শতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি
আ.ন.ম. বজলুর রশীদ : রবীন্দ্রানুসারী কবির রবীন্দ্রবিবেচনা
তপন বাগচী
‘জানি না ফুরাবে কবে এই মধুরাতি’- সমর দাসের সুরারোপিত এই একটি গানের জন্য হলেও আ.ন.ম. বজলুর রশীদকে (১৯১১-১৯৮৬) আমাদের মনে না রেখে উপায় নেই। কারণ এটি বাংলাদেশের জনপ্রিয় গানগুলোর একটি। জনপ্রিয়তাই এই গানের একমাত্র গুরুত্ব নয়, শিল্পসম্মত গান হিসেবেও এটি যথেষ্ট স্বীকৃতি লাভ করেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাসাহিত্যে তিনি বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। কী কবিতা, কী নাটক, কী উপন্যাস, কী গীতরচনা, কী প্রবন্ধ, কী অনুবাদ- সকল েেত্রই তিনি সৃজন-মননের ছাপ রেখেছেন। শিাবিদ হিসেবেও তিনি দেশের শিাবিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছন।কেবল শিকতা নয়, শিার্থীদের পাঠচাহিদা পূরণে তিনি পাঠ্যপুস্তক রচনায়ও আত্মনিয়োগ করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করলেও পরে মহাবিদ্যালয়ে এবং শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপরেও আমরা গভীল বিস্ময়ের সঙ্গে ল করি যে, সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় সফলতার পরিচয় থাকা সত্ত্বেও আ.ন.ম. বজলুর রশীদকে যেন ভুলতে বসেছি। তাঁর কাজের মূল্যায়ন না করে তাঁকে বিস্মৃতির দিকে ঠেলে দেয়ার দায় বাঙালি হিসেবেআমাদেরকেই বহন করতে হয়। তবু আশার কথা এই যে, তাঁর জীবদ্দশায় অধ্যাপক মুহম্মদ মজির উদ্দীন নওগাঁ থেকে ‘সাহিত্যশিল্পী বজুলর রশীদ’ (১৯৭৩) নামের একটি পুস্তিকা এবং তাঁর মুত্যুর পরে বাংলা একাডেমী থেকে ডক্টর সুকুমার বিশ্বাস ‘আ.ন.ম. বজলুর রশীদ’ নামে জীবনীগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এছাড়া আ.ন.ম. বজলুর রশীদকে নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা-সমালোচনা প্রকাশিত হয়নি।
আ.ন.ম. বজলুর রশীদ ছিলেন জসীমউদ্দীন-প্রভাবিত কবি। জš§সূত্রে তিনি জসীমউদ্দীনের প্রতিবেশী। ১১৯১১ সালের ৮ মে তিনি ফরিদপুর শহরে জš§গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হারুনুর রশীদ আর মায়ের নাম নছিমুননেসা। হারুনুর রশীদ প্রেসিডেন্সি কলেজ থেরেক বিএ পাস করেন। তিনি নদীয়া জেলায় তৃতীয় মুসলিম গ্রাজুয়েট। পরে বিএল পাস করেন। কালের বিবেচনায় বজলুর রশীদের পিতা উচ্চশিতি ছিলেন। তিনি ফরিদপুর জজ কোর্টে ওকালতি শুরু করলেও সততা এবং ধর্মানুরাগ তাঁকে এ পেশায় টিকতে দেয়নি। তিনি ওকালতি ছেড়ে ঢাকা নবাব-এর কোর্ট অব ওয়ার্ড স্টেটে চাকরি নেন।
