somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সঞ্জীবদা'কে মনে পড়ে 'আরে আমি কি সব সময় গান গাই। ওটা তো সখের জায়গা।'
এর কয়েকদনি পরে ওয়াইডব্লিউভিএ মিলনায়তনে সাংবাকিদরে একটা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দেখা হলো। দুজনেই প্রশিক্ষক। আমার ক্লাসে দাদা পাশে বসা ছিলেন বলে বেশ বিব্রত হচ্ছি। তাঁর কাছে আমি তো শিশু। তাই তাড়াতাড়ি শেষ করে তাঁর জন্য চেয়ার ছেড়ে দিতে চাইছি। তিনি বললেন, ‌আমার আইজ বলতে ভালো লাগছে না। তুমি চালাও।'
তাঁর নির্ধারিত ফিচার লেখার কলাকৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। দুইতিন মিনিট কথা বলার পরে তিনি বললেন, 'আমার ছোটভাই আছে, ও বাকিটুকু আলোচনা করবেন। আমার আজ মন খারাপ।'
এরপর তিনি চলে গেলেন। সেই তাঁর সঙ্গে শেষ দেখা। আমি তাঁর শবমিছিলে ছিলাম। কিন্তু শব দেখিনি। দেখতে চাইনি। তাঁর হাসিভরা মুখটাই চিরস্মরণীয় হয়ে থাক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28871256 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28871256 2008-11-19 17:42:52
এ কী গেরো রে বাবা!!!!! http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28869795 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28869795 2008-11-16 15:38:55 ধানগবেষণা ও খাদ্যনিরাপত্তা পরে সময় পেলে নতুন পোস্টে হাইব্রিড সম্পর্কে লিখব। তার আগে জয়দেবপুরে ব্রি'তে গিয়ে ভালো করে জেনে আসব। আপাতত এই লেখাটি আমরা পড়ে নিতে পারি।
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28869778 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28869778 2008-11-16 14:48:24
সকল হাইব্রিড বীজ বন্ধ্যা নয় আমার জানামতে, সকল হাইব্রিড বীজ বন্ধ্যা নয়। আমদানিকৃত হাইব্রিড বীজ বন্ধ্যা। কারণ তারা বীজ পুনরুৎপাদনের প্রযুক্তি দেয় নি। কিন্তু ব্রি'র বিজ্ঞানীরা চীনে গিয়ে ওদের শায়েদ্রি ভ্যারাইটরি উপর গবেষণা করে বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি করে সব মিলিয়ে ৮ বছর গবেষণা করে বাংলাদেশে চাষ-উপযোগী এবং বীজ সংরক্ষণের সুবিধাসহ ২টি হাইব্রিড ধান উদ্ভাবন করে। যা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির (যে কোনো বীজের জন্য প্রত্যয়নের ক্ষমতাধারী সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান - এসসিএ, গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত) অনুমোদন নিয়ে কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত করেছে। ব্রি হাইব্রিড ধান বীজ রাখার উপযোগী না হলে এসসিএ তার অনুমোদন দিত না। এইগুলোর ফলন এইচওয়াইভি বা উফশীর চেয়ে বেশি। তবে তা আমদানিকৃত হাইব্রিডের চেয়ে সামান্য কম। তবু বীজ রাখার সুযোগ এবং কম দামে বীজ পাওয়ার সুযোগের জন্য এই দুটি ধানের ব্যাপক চাষ বিদেশি হাইব্রিডের আমদানি বন্ধ করতে পারে।
ব্রি'র বিজ্ঞানী ড. ফরহাদ জামিল ১৯৯২ সালেই মঙ্গা নিরসেনর জন্য ব্রিধান-৩৩ চাষের সুপারিশ করেছিলেন। কারণ এটি ২০দিন আগে ফলে। আর মঙ্গার স্তিতিকাল ৩০ দিন। এতে ১০ দিন মাত্র মঙ্গা থাকার আশঙ্কা। তবে ১০দিন আগে চাষ করতে পারলে ওই ফাঁকটুকুও পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু বীজ কোম্পানিগুলো এবং দারিদ্র্য ব্যাবসায়ীরা এই ধান চাষে উৎসাহ দেখায়নি। সরকারকেও তারা ভুল বুঝিয়েছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমালে রংপুরে কর্মরত ধানবিজ্ঞানী ড. আবদুল মজিদ গত বছর (২০০৭) এই ধানের কেরামতি দেখিয়ে কয়েকটি উপজেলায় মঙ্গা তাড়িয়েছেন। তারপর এই সরকার উত্তরবঙ্গে ওই জাতের ধান চাষের মাধ্যমে এবার মঙ্গা অনেকখানিই নিবারণ করেছেন।
আমি বলতে চাইছি ব্রির অর্থাৎ দেশীয় প্রযুক্তিই আমাদের সমস্যা মেটাতে পারে।
১৯৭২ সালে যে পরিমাণ চাল আমদানি করতে হত, ২০০৮ সালেও সেই একই পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে। দ্বিগুণ মানুষের জন্য অর্ধেক জমিতে প্রয়োজনীয় চারগুণ ফলন কে করল? নিশ্চয়ই ব্রি'র ভ্যারাইটি এবং নতুন চাষপদ্ধতি। হিসেবটা খুব বেশি জটিল নয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28869049 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28869049 2008-11-14 17:49:54
কবিতার বই প্রকাশে আমার গাঁটের একটি টাকাও খরচ করতে হয়নি কবিতার বই বের করা একটু কঠিন। আমি সেই কাঠিন্যকেও জয় করেছি। আমার ৫টি কবিতার বই বেরিয়েছে, কিন্তু গাঁটের একটি টাকাও খরচ করতে হয়নি।
১৯৯৪ সালে বিশাকা প্রকাশনী নামে একটি প্রতিষ্ঠান বইমেলায় এল কেবল কবিতার বই প্রকাশনার অঙ্গীকার নিয়। সিকদার আমিনুল হক, মারুফ রায়হান, মিনার মনসুরের কবিতার বই এবং আবদুশ শহীদ সম্পাদিত একটি সংকলন নিয়ে তাঁর স্টল খুলল। প্রায় প্রতিদিন ঘুরতে ঘুরতে একটি পরিচয় হল মালিক শাহজাহান বাচ্চুর সঙ্গে। পরে তাঁর স্ত্রী কানন জাহান এবং মেয়ে বিপাশা জাহানের সঙ্গেও। আমি তাঁদেরকে আমার পূর্বপ্রকাশিত ছড়ার বই উপহার দিই এবং সুকুমার বড়ুয়ার একটি ছড়ার বই বের করার প্রস্তাব দিই। সুকুমার বড়ুয়ার নতুন ছড়ার বই প্রায় দশ-বারো বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে না দেখে নিজের তাগিদেই এই প্রস্তাব দিই। তিনি দুয়েকদিন পরে বলেন, আপনার রাজনৈতিক ছড়াগুলো আমার ভালো লেগেছে। আপনার এবং সুকুমার বড়ুয়ার দুইজনের বই-ই আগামী বছর করব- কথা দিচ্ছি। আমি বাচ্চুভাইকে বলি, আমার তো কবিবতার বই বের করার ইচ্ছে রয়েছে। তিনি বলেন, সিকদার আমিনুল হকের মতো বড় কবির বই-ই বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১০ কপি। তাই তরুণদের কবিতার ব্ই নিয়ে ঝুঁকি বাড়াতে চাই না। আমি বাস্তবতা অনুবাধন করে কবিতার বই প্রকাশে বিরত থাকি। তবে পরের বছরের জন্য তুলে দিই আমার 'চারকাবুড়ি ওড়ায় ঘুড়ি' নামের পাণ্ডুলিপি এবং সুকুমার বড়ুয়ার পাণ্ডুলিপি ‌কিছু না কিছু'। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৫ সালে বই হয়ে বেরোয়। মেলায় বিশাকার স্টলে আড্ডা দিই প্রায় প্রতিদিন। ২/১ খানা করে বিক্র হয়। আড্ডাচ্ছলে বাচ্চু ভাই বলে ফেলেন, আপনার ছড়ার বই যদি ১০০ কপি বিক্রি হয়, তবে আগামী বছর কবিতার বই বের করব- কথা দিচ্ছি। 'ভাগ্য ভালো' আমার। ১২০কপির মতো বিক্রি হয়। অতএব পরের বছর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বের হয় আমার প্রথম কবিতার বই 'কেতকীর প্রতি পক্ষপাত'। এই সময়েই বাংলা একাডেমী তরুণ লেখক প্রকল্পে অংশ নিই। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে বাংলঅ একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয় আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ এবং চতুর্থ মৌলিক গ্রন্থ '‌শ্মশানেই শুনি শঙ্খধ্বনি'। ২০০৩ সালে বাচ্চুভাইয়ের কাছে যাই আমার প্রথম বইয়ের কিছু কপির সন্ধানে। তিনি জানালেন,' আরে ভাই বেইচা ফেলাইছি। গায়ের দামতো ৩০টাকা। ১৫টাকা ২০টাকা যার কাছে যা পাইছি, বেইচা ফেলাইছি। নতুন বই করার প্রস্তাব নিয়া আইলেই বই ধরাইয়া দেই।' আমি তাঁর আঞ্চলিক ও ফুল্ল উচ্চারণে এই সংবাদের পরে বলি, 'তাইলে তো দ্বিতীয় সংস্করণ বাইর করন লাগে। কী কন?'
বাচ্চভাই আরেককাঠি এগিয়ে গিয়ে জবাব দেন, পাঠক তো সীমিত। একবই একজনের কাছে দুইবার বেচুম কেমনে? আপনি নতুন বই দেন।' আমি মওকা পেয়ে তুলে ধরি নতুন পাণ্ডুলিপি 'অন্তহীন ক্ষতের গভীরে'। পরের বছর বই হয়ে বেরোয় যথারীতি। কিন্তু বাচ্চুভাইকে ধন্যবাদ আমার তিনটে বইয়ের প্রকাশ। কিন্তু একটি টাকাও দিতে হয়নি। তবে ওখানেই দেখেছি অনেক ‌খ্যাতিমান' লেখককেও গাঁটের টাকা দিয়ে বই ছাপিয়ে সকল কপি বাড়িতে বয়ে নিয়ে যেতে। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। আমার ভাগ্যের কথা লিখে রাখলাম এখানে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28868730 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28868730 2008-11-13 20:33:06
'নবীন লেখকলেখিকাদের জন্য :: কিভাবে বই বের করবেন' :: ফারিহান মাহমুদের টিপস-এর সূত্র ধরে ...
