আমার প্রিয় পোস্ট
- চলচ্চিত্রের সংকট নিরসনের উপায় - তপন বাগচী
- বিল বাঘিয়ার ঐতিহ্য ফিরে আসুক ্্ তপন বাগচী - তপন বাগচী
- শতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি ।। আ.ন.ম. বজলুর রশীদ : রবীন্দ্রানুসারী কবির রবীন্দ্রবিবেচনা - তপন বাগচী
- উপসংহারে একা একা/দেশভাগ ও অতঃপর বাংলাদেশ ।(2) - বন্ধন
- চাণক্য-শ্লোক : কে ছিলেন চাণক্য? - মো. আবুল হোসেন, শিবচর, মাদারিপুর
- একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট রিভার্সিং: একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা - তর্পন
- আমার প্রিয় পোস্ট : মলয় রায়চৌধুরী'র কবিতা প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার - নৃপ অনুপ
- হরিচাঁদ ঠাকুরের দ্বাদশ আজ্ঞা - ইমন জুবায়ের
- “বাংলা ব্লগ দিবস” উদযাপনে সকলকে আমন্ত্রণ - নোটিশবোর্ড
- তপন বাগচীর একখানি ছড়া - তপন বাগচী
- কবিতার কৃত্য - রায়হান রাইন
- মুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁও, পর্ব ২ (একটি কথ্য ইতিহাস) - মাহবুব সুমন
- ২০০৮ : সামহোয়্যারইন ব্লগের বর্ষসেরা কবিতা (ব্লগারদের মনোনয়ন) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- ২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-১২ : একটি বিশেষ ঘোষণা) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও কমরেড মণি সিংহ - তপন বাগচী
তপন বাগচী'র সোমবারের গল্প
১৬ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:১৪
সোমবারের গল্প
তপন বাগচী
এক দেশে এক রাজা ছিলেন। প্রজাদের মঙ্গল কামনায় তিনি সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতেন। তাঁর রাজ্যে ছিল এক তীর্থস্থান। সেখানে ছিল এক শিবমন্দির। রাজ্যের লোক সেই স্থানে আসতেন পুণ্যার্থীরা।
তীর্থস্থানে ছিল একটি দিঘি। সেই দিঘির জল একসময় শুকিয়ে যায়। জল ছাড়া কি দিঘি হয়! রাজা চাইলে সেই দিঘি শুধু জল কেন, দুধ দিয়েই তো পূর্ণ করা যায়! এখন কীভাবে এই কাজটি করা যায়, তাই নিয়ে তাঁর দিনরাত ভাবনা। একরাতে তিনি স্বপ্ন দেখেন, শিব ঠাকুর তার কাছে এসে বলছেন,
‘কী আর অত ভাবনা করিস
হয়ে দেশের রাজা
মন দিয়ে শোন্, এখন আমি
বলছি তোরে যা-যা।
দেশের সকল প্রজার কাছে
করিস দাবি যদি
এক ঘড়া দুধ পেলেই দেখিস
বইবে দুধের নদী’।
ঘুম থেকে ধড়ফড় করে রাজা বিছানার উপর উঠে বসেন। এক গ্লাস জল খান। তারপর মন্ত্রীকে ডেকে বলেন,
‘রাজ্য জুড়ে পাঠাও খবর
যেথায় যত প্রজা
করতে হবে একখানি কাজ
সরল এবং সোজা
বইতে হবে সবার কাঁধে
একটুখানি বোঝা।
আনতে হবে সবটুকু দুধ
না দিয়ে ‘মিল-গোঁজা’
সবার সে দুধ ঢালতে হবে
দিঘির শুকনো বুকে
তাতেই দিঘি ভরবে জলে
হাসবে সবাই সুখে।’
মন্ত্রী সারা রাজ্যে ঢ্যারা পিটিয়ে জানিয়ে দেয় রাজের এই আদেশ। রাজার আদেশ অমান্য করার সাধ্য কারো নেই। ঘরের সকল দুধ দিয়ে যদি রাজার আদেশ পালন করা যায়, তাতে আর কষ্ট কী!
