কিছু গুঞ্জন, কিছু কোলাহল এবং এলোমেলো শব্দগুলি, ঢেউ এর মত করে উঠানামা করছে। কেউ কি কাঁদছে, বিলাপ করে? বুঝতে পারছে না, বের হয়ে দেখা দরকার। কিন্তু ফ্রেশ না হয়ে বের হওয়া যাবে না। নাহ, ঠিক তাও না, তার বের হবার সাহস হচ্ছে না, কেমন যেন অস্বস্থি হচ্ছে, ভয় ভয় লাগছে।
কিছু একটা ঘটেছে, ভয়ঙ্কর কিছু। এই কিছু একটা হবার আশংখাই করছিল সে, কিছু একটা…… ঠিক যেন দুমড়ে মুচড়ে কিছু একটা ভয়ঙ্কর ভাবে ধ্বংস করে ফেলার মত।
সারা রাত জেগেই ছিল, পর্দা সরিয়ে আধশোয়া হয়ে দেখছিল পূর্ণিমার পাগলা চাঁদটাকে।
কি সুন্দরই না আলো ছড়াচ্ছিল।
ঠিক চাঁদের আশ-পাশের মেঘগুলিকে কি যে অদ্ভুত লাগছিল দেখতে, গুড়ি গুড়ি মেঘ কণা যেন! ধোয়ার মত উড়ে যাচ্ছিল, ক্ষণে ক্ষণেই বদলাচ্ছিল মেঘের রূপ যা চাঁদকে কেন্দ্র করে নাচছিল, হ্যাঁ নাচছিল। যেন নেচে নেচে চাঁদ দেবতাকে পূজা করছিল।
নাহ! আর থাকা যাচ্ছে না। আস্তে আস্তে বের হল। কেউ নেই… ! সবাই নীচে, পা বাড়াল সেদিকে। হাত পা হিম হয়ে গেল, জমে গেল পাথরের মত। খুব খারাপ কিছু হয়েছে, কেউ মারা গেছে কি? মৃত বাড়ির রূপ আলাদা।
সে কাঁদতে আরম্ভ করল, কিছু না জেনেই। কান্না, সে তো খুব ছোঁয়াছে কিছু।
এ ঘর থেকে ও ঘর পার করে সে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছাতে চাইল।
একি! কি দেখল সে………!!!
কি?
কেন সে নিজেই সাদায় সাদা হয়ে শুয়ে আছে ওখানটায়, কেন?
কেন?
ধীরে ধীরে সবকিছু বোধগম্য হল, এখানে তার আর দরকার নেই। হাতের উল্টা পিঠে চোখ মুছে হাঁটতে শুরু করল, নিজের বিছানার কাছেই ফিরে এলো সে।
ইচ্ছে করল, শরীরটা হাওয়ায় ভাসিয়ে দিতে। কতদিন তৃপ্তি নিয়ে ঘুমানো হয়নি…………
বেশ তো! সে এখন চাঁদের সাথে ঘুমাবে।
ঘুম চাই তার, ঘুম।
ঘুম !!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