আমার এযাবত ২৫টির বেশি বই বেরিয়েছে। কিন্তু কোনও টাকা পকেট থেকে খরচ হয়নি। বরং এর মধ্যে ৮টিতে রয়্যালটি পেয়েছি।
প্রথম বই বেরুল ১৯৯৩ সালে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ছড়াগুলো নিয়ে একটা সংকলন করতে চেয়েঠিলাম। সারা দেশে প্রায় ১০০ ছড়কারকে চিঠি লিখেছি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের এক ছড়াকার উল্টো আমার কাছে একগুচ্ছ প্রতিবাদী ছড়া চেয়ে চিঠি পাঠালেন। আমি ১০টি ছড়া পাঠিয়ে দিই। ওই ছড়াকারের নাম সুখময় চক্রবর্তী। ওকালতি করেন। থাকনে চট্টগ্রাম সদরঘাট কালীবাড়ি রোড। তো পাঠিয়ে দিলাম। উনি সাপ্তাহিক কর্ণফুলীর দেশ পত্রিকায় ছাপালেন। পরে আরো একগুচ্ছ চাইলেন। তা-ও পাঠালাম। এরপর উনি বললেন আপনার আর কিছু ছড়া হলে একটা বই হতে পারে। আমি তো অবাক। মেঘ না চাইতে জল! বিনাদ্বিধায় পাঠিয়ে দিলাম। উনি 'কর্ণফুলীর দেশ প্রকাশন' নামের প্রতিষ্ঠান তেকে আমার ছড়ার বই ছাপবেন বলে পোস্টকার্ড লিখে জানালেন। আমি তো খুশীতে আত্মহারা। একদিন চিঠি পেলাম, উনি ঢাকায় এসে সেগুনবাগিচার চট্টগ্রাম হোটেলে উঠবেন। আমি যেন দেখা করি। ভদ্রলোককে আগে কখনো দেখিনি। তাই দেখা করতে যাই। উনি হোটেলে খাওয়ালেন। তারপর রুমে গিয়ে আমার বইয়ের ফাইনাল প্রুফ দেখালেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'হলে' নিয়ে এসে সারারাত জেগে প্রুফ ঠিক করে দিই। ১৯৯৩ সালে বইমেলার সময় কুরিয়ারে এল ১০০ কপি 'রুখে দাঁড়াই বর্গী তাড়াই' ছড়াগ্রন্থ। চট্টগ্রামের প্রচ্ছদশিল্পী বিশ্বজিৎ তলাপাত্রকে এখনো দেখিনি। আমি তখন ছাত্র। আননন্দের পাশাপশি আমার আতঙ্ক- এতগুলো বইয়ের দাম দেব কী করে? কিন্তু দেখি বইয়ের প্যাকেটের সঙ্গে একটা চিঠি। তাতে লেখা রয়্যালটি বাবদ যেন ১০০ কপি গ্রহণ করি। আমার সকল আতঙ্ক উবে যায়! আমি বলে প্রকাশককে কৃতজ্ঞতা জানাবো, ভেবে পাই না।
পরের বছর কবিতার পাণ্ডুলিপি নিয়ে যাই বাংলাবাজার। মেলায় পরিচয়সূত্রে যাই জ্যোৎস্না পাবলিশার্সে। প্রকাশক বললেন, কবিতার বই তো চলে না। বাচ্চাদের গল্পের বই হলে ছাপতে পারে। তখন খেলাঘর আসরে পড়ার জন্যে ২টি মাত্র কিশোরগল্প লিখেছি। ওতে তো আর বই হবে না। আরো ৪/৫টা গল্প লাগে! তবু রাজি হয়ে যাই। পরের দিন পাণ্ডুলিপি রেখে আসি। নতুন বইয়ের মুখ দেখার নেশায় একরাতেই লিখে ফেলি আরো ২টি গল্প। পরের দিন বাংলাবাজারে যাই। প্রকাশক বলেন, আরে ভাই ২টা গল্প দিয়ে কি বই হয়! আমি বলি এই তো আরো ২টা আছে। আর কয়েকটা খুঁজে পাচ্ছি না। আপিন কম্পোজে দিন। আমি নিয়ে আসবো। আমি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আরো ৩টি গল্প লিখি। আর এভাবেই হয়ে যাই আমার ২য় বই ‌'শুভর শখের গোয়েন্দাগিরি'। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শামিনুর রহমান (পরে তিনি বাংলা একাডেমীতে যোগ দেন)। বইটির তৃতীয় সংস্করণ এখন বাজারে।
আমি ভাগ্যবান, পয়সা বিনিয়োগ ছাড়াই আমার সকল বই বের হয়েছে। বাংলা একাডেমীই ছেপেছে আমার ৪টি বই। তাই তরুণদের (আমিসহ) ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বাজারে কত প্রকাশক! একজন না একজন পাওয়া যাবেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28866237 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28866237 2008-11-08 10:30:40
প্রথম আলোর ব্লগ নিয়ে কিছু কথা http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28865977 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28865977 2008-11-07 18:58:23 রিপোস্ট: দেখি এবার কী করে? :: কুষ্টিয়ার ডা. গোলাম রহমান ও তাঁর লালন-অনুরাগ কুষ্টিয়ার ডা. গোলাম রহমান ও তাঁর লালন-অনুরাগ
তপন বাগচী

লালন-অনুরাগী ডা. গোলাম রহমানের (১৯১১-১৯৭৮) নাম পড়েছি অন্নদাশঙ্কর রায়ের 'লালন ও তাঁর গান' গ্রন্থে, দীর্ঘদিন আগে। কিন্তু তাঁকে বেশি করে জানার সুযোগ হয়নি। প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও কুষ্টিয়ার একসময়ের মহকুমা প্রশাসক অন্নদাশঙ্কর রায়ের সহকারী ছিলেন তিনি। লালনের গান সংগ্রহ ও লালনের সমাধি সংরক্ষণের ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ ও উদযোগ ছিল। এইটুকু ধারণার বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না আমার। পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব এবং নিজের আগ্রহের সীমানা বিস্তৃত না হওয়ায় এই দশা মেনে নিতে হয়েছে। এই ব্যাপারে আমাকে আগ্রহান্বিত করে তোলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লালনগবেষক প্রফেসর ডক্টর আবুল আহসান চৌধুরী। আমার এই গবেষণা-গুরুর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও আলোচনার মাধ্যমে ডা. গোলাম রহমান সম্পর্কে অল্পবিস্তর জানার সুযোগ পাই।
সরকারি চাকরিসূত্রে ডা. গোলাম রহমান কেবল অন্নদাশঙ্কর রায় নন, কুষ্টিয়ার আরেক মহকুমা প্রশাসক ড. হিরণময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করেন। কিন্তু এটি তাঁর একমাত্র ও বড় পরিচয় নয়। এরকম অনেকের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ তো অনেকেরই ঘটে। তাঁরা তো প্রজন্মান্তরে সমাজে আলোচনার যোগ্য হয়ে ওঠেন না। ডা. গোলাম রহমান আমাদের মনোযোগ দাবি করছেন কিংবা আলোচনার যোগ্য হয়ে উঠেছেন বিশেষ কিছু কর্মযজ্ঞের সঙ্গে নিজেকে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করার কারণে। তাঁর কাজের কিছুটা বিশেষত্ব ছিল বলেই তিনি আজ স্মরণযোগ্য। তাঁর কীর্তির কথা জানতে পেরে আমরা বর্তমান প্রজন্মের লালন-অনুরাগীরা কিছুটা হলেও উদ্দীপ্ত হচ্ছি। এ-ও তাঁর পরোক্ষ অবদান বটে!
