাফি, অপুর জুনিয়ররা মারুফকে খুজে পেয়ে খবর দেয় তাদের; আর মারুফকে রিকশায় করে নিয়ে আসে পি.জি হাসপাতালের হোস্টেলে...সেখানে এসে উপস্থিত হয় রাফি ও অপু...। মারুফ তাকায় না ওদের দিকে ...অপু চুপ...রাফিও চুপ...

রাফি পরে শুধু একটি কথাই মারুফকে জিজ্ঞেস করে, “তুই কিভাবে পারলি এমন করতে!!!???আমি তোর মা’র জন্য রক্ত দিলাম , আর সেই তুই কিনা আমার সাথে...” আর বলতে পারে না কিছু রাফি...

এরপর...আপনারাই বলুন এই মারুফকে কী করা উচিত???

***১.মারুফ এর মাঝে একটি ছিনতাই মামলায় আড়াই বৎসর জেলে ছিল, মাত্র ৬ মাস আগে সে ছাড়া পায়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28897817 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28897817 2009-01-15 14:29:03
চাঁদের হাট..... <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> (ছবি ব্লগ)









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28896218 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28896218 2009-01-12 01:39:32
ছবি ব্লগ ......বাংলাদেশের পতাকা অগোছাল জীবন এর কিছু ছবি তুলে ব্লগে দিলাম। এরপর কী তুলবো কী তুলবো করতে করতে হঠাৎই আমার বাসার সামনে খুজে পেলাম বাংলাদেশের একটি উড়ন্ত পতাকা। অনেক সময় নিয়ে বেশ কিছু ছবি তুললাম। সেই ছবি গুলোর মাঝের কিছু ছবি দিলাম .......








*** বাংলাদেশের পতাকা ....পিছনে কী দেশের প্রকৃত অবস্থা!!!!????

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28895971 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28895971 2009-01-11 15:44:27
আমার অগোছাল জীবন.......














*** কেউ বিরক্ত হলে দুঃখিত; মাইনাস দিয়েন, কোন সমস্যা নাই,তয় আওয়াজ দিয়া দিয়েন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28895949 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28895949 2009-01-11 14:34:18
অতঃপর আমি সাধারন ...<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_26.gif" width="23" height="22" alt=":-*" style="border:0;" /> এই( ছাগু মাতারির পো ...) পোস্ট দেই । এই পোস্টে আমার একটি জিজ্ঞাসা ছিলো ছাগুভুজের প্রতি,তাহার উত্তর তিনি প্রদান করেন নাই,বরং তাহার নিকফ্যাক্টরির কোন প্রডাক্ট ব্যবহার করে এখটি মূল্যবান মাইনাস প্রদান করেছিলেন এবং সেই সাথে রিপোর্টও করেছিলেন। আজ রাত্রিবেলা নেটে এসে দেখলাম আমি নিরাপদ থেকে সাধারনে পরিনত হয়েছি।

আজ তাই আমি সাধারন ...)<img src=" style="border:0;" />:-*
হেহেহেহে

এখন আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গলা ফাটিয়ে ভূপেন হাজারিকার গান গাচ্ছি....আমি এক যাযাবর...ওহ!!! থুক্কু, আমি এক সাধারন ....

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28890752 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28890752 2008-12-31 02:28:32
ছাগু মাতারির পো ...
তুই আপাতত অফ যা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28890266 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28890266 2008-12-30 09:27:49
আইনমন্ত্রী মুদুদের আইন ব্যবসা


জোড়া খুনের মামলার মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত ও ২২ বৎসর পলাতক আসামীকে মাত্র ১০ দিনের মাথায় যেভাবে মওদুদের প্রভাবে ক্ষমা প্রাপ্ত হয় তাকে কী ক্ষমা করা যায়?

আইনকে বূড়ো আঙ্গুল দেখানো এই মওদুদ ও বিএনপি-জামাতের কাছে তাদের দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীরা নিরাপদ, সাধারন মানুষ আমরা নই।

আপনার বিবেক কি বলে এবারো আপনি এদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28887779 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28887779 2008-12-25 15:34:09
বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনের ৫ বৎসর



এই ধরনের কর্মকান্ড যারা করেছে,তাদের কি ক্ষমা করা যায়? তাদের ্কি আপনি আবারও ভোট দিবেন????


আপনার বিবেক কী তা সায় দিবে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28887735 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28887735 2008-12-25 13:11:35
ফিরে দেখুন ২১শে আগস্ট ২০০৪

বিএনপি-জামাত জোটের দুঃশাসনের ৫ বৎসরের অসখ্য বোমাবাজি ও হত্যার অন্যতম বিভৎস নমুনা এই ২১শে আগস্ট ২০০৪। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে এমন নরকীয় গ্রেনেড হামলা চালাতে পারে ,তাদের কাছে দেশের সাধারন জনগণ কতটা নিরাপদ!!!???

