somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কৃষ্ণচূড়া ভালোবাসা

যা নেই, তবুও কাছে আছে
তাকে আমি ভালবাসা বলেই জানি।



আমি আনন্দিত হব ভেবেই সেদিন আকাশটা ঝরছিল।



কাছাকাছি মুখোমুখি তারা দুইজন
মেঘ কালো আকাশ আর কৃষ্ণচূড়া



চোখের জলে ভাসাই চোখের পাতা



কৃষ্ণচূড়া হাতে বলেছিলাম,
বলেছিলাম ভালোবাসি।



কৃষ্ণচূড়া রীতিতেই ফিরে আসি বারবার



এসো আলিঙ্গনে



সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে তোমাকে ছোঁব



মুগ্ধতার গল্পটা শুরু হয়নি এখনো……]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29387176 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29387176 2011-05-27 23:27:16
আবদুল গফুর হালী, একজন লোকসংগীত শিল্পী ও গীতিকার।

আমাদের লোকসঙ্গীতের ভান্ডার অত্যান্ত বিচিত্র এবং সমৃদ্ধ। এ লোকসঙ্গীত প্রধানত চিত্রধর্মী। জীবনের খণ্ড খণ্ড চিত্র রূপায়িত হয় লোকসঙ্গীতে।
বাংলাদেশে অনেক লোক শিল্পী রয়েছেন তারা প্রতিনিয়ত লোকসঙ্গীতের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে সদা ব্যস্ত। তেমন একজন আবদুল গফুর হালী, একজন কিংবদন্তী লোকশিল্পী। আবদুল গফুরের জন্ম ১৯২৯ সালে পটিয়ার রশিদাবাদে। বাবা, আবদুস সোবহান, মা গুলতাজ খাতুন। লেখাপড়া করেছেন রশিদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোয়ারা বিশ্বম্বর চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে।
রশিদাবাদ আরেক সাধকশিল্পী আস্কর আলী পণ্ডিতের গ্রাম। আস্কর আলীর গান শুনে বড় হয়েছেন গফুর। ছোটবেলায় তাঁর আধ্যাত্মিক ও মরমি গান গফুরের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। ৫৪ বছর ধরে টানা লিখে চলেছেন আবদুল গফুর হালী। এখন তাঁর বয়স ৮০, এখনো গান লিখে ও গেয়ে দিন কাটান, চালান সংসার।


সোনাবন্ধু তুই আমারে করলি দিওয়ানা, রসিক তেল কাজলা কোন পাঞ্জাবিঅলা, মনের বাগানে ফুটিল ফুলগো, তুঁই যাইবা সোনাদিয়া বন্ধু মাছ মারিবার লাই,‘অ শ্যাম রেঙ্গুম ন যাইও, বানুরে অ বানু আঁই যাইমুব রেঙ্গুম শরত তোঁয়ার লাই আইন্যম কী, কিংবা মাইজভাণ্ডারী গান- দেখে যারে মাইজভাণ্ডারে, কতো খেলা জানরে মাওলা, মাইজভাণ্ডারে কি ধন আছে এবং মোহছেন আউলিয়া গান- চল যাই জিয়ারতে মোহছেন আউলিয়ার দরবারে, আল্লাহর ফকির মরে যদি, ইত্যাদি শত শত কালজয়ী গানের রচিয়তা আবদুল গফুর হালী।

তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘মেঠো পথের গান’। ‘মেঠো পথের গান’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটিতে কিংবদন্তি লোকশিল্পী আবদুল গফুর হালীর জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে, ছবিটি ৩৯ মিনিটের। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন শৈবাল চৌধুরী।
পটিয়ার রশিদাবাদ, চন্দনাইশের জোয়ারা ও দোহাজারী এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ছবির বিভিন্ন অংশের চিত্রায়ণ করা হয়েছে। দেশের নামী-দামি বিভিন্ন শিল্পীদের গান ছবির উল্লেখযোগ্য অংশ। শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব, শেফালী ঘোষ, কল্যাণী ঘোষ, কল্পনা লালা, সঞ্জিত আচার্য, শিমুল শীল, সেলিম নিজামী, শিরীন, নয়ন শীল প্রমুখ শিল্পীরা এই ছবিতে আবদুল গফুর হালীর উল্লেখযোগ্য গানগুলো পরিবেশন করছেন।



কারো কাছে গান না শিখলেও তার শিক্ষক ছিল চট্টগ্রামের প্রকৃতি, যা তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছে সৃষ্টিকর্মে, প্রেরণা পেয়েছেন আস্কর আলী পণ্ডিত ও রমেশ শীলের গান থেকে। আবদুল গফুর হালীর আঞ্চলিক গানের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। মাইজভান্ডারি গানও হাজারের বেশি হবে। ‘দুই কুলের সোলতান’, ‘দেখে যারে মাইজভান্ডারে’সহ অসংখ্য গান শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। তাঁর গান আরও গেয়েছেন, উমা খান, সঞ্জিত আচার্য, কান্তা নন্দী, শিল্পীরানী, আবদুল মান্নান রানা, সেলিম নিজামী ,শিমুল শীল, কল্যাণী ঘোষ, কল্পনা লালা ও সন্ধ্যারানী দাশ।

গফুর হালীর গানে আছে মাটির ছোঁয়া। আছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা। গানের কথায় জড়িয়ে আছে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতা।
হালীও বলেন, ‘চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা মাটির সঙ্গে গাঁথা, এ ভাষার সঙ্গে এ এলাকার মানুষের নাড়ির টান। তাই আমার গানও এসব থেকে সৃষ্টি।’
সত্তর ও আশির দশক ছিল আঞ্চলিক ও মাইজভান্ডারি গানের স্বর্ণযুগ। তাঁর লেখা সাড়া জাগানো বেশির ভাগ গান বিভিন্ন শিল্পীর গ্রামোফোন রেকর্ডে বেরিয়েছিল। ওই সময় হালী একটি দারুণ কাজ করেছেন। আর তা হলো আস্কর আলী পণ্ডিতের গান সংগ্রহ করে শেফালী ঘোষসহ বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে তুলে দেওয়া। এতে আস্কর আলীকে নতুন করে পান শ্রোতারা।

যশস্বী এই সঙ্গীতকার আবিষ্কার করেছেন অনেক কণ্ঠশিল্পীদের। তাঁর গান গেয়ে অনেক শিল্পী প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। শ্যাম-শেফালীর অনেক স্মরণীয় গানের স্রষ্টা গফুর হালী।
শুরুটা হয় নাটকীয় ভাবে - নিউ মার্কেটে ছোটখাটো একটা দোকান ছিল শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের। শ্যাম গানের মানুষ। সে সূত্রে তাঁর দোকানে শিল্পীদের আড্ডা বসে সকাল-সন্ধ্যায়। সে আড্ডায় একদিন ঢুঁ মারেন গানের জগতে নবীন আবদুল গফুরও। শ্যাম দিলখোলা মানুষ, গফুরও তা-ই—দুজনের ভাব হতে সময় লাগে না। গ্রাম থেকে গান নিয়ে শহরে ছুটে আসেন গফুর। শ্যামের কণ্ঠে তা তুলে দেন। চট্টগ্রাম বেতারে প্রচারিত হয় গানগুলো।
বেতারেই একদিন ধরে বসলেন শেফালী ঘোষ। বললেন, ‘উদা শ্যামরে দিলে অইতো ন, আঁরেও গান দেওন ফরিব (শুধু শ্যামকে দিলে তো হবে না, আমাকেও দিতে হবে)।’
শেফালী বারবার তাগাদা দেন, আর গফুর ভুলে যান। তখনকার আঞ্চলিক পরিচালক (আরডি) আশরাফুজ্জামানকে নালিশ দেন শেফালী, ‘গফুরদা আমাকে গান দিচ্ছেন না।’ আরডি ডেকে পাঠান গফুরকে। পাশে বসিয়ে চা খাওয়ান। এ কথা-সে কথা বলার পর শেফালীকে গান দিতে অনুরোধ করেন।
গফুর আরডিকে বললেন, ‘একটা দ্বৈত গান আছে। সেটা শ্যাম-শেফালীকে দিয়ে গাওয়ানো যায়।’ গফুরের প্রস্তাব লুফে নেন আরডি। বলেন, আপনি কালই গানটা রেকর্ড করে দিন।
দুই দিন পর শ্যামসুন্দরের চকবাজারের বাসায় হাজির হন গফুর। শ্যামের সাইকেলে চড়ে পৌঁছে যান শেফালীর বাসায়। শ্যাম ও শেফালীর কণ্ঠে তুলে দেন সেই গান—
‘ন যাইও ন যাইও
আঁরে ফেলাই বাপের বাড়িত ন যাইও (ছেলে)
ন গইরজ্য ন গইরজ্য
বাপর বাড়িত যাইতাম মানা ন গইরজ্য (মেয়ে)।’
বেতারে প্রচারের পর আলোড়ন তুলল গানটি। শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব ও শেফালী ঘোষের নাম ছড়িয়ে পড়ল হাটে-মাঠে।
এর আগে মলয় ঘোষ দস্তিদারের ‘নাইয়র গেলে আইস্য তারাতারি’সহ দু-একটা দ্বৈত আঞ্চলিক গান গেয়েছিলেন শ্যাম-শেফালী। কিন্তু ‘নাইয়র’ গানটির দারুণ জনপ্রিয়তা আঞ্চলিক গানে নতুন ধারা সৃষ্টি করল। প্রতিষ্ঠিত হলো নতুন জুটি—শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব ও শেফালী ঘোষ। এই একটি গান গফুরের জীবনের মোড়ও ঘুরিয়ে দেয়। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেলেন তিনি। সংগীতজীবন শুরু করেছিলেন শিল্পী হিসেবে। খ্যাতিমান হলেন গীতিকার ও সুরকার হিসেবে। এটা ১৯৬৪ সালের ঘটনা।
সেই থেকে এখনো গানের সঙ্গেই তাঁর ঘরবসতি।
-----------------------------------



বাংলার লোকসঙ্গীতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে বিশেষভাবে অধিষ্ঠিত করেছে। এসব গান কালের সীমা অতিক্রম করে পৌঁছে গেছে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এবং বেশ আদৃত হচ্ছে। আবদুল গফুর হালী প্রথম মোহছেন আউলিয়াকে নিয়ে গান রচনা করেন। চট্টগ্রামের ভাষায় প্রথম লোকনাটকের রচিয়তাও আবদুল গফুর হালী।
জার্মানির হালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতবর্ষবিষয়ক দর্শন শাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক হানস হারডার (বর্তমানে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক) ১৯৮৯ সালের দিকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। পরে শিল্পী কল্যাণী ঘোষের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় আবদুল গফুর হালীর সঙ্গে। তাঁর জীবন ও গান নিয়ে ২০০৪ ডার ফেরুকটে গফুর, স্প্রিখট (পাগলা গফুর, বলে) নামে একটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এতে হালীর ৭৬টি গান অন্তর্ভুক্ত হয়। এগুলোকে আবদুল গফুর হালী রচিত পূর্ববাংলার মরমি গান বলে উল্লেখ করেছেন হানস হারডার। তিনি আবদুল গফুর হালী সম্পর্কে লেখেন, ‘আবদুল গফুর হালীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রি বা উপাধি না থাকলেও নিজের চেষ্টায় তিনি অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারী হতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজেকে শুধু বাংলা সাহিত্যের দিকে সরাসরি ধাবিত করেননি। প্রায় প্রতিদিনই তিনি মাইজভান্ডারি গান রচনা করেন।
-----------------------------------
এই গুনী শিল্পীকে দেখার এবং গান শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে হঠাৎ করেই। পটিয়ার রশীদাবাদে বেড়াতে গিয়ে শুনি আমাদের জন্য বাউল গানের আয়োজন করা হয়েছে। গান পরিবেশন করার আগে উনি খুব নম্রভাবে নিজের নাম বলেন, সাথে থাকা নিজের নাতি-নাতনির পরিচয় করে দেন। গান ওরাই গাইবেন কারণ বয়সের কারণে সেভাবে আর গান করতে পারেন না। অনুরোধের গান তারা করবেন সেই সাথে পরিবেশন করবেন নিজের লেখা কিছু গান। এই বলে যখন গান শুরু হয় অবাক হয়ে শুনে যাই মানুষের মুখে মুখে ফেরা কিছু জনপ্রিয় গান, যেমন - সোনা বন্ধু তুই আমারে করলি দেওয়ানা, পাঞ্জাবীওয়ালা, মনের বাগানে ফুটিল ফুলগো রসিক ভ্রমর আইল না, তখন আমাদের অবাক হবার পালা, এই গান গুলি উনার লেখা !!!!!
অনেক মাইজভান্ডারী গান এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান একের পর এক গাইতে থাকলেন তারা, যে গানগুলি আমাদের চট্টগ্রামে অনেক অনেক জনপ্রিয়।

