কয়েকদিন আগে বই বের করার টিপস নিয়ে লিখেছিলাম। সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমনের মন্তব্যের জবাবে আমার নতুন পোস্ট:
কবিতার বই বের করা একটু কঠিন। আমি সেই কাঠিন্যকেও জয় করেছি। আমার ৫টি কবিতার বই বেরিয়েছে, কিন্তু গাঁটের একটি টাকাও খরচ করতে হয়নি।
১৯৯৪ সালে বিশাকা প্রকাশনী নামে একটি প্রতিষ্ঠান বইমেলায় এল কেবল কবিতার বই প্রকাশনার অঙ্গীকার নিয়। সিকদার আমিনুল হক, মারুফ রায়হান, মিনার মনসুরের কবিতার বই এবং আবদুশ শহীদ সম্পাদিত একটি সংকলন নিয়ে তাঁর স্টল খুলল। প্রায় প্রতিদিন ঘুরতে ঘুরতে একটি পরিচয় হল মালিক শাহজাহান বাচ্চুর সঙ্গে। পরে তাঁর স্ত্রী কানন জাহান এবং মেয়ে বিপাশা জাহানের সঙ্গেও। আমি তাঁদেরকে আমার পূর্বপ্রকাশিত ছড়ার বই উপহার দিই এবং সুকুমার বড়ুয়ার একটি ছড়ার বই বের করার প্রস্তাব দিই। সুকুমার বড়ুয়ার নতুন ছড়ার বই প্রায় দশ-বারো বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে না দেখে নিজের তাগিদেই এই প্রস্তাব দিই। তিনি দুয়েকদিন পরে বলেন, আপনার রাজনৈতিক ছড়াগুলো আমার ভালো লেগেছে। আপনার এবং সুকুমার বড়ুয়ার দুইজনের বই-ই আগামী বছর করব- কথা দিচ্ছি। আমি বাচ্চুভাইকে বলি, আমার তো কবিবতার বই বের করার ইচ্ছে রয়েছে। তিনি বলেন, সিকদার আমিনুল হকের মতো বড় কবির বই-ই বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১০ কপি। তাই তরুণদের কবিতার ব্ই নিয়ে ঝুঁকি বাড়াতে চাই না। আমি বাস্তবতা অনুবাধন করে কবিতার বই প্রকাশে বিরত থাকি। তবে পরের বছরের জন্য তুলে দিই আমার 'চারকাবুড়ি ওড়ায় ঘুড়ি' নামের পাণ্ডুলিপি এবং সুকুমার বড়ুয়ার পাণ্ডুলিপি কিছু না কিছু'। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৫ সালে বই হয়ে বেরোয়। মেলায় বিশাকার স্টলে আড্ডা দিই প্রায় প্রতিদিন। ২/১ খানা করে বিক্র হয়। আড্ডাচ্ছলে বাচ্চু ভাই বলে ফেলেন, আপনার ছড়ার বই যদি ১০০ কপি বিক্রি হয়, তবে আগামী বছর কবিতার বই বের করব- কথা দিচ্ছি। 'ভাগ্য ভালো' আমার। ১২০কপির মতো বিক্রি হয়। অতএব পরের বছর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বের হয় আমার প্রথম কবিতার বই 'কেতকীর প্রতি পক্ষপাত'। এই সময়েই বাংলা একাডেমী তরুণ লেখক প্রকল্পে অংশ নিই। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে বাংলঅ একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয় আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ এবং চতুর্থ মৌলিক গ্রন্থ 'শ্মশানেই শুনি শঙ্খধ্বনি'। ২০০৩ সালে বাচ্চুভাইয়ের কাছে যাই আমার প্রথম বইয়ের কিছু কপির সন্ধানে। তিনি জানালেন,' আরে ভাই বেইচা ফেলাইছি। গায়ের দামতো ৩০টাকা। ১৫টাকা ২০টাকা যার কাছে যা পাইছি, বেইচা ফেলাইছি। নতুন বই করার প্রস্তাব নিয়া আইলেই বই ধরাইয়া দেই।' আমি তাঁর আঞ্চলিক ও ফুল্ল উচ্চারণে এই সংবাদের পরে বলি, 'তাইলে তো দ্বিতীয় সংস্করণ বাইর করন লাগে। কী কন?'
বাচ্চভাই আরেককাঠি এগিয়ে গিয়ে জবাব দেন, পাঠক তো সীমিত। একবই একজনের কাছে দুইবার বেচুম কেমনে? আপনি নতুন বই দেন।' আমি মওকা পেয়ে তুলে ধরি নতুন পাণ্ডুলিপি 'অন্তহীন ক্ষতের গভীরে'। পরের বছর বই হয়ে বেরোয় যথারীতি। কিন্তু বাচ্চুভাইকে ধন্যবাদ আমার তিনটে বইয়ের প্রকাশ। কিন্তু একটি টাকাও দিতে হয়নি। তবে ওখানেই দেখেছি অনেক খ্যাতিমান' লেখককেও গাঁটের টাকা দিয়ে বই ছাপিয়ে সকল কপি বাড়িতে বয়ে নিয়ে যেতে। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। আমার ভাগ্যের কথা লিখে রাখলাম এখানে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