সংস্কৃতিসেবী এই ডা. গোলাম রহমান নানান ঘটনায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহচর্য পেয়েছেন। বিশিষ্ট নাট্যকার ও চলচ্চিত্রাভিনেতা নেজামতউল্লাহ, বহুভাষাবিদ পণ্ডিত ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বিজ্ঞানী ও জাতীয় অধ্যাপক ডক্টর কাজী মোতাহার হোসেন, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, ‘হারামণি’-খ্যাত অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুরউদ্দিন, সাহিত্যিক-সমাজসেবী অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট ফজলুল বারি চৌধুরী, অধ্যাপক মুহম্মদ আবূ তালিব, ডক্টর আনোয়ারুল করীম, ডক্টর খোন্দকার রিয়াজুল হক, ডক্টর আবুল আহসান চৌধুরী প্রমুখ পণ্ডিত ও লালন-গবেষকদের সঙ্গেও তাঁর ওঠাবসা ছিল। লালনের গান প্রচারের জন্য তিনি স¤প্রচার কর্তৃপক্ষের প্রতি অর্থাৎ রেডিও-টেলিভিশনের কর্তাব্যক্তিদের কাছে আবেদনধর্মী লেখালেখি করেছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বেতারে লালনের গানের অনুষ্ঠান প্রচারের ব্যবস্থা হয় বলে জানা গেছে।
আমরা আরো জেনেছি যে, পাকিস্তান আমলে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর আক্রমণের হাত থেকে লালনপন্থীদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রত্যক্ষ অবদান ছিল। ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের সমাধি ও আখড়ার প্রবেশপথ তৈরির পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম ছিলেন তিনি। 'লালন লোকসাহিত্য কেন্দ্রে'র প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ছিলেন তিনি। কুষ্টিয়ার তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে তিনি লালন-সমাধির অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ করিয়ে নেন। তিনি 'লালন লোকসাহিত্য কেন্দ্রে'র জন্যও একটি ভবন তৈরি করিয়ে নিয়েছিলেন। শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে বাউলদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যাঁরা মিশেছেন, ডা. গোলাম রহমান তাঁদের অগ্রণী পুরুষ। তাঁর প্রদর্শিত পথ ধরে এখন শিক্ষিত মহলের কাছে বাউলগান ও বাউলরা খুব কাছে মানুষ হয়ে উঠেছে। লালনের গানের সংগ্রাহক হিসেবে তাঁর অবদান আজ অস্বীকার করার উপায় নেই।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কমিউনিস্ট বিপ্লবী কমরেড সুধীরকুমার সান্ন্যালের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি ডা. গোলাম রহমানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিশেষভাবে জানতেন। তাঁর পুত্র শামসুর রহমান বাবুর কাছে লেখা এক চিঠিতে কমরেড সুধীরকুমার সান্ন্যাল লিখেছেন--
লালন সাঁইজী সম্পর্কে তিনি ছাত্রাবস্থা থেকেই ছিলেন অনিসন্ধিৎসু। তখনকার দিনে লালন শাহ সম্পর্কে উৎসাহী হওয়া ও তাঁর সম্পর্কে গবেষণা করা খুবই কঠিন কাজ ছিল। তোমার পিতৃদেবকে এজন্য নিগৃহীতও হতে হয়েছে। আফসার মৌলভীদের মতো উঁচুদরের ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। অবশ্য তিনি আমাদেরই বন্ধু মোহিনী মিলের শ্রমিক-কর্মীদের কাছ থেকে বিশেষ করে রওশনভাইদের কাছ তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন। আজ লালন ফকির দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত, নতুন জাগরণ এনেছেন। .... ছেউড়িয়া গ্রামের মোহিনী মিলেরর জঙ্গী কর্মী জুলফকর, উমর আলী, জামান- সব মারা গিয়েছেন। বোধহয় সেকেন্দার আলী বেঁচে আছেন। এরা লালনের শিষ্যদের রক্ষা করতেন মৌলভীদের হাত থেকে। এছাড়া প্রয়াত কর্ণ মণ্ডল সাহেবের পুত্র আমার সহপাঠী রহমতউল্লাহ বিশ্বাস এরাও তোমার পিতার পরিচিত ছিলেন। এরা লালন ভক্ত ছিলেন। [পত্রাংশ, ১৬ জুলাই, ১৯৯৩]
ডা. গোলাম রহমানের আমলে লালনশিষ্যদের উপর নির্যাতনের খবর পাওয়া যায় এই পত্রাংশে। তিনি নিজেও যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন একথা সহজেই অনুমেয়। সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি লালন-অনুসারীদের রক্ষা করার ব্রত গ্রহণ করেছিলেন। এই কারণে তিনি আমাদের কাছে আজ শ্রদ্ধার আসন পাচ্ছেন। আমরা লক্ষ করছি যে, এই ধরনের নির্যাতন এখন নতুন করে শুরু হয়েছে লালনের ওপর। বিমানবন্দরে লালনের ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনাই তার প্রমাণ বহন করে। লালনের বিরুদ্ধে যত নির্যাতন এসছে লালনের দর্শন ততই প্রচারিত ও গ্রাহ্য হয়েছে। লালনের ভাস্কর্য বিমানবন্দর থেকে সরানো হলেও ওই চত্বরের নাম এখন লালনচত্বর হিসেবেই পরিচিত হবে। সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা ছাড়াই এই স্বীকৃতি অচিরেই বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি।
অন্নদাশঙ্কর রায়ের 'লালন ও তাঁর গান' গ্রন্থে যে ৪০টি গান স্থান পেয়ে তা সংগ্রহ করা হয়েছে আনোয়ারুল করীম, আবুল আহসান চৌধুরী, অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুরউদ্দিন ও মুহম্মদ গোলাম রহমানের কাছ থেকে। গ্রন্থে তার স্বীকৃতি রয়েছে। ওতে তাঁর সংগ্রহীত ০৭টি গান রয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় ডা. গোলাম রহমানের ১৯৭৪ সালে লেখা একটা চিঠির প্রায় পুরোটাই প্রকাশ করা হয়েছে। এই চিঠিতে লালন শাহের মাজার ঘরটি মেরামতের ইতিহাস বিধৃত রয়েছে। তিনি লিখেছেন--
দরগার মাজারঘরটি প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে এবং আমি বহু কষ্ট করে আর একটি ঘর ছাদ পর্যন্ত করার পর আমার অসুখ হয়ে পড়ায় আমি আর ছাদ দিতে পারলাম না। পরে দেবীপ্রসন্ন চক্রবর্তী মহাশয় হযরত নিজামউদ্দীন আউলিয়ার মাজারের অনুকরণে নূতন ঘর করবেন বলে আমার তৈরী ঘরটি খুলে ফেলেন। এই সময় গবর্ণমেন্ট পনের হাজার টাকা স্যাঙ্কশন করায় তদানীন্তন ডেপুটি কমিশনার জনাব আহাদ সাহেব চার পিলারের উপর একটি শেড দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা রাজি না হওয়ায় তিনি হজরত নিজামউদ্দীন আউলিয়ার মাজরের অনুকরণেই বর্তমান ঘরটি করেছিলেন। তাতে নাকি দেবীপ্রসন্ন চক্রবর্তী মহাশয় বহু টাকা দান করেছিলেন। [ভূমিকা, অন্নদাশঙ্কর রায়, লালন ও তাঁর গান]

ডা. গোলাম রহমানের এই ভূমিকা ও অবদানকে লালনচর্চার ক্ষেত্রে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। তাঁদের মতো গুণী অনুরাগীরা ছিলেন বলেই লালনচর্চার ধারা দেশে-বিদেশে বিস্তৃত হতে পেরেছে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, লালনের জন্ম-মৃত্যু ও সাধনক্ষেত্র যেহেতু কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায়, তাই এখানেই তাঁর অনুসারীদের সমাদর ও সম্মান রক্ষা করতে হবে। লালন যেহেতু প্রচলিত সমাজরীতি ও ধর্মাচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী পুরুষ এবং তাঁর যেহেতু ভক্ত-অনুসারী সৃষ্টি হয়েছে, তাই তাঁদের প্রতি সমাজপতি ও ধর্মধ্বজাধারীরা আঘাত করবেই। এই বিষয়টি অনুধাবন করেই তিনি সত্য বলা সুপথে চলা বাউলদের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। কেবল অঞ্চলপ্রীতির কারণে তিনি বাউলদের পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তা ভাবা ঠিক নয়। তা হালে কুষ্টিয়ার সকল মানুষকেই তিনি সঙ্গে পেতেন। একথা ঠিক যে লালনবিরোধীদের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না, কিন্তু তারা ছিল প্রভাবশালী ও সংগঠিত। কিন্তু লালনের অনুসারীদের পক্ষের লোকসংখ্যা বেশি হলেও তারা সাধারণ ও অসংগঠিত। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো সাহসী লোকের দরকার ছিল। সময়ের সেই দাবি পূরণেই এগিয়ে এসেছিলেন ডা. গোলাম রহমান। সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন বলেই এই সাহসী কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করতে পেরেছিলেন। তাই তাঁকে বিপ্লবী সালাম জানাই।
ডা. গোলাম রহমান নিশ্চয়ই একা ছিলেন না। তাঁর সঙ্গেও আরো ভালো মানুষ ছিলেন। যাঁদের সকলের নাম হয়তো আমরা জানি না, কিংবা চেষ্টা কলেও হয়তো তাঁদের নাম জানার সুযোগ আর নেই। তাঁদেরকেও আমরা শ্রদ্দা জানাই। ডা. গোলাম রহমান তাঁদের প্রতিনিধি ও নেতা হিসেবে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য গ্রহণ করবেন।
আজকে লালনচর্চায় যাঁরা স্বার্থ ও সুবিধা খোঁজেন, লালনের গানের ওপর হ্রন্থ রচনা করেন কিন্তু লালন-ভাস্কর্যের অপসারণের পরেই প্রতিবাদ উচ্চারণ করেন না, তাঁদের দেখে অনুমান করা যায় ডা. গোলাম রহমানের মতো মানুষেরা কত বড় ছিলেন! লালনচর্চাকে স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত করেননি বলেই ডা. গোলাম রহমান আমাদের নমস্য হয়ে ওঠেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28863501 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28863501 2008-11-02 15:03:41
গতকালের মতো এই পোস্টটিও কি নিষিদ্ধ করা হবে? আমি কি নিষিদ্ধ? গতকাল আমি কুষ্টিয়ার ডা. গোলাম রহমান নামের অখ্যাত ব্যক্তির লালন-অনুরা গনয়ে একটা পোস্ট লিখেছিলাম। তিনি ছিলেন কুষ্টিয়ার তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক অন্নদাশঙ্কর রায়ের করণিক। তিনিই প্রথম লালন আখড়ার ছাউনি দিয়েছিলেন। তাঁর সংগ্রহ করা ৭টি গান অন্নদাশঙ্কর রায়ের ‌‌'লালন ও তাঁর গান' নামের গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। মনীষীতুল্য এই ব্যক্তি সম্পর্কে আমি কিছু তথ্য পাই ডক্টর আবুল আহসান চৌধুরীর কাছ থেকে। ওই তথ্যের উপর ভিত্তি করে একটি প্রবন্ধ লিখি '‌কুষ্টিয়ার ডা. গোলাম রহমান : লালন-অনুরাগীর সন্ধানে' নামে। পোস্টটি প্রথম পাতায় ছিল (যেহেতু এখনও আমি নিরাপদ ব্লগার)। কিন্তু মিনিট খানেক পরেই দেখি ওটি নেই। প্রথম পাতায় তো নেই-ই আমার ব্লগেও নেই। ভাবলাম আমার কোনও অজ্ঞতার কারণে কোথাও ক্লিক করার কারণে ওটি ডিলিট হতে পারে। তাই কষ্ট করে আবার পোস্ট করি। কিন্তু তথৈবচ!