সেদিন বুঝলাম আমাদের দেশে গীতিকাররা কি ভীষণভাবে অবহেলিত। আমরা আবারো যাব কিছু এমন গান পাগল বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। শেষ করছি আরেকটি তথ্য দিয়ে -
১৯৭০-এর নির্বাচনে গান গেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে তখন। গফুর হালী চট্টগ্রাম শহরে গিয়েছিলেন কেরোসিন কিনতে। ফেরার সময় রৌশনহাটে ধরল রাজাকারেরা। বলল, ‘তুমি তো নির্বাচনে নেতার বিরুদ্ধে গান করেছ। গানের মজা এবার বোঝাব।’ তাঁর গানের একজন ভক্ত সেদিন তাঁকে বাঁচিয়েছিলেন।
পরে কালুরঘাটে আরেকবার পেয়েছিল পাকিস্তানি সেনারা। ঘাড়ে বন্দুকের বাঁট দিয়ে এমন মার দিয়েছিল যে মনে হয়েছিল, ঘাড়টা বুঝি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। স্রেফ বুদ্ধির জোরে সেদিন পালাতে পেরেছিলেন গফুর হালী।
আবদুল গফুর হালী সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেননি। তবে ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে উদ্দীপ্ত করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের। তাঁরা হালীর একটি গান খুব পছন্দ করতেন। সেটি হলো, ‘তোর লয় আঁর লয় ন অইব অভাই/আঁই বাঙালি, তুই পাঠান/তোর দেশে আর আঁর দেশে/দুই হাজার মাইল ব্যবধান।’
---------------------------------
শেষ গান হিসেবে নিজের লেখা গানটি গেয়ে ওঠেন ‘কোন সাধনে তাঁরে পাওয়া যায়।’
গাইলেন- তাঁর জন্য মোর মন উদাসী ঘরে রব আমি কার আশে / আমায় নিয়ে চলরে সখি আমার বন্ধু যে দেশে।’

শেষ কথা -"তাঁকে পাওয়ার জন্যই আমার সব সাধনা,তাঁকে আমার পাইতেই হবে।"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29368181 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29368181 2011-04-24 00:11:27
একদিন প্রজাপতি দিন...

















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29359447 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29359447 2011-04-08 22:50:23
বিজয় উল্লাসে চট্টগ্রাম।



আবেগের বন্যায়




















-------------------------------

যতটুকু পেয়েছি অনেক বেশিই পেয়েছি।
শুভকামনা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য, আবারো চাইব তারা তাদের ভাল খেলাটাই খেলুক পরবর্তী ম্যাচে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29343425 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29343425 2011-03-13 01:27:34
মিস্টার পল। মিস্টার পল ! ভবিষ্যৎদ্রষ্টা একজন।

---------------------------------------------------

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ জানতে আগ্রহী একজন নেত্রীর আগমন।
সাথে কিছু আদান প্রদান।



---------------------------------------

অপর নেত্রীর আগমন এবং দোয়া কামনা।

---------------------------------------------------

আশাভঙ্গের সাথে সাথে উধাও সব বিনয়।

-------------------------------------------------------

স্বরূপে তাহারা

--------------------------------------------------

স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এমন কিছুই সেদিন উপস্থাপন করল ছোট্ট নিষ্পাপ কিছু শিশু।
একদিন নিশ্চয়ই তারা এর অবসান ঘটাবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29286661 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29286661 2010-12-09 22:58:54
আহা টুপ, আহা ডুব!
আমি জানি তুমি কি এত ভাবো, এত এত চন্দনের গন্ধ মেখে কার কাছে কোথায় যাই, এই তো ?
মনের অজান্তেই তোমার চোখে চোখ রাখি পলকহীন, তাকাই তোমার গভীরে, হঠাৎ যখন বুঝতে পারি তুমি আমাকে পড়ে ফেলছ সাদা কাগজের মত ঠিক তখনই পালিয়ে যাই। সত্যি কথা হলো যাই না, যাওয়ার ভাণ করি। তুমি আমাকে একটুও চিন না, আমি খুব ভাল অভিনেত্রী। অভিনয় করলে নির্ঘাত অস্কার পেয়ে যেতাম। তোমার এত যে কাছে আসি, তুমি আমাকে ছুঁতেও পাও না।

অগুণিত মোমবাতির আলোয় একেকটি রাত আমি তোমার সামনে দাঁড়াই, আমি তোমাকে দেখি আর তুমি আমাকে!
আমার সব চিন্তা ভাবনাগুলি আছে রোদ, বৃষ্টি, জ্যোৎস্নায় পাশাপাশি।

জানো? আজ আমি এক পুরুষকে কাঁদতে দেখেছি, শুনেছি তার কান্নার শব্দ। আমার এর আগে জানা ছিল না কোন পুরুষ এভাবে কাঁদতে পারে!
এরপর আমার মাঝে কি যেন হয়ে গেল। এই দেখো, এই ঝমঝম বৃষ্টিতেও আমি অবিচল বসে আছি তোমার সামনে, পড়ে নাও আমাকে, জেনে নাও, জেনে নাও কি চলছে আমার নিজস্ব বুদবুদে...
পারলে না তো !!!
আর ওদিকে বৃষ্টি চুড়ি হাতে রিনিঝিনি শব্দে আমাকে ডাকছে। কোনদিকে কার কাছে যাই বলোতো?
আমি ভাবছি অন্যকিছু, সেই যুবক, সেই রুপার মল, কিছু সবুজ পাতা…

তোমার গায়ে সাটা টিপ, কতবার নিয়ে কপালে পড়েছি, আমার আবেগী মুগ্ধ সময় সবই তোমার সাথে ভাগ করা।
মাঝে মাঝে যখন অতি ব্যস্ততায় তোমার দিকে সময় নিয়ে তাকাবার ফুরসৎ পাই না, তখন নিজেকেই যেন আমি হারিয়ে ফেলি। তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আমি প্রতিদিন নতুন করে অঙ্গীকার করি। নিজেকে নিজে জয় করার অঙ্গীকার, নিজেকে হারিয়ে না ফেলার অঙ্গীকার।

ভাঙ্গা চাঁদটা, নরম জ্যোস্নাটা, পাগলা হাওয়াটা যাকেই দেখতে যাই না কেন তোমাকে বলে যাই, তোমাকে দিকে একবার দৃস্টি বিনিময় করে তবেই আমি যাই।
তুমি তোমার জায়গায় স্থির, অবিচল। তোমাকে আমার খুব হিংসে হয়। ইস, যদি অলৌকিক কিছু হঠাৎ ঘটত !!
আমি তোমার আর তুমি আমার জায়গাটা নিতে !!!



একদিন মনে আছে, কেউ একজন আমার জন্য পাঠালো অনেকগুলি নীলপদ্ম, আমি ওগুলি নিয়ে তোমার সামনে একছুটে এসে দাঁড়ালাম, আমরা দুজনেই খুব হাসছিলাম। মা খুব রাগ করেছিল, নীলপদ্মগুলি না ধুয়ে হাতে নিয়েছিলাম তাই, মনে আছে তোমার?

একবার কবিতা ভর করেছিল আমার উপর, রাতদিন আবৃত্তিতে মেতে রইলাম... ছবি আঁকাআঁকিতে কিছুদিন। কি যে হলো, কোথায় যে হারালো সব!!
একবার আগুন আগুন শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল, দেখি বিদ্যুৎ নেই অথচ ঘর ভরে গিয়েছিল আগুনের লেলিহান শিখার তীব্র আলোয়, ঠিক পাশের বাসায় আগুন... কি যে ভয় পেয়েছিলাম। আমি তোমার দিকে তাকিয়েই বুঝেছিলাম আমরা দুজনেই কি ভয়ই না পেয়েছি। সে ছবিটা আমার চোখে আজো গেঁথে আছে।
আমার হৃদয়টাতে হাজার ফুটো, কোনদিকে কি যে গলে পড়ে বুঝতে পারি না তাই কিছু রাখার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু কিছু কিছু জিনিষ এত স্পষ্ট হয়ে আছে ...অথচ তাদের অনেকেরই থাকার কথা ছিল না।

আজকাল অনেক কিছুই আমি খুব স্পষ্ট দেখতে পাই, সময় হয়ে এলো বলে? ময়ূর পেখমের সব রঙও দেখতে পাচ্ছি আজকাল। আমার বেলাতেই যে উল্টটা হচ্ছে, নাকি সবাই এমন দেখে।

আগামী বর্ষায় থাকবে কি আমার অস্থিত্ব?

কেউ একজন প্রশ্ন করে আমায়-
বলো, কবে আসবে তুমি?
উত্তর দিই, আসছি আমি শীঘ্রই…
যে কোন মুহূর্তেই!

আমি যে এখন উদয় আর অস্তের মাঝামাঝি...
টুপ করে ডুবে যাব যে কোন মুহূর্তেই !
আহা টুপ, আহা ডুব!

“I have begged for you many times, but you did not come; I have sought you, but you avoided me; I called out to you, but you listened not. You hear me now- embrace my soul, beloved Death!”
- K.G.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29277950 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29277950 2010-11-25 23:05:29
একটি কবিতা।

অধম ও উত্তম

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কুকুর আসিয়া এমন কামড়
দিল পথিকের পায়
কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে
বিষ লেগে গেল তায়।

ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা
বিষম ব্যথায় জাগে,
মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায়
জাগে শিয়রের আগে।

বাপেরে সে বলে ভর্ৎসনা-ছলে
কপালে রাখিয়া হাত,
“তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে
তোমার কি নেই দাঁত !”

কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল
“তুই রে হাসালি মোরে,
দাঁত আছে বলে কুকুরের পায়
দংশি কেমন করে !

কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা ব’লে কুকুরে কামড়ানো কি রে
মানুষের শোভা পায় ?”
--------------------

ছোটবেলায় পড়া কবিতাটা তখন এমনিই পড়লেও এখন মনে হয় অল্প অল্প বুঝি কবির মনের ভাব, তাই বলি - মানুষ হতে চাই, মানুষ !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29276822 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29276822 2010-11-24 00:20:33
ছবিতে বালিয়াটী _
















আমার কেবল মনে হচ্ছিল বালিয়াটী রাজবাড়ির এই ১০/১২টা বাড়ির সবগুলিতে মানুষ যখন ভর্তি ছিল, তাদের বিত্তভৈবব ক্ষমতা নিয়ে, কেমন ছিল?
দূর থেকে কেমন লাগত গমগম করা এই বাড়িগুলি দেখতে... !!
যখন ফিরে আসছিলাম বালিয়াটী রাজবাড়ির সামনের তিনটি বাড়ি এবং তিনটি সিংহ দ্বার টানছিল। কেউ যেন বলছে... যেও না.........