আ.ন.ম. বজলুর রশীদ পড়তের ফরিদপুর জিলা স্কুলে। ওই স্কুলের ইংরেজি শিক মš§থনাথ চক্রবর্তীর প্রেরণায় তিনি ইংরেজিতে কবিতা লিখতে শুরু করেন। স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে তিনি প্রবন্ধ লিখে ‘ভগবতীচরণ স্মৃতি পদক’ লাভ করেন। এটিই তাঁর সাহিত্যের প্রথম স্বীকৃতি। তখন থেকেই তিনি কবিতা লেখার প্রতি আকৃষ্ট হন। তাঁর চার কাস উপরে পড়তেন কবি জসীমউদ্দীন। জসীমউদ্দীন সে সময়ে আ.ন.ম. বজলুর রশীদের কবিতা সংশোধন করে দিতেন। সেই বিচারে বলা যায়, জসীমউদ্দীনও তাঁর কাব্যগুরু। পড়ালেখায় তিনি মেধাবী ছিলেন। প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করে রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। জসীমউদ্দীন তখন এমএ পড়ার জন্য কলকাতায়। বাড়িতে এলে আ.ন.ম. বজলুর রশীদ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। একবার জসীমউদদীন তাঁর যন্ত্রস্থ ‘বালুচর’ কাব্যের ভূমিকা লেখার অনুরোধ করেন। বজলুর রশীদ সেই অনুরোধ রা করেন। এভাবে জসীমউদ্দীনই সম্ভবত তাঁর কাব্যপ্রতিভাকে যথাযথ সনাক্ত করতে পেরেছিলেন।
১৯৩১ সালে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই এবং ১৯৩৩ সালে বিএ পাস করেন।১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিটি এবং ১৯৫৪ সালে এমএ পাস করেন। বিএ পাসের ২১ বছর পওে এমএ পাস করার মতো ধৈর্য তিনি ধারণ করেছিলেন। এর ফলও তিনি পেয়েছিলেন। স্কুল শিক থেকে ঢাকা টিসার্চ টেইনিং কলেজের অধ্যাপক হয়েছেন। কলেজের চাকরি থেকে ১৯৭২ সালে অবসরের পরে তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ধ্বনিবিজ্ঞান পড়ানোর জন্য খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং ১৯৭৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পূর্ণকালীণ অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আ.ন.ম. বজলুর রশীদ তাঁর সাহিত্যের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভগবতীচরণ স্মৃতি পদক’ ছাড়াও বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ঢাকা বেতার-এর শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং পাকিস্তান সরকারের ‘তমঘায়ে ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
নাট্যকার হিসেবে তাঁর স্বীকৃত বেশি জুটলেও তিনি কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর প্রথম কাব্য ‘পদ্মবীণা’ (১৯৪৫)। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘ঝড়ের পাখি’ (১৯৫৯), ‘যা হতে পারে’ (১৯৬৪), ‘উত্তর ফাল্গুনী’ (১৯৬৪),‘সংযুক্ত’ (১৯৬৫), ‘শিলা ও শৈলী : সুর ও ছন্দ’ (১৯৬৬), ‘ত্রিমাত্রিক’ (১৯৬৬), ‘দান-কমল’ (১৯৬৯) ও ‘রূপান্তর’ (১৯৭০)। তিনি বেশ কিছু উপন্যাস রচনা করেছেন।
বজলুর রশীদের প্রথম খ্যাতি কবি হিসেবে এবং আরো সূক্ষ্মভাবে বললে রবীন্দ্রানুসারী কবি হিসেবে। ‘পদ্মবীণা’ ছাড়াও ‘পথের ডাক’ (১৯৫০), ‘শীতে বসেন্তে’ (১৯৬৭), ‘রঙ ও রেখা’ (১৯৬৮), ‘এক ঝাঁক পাখি’ (১৯৬৯), ‘মৌসুমী মন’ (১৯৭০), ‘মেঘ-বেহাগ’ (১৯৭১), ‘রক্তকমল’ (১৯৭২)। তাঁর কাব্য সম্পর্কে সাহিত্যিক জাহানারা ইমাম লিখেছেন, ‘‘... আধুনিকতার প্রশ্রয় সত্ত্বেও কোনো েেত্রই কবি রোমান্টিকতাকে সুচিবায়ু বলে ত্যাগ করেননি। বলা বাহুল্য কবি বজলুর রশীদের সমগ্র কবি-মানস ও কাব্য-চেতনার এটাই হলো মূল সুর ও স্বপ্ন’। (জাহানারা ইমাম, মাহে নও, ভাদ্র ১৩৭৪, পৃ, ১২৭)। আ.