এখন আমার প্রশ্ন লালনের নাম থাকার কারণে কি পোস্টটি নিদ্ধি করা হয়েছে। নাকি তপন বাগচীর কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে? বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য ব্লগের কর্তাদের এবং ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এখনও পর্যন্ত এই ব্লগে একটিও 'অশ্লীল' শব্দ লিখিনি। আমার প্রতি এই খড়্গ নেমে আসার কারণ জানার এই পোস্টটিও কি নিষিদ্ধ করা হবে?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28863415 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28863415 2008-11-02 12:52:38
প্রথম পাতা থেকে পোস্ট অপসারণের পরে Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28862703 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28862703 2008-10-31 22:36:58 মুসলিম দেশে ভাস্কর্য নিয়ে আমার পোস্ট কই? দৈনিক সমকালে একটি লেখা তুলে দিছেলাম। লিঙ্ক
http://www.shamokal.com/details.php?nid=98860]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28862566 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28862566 2008-10-31 17:17:55
মুসলিম দেশের যত ভাস্কর্য ইসলামে যদি ভাস্কর্য নিষিদ্ধ থাকত, তাহলে মুসলিম দেশে ভাস্কর্য নির্মিত হতো না। আজকের দৈনিক 'সমকালে' (৩১.১০.০৮) আজাদুর রহমান চন্দনের একটি লেখা আছে। তাঁর লেখাটি হবহু তুলে ধরছি।--

মুসলিম দেশের যত ভাস্কর্য
আজাদুর রহমান চন্দন

সম্প্রতি এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে গেল বাংলাদেশে। একদল (মাত্র শ' দেড়েক) সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থির আপত্তির মুখে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে 'অচিন পাখি' নামের নির্মাণাধীন বাউল ভাস্কর্য ভেঙে সরিয়ে ফেলেছে সরকার। এ নিয়ে সঙ্গত কারণেই গত দু'সপ্তাহ ধরে দেশের নানা স্থানে নিন্দা-প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন অসাম্পদায়িক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। অন্যদিকে সা¤প্রদায়িক মৌলবাদী ক্ষুদ্র গোষ্ঠীটি হুঙ্কার ছাড়ছে-- তারা ক্ষমতায় গেলে নাকি দেশের সব ভাস্কর্য, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ভেঙে ফেলবে; নিভিয়ে দেবে 'শিখা চিরন্তন' ও 'শিখা অনির্বাণ'।
বাংলাদেশে স্বার্থান্বেষী ধর্ম ব্যবসায়ী এ চত্রক্রটি বরাবরই মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ¯বার্থ হাসিলের চে®দ্বা করে আসছে। অথচ স্থাপত্য-ভাস্কর্য এসবের সঙ্গে ধর্মের কোনো বিরোধ দেখা যায় না বাস্তবে; বরং দেশে দেশে স্থাপত্য-ভাস্কর্য নির্মাণে মুসলমানদের অবদানও রয়েছে যথেষ্ট। এ উপমহাদেশের অধিকাংশ খ্যাতনামা স্থাপত্যই মুসলমান শাসকদের সৃষ্টি। শুধু তা-ই নয়, ইরান, ইরাক, মিসর, সিরিয়াসহ অনেক মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য রয়েছে। আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিরা যখন বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করে, তখন ইরানের পার্লামেন্ট তার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল।
যে যুক্তি দিয়ে এ দেশের মৌলবাদীরা ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে, সে যুক্তিতে কিন্তু মানুষের ছবি তোলাটাও ঠিক নয়। অথচ বাস্তবে ওই মৌলবাদীরাও ছবি তুলছেন নিজের ¯বার্থে। এমনকি কট্টর রক্ষণশীল মুসলিম দেশ সৌদি আরবে খেলনা পুতুল বিক্রি হয় বৈধভাবেই। ওই পুতুল সে দেশে খুবই জনপ্রিয়।
ইরান, মিসর, ইরাকের জাদুঘরে অসংখ্য ভাস্কর্য এবং প্রাচীন শাসক ও দেব-দেবীর মূর্তি তো রয়েছেই, সেসব দেশে উন্মুক্ত স্থানে রয়েছে অনেক ভাস্কর্য। ইরানে আছে একটি বিশাল স্বাধীনতাস্তম্ভ, যার নাম 'আজাদী'। এ স্থাপত্যটির ডিজাইনার হোসেন আমানত একজন মুসলমান। কবি ফেরদৌসী, ওমর খৈয়াম, পারস্যের নেপোলিয়ন বলে খ্যাত নাদির শাহ্র মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ভাস্কর্য রয়েছে ইরানে। মাশহাদ নগরীতে ভাস্কর্যসংবলিত নাদির শাহ্র সমাধিসৌধটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়।
ইরানের রাজধানী তেহরানে দু’বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় সমকালীন ভাস্কর্য প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা। সর্বশেষ ও পঞ্চম দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনীটি হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে। এতে ১০৫ জন শিল্পীর ১১২টি ভাস্কর্য ঠাঁই পায়। তেহরান মিউজিয়াম অব কনটেম্পরারি আর্টসে আয়োজিত এ প্রদর্শনী স্পন্সর করে সে দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
ইরানের মাজানদারান প্রদেশে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় বালির তৈরি ভাস্কর্য প্রদর্শনীর। এটি একটি উৎসব_ স্যান্ড স্কালপচার ফেস্টিভ্যাল। ২০০৫ সালের ১ থেকে ৬ সেপ্টেল্টল্ফ^র মাজানদারান প্রদেশের বাবলসার নগরীতে অনুষ্ঠিত হয় বালির তৈরি ভাস্কর্যের প্রথম প্রদর্শনী। ™ি^তীয়বার হয় ২০০৬ সালের ৬ থেকে ২১ আগস্ট বাবলসার, সারি ও রামসার নগরীতে। এতে ২৭৫টি ভাস্কর্য ঠাঁই পায়। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে মাজানদারান প্রদেশে বালির তৈরি ভাস্কর্যের সপ্তাহব্যাপী তৃতীয় জাতীয় প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রভিন্সিয়াল কালচার অ্যান্ড ইসলামিক গাইডেন্স ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতায়।
পিরামিডের জন্য দুনিয়াজোড়া খ্যাতি মিসরের। বিরাটত্বের দিক থেকে বিখ্যাত হলো জোসার বা স্টেপ (সোপান) পিরামিড ও গিজা পিরামিড। পাথরের তৈরি ¯িম্ফংসের মূর্তিসংবলিত গিজা পিরামিড সারা দুনিয়ার পর্যটকদের অতি প্রিয়। শুধু ইসলামপূর্বই নয়, অনেক অনেককাল আগের তথা খ্রিস্টপূর্ব আড়াই হাজার অব্দের এসব মূর্তি মিসরের মুসলমানরা ধ্বংস করেনি, গর্বের সঙ্গে রক্ষা করে। স¤প্রতি আফগানিস্তানে যে তালেবানরা বামিয়ানের জগিদ্বখ্যাত বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করেছে তারা মৌলবাদী, বিেশ্বর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সঙ্গে তাদের মিল নেই। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে মাহমুদ মোখতারের বিখ্যাত ভাস্কর্য 'মিসরের রেনেসাঁ'।
ইরাকেও আছে অনেক ভাস্কর্য। বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে ডানার ভাস্কর্যটি সবার নজর কাড়ে। বাগদাদের পাশে আল-মনসুর শহরে আছে মনসুরের একটি বিশাল ভাস্কর্য। আছে অনেক সাধারণ সৈনিকের ভাস্কর্য। সাদ্দাম হোসেনের বিশাল আকারের ভাস্কর্যটি মার্কিন আগ্রাসনের পর ভেঙে ফেলে সাদ্দামের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, যারা মার্কিন বাহিনীর মদদপুষ্ট। এটা ভাঙা হয় রাজনৈতিক কারণে, ধর্মীয় কারণে নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28862558 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28862558 2008-10-31 17:03:34
আজ শুক্রবার ভোরের কাগজ সাময়িকীতে শামসুর রাহমানকে নিয়ে আমার স্মৃতিচারণ Click This Link
অথবা
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28859028 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28859028 2008-10-24 13:01:07
কবি শামসুর রাহমান : স্মৃতি-অনুভবে কবি শামসুর রাহমান : স্মৃতি-অনুভবে
বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠকবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন মানে বাঙালির আনন্দের একটি দিন। আমাদের প্রজন্মের সৌভাগ্য যে তাঁকে চাক্ষুষ করেছি। আমরা মাইকেলকে দেখিনি, রবীন্দ্রনাথকে দেখিনি, নজরুলকে দেখিনি, জীবনানন্দ-বুদ্ধদেব-সুধীন-অমিয়-বিষ্ণুকে দেখিনি, সুকান্তকে দেখিনি, জসীমকে দেখিনি, কিন্তু রাহমান-সুনীল-শক্তি-বিনয়-মাহমুদকে দেখেছি। নিজের দশকের শীর্ষস্থানীয় তো বটেই নিজের সময়ের বড় কবি হিসেবেই তিনি প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন। কেবল কবিতা নয়, শিশুসাহিত্য, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধসাহিত্য ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তিনি ব্যাপক সাফল্যের নজির রেখে গেছেন।
শামসুর রাহমান চলমান রাজনীতির প্রায় সকল গণমুখী কর্মসূচির সঙ্গে একাত্ম হয়ে কবিতা লিখেছেন। গণমানুষের কবি হিসেবে তিনি সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু এই রাজনীতিমনস্কতাকে কেউ কেউ দলীয় সমর্থন মনে করে তাঁর সমালোচনা করেছেন। তবু তিনি বিশ্বাসের প্রতি অটল ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ভারতে গিয়ে অবস্থান করেননি বলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এক কবি মাঝেমধ্যে কটাক্ষ করে কথা বলেন। কিন্তু তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গিয়ে কী করেছেন, আর শামসুর রাহমান অবরুদ্ধ বাংলাদেশে বসে কী করেছেন, তার তুলনা করলেই 'ম্যাঁও' ধরা পড়ে। শামসুর রাহমান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যে কবিতা লিখেছেন, তা-ই এখন ইতিহাসের অমূল্য দলিল হিসেব বিবেচিত। বন্দিশিবিরের বাসিন্দা শামসুর রাহমান-ই প্রগতিকামী মানুষের কাছে শ্রদ্ধেয় হয়ে রয়েছেন। আর মুক্তিযোদ্ধা দাবিদার কবিদের কেউ কেউ প্রতিক্রিয়াশীলদের দলে নাম লিখিয়ে দিব্যি আরাম-আয়েস খুঁজছেন। একাত্তরে বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী কোনও কোনও কবি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বলে গল্প ফেঁদে বেড়াচ্ছেন।