ঘটমান অতীত-বালিয়াটী -- Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29262038 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29262038 2010-10-27 00:10:41
ঘটমান অতীত - বালিয়াটী

বালিয়াটী একটি গ্রামের নাম, যে গ্রামের অবস্থান মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায়।
পাঁচটি জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ বুকে নিয়ে যাচ্ছে বালিয়াটীর দিন। প্রকৃত নাম বালিয়াতি, ব্রিটিশদের আগমনের পর বালিয়াতি হয়ে যায় বালিয়াটী।



গাজীখালি নামের নদী বহমান ছিল তার ভয়ঙ্কর উত্তল রূপে বালিয়াটীর উত্তর পাশ ঘেষে… চলত স্টীমার, লঞ্চ, গয়নার নৌকা, আসত কুমীর। সেই গাজীখালির রূপ হারিয়ে গিয়েছে সাথে করে নিয়ে গিয়েছে বালিয়াটীর যৌবন। অবেলা ভর করেছে বালিয়াটীর উপর।





মূল ফটকের অতিক্রম করে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে পূর্ব বাড়ি। পাশাপাশি তিনটি বাড়ি স্বমহিমায় আজও দাঁড়িয়ে আছে যেগুলি দশ আনীর বড় তরফ, মাঝার তরফ ও নয়া তরফ নামে পরিচিত।
এছাড়াও আছে গোলা বাড়ী, পশ্চিম বাড়ি, উত্তর বাড়ি, মধ্য বাড়ি। এ বাড়িগুলি তাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
বালিয়াটীর জমিদাররা অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন, বালিয়াটি ছাড়াও অনেক জায়গায় ছড়িয়ে আছে তাদের করে যাওয়া নিদর্শনগুলি।

একটি ঘটনা - জমিদার বাড়ির একটা ঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে জমিদারদের কিছু চিহ্ন, সেখানে দেখতে পাই একজনের তরুণের ছবি, নাম উপেন্দ্র কুমার। গাইড ছবির মানুষটির জীবনে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দেন যা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে শুনতে কষ্ট হয়েছিল। ঘটনার সত্যতা পাই উল্লেখিত সুত্রের বইটিতে।
মেঝ তরফের জমিদার হরেন্দ্র কুমার জমিদারীর কাজে কলকাতা যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় তাঁর পুত্র উপেন্দ্র কুমার তাঁর পিতা হরেন্দ্র কুমারকে প্রস্তাব করেন একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করার জন্য, যা তিনি অনেকদিন ধরেই করে আসছিলেন। বাবা তা করতে অস্বীকার করেন এবং পুত্রকে প্রশ্ন করেন, সে কত টাকা রোজগার করে। এতে তীব্র অভিমানে দো’তালার একটা কক্ষে নিজের বুকে নিজেই গুলি বিদ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে স্থাপিত হয় ইশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি বালিয়াটি জমিদার বাড়ির অল্প সামনেই চোখে পড়বে।

শিক্ষাক্ষেত্রে সাটুরিয়া উপজেলায় এম,এফ পি স্কুল একটি মডেল, যেটি ১৯১৮ সালে “রাধাভল্লব ফ্রী প্রাইমারী স্কুল” নামে বালিয়াটীর জমিদারদের করে যাওয়া। গোলাবাড়ী এবং মধ্যবাড়ির যৌথভাবে ভারতের বৃন্দাবনে “গোপাল জিও মদির ও কুঞ্জ”। নারায়ন গঞ্জের “ লক্ষী নারায়ন জিও” নামে যে আখড়াটি আছে সেটা এই জমিদারদের অবদান।
গোলাবাড়িতে ফুলদোল পূর্ণিমায় পুষ্পরথের মেলা হত, সে চমৎকার মূল্যবান রথ গোলাবাড়ির দ্রৌপদ্রী রায় ভারতের বৃন্দাবন থেকে তৈরী করে এনেছিলেন।
প্সহচিম বাড়ির নিত্যানন্দ রায়ের দুই ছেলে বৃন্দাবন ও জগন্নাথ অনেক জমিদারী কিনে নতুন করে পূর্ব বঙ্গের জমিদার শ্রেনীভুক্ত হন। বৃন্দাবনের শারীরিক শক্তি সম্পর্কে অনেক কিংবদন্তী আছে। পঁচিশ- ত্রিশ জন বলিষ্ঠ শ্রমজীবি যে জিনিষ উত্তোলনে সমর্থ না হত বৃন্দাবন চন্দ্র তা একাই করে ফেলতেন। কিংবদন্তী আছে কোন এক নদীর তীরে তাঁর সঙ্গীরা নীলকুঠীর লোক জনের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে গেলে নীলকুঠির সাহেব নৌকা আটক করার জন্য দু’শতাধিক লোক পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বৃন্দাবন একাই একটি লাটির সাহায্যে তাদের তাড়িয়ে দেন। এতে সাহেব গুলি করতে গেলে কুটির মেম তা করতে সাহেবকে বাঁধা দিয়েছিলান।
এই বীরপুরুষ বৃন্দাবনের ভাই জগন্নাথ চন্দ্রের নামেই ঢাকার বিখ্যাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয় ১৮৮৪ সানে স্থাপন করেন জগন্নাথের সুযোগ্য পুত্র কিশোরীলাল। এর অবস্থান ছিল তৎকালীন চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে। এছাড়া একটু পিছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় ১৮৬৮ সালে জগন্নাথ রায় চৌধুরী নিজ নামে জগন্নাথ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
ঢাকার সুপ্রসিদ্ধ ‘ডায়মন্ড জুবিলি থিয়েটার’ও কিশোরীলালের অবদান।

এই বালিয়াটিরই আরেক অবদান ১৯২৫ সনে স্থাপিত দাতব্য চিকিৎসালয় যা এখনো ‘বালিয়াটী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ নামে এলাকার জনগণকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
সমাজ সেবার সবক্ষেত্রেই আছে এই বালিয়াটীর জমিদারদের অবদান। তাঁরা দূর্ভিক্ষে, এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহায়তার হাত।



সূত্র - ‘বালিয়াটীর কথাচিত্র’ - সমরেন্দু সাহা লাহোর।
বইটি সংরহ করি বালিয়াটির জমিদার বাড়ি থেকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29259622 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29259622 2010-10-22 23:15:49
কফি হাউজ!

বন্ধু!
বন্ধুত্ব জয় করে সব ভাষা, ভৌগলিক সীমানা...
বন্ধুত্বের সংজ্ঞা, আকুতি, পৃথিবীর সব স্থানেই এক।
মান্না দে তার কফি হাউজ গানে জয় করেছেন সব বাঙ্গালীর মন।
সেই কফি হাউজের কিছু ছবি।






























--------------------------------------
কফি হাউজ - http://www.mediafire.com/?g49rt4oc39jvl83
স্বপ্নের কফি হাউজ - http://www.mediafire.com/?2i8ks1wxlzi1xi5




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29247325 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29247325 2010-09-30 00:20:09
গুড নাইট !

দিগন্তে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ। আজ সূর্যোদয় ছিল নিরস, আমি জানি। সেগুন আর মহুয়া গাছের থোক থোক সাদা ফুল ফুটে আছে।
আহ! কি চমৎকার। জঙ্গলের রাস্তা এত সুন্দর হবে তা কে জানত? এবরো থেবরো পথ, কোথাও খানা খন্দ। জংলী ফুলের কেমন একটা মিস্টি গন্ধ নাকে এসে লাগছিল। এ ছাড়াও পাশাপাশি আরেকটা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। কেমন যেন বুনো বুনো জঙ্গলের গন্ধ।

নাম না জানা পাখির কাকলি আর তাদের উড়ে যাবার ফুরুত শব্দ, কত স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। হাজারো অচেনা গাছের ডাল ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলছিল আমাদের পথ চলা। একটা সরু পানির ধারা, আমাকে সঙ্গ দিচ্ছিল। আমার সঙ্গী মনে হয় ঠিক প্রকৃতির রূপ উপভোগ করছিল না। তার আসা আমার জন্যই। আমি ওকে বলেছি অরণ্য আমাকে খুব টানে। যেমন করে টানে আকাশ, মেঘ, বৃষ্টি, পাহাড় আর সাগর! সে শুধু একবার মুখ তুলে তাকাল, কিছু বলল না। হয়তো প্রশ্ন করতে চেয়েছিল, “বাদ পড়ল কোনটা!” প্রশ্ন করলে বলতাম পূর্ণিমা, সূর্য মামার জেগে উঠা আর ঘুমাতে যাওয়া।
নিজের সাথে নিজেরই কথা বলে যাওয়া, পাশের মানুষের উসখুস আচরণ......... মজার ব্যাপার হল, আমার কিছু খারাপ লাগছে না। মজাই লাগছে, আমার ভীষণ মজা লাগে মানুষের এমন মজার মজার আচরণ, অভিব্যক্তি। চুপিসারে দেখি আর হাসি, হাসি আর দেখি।

যেমন পাশের জন, সে মনে করে তাকে কেউ বুঝতে পারে না, পড়তে পারে না, সে খুব সাধারণ একজন যাকে কেউ কেয়ারই করে না, ব্যাপারটা তা না। সে একা থাকতে পছন্দ করে, অনেকের মাঝে একা হয়ে ভাবতে পারে, এই অনেকের মাঝেও একা হয়ে যেতে পারাটাই তার আচরণগুলির মাঝে আমার বেশ পছন্দ। এমন না যে সে হৈ হল্লা করতে পছন্দ করে না, সবার সাথে কোথাও যেতে অপছন্দ করে..... সেই যে বললাম যে কোন পরিস্থিতিতেই একা হয়ে যাওয়াটাই প্লাস পয়েন্ট।

শেষ পর্যন্ত কাঙ্খিত স্পটে এসে পৌঁছালাম, পাহাড় এসে এখানে ভুল করে হার মেনেছে, মিশেছে ধীরে ধীরে সাগরের সাথে...
আমি তার পাশে গিয়ে থামলাম, তাকিয়ে আছে শূণ্যে। আলতো করে ছুঁয়ে দিলাম তার হাত। সে একটু তাকাল, আমি শুধু হাসলাম। সে নির্লিপ্ত থাকার চেষ্টা করল, যেমনটি সে সব সময় করে।

সে জানে না আমি তার চেয়ে অনেক বড় মাপের অভিনেত্রী। ঘুমের ভাণ করে আড়চোখে আমি তাকে দেখি, ভাল লাগে দেখতে। সে লিখছে তার ছোট্ট নোটবুকে, আর সে নীল হয়ে আছে নোটবুকের নীলাভ আলোয়। এখন মনে হচ্ছে মানুষের গায়ের এত বিচিত্র রঙ না হয়ে নীল রঙ হলে অনেক ভাল হত। এত পড়তে পছন্দ করে মানুষটা! সেজন্যই এই নীল মানুষটাকে খুব ভাল লাগে।
অপেক্ষা করি সে ঘুমাতে আসার, আমার গায়ে চাদর টেনে দিতে গিয়ে কিছুক্ষণ নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে, আমার মুখে লাগে তার নিঃশ্বাসের ছোঁয়া। আমার পাওয়া হয়ে যায় অনেক কিছু!

আপাতত এখন সে বসে পড়েছে। আমি নীচে নামবার পথ খুঁজে পেলাম, সরু, অল্প আকাঁবাকা। একটু এগোতেই পেয়ে গেলাম কাশবন। একসময় নিজের ছবি খুব দেখতে ভালবাসলেও আজকাল তুলতে পছন্দ করি। তবে এখন কাশ হাতে ছবি তুলতে ইচ্ছে করছে। ধুর! কেন যে ট্রাইপডটা আনলাম না !!!