ন.ম. বজলুর রশীদ যে অলঙ্কারতত্ত্ব বিচারে শুদ্ধ কবি ছিলেন, তার প্রমাণ রয়েছেন কবি আবদুল কাদিরের মূল্যায়নে। তিনি বজলুর রশীদের সনেটগ্রন্থেও আলোচনায় লেখেন, ‘বজলুর রশীদ সনেট প্রণয়নে অধিকাংশ েেত্রই নিয়ম-নিরপে হলেও কোথাও কোথাও এভাবে পেত্রার্কীয় ষষ্টক জুড়ে দিয়ে যে নতুন রসের আস্বাদ সৃষ্টি করেছেন, তা খুবই উপভোগ্য হয়েছে, সন্দেহ নেই।’ (আবদুল কাদির, মাহে নও, জানুযারি ১৯৭০, পৃ. ৭১)।
একথা ঠিক যে, বহুমুখী সাহিত্যচর্চার ফলে তিনি কবিতার জন্য ততটা নিবেদিত হতে পারেননি। তাই হয়তো কবি শামসুর রাহমানের মূল্যায়ন, ‘... কবিতা তাঁকে, আমার বিবেচনায় ছেড়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। ঠিকঠঅক ছন্দৈ এই সেদিন পর্যন্ত প্রচুর পদ্য তিনি রচনা করেছেন, কিন্তু রবীন্দ্রসাহিত্যেও সঙ্গে দীর্ঘকাল বসবাস করেও কবিতার ঘরের চাবিটি সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ... মিথা কথা উচ্চারণ করবো না, আমি কোনোকালেই তাঁর কবিতার গ্রণগ্রাহী ছিলাম না। অবশ্য তাতে কিছু আসে যায় না। হযতো এমন বহু পাঠক আছেন, যাঁরা আ.ন.ম. বজলুর রশীদের কবিতার অনুরাগী। ... আমার অনাগ্রহ সত্ত্বেও তাঁর কবিতা ছেপেছি কিছুটা আমার পিছুটানের জন্য।’ (শামসুর রাহমান, ‘কৈশোরের প্রতি মমতাবশত, ‘দৈনিক সংবাদ’ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৬)। কিন্তু এই সরল স্বীকারোক্তির পরেও শামসুর রাহমান তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এভাবেÑ
‘পছন্দ না হলেও তাঁর কবিতা ছাপতে আমি দ্বিধা করিনি কখনো সেই শিকটির কথা স্মরণ কওে যিনি সরলমতি কিশোরদের বাংলা পড়াতেন, খুব ভালো পড়াতেন তাদের আগ্রহ ও মনস্ক কওে তুলতে কবিতার প্রতি, তাঁর অত্যন্ত প্রিয় রবীন্দ্রনাথের প্রতি। আমার কৈশোরের সেই মাঠ, শিউলিতলা আর লাল ইটের তৈরি াবদ্যালয়ের প্রতি মমতাবশত একজন ধূসর কবিকে অসম্মান করতে পারতাম না। তিনি একথা জেনে যাননি, তাঁকে ঘূর্ণারেও জানতে দিইনি কোনেদিন। যতদনি স্মৃতিতে আমার কৈশোর ভেসে উঠবে চরের মতো, ততদিন আরো অনেক কিছুর মতোই একজন শি ও কবি আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, তাঁর সুঠাম শরীর নিয়ে, বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ নিয়ে উপস্থিত হবেন আমার মনের চিলেকোঠায়। (শামসুর রাহমান, প্রাগুক্ত)
আ.ন.ম. বজলুর রশীদ সম্পর্কে ষাটের অন্যতম প্রধান কবি মহাদেব সাহা সত্যদর্শী ছদ্মনামে ‘প্রিয়-অপ্রিয়’ কলামে লিখেছেন, ‘মৃদু, কোমল, স্নিগ্ধ স্বভাবের এই কবি নিন্দা-প্রশংসার ঊর্ধ্বে থেকে আজীবন কবিতা লিখেছেন। একদিক থেকে কবির জীবনও তো একটি মহৎ কবিতা। শব্দে ও ভাষায় কবিতার সেই যাদু ফুটিয়ে তুলতে না পাররৈও কেউ কেউ জীবন দিয়েই গড়ে তোলেন এই পূর্ণাঙ্গ কবিতা। মাটি ও মানুষের প্রতি অগাধ মমতা ছিল এই নেপথ্যচারী কবির। মাটির মানুষের মধ্যে তিনি কল্পনা করেছিলেন সূর্যের সম্ভাবনা। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই। (দৈনিক ইত্তেফাক, ১৯ ডিসেম্বর ১৯৮৬) আ.