১৯৯৭ সালে পাক্ষিক 'অন্যদিন' পত্রিকায় কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ শুরু করি। ফেব্র“য়রি শেষের দিকে মুক্তিযোদ্ধা লেখকদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনার উদ্যোগ নিই। পঞ্চাশের কবি শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদ, ষাটের কবি রফিক আজাদ ও মাহবুব সাদিক এবং সত্তরের কবি আবিদ আনোয়ারের সাক্ষাতকার গ্রহণের পরিকল্পনা করি। রাহমানভাই আমাকে বলেন, 'তুমি যে অর্থে মুক্তিযোদ্ধা বলছ, আমি তা নই। আমি অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করি নাই, কবিতা হাতে যুদ্ধ করেছি।' রাহমানভাই সাক্ষাৎকার দিলেন না। আমার পরিকল্পনার কথা জেনে ষাটের এক কবি ও সাংবাদিক আমাকে ডেকে বললেন, 'তোমার প্রতিবেদনের পরিকল্পনাটি ভালো। কিন্তু আমিও যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আমার সাক্ষাৎকারও তো নিতে পারো।' তিনি চাকরি করতেন এমন একটি পাক্ষিক কাগজে আমি একসময় অল্পবিস্তর লেখালেখি করেছি। কিন্তু তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়টি না জানা থাকায় বরং লজ্জা পেয়ে যাই। আমি তাঁকে কয়েকটি প্রশ্ন লেখা একটি কাগজ দিই এবং সাক্ষাৎকারটি লিখিত আকারে দিতে অনুরোধ করি। তিনি পরেদিন বাসায় যেতে বলেন। ইতোমধ্যে আমি মাহবুব সাদিককেও লিখিত প্রশ্নমালা দিয়েছি। তিনি পরের দিন বইমেলা থেকে তাঁর উত্তর সংগ্রহ করার কথা বলেন। সেই কবি-সাংবাদিকের বাসা থেকে তাঁর লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করে মেলায় আমি মাহবুব সাদিকের বক্তব্য সংগ্রহের জন্য যাই। মেলায় একটু খুঁজেই দেখা পাই সাদিকভাইয়ের। তিনি লিখিত সাক্ষাতকারের কপিটি আমার হাতে তুলে দেন। তারপর দু'জনে মেলায় ঘুরতে থাকি। একসময় তিনি বলেন, 'আর কারো কি জবাব পেয়েছেন?' আমি বলি, 'হ্যাঁ, আপনাদের আরেক কবিবন্ধু লিখে দিয়েছেন।' ওই কবির নাম শুনেই তিনি চমকে উঠলেন। বললেন, 'দেখি ও কী লিখেছে?' আমি পকেট থেকে আগের পাওয়া কাগজখানা দিই। তিনি তৎক্ষণাৎ পড়ে আমাকে ফেরত দেন এবং নিজের লেখাটা একটু দেখতে চান। বলার ভঙ্গিটা এমন যেন ওতে আরো কিছু তথ্য যোগ করবেন। আমি লেখাটি বাড়িয়ে দিতেই তিনি ছো মেরে নিয়ে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে মেলার ঘাসে ছড়িয়ে দিলেন। এবং মেলার গেটের দিকে দ্রুত বেগে পা ছোটালেন। আমি পেছন পেছন দৌড়ে যাই। তিনি মেলার বাইরে চলে গেলেন এবং বাসার দিকে ছুটলেন। সাদিক ভাইকে কখনো উত্তেজিত হতে দেখি নি। আমার কোনো আচরণে এই প্রতিক্রিয়া হবে ভাবতে পারিনি। আবার প্রকৃত কারণটাও বুঝতে পারছি না। তাই তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়াই। তিনি এবার শান্ত ভঙ্গিতে বলেন, 'ও যদি মুক্তিযোদ্ধা হয়, তাহলে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে চাই না। তাই আমার সাক্ষাৎকার ছিঁড়ে ফেলেছি। যান এব্যাপারে আর আমি কথা বলব না। পারলে রফিক আজাদকে জিজ্ঞেস করুন'। সাদিকভাই চলে গেলেন। আমি ওই কবি-সাংবাদিকের আগবাড়িয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার রহস্য বুঝতে পারলাম। অগত্যা, আমি ওই প্রতিবেদন রচনা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে জানান দিতে চাওয়া ওই কবি-সাংবাদিক ক্ষেপে রইলেন। ঝোঁপ বুঝে কোপ দিতেও ছাড়েননি তিনি। আমি একসময় কবি রফিক আজাদের কাছে ওই ঘটনার কথা পাড়ি। তাঁর সাথে উনি যুদ্ধে ছিলেন কিনা জানতে চাই। রফিক ভাই বলেন, 'দেখ ভাই, যারে ক্ষমা করে দিছি। তার কথা বলা উচিত হবে না। এটা আমার নীতিতে নাই। তুমি অন্য কারো কাছ থেকে জেনে নিও।' আমার বুঝতে আর বাকি থাকে না মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবস্থান কী ছিল। কিন্তু আজ সেই বিষয়ে বলার জন্য নয়, শামসুর রাহমানের কথা বলার জন্যই ওই ঘটনা মনে পড়ল। কবি শামসুর রাহমান মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে অংশ না নিলেও তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আর যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নেয়াকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ হিসেবে জাহির করেন কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীলদের হাত শক্তিশালী করেন তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা বলতে আমার বিবেকে বাঁধে। তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা বললে তো ভারতে আশ্রয় নেয়ার কারণে আমার মতো ৩/৪ বছরের বালকও মুক্তিযেদ্ধা বলতে হবে।
'বন্দিশিবির থেকে' ছাড়াও প্রতিটি কবিতায় রয়েছে দেশ-ভাষা-মানুষের মুক্তির কথা। জাতির ক্রান্তিলগ্নে তিনি বালিতে মুখ লুকিয়ে থাকেননি, কলম হাতেই ছুটে গেছেন রাজপথে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। সত্তরের অন্যতম প্রধান কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ও কবি মোহন রায়হানের আহ্বানে গঠন করেছেন জাতীয় কবিতা পরিষদ। এই সংগঠনের প্রথম সভাপতি হিসেবে শামসুর রাহমান স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। এশীয় কবিতা উৎসবের নামে ধামাধরা কবিদের আস্ফালন বন্ধ করেছেন। পরিনামে দৈনিক বাংলার সম্পাদকের চাকরি ছাড়তে হয়েছে। তবু পিছপা হননি। তাঁর নেতৃত্বে সারা দেশের কেবল কবিরা নন, সংস্কৃতিকর্মীরা সমবেত হয়েছেন। এরশাদের পতনের আন্দোলনে শামসুর রাহমানের নেতৃত্বও আমরা সম্মান জানাই। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় কবিতা পরিষদ এখনো সক্রিয় রয়েছে, প্রতিবছর উৎসবের মাধ্যমে কবিতাকর্মীদের ঐক্য বজায় রাখছে। এই পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে নিজেকে ধন্য মনে করি।
শামসুর রাহমানের মৃত্যু আমার কাছে অকালমৃত্যু বলে মনে হয়েছে। হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়ে একবারও মনে হয়নি তিনি ঘরে ফিরবেন না। কবি হারিসুল হকের কাছে পাওয়া তথ্য থেকে মনে হতো, দুএকদিন বিশ্রামের পরেই ঘরে ফিরে যাবেন, বসবেন তাঁর লেখার টেবিলে। কিন্তু না, সকল প্রত্যাশাকে মিথ্যে প্রমাণ করে তিনি অনন্তের পথে চলে গেছেন। তাঁর মরদেহ দেখতে আমি যাইনি। ঘরে বসে তাঁর কাব্যসমগ্র পাঠ করেছি, তাঁর ছড়াসমগ্র পাঠ করেছি, প্রবন্ধে বই পাঠ করেছি। এই তিন বিষয়ে তিনটি প্রবন্ধ লিখে যুগান্ত, জনকণ্ঠ ও ভোরের কাগজে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর পরের শুক্রবার তা ছাপাও হয়েছে। কলকাতার 'কবিসম্মেলন' পত্রিকায় ছাপা হয়েছে ওই তিনপ্রবন্ধের তথ্যের সমন্বয়ে একটি প্রবন্ধ। কিন্তু তাঁকে নিয়ে ব্যক্তিগত অনেক স্মৃতিই না বলা রয়ে গেল। সময় পেলে একদিন প্রকাশ করা যাবে মহান এই কবির সঙ্গে অন্তরঙ্গ কিছু স্মৃতির বয়ান। আপাতত একটা স্মৃতির কথা বলি। রাইটার্স ক্লাব যেবছর তাঁকে 'কবিশ্রেষ্ঠ' উপাধি দেয়, ওইদিন তাঁর জন্মদিনে অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠে কানে বললাম, ‘রাহমান ভাই, আপনি আমার মাত্র ৩৮ বছরের বড়। আমিও তেইশে অক্টোবর’। রাহমানভাই আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। এবং তাঁর অভিভাষণের সময় আমার জন্মদিনের কথা উল্লেখ করে আমাকেও শুভেচ্ছা জানালেন। শামসুর রাহমান আমার ৩৮ বছরের বড়। কবি হিসেবে তিনি ৩৮ গুণ বড়! রাহমানভাইয়ের জন্মদিন মানে আমার তো বটেই। পৃথিবীর যেকোনো কবির জন্মদিন। শুভ জন্মদিন কবি শামসুর রাহমান!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28859011 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28859011 2008-10-24 11:51:13
আগামীকাল কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন তাঁর জন্মদিনে জাতীয় কবিতা পরিষদ সুফিয়া কামাল গণগ্রন্থাগারের সেমিনারকক্ষে জন্মোৎসব উদযাপনের আয়োজন করেছে। বিকেল ৪টায়। আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত।
এবারে তাঁর কয়েকটি ছবি ও হস্তাক্ষরের অনুলিপি দেখা যেতে পারে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28858318 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28858318 2008-10-22 22:06:56
মাহবুব মোর্শেদের ব্লগে আমার মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ হয়েছে http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28856566 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28856566 2008-10-18 21:26:13 শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমীতে একক যাত্রাভিনয় : আমন্ত্রণ 'অমলেন্দু বিশ্বাস স্মৃতি পদক' পদক পাচ্ছেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, কবি শামসুর রাহমান (মরণোত্তর), যাত্রাভিনেত্রী শবরী দাশগুপ্তা (মরণোত্তর), চারণিক নাট্য গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা তাপস সরকার প্রমুখ।
অমলেন্দু বিশ্বাস জীবন ও অভিনয়কর্ম নিয়ে একক যাত্রাভিনয় প্রদর্শন করবেন মিলনকান্তি দে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28855600 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28855600 2008-10-16 17:45:53
শ্রদ্ধাঞ্জলি : যাত্রাসম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাসের মৃত্যুবার্ষিকী আজ স্মরণ