কি সুন্দর পরিষ্কার পানি, একেবার নীল। কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছে বলেই পানি এত পরিষ্কার। কতকাল সমুদ্রে নামি না...
তবে এখন যে নামতে ইচ্ছে করছে তা না, দূর থেকে দেখতেই ভাল লাগছে।

আহা! আমাদের এই পৃ’টা এত সুন্দর কেন?


--------------------------------------

আজ আর লিখতে ইচ্ছে করছে না প্রিয় ডায়েরী, কারণ সে তার ভুবনে হারিয়ে গিয়েছে। এখন আমি ঘুমের অভিনয় করব, তুমিও ঘুমাও... গুড নাইট !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29241235 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29241235 2010-09-18 00:40:50
নির্মল শিশু ভবনের শিশুদের সাথে ...

মাদার টেরিজা বানানান্তরে মাদার তেরেসা (আগস্ট ২৫, ১৯১০ - সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৯৭) ছিলেন একজন আলবেনিয়ান-বংশোদ্ভুত ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী। ১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি মিশনারিজ অফ চ্যারিটি নামে একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবা করেছেন। সেই সঙ্গে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির বিকাশ ও উন্নয়নেও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। প্রথমে ভারতে ও পরে সমগ্র বিশ্বে তাঁর এই মিশনারি কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর মৃত্যুর পর পোপ দ্বিতীয় জন পল তাঁকে স্বর্গীয় আখ্যা দেন।
১৯৭০-এর দশকের মধ্যেই সমাজসেবী এবং অনাথ ও আতুরজনের বন্ধু হিসেবে তাঁর খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ম্যালকম মাগারিজের বই ও প্রামাণ্য তথ্যচিত্র সামথিং বিউটিফুল ফর গড তাঁর সেবাকার্যের প্রচারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। ১৯৭৯ সালে তিনি তাঁর সেবাকার্যের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন লাভ করেন।

মাদার টেরিজার মৃত্যুর সময় বিশ্বের ১২৩টি রাষ্ট্রে এইচআইভি/এইডস, কুষ্ঠ ও যক্ষার চিকিৎসাকেন্দ্র, ভোজনশালা, শিশু ও পরিবার পরামর্শ কেন্দ্র, অনাথ আশ্রম ও বিদ্যালয় সহ মিশনারিজ অফ চ্যারিটির ৬১০টি কেন্দ্র বিদ্যমান ছিল।১৯৫২ সালে মাদার তেরেসা কলকাতা নগর কর্তৃপক্ষের দেয়া জমিতে মুমূর্ষুদের জন্য প্রথম আশ্রয় ও সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলেন। ভারতীয় কর্মকর্তাদের সহায়তায় একটি পরিত্যক্ত হিন্দু মন্দিরকে কালিঘাট হোম ফর দ্য ডাইং-এ রূপান্তরিত করেন। এটি ছিল দরিদ্র্যদের জন্য নির্মীত দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র। পরবর্তীতে এই কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে রাখেন নির্মল হৃদয়। এই কেন্দ্রে যারা আশ্রয়ের জন্য আসতের তাদেরকে চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হতো এবং সম্মানের সাথে মৃত্যুবরণের সুযোগ করে দেয়া হয়। মুসলিমদেরকে কুরআন পড়তে দেয়া হয়, হিন্দুদের গঙ্গার জলের সুবিধা দেয়া হয় আর ক্যাথলিকদের প্রদান করা হয় লাস্ট রাইটের সুবিধা। এ বিষয় তেরেসা বলেন, "A beautiful death is for people who lived like animals to die like angels — loved and wanted." এর কিছুদিনের মধ্যেই তেরেসা হ্যানসেন রোগে (সাধারণ্যে কুষ্ঠরোগ নামে পরিচিত) আক্রান্তদের জন্য একটি সেবা কেন্দ্র খোলেন যার নাম দেয়া হয় শান্তি নগর। এছাড়া মিশনারিস অফ চ্যারিটির উদ্যোগে কলকাতার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কিছু কুষ্ঠরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এই কেন্দ্রগুলোতে ঔষধ, ব্যান্ডেজ ও খাদ্য সুবিধা দেয়া হয়।
মিশনারি শিশুদের লালন-পালন করতো। এক সময় শিশুর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় তেরেসা তাদের জন্য একটি আলাদা হোম তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এই অনুভূতি থেকেই ১৯৫৫ সালে নির্মল শিশু ভবন স্থাপন করেন। এই ভবন ছিল এতিম ও বসতিহীন শিশুদের জন্য এক ধরণের স্বর্গ।
মাদার তেরেসার উত্তরাধিকারী সিস্টার নির্মলা ও চ্যারিটির বর্তমান প্রধান সিস্টার প্রেমা শান্তি।

সূত্র - উইকিপিডিয়া।

নির্মল শিশু ভবনের শিশুদের সাথে একটি দিন কাটিয়ে আসলাম ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ... কিছু সত্যিকারের মানুষের সাথে একটি দিন কাটাতে গিয়ে নিজেকে আমি সেদিন মানুষ মনে করেছিলাম।






























]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29234798 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29234798 2010-09-04 00:01:07
নীল জল দিগন্তে ...













































-----------------------------------------



স্বপ্নে বাঁচি ...


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29224248 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29224248 2010-08-16 23:23:53
দুঃখ কেন করো রে মন !

একজন মানুষ আর তার দেহ-ছায়া। অস্তমিত হচ্ছে সূর্য আজকের মত। জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ… হয়তো তার ইচ্ছে করছে জলে ভাসিয়ে দিতে দেহ … নাকি জলের ভেতর থেকে জেগে উঠছে সে!
পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রের কাছে আবার ফিরেও আসছে। কি আছে তার মনে, কি ভাবছে?

খুব সুখী কেউ, বিষন্ন, দুঃখী?
গভীর চোখ, আশ্রয় নিয়েছে অনেক কিছু।
দূর নীলিমায় মুখ তার প্রসারিত।
একবার যেন সমুদ্রে মিশে যেতে চাইল গলন্ত বরফের মত…কতটা দুঃখ তার মনে?

কেউ একজন দূর থেকে থামাতে চায় অপলক শূণ্যে তাকিয়ে তাকা অবয়বটাকে, নক্ষত্রটাকে কথা দিয়েছিল সে, কোন কষ্ট স্পর্শ করতে দিবে না……
আজ সব সংজ্ঞাহীন, অর্থহীন মনে হয় তার…
অপেক্ষা করে দেখার, ছায়াটি ঠিক কোন মুহূর্তের কাছে সমর্পিত হয়!!!
-----------------------------------------


দুঃখ কেন করো রে মন
দুঃখ তোমার ঘুঁচবে না ও মন
দুঃখ যদি নাই বা পাবে
সুখের কদর বুঝতে না হে

কাঁদতে কেন চাও রে ও মন
কান্না তোমার ফুরাবে না যখন
কাঁদতে গিয়ে হেসো এবার
শোকের লগন মিলবে না আর

কান্না নিয়েই জীবন শুরু
কান্না নিয়েই জীবন শেষ
মধ্যেখানে থাক না শুধু
আনন্দ আর হাসির রেশ

দুঃখ কেন করো রে মন

----- জেমস
এ্যলবাম - স্টেশনরোড

http://www.mediafire.com/?1yzg7fa42tfmveh#1
-------------------------------

এই গান আমি প্রথম শুনি গান পাগল বিষাক্ত মানুষের ব্লগে, সেখান থেকেই গানের কথা তুলে দিলাম। প্রায় রাতেই ব্লগারগণ তার কাছ থেকে পেত নানা মেজাজের গান। কৃতজ্ঞতা গান এবং গানের কথার জন্য।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29222006 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29222006 2010-08-14 00:30:14
প্রিয় দার্জ, চিরকাল রাখিব মনে তোমায়...

























]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29211561 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29211561 2010-07-31 02:48:42
~ দার্জিলিং ~ পাহাড় যাদের আকর্ষণ করে এই ছবি ব্লগ তাদের জন্য। একজন পাহাড়প্রেমী মানুষ দীপান্বিতা, তার অনুরোধেই আমার এই পোস্ট।
পর্বতমালা আকাশের পানে
চাহিয়া না কহে কথা-
অধমের লাগি ওরা ধরণীর
স্তম্ভিত ব্যাকুলতা!!























---------------------------

দুটি ছবিতে আমি অন্যরকম কিছু দেখতে পেয়েছি, আপনারা কেউ কি তেমন কিছু দেখতে পাচ্ছেন ?
হলেও হতে পারে এটি একটি ধাধা !

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29208810 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29208810 2010-07-27 17:42:45
এলোমেলো কথন

একটি জোনাকফুল অন্ধকারে আলো ছড়িয়ে ইতিউতি উড়ছিল। হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিলাম একটু করে, ভেবেছিলাম ছোঁয়া পেয়েই উড়ে যাবে জোনাকটি। কিন্তু না, বসল অল্পের জন্য চুপটি করে এরপর চিহ্ন রেখে উড়ে গেল আয়েসী ভঙ্গীতে। জোনাকীর আলোর হলুদ আভা থেকে গেল আমার আঙ্গুলের ডগায়।
জীব জগতের সবাই মাঝে মাঝে এলোমেলো হয়ে অদ্ভুত আচরণ করে।



সেই বিকেলটায় হঠাৎ দেখলাম ফড়িংগুলি পাগল হয়ে গিয়েছে… ঝাঁকে ঝাঁকে শত শত ফড়িং এলোমেলো উড়ছিল। সেদিন রাতেও তেমন অদ্ভুত আরেক কান্ড হল। পুকুরের পাড়ে অনেক জোনাকি নেমে এলো। এত সুন্দর লাগছিল… .....পানি ছুঁয়ে ছুঁয়ে উড়ে বেড়াচ্ছিল, যেন মাছরাঙ্গা !!

আমরা সব আলো নিভিয়ে দিয়ে সবাই নীরব ভাবুক হয়ে গেলাম, চুপ এবং চাপ!
কেটে গেল সারা রাত। আলো ফুটতে লাগল জ়োনাক ফুলের মতই ধীরে ধীরে।
আকাশটাকে দেখা গেল মেঘের চাদরে মোড়ানো, বৃষ্টি সে তো কয়েকদিন ধরেই ঝরছে টিপ টুপ টাপ করে…
শুরু হল আরেকটি নতুন দিন, প্রতিদিনের মতই।

নতুন দিন ফুটো ছন্দে
বৃষ্টি আবেশিত করো আবেগে
কিরণ, ম্লান করো দুঃখের চিহ্ন যত
জ্যোৎস্না, আবৃত কর ভালবাসার চাদরে…
বিকেল তুমি নিস্তব্ধতায় পরিহাস করো না…
রাতগুলি ব্যস্ত রাখো নীল বেগুনী ভাবনায়
দুপুর বিষন্নতায় মেতো না উপেক্ষায়
কালোমেঘ সরে গিয়ে হেসে উঠো বিদায়ী সুরে.....
সমাপ্তির !!!