ন.ম. বজলুর রশীদ ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বেঁচেছিলেন। কিন্তু ১৯৭২ সালে ‘রক্তকমল’ প্রকাশের পরে আর কবিতার বই প্রকাশ করেননি। এই বইকে তিনি শেষ কাব্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ‘শেষ এজন্য যে মর্ত্য-জীবনের আমার যা কিচু বলার তা এই গ্রন্থ-কমলের প্রতিটি দলে পরম আনন্দবেদনায় বিকশিত ও নিঃশেষিত হলো।’ এর পরেও তিনি ১৪ বছর বেঁচে ছিলেন। কিন্তু কবিতার বই বের করার উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। কবিতা যে তাঁকে ছেড়ে গিয়েছিলেন এই বিবেচনার আগে আমর দেখতে পাই যে, তিনিই কবিতাকে ছেড়েি তিদয়েছিলেন, এবং ঘোষণা দিয়েই ছেড়ে দিয়েছিলেন। এর পরে তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার মূল্যায়নেও আমরা আন্তরিক হতে পারিনি। বলা যায়, একধরনের উপোর শিকার হয়েছেন তিনি। কিন্তু কালের ধূলা সরিয়ে অন্তত তাঁর নাটক ও প্রবন্ধসাহিত্য একদিন মর্যাদা পেতে পারে, এমন বিশ্বাস আমরা করতে চাই।
বজলুর রশীদের নাটক মঞ্চে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সমালোচকদের কাছে সমাদৃত হয়েছিল তাঁর নাট্যসৃজন। বিশেষত তাঁর ‘উত্তরফাল্গুনী’ নিয়ে নাট্যকার অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর মূল্যায়ন হচ্ছেÑ
‘উত্তর ফাল্গুনী’ একটি উচ্চচিন্তার নাটক। কবিত্বপূর্ণ, দেশাত্মবোধমূলক এবং সমবায়ের আদর্শ উদ্বোধক। সংলাপ সর্বত্র মধুর ও মার্জিত। কোনো কোনো স্থলে অলঙ্কারমণ্ডিত রহস্যালাপের কৌশলময় ব্যবহারে নুরুল মোমেনী সার্থকতা অর্জন করতে পেরেছেন। যে সকল গান ও কবিতা নাটকে সংযোজিত করেছেন সেগুলোও নিজস্ব গুণে, সুরে, ছন্দ মনোমুগ্ধকর। (মাহে নও, মার্চ ১৯৬৫, পৃ. ১৭২-৭৩)
নাটকটি মঞ্চসফলতা অর্জন করেছিল। মুনীর চৌধুরীর মতো নাট্যবোদ্ধার প্রশংসার পরে বজলুর রশীদের নাট্যপ্রতিভা নিয়ে কারো সংশয় থাকার কথা নয়। তাঁর প্রায় সকল নাটকই বেতারে প্রচারিত অথবা মঞ্চে অভিনীত হয়েছে। বাংলাদেশের নাট্যচর্চার ভিত্তি নির্মাণে যে কজন দ নাট্যকারের অবদান রয়েছে আ.ন.ম. বজলুর রশীদের তাঁদের শীর্ষসারির একজন। কিন্তু আমাদের নাট্য-আলোচনায় বজলুর রশীদের নাম এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা ল করা যায়। এর কারণ নিশ্চয়ই বজলুর রশীদের নাটকের মান নয়, আমাদের শেকড়সন্ধানী অনুসন্ধিৎসার অভাব। তাই এর দায় একান্তভাবেই নাট্যগবেষকদের।
আমরা আ.ন.ম. বজলুর রশীদের জš§শতবর্ষে তাঁর আরেকটি কৃতিত্বের কথা স্মরণ করতে চাই। আমরা তাঁর রবীন্দ্রর্চার খবর নিতে চাই। দুঃখজনক হলেও সত্য, রবীন্দ্রগবেষক হিসেবেও বজলুর রশীদের অবদান তেমন উল্লেখযোগ্যমাত্রায় সনাক্ত হয়নি। দেশে যখন রবীন্দ্রবিরোধিতার ষড়যন্ত্র চলছিল, সেই সময়ে আ.ন.ম. বজলুর রশীদ লিখেছেন ‘রবীন্দ্রনাথ’ (১৯৬১) নামে। বইটি প্রকাশের পরে কবি সুফিয়া কামাল এবং কবি আহসান হাবীব বিস্মিত হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে রবীন্দ্রনাথ বিষযক আরেকটি গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি এই অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেছেনÑ
‘আমার ‘‘রবীন্দ্রনাথ’’ ১৩৬৮ সালের বৈশাখে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে সভয়ে আত্মপ্রকাশ করে। সভয়ে এজন্য যে তখনকার পরিবেশ রবীন্দ্রনাথের কাব্য ও জীবন-পরিচর্যার পে আদৌ অনুকূলে ছিল না। রবীন্দ্রনাথের উপর রচিত সেই সময়কালের প্রথম গ্রন্থটির একটি কপি উপহারস্বরূপ হাতে পেয়ে ঢাকা ‘ইউসিসে’র প্রদর্শনী-কে কবি সুফিয়া কামাল মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘আপনার সাহস তো কম নয়’’। কবি আহসান হাবীবও অনুরূপ উক্তি করেছিলেন।’ (আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, জীবনবাদী রবীন্দ্রনাথ, নলেজ হোম, ঢাকা, ১৯৭২, ভূমিকা)
লেখক বইটির ‘সভয়ে আত্মপ্রকাশ’-এর কথা বলেছেন। এটি যে নিতান্তই সাহসী দায়িত্বশীলতা, তা আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না। তাই সুফিয়া কামাল ও আহসান হাবীবের মন্তব্যের পরে তাঁর আত্মমূল্যায়ন হচ্ছে, ‘... সে আমার সাহস নয়, আমার পে যা স্বাভাবিক ও স্বতঃসিদ্ধ আমি তাই করেছিলাম মাত্র।’ কিন্তু এই সাহসী কাজের জন্য যোগ্য প্রশংসাটুকুও তিনি পরবর্তীকালে লাভ করেননি।
‘রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থে ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ ও কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছিল, কতটা মুগ্ধতা সৃষ্টি করেছিল, তারই বিবরণ রয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকাতেই সে কথা স্পষ্ট করা হয়েছেÑ
‘রবীন্দ্র-জীবন ও কাব্যের পটভূমি ও পরিবেশের পরিচয় দিতে যথাসাধ্য প্রয়াস পেয়েছি। আর, একদা ক্যালিফোর্নিয়ার পেলববীচে বসে প্রশান্ত মহাসাগরের দিগন্ত-নীল দূর প্রশান্তি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম, সেই প্রশান্তিও কিছুটা আনতে চেষ্টা করেছি। ... আর একটি কথা, রহঃবষষবপঃঁধষ ংঃঁফু ড়ভ ধ মৎবধঃ সধহ-এ আমি বিশ্বসিী নই।’ (রবীন্দ্রনাথ, প্রেসিডেন্সি লাইব্রেরি, ঢাকা, ১৯৬১, ভূমিকা)
মহৎ ব্যক্তিদের নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় অবিশ্বাসের কথা বলে আ.ন.ম. বজলুর রশীদ তৎকালীন একাডেমিক বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানকে প্রকাশ করেছেন। নিজে যেহেতু অধ্যাপক, তাই প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাপদ্ধতির মানদণ্ডে তিনি রবীন্দ্রনাথকে বিচার করার যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু তিনি সেই চিরাচরিত পথে না হেঁটে নিজের ভাবনা-উপলব্ধিকে প্রকাশ করেছেন একজন ভক্তকবি কিংবা ভক্তপাঠকের দৃষ্টিতে। বইখানির সৌন্দর্য ও গৌরব বোধহয় সেখানেই। বইখানির আরেকটি গুরুত্ব রয়েছে এর প্রকাশকালের মধ্যে। এটি প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রজš§শতবার্ষিকী উপল্েয করে। রবীন্দ্রজš§শতবার্ষিকীতে প্রকাশিত গ্রন্থের আলোচনা করে আমরা আ.ন.ম. বজলুর রশীদের জš§শতবার্ষিকীর শ্রদ্ধা জানাতে চাই। গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রন্থ সম্পর্কে বিশিষ্ট কবি ও গবেষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মন্তব্য উল্লেখ করা যায়Ñ