কয়েকদিন পরে এক শুভদিন দেখে প্রজারা দিঘিতে দুধ ঢালার আয়োজন করে। নির্ধারিত দিনে সকল প্রজা ঘরের সকল দুধ নিয়ে আসে এবং এক এক করে ওই দুধ দিঘিতে ঢালে। তারপর সকলে বাড়ি ফিরে যায়।
কিন্তু পরের দিন দেখা গেল, দিঘিতে একটুও জল জমেনি। রাজা অবাক! সবাই অবাক! কী হলো, কী হলো! রাজা ভেবে পায় না। তাই আবারও দুধ ঢালার আদেশ দিলেন। প্রজারা রাজার আদেশ মেনে সাতদিন পরে আবারও দুধ ঢালেন। কিন্তু অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয় না। রাজা চিন্তায় পড়েন। সমস্যা সামাধানের নতুন কোনো উপায় বের করার চেষ্টা করেন।
একদিন এক বুড়ি ওই মন্দিরে আসে। সঙ্গে তার তিনটি নাতি। বুড়ি নাতনিদের নিয়ে মন্দিরে এসে দিঘিতে গিয়ে দেখে জল নেই। তখন সে তার হাতের ঘড়া থেকে এক ফোঁটা দুধ দিঘিতে ছিটিয়ে দেয়। ধান আর দূর্বা দিয়ে শিবের উদ্দেশে পূজা দেয়। সে শিব ঠাকুরে উদ্দেশ্য করে বলে,
‘আমি তো আর রাজার মতো
ধনে বড় নই
হাজার ঘড়া দুধের নহর
পাব আমি কই?
কিন্তু আমি এক ফোঁটা দুধ
দিলাম হৃদয় থেকে
তুমি ছাড়া কে আছে আর
আপন করে দেখে!
ডাকছি আমি দুহাত তুলে
তোমার দয়া হলে
রাজার দিঘি পূর্ণ হবে
কানায় কানায় জলে।’
শিবের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে বুড়ি তার নাতনিদের নিয়ে পূর্ব দিকে মুখ করে বসে চোখ বুঁজে থাকে। কিছুক্ষণ পরে দেখা যায় দিঘিটা দুধে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন বুড়ি তার নাতনিদের নিয়ে দিঘিতে নেমে স্নান করে। তারপর মন্দিরে প্রণাম করে বাড়ি ফিরে যায়।
দুধে ভরা দিঘি দেখে এক ব্যক্তি রাজাকে খবর দেয়। রাজা দিঘির পাড়ে আসে। কিন্তু ততক্ষণে দিঘি আবার খালি হয়ে গেছে। কীভাবে এটি হলো তা কেউ বুঝতে পারে না। রাজা এই রহস্য বোঝার জন্য এক প্রহরী নিয়োগ করে। প্রহরী দেখে ঠিক সাতদিন পরে আবার একদিন দিঘি দুধে পূর্ণ হয় এবং কিছুক্ষণ পরে তা খালি হয়ে যায়। কিন্তু কীভাবে হলো, তা সে বুঝতে পারে না।
এরপর রাজা নিজে লুকিয়ে থাকে দিঘির পাড়ে। সাতদিন পরে বুড়ি তার তিন নাতনিকে নিয়ে আবার আসে। তারপর একই নিয়মে পূজা করে। দিঘি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজা দৌড়ে গিয়ে বুড়ির ধরে ফেলে। বুড়িকে তার আসল পরিচয় জানতে চান। কীভাবে সে দিঘি দুধ দিয়ে ভরিয় তোলে, সেই রহস্য জানতে চান। বুড়ি রাজাকে বলে,
‘রাজা হয়ে প্রজার কাছে চাইছ সকল দুধ
কিন্তু তাদের ছেলে মেয়ে কেমন করে খাবে?
কচি কচি বাছুরগুলো কাঁদছে ভীষণ খিদেয়
তাদের খাবার কেড়ে নিলে কেমনে সুফল পাবে?’