আমাদের বিশাল সমুদ্র আছে, আছে পাহাড়, আছে চন্দ্র, সূর্য, তারা। আমরা কথাচ্ছলে প্রায়ই একে অপরকে এসব উপহার দিয়ে দেই। যার পাহাড় পছন্দ তাকে পাহাড়, কাপ্তাই এর লেক, রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু, বান্দরবনের সব ঝরণা, কাউকে কর্ণফুলি নদী বিলিয়ে দিই! যার রাজত্বে যাওয়া হয় সে সারাক্ষণ খাজনা চায়। একবার সত্যি সত্যি আমার ছোটবোন মিথ্যেমিথ্যি কান্না করে ইনানীর পাথরগুলির একটি হতে আরেকটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে দূরে চলে যাওয়ার অনুমতির জন্য ট্যাক্স নিয়ে ফেলেছিল। আমি আকাশের তারাগুলি বিলাই মনে সুখে। একদিন নতুন চাঁদ ছিল আকাশে, চাইনীজ ব্রাশে একটানে এঁকে ফেলার মত চিকন সুন্দর মায়া মায়া চাঁদ। ছাদে হাঁটাহাটি করতে গিয়ে ঘোষণা দিলাম- আমাকে যে চা খাওয়াবে আমি তাকে চাঁদটা দিয়ে দিব। আমার আদরের ছোট ভাই বেশি স্মার্ট হয়ে ফোনে নিচে বলে দিল যেন চা পাঠানো হয় ছাদে। সেবার আমাকে চাঁদটা দিয়ে দিতে হয়েছিল। :-( আমার এই ভাইটা আমাদের থেকে দূরে থাকে, অথচ সে ভীষণ ঘর কুনো। সে এমন একজন ছেলে যে ঘর থেকে বের হয়ে আবারো ঘরে ফিরে মাকে আদর করে বের হয়নি অজুহাতে।

ছোটবেলার যে রাত গুলিতে বৃষ্টি হত খুব, বাতাসের সাথে কিংবা কালবৈশাখী………. আমরা ৬ ভাই-বোনের সবাই মেঝেতে করা লম্বা বিছানায় মা বাবার সাথে ঘুমাতাম………
ফিরে পেতে ইচ্ছে করে সব!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29204866 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29204866 2010-07-22 00:33:51
হার

একজন মানবীর ছায়া, স্থির হয়ে আছে।
সামনে বিরাট ফাঁকা জমি যা এই বর্ষায় ধান কাটার পর পানি জমে জলায় পরিণত হয়েছে, হাওড় বলেও ভুল হতে পারে। এ দিকটায় গড়ে উঠছে নতুন আবাসন। ইট পাথরের জঙ্গল থেকে মুক্তি পেতে এখানে বাড়িটা করা হয়েছে। মাঝে মাঝে ছেলের দল বল ক্রিকেট খেলতে আসে, আর কেউ কেউ আসে প্রাতঃ কি সান্ধ্যঃ ভ্রমণ সারতে।
আরো অনেক দূর পরে দিগন্তে পাহাড়ের রেখা। এদিকটায় এত গাছ হয়েছে জঙ্গল বলে ভ্রম হয়, মাঝে মাঝে শিশু গাছগুলির ছায়াও অন্ধকারে অন্যরকম কেমন যেন ভৌতিক আবহ তৈরী করে। তার দুচোখ এসব ছাড়িয়েও অনেক অনেক দূরে, সে যেন এখানে নেই অন্য কোথাও…

কুৎসিত ছবিগুলি ফিরে ফিরে আসছে। আরেকটু হলে তার সর্বনাশ হয়েই যাচ্ছিল, কি বিশ্রীভাবেই না তার দিকে মন্তব্য ছুড়তে ছুড়তে তাকে ছুঁয়ে দিচ্ছিল। তাকে খামছে দিচ্ছিল, টানাটানি করতে করতে ওড়না তার প্রায় ছিঁড়ে ফেলেছে। সে সময়ে সাহসী একজন এগিয়ে না আসলে আজ তার মানব জীবনের সমাপ্তি ঘটত।



বিন্দু বিন্দু ঘাম, পিপাসা পেয়েছে খুব। মনে হচ্ছে যেন অনেক দূরে কোথাও কোন কলের মেশিন চলছে। সরকার পক্ষের উকিল পুঁথির মত করে কি যেন পড়ে যাচ্ছে।
রেপ নাকি মলেস্টেশান? করলে কতদূর এগিয়েছে? কেন এই সাজানো রগরগে গল্প ভাল ছেলেগুলির বিরুদ্ধে, অনেকের মাঝে কেন তাকেই এর শিকার হতে হল, কেমন জামা পড়েছিল, শালীন ছিল কি?
কোন পূর্ব সম্পর্ক? কিভাবে সে বুঝে নিল এটা ফিজিক্যাল নয় সেক্সচুয়াল অ্যাসল্ট !!

হাজার জোড়া চোখ যেন…
প্রশ্নের তীক্ষ বান!

ভরা আদালতে প্রভাবশালী আসামী পক্ষের উকিলের বিকৃত প্রশ্নে নিক্ষেপিত হচ্ছে আগুনের কুন্ডে, তলিয়ে যাচ্ছে সেই মানবী ধীরে ধীরে……
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29196141 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29196141 2010-07-10 00:09:58
বর্ষার ফুল।

কদম একটি ফুলের নাম। কদম বর্ষার ফুল, ভালবাসার ফুল। এই ফুল আছে আবেগে, অভিমানে, বিষন্নতায়। আমার সব সময় মনে হয় কদম বিষন্ন ফুল।







আমি প্রথম একটা গান শুনি ফেরদৈসী রহমানের গলায় - ' প্রাণসখীরে...... ঐ শোন, কদম্ব তলে বংশী বাজায় কে................... বংশী বাজায় কে রে সখী, বংশী বাজায় কে ? '
তখনো আমি জানতাম না, কদম্ব এবং বংশী শব্দের অর্থ। পরে এই কদম গাছ লাগাই আমাদের পুকুর পাড়ে।





কদম ফুল যখন থোকায় থোকায় ফুটে থাকে তার ছায়া পুকুরের পানিতে দেখতে অদ্ভুত লাগত! লাগত এই জন্য তখন ওদিকে অনেক রোদ ছিল। এখন গাছের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে তাই কেমন এক ছায়া ছায়া সমাহিত ভাব।
কোন এক দুর্ঘটনার কারণে আমরা এখন কেউ আর পুকুর পাড়ে যাই না...... কিন্তু ফুল পাড়তে বাঁধা নেই কোন।
যখন একটানা বৃষ্টিতে অলস সময় কাটে তখন কেন যেন কদম ফুলকেই কাছের কিছু মনে হয়। কুদম ফুলের স্পর্শে যেন অনেক কিছু পাওয়া হয়ে যায়।







কদম ফুলের সুবাস খুব ভাল না হলেও এটি প্রচলিত বর্ষার প্রথম কদম ফুল নামে।
বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করিছ দান একটি জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত।
'প্রাণসখীরে, ঐ শোন কদম্ব তলে বংশী বাজায় কে..................... বংশী বাজায় কে রে সখী, বংশী বাজায় কে ? আমার বেণি খুইলা দিমু তারে আইনা দে '



কেমন একটা আকুলতা গায়কীতে ! এমন করে আমরাই গাইতে পারি !!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29185136 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29185136 2010-06-26 00:17:36
ধূসর নীল !

ভালবাসি এই টানা বৃষ্টি সন্ধ্যা, বিকেল রঙ, ধুসর সকাল, বিষন্ন ছাই রঙা আকাশ, মাটির সোঁদা গন্ধ, ঝাপসা চারিদিকটায় যেন তুলির ছোপ। মৃদু সঙ্গীতের মত ভেসে আসা বৃষ্টির রিনিঝিনি…
জোছনার আলোয় মেঘের খেলা, নক্ষত্ররা সব আড়ালে লুকিয়ে, চলে গোপন অভিসার, সেই মুহূর্তগুলিতে ঝির ঝির ঝরে যায় আমার সব রঙ বৃষ্টি হয়ে… সোনালী, রুপালী, নীল।
প্রকৃতির সব ভালবাসা অধরাই থেকে গিয়েছে বলেই সোনালী তুলিটাও রঙহীন হয়ে পড়ে।

টুপ টাপ বৃষ্টির ফোটা আলোড়ন তুলে ছোট্ট পুকুরে, ছন্দে ছন্দে নাচে হিজলের পাতা, ছন্দে ছন্দে নাচে বটপাতা।
ইচ্ছেমত ডানা মেলে ভিজতে ভিজতে উড়তে না পারা পাখিটি বিষন্ন আকিঁবুকি খেলে আর ভাবে ... শেষ সব, ছুড়ে এলাম অনেক কিছু, হাতে থাকা রঙ্গীন বল খানা বুদবুদের মত…
যে বুদবদটার রঙ ধূসর নীল!
সব এক ফুঁতেই উড়িয়ে আমি অনেক দূর চলে এসেছি, অনেক দূর।
দূর, বহুদূর…
------------------------------------------------

একটি গান

ছেলেবেলার বৃষ্টি
ছেলেবেলার বৃষ্টি মানে বিশ্বজোড়া
ছেলেবেলার মানে অবাক বিস্ময়ভরা
আয় বৃষ্টি চলে সেই কিশোরের কোলে।।
গেরস্থালি ফেলে কিচ্ছুটি না বলে
ছেলেবেলার বৃষ্টি……

ধোপা পুকুর ঘাটে, মতিঝিলের মাঠে, বিপন্ন রাজপাঠে,
দেখনা আজো হাঁটে, কোন ছেলেটা?

কোন ছেলেটা বেলবেলেটা বৃষ্টি বাড়ি যাবে
বলে, পথের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি কথাই ভাবে

ভাবতে ভাবতে চলল ফিরে, সেই তিরতির নদীর তীরে
কাল যাবে সে বাড়ি, পরশু যাবে ঘর
ঘর মানে তার, বৃষ্টি মোহন ভুবন চরাচর
সেই ভুবনে আপন মনে নাম না জানা সুখন বনে
আরেরে আকাশ জুড়ে বাঁধনহারা বৃষ্টি হত

ইকির মিকির চাম চিকির ফন্দী ফিকির বৃষ্টি হত
ছেলেবেলার বৃষ্টি…

http://www.mediafire.com/?y3tnykzzmyy#2



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29173204 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29173204 2010-06-08 23:50:24
রামপেলস্টিল্টস্কিন !!! এই গল্পটি এমন এক সময়ের গল্প যখন অসহায় বিপদগ্রস্থ মানুষকে সাহায্য করতে আকাশ, মেঘ, স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নেমে আসত দূত। এছাড়াও ভাল মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে অন্য কোন অজানা জগৎ থেকেও আসত সাহায্যরূপী দূত। এটি তেমনই এক গল্প, তাহলে শুরু করা যাক…



একজন গরীব চাষী ছিলেন যার ছিল এক অসম্ভব বুদ্ধিমতী সুন্দরী কন্যা। চাষীটির প্রয়োজন ছিল একটুকরা জমি এবং তার জন্য রাজার সাথে দেখা করাটা দরকারী হয়ে পড়ল। রাজাকে মুগ্ধ করতে গিয়ে লোকটি রাজাকে বলে ফেলল খুব আত্মবিশ্বাস এবং গর্বের সাথে, “আমার একটা মেয়ে আছে যে খড় থেকে স্বর্ণের মোহর বানাতে পারে”। অবাক রাজা হুকুম দিলেন চাষীকে, সে যেন তার মেয়েকে রাজ-দরবারে নিয়ে আসে, কারণ তিনি তার সাথে কেউ মজা করবে তা পছন্দ করেন না।



তারপর যা হবার তাই হল, মেয়েটির অনুরোধ, অনুনয়, চোখের জল সব বিফলে গেল। খড়ের গাঁদায় পরিপূর্ণ একটা রুমে বন্দী করল রাজার লোকেরা। তাকে আরো বলা হল সকালের মাঝে খড়গুলি স্বর্ণের মোহরে পরিণত না হলে তার জন্য অপেক্ষা করছে শাস্তি।

অসহায় মেয়েটি একটা রুমে খড়ের গাদার মাঝে চরকার পাশে নিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে একাকী বসে থাকল, এছাড়া সে আর কি করতে পারত?
সময় যাচ্ছিল খুব ধীরগতিতে, হঠাৎ একটা বামন কোথা থেকে যেন সৌভাগ্যের দূত হয়ে উধাও হল। বামনটি জানতে চাইল মেয়েটির কাছে তার মন খারাপের কারণ।
মেয়েটির নির্দোষ সত্য উত্তর, “ রাজা আমাকে বলেছে খড়ের গাঁদার সব খড় স্বর্ণে রুপান্তরিত করতে, কিন্তু আমি জানিনা তা কিভাবে করতে হয়!”
বামনটি এবার জানতে চাইল, সে যদি তা করতে পারে কিংবা করে দেয় তাহলে এর বিনিময়ে কি পাবে?