‘আসলে গ্রন্থকার সম্ভবত রহঃবষষবপঃঁধষ ংঃঁফু বলতে প্রচলিত রবীন্দ্রসাহিত্য সমালোচনার কেতাবি পদ্ধতিকেই বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি গবেষণার মাধ্যমে ভিন্ন বক্তব্য আবারের প্রয়োজন বোধ করেননি। এবং সে পদ্ধতি বর্জন করার প্রত্যফল হিসেবেই এই গ্রন্থ রবীন্দ্রসাহিত্যের ছাত্রপাঠ্য আর একটি টীকাগ্রন্থে পর্যবসিত না হয়ে স্বতন্ত্র গৌরবের দাবিদার হয়েছে। এ গ্রন্থের মৌলিক সম্পদ হচ্ছে গ্রন্থ-বিষয়ের সঙ্গে গ্রন্থকারের ব্যক্তিক অনুভূতির সংযোগ। এ সংযোগ সর্বাধিক উপভোগ্য হয়ে ঊঠেছে লেখকের আমেরিকা প্রবাসে রবীন্দ্রসাহিত্য ও সঙ্গীতের চর্চার বর্ণনায়।’ (সুকুমার বিশ্বাস, ‘আ.ন.ম. বজলুর রশীদ’, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৯০, পৃ. ৯০)
অগ্রজ কবির প্রতি অনুজ কবির শ্রদ্ধা ও প্রশস্তি প্রকাশেল কারণে এই বইটি বিশেষ স্বাতন্ত্র্যের দাবিদার। কবি বলেই বজলুরর রশীদের ভাষাও কাব্যধর্মী। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ভাষায়, ‘এই আলোচনায় পাঠক একদিকে যেমন রবীন্দ্রসাহিত্যের ও জীবনের সরস বর্ণনা পাবেন তেমনি লেখকের ব্যক্তিক অনুভূতির উষ্ণতাও উপলব্ধি করবেন।’ বইটি যে সেই সময় ব্যাপক পাঠকের কাছে পৌঁছেছিল, তা অনুমান করা যায়। কিন্তু স্বভাবে কবি ও নাট্যকার বলেই হয়তো সমালোচক বজলুর রশীদের অবদান নিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো তেমন মূল্য দিতে চায়নি। তাতে বজলুর রশীদেও কোনো তি হয়নি। তি হয়েছে আমাদেরই। আমি নিশ্চিত যে, ছকেবাধা গবেষণাগ্রন্থ না হলেও এই গ্রন্থ রবীন্দ্রানুরাগী তো বটোই রবীন্দ্রসাহিত্যেও শিার্থীদেরও কাজে আসবে। কিন্তু সেই কথাটি যাদেও বলার কথা, তারা অজ্ঞাত কারণে চুপ রয়েছে।
আ.ন.ম. বজলুর রশীদের রবীন্দ্র-অধ্যয়ন আরেকটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। রবীন্দ্রন নাথের দেখে আসা স্থানগুলি ভ্রমণ করেছেন লেখক। আর এই গ্রন্থে সেই দেখার বিবরণ আছে। এটি কেবল রবীন্দ্রসৃষ্টি সম্পর্কে লেখকের মূল্যায়ন নয়, তুলনামূলক আলোচনাও রয়েছে। তিনি রবীন্দ্রসৃষ্টির সঙ্গে কবির ও দাদুর সৃষ্টির তুলনা করেছেন। ইংরেজ ও পারস্যের কবিদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের তুলনা করে রবীন্দ্রমূল্যায়নে নতুন রশদ যুগিয়েছেন। এই গ্রন্থ সম্পর্কে কবি ও ফোকলোরবিদ ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকীর বিবেচনাকে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারেÑ
‘এই বই-এর যেটি উল্লেখযোগ্য পর্যায় তা হলো লেখক আমেরিকাপ্রবাসী রবীন্দ্রনাথকে আমেরিকার প্রাকৃতিক পরিবেশে নতুনভাবে দেখার প্রয়াস পেয়েছেন। লেখক বেশ কিছুদিন পূর্বে রবীন্দ্রনাথের একদা দেখা স্থানগুলি দেখে এসছেন। লেখকের এই দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যবান এবং এইদিকে আরো আলেঅকডপাতের প্রয়োজন প্রচুর। এটা অবশ্য ঠিক, এমনি একটি ুদ্র অবয়বের গ্রন্থে তা করার অবকাশও বেশি ছিল না। ১৬৮ পৃষ্ঠার গ্রন্থে রবীন্দ্রমানস ও সাহিত্যের সবদিকেই আলোকপাতের চেষ্টা হয়েছে। এ কাজটি খুব সহজও ছিল না।. . . এজন্য ত’ তাঁর প্রশংসা কম করা যায় না।’ (সুকুমার বিশ্বাস, ‘আ.ন.ম. বজলুর রশীদ’, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৯০, পৃ. ৯১-৯২)
রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘১৪০০’ সাল কবিতায় যে শতবর্ষের পরে নতুন যুগের কবির আগমেন আশা ব্যক্ত করেছিলেন, তার প্রতিক্রিয়ায় চারটি কবিতা যুক্ত করেছেন ওই গ্রন্থের ‘শতবর্ষ পরে’ নামের পর্যায়ে। আ.ন.ম. বজলুর রশীদ কি নিজেকেই সেই অনাগত কালের কবির প্রতিবিম্ব দেখতে পেয়েছিলেন নিজের মধ্যে?
শেষ কাব্য প্রকাশের পরে কবি বসে থাকেননি। এর পরে তিনি যুক্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সঙ্গে। কিন্তু সমালোচসনাসাহিত্য তিনি ছাড়েননি। রবীন্দ্রজš§শতবর্ষে তাঁর রবীন্দ্রভাবনার যে প্রকাশ ঘটিয়েছেন তারই সম্প্রসারিত রূপ ‘জীবনবাদী রবীন্দ্রনাথ’ (১৯৭২)। বইটির রচনার প্রোপট ও প্রেরণা সম্পর্কে লেখক জানিয়েছেনÑ
‘১৯৪৮ সালের আশ্বিন মাসের কোনো এ অপরাহ্নে শান্তিনিকেতনের অতিথি-ভবনের সম্মুখদিককার বিমূর্ত-শিল্পের (কিউবিজমের একটি ফ্যানটাসটিক বা উদ্ভট রূপÑঅবয়বের একটি মূর্তির) দীর্ঘ ছায়-রেখার নিচে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধেয় িিতমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কয়েকটি মূল্যবান কথা বলে মন্তব্য করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ তোমাদেও মধ্যেই বেঁচে থাকবেন।... মন্তব্য করে ভক্ত িিতমোহন আমার দিকে কিছুণ চেয়েছিলেন, বোধ হয় একটি প্রত্যাশি উত্তরের আশায় ও অপোয়। হয়তো সে উত্তর এতদিনে দিতে পেরেছি বলে আমি কিছুটা আশ্বস্ত ও ভরমুক্ত হলাম। (‘জীবনবাদী রবীন্দ্রনাথ’, নলেজ হোম, ঢাকা, ১৯৭২, ভূমিকা)
আ.ন.ম. বজলুর রশীদ যে কত বড় রবীন্দ্রভক্ত ছিলেন, তাঁর প্রমাণ এই ঘোষণা। তিনি তো ১৯৬১ সালেই লিখেছিলেন ‘রবীন্দ্রনাথ’ নামের বই। তাতেই তো ভারমুক্ত হওয়ার কথা। তবু তিনি রচনা করলেন ‘জীবনবাদী রবীন্দ্রনাথ’। আগের বইটি ছিল আত্মউপলদ্ধিজাত। এই বইটি উপলব্ধির পাশাপশি বিশ্লেষণের ও সমালোচনা রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের একটি নিরপে মূল্যায়নের চেষ্টা এই গ্রন্থ। তেব সূচিপত্র দেখলেই বোঝা যায়, বজলুর রশীদেও কবিসত্তাও এখানে ক্রিয়াশীল। ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’,ম ‘যাত্রা হলো শুরু’, ‘নমন্বয়ের পথে’, ‘অরূপ বীণা রূপের আড়ালে’, ‘কাঁপে ছন্দ ভালোমন্দ, কো খেয়ালীর কোন আনন্দে, এই তো বিস্ময় অন্তহীন প্রভৃতি শিরোনামে বিন্যস্ত হয়েছে লেখকের পর্যবেণ। বাংলাদেশে রবীন্দ্রগবেষকদের মধ্যে বজলুর রশীদেও নাম অগ্রগণ্য হওয়াুচিত। কিন্তু কবি হিসেবে যেমন আমরা তাঁকে বুলে যেতে বসেছি, সমালোচক হিসেবেও তাঁকে দেখে না দেখার ভান কওে নিজেরাই বঞ্চিত হচ্ছি, সেই কথা কেউ হিসেব করছি না।