আজ যাত্রাসম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাসের মৃত্যুবার্ষিকী
তপন বাগচী

যাত্রাসম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাসের আজ ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী। অভিনেতা, নির্দেশক, সংগঠক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের অভিনয়কলার ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম। বাংলাদেশের যাত্রাশিল্পে চারণসম্রাট মুকুন্দদাসের পরেই যাত্রাসম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাসের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চার্য।
বাংলাদেশের যাত্রাশিল্পের অমর প্রতিভার নাম অমলেন্দু বিশ্বাস। মাইকেল মধুসূদন যাত্রাপালায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি সর্বস্তরের দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। কেবল মাইকেল নয়, লেনিন, হিটলার, জানোয়ার, জাহান্দার শাহ, দস্যু কালা শের প্রভৃতি পালায় তাঁর অনবদ্য অভিনয় যে দেখেছে সেই কেবল উপলব্ধি করতে পারে! জীবদ্দশায় তিনি দর্শকশ্রোতার ভালোবাসা-শ্রদ্ধা পেয়েছেন, জাতীয় যাত্রা-উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান ও স্বীকৃতি পেয়েছেন, মৃত্যুর পরে পেয়েছেন একুশে পদক (১৯৮৯) এবং শহীদ মুনীর চৌধুরী সম্মাননা (১৯৯১)।
অমলেন্দু বিশ্বাসের জন্ম ১৯২৫ সালে বার্মার রেঙ্গুন শহরে। পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানার মসজিদিয়া গ্রামে। বাবা সুরেন্দ্রমোহন বিশ্বাস সেখানে চাকরি করতেন। ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন অমলেন্দু। ১৯৩৫ সালে তারা চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। স্কুলের বার্ষিক নাট্যাভিনয়ে তিনি অংশ নেন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময়। সেটি ছিল 'দাতা হরিশ্চন্দ্র' পালা। এটি আসলে যাত্রাপালা। ১৯৪১ সালে প্রবেশিকা পাস করে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে সেনা হেডকোয়ার্টারে বেঙ্গলি ক্লাবে অভিনয় করে সকলের প্রশংসা অর্জন করেন। চাকরির মধ্যেই তিনি রবার্টসন কলেজ থেকে এফএ পাস করেন। কিন্তু অভিনয়ের নেশা তাঁকে চাকরি করতে দেয়নি। চলচ্চিত্রের নায়ক হওয়ার আশায় তিনি টালিগঞ্জের রঞ্জিত মুভিটোনে চাকরি নেন। দেশবিভাগের পরে কলকাতার হাতছানি উপেক্ষা করে মাটির টানে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। চট্টগ্রাম রেলওয়েতে চাকরি নেন। অব্যাহত থাকে অভিনয়চর্চা। ১৯৬০ সালে অমলেন্দু বিশ্বাস তিনি সিরাজগঞ্জের বাসন্তী অপেরার মাধ্যমে পুরোপুরি পেশাদার অভিনয়জীবন বেছে নে। বাসন্তী অপেরার মাধ্যমে তিনি সারা দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এরপর চট্টগ্রামের আমিন শরীফ চৌধুরীর বাবুল অপেরায় যোগ দেন। তাঁর সহশিল্পী ছিলেন মঞ্জুশ্রী মুখার্জি। অমলেন্দু-মঞ্জুশ্রী ছিলেন স্বাধনিতাপূর্ব বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল জুটি। এসময় কোনো কোনো পালায় তিনি জ্যোৎস্না বিশ্বাসের বিপরীতেও অভিনয় করেন। একাতাতরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার কাজ করার সুযোগ হয় ভারতের শ্রেষ্ঠ যাত্রাদল 'নট্ট কোম্পানি যাত্রাপার্টি'তে। খ্যাতনামা নট ও নাট্যকার মহেন্দ্র গুপ্তের সান্নিধ্য ও সাহচর্যে তিনি ‘অভিনয়শিক্ষা’র সুযোগ পান। দেশ স্বাধীনের পরে তিনি কলকাতার অভিনয়ের সুযোগ সত্ত্বেও দেশে ফিরে আসেন। মানিকগঞ্জের তাপস সরকারের চারণিক নাট্যগোষ্ঠীর হাল ধরেন তিনি। এর অধিকারী হয়ে একে বাংরাদেশের শ্রেষ্ঠ যাত্রাদলে রূপান্তরিত করেন তিনি। যাত্রাগবেষক মিলনকান্তি দে'র তথ্যমতে তিনি মোট ৪৮টি পালায় অভিনয় করেন। তাঁর স্ত্রী জ্যোৎস্না বিশ্বাসও যাত্রাশিল্পের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর কন্যা অরুণা বিশ্বাস বাংলা চলচ্চিত্রের এক খ্যাতিমতী শিল্পী। তাঁর পুত্র মিঠু বিশ্বাসও নাট্যপরিচালনায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলছেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28854117 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28854117 2008-10-13 11:05:15
কীর্তিমানদের জন্য স্মৃতিরক্ষার সাধু উদ্যোগ
সরকার বেশ কয়েকজন কবি-সাহিত্যিকের নামে স্মৃতিকেন্দ্র , জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে জেনে ভালো লাগছ্ েউদ্যোগটি যে গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি যে সরকারের সংস্কৃতিপ্রীতির স্মারক, তা লেখাই বাহুল্য। জেনেছি, মাইকেল মধুসূদন (কেশবপুর, যশোর), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (কুষ্টিয়া ও খুলনা), মীর মশাররফ হোসেন (কুষ্টিয়া), কাঙাল হরিনাথ মজুমদার (কুমারখালী, কুষ্টিয়া), হাসন রাজা (সুনামগঞ্জ), সুকান্ত ভট্টাচার্য (কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ), ডা. লুৎফর রহমান (মাগুরা), জীবননান্দ দাশ (বরিশাল), ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান (নবীনগর, ব্রহ্মণবাড়িয়া), শামসুর রাহমান (নরসিংদী) প্রমুখ কবি ও শিল্পীর নামে তাঁদের জন্ম অথবা স্মৃতিধন্য স্থানে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এর জন্য অর্থিক বরাদ্ধও মঞ্জুর হয়েছে। প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণও করা হবে বলে শুনেছি। এই উদ্যোগকে সাধু বলতে চাই।
ভেবে আনন্দ পাচ্ছি যে, আমাদের সাহিত্য-সাংস্কৃতি পূর্বাধিকার এই সকল মনীষীতুল্য মানুষের স্মৃতি ও অধ্যয়নের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়তো হবে। পাশাপাশি জানতে ইচ্ছে করে, এর আগে বাস্তবায়নাধীন মীর মশাররফ স্মৃতিকেন্দ্র এবং বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের খবর কী! প্রকল্পের মেয়াদ তো শেষ হয়েছে বহু আগেই। এই দুটি স্মৃতিকেন্দ্রের জন্যও বরাদ্দ ছিল, জনবল নিয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু তা কি আদৌ চালু হয়েছে এতদিনে? এই দুটি প্রকল্পের মতো শ্লথগতি হলে তো এই নতুন প্রকল্পগুলো হতাশার আলো ছড়াবে। বরং আমরা ভাবতে পারি যে, আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এই নতুন প্রকল্পগুলোর আশু বাস্তবায়ন চাই।
আমাদের জানতে ইচ্ছে করে, নড়াইলে চিত্রানদীর পাড়ে বাস্তবায়নাধীন সুলতান কমপ্লেক্স-এর সর্বশেষ অবস্থা কী? কিছুদিন আগে পত্রিকায় পড়লাম যে এটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সুলতানের মেয় নীহারবালা তাঁর জন্য বরাদ্ধ অর্থ ঠিকমতো পাচ্ছেন না। দুর্বিষহ হয়ে ঊঠেছে তাঁর জীবনযাপন। সুলতান কমপ্লেক্ষ খোলার লোকই নাকি এখন নাই। নিযুক্ত লোকবল রক্ষার কোনো উদ্যোগ সেখানে নেই। আমরা রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, মশাররফ স্মৃতিকেন্দ্র ও সুলতান কমপ্লেক্সের সুষ্ঠু সমাপনী প্রত্যাশা করতে পারি।
সরকার যে কজন শিল্পী-সাহিত্যিকের স্মৃতি সংরক্ষেণ ব্যবস্থা নিয়েছেন তা নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তাঁরা যাথাযোগ্য ব্যক্তি। আমরা মনে করি এর পাশাপশি আরো কয়েকটি স্থানকে বেছে নেয়া যেত। যেমন বাংলা কবিগানের প্রবাদপুরুষ রমেশ শীল (চট্টগ্রাম) ও বিজয় সরকার (ডুমদি, নড়াইল), বাংলা যাত্রাগানের প্রবাদপুরুষ মুকুন্দদাস (বরিশাল), উপেন্দ্র-সুকুমার-সত্যজিত রায় (কিশোরগঞ্জ), বাংলা চলচ্চিত্রের জনক হীরালাল সেন (মানিকগঞ্জ), সাহিত্যিক সত্যেন সেন (বিক্রমপুর), কবি কামিনী রায় (বরিশাল), যাত্রাসম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাস (জাবরা, মানিকগঞ্জ), কবি ও নারীনেত্রী সুফিয়া কামাল (বরিশাল), মনীষী আহমদ শরীফ (চট্টগ্রাম), কবি আহসন হাবীব (পিরোজপুর), কবি হুমায়ুন আজাদ (বিক্রমপুর), চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন (রংপুর) প্রমুখের স্মৃতিরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেয়া যেতে পারে। এছাড়া যেসকল বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিকের বাড়ি বেদখল হয়ে যাচ্ছে, তা রক্ষা করাটাও জরুরি বলে মনে করি। দার্শনিক গোবিন্দচন্দ্র দেবের বাড়িটি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। কামিনী রায়ের বাড়িটিও আর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। একদিন দেখতে গিয়ে ফিরে এসেছি।
সরকারের এই উদ্যোগ আমরা স্বাগত জানাই। পাশাপশি আরও নতুন ক্ষেত্র চিহ্নত করার তাগিদ বোধ করি। আমার তাৎক্ষণিক স্মরণে আসা নামের পাশে হয়তো যুক্ত হবে আরো অনেক গৌরবজনক নাম। সকলের স্মৃতিরক্ষায় আমরা সচেষ্ট হলে, তাঁদের প্রতি অলক্ষ্য ঋণের বোঝা কিছুটা হলেও হালকা হবে। বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা কিছুটা দায়িত্বের পরিচয় দিতে পারব।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28851573 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28851573 2008-10-06 16:33:16
পুরনো খবর : জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০০৮ Click This Link
Published On: 2008-05-13
Metropolitan : Selim Al-Deen, Tapan Bagchi win Gemcon literary awards

Gemcon Literary Award giving ceremony was held at Sheraton Hotel in the city on Saturday. From left are Tapan Bagchi, Kazi Shahed Ahmed and Meherunnesa.