মেয়েটি তার গলার হার দিয়ে দিল। হারখানা পেয়ে বামনটি বসে পড়ল কাজে, দ্রুত গতিতে সব খড় স্বর্ণে পরিণত হল।
সকালে রাজা তা দেখে মহাখুশি এবং তিনি আরো পেতে চাইলেন।
পরদিন রাত্রে আবারো মিলারের মেয়েটিকে আরো অনেক বড় একটি ঘরে অনেক অনেক খড়ের গাঁদা সহ বিশাল একটা চরকা দিয়ে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হল এই বলে যে সবগুলিই যেন স্বর্ণের মোহর হয়ে যায়।
গতরাত্রের মতই মেয়েটি একা একটা ঘরে বন্দী হয়ে পড়ল, অসহায় চোখে কাকে যেন খুঁজতে লাগল। এমন সময় বামনটা হাজির হল মেয়েটির সামনে এবং প্রশ্ন করল আজ সে কি পাবে তার কাজের বিনিময়ে। এবার মেয়েটির তার সোনার আংটিটা দিয়ে দিল বামনটিকে।
রাজা পরদিন সকালে দেখতে পান ঘর ভর্তি স্বর্ণের মোহর। রাজা এতেও সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। এবার তিনি ঘরের এ দেয়াল থেকে ও দেয়াল পর্যন্ত খড়ের গাদায় ঠাসা বিশালের চাইতেও বিশাল একটা ঘরে মেয়েটিকে বন্দী করে ফেললেন। তবে রাজা এই কথাটাও দিলেন যে এবার রাজকন্যা সফল হলে তাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে রানী করবেন।
সেই রাতেও বামনটি মেয়েটির সামনে উপস্থিত হল এবং তার শ্রমের বিনিময়ে কিছু চাইল। কিন্তু আজ মেয়েটির মন খারাপ খুব কারণ আজ তার কাছে কিছুই নেই।
এবার বামনটি একটা শর্ত রাখল যে, রাজা তাকে বিয়ে করলে তাদের প্রথম যে শিশুটি জন্ম নিবে তাকে সে শিশুটি দিয়ে দিতে হবে। নিরুপায় অসহায় মেয়েটি সে শর্তেই রাজি হয়ে গেল, না হয়েও উপায় ছিল না।
পরদিন সকালে চকচকে স্বর্ণের মোহরে ঘরভর্তি দেখে রাজা খুব খুশি হলেন এবং মেয়েটিকে বিয়ে করে তার কথা রাখলেন। রানী হবার পর তিনি সব ভুলে গেলেন। মাঝে মাঝে তার মনে হত আসলেই কি তেমন কিছু ঘটেছিল, দেখতে মজার ছোটখাট কোন বামন কি আসলেই এসেছিল?



ঠিক একবছর পর রানী এক কন্যার জন্ম দিলে রাজ্যে খুশির বন্যা বয়ে যায়। রানী কিন্তু ভুলেই গিয়েছেন সেই দেখতে মজার বামনটির কথা ও তাকে দেওয়া প্রতিজ্ঞার কথা। কিন্তু রানী ভুলে গেলে কি হবে বামনটি রানীর সামনে একদিন উপস্থিত হয়ে তার শর্তের কথা মনে করিয়ে দিল।
রানীর মনে হল তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী, অসহায় বিপন্ন একজন মানুষ। তিনি বামনটিকে রাজ্যের সব সম্পদ দিয়ে দিতে চাইলেন কিন্তু বামনটি তা প্রত্যাখান করল। কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন রাণী কারণ তিনি তার শিশু সন্তান, তার নয়নের মণিটাকে কিছুতেই বামনটির হাতে তুলে দিতে পারবেন না।
রানীর কাকুতি মিনতি দেখে শেষ পর্যন্ত বামনটি রানী কে বলল, “ঠিক আছে, আমি তোমাকে তিনদিন সময় দিলাম; এই তিনদিনের ভিতর তুমি যদি আমার নাম বলতে পার, তবে তুমি তোমার সন্তানকে তোমার কাছে রাখতে পারবে”।



রানী সারা রাত জেগে এ পর্যন্ত যতগুলি নাম শুনেছেন তার তালিকা বানানো শুরু করলেন। পরদিন সকালে বামনটি হাজির হতেই অস্থির রানী একে একে সব নাম বলে যেতে লাগলেন, পিটার, জন, মার্ক, আইজাক, থমাস...... কিন্তু প্রতিবারই উত্তর এলো, “নাহ, এটা আমার নাম নয় এমনকি এগুলির মাঝে কোনটিই নয়”।
সেই রাত এবং দিন রানী অকল্পনীয় মানসিক যন্ত্রণায় সম্ভাব্য সব অদ্ভুত নাম নিয়ে ভাবতে লাগলেন। দ্বিতীয় দিন সকালে রানী যখন এক এক করে সব নাম বলে যাচ্ছিলেন বামনটি নিষ্টুর ভাবে হেসে বলল, “তুমি কখনোই আমার নাম বলতে পারবে না”। তারপর গুণগুণ করে নাচতে নাচতে বামনটি চলে গেল।

রানী তার সব অনুচরকে চারিদিকে পাঠিয়ে দিলেন নতুন নাম সংগ্রহের জন্য। ভাগ্যক্রমে এক অনুচর অনেক নাম সংগ্রহ করে জঙ্গলের পথ ধরে প্রসাদে ফেরার পথে শুনতে পেল এক বামন অদ্ভুত ভাষায় গান এবং নাচ করছে, তার সন্দেহ হল তাই সে চুপ করে আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল বামনটির কান্ড কারখানা।



“আহ! কি মজার ভোজ হবে
আজ সব তৈরী, কাল হবে কাবাব
নাচব আর গাইব, গাইব আর নাচব!!
রানীর বাচ্চা হাতের মুঠোয়
রানী হারবে এই খেলায়
কেউ জানে না, নাম আমার রামপেলস্টিল্টস্কিন!”

রাণীর বিশ্বাসী অনুচর রানীকে ভাগ্যক্রমে জানতে পারা সেই বামনের নাম বলে দিল।
তৃতীয় দিনে রানী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল সে বামনটির জন্য।
বামনটি উৎফুল্ল মন নিয়ে প্রসাদে আসল এবং ক্রুর হাসি দিয়ে রানীর দিকে তাকাল। বামনটির সাথে শুরু হয় রানীর কথোপকথন।

রানী - তোমার নাম কি উইলিয়াম?
বামন- নাহ!
রানী- তবে কি তুমি চার্লস?
বামন- অবশ্যই না।
রানী- হুমম, তবে কি রামপেলস্টিল্টস্কিন?
বামন- কে বলেছে তোমাকে, কে ??



হতবাক বিহবল বামন। রাগে ক্রোধে অন্ধ হয়ে পা পাগলের মত অস্বাভাবিক আচরণ করতে করতে পা ঠুকতে লাগল মেঝেতে, ফলে গর্ত হয়ে গেল মেঝে এবং সে গর্তেই পতিত হল সে বামন। গর্ত থেকে উঠে রাগে গরগর করতে করতে সে প্রস্থান করল রাজপ্রসাদ থেকে। অনেক দূর থেকেও শোনা যাচ্ছিল তার রাগান্বিত গররর শব্দ আর হাহাকার!

কেউ কখনোই আর দেখেনি রামপেলস্টিল্টস্কিন নামের বামনটিকে, সে রাজা রানী এবং তাদের শিশুকে কোনদিন বিরক্ত করেনি সে।
অতঃপর রাজ্যে নেমে এলো প্রশান্তির বারিধারা।
-----------------

ব্লগার মোস্তাফিজ রিপন শুরু করেছেন রূপকথাগুলির অনুবাদ, উনার অনুবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু ব্লগার রূপকথা অনুবাদের কাজে হাত দিয়েছেন, কৃ্তজ্ঞতা তাদের প্রতি।
আমি তেমন এক চেষ্টা করলাম, এটা আমার প্রথম কোন গল্প/ রূপকথা অনুবাদ তাই এর বিকৃ্তি কিংবা মূল গল্পের সুর ভঙ্গ হলে তা এড়িয়ে যেতে অনুরোধ করছি।
---------------------------------------------

আজকের মত…
আমার কথাটি ফুরালো
নটে গাছটি মুড়ালো!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29156438 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29156438 2010-05-17 00:16:48
তৃ

আস্তে আস্তে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে আশাপাশ, নিভে যাচ্ছে আলো। একে একে সবাই ঘুমাতে যাচ্ছে। গভীর হচ্ছে রাত, রাত যত গভীর হয় সময়টা ততই আপন হয়। খুঁজে পাওয়া যায় নিজেকে, মনে হয় এই তো আমি। শুরু হচ্ছে তার সময়, নিজের ভাবনার সময়। নিশ্চুপ নিরবতা নেমে এলো একসময়।

কাগজ কলম নিয়ে বসল তৃ, কিছু লিখবে। তপ্ত হাওয়া বইছে, ভীষণ ভাবে মিস করছে বৃষ্টিকে। বৈশাখ গুটিগুটি পায়ে চলেই এলো, ধুমধাম করে পালন করে ফেলল সবাই। মিষ্টি এসে ভরে গিয়েছিল ঘর সাথে কার্ড। এটা সুন্দর রেওয়াজ, মিষ্টি বিনিময়, হাতে লেখা কার্ড বিনিময়। মনে আছে তৃ একবার এক বৈশাখে, বৈশাখী কার্ড দিবে ভেবে আঁকতে বসেছিলো। ভাবনায় ছিল ৭ টা কার্ডে সে আঁকবে। ৭ সংখ্যাটি মাথায় এসেছিল ৭টি অমরাবতীকে সামনে রেখে। আঁকতে বসে কি এক নেশায় পেয়ে গিয়েছিল, সারা রাত আঁকাআঁকিতে দেখা গেলো একেবারে ভোর, কার্ড হয়েছিল ১৮টা।

তৃর খুব পুরোনো জিনিষ জমানোর শখ। বিশেষ করে চিঠি, চিরকুট, বই, ছবি, শুভেচ্ছা কার্ড। তেমন করে একটা কার্ড কিভাবে যেন রয়ে গিয়েছে আজো।
আজো জমা আছে কিছু শুকনো ফুল সাথে বাদামী বিবর্ণ পাতা।
একটা প্লাস্টিকের বক্স আর কিছু ফুল, পাতা।

কত জমানো কথা, কত স্মৃতি...
দূর ছাই! বসেছিল বৃষ্টির কাছে প্রেমপত্র লিখতে আর শুরু হল সিন্দুকে উঁকিঝুকি, কোন মানে হয়। সে হাত উল্টিয়ে সব ভাবনাগুলি উড়িয়ে দেবার ভঙ্গি করল, যেন ভাবনাগুলি সত্যিই উড়ে যাবে।
তৃ জানে তার একটা মন আছে আর সেই মন পড়তে পারত শুভ। তখন শুভ এমন উল্টা পালটা চিঠি লিখে তার আশেপাশে রেখে দিত। তৃ ঠিক পেয়ে যেত চিঠিগুলি। তৃ এমন ভাব করত যেন সে কিছুই জানে না, শুভও ঠিক তেমন।

শুভ এখন তৃ্র কাছে থেকে অনেক দূরে আর এখন লিখে চলে তৃ, লিখেই চলে। তবে আজকাল তৃ শুভকে ছাড়াও অনেকের কাছে লিখে, যেমন, বৃষ্টি, কুয়াশায় অন্ধকারচ্ছন্ন মাঠ, পাশের আমগাছটায় যে কাঠবিড়ালি দুটি থাকে তাদেরকেও।

বারান্দায় রকিং চেয়ারটাতে দোল খেতে খেতে চা খায় আর ভাবে, ভাবে শুভর কথা। একেকদিন আনমনে দোল খেতে খেতে চা ছলকে শাড়িতে পড়ে যায়...
হ্যাঁ, আজো তৃ শুভকে ভেবে শাড়ি পরে খুব গুছিয়ে, শুভর পছন্দ। জানে তৃ, শুভ ঠিক দেখছে তাকে মেঘের ফাঁক ফোকরে, বৈশাখের তপ্ত হাওয়ার সাথে ভেসে আসে সে... নিশ্চয়ই আসে।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেনে নিল কাগজ...