রাজা তার ভুল বুঝতে পারেন। তাই তো? কচি কচি শিশুদের জন্য দুধ তো রাখা উচিত ছিল! দুধের বাছুরদের জন্য তো দুধ রাখা উচিত ছিল! শিশুদের আর বাছুরদের বঞ্চিত করার জন্য কেউ তো খুশি মনে দুধ দেয় নি। রাজার আদেশ মেনে নিতেই কেবল দুধ দিয়েছে। আর তাছাড়া তারা দুধ ঢেলেছে কিন্তু শিবের কাছে পূজা দেয়নি। তাই শিব তাদের মনোবঞ্ছা পূরণ করেনি।
রাজা ঘোষণা দিলেন সাত দিন পরে আবার সবাইকে দুধ নিয়ে আসতে হবে। তবে এবার সমস্ত দুধ নয়। শিশু এবং বাছুরদের জন্য প্রয়োজনীয় দুধটুকু রেখে বাকিটুকু নিয়ে আসতে হবে।
প্রজারা এবার খুশি। শিশুদের আর কাঁদাতে হবে না। বাছুরগুলো আর হাম্বা রব তুলে কাঁদবে না। প্রজারা খুশি মনে দুধ নিয়ে নির্ধারিত দিনে দিঘির পাড়ে আসে। সকলে একে একে দুধ ঢালে দিঘিতে। তারপর দিঘির পাড়ে বসে ধান আর দূর্বা দিয়ে পূজা করে। তারপর দিঘি জলে পূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজা খুশি হয়ে বুড়ি ও তার নাতনিদের অনেক উপহার দেয়। আর প্রজাদের ডেকে ঘটা করে শিবের পূজার আয়োজন করে।
সপ্তাহের যে দিনটাতে এই দুধ দেয়া আর শিবের পূজা দেয়ার ঘটনা হয়েছে, সেই দিনটার নাম রাখা হয় শিবের নামে। সেদিন ছিল সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন। শিবের এক নাম সোম। তাই দিনটির নাম রাখা হলো সোমবার। সোম অর্থ চন্দ্র চন্দ্র বা তীর্থ। শ্রীকৃষ্ণের অন্ত্য বা শেষ লীলাক্ষেত্রকেও সোমতীর্থ বলা হয়। সোমের দেবতাকে বলা হয় নাথ বা সোমেশ্বর বা শিব। দিনটির নাম তাই সোমবার। ইংরেজিতে সোমবার বা চন্দ্রবারের অর্থ মুন’স ডে বা মনডে। এইভাবে সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনটির নাম সোমবার হয়ে ওঠে।
শিব ঠাকুরের ব্রত থেকেই
পেয়েছি সোমবার
শিবের পূজায় সব পাওয়া যায়
নাই ভাবনা আর।
আজ থেকে ভাই শুরু করো
শিবঠাকুরে ব্রত
শুকনো দিঘি পূরণ হবে
নাই ভাবনা অত!
সোমবারের ওই সোম হলো ভাই
শিব ঠাবুরের নাম
ব্রত পালন করলে সবার
পূরবে মনষ্কাম।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ইচ্ছেকথন বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ ভাই। আমি একটি বই করব। রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ হয়ে গেছে। শুক্র লিখছি। বৃহস্পতি মাথায় আসছে না। শনি নিয়ে এখনো ভাবিনি।
আর হ্যাঁ বইয়ের নাম ভেবেছিলাম-
'সাতবারের সাতকাহন'
'সাতদিনের সাতকাহন'
'সাতদিনের বারকাহন'
আপনাকে ধন্যবাদ। তবে মহান লেখক বলায় বিব্রত করছি। জীবিত কাউকে মহান লেখক বলার সাহস পাই না। কারণ এখনো কত জীবন পড়ে আছে। পদস্খলন হতে কতক্ষণ? দোয়া করবেন।
সেলিনা শিরীন শিকদার বলেছেন:
এটা তো দেখছি ব্রতকথা'র পুনঃকথন। শুধু দেবতার স্তুতি দেবতাকে সুখী করে না। দেবতা তাঁর সামান্য ডাকেই সাড়া দেন যিনি অন্য মানুষ ও প্রাণের কথা ভাবেন। বিবেচনায় রাখেন। আপনার বর্ণিত ব্রতকথার মরাল চমৎকার। আমার খুব ভালো লেগেছে।
বাংলার গ্রামে গঞ্জে এমন অনেক ব্রতকথা , পূজা পার্বণ দেবতার পাঁচালী ইত্যাদি রয়েছে। এই সবই লোকসাহিত্যের সম্ভার। লোকসাহিত্যের এই দিকটি নিয়ে নতুন আঙিকে কাজ এর আগে চোখে পড়েনি। আপনার গদ্য পদ্য ভাষার প্রয়োগ আর্কষনীয়। আমি জানি বই করার আগে এটাকে আরো আকর্ষনীয় করে তুলবেন আপনি।
পড়ার আমন্ত্রেনর জন্য ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা অসংখ্য।
লেখক বলেছেন: ভাই সিকদার, আপনি তো আধুনিক রূপকথা লিখেছেন। আমি লিখেছি পৌরাণিক রূপকথা। হা-হা-হা। তবে হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, মরালটুকু লোকগল্প থেকে নেয়া। কাহিনী-চরিত্রেও কিছুটা ছাপ আছে। বুনট আমার। গদ্য আমার। পদ্য আমার। বইয়ের আগে আরেকবার তো ভাববই। উৎসাহ দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার new লেখা কই?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ হে ধন্যবাদ!!!!!!!!!!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















