১৯শে ডিসেম্বর, সামহোয়্যারইনের অফিসে অনুষ্টিত বাংলা ব্লগ দিবসে গিয়েছিলাম, আনিসুজ্জামান স্যার ছিলেন প্রধান অতিথি, অনলাইনে অনুষ্টানটি লাইভ প্রচারিত হয়েছিল তাই সবাই নিশ্চয়ই দেখেছেন। ওখানে গিয়ে অনেক ব্লগারের সাথে দেখা হয়েছে। যতজনের সাথে সম্ভব কথা বলেছি। যারা সারাক্ষণ ব্লগ মাতিয়ে রাখেন নানা পোস্ট দিয়ে, তারা সামনা-সামনি খুব শান্তশিষ্ট মানুষ, একেবারে নিরীহ টাইপ, কথায় আছে - মোল্লার দৌঁড় মসজিদ পর্যন্ত।
যারা ঢাকায় থাকেন তাদের অনেকের সাথেই জানা-আরিল্ড দম্পতির সাথে দেখা হয়েছে আড্ডা কিংবা পিকনিকে। সাধারণত এমন কিছু হলে তার ফিডব্যাক পাওয়া যায় পোস্টগুলিতে, সবসময়ই পড়েছি এই দম্পতি নিয়ে ভাল কিছু কথা। মাঝে মাঝে এমন মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, তাদেরকে নিয়ে একটু বাড়িয়েই বলা হচ্ছে। এবার আমি নিজেও সে কাতারে সামিল হলাম। আসলে এমন একটা সাইট চালাতে হলে অনেককিছু করতে হয়, অনেক সিদ্বান্ত নিতে হয় ঠান্ডা মাথায় অনেক চিন্তা করে। তাদেরকে অনেকরকম মানুষকে বুঝতে হয়। তবে আরেকটু ভাবা দরকার স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে পোস্টগুলি সম্পর্কে।
আমি ব্লগার জানার কিছু পোস্ট পড়েছি, একটা পোস্ট ছিল, তার বাগানের ফুল ছেঁড়া বিষয়ক, ওটা এত ভাল লেগেছিল যে মন্তব্য লিখতে গিয়েও লিখিনি কারণ তিনি ‘জানা’। দূরে থাকাই ভাল এ ছিল মনোভাব। কিন্তু সেদিন তাদের সাথে দেখা করে ভাল লেগেছে। জানাকে আমি তারার হাসি পরিচয় দেওয়া মাত্রই তিনি বললেন, “চিটাগাং থেকে আপনি”।
আরিল্ড-জানা চমৎকার এক দম্পতি! পুতুলের মত মেয়ে কিন্নরী সবাইকে পিঠা সার্ভ করে বেড়াচ্ছিল। আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে আরিল্ড নামক মানুষটিকে। উনার সাথে হাই হ্যালো করে বসে পড়লাম নিজের মত করে। কিছুক্ষণ পর উনি আমার পেছনের সারিতে বসে আমাকে কি জানি বললেন, যার কিছুই আমি বুঝতে পারিনি। আসলে আমি বুঝতে পারছিলাম না উনি কোন ভাষায় কথা বলছিলেন। ভাষাটি ইংলিশ ছিল না, বাংলা হতেই পারেনা! উনি আবারো আস্তে আস্তে বললেন “অনে গম আছন?” যার অর্থ দাঁড়ায় “আপনি ভাল আছেন?” আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম উনি চিটাগাং এর আঞ্চলিক ভাষা পারেন কিভাবে? উত্তর এলো, “একটু একটু”, আমি সংশোধন করে দিয়ে বলেছি “এক্কেনা এক্কেনা”
দেখা হয়েছে লাভলুদা নামের খুব চমৎকার একজন মানুষের সাথে যিনি তার নাম এবং কর্মেই খুব পরিচিত ব্লগারদের মাঝে। আমার দেওয়া একটা পোস্টের সুবাদে জেনেছি, আমরা একই স্কুলের ছাত্র, তাই আসা মাত্রই তার সাথে পরিচয়পর্ব সেরে ফেলেছিলাম। লাভলুদা তার জীবন সঙ্গীকেও ডেকে পরিচয় করিয়ে দিল, সেও সামহোয়্যারের একজন কর্মী এবং বেশ লক্ষী টাইপ। তবে তার নাম জানা হয়নি।
একজন ব্লগারের কথা না বললেই নয়, তিনি হলেন “নীল আকাশের দুঃখ”। এই সেই ছেলে যে তার মাকে নিজের একটা কিডনী দিয়েছেন বাঁচিয়ে রাখার জন্য। তিনি আমাদের কয়েকজনকে বলছিলেন, একটা কিডনী নিয়েও মানুষ ভাল ভাবে বেঁচে থাকতে পারে। তার এই আত্মবিশ্বাসী কথাগুলি আমার ভাল লেগেছে। এমন ছেলেই চাই আমাদের, যে কথায় নয়, কাজে বড় হবে।
সবশেষে ধন্যবাদ সব ব্লগারদের যারা সময় করে এসেছিলেন, ভাল থাকুন সবাই।
শুভকামনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