মেঘের জলে মেশা নীল বরফখন্ড আমার কোচরে সীমাহীন জলের সমারোহ বুকের মাঝে উথাল পাথাল বৃষ্টি রাতগুলি আমি জেগেই থাকি জানো, ইচ্ছে করে পেরেক টুকি ভাবনাগুলিতে কষ্ট কষ্ট সুখের কথা আজ বলবে?

থেমে গেল কলম, আহ!
অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে এলো সব,
কোকিলের সুমধুর ধ্বনির মত ঢুকছে শীতল বাতাস, বের করে দিচ্ছে গরমের বাষ্প।
যে কোন মুহূর্তেই শুরু হবে বৃষ্টি, বিনা নোটিসে।
ঝমঝম বৃষ্টিতে হারিয়ে যায় শূণ্যতা, নষ্ট হয় একাগ্রতা। কখনো কখনো বৃষ্টি খুব স্বার্থপর, সে চায় তাকে নিয়েই ভাবুক সবাই। যেমন করে রবীন্দ্রনাথ ভাবতেন।




মনে হয় যেন আমিই ঝরছি, ঝিরঝির। আমার এই ঝরে পড়া দেখে হেসে উঠে সবুজ পাতা, সব ছাপিয়ে আমি শুনতে পাই তার খিলখিল মিষ্টি ধ্বনি। শুভ তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?
মেঘের মাঝে লুকিয়ে যতই থাকো আমি ঠিক তোমাকে দেখতে পাই। পড়তে পারি তোমায়...
ভিজছে আমার চোখ, ভিজছে তার হাতের কদম...
কদম !!!
বিহবল তৃ, কাঁদছে অনুরাগে।
চোখে এখন সুনামি।
সে প্লেয়ারটার কাছে গেল, গেয়ে উঠলো প্রিয় লোপামুদ্রা মিত্র।

হঠাৎ খুব মেঘ করেছে বৃষ্টি নামবে চারধার এমন দিনে শুধু বলা যায় তোমাকে বড্ড দরকার বাইরে খুব মেঘ করেছে কদম ফোটা শেষ হয়েছে, বাতাসে শিউলীর গন্ধ অথচ দেখো, এমন দিনে তোমার দরজা বন্ধ বাইরে খুব মেঘ করেছ...... সন্ধ্যে নামছে একটু পরে, সূর্যটা খুন হবে বুকের ভিতর হাজার নদী, বাইরে বৃষ্টি পড়ে চৌ’দিক থেকে বান ছুটে এসে ভাংছে আমার ঘর দুয়ার বলতে বাঁধছে তবুও বলে যাই তোমাকে বড্ড দরকার বাইরে খুব মেঘ করেছে বৃষ্টি নামবে চারধার এমন দিনে শুধু বলা যায় তোমাকে বড্ড দরকার। বাইরে খুব মেঘ করেছে... হঠাৎ খুব মেঘ করেছে...


http://www.mediafire.com/?e0yzj2fjtnl]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29151443 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29151443 2010-05-09 00:32:05
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী "জব্বারের বলী খেলা"।

চট্টগ্রামে আবদুল জব্বার নামের একজন ব্যবসায়ী ১৯০৯ সালে আয়োজন করেন এক বৈশাখী মেলার। মেলার পাশাপাশি কুস্তি প্রতিযোগীতার আয়োজন করেন। শতবর্ষী এই মেলা শুরু হয় ১২ই বৈশাখ, চলে তিনদিন ব্যাপী। এই মেলার সুর বিস্তৃত হয় লালদিঘীর পাড় এবং এর আশপাশের চার বর্গ কিলোমটার এলাকা জুড়ে। বলী খেলা হয় দিনের বেলায় এবং তা হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে। কুস্তিগীরকে চট্টগ্রামে বলা হয় বলী, বলী শব্দের অর্থ শারীরিক ভাবে যে শক্তিশালী। তারা যে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন তাকে বলা হয় 'বলী ধরা'।

এ মেলায় কোন রাত দিন নেই, দিনের বেলায় থাকে সর্বস্তরের মানুষ। যতই রাত গভীর হয় এর রূপ বদলে যায়। দেখা যায় গৃহী মানুষদের তাদের পরিবার সহ। তারা ঘুরে ফিরে কিনেন সারা বৎসরের গৃহস্থালী জিনিষপত্র।
মেলায় আমরা বেশ কয়েকজন মিলে গিয়েছিলাম রাত একটায় ১২ই বৈশাখের রাতে। আমরা যখন বৌদ্ব মন্দির রোড হয়ে ফিরে আসছিলাম রাত দু’টার দিকে দেখলাম তখনো কিছু পরিবার যাচ্ছে হাঁটতে হাঁটতে। আমি কিনে ফিরলাম নারিকেলের চিড়া, বাতাসা আর চালের জিলাপী।

-----------------------------

বৈশাখের বৈশাখী হাওয়া


একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল।
আরো বল, নীতি নির্ধারকদের কানে যদি যায়...

----------------------------------------
জিলাপীর প্যাঁচেই বানানো হয় তবে এটা তৈরী চালের গুড়া দিয়ে...
খেতে খুড়মুড় কি কটকট শব্দ হয়, অনেক মজা।

---------------------------------
বৈশাখের দাবদাহে শীতল হতে আছে অনেক রকমের পানীয়...
-------------------------------
জীবনের তাগিদে দূর দূরান্ত থেকে আসা
সাথে নিয়ে অনেক আশা...

---------------------------------
নেই দিন রাত...

----------------------------------
আমরা ছোটবেলায় এটাকে বলতাম চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় 'চনা মনার ঠ্যাং'।

------------------------------------
সিলেট থেকে আসা বিখ্যাত "শীতল পাটি"
আশাপূরণ হবে কি?

------------------------------------------
বেঁচে থাকুক মৃৎ শিল্প...





---------------------
আমার ভাল লেগেছে এই ছবিটা

-----------------------------------
স্বপ্ন ফেরী করে বেড়াই...

-------------------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29142900 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29142900 2010-04-26 23:37:07
১৪১৭ আজ বর্ষ বিদায়ের দিন
আজ নতুনকে বরণ করার আয়োজন!





---------------------------------------------------------------
নতুন বছরের প্রথম দিনে -
মুখোশ লাগবে, মুখোশ ? লাল মুখোশ, নীল মুখোশ, হরেক রঙের মুখোশ... তার আড়ালে লুকিয়ে রাখি চল... আমাদের ধারালো নখ, চোখ আর মুখ !!!








-------------------------------

শুভ নববর্ষ !!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29134430 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29134430 2010-04-13 23:33:50
~ হিমের মাঝে ~

হাতে চাবি, আকারে বেশ বড় একটা পুরোনো আমলের চাবি। মাঝে মাঝে এটা নিয়ে খেলি। কখনো হাতে নিয়ে, কখনো আঁচলে বাঁধা অবস্থায়।
চাবিটার দিকে মনোযোগ দিলেই আমি আনমনা হয়ে পড়ি, পায়চারী করি আর চাবিটা উল্টে পালটে দেখতে থাকি………
চাবিটা দিয়ে একবার দরজা খুলতে পারলেই ওপারে আছে উজ্জ্বল আলো।
যেন অনেক ঘন জঙ্গলের ভিতরে অনেক গাছের ফাঁকে অনেক কষ্টে আলো ভেদ করে তেরছা ভাবে এসে পড়ছে আমার মুখে।
এক অলীক উজ্জ্বল আলো, সোনালী আলো।

মাঝে মাঝে একেকটা দিন শুরু হয় অন্যভাবে, একটা গভীর শান্ত দিন। তাকে আমি আমার মনের জানালায় দেখি বলেই সে এসে ধরা দেয় সে অন্যভাবে।
তাকে আমার অন্যভাবে দেখতে ভাল লাগে, তাকে আমি ভোর ভোর আলোয় হিমের মাঝে লুকিয়ে রাখি।
মেঘের উড়াউড়ি আর টিপ টুপ জলের শব্দে, শীতে রোদ-ছায়ার খেলায়, শন শন হাওয়ায় নিস্তব্ধ মাঠের সবটুকু নিয়ে বুকের ঢিপঢিপ টুকুর সাথে সংগ্রহে রাখি।
জমতে থাকে অনেক কিছু সন্তর্পণে।
বাকী সব মিথ্যে, দূরে রাখি, দূরে থাকি সব থেকে।



এক একটা দিন এমন, সে টুপ করে আমার পাশে বসে পড়ে আর শোনাতে থাকে সেই পুরোনো গল্প, গল্পগুলি সদ্য বের করে আনে যেন ঠাকুরমার ঝুলি থেকে।
শুনতে শুনতে বেলা কেটে যায়, দিনের আলো কেমন করে যেন পর হয়ে যায়, সন্ধ্যা এসে জড়িয়ে ধরে, আঁধার এসে আবৃত করতে চায়।
ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে এলেই সমস্ত অশ্রু আজকাল পরিণত হয় জমাট ধবল তুষারে।
জমাট তুষারগুলো গলে গলে ক্লান্ত ঘুম হয়ে আশ্রয় নেয় চোখের উপর। ঘুম কি আধো ঘুমেই আমি আমার চাবিটাকে নিয়ে খেলতে থাকি।
অজান্তেই কপাল কুচকিয়ে সরিয়ে নিই মুখ, চোখের উপর তেরচা ভাবে পড়া আমার কাল্পনিক উজ্জ্বল আলো থেকে।

ছায়া… আহ! ছায়া…
ছায়া ঘিরে আছে আমাকে, ধুম্রজাল হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আর ওদিকে একটা তালাবিহীন দরজা, তার ওপাশে সেই উজ্জ্বল আলো!
ইস! এই তালাবিহীন দরজাটায় যদি একটু ঘুণে কাটত আর তাতেও যদি একটা ফুটো হত!

অপেক্ষা.......................... !!!