Eminent playwright Selim Al-Deen and Tapan Bagchi have been awarded Gemcon Literary Award and Gemcon Young Literary Award 2008 respectively, says a press release.
Selim Al-Deen was awarded for his play 'Shwarnoboal' and Tapan Bagchi for his manuscript 'Shesh Drishyer Aage'.
Meherunnesa, wife of late Selim Al-Deen, received the Gemcon Literary Award, which carries Tk 2 lakh, a crest and a certificate.
Tapan Bagchi received Tk 25,000, a crest and a certificate.
Kazi Shahed Ahmed, chairman of Gemcon Group, gave away the awards at a ceremony at Sheraton Hotel in the city on May 10.
The Gemcon award jury included poet Belal Chowdhury, Prof Bishwajit Ghosh and Prof Syed Monzoorul Islam from Bangladesh and writers Kinnar Roy and Avijit Sen from West Bengal, India.
Kazi Nabil Ahmed, vice chairman of Gemcon Group, spoke on the occasion. ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28850652 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28850652 2008-10-03 17:48:11
যশোরে সুফি প্রণবের মাযারে একদিন এরপর মোস্তাফিজ ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে খুলনার পথে বাসস্টান্ড যেতে উদ্যত হই। মিজান ভাই বললেন, চলুন কবি আজীজুল হকের কবরটা দেখে আসি। আমি বিনাবাক্যব্যয়ে রাজি হয়ে যাই। ডক্টর মিজানের গবেষণা সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। তাঁর ‌'সাতক্ষীরার পুরাকীর্তি' নামের একটি মূল্যবান গ্রন্থ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। বর্তমানে তিনি খুলনা জেলার পুরাকীর্তি নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপশি বাংলাদেশের কবর ও শ্মশানঘাট নিয়ে তিনি বেশ কিছু অনুসন্ধান চালিয়েছেন। এটিও বই হবে। বড়বড় মানুষের কবরস্থান কোথায় সে সম্পর্কে তাঁর বেশ ধারণা আছে। তো তাঁর মোটরসাইকেলের ফপছনে চড়ে পৌঁছে যাই কবি আজজীজুল হকের কবরে। কবরটি বাঁধাই করে দিয়েছেন তাঁর এক প্রাক্তন ছাত্র ও জোট সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী। কবরগাত্রে কবি আজীজুল হকের কবিতা খোদিত। ঝিনুক মুহূর্তে সূর্যকে স্মরণ করে ফিরে আসতেই দেখি পাশের একটি কবরে লেখা ‌'সুফী প্রণব'। বেশ বড় অক্ষরে 'সুফী' শব্দটি লেখা দেখে আমার চোখ আটকে যায়। আমি একটু ঝঁকে পড়োর চেষ্টা করি কবরগাত্রের উৎকীর্ণ বাণী। নেচে দেখি ছোট্ট করে লেখা প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী ও সুরকার প্রণব ঘোষ। ও! তাহলে জীবিত প্রণব ঘোষই মৃত ‌'সুফী প্রণব'। প্রণব ঘোষ বৈবাহিক সূত্রে ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে পড়েছি। কিন্তু 'সুফী প্রণব' নামে কি তিনি পরিচিত ছিলেন। তিনি 'সুফী প্রণব' নামে তো নিজেকে পরিচিত করাননি। তপন মাহমুদ যেমন নাম বদলে ফেলেছেন, প্রণব ঘোষ তো নাম বদলাননি। তবু তাঁর কবরগাত্রে 'সুফী প্রণব' লিখে কি সুরকার প্রণব ঘোষের প্রতি কি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হলো! এই প্রশ্ন আমার মনের মধ্যে এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে। সঞ্জীব চৌধুরীর ভাগ্য ভালো, যে মরার পরেও তিনি সঞ্জীব চৌধুরী আছেন!
আমি সুরকার প্রণব ঘোষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বেরিয়ে আসি। খুলনার পথে এগিয়ে যাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28845236 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28845236 2008-09-19 15:10:53
আজকের 'ভোরের কাগজ'-এ আমার একটি লেখা Click This Link

ইচ্ছে হলে কেউ পড়তে পারবনে। কিংবা আমিই একসময় খুঁজে নিতে পারব, সেই সুযোগটাই বা কম কী! অগ্রীম শুভেচ্ছা সবাইকে।


ভোরের কাগজ : সাময়িকী : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৮


রেহমান সিদ্দিক : দীর্ঘ এক পথের কবি
তপন বাগচী :

আশির দশকের এক অনালোচিত কবির নাম রেহমান সিদ্দিক। একটি শুদ্ধ কবিতা না লিখেও অনেক কবি তার সময়ে আলোচিত ও প্রচারিত হয়েছেন। কিন্ত অনেক শুদ্ধ কবিতা লিখেও রেহমান সিদ্দিক থেকে যান আলোচনায় বাইরে। তবে রেহমান তার শক্তি সম্পর্কে জানেন। আত্মবিশ্বাসী এই কবি তাই সরল স্বীকারোক্তি করেন--
শুধু জানি দীর্ঘ এক পথ আমাকে একাই অতিক্রম করে
পৌঁছে যেতে হবে সুদূরে কোথাও
(দীর্ঘ এক পথ, পৃষ্ঠা-৫)
দীর্ঘ এই পথে তার সঙ্গী কেউ না থাকুক, কিন্ত সামনে পাঠক থাকলেই চলবে। কবিতার পাঠক যে খুব বেশি থাকে, তেমন না কোনোকালেই। ভারতচন্দ্র কি আমরা এখন আর পাঠ করি? কিন্ত তার অমর উচ্চারণ এখনো বেঁচে আছে। পাঠকও কবিতার মাপকাঠি না। একালের অনেক কবির একটি কবিতাও হয়তো পাঠযোগ্য নয়। কিন্ত টাকা এবং চেয়ারের গুণে তার কাব্যসমগ্র বের হতে পারে। দলীয় আশীর্বাদ থাকলে ৫৯৯ কপি বিক্রি হয়ে যেতে পারে শিক্ষা মন্ত¿ণালয়ের কাছে। আলোচিত ও স্বীকৃত হলেও যে কবি হিসেবে সফল হয়ে ওঠে তেমনও নয়। কবিতায় বাংলা একাডেমী পুরস্কার পাওয়া অন্তত ০৫ জনের নাম বলা যাবে, যারা এখনই বিস্মৃত হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে জীবিত কবিও দুএকজনকে পাওয়া যাবে। রেহমান সিদ্দিকের কবিতা পাঠ করার সময়ে এই বিষয়গুলো মনে আসার বিশেষ কোনো কারণ নেই। রেহমান সিদ্দিকের কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে কবি শামসুর রাহমানের হাত দিয়ে। কিন্ত তিনি গ্রন্তিত হন তার একুশ বছর পরে। এই প্রতীক্ষাও আমাদের কবিদের ক্ষেত্রে বিরল উদাহরণ। প্রস্ত'তিতে তিনি এই যে বেশি সময় নিলেন, এর মূল্য তিনি অবশ্যই পাবেন। কারণ, আমরা ধরে নিতে পারি যে, এই সময়ে তিনি আরো প্রাজ্ঞ হয়েছেন, আরো শীলিত হয়েছেন।
আমরা দেখতে পাই যে, কবিতার প্রতিষ্ঠিত প্রকরণকে তিনি অমান্য করেননি। বিশেষ করে ছন্দকে তিনি অঙ্গীকার করেছেন অনেক কবিতায়। অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত 'অভিশাপ', 'বেদে', 'একাকী খুঁড়ছি অন্ধকার', 'মনমনুয়ার দেশ' প্রভৃতি চমৎকার কবিতা। 'কবর খোঁড়ার গান', 'শস্যের ছেলে' প্রভৃতি কবিতা মাত্রাবৃত্তে রচিত। তবে রেহমান সিদ্দিক তার প্রথম কাব্য 'দীর্ঘ এক পথ'-এ বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন স্বরবৃত্তে। এই ছন্দের হালকা চালের ভেতরে তিনি সফলভাবে জুড়ে দিতে পেরেছেন কবিতার গাম্ভীর্যকে। 'নিবেদন', 'চাই পেতেছি' কবিতাগুলো তার প্রমাণ। যেমন-- গহীন গাঙে চাঁই পেতেছি অপর বেলায় লালন শাহের তন্ত্রে বোনা আনকোরা চাঁই আটকাবে কি চন্দ্রমাছের রূপের ঝিলিক?