আগামী ১১ মে কবির জš§শতবর্ষকে সামনে রেখে আমি কয়েকটি প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরতে চাই। তাঁর জš§শতবর্ষ উপলে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এটি সাহিত্যিক বিবেচনায় বাংলা একাডেমীও করতে পারে, নাট্যকার বিবেচনায় শিল্পকলা একাডেমীও করতে পারে। রচনাবলির পাশাপশি তাঁর নির্বাচিত রচনার সংকলন প্রকাশ করা যেতে পারে। গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশন তাঁর শতবর্ষের কাছাকাছি সময়ে তাঁর নামে নাট্যেৎসব করতে পারে, যেখানে তাঁর নাটক মঞ্চায়নের সুযোগ রাখতে পারে। তাঁর নাটক নিয়ে সেমিনার-আলোচনার আয়োজন করা যেতে পারে। তাঁর জš§শতবর্ষ রাষ্ট্রীয় তথা জাতীয়ভাবে পালন করা যেতে পরে। সরকার তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক দিয়ে সম্মান জানাতে পারে। যেহেতু তিনি ফরিদপুরের জšে§ছিলেন, তাই ফরিদপুরবাসীও তাঁর জš§শতবার্ষিকীতে কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। অস্তত স্থানীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি-নাট্যকর্মীরা সমবেতভাবে দিনটি উদ্যাপন করতে পারে, আলোচনা ও নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যম। ফরিদপুর শহরে একটি সড়কের নাম হতে পারে ‘কবি আ.ন.ম. বজলুর রশীদ সড়ক’। তিনি ঢাকা ও জাহাঙ্গীনরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। তাই তাঁকে নিয়ে গবেষণা করাতে কিংবা তাঁর রচনাকে পাঠ্যসƒ চির অন্তর্ভুক্ত করাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উদ্যোগ নিতে পারে। তাঁর সৃষ্টিসম্ভার নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাও পরিচালনা করা যেতে পারে। ‘উত্তরাধিকার’ কিংবা এর মতো কোনো সাময়িকপত্রও পারে তাঁকে নিয়ে বিশেষ সংখ্যার প্রকাশ করতে। ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত ‘ফরিদপুর : ইতিহাস ও ঐতিহ্য’-র পরবর্তী সংখ্যা হতে পারে ‘আ.ন.ম. বজলুর রশীদ সংখ্যা’। তাহলে আমরা একজন খাঁটি বাঙালি কবিকে কিছুটা হয়তো সম্মান জানাতে পারব। নাটক ও প্রবন্ধসাহিত্যে আ.ন.ম. বজলুর রশীদের অবস্থান কখনোই মèান হওয়ার নয়, সেই কথাটি স্মরণে রেখেই তাঁকে মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। কিংবা রবীন্দ্রানুসারী এই কবির রবীন্দ্রবিবেচনা ঢাকা ছাড়াও কলকাতা, আসাম ও ত্রিপুরা, পুনর্মূল্যায়িত হতে পারে- তাঁর জš§ শতবর্ষে এই আমাদের প্রত্যাশা।
.....
শতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি ।। আ.ন.ম. বজলুর রশীদ : রবীন্দ্রানুসারী কবির রবীন্দ্রবিবেচনা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।