একি!
এ কার পদধ্বিনি
এই বার্ধক্যে শুনি!
আহ! হিমশীতল হাত আর তার পরশখানি…

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29129076 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29129076 2010-04-04 22:56:54
একটি লোকগীতি

ডালেতে লড়িচড়ি বইয়ু চাতকি ময়নারে
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইয়ো

মন খইলে চাতকিনী
নদীর ফানি খাইয়ু ময়না
নদীর ফানি খাইয়ু
ফুলো মধু খাইতু চাইলে ফুলো বনে যাইয়ু
চাতকি ময়নারে
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইয়ো

ওরে চাতকি ময়না
অঙ্গ তোরো কালা ময়না
অঙ্গ তোরো কালা
তর মনে আর আঁর মনে এক্ষই ফ্রেমর যালা
চাতকি ময়নারে
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইয়ো

দক্ষিণমূখী বইলেরে ময়না
বাতাস লাগে গায়রে ময়না
বাতাস লাগে গায়
পশ্চিমমূখী বইলেরে ময়না
অঙ্গ যলি যায়রে ময়না
অঙ্গ যলি যায়রে
অঙ্গ যলি যায়
উত্তরমূখী বইলেরে ময়না
শীতে খাইবু চাইয়ুরে ময়না
শীতে খাইবু চাইয়ু

কোনদি আইবু ফরাণবন্ধু
আগে মোরে কইয়ু্রে
আগে মোরে কইয়ু
ক্ষয়হীন আস্কর আলী
সময় হইলে ফারে ময়না
সময় হইলে ফারে
মাধব বৈরাগীর সনে
ফরান বন্ধু আঁর সনে
মিলায় দিইয়ুম তোরে
চাতকি ময়নারে
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইয়ু
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইয়ু
ডালেতে লড়িচড়ি বইয়ু চাতকি ময়নারে
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইয়ু ।।

http://www.mediafire.com/?mwu2mwikmkm

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29124588 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29124588 2010-03-27 23:53:25
যাত্রা

কাল ছিল কোজাগরী পূর্ণিমা। বিভোর হয়ে ছিলাম আমি, নীলে নীলে উজ্জ্বল হয়ে ছিল চরাচর, ঠিক যেমনটা আমি পছন্দ করি।
লালিমায় ছেয়ে গেলো আকাশ, আস্তে আস্তে উঁকি দিছে সূর্য্যি মামা। আজো সকাল হবে প্রতিদিনের মত করে। সকাল বেলার পাখিরা উড়াউড়ি করছে যদিও এখনো দল বাঁধেনি।
নতুন একটা দিন শুরু হচ্ছে। নারিকেল গাছের পাতা কাঁপছে তির তির করে…
বাড়তে লাগল শব্দ, রিকশার টুং টাং, নাগরিক কোলাহল।
আজো কি নতুন ফুল ফুটবে, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হবে, বয়সের ঘরে যোগ হবে আরো একটা দিন?

ফিসফিস শব্দে হঠাৎ দেখলাম আড়াল দেওয়া সব্ দিক, এক চিলতে আকাশ অবশ্য দেখা যাচ্ছে।
এটা দাও, ওটা দাও। এমন কর, এভাবে কর …
কেটে যাচ্ছে এক একটি মুহূর্ত করে সময়গুলি।
তবে আজ সময় ধীর গতিতে কাটছে।

বাহ বেশ তরতাজা লাগছে নিজেকে, দীর্ঘ স্নান শেষে।
এখন আমি পবিত্র। খুব ইচ্ছে করছে ফুরফুরে মেজাজে বেড়িয়ে পড়তে, যাত্রা শুরু করতে, যেতেই যখন হবে।
আমার জন্য আর সূর্যটা উঠবে না, ঝরবে না জ্যোৎস্না, আর বৃষ্টি !!!!

আহ! প্রিয় বৃষ্টি।
ঝির ঝির অবিরল…
কলকল ছলছল
টিপ টুপ টাপ
ঝনঝন শনশন
কেঁপে কেঁপে তিরতিরিয়ে
পাগলা ছন্দে
উত্তাল রূপে।
মিষ্টি মধুর ছন্দে ……

কি যত্ন নিয়েই না সাজিয়ে দিচ্ছে, সুগন্ধির সুবাসে চারিদিক।
চুলগুলি দুভাগ করে সামনে সাজাতে গেলেই আফসোস হল ক’দিন আগে কাটা চুলগুলির জন্য।

উজ্জ্বল দিনটা বদলে যাচ্ছে মেঘে অন্ধকারচ্ছন্ন দিনে, ধীরে ধীরে ……
বৃষ্টি নামবে কি??

এসো……
বাতাসের ঝাপটায় ভিজিয়ে দাও আমার শব, আমার শেষ যাত্রা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29115818 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29115818 2010-03-13 23:51:35
একটি দিন, একটি শিক্ষা সফর

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি...
তেমন করেই প্রায় প্রতি মাসে একবার নিয়ম করে ভাবি, কাজ ... আর নাহ, অনেক হয়েছে... জ়ীবনের আর কতটুকু আছে, খাও দাও ফূর্তি কর নীতিতে চলে যাই... কিন্তু তা আর হয় না...
কাজের ফাঁকে ফাঁকে যে আনন্দ পাই তার কাছে মিথ্যে হয়ে যায় অনেক সকালে ঘুম থেকে উঠার কষ্ট, ইচ্ছেমত অনেক কিছু করতে না পারার কষ্ট !!!

কাজের ফাঁকে তেমন আনন্দ পাওয়া একটি দিন, একটি শিক্ষা সফর...
















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29093745 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29093745 2010-02-09 00:19:29
নীল

কুয়াশামাখা আকাশ, উজ্জ্বল ধাবমান নীল নক্ষত্রের নিচে মায়াবী নীল গ্রহটিতে রচিত হয়েছে মানুষের সুখ দূঃখের কাব্য। এখানে বাস করে মানুষ, এই তাদের সবুজের ঠিকানা।
তাদের চেতনা চিন্তার সবই মুছে যাবে, একদিন তারা এর পাঠ চুকিয়ে দিবে। পেছনে ফিরে দেখবেনা প্রিয় তরু-ছায়া, বৃষ্টি, পূর্ণিমা, অস্তগত রক্তিম সূর্য, কালবৈশাখীর তান্ডব, এমন করে কত কিছু…… তারপরেও তদের কিছু একটা থেকে যাবে…
----------------------------------------------------
অন্ধকার ঘরে কেউ কেউ চুপচাপ বসে থাকে একেকটা দিন, কারণ ছাড়াই। আপাতঃ দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, মন খারাপ … তা কিন্তু নয়। হয়তো এমনিই এমন করতে ভাল লাগে…
কোন কষ্ট হানা দিয়ে একাকীত্বটাকে অসহনীয় করে ফেললে, মনে একটা কথাই নাড়া দেয় বারবার, “কোথাও কেউ নেই, কোথাও কেউ থাকে না, কখনোও না”। আশেপাশে প্রিয় মানুষ কিংবা আপনজন থাকলেও এমনটি মনে হয়। ‘নিজের নিজ’ কে নিয়েই চলতে হয় সবসময়। একা মানুষ সবসময় একাই থাকে, তার মনোজগতকে কেউ ছোঁয়া দূরে থাকুক, উঁকি দেয়াও সম্ভব হয় না।
প্রতিভা বসুর আত্মচরিত টাইপ একটা লেখা, ‘জীবনের জলছবি’, আমার এত প্রিয়…… একটা লাইন আছে এমন, “কত আসবে কত যাবে”, পড়ার সাথে সাথেই খুব পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। মাঝে মাঝে নিজেকেই নিজে বলি, কত আসবে কত যাবে!
কি বিপরীতমুখী দুটি কথা !!! ‘কোথাও কেউ নেই’ আর ‘কত আসবে কত যাবে’ … আমার কিন্তু খুব সমার্থক মনে হয়।

I shape me -
Ever
Removed!
------------------------------------------------------------------------
মাঝে মাঝে রূপকথা মনে হয় তার সবকিছুকে, নিজেকে মনে হয় অচেনা কোন চরিত্র। যে কখনো আয়নায় তার মুখ দেখেনি, নিজের সঠিক রূপ জানেনা, জানে না তার অবয়ব কেমন হতে পারে! সেও কেবল খুঁজে ফিরে…… খুঁজে ফিরে… ফিরে……………
জঙ্গলের মাঝে সুন্দর চিকন একটা ছায়াময় রাস্তা কি গলি, দুপাশে গাছের সারি, সেখানে সে ঠিক খুঁজে পেতে চায় সঠিক চন্দনের গাছ।
তার এই খুঁজে ফেরা পথটার কথা বন্ধুরাও জেনে গিয়েছে তাই তারা যেখানেই এমন কিছু দেখলেই তুলে নিয়ে আসে তার জন্য !!
এক জীবনে কয়টা বন্ধুর দরকার হয়? বন্ধু ছাড়াও জীবন কাটানো যায় আবার শুধু বন্ধুদের জন্যও বেঁচে থাকা যায়!
----------------------------------------------------
“আমাকে পাছে সহজে বোঝ তাইতো এত লীলার ছল
বাহিরে যার হাসির ছটা ভিতরে তার চোখের জল”
কি মারাত্মক একটা কথাই না বলে দিয়েছেন রবিবাবু। মানুষকে খুব কষ্ট করে কিছু ভাবতে
হয় না, ভাবনাগুলি আপনাতেই চলে আসে। নিজেকে কল্পনায়, ভাবনায় যে রূপেই দেখতে চাই না কেন তিনি সবই একেঁ গিয়েছেন, একেঁ দিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে...

প্রিয় কবি
প্রিয় রবি!
-------------------------------------------
আমার -
শিয়রে রেখো তোমরা গোলাপ তরু
আচ্ছাদন দিও না
চাই কুয়াশা
চাই শিশির
চাই বৃষ্টি
চাই রৌদ্রময় দিন
চাই নীল গোলাকার চাঁদের আলো
আরো চাই কালোর আলোয় অমাবশ্যার রূপ-
চাই দুর্বাঘাস কিংবা ঘাসফুলের আচ্ছাদন।
কোন কোন রাত-দিন হবে বৃষ্টিময়
আদৃত হব সুখে, আনন্দে
নিজেই নিজের কাছে।

নীলকে ছুঁয়েছি আমি
জড়িয়েছি
আবৃত করেছি
শুভ্র সুখে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29080686 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29080686 2010-01-17 23:23:04
নির্ধারিত ছক...
তোমাতে নির্জনে
নিদারুণ আর্তনাদে
বিপরীতগামী নিঃসর্গের দিকে
বন্যার জলে
রুপোর মল পরা ঢেউ
উজান ভাটায় উথাল পাথাল
প্রহরগুলি কেটে যায়।
-------------------------------------

আকাশ ছিল অখন্ড
উলঙ্গ কিছু …
আগুন এসেছিল এক দিবসে
ছাই হয়ে নিজেই ফিরে গেল।
আজো প্রতারণা শেখেনি সে।
--------------------------------------------

আকাশভরা নক্ষ্রত্ররাজি নিয়ে
ইর্ষান্বিত হয়ে, সোনালি খড়গাঁধার স্বপ্ন বুনে চলে
আমার সেই জন…
যেখানে যাই, অচিনপুর আমার সাথেই থাকে।
---------------------------------------------------


স্মিতহাস্যে অল্প অল্প করে ধসে পড়ছেন
কপালে দুঃচিন্তার ছাপ
আঁচলে ধুতরার বিষ,
সেই যুদ্ধকাল থেকেই…
-------------------------------------------

চলছে সেখানে যুদ্ধরাত যুদ্ধদিন
শান্ত বিলাপ
নীল-সবুজ সতেজ পর্দায় ডাকা
রোদেরা খেলে মরিচীকা সাথে নিয়ে।
---------------------------------------------------

এই একটুখানি পথ পেরিয়েই শহর
শহর ছাড়িয়ে মাঠের পর মাঠ, সবুজ মাঠ
একটি নদী…
এই অচিনপুর।
-------------------------------------------------------

তালা দিয়েছিলে হৃদয় দুয়ারে
কি এক নির্ধারিত ছকে।

না, তাকে কিছুই ছোঁয় নি!
হ্যাঁ, চোখ খুলছে প্রতিদিন।
----------------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29068982 http://www.somewhereinblog.net/blog/tararhasiblog/29068982 2009-12-31 14:36:04