(চাঁই পেতেছি, পৃষ্ঠা-৪৩)
বাউলতত্ত্বের বিষয় নিয়ে লেখা এই কবিতা পড়লে এর ছন্দের হালকা চাল মনে আসার সুযোগ থাকে না। কারণ কবিতার ভাব গভীর শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রতীক ও রূপক।
লালন-দর্শন তথা বাউল দর্শকের রূপায়ণ আমরা প্রত্যক্ষ করি রেহমান সিদ্দিকের কবিতায়। 'উড়াল', 'চাঁই পেতেছি', 'বাউলের গান', 'নির্বাণের দেশ', 'মনমনুয়ার দেশ', 'রূপ দেখা কঠিন ব্যাপার' প্রভৃতি কবিতায় রেহমানের বাউলিয়া ও সহজিয়া জীবন দর্শনের লোকায়ত চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাউলশ্রেষ্ঠ লালন শাহ এবং বাউল পদকর্তা মহিন শাহের নাম সরাসরি উঠে এসেছে তার কবিতায়--
খিলকায় ভর দিয়ে উড়ে যায় মহিন বাউল মৃত্তিকায় একটিও দানা নেই পড়ে নিজেকেই খুঁটে খেতে খেতে মরে গেছে ক্ষুধা একদিন
(উড়াল, পৃষ্ঠা-৩৯)
লোকায়ত দর্শনকে আধুনিক কবিতার মাধ্যমে উপস্থাপন করে রেহমান সিদ্দিক তার নিজের কাব্যদর্শনকেও প্রকাশ করলেন। উত্তরাধুনিকতা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, রেহমান সিদ্দিক তাতে যোগ, দেননি, তবে লিখে দেখালেন নিজের ধারণাকে। উত্তরাধুনিক ধারায় কোনো আঙ্গিক নির্ধারণ করা হয়নি, বিষয় ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কেবল কর্পচানি চলছে। রেহমান সিদ্দিকের বিষয় উত্তরাধুনিক বলে তার কবিতাকে কেউ উত্তরাধুনিক বলতে চাইলে ঠেকায় কে?
একটি গ্রন্তে একজন কবিকে মাপার সুযোগ নেই। তবু কিছু প্রবণতা চিহ্নিত করা যেতে পারে। রেহমান সিদ্দিকের কবিতায়--
০১. ছন্দের শুদ্ধ প্রয়োগের চেষ্টা রয়েছে;
০২. লোকায়ত জীবন চেতনার প্রতিফলন রয়েছে;
০৩. অতিকথনের চেষ্টা নেই;
০৪. শব্দ প্রয়োগে জীবনমুখী;
০৫. চমকসৃষ্টির অপচেষ্টা নেই;
০৬. সমগ্র চিত্র অংকনের সাধনা আছে।
কবি যেমন বলেন 'মগ্ন হও সুন্দরের ধ্যানে/দেহের কঠিন মন্ত্র শুদ্ধরূপে পাঠ করো মুনি/খুলে যাবে তৃতীয় দরজা/পৌঁ-ছে যাবে নির্বাণের দেশে।' তেমনি আমরাও রেহমান সিদ্দিকের তৃতীয় দরোজা খুলে যাওয়ায় অপেক্ষা করছি।
আশির দশকে যারা মিডিয়ায় আলোচনার শীর্ষে ছিলেন ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে অনেকের নাম। আবার কেউ কেউ উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছেন। রেহমান সিদ্দিক শেষোক্তদের দলে। বাংলাদেশের কবিতায় শুদ্ধতাবাদী কবিদের দলে রেহমান সিদ্দিকের অবদানকে অস্বীকার করার উপায় নেই। তার কবিতা আমার ভালো লেগেছে। আমার মতো অনেকেরই ভালো লাগবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28845171 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28845171 2008-09-19 11:59:25
মনিরুজ্জামান স্যারকে নিয়ে আমার লেখা আজকের দৈনিক সমকালে এখানে লিঙ্ক। ইচ্ছা হলে পড়া যাবে।
http://www.shamokal.com/details.php?nid=97696
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28842551 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28842551 2008-09-13 12:52:52
আমার পোস্ট কই? http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28838691 http://www.somewhereinblog.net/blog/tapanblog/28838691 2008-09-04 15:51:57 কবি ও গীতিকার ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আর নেই তপন বাগচী

পঞ্চাশ দশকের অন্যতম প্রধান কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপনা করেছেন। পঞ্চাশ দশকের কবি ও গীতিকার হিসেবে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়। ১৯৫৬ সাল থেকেই তিনি গান লিখতে শুরু করেন। ষাটের দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের গান রচনার ক্ষেত্রে অনেকটা একক কৃতিত্ব ছিল তাঁর। গবেষণা ও প্রবন্ধসাহিত্যে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তার লেখা প্রথম গান ‌ভালবেসে তবু যেন সবটুকু ভাল লাগে না'-এর সুরকার ছিলেন শিল্পী আনোয়ারউদ্দীন খান। এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি। ‌আমার দেশের মাটির গন্ধে ভরে আছে সারা মন' (সুরকার আবদুল আহাদ), আব্দুল জব্বারের গাওয়া ‌তুমি কী দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়' (সুরকার সত্য সাহা), 'হলুদ বাটো মেন্দি বাটো, বাটো ফুলের মউ' (সুরকার আলী হোসেন) প্রভৃতি অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সৃষ্টা তিনি। 'বিতায় আর কি লিখব?/যখন বুকের রক্তে লিখেছি/একটি নাম/বাংলাদেশ' মের কবিতায় পাঠ্যপুস্তকে রয়েছে।
শিক্ষক হিসেবও তিনি জনপ্রিয়। প্রায় অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রী তাঁর তত্ত্বাবধানে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। ড. সুনীলকুমার মুখোপাধ্যায়, ড. করুণাময় গোস্বামী, ড. সফিউদ্দিন আহমেদ, ড. সাঈদ-উর রহমান, ড. মোহাম্মদ গাউস মিয়া, ড. খোন্দকার রিয়াজুল হক, ড. মোমেন চৌধুরী, ড. জয়া সেনগুপ্তা, ড. সুকুমার বিশ্বাস, ড. বেগম আকতার কামাল, ড. সিদ্দিকা মাহমুদা, ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী, ড. সৈয়দ আজিজুল হক, ড. বিমল গুহ, ড. সৈকত আসগর, ড. ফাতেমা কাওসার, ড. মাহবুবা সিদ্দিকা, ড. সেলিমা খালেক, ড. মোহাম্মদ হাননান, ড. হাবিব রহমান, ড. আজিজুল হাকিম, ড. সন্দীপক মল্লিক প্রমুখ গবেষক তাঁর তত্ত্বাবধানে গবেষণা করেছেন। বাংলাদেশে তিনিই সবচেয়ে সফল তত্ত্ববধায়ক। সংখ্যাবিচারে তো বটেই, গুণবিচারেও তাঁর অধীনে পরিচালিত গবেষণার সংখ্যা বেশি।
তাঁর ছাত্র কেবল বাংলা বিভাগেই নয়, গ্রন্থগারবিজ্ঞান কিংবা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগেও রয়েছে। একটু ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা বলতেই হয়। আমি গবেষণার জন্য যখন প্রস্তুতি গ্রহণ করি, তখন জানতে পারি যে, আমার বিভাগে অর্থাৎ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পিএইচডি গবেষণার পথ খুবই জটিল। জটিল এই কারণে যে, পিএইচডি গবেষকের যোগ্যতা হিসেবে এমফিল কিংবা ডিগ্রি পর্যায়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়, কিন্তু এই দুটির সুযোগ এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের নেই। এত পুরনো বিভাগ, অথচ এমফিল কোর্স খোলা হয়নি! আর দেশের কোনো কলেজে এই বিভাগটি পড়ানো হয় না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাড়া সাংবাদিকতা বিভাগে গবেষণা করার সুযোগ নেই। আমি বিকল্প সুযোগ খুঁজতে থাকি। অবশেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ডক্টর আবুল আহসান চৌধুরীর শরণাপন্ন হই। তিনি বাংলা একাডেমী ও নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে প্রকাশিত আমার গবেষণাগ্রন্থ দেখে আমার গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক হতে সম্মত হন। তবে সাংবাদিকতার ছাত্র হয়ে বাংলা বিভাগে গবেষণার ক্ষেত্রে কোনও আইনগত সমস্যা না থাকলেও আগের কোনো নজির নেই বলে স্যার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইলেন না। তাই তিনি দ্জুন বিশিষ্ট গবেষকের কাছ থেকে আমার গবেষণাকর্ম সম্পর্কে প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে বললেন। আমি সাংবাদিকতা ও বাংলা বিভাগের দুই চেয়ারম্যানের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কবি ড. বিমল গুহ আমাকে নিয়ে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন চেয়ারম