সেদিন যারা এই পৈচাশিকতার শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন কিংবা আহত হয়েছেন,চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন তারা আমাদের মতই মানুষ, আমাদেরই কাছের কেউ। আপনি কী পারবেন এই ধরনের বোমাবাজি ও হত্যার সাথে জড়িত কাউকে ক্ষমা করতে? পারবেন আবারও তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে?

এই রক্ত পিপাসু জানোয়ারদের প্রতিহত করুন ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28887555 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28887555 2008-12-25 01:13:59
Yor Are So Dear....YouTube video....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28887076 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28887076 2008-12-24 02:52:48
You Are So Dear.....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28886531 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28886531 2008-12-23 02:39:19
খালেদ মাহমুদের শাস্তি চাই (সাময়িক)
আমি এইরকম মিথ্যা প্রচারণা ও জানোয়ার স্বরুপ আচরনের তীব্র প্রতিবাদ জানাই ও তার যথাযোগ্য শাস্তি চাই।
শূকরের আস্ফালন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28885277 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28885277 2008-12-20 16:02:50
আমি বিজয় দেখিনি ...
কিন্তু যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, পড়তে শিখেছি , যখনই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যা কিছু পড়েছি, বা নাটক কিংবা চলচিত্র দেখেছি, আমি আমার ভিতরে অনুভব করেছি সকল অনুভূতি ... নিজেকে আমি খুজে পেয়েছি ৭ কোটি বাঙ্গালীর মাঝে, স্বজন হারানো বেদনার্ত মানুষের মাঝে কিংবা প্রিয় মানুষের জন্য একবুক ভালবাসা নিয়ে অপেক্ষায় থাকা কেউ হিসেবে; নিজেকে খুজে পেয়েছি আমি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর মোকাবেলায় কিংবা বিজয়ের মিছিলে ... আমি অনুভব করেছি নিজের পরিচয় ও দেশ ফিরে পাওয়ার আনন্দ ...আমি চিনতে পেরেছি আমি বাংগালী, বাংলা আমার ভাষা, আর বাংলাদেশ আমার দেশ।


জয় বাংলা


সবাইকে বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28883035 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28883035 2008-12-16 02:31:48
চাচামিঞাকে প্রথম পাতার ব্যান মুক্ত চাই(সাময়িক পোস্ট) কেন আমি তা চাইছি তার কারন View this link পোস্টটি। ব্যান থাকার কারনে অনেকেই এই পোস্টটি পরতে পারেনি। আমারও চোখে পরেনি। কিন্তু ব্লগার ইউসুফের পোস্টের মাধ্যমে পোস্টটির সন্ধান পাই।
ধন্যবাদ ইউসুফ, আপনি আপনার পোস্টটের মাধ্যমে না জানালে হয়তো এমন একটি মর্মস্পর্ষী লেখা আমাদের চোখে এড়িয়ে যেত, যা কোন দিনও কাম্য নয়।

আমি আবারও মডারেটর কে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28878205 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28878205 2008-12-04 16:35:17
Battle At Kruge ( ভিডিও পোস্ট, না দেখলে মিস!!! রিপোস্ট)



জলে কুমীর,ডাঙ্গায় সিংহ ...একদম আমাদের মত অবস্থা।
এই বাফেলো গুলো থেকে মনে হয় আমাদের কিছু শেখার আছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28875828 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28875828 2008-11-29 17:10:46
Battle At Kruge ( ভিডিও পোস্ট, না দেখলে মিস)



জলে কুমীর,ডাঙ্গায় সিংহ ...একদম আমাদের মত অবস্থা।
এই বাফেলো গুলো থেকে মনে হয় আমাদের কিছু শেখার আছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28875781 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28875781 2008-11-29 15:02:36
এবার আমরা কোথায় যাব? অভিযোগপত্র দাখিলের পরও খুনের আসামীদের আগাম জামিন দিয়েছন বিচারপিত চাকলাদারের বেঞ্চ।" প্রথম আলোতে এই নিউজটি পড়ে আমার মাথায় আর কিছুই ঢুকছেনা; শুধুই ভাবছি এখন আমরা কোথায় যাব বিচারের জন্য? বিস্তারিত নিজেরাই পড়ুন । আমি আর কিছু বলতে পারছিনা।
৬৩ সেকেন্ডে ১ টি আদেশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28866582 http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvsb/28866582 2008-11-09 03:37:08